ব্লগিং বা ফেসবুকিং এখন ভীষণ জনপ্রিয়। বিশ্বব্যাপি কোটি কোটি টেকনো স্যভভি মানুষের পাশাপাশি বাংলাদেশীরাও এই অনলাইন কর্মকান্ডে দারুণ ভাবে জড়িয়ে পড়েছে। বাংলা ভাষাভাষী ও প্রচলিত ব্লগ গুলোর সাম্প্রতিক পোস্ট গুলো পড়লে হঠাৎ যা মনে হতে পারে তা হলো, বাংলাদেশীদের কাছে এখনো ব্লগিং বা ফেসবুকিং "সময় নষ্ট করার উপায়" হিসেবেই রয়ে গেছে। কিছু ছাড়া ছাড়া ক্যাম্পেইন, হাতে গোণা কয়েক বুদ্ধিমান মানুষের উপার্জনের পথ ছাড়া বেশির ভাগ ব্লগার এখনো " কেন করি জানি না কিন্তু ছাড়তে পারি না" অবস্থায় রয়ে গেছেন বলেই আমার ধারণা। এ ধারণা ভুলে হলে আমিই খুশি হতাম সবচেয়ে বেশি। যেমন , সারা বিশ্ব মোবাইল দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য, কত কিছুই না করে, আমরা এখনো কোটি কোটি টাকা খরচ করে কথাই বলি!
সমস্যাটা কি?
টেকনোলজি যখন মানুষের হাতে চলে আসে খুব সহজেই, তখন তার সব কয়টার সাথে "ব্যবহার করিবার পদ্ধতি" বলে কোন গাইড বুক সব সময় থাকে না। ঠিক এই কারণেই ইন্টারনেট, অনলাইন সোশাল ব্লগ বা মিডিয়া কিংবা মোবাইল ফোনকে ঠিক কি কাজে, কেন, কি ভাবে লাগাতে হবে - তা এখনও অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। তবে এইটা স্পষ্ট যে আমরা এখানে সময় কাটাতে চাই, কাটাতে পছন্দ করি এবং আমরা এমন কিছু চাই যা আমাদের আনন্দ দেয়, অথবা দেয় কোন লাভ। ( লাভ করাটাও আনন্দের নিশ্চয়ই)
বিকল্প কি হতে পারে?
ঘন্টার পর ঘন্টা কোথাও উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে যদি একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী প্রচুর সময় ও শক্তি নিয়ে ঘুরতে থাকে, তাহলে উপলব্ধির পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর চেষ্টা । এইখানেই ফোকাসড ব্লগিং এর উদ্দেশ্য , বিধেয় নিহিত।
কি করবেন?
১। প্রথমেই বুঝার চেষ্টা করুন আপনি ব্লগ বা ফেসবুকে কেন আসেন?
২। সেই উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হয়?
৩। আপনি আপনার বিনোদন বা ঘুরাঘুরির সাথে আপনার কাজে লাগবে এমন কোন কাজকে যুক্ত করতে পারবেন কিনা?
৪। বিনোদন, উপার্জন/অর্থ, বিজনেস কন্টাক্ট কিংবা একাডেমিক যোগাযোগ- এর ভিতর আপনার জন্য কোনটা জরুরী ?
৫। জরুরী বিষয়টার উপর ফোকাস করে আপনি ব্লগিং করতে পারেন কি না?
৬। কোন নতুন উদ্যোগ নিতে চান কিন্তু মার্কেটিং এর পয়সা নেই- ৫৭,০০০ হাজার ব্লগার না ভেবে ৫৭,০০০ কাস্টমার ভাবতে পারেন।
৭। একটা ভালো উদ্যোগ মিডিয়াতে প্রচার দরকার কিন্তু বিজ্ঞাপনের পয়সা নেই- ৫৭,০০০ ব্লগার আপনার হয়ে বিজ্ঞাপনের কাজটা করে দিতে পারে।
৮। একলা মাথায় সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না - বিদেশের মত বড় বড় কনসাল্টেন্সি ফার্মের কাছে পয়সা দিয়ে সমাধান কেনার দরকার কি ভাই? ৫৭,০০০ ব্লগারের মাথার উপর ভরসা রাখুন।
কতটুকু সফলতা আশা করতে পারেন?
বাংলা ব্লগিং এর শুরুর দিকে আকাঙ্ক্ষিত অনেক মানুষই ব্লগ নামটাই শুনে নাই- এমন অবস্থা ছিলো। এখন কিন্তু তা নেই। হয়ত লগ ইন করেন না, হয়ত লেখেন না , হয়ত একাউন্ট নেই- কিন্তু বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী অনেক বড় বড় সংস্থার কর্মকর্তাদের অনেকেই ব্লগ পড়েন। বিদেশে অবস্থান করছেন এমন অনেক কোয়ালিফাইড মানুষ ব্লগ পড়েন। এদের অনেকেই হয়ত আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড।
যাদের কথায়, যাদের সিদ্ধান্তে, যাদের সহায়তায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় , বিভিন্ন লেভেলে পলিসি এবং বিজনেস চেঞ্জ হয়, তাদেরকে ব্লগে কিংবা ফেসবুকের কোন কন্টাক্টের মাধ্যমে স্পর্শ করা কঠিন হলেও এখন আর অসম্ভব নয়। সুতরাং, বাঙ্গালীরে দিয়ে কিচ্ছু হবে না- মনভাব ঝেড়ে ফেলে একবার চেষ্টা করেই দেখুন। হতে পারে, ফোকাসড ব্লগিং আপনার নিজের কিংবা অন্য কারো জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে।
আজকের ফোকাস ঃ
আমি ব্লগিং শুরু করি লেখালেখির মজা পাওয়ার জন্য। তাই শুরুতে কবিতা, গল্প, চানাচুর পোস্ট ( যেইটা আদতে সত্যিকারের ব্লগ বা ওয়েব লগ) দিয়েই দিন কেটে যেত। ধীরে ধীরে এই মাধ্যমটার গুরুত্ব আর দরকারী তথ্য আদান প্রদানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে সাহিত্যচর্চায় এক রকম অপমৃত্যু ঘটে যায়। তা নিয়ে খেদ নেই। আমার সান্তনা সেই মহান সংগ্রাহক যিনি সংস্কৃতির বিশ্বায়ন ( আমরা যাকে আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন বলি) এর বিপদ টের পেয়ে সারা দুনিয়ার লোক সঙ্গীতকে বাঁচানোর জন্য পৃথিবী ঘুরে ঘুরে লোক সঙ্গীত সংগ্রহ করতে শুরু করেন। নিজের কন্যাকে তিনি লিখেছিলেন, "আমি হয়ত তোমাকে একেবারেই সময় দিতে পারি না কিন্তু বিশ্বাস করি, একদিন বড় হয়ে তুমি আমার কাজের গুরুত্ব বুঝতে পারবে। আর বুঝতে পারবে কেন আমার হাতে , এমন কি পরিবারকে দেওয়ার মতও, একটি সেকেন্ডও নেই।" সত্যিই তাই, বিশ্বায়ন হা করে কত ভাষা আর লোক সংস্কৃতিকে গিলে খেয়েছে , তা দেখে আমরা তার তাগিদের কারণ বুঝি।
ঠিক একই রকম তাগিদ অনুভব করি বাংলাদেশ নিয়ে। জনসংখ্যা আর দারিদ্রের চাপ, পাশাপাশি সীমাহীন দুর্নীতিতে ঠাসা পলিসি মেকার সোসাইটি - বাংলাদেশ আসলে একটা টিকিং বম্ব বলা যেতে পারে। একমাত্র আশা এদেশের শিক্ষিত, সাধারণ জনগণ আর প্রযুক্তির সঠিক ও সময়মত ব্যবহার।
ফোকাসড ব্লগিং এর উদাহরণ হিসেবে আমার প্রিয় দুইটা ব্লগের উদাহরণ আজকে দেব। একজন পরিচিত, জনপ্রিয় । আরেকজন অতটা পরিচিত নন। কিন্তু দুইজনেই নিজ নিজ ইন্টারেস্ট বা প্যাশনের উপরে ফোকাসড ব্লগিং করছেন। তাদের ব্লগের পোস্ট ও মন্তব্য পড়ে দেখুন , মানুষ কেমন করে সাড়া দেয়, যোগাযোগ তৈরী করে নেয়। তাঁরাও ব্লগিং করছেন, কিন্তু সময় নষ্ট?
কখনোই নয়।
জিন্নাত উল হাসানের ব্লগ
মুনির হাসানের ব্লগ
আপনাদের অংশগ্রহনঃ
আপনার কাছে কি কোন বিজনেস আইডিয়া আছে?
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আর ইন্টারনেট পেলে আপনি কি কোন নতুন ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবেন?
কিংবা একেবারে নিরবিচ্ছিন্ন না হলেও, বাংলাদেশের পরিস্থিতিতেই?
বিদেশের কেউ কি আপনাকে পার্টনার হিসেবে ব্যবসায় সাহায্য করতে পারবে?
তাহলে চুপ করে না থেকে আইডিয়া গুলো নিয়ে ব্লগে আলোচনা করুন।
ব্লগিংকে স্রেফ লেখালেখি হিসেবে না দেখে ( যদি না লেখাই আপনার পেশা হয়) উপার্জনের পথেও কাজে লাগান।
আপনার আইডিয়া বলুন, হতেও পারে এই ব্লগই আপনাকে ফাইন্যন্সার কিংবা পার্টনার যোগাড় করে দেবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


