মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, " যা তোমার দিকে এগিয়ে আসছে (অন্য দিক থেকে তোমার দিকে) তা যদি দূরেও হয়, আসলে কাছে। আর যা তোমার থেকে চলে যাচ্ছে ( বিপরীত দিকে) তা কাছে হইলেও আসলে দূরে।" তাই ভোট নিয়ে একটু আগেই ভাবছি।
কে জিতে?
সমস্যা হইলো, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর বি এন পির ভোটারের সংখ্যা নাকি সমান। ছুটকা ছাটকা জোট মোট বাদ দিলাম। তার মানে প্রতি নির্বাচনে সরকার গঠন করে আসলে সেই দল যারা মাঝখানের ভাসমান ( আনডিসাইডেড) ৪% ভোটারদের দলে টানতে পারে। তবে যেই জিতুক, আমি সব সময়ই হারি।
কোন দল কেমন?
আওয়ামী লীগ সবসময় ক্ষমতাসীন দলের খারাপ কাজ এর বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনের ক্রীমটা খায়। (নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের কথা বলি না। নিবেদিত প্রাণ কিছু সরল মনা মানুষ সব দলেই আছে। তাই এখনো মুজিব, জিয়া কিংবা এরশাদের জন্য কারো কারো পরাণ কাঁদে। ) বলছি দলের কান্ডারীদের কথা, মন্ত্রী - মিনিস্টার পদের গুড় খানেওয়ালাদের কথা। সেই অর্থে, লীগের ইতিহাস হইলো রক্ত দিবে জনগণ , বিজয় আনবে জনগণ , খাবে লীগ।
এই উপলব্ধির পিছনে ব্যাখ্যাঃ ৭০ এ ক্ষমতাসীন পশ্চিম পাকিস্তানী দল অত্যাচার করলো, সাধারণ জনগণ আন্দোলন করলো, নির্বাচনে জিতাইলো, ৭১ এ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা আনলো - ক্ষমতা ভোগ করলো কে? লীগ। ৯০ এর গণআন্দোলনের পরে বিএনপির দুঃশাসনের ফলে আবার আন্দোলন এবং জিতলো কারা? লীগ। পরবর্তীতে আবারো বিএনপির ব্যর্থতা, সীমাহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসন এর ফল কে ভোগ করছে? লীগ। এই জন্য আমি লীগরে বলি উম্মাহ পার্টি। যা কষ্ট সব করবে উম্মাহ, আর উনারা চিনি গুড় লইয়া ব্যবসা করবেন।
অপর পক্ষে যারা আছেন, তাদের আমি আলাদা করে দেখতে পারি না। আমার চোখে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং জামাত ইসলামি - সকল দল মোটামুটি একই সূত্রে গাঁথা। এর ভিতর জামাত ইসলামী প্রকৃত অর্থেই কৃমি স্বভাবের। অন্য কোন দলের পেটে ঢুকে , চুপে চুপে রক্ত না চুষলে , একলা বাঁচে না। তবে ঢুকতে পারলে, বড় দলটার অগোচরে চুষে ছিবড়া করে ফেলে।
বাকিরা হইলো চুম্মা পার্টি। কমন ফ্যাক্টর? ইনারা বিখ্যাত কারো না কারো লাশ এবং বিদেশী প্রভুর চুম্মা ছাড়া ক্ষমতায় আসেন নাই।
জিয়ার বিএনপির জন্ম মুজিবের লাশ ও পাকিস্তানী আইএসআই (এবং স্যাম চাচা) এর চুম্মায়। এরশাদের জাতীয় পার্টির জন্ম জিয়ার লাশ ও আইএসআই এর চুম্মায়। খালেদার বিএনপির প্রথম টার্মে মঙ্গলময় এক গ্রুপের বিশেষ চুম্মা আশীর্বাদ ছিলো বলে শুনা যায়। এবং সেই নির্বাচনের ফলাফল কেন্দ্রে চুম্মাওয়ালী/ওয়ালাদের উপস্থিতি, নির্বাচনের পর পরই কিছু কর্মকর্তা (এর ভিতর এক জোড়া স্বামী স্ত্রীও আছেন) অস্বাভাবিক মৃত্যু মাসুদ রানার রোমহর্ষক এস্পিওনাজ কাহিনী মনে করিয়ে দেয়। দ্বিতীয় টার্মের পিছনে লীগের ব্যর্থতা ছাড়াও, তেল-গ্যাস নিয়ে লীগের সাথে প্রভুদের অসন্তোষ এবং চুম্মার গাল পালটে যাওয়ার কথা শুনা যায়।
এবং এও শুনা যায় যে ১/১১ এর ঘটনা ঘটার পিছনে চুম্মাদাতাদের তৃতীয় কোন দল খুইজা না পাওয়াই হইলো আসল কারণ। একখান তাবেদার দাসানুদাস কিন্তু সো কলড লিগাল অল্টারনেটিভ না পাওয়াতে (চুশীল সমাজ, নাগরিক ভক্তি, গণফোড়া ইত্যাদি ফেল করা এবং জামাত জনপ্রিয় হইতে না পারা) শেষ কালে অবৈধ সবুজ ছাতাকেই চুম্মা দিতে হয়।
--------------------------------
এই তো গেলো পিছনের কথা। এর পরের নির্বাচনে কি হবে? কারে ভোট দিব?
বাংলাদেশের যেই অল্প কয়জন নাগরিক (৪% ভোটার) কোন দলকেই অন্ধ ভাবে সমর্থন করেন না , তারা কি দেখতে পায় জানেন?
তারা দেখতে পায়, সেই ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যারা জনগণের রক্ত চুষে খেয়ে পেট মোটা হয়েছে তাদের সংখ্যা কোন রাজনৈতিক দলেই কম নয়।
তারা দেখতে পায়, রাজনৈতিক নেতারা সামনে গালাগালি আর পিছনে গলাগলি করে মিলে মিশে জনগণের রক্ত চোষে ।
তারা দেখতে পায়, প্রতিটা সরকারই যেই ১০টা ভালো সিদ্ধান্ত নেয় বা কাজ করে, ৯০টা খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়ে আর খারাপ কাজ করে পুষিয়ে দেয়। আখেরে, যোগ বিয়োগ করে জনগণ বা রাষ্ট্রযন্ত্র সব সময়ই থাকে ক্ষতির খাতায়। ফলে, " যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ"।
তারা দেখে, কোন দলই দেশের কৃষক - শ্রমিক ও উৎপাদক জনগোষ্ঠীর বান্ধব কাজ কর্ম তেমন একটা করে না ।
তারা দেখে, আপাদ মস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে নিজেদের চুরি- দুর্নীতি জারি রাখার সুবিধার্থে , কেউই বদলায় না ।
তারা দেখে, সবার কাছেই কম বেশি দেশের চেয়ে দল, দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়।
তারা দেখে, নামেই শুধু লীগ, দল, পার্টি। দলীয় ইশতেহারে তেমন কোন পার্থক্য নাই। ফলে, বিষের বোতলের গায়ে লাল, নীল, হলুদ রঙ লাগালেই বা কি? বিষ তো বিষই!
বোতল দেখে ভোটটা না দিয়ে, বোতলের ভিতরের বিষের পরিবর্তন দেখে ভোট দিতে চাই।
------------------------------
এখন আবার লীগ, দল, পার্টি, গোষ্ঠী, রদ, পদ, বদ সবই মিলে মিশে গেছে। ব্যবসা, বিয়ে, আত্মীয়তা ইত্যাদি পার্টারশীপ হয়ে এমন ভাবে সকল রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের সাথে জড়িয়ে গেছে যে সরকারে বসে একজন চুরি করলে বিরোধী দলের আরেকজন বাঁচায় যাতে ক্ষমতায় গেলে সে নিজেও চুরি করতে পারে। মাঝে শুধু লোক দেখানো সামান্য বিবৃতি। কখনো জামাই ক্ষমতায় তো শশুর বিরোধী দলে, আবার কখনো দুলাভাই ক্ষমতায় তো খালাত ভাই বিরোধী দলে।
নতুন কাউকে ভোট দিতে চাই। আছেন কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী?
তবে ভাই, ভোট দেওয়ার আগে আপনার ডিটেইল্ড ইশতেহার ( বাংলাদেশের উন্নয়ন কখন , কেমনে , কোন পদ্ধতিতে করবেন) , শিক্ষাগত যোগ্যতা, ট্যাক্স পে করেন কি না তার প্রমাণ, সম্পদের বিবরণ ও উৎস , স্ত্রি-ছেলে - মেয়ে কে কোথায় - এই সব সম্পূর্ণ জানতে চাই।
এবং তারপর আমার ভোটটা আপনাকেই দিতে চাই।
আছেন কোন স্বতন্ত্র বোন কিংবা ভাই?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৭:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



