আপনারা অনেকেই হয়ত অফেন্ডিং জিয়া ও অফেন্ডিং মুজিব সিরিজ ফলো করছেন । এ লড়াই শুরু হয়েছে কিছুদিন আগে । সিরিজ দুটোতে মুজিব ও জিয়ার ভক্ত যারা এই দুই নেতাকে দেবতা কিংবা রাক্ষসের আসনে বসিয়েছিলেন , তাদের দুইদলের মানুষকেই বিস্মিত করছে । এই ধরনের বিতর্কে সাধারণত আহত ব্যক্তিদের মধ্যে যা হয় - গালাগালি , আক্রমণ তাও হচ্ছে - যা দুঃখজনক । আবার , বিতর্কের খাতিরে বিভিন্ন তথ্য জানা যাচ্ছে - এইটা ভালো দিক।
মুজিবের এবং জিয়ার অন্ধ ভক্ত বাদ দিয়ে সাধারণ কৌতুহলী মানুষের লাভ হলো ক্রস রেফারেন্সের সুযোগ। প্রথম আলো ও কালের কন্ঠের সংঘর্ষে যেমন আমরা একে অপরের হাড়ির খবর জানতে পারি- অফেন্ডিং জিয়া ও মুজিব সিরিজে আমাদের মত "চোখ খোলা" এবং "ভক্ত বা অভক্তদের" একই রকমের সুবিধা হয়েছে।
আশা করছি , পরের পর্ব গুলো ঘন ঘন আসবে , যদি না লেখকদের অন্য কোন ব্যস্ততা থাকে।
--------------------------------
আমার এই পোস্ট কি নিয়ে?
সিরিজ দুটো পড়ে অনেকেই হয়ত শকড এবং কনফিউজড হচ্ছেন । কাকে নেতা মানবেন, কাকে পিতা মানবেন, ধ্বন্দে পড়ে যাচ্ছেন । কাকে বিশ্বাস করবেন , কাকে করবেন না, তাতেও গোল বেধে যাচ্ছে ।
দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো , দুই সিরিজের লেখকদের মাঝে কেউই নিরপেক্ষ না (ব্যক্তিগত ধারনা) । আবার ১০০% সত্যবাদী আল আমিন বলেও কেউ এখনো প্রমাণিত হন নাই। সুতরাং , সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে । এই অবস্থায় , পাঠকের উপায় কি?
আমার পোস্ট এইটা নিয়েই ।
-----------------------------
কারন ইতিহাস ইতিহাসবিদের উপর নির্ভর করেনা।
পেছনের ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনাগুলোই ইতিহাস।
আর রেফারেন্স রেফারেন্সই।
যারা অ্যাসিড্যুয়াস তারা ঠিকই ঐ বই গুলো ঘটে তথ্যগুলো বের করবে।
অফেন্ডিং মুজিব পোস্টে দাসত্বের এই কথাগুলো পছন্দ হয়েছে । কোন একজন ব্যক্তির পক্ষে নিরপেক্ষ থাকা খুব কঠিন। কখনো নিজস্ব পছন্দ অপছন্দের কারণে মানুষ বায়াসড তথ্য দেয়, কখনো কখনো সম্পূর্ণ নির্দোষ অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত ভাবে, নিজের অজান্তেই মানুষ বায়াসড ইতিহাস লেখে । কারন মানুষ "আমি যা সঠিক হিসেবে জানি" -- সেইটাকেই সত্য হিসেবে লেখে । এই লেখার ভিতরে সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু অন্যায় নাই।
অন্যায় হয় যখন মানুষ এই সীমাবদ্ধতার কথা ভুলে গিয়ে "তাল গাছ আমার" আচরণ শুরু করে । কিংবা , "আমি যা বলেছি তাহাই ধ্রুব সত্য" বলে চালানোর চেষ্টা করে। অন্য কোন সম্ভাবনাকে খতিয়ে দেখতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।
মুশকিল হইলো , আমরা কেউই আল্লাহ না । আমাদের জানায় , আমাদের লেখায় ভুল থাকতেই পারে। ( নিজেদের অজান্তেই)
এই জন্য যে কোন একজনের লেখা " ইতিহাসবিদের " ইতিহাস বিনা যাচাইয়ে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করা ঠিক না ।
রেফারেন্স রেফারেন্সই ---- এইটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা । আমরা প্রায়ই ভুলে যাই,
রেফারেন্স = সত্য----- না ।
রেফারেন্সকেও তাই যাচাই করার দরকার আছে । নিয়ম আছে । এইটাকে বলে ক্রস রেফারেন্স ।
--------------------------
এখন কথা হইলো , আমরা যদি আল্লাহ না-ই হইতে পারি , তাহলে কোনটা সত্য বুঝবো কি করে?
একেবারে নিজের চোখে দেখা, নিজের কানে শোনা না হইলে ঐ ক্রস রেফারেন্স ছাড়া আসলেই কোন উপায় নাই। এখন কথা হইলো ,
কোন রেফারেন্স বিশ্বাস করবো?
অন্য কেউ যখন প্রমাণ হাজির করে তখন সেইটা তিন ধরনের প্রমাণ হইতে পারে। সাধারণত আইন এই ধরনের প্রমাণের সিস্টেম ফলো করে । যা বার্ডেন অফ প্রুফ নামে পরিচিত । তবে, আমি এইখানে মোটামুটি কমন রিজনিং ও কমন সেন্স ব্যবহারের কথা বলছি।
১। সরাসরি অকাট্য/ফিজিকাল প্রমাণ যাকে মিথ্যা হিসেবে প্রমাণ করার ক্ষমতা কারো নাই।
২। Circumstantial evidence বা প্রমাণ বা আশে পাশে সমসাময়িক ভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনা বা ফিজিকাল তথ্য থেকে পাওয়া তথ্য যা যুক্তির দ্বারা প্রমানিত
৩। কারো দেওয়া সাক্ষ্য -- যা আবার তার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নির্ভর করে ।
এখন, আসেন , মুসার এভারেস্ট জয়কে উপরের তিন রকমের প্রমানের ভিত্তিতে ভাগ বিশ্লেষণ করে দেখি। ৩ নম্বর থেকে শুরু করি।
মুসা ১ম জানিয়েছেন তিনি এভারেস্ট জয় করেছেন । এইটা তার ভাষ্য । এই রেফারেন্সকে অনেকেই সত্য বলে মেনে নেন নাই কারণ মুসার অতীত ইতিহাস তাকে ১০০% বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে দাঁড় করাতে পারে নাই। সুতরাং , " মুসার সাক্ষ্য তার নির্ভরযোগ্যতার " পয়েন্টে মার খেয়ে গেছে । একই কারণে প্রথম আলো পত্রিকার কথা কেউ বিশ্বাস করে নাই।
সারকামস্টেন্সিয়াল প্রমাণ হিসেবে মুসার সহযাত্রী , গাইড , অন্য দেশের পর্বতারোহী , বেজ ক্যাম্প পর্যন্ত তার উঠার প্রমাণ , মুসার পক্ষে চুড়ায় উঠা সম্ভব কিনা ইত্যাদি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা ---- এইসব তথ্য যাচাই বাছাই করে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেত কিন্তু কখনোই ১০০% শিওর হওয়া যেত না। মুসা যদি না ফিরতেন তাহলে আমরা এই প্রশ্ন নিয়ে রয়ে যেতাম, যেইটা বৃটিশ যাত্রী আরভিন ও ম্যালোরির বেলায় হয়েছে । দয়া করে এই লিংকে গিয়ে পড়ে দেখুন , তাহলেই বুঝবেন প্রত্যক্ষ , অকাট্য প্রমাণ না থাকলে " কি হইতে পারে" , " কি হইতে পারে না" , " কেন " -- এই ধরনের যুক্তি তর্কের মাধ্যমে কেমন করে সত্যের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয় ।
কিন্তু মুশকিল হইলো , ১ম ধরনের প্রমাণ , অর্থাৎ প্রত্যক্ষ , অকাট্য প্রমাণ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত যে কোন ইতিহাসই শেষ পর্যন্ত একটি সম্ভাবনা হিসেবে রয়ে যায়। হইতেও পারে। আবার নাও হইতে পারে। ম্যালোরি ও আরভিন ফিরে আসেন নাই , তাই এখনো কেউ ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারে না , তারা আসলেই চূড়া ছুতে পেরেছিলো কিনা। মুসার বেলাতেও তাই হতো যদি না মুসা কিছুদিন পরে তার চূড়ায় তোলা ছবি ও অন্যান্য অকাট্য প্রমাণ নিয়ে হাজির হইতেন।
এখন এই প্রমাণ কার কাছ থেকে এলে বিশ্বাসযোগ্য হইতে পারে?
এইটাত খুবই সোজা হিসাব যে অকাট্য প্রমাণ ছাড়া বাদী কিংবা বিবাদীর ভিতরে কাউকেই পুরা বিশ্বাস করা যাবে না । জড়িত কোন ব্যক্তির কথা বিশ্বাস করা যাবে না। কোন ঘটনায় যদি কারো স্বার্থ বা লাভ কিংবা ক্ষতি জড়িত থাকে - তার বিশ্বাসযোগ্যতা ততই কম থাকে । এই জন্যই আদালতে প্রমান করতে হয় যে বিচার কাজে জড়িত কারো কোন " ভেস্টেড ইন্টারেস্ট নাই"। আর বৈজ্ঞানিক রিসার্চে উল্লেখ করে দিতে হয় কোন " কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট" আছে কিনা। যেমন , ওষুধ কোম্পানি যদি ওষুধের ভালো খারাপ পরিমাপ করার রিসার্চ ফান্ড দেয় , ধরে নিতে হবে , রেজাল্ট এ বায়াস থাকতে পারে। ঠিক এই কারণেই আমরা এক্সটার্নাল থার্ড পার্টি দিয়ে অডিট কিংবা ইভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়ন করাই । এইটা করা জরুরীও , সত্যের খাতিরে।
অফেন্ডিং মুজিব ও জিয়া সিরিজে মুজিব ও জিয়াকে বিশ্লেষণে - অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য - এই কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট ভীষণ ভাবে বর্তমান । নইলে আমরা হয়ত অফেন্ডিং জিয়া, মুজিবের বদলে ফাইন্ডিং জিয়া, মুজিব সিরিজ পাইতাম! আফসোস!
---------------------------------
মুসার পাহাড় বিজয়ের উদাহরণের সাথে মুজিব, জিয়া , কিংবা এরশাদ বা এখনকার খালেদা -হাসিনা গংদের ইতিহাসের সম্পর্ক কি? এই উদাহরণ কেন দিলাম?
এর কারণ বা গুরুত্ব হলো কারো দেওয়া তথ্য আমরা কখন কেমন ভাবে বিশ্বাস করে বসি , কেন করি না বা কেন করা উচিত না -- তার সাথে সম্পর্কিত । কোন তথ্যকে সত্য হিসেবে প্রমাণ করা আর সত্য হিসেবে বিশ্বাস করার ভিতরে আকাশ পাতাল তফাৎ রয়েছে ।
প্রমাণ এক জিনিস।
বিশ্বাস আরেক জিনিস।
ইতিহাসের তথ্য , অবজেক্টিভ তথ্য হিসেবে ব্লগে লেখা এক জিনিস ।
আর ঐ তথ্যের মানে কি- এই ব্যক্তিগত সাব্জেক্টিভ ধারণাকে, "তথ্য বা প্রমাণ" হিসেবে দাবী করা আরেক জিনিস।
বিজিতের ইতিহাস , বিজয়ীর ইতিহাস , ইতিহাসবিদের ইতিহাস , কোন একটি পক্ষের লেখা ইতিহাস আর নিরপেক্ষ লেখকের লেখা ইতিহাসের সাথে পেছনের ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনার উল্লেখ এর মিল খুব কমই থাকে । বরং যোজন যোজন দূরত্ব থাকাটাই স্বাভাবিক।
অফেন্ডিং মুজিব পোস্টে লেখকের একটি তীব্র ক্ষোভযুক্ত প্রশ্ন আছে ।
" অফেন্ডিং জিয়া যদি ইতিহাস হয় , তাহলে অফেন্ডিং মুজিব কেন ইতিহাস নয় ?"
অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি , দুইটার কোনটাই ইতিহাস নয় । একজন পাঠকের কাছে , একজন নিরপেক্ষ মানুষের কাছে , দুইটা পোস্টই রেফারেন্স ।
স্রেফ রেফারেন্স । আর কিছুই নয় ।
এখন যেই পাঠকের কাছে যেই রেফারেন্সকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে হবে , পাঠক তাকেই বিশ্বাস করবে।
এই ব্লগেই লেখা মনজুরুল হক , ত্রিশোনকু কিংবা অন্যান্য ব্লগারের ১৯৭১ এর যুদ্ধ ও পরবর্তী জীবন অভীজ্ঞতাও শেষ পর্যন্ত রেফারেন্সই । যতক্ষণ না সে সব লেখা ক্রস রেফারেন্স করে " অকাট্য" হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে । মনজু কিংবা ত্রিশোনকু নিজের চোখে যা দেখেছেন , নিজের কানে যা শুনেছেন , তা উনাদের জন্য সত্য । কিন্তু আপনি আমি তাদেরকে বিশ্বাস করবো কেন?
অন্তত যাচাই না করে ?
এই জন্য কেউ যদি ব্লগের লেখা অবিশ্বাস করে, রেফারেন্স লেখকের রাগারাগি করার কিছু নাই। বরং তার উচিত হবে , কি করে আরো নির্ভরযোগ্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা যায় সেইদিকে মনযোগ দেওয়া ।
----------------------------------
বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হলো আমরা এখনো কোন অরাজনৈতিক , নিরপেক্ষ , নিঃস্বার্থ , সার্বজনীন এবং সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য কোন ইতিহাস লেখক ও গবেষক পাইনি । রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে লীগ, বি এন পি, জাতীয় পার্টি সমেত বিভিন্ন আমলে , বিভিন্ন ব্যক্তির দ্বারা ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে ।
এজন্য লীগের লেখা ইতিহাস পড়লে মনে হয় মুজিব দেবতা, জিয়া রাক্ষস ।
আবার বি এন পির লেখা ইতিহাস পড়লে মনে হয় জিয়া দেবতা , মুজিব রাক্ষস।
এইটাত একটা বাচ্চাও বুঝে যে একজন মানুষের পক্ষে মানুষই হওয়া সম্ভব - দেবতা কিংবা রাক্ষস হয় না , হতে পারে না।
সুতরাং , নতুন প্রজন্মের উচিত হবে পুরনো সমস্ত ইতিহাসকে একজন অবিশ্বাসীর চোখে দেখা । সম্পূর্ণ আবেগ বর্জিত অবস্থায় , সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে। মুজিব ভক্তি বা ঘৃণা কিংবা জিয়া ভক্তি বা ঘৃণার ঠুলি চোখের উপর বসিয়ে আর যাই হোক " নিরপেক্ষ ইতিহাস পাঠ" সম্ভব না।
--------------------------------
উদাহরণ স্বরুপ বলতে পারি , টাইম ম্যাগাজিনের কথা । আমরা আগে ভাবতাম টাইম ম্যাগাজিন নিরপেক্ষ পত্রিকা । কিন্তু ২৫ বছর পরের পড়ালেখা বলে , টাইম অনেকের চেয়ে ভালো কিন্তু পারফেক্ট নয় । আর এখন তো আজকের যুগের মানুষ ভালো করেই জানে একটি দেশের মিডিয়া নিজের দেশের স্বার্থে কিভাবে অন্য দেশের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য, খন্ডিত সত্য কিংবা টুইস্টেড তথ্য পরিবেশন করে । এই হলুদ সাংবাদিকতা কি আজকের ঘটনা ? নাহ। মানব সভ্যতার শুরু থেকেই এই সব তথ্য বিকৃতির কিংবা গোপনের ঘটনা জানা যায় , সেই রোমান, গ্রীক আমল থেকেই । তাহলে ১৯৭১ এ তথ্য ও খবর সরবরাহের ক্ষেত্রে সকলেই ধোয়া তুলসী পাতা ছিলেন? তাও না । কেউ কেউ সৎ ছিলেন। অনেকেই ছিলেন না ।
তাহলে উপায়?
ঐ যে , ক্রস রেফারেন্স । কোন "একজন" এর উপর নির্ভর করা যাবে না । ৩ ধরনের প্রমাণই ঘেটে দেখতে হবে । পরস্পর বিপরীত মুখি , বিপরীত ঘরানার বই , পত্র, রেফারেন্স যাচাই ও বাছাই করে তারপর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে ।
১৯৭১ কে একটি টাইম লাইনের একটা মাত্র পয়েন্ট ধরে নিয়ে তার আগে ও পরে দেশের ভিতরে ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কি ঘটছিলো , কেন ঘটছিলো এইগুলা নিয়ে পড়ালেখা করতে হবে।
উদাহরণ স্বরুপ বলতে পারিঃ আমেরিকা পশ্চিম পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিলো , এইটুক লিখলে ইতিহাস পাঠ হয় না। হেনরী কিসিঞ্জার পাকিস্তানের সরকার প্রধানকে দিয়ে চীনের দরজা আমেরিকার জন্য খোলার চেষ্টা করছিলেন বলেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার সরকারী ভাবে সমর্থন ছিলো না। মধ্যস্ততাকারী হিসেবে পাকি শাসকের ভূমিকা ও ৭১ পরবর্তী আমেরিকার কৃতজ্ঞতার ( জিও পলিটিক্সের) ইতিহাস বাদ দিয়ে , পাকিস্তান ভাঙ্গায় ভারতের আগ্রহ ও স্বার্থের ইতিহাস বাদ দিয়ে স্রেফ বাংলাদেশের ৭১ ও ৭১ পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষনের চেষ্টা করাটা বোকামি। ওতে অন্ধের হাতি দেখা ছাড়া কিছু হয় না।
-------------------------
সব রকমের ক্রস রেফারেন্সের পরেও ধ্রুব সত্য হিসেবে কোন কিছুকে বিশ্বাস করার বিপদ আছে । তাই ক্রমাগত রিয়েলিটি চেক দিয়ে নিজেকে রক্ষা করা উচিত। অনেক দিন থেকে একটা কথা শুনে আসলেই সেইটা সত্য হয়ে যায় না ।
সত্য জিনিসটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ।
মানতে কষ্ট হচ্ছে ?
ঠিক আছে , উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেই ।
আপনি আপনার বাবার সন্তান এইটা একটা তথ্য । সত্য নাও হইতে পারে।
আপনার জন্মের সময়কার মা ও বাবার অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন জনের দেওয়া সাক্ষ্য হইলো ৩য় শ্রেনীর প্রমাণ । আপনার মায়ের সাক্ষ্যকে আপনি ২য় শ্রেনীর প্রমাণ ধরে নিতে পারেন। জন্মের আগে ও পরে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাও এর ভিতর পড়বে । জেনেটিক এনালাইসিস এর পজিটিভ রেজাল্ট হতে পারে ১ম শ্রেনীর অকাট্য ও প্রত্যক্ষ প্রমান ।
মুশকিল হইলো , এমন কি জেনেটিক এনালাইসিসও কিন্তু ১০০% গ্যারান্টি দেয় না। ৯৯% থেকে ৯৯ দশমিক ৯৯৯৯% একুইরেসি প্রমিস করে। তার মানে, একশ জনে একটা থেকে শুরু করে এক মিলিয়নে একটা ভুল হইতে পারে । আরেকজনের রেজাল্টের সাথে এই রেজাল্ট পিওরলি বাই চান্স মিলে যেতে পারে। ৬ বিলিয়ন মানুষের পৃথিবীতে এই ভুলের বা মিলে যাওয়ার চান্স খুবই বেশি। তাই না? ( একটু গুণ অংক করে নেন প্রতি ১০০ জনে একবার হইলে ৬ বিলিয়নে কয়বার ভুল হয়)
তাইলে কি দেখা গেলো?
আপনার পিতা যে আপনার পিতা এইটা পিওর বিশ্বাস । কোন যাচাইকৃত প্রমাণ না ( জেনেটিক এনালাইসিস না করলে অথবা করলেও) ।
নিজের পিতার এই অবস্থা , তাইলে জাতির পিতা নিয়া কি হবে?
যা হওয়ার কথা -তাই হচ্ছে ।
----------------------------------
তাইলে কি বিতর্ক করা বন্ধ করে দিব?
নাহ। বন্ধ করা ঠিক না। সত্য সম্পর্কে, পিছনের ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে, ১০০% শিওর হওয়া না গেলেও সত্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টাটা জারি রাখা উচিত ।
এই জন্য অফেন্ডিং জিয়া, অফেন্ডিং মুজিব সিরিজ চালু থাকা উচিত । তবে নামটা বদলাইলে ভালো হইত । অফেন্ডিং এর বদলে ফাইন্ডিং জিয়া, ফাইন্ডিং মুজিব করা যায় না?
সিরিজ চালু থাকুক ।
এর পাশাপাশি অফেন্ডিং বা ফাইন্ডিং এরশাদ , ফাইন্ডিং খালেদা , ফাইন্ডিং হাসিনা সিরিজের অপেক্ষায় রইলাম।
--------------------------------
শেষ কথা ঃ
পাঠক, সবার লেখাই পড়ুন। কারো লেখাই অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করবেন না । সব সময় যাচাই করে নিবেন, ক্রস রেফারেন্স করে নিবেন। এবং পরিশেষে একমাত্র নিজের পড়ালেখা , নিরপেক্ষতা ও বিচার বুদ্ধির উপরে ভরসা রাখবেন।
আমিও সবার লেখাই পড়ছি । সম্পূর্ণ বিশ্বাস কাউকেই করছি না। সব সময় মুখের উপর বলি না কারণ মানুষের মনে খামোখা কষ্ট দিতে চাই না

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



