somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... একজন ব্লগারের নিষ্ঠা ও আমাদের নির্লিপ্ততার আক্কেল সেলামি কাজরী... এর কওমী মাদ্রাসার অন্দরে
ব্লগার নিশ্চয়ই একটি কোয়ালিটেটিভ রিসার্চের ইচ্ছা নিয়ে ব্লগাতে বসেন নাই , তবু আমার সন্দেহ হয় , তাঁর যদি এই রিসার্চের কায়দা কানুন সম্পর্কে জানা থাকত , আরেকটু গোছানো তথ্য পেতাম হয়ত আমরা । টুকরো টুকরো হলেও কাজরী... একটা ভীষন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন । তাঁকে অভিনন্দন ।

বলছিলাম ব্লগার কাজরী... এর কওমী মাদ্রাসার অন্দরে সিরিজটির কথা । সাদা চোখে যেটাকে খুব সাদা মাটা "অবজার্ভেশন" বলেই মনে হয় । তবে , গল্পের মত করে বলা টুকরো টুকরো বাক্যের একটু গভীরে তাকালে আমরা একটা অচেনা জগতের সন্ধান পাই । এই জগতটা আমাদের অপরিচিত । হয়ত আমাদের অনেকের বোন, প্রেমিকা, আত্মীয়ার অপরিচিত । কিন্তু তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করার উপায় নাই । এরা আমার দেশেরই মানুষ । কিন্তু ঠিক মানুষ নয় , মানবেতর হিসেবে তারা স্রেফ জীবন যাপন করে । কিংবা ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকে বলা যায় ।

অনেকেই অনেক ক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করেন , বাংলাদেশে জামাতের মত স্বাধীনতা বিরোধী দল কি করে মাত্র ৩৭ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি , রাজনীতি এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্যান্সারের মত বাস তৈরী করতে পারে ?

উত্তরটা ভয়াবহ । জামাত, রাজাকার, আল বদর কিংবা আল শামসের লোকেরা , শান্তি কমিটির সক্রিয় সদস্যরা একটা স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা বিরোধী হয়েও এতটা শক্তি অর্জন করতে পারে কারন তাদের বিরুদ্ধে আমরা নমনীয় থাকি । যখন আওয়ামী লীগ কিংবা বি এন পি জামাতকে সাথী , বন্ধু , ভাই বানিয়ে বাংলাদেশকে চুষে খায় তখন আমরা ক্ষমাশীল হই । আমরা ৭১ এর পরে যেই গ্রাম আমাদের আশ্রয় দিয়েছিলো , মুক্তিযুদ্ধের রসদ যুগিয়েছিলো , স্বাধীনতা তাদের সুন্দর জীবন দেবে ভেবেছিলো - সেই গ্রামকে আমরা ভুলে থাকি । আমাদের মনযোগের কেন্দ্রস্থল হয়ে থাকে ঢাকা , চট্টলার মত কুলীন শহর । ক্ষমতাভোগীদের এই ন্যাক্কার জনক আচরনের প্রতিবাদ , প্রতিরোধ করার বদলে আমরা উলটো তাদের সাথে হাত মিলিয়ে ঢাকায় পড়ি, ঢাকায় চাকুরী খুঁজি , ঢাকায় বাড়ি বানাই অথবা আর কিছু না পারি ঢাকার কাছে নদী কিনে রাখি একটা "ঢাকাইয়া উন্নত ভবিষ্যতের" আশায় ।

এরই ফলশ্রুতিতে গ্রাম আমাদের অবহেলা, অমনযোগ এর ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো হয়ে ওঠে । গ্রামের দরিদ্র , অসহায় , পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কেবল পিছিয়েই পড়ে । তারা শহুরে চাকচিক্য আলা প্রতিষ্ঠান গুলোর দরজা থেকে ছিটকে পড়তে থাকে কেবল দূরে , আরো দূরে । কিন্তু , মানুষ বসে তো আর থাকে না । সুতরাং , সাধ্যের ভিতরে মানুষ যা পায় , তাকেই গ্রহন করে নেয়।

আমরা গ্রামীন জনপদের চাহিদাকে বরাবর উপেক্ষা করে এসেছি বলেই আজকে বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে হাজার কওমী মাদ্রাসা ব্যাঙের ছাতার মত বিস্তার লাভ করে এখন শহরকেও গ্রাস করতে চলেছে । এটা আমাদের অবহেলার ফল । মোমবাতির নিচের অন্ধকার এর মতই আমরা আমার নিজের দেশের ভিতর একটা বিরাট জনগোষ্ঠীতে কি ঘটে চলেছে , কেন ঘটছে , এর ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে একেবারেই উদাস ।

পছন্দ করি আর না করি , এই মানুষ গুলো , যারা কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহন করে , একটা সময় মানসিক ভাবে বিকলাঙ্গ আর "লাইফ স্কিল" , " উপার্জনের জন্য পেশাগত শিক্ষা"র দিক থেকে পঙ্গু হয়ে বের , এরা আমার দেশের , আমার সমাজেরই অংশ হয়ে থাকে । উটপাখির মত আমরা বালিতে চোখ গুঁজে থাকি আর হাজার হাজার নারী ও পুরুষকে একটা মধ্যযুগীয় বিভীষিকাময় শৈশব , কৈশোরের ভিতর দিয়ে যেতে দেই । খেয়াল করুন , একেবারে শিশু অবস্থা থেকেই এরা একটা ভিন্ন জগতের আসামী হয়ে যায় । স্বাভাবিক পারিবারিক, সামাজিক , সাংস্কৃতিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এরা ব্রেইন ওয়াশড এক একটা অদ্ভুত প্রানী হিসেবে বাইরের জগতে পা রেখেই কি দেখে ?

দেখে - তাদের এত বছরের শিক্ষা ও জীবনযাপনের তরিকার কোন স্বীকৃতি নেই । এদের জন্য ভালো কোন পেশা নেই । চাকুরির সুযোগ নেই । অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান বলে ব্যবসা বানিজ্যের পুঁজি তো নেইই , শিক্ষাও নেই । কারন তাদের ঝুলিতে যোগ্যতা বলতে পরকালের জ্ঞান , অফুরন্ত নেকি আর সোয়াব আর সাথে চাঁদা বাজি কিংবা ভিক্ষার "ট্রেনিং" । আর সব না হয় বাদ দিলাম , পেটের ক্ষুধা তো সব মানুষই টের পায় আর সেই ক্ষুধা মিটাতে সব কিছু করতেই প্রস্তুত থাকে ।

দোষ দেবেন কি করে যখন এরাই জামাতের হাতিয়ার হয়ে ওঠে ?

আমরা তাদের যা দেইনাই , জামাত তাদেরকে সেই সব দেবে বলে দলে টেনে নেয় । জামাত তাদের কর্মীদের ইহকালে চাকুরী , ব্যবসা , ঋণ এর ব্যবস্থা করে আর পরকালে বেহেস্তের চাবি পাবে বলে ভাওতা বাজি করে ।

কিন্তু , জামাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেই কাজটি করে , তা হলো , আমাদের " নির্লিপ্ততা আর অবহেলায় প্রায় অগোচরে " চলে যাওয়া একটা জনগোষ্ঠীকে তারা তাদের গোচরে আনে । আমরা যেই গ্রামকে ভুলে থাকি , সেই গ্রামকে তারা ধীরে খুব ধীরে গ্রাস করে নেয় । ফুলকুড়ির মতন শিশু সংগঠন কিংবা মাদ্রাসার মত জায়গা গুলো তারা দখল করে নেয় ।

আমরা শিশুদের পাত্তা দেই না ।
আমরা গ্রামের গরীব গুর্বোদের পাত্তা দেই না ।
আমরা গ্রামীন মেয়ে শিশু, কিশোরী, নারীদের পাত্তা দেই না ।
আমরা তেল চুপচুপে , বোটকা গন্ধ আলা ক্ষ্যাত লোকগুলাকে ভুলে থাকি ।

আর তারপর , একদিন ভোরে উঠে দেখি আমাদের ভুলে যাওয়া লোকগুলো না জেনে , না বুঝে চলে গেছে শত্রুর পক্ষে । এবং আমাদের আত্ম অহংকারের মুখে চুন কালি মেখে দিয়ে এবার তারা আমাদের বাধ্য করে তাদের পাত্তা দিতে । তাদের সংখ্যা গত ৩৭ বছরে এতটাই বেড়ে গেছে যে তারা সাহস করে আমাদের সংসদে যাওয়ার, আমাদের বিজয় দিবসে মিছিল করার , আমাদের পয়লা বৈশাখে বোমা ফেলে মানুষ মারার ।

হ্যাঁ , এইবার আমরা চোখ ঠিক খুলি না , খুলতে বাধ্য হই ।

কাজরীকে অভিনন্দন এই রকম ভুলে যাওয়া " বাংলাদেশকে " আমাদের চোখের সামনে এনে উপস্থিত করার জন্য ।

যখন একই দেশে আমেরিকান স্কুল , আগা খান কিংবা ক্যাডেট কলেজ, ভিকারুন্নিসা , শাহীন , হলিক্রস , নটারডেম আর কওমী মাদ্রাসা থাকে ; যখন একই দেশে বাংলা , ইংলিশ আর মাদ্রাসার উর্দু, আরবী মিডিয়াম তিনটা ভিন্ন প্রজাতি তৈরী হতে দেওয়া হয় ; যখন একই দেশে কেউ ইউরোপ , আম্রিকায় সামার কাটায় আর কেউ বাপ, মা খাওয়াতে পারে না বলে মাদ্রাসায় , এতিম খানায় চলে আসতে বাধ্য হয় --- তখন সেই দেশ ফ্যানাটিকের জন্ম দেয় । দেবেই ।

এই নগ্ন বৈষম্যকে আমরা তৈরী হতে দেই । ভুলে যাই , দেশের শরীরে কোথাও পচন দেখা দিলে সেটার নিরাময় করা আমারও দায়িত্ব । আর না হলে , সেটা একদিন আমাকেও শেষ করে দেবে ।

স্বার্থপরতা আর ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার মাদক আমাদের বাংলাদেশকে আজ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে । কওমী মাদ্রাসার পুত্র কন্যারাও যে আমাদের সন্তান , তা আমরা ভুলে থাকি বলেই এই সন্তানেরাই একদিন বোমা হাতে চিৎকার করে বলতে আসে ,

দড়ি ধরে মারো টান , বাংলা হবে আফগান ।

আমরা কি কাজরী... লেখায় উঠে আসা আমাদেরই ভাই , বোনদের , বাংলাদেশের শিশুদের ভুলে থাকবো ?

আর আমাদের রক্তে কেনা পতাকা গিলে খাবে ৭১ এর শকুন ?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28878452 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28878452 2008-12-05 02:00:28
এই ব্যটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইলো কেমনে ?


" বর্তমান ... ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় বিজ্ঞানের চরম সাফল্যের যুগেও মানুষকে থমকে দিয়েছে ঘাতকব্যাধি এইডস্‌। আর এর পরিণতি নিশ্চিত মৃত্যু।" --- এই কথার ভিত্তি কি? উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিস হইলেও মানুষ সারাজীবন ওষুধ খেয়ে যায় , যাদের পরিনতি নিশ্চিত মৃত্যু । ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পরেও ২০/৩০/৪০ বছর বেঁচে থাকা সম্ভব । এইডস বলতে যদি ভাইরাসের সংক্রমন বুঝায়, উক্ত পোস্টে যা বুঝানো হয়েছে বলে মনে হয় , সেইটার পরিণতি অন্য আরো অনেক রোগ যা কখনো ভালো হয় না কিন্তু কন্ট্রোল করা যায় , তাদের মতই।

ইসলামের অনুশাসন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এইডস্‌ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। ---- পরিত্রান মানে তো " কিওর" জানতাম , ভাইরাস থেকে ইসলাম মুক্তি দেবে কি ভাবে ?

পবিত্র কুরআন শরীফ গবেষণা করে দেখা গেছে­­ আদ, সামুদ জাতি হস্তমৈথুন, যৌনাচার ইত্যাদিতে দারুণ আসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের ভিতর এ ধরনের রোগের উৎপত্তি ঘটেছিল। এটি সম্পূর্ণ প্রকৃতি বিরোধী অনুশীলনের ফলাফল ছাড়া আর কিছুই নয়।----- -------------- হস্তমৈথুন থেকে এইডস এর মত কি কি রোগ ছড়ায় রে বাবা !!!! ডাক্তার হয়েও একটা নাম মনে করতে পারলাম না যেইটা হস্তমৈথুনের মাধ্যমে ছড়ায় , তাও আবার এইডস এর মত মারাত্মক !!!

যৌনাচার যে প্রকৃতিবিরোধী কাজ, এইটাও জ্ঞানী পোস্ট পড়িয়া জানলাম ।

এ রোগের বিস্তার লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে অবৈধ যৌনমিলন। ---- ------------ জঘন্য মিথ্যাচার । মাধ্যম হচ্ছে অনিরাপদ ( কন্ডমবিহীন) যৌন সঙ্গম যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রস অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করেছে । বৈধ , অবৈধতার সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই । এইখানে উল্লেখ্য , হাজার হাজার নির্দোষ স্ত্রী এইচ আই ভি আক্রান্ত হয়েছেন তাদের স্বামীর কাছ থেকে । এইখানে অবৈধ যৌনাচার আসলো কোথা থেকে ?

তবে আজ তা আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ থেকে ভারত, চীন, কম্পোডিয়া, মায়ানমার, থাইল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী অনেক দেশসহ বাংলাদেশেও মহামারী আকারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ---- বাংলাদেশে মহামারী হইলো কখন ? কোন তথ্যের সূত্রে এই সব বলা হচ্ছে ? ফাজলামো নাকি ?

তবে সে সব দেশে অবাধ সমকামিতা সে সব দেশে এইডস্‌ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। ----- এই দেশ গুলার নাম জানতে চাই । কোন কোন দেশে অবাধ সমকামিতা আছে যারা এইডসের ঝড়ে পড়েছে জানা দরকার । সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আফ্রিকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ । আফ্রিকার কোন দেশেই অবাধ সমকামিতা আছে বলে জানি না ।

... এইডস্‌ ঝুঁকির আশংকা রয়েছে।

এইডস্‌ প্রতিরোধে ইসলামঃ
ধর্মীয় অনুশাসন পালনের মাধ্যমে এইডস্‌ সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব। এইডস্‌ প্রতিরোধে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আজ থেকে প্রায় ১৪শ’ বছর পূর্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ মানব জাতিকে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অনেক দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। আর সে সব বিধি-বিধান বর্তমানে পালিত না হওয়ার কারণে এইডস্‌-এর মত ভয়াবহ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে।------ --------------------------- একদম ঠিক কথা । এই জন্যই দেশে দেশে ম্যালেরিয়া, শ্বাস্নালীর সংক্রমন, ডায়রিয়া, যক্ষা ইত্যাদিতে লাখ লাখ মানুষ মারা যায় । বার্ড ফ্লুতে হাজার হাজার মানুষ সর্বসান্ত হয়ে গেছে । এই জন্যই সারা বিশ্বে ৬০% এর বেশি শিশু অপুষ্টিতে মারা যায় আর সৌদি আরব আমেরিকারে ফ্রি ফ্রি তেল সরবরাহ করে। এই সব কিছুর পিছনেই হলো ইসলাম না মানা।

ক. ধর্মীয় অনুশাসন পালনের নির্দেশঃ
ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। ইসলামকে পূর্ণভাবে অনুশাসনের মাধ্যমেই কেবলমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। মহান আল্লাহ তায়ালা পূর্ণভাবে ইসলামকে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে ধর্মীয় অনুশাসন পালন না করার কারণে অবাধ মেলামেশার মাধ্যমে মরণব্যাধি এইডস্‌ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।

খ. অবাধ যৌনমিলন নিষিদ্ধকরণঃ
অবাধ যৌনমিলন তথা ব্যভিচারই ভয়াবহ ব্যাধি ও সামাজিক অনাসৃষ্টির কারণ। বর্তমান বিশ্বে হত্যা, সামাজিক বিশৃক্মখলা ও ভয়াবহ এইডস্‌সহ নানা ধরনের দুরারোগ্য রোগের যে ছড়াছড়ি তা মূলতঃ নারী-পুরুষের অপকর্মে লিপ্ত থাকার ফল। ------ ---------------------------------- আহারে , এই তথ্য আগে কেন পাইলাম না !!! খামাখা গবেষনার বিলিওন ডলার বেচে যাইতো ।

হত্যার কারন নারী -পুরুষের অপকর্ম !!! তা ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইরাকে , কঙ্গোতে তাহলে এই কারনেই ... ... ...



গ. অসামাজিক ও অশ্লীল কাজ নিষিদ্ধকরণঃ
যুগে যুগে অতি উৎসাহী, বিকৃত চিন্তা-চেতনার অনুসারী কিছু সংখ্যক লোক শয়তানের প্ররোচণায় নানা রকম অসামাজিক, অশ্লীল এবং পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ আতংক সৃষ্টিকারী মরণব্যাধি এইডস্‌ ও তেমনি ঘৃণিত অশ্লীল অপরাধ। ------------------------- তার মানে , এইচ আই ভি আক্রান্ত সকলকে ঘৃণা করতে হবে? এই ছাগুটা জানে বাংলাদেশে সিফিলিস , গনোরিয়া ইত্যাদি যৌণ রোগ গুলা আমরা কাদের ভিতর সবচেয়ে বেশি পাই ?

ঘ. ভয়ংকর মহামারীর ব্যাপারে সতর্কঃ
অশ্লীল, বেহায়াপনা ও অশালীন আচার-আচরণের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যায়। ঘৃণা এই অশ্লীল কাজের মাধ্যমেই ভয়ংকর মহামারী রোগ সৃষ্টি হয়।--------------------------------- কিয়ের মধ্যে কি ? কয়টা রোগ আছে মানবের ইতিহাসে ? মহামারী হইলে তো সবার জানার কথা ।

লেখকঃ মোহাম্মদ আদেলউদ্দিন আল মাহমুদ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ফোন: ০১৭১৬ ২৪২৪৫৭
----------------------------------------------------------

বহুত লম্বা জ্ঞানী পোস্ট । অনেক অংশ মুছে দিতে বাধ্য হয়েছি । কিন্তু ঘুরে ফিরে একই ফাজলামো । এইডস মানে কি জিনিস , এইটাও এই পাগল জানে কিনা সন্দেহ । এইচ আই ভি আক্রান্ত ব্যক্তির একেবারে শেষ অবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে কমে গেলে সাধারন সংক্রমন গুলো শরীরে ভয়ংকর হয়ে দেখা দেয় । শরীরের চামড়ায় কিংবা অন্ত্রে অবস্থিত ব্যাক্টেরিয়া , ভাইরাস যা সুস্থ দেহে কিছু করতে পারে না , সেই সব জীবানুও তখন রোগ তৈরী করে । এই রকম অবস্থাকে এইডস বলে । বিস্তারিত তথ্য অনলাইনে পাবেন ।

বাংলাদেশে এইডসের উপর কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় যেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমরা প্রায়শ হয়েছি তা হলো মানুষের না জানার থেকেও ভয়ংকর -- ভুল তথ্য জানা । বছরের পর বছর যুদ্ধ করে আজকে বাংলাদেশে এইডস নিয়ে মোটামুটি খোলাখুলি আলোচনা করা যায় , জানানো যায় সঠিক তথ্য । আর এই কাজটা এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে যে সব মানুষ , তারা অন্যদের বাঁচাতে চায় বলে নিজেদের তুলে ধরেছে অন্য মানুষের সামনে । এইচ আই ভি পজিটিভ হওয়ার সাথে যে ভয়ংকর স্টিগমা জড়িত, যেই খুনী ঘৃণা জড়িত তাকে সরাতে কম কষ্ট করতে হয়নি । এ লড়াই এখনো চলছে । অনেক মানুষের রক্ত পানি করা প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে কোন ছাগল যখন ভুল ভাল তথ্য দিয়ে মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করতে থাকে , তখন সত্যি ইচ্ছা করে ধরে একটা কষে থাপ্পড় লাগাই ।

ইসলাম পালন করার , আল্লাহকে ভালোবাসার অনেক ভালো ভালো কারন আছে । ইসলামী জীবন যাপনের ভালো ফলাফল কিংবা যে কোন ধর্মের সত্যিকার অনুসারী হওয়ার ফলে একটা ডিসিপ্লিন্ড লাইফের সুফল পাওয়াও সম্ভব । তবে , সেইটা নাস্তিক হইলেও সম্ভব । কোন জীবনাচরন মানবের জন্য কল্যানকর , সেইটা একটু চিন্তা করলেই মানুষ বোঝে । ইসলাম কিংবা অন্য যে কোন ধর্মের মূল শিক্ষা আর ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা ( কোন ধর্ম ব্যতিরেকে) মূলত একই । কেউ , যদি কোরান হাতে নিয়ে সেই ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে , ওয়েল এন্ড গুড। তাই বলে , আউল ফাউল যুক্তি দেখায় , ভুল ভাল তথ্য দিয়ে ,

" ইসলাম পালন করুন, এইডস মুক্ত হউন " -- টাইপের ছাগলামি যেন কাউকে বিশ্বাস করতে না হয়।

স্বাস্থ্য এবং ধর্ম -- কোনটাই যেন ছাগলের পাল্লায় না পড়ে , ইয়া মাবুদ , রক্ষা করো ! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28877580 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28877580 2008-12-03 09:38:14
সুখ মানে বাংলাদেশ ভুলে থাকা (শেষ)
নিজের মাতৃভূমির দিকে তাকিয়ে কষ্ট ছাড়া কিছু দেখতে পাই না । সমস্ত দেশটাই যেন গিলে খাচ্ছে শত্রুর পৈশাচিক গ্রাস আর আমরা কেবলই তাকিয়ে রয়েছি অসহায় । আমাদের দৈনন্দিন যাপন অবশ্য থেমে নেই । ইরাকের আসোয়াদ মাইনে উড়ে গেলে কিংবা মুম্বাই এ বেড়াতে এসে ১৩ বছরের নাওমী স্রেফ রক্ত মাংসের পিন্ডে পরিনত হলে যেমন আমার জীবন যাপিত হতে থাকে , তেমনই নৈর্ব্যক্তিক নির্লিপ্ততায় আমি যাপন করি বাংলাদেশের বুকের অন্ধকার ।
৩৭ বছরের ক্রমাগত ভুলের প্রতি , রাজনৈতিক নেতাদের দুনিয়াখেকো লালসার প্রতি , পরিবারের শিশুটির হত্যা, চৌর্যবৃত্তি কিংবা বাটপারি করে উপরে ওঠার সীমাহীন প্রতিযোগিতার প্রতি আমরা আর প্রতিবাদ করি না । আমরা বাধা দেই না বরং জৈবিক প্রয়োজনের কাছে বাধা পড়ি ।
আমরা বার বার রাস্তায় প্রতারিত হই বলে রাস্তাকে ভুলে যাই ।
আমরা বার বার দেশপ্রেমে প্রতারিত হই বলে দেশপ্রেম ভুলে যাই ।
আমরা বার বার বিপ্লবে প্রতারিত হই বলে বিপ্লব ভুলে যাই।
আমরা বার বার যুদ্ধে প্রতারিত হই বলে যুদ্ধ ভুলে যাই ।
আমরা বার বার বাংলাদেশে প্রতারিত হই বলে বাংলাদেশ ভুলে যাই ।

আমরা বেঁচে থাকার জন্য মরে যাই ।
আমরা স্বাভাবিকতা পেতে অস্বাভাবিক রকমের স্বাভাবিক হয়ে উঠি।
আমরা সকল অসুখকে চেতনের বাইরে পাঠিয়ে দেই ।
নইলে , ৩০ লক্ষ মৃত্যু ও দুই লক্ষ ধর্ষন আমাদের অসুখী করে তোলে বলেই আমরা স্রেফ ওদের যাপন করি ,
বিচার করি না ।
রক্ষা করি না ।

এখন সুখ মানে , বাংলাদেশ ভুলে থাকা । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28876065 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28876065 2008-11-30 02:12:16
সুখ তুমি কি ? - ২
ক্ষুধা কিংবা যে কোন ধরনের "প্রয়োজন" না মিটলে যে বেদনার সৃষ্টি হয় , তা থেকে উত্তরন আমাদের সুখ দিয়ে থাকে । এই মতবাদ আমার মেনে নিতে কষ্ট হয় না। শিশু নাকি জন্ম নিয়ে বড় ঝামেলার ভিতর থাকে , থাকে অসহায় । তার প্রথম প্রয়োজন বাতাস ও উত্তাপ , না পেলেই বেদনায় নীল । আর তারপর খাদ্য । আমরা ব্যথা পেলে কাঁদি , শিশুও কাঁদে । সেই ব্যথা বা কষ্টের উৎসকে সরিয়ে নিলে আমরা সুখি হই । তাহলে কি শিশুও সুখ অনুভব করে ? ক্ষুধা , শৈত্য কিংবা একাকীত্ব কি তাহলে শিশুর বেদনার কারন ? এই অবস্থাকে আমরা যেমন কষ্টের উপস্থিতি হিসেবে বলতে পারি (যেমন বুকের গভীরে কোন ক্ষতের বাস) , তেমনি সুখের অনুপস্থিতিও এই একই অবস্থা বা স্টেট তৈরী করে , তাই না?

উপরের যুক্তিগুলোকে গ্রহন যোগ্য হিসেবে মেনে নিলে আমরা আরেকটু এগিয়ে লিখতে পারি , সুখ = বেদনা নাশ = অ-সুখের অনুপস্থিতি ।


বেদনা নাশ = বিস্মৃতি ?

কথায় বলে , অতি বড় মৃত্যু শোকও ১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হয় না । মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেই হয় । কি করে সম্ভব হয় তা?

হয়ত এটাকে বলে , প্রাকৃতিক আত্ম্ররক্ষা প্রক্রিয়া ( ন্যাচারাল ডিফেন্স মেকানিজম) আত্ম্ররক্ষার খাতিরে স্বাভাবিক জীবন যাপন দরকার, আর এই যাপনের জন্য চাই স্বাভাবিক অবস্থা । মস্তিষ্ক তাই শরীরের ভেতর ও বাহিরের প্রচন্ড প্রতিকূল অবস্থাকে আমাদের বোধের/চেতনের বাইরে, আবার কখনো স্মৃতির বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে "স্বাভাবিকতা"কে নিশ্চিত করে। এই প্রক্রিয়াটি ধীর গতিতে হতে পারে , আবার হঠাৎ ও হতে পারে ।এই জন্যই শক- এর কারনে জ্ঞান হারানো আসলে হার্টফেল = মৃত্যু থেকে আত্মরক্ষার কৌশল। অভিজ্ঞতা/ অনুভব যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায় আমরা জ্ঞান হারাই । কখনো হারাই স্মৃতি । স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষের ডায়রী ঘাটলে তাই পাওয়া যায় কোন না কোন তীব্র বেদনা যাকে অন্ধকারে রাখা ( ব্লক আউট) জীবন রক্ষার কোন কৌশল মাত্র । কারো কারো ধারনা , একই কারনে আমাদের জীবনের প্রথম কয়েক বছরের কোন স্মৃতি আমাদের মনে থাকে না , ঐ সময়টা নাকি বেশির ভাগই কষ্টের তাই ।

গোল্ড ফিশেরাই সুখি ?

দুনিয়াতে নাকি মুর্খরাই সবচেয়ে সুখি । কেন? কারন তারা কিছু জানে না । তার মানে কষ্ট সম্পর্কে না জানা কিংবা বিস্মৃতি তাহলে সুখের অনুভব তৈরী করে । এর বহু প্রমান আমাদের নিজেদের আটপৌরে জীবনেই আছে । আমরা কিছু অস্বস্তিকর কষ্টকে কিছু সময়ের জন্য মাথার পিছন দিকে পাঠিয়ে দেই । তাই ইরাকে , কঙ্গোতে কিংবা মুম্বাইয়ে মানুষ মারা গেলেও আমাদের জীবন যাপিত হয় । এই হৃদপিন্ড ছ্যাদা করা কষ্ট গুলাকে আমরা খাওয়ার সময় , অফিসের সময় , গোসলের সময় , যৌনতার সময় ভুলে থাকি । না হলে , জীবন চলে না । না অন্য কারো অসুখের জন্য নিজের অসুখী হওয়া ঠেকানো যায় না ।

(আজ মনটা উদাস রে মোমিন, দুইনায় সুখ নাই ... তাই চলবে ) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28876062 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28876062 2008-11-30 01:44:57
সুখ তুমি কি ? " style="border:0;" />

আমরা কি সুখের পিছনে ছুটি ?

আমরা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যা কিছু সিদ্ধান্ত নেই , যা কিছু করি কিংবা করি না , সেই সব অগণিত "হ্যাঁ " এবং " না" এর মূলে কোন উপলব্ধি কাজ করে ? পিচ্চি কালে গুটি গুটি পায়ে মায়ের কাছে ছুটে যাওয়া থেকে বুড়াকালে মাতৃভূমির কোলেই "মরন যেন হয়" আকাঙ্খায় মিনতি -- এ কি সুখের আকাঙ্খা ? এর বিপরীতে "বৃদ্ধাশ্রমে " মা কিংবা মীরজাফরের দেশদ্রোহীতা , সেও কি সুখের জন্য নয়? আমরা কি প্রতিটা সিদ্ধান্ত নেই শেষ পর্যন্ত কোন এক সুখময় পৃথিবীতে সুখী জীবন যাপনের জন্যই ?
( খাইসে , এত প্রশ্ন কেনু ? এ ত আউলা লাগিয়া গেলো রে মোমিন !!!!<img src=" style="border:0;" />)

রাগ ইমন ভনে -হ্যাঁ , সবটাই সুখের জন্য । "সুখ" - কেউ পায় ভোগে, কেউ ত্যাগে; কেউ ব্যক্তিগত সীমানায় , কেউ সমষ্টিগত নিরাপত্তায়; কেউ বস্তুবাদিতায়, কেউ পারলৌকিকতায় - যে ভাবেই ব্যাখ্যা করি না কেন - আমার কাছে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি নেওয়া কোটি কোটি সিদ্ধান্ত গুলোর শেষ লক্ষ্য মনে হয় সুখ। মানে , দুঃখ পাওয়ার জন্য আবার কে কবে কি করেছে !!! রবীন্দ্র ব্যাটা যতই বলুক " আমি যত দুখ পাই " - ব্রেকিং নিউজ হলো প্রেমিকার সুখে সুখিত হইবার চিকন ইচ্ছা থাকেই সকল "তিয়াগী প্রেমিকের মনে"। <img src=" style="border:0;" />

নানা মুনির নানা মত ঃ

দৈনন্দিন জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এই " সুখকে" তাহলে হাজার বছরের চিন্তায়, চেতনায়, দর্শনে আমরা সঙ্গায়িত করতে পারিনি - এ আবার কেমন কথা ? ক্ষুধা পেলে সুস্বাদু খাবার আমাকে সুখ দেয়, সুখ দেয় প্রিয় মানুষের চুম্বন। প্রিয় দেশের জয় আমাকে সুখ দেয় , সুখ দেয় পড়ন্ত বিকেলের রোদ । সুখের অনুভবকে বিশ্লেষন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা তাই ইন্দ্রিয়কে অনুসন্ধান করেছেন , মানবের মস্তিষ্ককে কেটে ছিড়ে দেখেছেন এবং আমাদের জানিয়েছেন - সুখের স্টিমুলাস বা উত্তেজক শরীরের বাহির থেকে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে ভেতরে আসুক , অথবা ভিতরের কোন এক উৎস থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছাক - সুখ আসলে শেষ পর্যন্ত কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ।

কেউ কেউ সুখকে ব্যক্তির অভিজ্ঞতা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করলেও ( উপরের উদাহরন গুলোর মত) এটি আমি ঠিক মেনে নিতে পারিনি কারন একই ঘটনা (৭১ এর বিজয়) কারো জন্য সুখের (মুক্তিযোদ্ধা) , কারো জন্য চরম অসুখের (রাজাকার) । আর সব বিষয়ের মত আমরা সুখেরও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা দার্শনিক বিভিন্ন সংজ্ঞা পাই । অত সব উদাহরনে যেতে চাই না , কারন ঘুরে ফিরে বেশির ভাগ ব্যাখ্যাই শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির প্রতিক্রিয়াকে ধারন করে "সুখ " হিসেবে । সুতরাং , ঘটনা যাই ঘটুক , সুখ দেখা যায় একটা নির্দিষ্ট অবস্থা , যেই অবস্থায় মানুষ সুখ অনুভব করে ।

সুখ- এর জৈবিক সংজ্ঞা তাই ঃ কোন স্টিমুলাস বা উত্তেজকের প্রতি আমাদের মস্তিষ্কের রাসায়নিক ও স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া যা আমাদের ভেতর সুখের অনুভব তৈরী করে । <img src=" style="border:0;" />

আবিষ্কৃত রাসায়নিক যৌগ " এন্ডরফিন্স"গুলোকেই এই "সুখের " মূল বলে বিভিন্ন গবেষনায় জানা যায় । এখন ঘটনা হইলো , এন্ডো মানে হইলো ভিতরের আর মরফিন মানে বেদনা নাশক । তার মানে কি দাড়াইলো ? সুখের রাসায়নিক শরীরের ভিতরের বেদনাকে কিংবা অসুখের অবস্থাকে পরিবর্তন করে সুখের অবস্থায় নিয়ে যায় ।

কয়টা উদাহরন ঃ এই যেমন বিরিয়ানী খাইলে, মায়ের ফু পাইলে , বউ ফুন দিলে , পানে চুন দিলে ইত্যাদি ইত্যাদি - শরীরে এন্ডরফিন্স নিঃসৃত হয় । অতএব আমরা সুখি হই । তবে , গল্পটা বলিউডের সামাজিক এ্যাকশন ড্রামার মত কাহানিমে টুইস্ট হোতা হ্যায়, খুব একটা সোজা সাপ্টা না। যদিও ওষুধের ব্যাপারি ম্যাঙ্গো পিপলকে লুডিওমিল খেয়ে সুখি হওয়ার উপদেশ দেয় , হীরামনের দরবেশ বাবার মত তাহাদের বাংলা মাইর দিলে জানবেন, মাথার কিডনীতে না না রকম আউলা ঝাউলা হয় বলে একটা পদার্থ বাড়াইয়া কমাইয়া সুখি হইবার চেষ্টা করা নিতান্ত অপদার্থের কাজ ।


( চলিলেও চলিতে পারে । না চলিলে ড্রাফট হইবে) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28876019 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28876019 2008-11-30 00:16:53
প্রতিক্ষা ! দ্বিধাহীন ফেলে দিয়ে যত পিছুটান
মায়াময় কুহু ডাকা মান অভিমান
না যাওয়ায় অভিসারী বাসনা শ্মশান।

ফেরালেই ফিরি -
ছোট ছোট , একা একা , অতীত বাসর
মায়া না কি ছায়া, না কি … স্বপনেরও ঘর
পায়ে ঠেলে আপনাকে করেছিনু পর !

বৃত্তের ওপারে
আমি থাকি । তুমি থাকো । রেখা গুলো বেকে
বার বার পিছু ফেরো নিজেদের থেকে ।
দয়া করে ফেরাবে কি একবার ডেকে?

নিরবেই থাকো
ডেকে এনে আমাকেই । দারোয়ানি রাখো
নিজ দোরে। এই ঘোরে আর রেখো নাকো ।
“ ফিরে যাও” , বলে , কাছে একবার ডাকো !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28872411 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28872411 2008-11-22 01:13:11
টুকরো টুকরো কথা , তোমার জন্য মেঘ জমেছে আমার মনে , তোমার চোখে বৃষ্টি কেন ঝরে ?

২। কে দিলো রে আকাশ আঁচল কাজল রঙে ভিজিয়ে শ্রাবন মাসে !
দলক ভেঙে নোলক পরা একটা কালো মেয়ের ছবি ভাসে ।

৩। তোমার সাথে মান করে লো রইনু বসে কাজল গাঙের পারে
ঘাট মেনেছি , আর যদি যাই নিঝুম রাতে লাজুক অভিসারে ।

৪। সেই না কবে যখন রবে আমার পাশে চাঁদের আলো মেখে
দোদুল দোলায় পরান ভোলায় গুন গুনিয়ে আগাম পরব দেখে ।

৫। হিম পেরুলো পথের পানে; পৌষ গিয়েছে , এবার মাঘের পালা
ফাগ যদি যায় আগ বাড়িয়ে কি আর হবে খোঁপায় দিয়ে মালা?

৬। হাত বাড়ালেই যায় কি ধরা চাঁদ - জোছনা কোমল করতলে ?
তাই ধরেছি নামটি তোমার বুকের কোনে আকুল নয়ন জলে ! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28867565 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28867565 2008-11-11 06:18:51
একজন শিরোনামহীন ভালোবাসার জন্য
তুমি আমায় ছুঁয়েছিলে ক্ষণিক অবসরে
তোমার ছায়া পড়েছিলো আমার মেঘের পরে ।

এখন আর তেমন মনে হয় না । কখনো লগ ইন করাটাই ঝামেলা মনে হয় , কখনো মন জুড়ে থাকে যাপিত জীবনের ক্লান্তিরা । তাই এল্ভিস প্রেসলির ঐ গানটা বার বার সত্যি হয়ে ওঠে , " মে বি আই ডিডন্ট ট্রিট ইউ অ্যাজ গুড অ্যাজ আই শুড হ্যাভ , লিটল থিংগস আই শুড হ্যাভ সেইড অ্যান্ড ডান " । অপরাধ বোধে আক্রান্ত হই মাঝে মাঝে । আবার পরক্ষণেই নিজেকে মাফ করে দেই ,মনে পড়ে যায় ,

" হা ঈশ্বর , আমায় দাও সেই প্রগাঢ় অবিচ্যুতি যেন আমি মেনে নিতে পারি যা কিছু আমি কখনোই পরিবর্তন করার ক্ষমতা অর্জন করবো না , আমাকে দাও অক্ষয় অসীম সাহস যেন আমি পরিবর্তন করি যা কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব আর দাও সেই গভীর জ্ঞান যেন আমি এই দুই এর পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারি।"

আমি খুব বেশি কিছু করতে পারি না । তাই আমি সামান্যই সাহায্য করার চেষ্টা করতে চাই । আমি খুব বেশি মানুষকে সান্তনা দিতে পারি না । তাই আজকে শুধু শিরোনামহীনকে উদ্দেশ্য করে এই পোস্টটা দিতে চাই ।

আমার জন্ম হয়েছে এমন একটা পরিবারে যেখানে আমাদের সবচেয়ে বড় ও দামী সম্পদ ছিলো আমাদের মেধা আর পরিশ্রম । দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম । শিরোনামহীনের ইন্টারভিউ আর ইউনিভার্সিটির অবজ্ঞার কাহিনী পড়ে মনে হলো , কিছু একটা বলা দরকার ।

শিরোনামহীন , আমি তো অনেক জ্ঞানের কথা জানি না , আবার শোনা কথায় কোন দিন বিশ্বাস করি না । যা কিছু নিজে করে সত্য বলে প্রমান পেয়েছি , শুধু সেই সব ব্যাপারেই গায়ে পড়ে উপদেশ দিতে যাই । তোমাকেও দেই একটা । নিজের জীবনের শেষ লক্ষ্যটা যদি স্থির করে নিতে পারো , তাহলে এই আঘাত গুলো তেমন আর বড় মনে হবে না । মানুষের খুব স্বাভাবিক একটা প্রবৃত্তি হলো , আজকে যা ঘটছে তাকে খুব বড় করে দেখা , আর যা দশ বছর পরে ঘটবে , সেটাকে ছোট করে দেখা । আমি তোমাকে অনুরোধ করবো , সেই দশ বছর পরে তুমি কোথায় থাকতে চাও , সেই জায়গাটাতে চোখ রেখে ঐখানে পৌঁছানোর " অন্য কোন পথ" গুলোর খোঁজ করতে থাকো । কয়েকটা পথ অবশ্যই পেয়ে যাবে ।

কিছু জিনিস মেনে নিতে হবে । আই বি এ কিংবা নর্থ সাউথ ইউনির মেধা বা অমেধারা এই ইঁদুর দৌড়ে একটু সুবিধা নিয়ে শুরু করবে। তাদের সাথে তোমার যে কোন পার্থক্য নেই , থাকলে বরং সেটা " তুমি আরো যোগ্য" - এইটা প্রমান করার দায় তোমার ( এইটা অসুবিধা) , আবার সুযোগটাও তোমার হাতে ( এইটা সুবিধা) ।

চাকরীর আশায় বসে থেকো না । বেশির ভাগ হিউমেন রিসোর্স এর লোক জন গাধা হয় ( বাংলাদেশে , এইটা আমার অভিজ্ঞতা বলে ) । কিন্তু প্রচলিত আই বি এ , নর্থ সাউথ ছাড়া নিবো না এর বাইরেও কিছু রিস্ক টেকার , নচেৎ ডাউন রাইট চামার ( তোমারে কম বেতনে রাখা যাবে তাই) আছে । সেখানে চেষ্টা করতে পারো ।

তবে , প্রশ্ন কর্তারে থাবড় মেরে ( কথায় ) তব্ধা করে নিজের কথা ( ক্রিয়েটিভ আইডিয়া) শোনানোর মত সাহস যদি থাকে তো , একটু জানান দিও । একজনকে ( চামার না , রিস্ক টেকার) বলে দেখতে পারি।

ও হ্যাঁ , নিজের গল্পটা উদাহরন হিসেবে দেওয়ার কথা ছিলো বোধ হয় । টাকা ছিলো না বলে অনেক কিছুই করা হয়নি , অনেক গুলো সিড়ি নিচে থেকে শুরু করতে হয়েছে । কিন্তু , নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি , শেষ লক্ষ্যটা থেকে চোখ না সরালে তোমাকে ঠেকানোর সাধ্য কারো নাই । তুমি অবশ্যই পৌছাবে , একটু দেরিতে হয়ত , হয়ত একটু ঘুর পথে , কিন্তু তোমার মক্কা মদিনা ( মতান্তরে দুবাই ) পৌঁছানো কেউ ঠেকাতে পারবে না ।

শেষ করি একটা দুইটা পছন্দের লাইন দিয়ে ,

১। আমি হয় পথ একটা খুঁজে নেব , নয়ত বানিয়ে নেব নতুন একটা ।

২। মাঝে মাঝে সব কিছু ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় , যাতে টুকরো গুলো জোড়া লেগে নতুন আরো ভালো কিছু তৈরী হতে পারে ।

তোমাকে আর তোমার বন্ধুকে অনেক অনেক ভালোবাসা আর সাফল্য কামনা করি ।

রাগ ইমন আপু ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28861913 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28861913 2008-10-30 08:49:33
বিসমিল্লাহ তেই গলদ - আমার নাম ফেরত চাই !
জন্ম নিবন্ধনের হ্যাপা দেখে মনে হয়েছিল, " আমি কি তবে জন্মাইনাই !"

ভোটার নিবন্ধনের হ্যাপা দেখে মনে হয়েছিলো, " হায়! কি করি! হয় ভোটের অধিকারী না হয় শ্বাশুড়ি -- কৌন সে কৌন ব্যড় কর র‌্যাহ যায়ে গা!!!"

কিন্তু , লাইট নাম্বার ওয়ান তো দেখি আরো বড় সমস্যা করিতেছে ।
লিখলাম ভালোবাসা - বলে ইহা "ব্যবহৃত"
( হইতেই পারে , দিনে রাতে কাতারে কাতারে শত ও হাজারে কত্ত লোকে ভালোবাস!)

লিখলাম - " রাগ ইমন " , বলে ইহাও পূর্বেই নিবন্ধিত ।

কেনু
কেনু
কেনু !!!

কে করিলো এই হেন হীন কর্ম !


[ এই পোস্ট করতে করতে দেখি কাম সারা ]

ইয়া হাবিবি ! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28859702 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28859702 2008-10-25 23:04:41
তোমার এক চিলতে কোন , আমার কেন্দ্র বিন্দু (গান ) Gonna camp in my sleeping bag I'm not gonna move,
Got some words on cardboard got your picture in my hand,
Saying if you see this girl can you tell her where I am,
Some try to hand me money they don't understand,
I'm not...broke I'm just a broken hearted man,
I know it makes no sense, but what else can I do,
How can I move on when I'm still in love with you...

আবার সেই মোড়ে দাঁড়িয়েছি , আসি ফিরে বার বার
যাবো না কোথাও , সরে গেলেই, ঠিক আমি উদবাস্তু
তোমার কথা আমার চোখে মুখে
তোমার ছবিটাই সাজানো বুকের প্রথম পাতায়
সবাইকেই বলে রাখি, " চেনেন?" যদি জানে ! যদি জানায় !
কেউ ভাবে পাগল ভিখারী, কেউ " হারিয়ে ফেলেছি খেই"
ওরা তো জানে না , ভাবে অল্প আছে
আমি জানি আমার আর তো কিছুই নেই !
হয়ত সবটাই অসংলগ্ন , সবই ছন্নছাড়ার হাবিজাবি
কি করে পার হবো চৌকাঠ , সরে যাবো বিপরীতে
যখন বন্ধ দরজা সামনে আমার , তোমার হাতে চাবি

Cos if one day you wake up and find that you're missing me,
And your heart starts to wonder where on this earth I can be,
Thinking maybe you'll come back here to the place that we'd meet,
And you'd see me waiting for you on the corner of the street.

যদি ঘুম ভেঙে জেনে যাও আর আমাকেই ভাবো
যে মোড়ে প্রথম দেখা , ভাবো সেখানেই যাবো
যদি খোঁজো মনে মনে , সে পাগল কই ?
আমি সেই স্বপনে দাঁড়িয়ে এখনো বিভোর হই
হয়ত আসবে ঘুরে সেই সে পুরনো পাড়ায়
দেখবে সেখানে বোকা ছেলেটা এখনো দাঁড়ায়

So I'm not moving...
I'm not moving.

তাই আমি যাবো না কোথাও
আমি যাবো না কোথাও

Policeman says son you can't stay here,
I said there's someone I'm waiting for if it's a day, a month, a year,
Gotta stand my ground even if it rains or snows,
If she changes her mind this is the first place she will go.

পুলিশ নাকি সরিয়ে দেবে , সরকারী মোড়ে দাঁড়ানো আইন বিরোধী
বলেছি, পথ চেয়ে আছি , তোমাকে ভালোবাসার আমি অপরাধী
দিন, মাস যেতে পারে বছর ঘুরে , নড়বো না রোদে কি ঝড়ে
জানি আমার কথা পড়লে মনে আসবেই তুমি এই মোড়ে

Cos if one day you wake up and find that you're missing me,
And your heart starts to wonder where on this earth I can be,
Thinking maybe you'll come back here to the place that we'd meet,
And you'd see me waiting for you on the corner of the street.

যদি ঘুম ভেঙে জেনে যাও আর আমাকেই ভাবো
যে মোড়ে প্রথম দেখা , ভাবো সেখানেই যাবো
যদি খোঁজো মনে মনে , সে পাগল কই ?
আমি সেই স্বপনে দাঁড়িয়ে এখনো বিভোর হই
হয়ত আসবে ঘুরে সেই সে পুরনো পাড়ায়
দেখবে সেখানে বোকা ছেলেটা এখনো দাঁড়ায়

So I'm not moving...
I'm not moving.

I'm not moving...
I'm not moving.

তাই আমি যাবো না কোথাও
আমি যাবো না কোথাও

People talk about the guy
Who's waiting on a girl...
Oohoohwoo
There are no holes in his shoes
But a big hole in his world...
Hmmmm

আমি শুনি ওরা বলাবলি করে , "একটা মেয়ের জন্য !"
কি করে বোঝাই আমার ভেতর এখন কতটা শূন্য

and maybe I'll get famous as man who can't be moved,
And maybe you won't mean to but you'll see me on the news,
And you'll come running to the corner...
Cos you'll know it's just for you

I'm the man who can't be moved
I'm the man who can't be moved...

হয়ত এই লোকেরাই বলে দেবে কখনো ডেকে
হয়ত খবরে দেখে তুমি সব ফেলে রেখে
আসবে এখানে ছুটে , সেই পুরানো মোরে
জানবে " এখনো তুমি, এখনো দাঁড়ায় মোরে"

Cos if one day you wake up and find that you're missing me,
And your heart starts to wonder where on this earth I can be,
Thinking maybe you'll come back here to the place that we'd meet,
And you'd see me waiting for you on the corner of the street.
[Repeat in background]

যদি ঘুম ভেঙে জেনে যাও আর আমাকেই ভাবো
যে মোড়ে প্রথম দেখা , ভাবো সেখানেই যাবো
যদি খোঁজো মনে মনে , সে পাগল কই ?
আমি সেই স্বপনে দাঁড়িয়ে এখনো বিভোর হই
হয়ত আসবে ঘুরে সেই সে পুরনো পাড়ায়
দেখবে সেখানে বোকা ছেলেটা এখনো দাঁড়ায়

So I'm not moving...
I'm not moving.

I'm not moving...
I'm not moving.

তাই আমি যাবো না কোথাও
আমি যাবো না কোথাও

তাই আমি যাবো না কোথাও
আমি যাবো না কোথাও

Going back to the corner where I first saw you,
Gonna camp in my sleeping bag not I'm not gonna move.

প্রথম দেখার সেই সে মোড়ে বিছিয়ে নিয়ে অবুঝ শীতল পাটি
আমি এখন " সেই ছেলেটা যে গড়েছে পথেই বসত বাটি "






( তোমার ঘুম ভাঙাতে ইচ্ছে হলো না । কেন জানি মনে হয়, এই গানটা তুমি গাইলে বেশ মানায়। আমার এক মিনিট দেরি হলেই যেমন উৎসুক মুখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকো ! আজকে অবশ্য মনে হচ্ছিলো এর একটা নারী ভার্সন থাকা দরকার ছিলো । তুমি ঘুমাও , কিরণ , আমি নড়ছি না , আমি যাবো না কোথাও তোমাকে ছাড়া । এটা কিন্তু কবিতা না , স্রেফ তোমার ঘুম জড়ানো চোখ দুটোকে আমার লেখা চিঠি , যদি ঘুম ভেঙে জেনে যাও , ভাবো পাগলটা কই ... ... ... ...)

যাবো না কোথাও, তোমাকে ছাড়া ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28858490 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28858490 2008-10-23 07:47:06
পাগল হাওয়ায় হাওয়ায় ঃ জামাত ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক হয়ে উঠছে
জামাত স্রষ্টাবাদী ঃ কারন ক্ষমতায় যাওয়া টাওয়া , সবই আল্লাহ এর ইচ্ছা।

গণতান্ত্রিক ঃ এই দলে অমুসলিমরা দলে দলে যোগ দেওয়ার পথ উন্মুক্ত ।

জামাত আদর্শ্মুক্তঃ এইখানের আদর্শ সব মুক্ত টাইপের , উন্মুক্ত ও বলা যায়।

আধুনিকঃ কারন সুবিধামত নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বললেও খালেদা-হাসিনার আঁচল ধরে গ্লোবাল ট্রেন্ডে এগিয়ে যেতে জামাত দ্বিধা করে না।


আল্লাহর রহমতে ও গরীবের চাঁদায় , ভক্তিতে আলাহর মাল এই দলে কোন গরীবী নাই । কোন সাথী , কোন মিসকিন বোন কিংবা কোন দ্বীনের পথের মুসাফিরের যখন টাকা পয়সা লাগে , তাকে কোরান হাদীসের আলোকে বাণিজ্য শিক্ষা দেওয়া হয় । তার হাত, পা ও জল খরচের ব্যবস্থা সুদুর আমেরিকা পেরিয়ে মগবাজার শরীয়তী ব্যাংক থেকেও করে দেওয়া হয় । যারা এই জনকল্যান্মুখী দলের সাথে জড়িত , তারা জেনে খুশি হবেন , শরীয়তী পন্থায় বাণিজ্য করে দুনিয়া ও আখেরাতের নেকি হাসিলের জন্য আপনাদের প্রিয় দল নতুন একটা শরাবন এ তহুরা এনেছে । আগ্রহী সাথীরা এই নতুন কুদ্রতে হাত বাটার জন্য দোকানের ঠিকানা সহ যোগাযোগ করুন।

সাবধান : নকল হইতে সাবধান , মগবাজারের সিল দেখে নিন।
কুপি রাইট: সংরক্ষিত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28857510 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28857510 2008-10-20 23:24:51
এই বাংলাদেশে , আমার এই বাংলাদেশে গমকে গমকে বেরিয়ে আসে গালি , গালি , গালি
আমার শিক্ষা, দীক্ষা , সংযমের বাঁধ তছনছ করে
দুর্বল ঈমানের মোনাফেক মুসলমানের মত
ব্রতচ্যুত নম শূদ্র, ক্ষত্রিয়ের মত
মধ্য যুগীয় ব্যাভীচারী খ্রিস্টানের মত
ধর্ম ভোলা যুদ্ধবাজ বৌদ্ধের মত
লাঙল ফেলে মেশিন গান হাতে নেওয়া কৃষকের মত
কন্যার লাশ কবরে নামানো অসহায় যোদ্ধার মত
অনাথ ও কিশোর বিভ্রান্ত অপরাধীর মত
বেতনের দাবীতে মিছিলে নামা কাপড় কর্মীদের মত
হঠাৎ শ্লীল হয়ে ওঠা আন্দোলনে বাস্তুহারা পতিতাদের মত
র‌্যাবের রিমান্ডে খুন হয়ে যাওয়া ছেলেটির বাবার মত
শিল্পের ক্যানভাসে বিমূর্ত হয়ে যাওয়া সীমাদের মত
সারের দাবীতে গুলি খাওয়া চাষাদের মত
রাতের অন্ধকারে মূক ইয়াস্মীনের আর্তনাদের মত
২১শে অগাস্টে পঙ্গু হয়ে যাওয়া ছাত্রটির মত
নিরব দুর্ভিক্ষে বেলী ফুল পরা মেয়েটার মত
প্রতিরাতে বিক্রি হয়ে যাওয়া পতাকার মত
দাউ দাউ জ্বলা অহোরাত্রির নরকের মত

আমার ক্ষুব্দ ফুস ফুস চিরে , প্রতারিত শিরা উপশিরা ছিঁড়ে
যখন , " তুই রাজাকার " বেরিয়ে আসে -
এই শুয়োর , কুত্তা আর নেকড়ের আখড়ায় আমাকে ভদ্র হতে বোলো না!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28857192 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28857192 2008-10-20 06:53:54
এই বার নির্বাচনে
আমি পৈতে কাটা চেনা বামুন জামাত শিবিরের কথা বলছি না । বলছি সেই সব ছুপা জামাতীদের কথা যারা সুশীল, ধর্ম ও সংস্কৃতির ব্যাপারে প্রগতিশীল ও বিজ্ঞান মনস্ক , কিংবা " রাজনীতি খায় না মাথায় দেয় ?" ধরনের নিরীহ চেহারা ধারন করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে শিকড় গেড়ে বসেছে ।

কয়টাদিন ধরে বড় অশান্তিতে আছি । বাংলাদেশের কথা চিন্তা না করে নিজের চরকায় তেল দিলে আমার নিজের জীবন অনেক সাজানো গোছানো হতে পারে । বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করেও থমকে আছি । কয়েকটা শুরুই করতে পারিনি । স্বামী প্রবর সব রকম ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন আমাকে কাজে জড়াতে । আমি নিজেও তার কোন প্রশ্নের জবাব দিতে পারছি না । কি করে বোঝাবো আমার হাত পা চলছে , কিন্তু বিবেকের দংশনে , চেতনার বিষ আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে । আমি ডিজ -এবেল্ড চিন্তায় , চেতনায় , মননে। মনের দিকে তাকালে আমি ধুকতে থাকা আই সি ইউ দেখি , নিস্তেজ বিষন্ন এক যোদ্ধাকে দেখি , যে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে এলে চার দেয়ালে অফুরন্ত আরামে শান্তি পায় না , মুক্তি খোঁজে !

অনেকদিন আগে একটা কবিতায় লিখেছিলাম " আমাদের সবার মনে প্যারালাইসিস"। বার বার করে একটা বানী মনে পড়ছে । " খারাপ মানুষ সমাজে খারাপ কাজ তখনই করতে পারে যখন খারাপ মানুষরা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে - তা নয় ; যখন ভালো মানুষেরা নির্লিপ্ত হয়ে পড়ে।"

আমরা কি নির্লিপ্ত হয়ে পড়ছি ?

ব্র্যাকের মানুষ হত্যা ।
লালন - আবহমান বাংলার প্রতীক- কে অপমান ।
একে একে চোর, ডাকাত, খুনী , যুদ্ধাপরাধী নেতাদের (সব দলেরই) বিনা বিচারে মুক্তি ।
ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ে মাদ্রাসা ছাত্রদের আস্ফালন ।
যা কিছু বাংলা-দেশ, জাতি, ঐতিহ্য , সংস্কৃতিকে ধারন ও লালন করে তাদের মুছে ফেলা , বিকৃত করা , বিক্রি করে দেওয়া।

আমরা কি নিজেদের হত্যা করছি ?

মাত্র ৩৭ বছরের ভিতর
একটা স্বাধীনতা
একটা জাতি
একটা দেশ
এক সাগর রক্তের অবদান

হারিয়ে যাবে ? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28856531 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28856531 2008-10-18 20:07:52
কবিতা , অকবিতা ও ছন্দবদ্ধ ঘাতকেরা কেউ ভাবে বড় হয়ে হবে মহাকবি
কেউ নাচে নাট্যমে , কেউ কত্থকে
কেউ দেবে অটোগ্রাফ শত ভক্তকে
আমি অত বড় নই , করি লেখা পড়া
মাঝে মাঝে ভুল করে লিখে থাকি ছড়া
এ আমার সুখ নয় , রক্তের ব্যামো
শব্দেরা গোল করে , লেগে যায় জ্যাম ও
সেই জ্যাম জেলী করে করেছিনু শুরু
সেই থেকে লুৎফর রিটনদা গুরু !

শব্দেরা করে ডাকাডাকি অনিবন্ধিত ছন্দে

ঠিক কোন সময় থেকে শব্দ নিয়ে খেলা শুরু করেছিলাম মনে পড়ে না ভালো করে । তবে এইটা মনে আছে , ঝুল বারান্দার কোনে বসে উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকতাম বাহিরে । সবুজ গাছ , নীল আকাশ আর কোন কোন দিন কমলা রঙের সূর্যটার দিকে তাকিয়ে আমি নাকি জমে যেতাম । বৃষ্টির শব্দ পেলে সব অ-বুড়োরাই নাকি নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠে । জলের ফোটা ধরার জন্য পাগল্পানা খুব একটা দুর্লভ নয় মোটেই । মাতৃগর্ভের জলের সংসার তখনও হয়ত মনে থাকে , থাকে স্মৃতি স্পর্শে ও স্বাদে । আমার বেলায় ব্যত্যায় হয়নি , যেটা হয়েছে সেটা হয়ত ব্যাতিক্রম । গুড়ি গুড়ি কিংবা টাপুর টুপুর ছন্দ আমি উৎকর্ণ হয়ে শুনতাম । সেই ছন্দ কিংবা বাড়ির অতিথিদের কু ঝিক ঝিক ছন্দে আগমন -প্রত্যাগমনকে আমি কোন ভাবে আমার তখনকার নেহায়েত ক্ষুদ্র শব্দ -ব্যাকরনে বন্দী করেছিলাম এই ভাবে -

" আন্না মানি কুল্লাবাদি হ্যত্যা করে যায়
হ্যান্নামানি কুল্লাবাদি হ্যত্যা করে যায় । "

এর অর্থ আজ আর আমি ব্যাখ্যা করতে পারি না , শুধু এইটুকু মনে পড়ে যে আমার আবৃত্তির প্রথম পাঠও এই স্বরচিত কবিতা -- কাগজ ও কলমের , ক্যানভাস ও তুলির , স্লেট ও চকের হাতে খড়ি হবার বহু আগে ।

শব্দে শব্দে বন্দী বাক্স , শব্দে শব্দে বন্দী বাসা

জেগে ওঠা কিংবা ঘুমঘোরে বেঁচে ওঠার প্রহর নিশ্চিত ভাবেই বলতে পারি আমার ছিলো গানে গানে ভরা । মামণি অসম্ভব ভালো গান গাইতে পারেন। শান্তি নিকেতনের স্কলারশীপ পাওয়া ছায়ানটের ছাত্রী । বাবা বাজাতেন পাগল করা কৃষ্ণ বাঁশি । সুতরাং , ভূমিষ্ঠ হওয়ার অনতিকাল পরেই সুরের আগ্রাসন ঘটে থাকবে চেতনে। তবে , সুরের কোমল উচাটনের ভিতরেও আমি ছন্দের জাদুকরী টানটুকু ঠিকই আলাদা করতে পারতাম। অনেকটা শ্বাস নেওয়ার মত । চেতন ও অবচেতনের মাঝামাঝি কোথাও উপঘটনার মত ঘটে যাওয়া ।

"ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি মোদের বাড়ি এসো"
কিংবা
"ঐ দেখা যায় তাল গাছ , ঐ আমাদের গাঁ " দিয়ে রাত নেমেছে চোখে । নিজের অজান্তেই অনুভব করতে শিখেছি ছন্দ । হাত পা নেড়ে আউড়ে গেছি , "বাবুদের তাল পুকুরে ... ... ... দেখি এক ভিট্রে শেয়াল" ; অন্তমিলের এই জাদু আমায় গ্রাস করেছে বিনা বাধায় ।

তেটে কাতা গাদে গিনে ধানে ধানে ধা

তাত্তা ক্রিড়ে ধা তাক্কা থুঙ্গা , তা টি কেতা কা, তা আ ধা , তেটে কাতা গাদে গিনে ধানে ধানে ধা - ধা ধিন ধিন ধা , ধা ধিন ধিন ধা , না তিন তিন তা , তেটে ধিন ধিন ধা ! তখন আমি ইশকুলে পড়ি । বড় বোন আর আমার গানের প্রথম পাঠ যদিও বাড়িতে , মায়ের ইচ্ছায় ভর্তি হলাম সুরঙ্গমায় । প্রতি শুক্রবার নতুন করে তাল ঠুকে চিনলাম তাল, সোম , ফাঁক । যা অনুভব করতে পারতাম নিজে থেকেই , তার নাম ও শ্রেনী শেখা হলো । ছায়া ছায়া অনুভবেরা চেহারা পেলো একে একে ।

তখন প্রাতিষ্ঠানিক মলাটে শব্দেরা হানা দিয়েছে মনের ঘরে । সারাদিন মাথার ভিতর গুন গুন টুন টুন । খুব মজায় আছি , লিখলাম-

" আজ জানো ইশকুলে !
বই খাতা ব্যাগ খুলে
দেখি ওরে বাবা একি
ইয়া বড় টিকটিকি
সেও নাকি ছাত্তর
গোটা দুই মাত্তর
এক দুই গুনবে
মন দিয়ে শুনবে
কয়ে কলা খয়ে খাট
এই নিয়ে মোট মাট
লেগে গেলো গোল মাল ,
স্যার বলে, "এসো কাল!"

উহু, এটা এখন লিখেছি। তবে এই রকমই আবোল তাবোল কি কি সব লেখা হয়ে যেতো । ক্লাসে রাজন বড় জ্বালায়। সুতরাং তাকে নিয়ে লেখা হলো,
"ছিপছিপে কাল মুখ চুপচুপে তেলে
রাজনটা ক্লাসে চক খেয়েছিলো গিলে"। এই রকম ছড়া লিখে কাব্যিক প্রতিশোধ কম নেইনি। বন্ধুদের ঈদে, জন্মদিনে , পয়লা বৈশাখে নিজের আঁকা কার্ড দেওয়ার চল ছিলো খুব। দিন রাত বসে সবাই নিজের নিজের কার্ড বানাতাম । আমার কার্ডে নিজের লেখা ছড়া থাকতো বাড়তি উপহার ।

আসমানীদের বাড়ি

ইস্কুলে পড়ার আগেই নজরুল কিংবা লোকজ ছড়া আর ইস্কুলে গিয়ে পরিচয় হলো ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের সাথে । বড়বোন তিন ক্লাস আর ছোট মামা আরেকটু ওপরে পড়ে। নিজের বই তো বটেই , বছর শুরু হতে না হতেই আমার সবার বই এর গল্প , কবিতা পড়া শেষ । তখন পড়ার জন্য বাঁচি, পড়বো বলে বাঁচি , পড়তে পারি বলে বাঁচি । যদিও সব রকম গল্পের পোকা , তবু কোথাও ছন্দবদ্ধ শব্দেরা একটু উঁচু আসন গেড়েছে ।

"নুরু, পুশি আয়শা সফি সবাই এসেছে
আম বাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে
বাপ মা তাদের ঘুমিয়ে আছে এই সুবিধা পেয়ে
বন ভোজনে মিলেছে আজ দুষ্টু কটি মেয়ে"
কিংবা ,
"ভিজে বেড়াল সাধু আমি এক্কেবারে ভিজে
রান্না ঘরই টানে আমায় , যাই কি আমি নিজে?
মাছের মুড়ো , দুধের হাড়ি
দু' চোখ বুজে গিলতে পারি
জানতে পারি কি রেখেছে মিটসেফে আর ফ্রিজে
ভিজে বেড়াল সাধু আমি এক্কেবারে ভিজে।"
একই বইতে,
"ফেকু বাড়িওয়ালা , খেয়ে কাচা ছোলা
গড়েছে টাকার পর্বত
ভাড়াটের ঘরে জল যদি পড়ে জবাব সে করে
তবে কি পড়িবে শরবত?"

ছন্দের সাথে সাথে , কাব্য বোধের সাথে সাথে সেই আমার পরিচয় দারিদ্র, বঞ্চনা, চৌর্যবৃত্তির সাথে। রাজনৈতিক কোন কবিতা অবশ্য তখনো পড়িনি। সফদার ডাক্তার নিয়েই দিন কাটাই ।

বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এই জনতা

প্রথম রোম হর্ষক অভিজ্ঞতা দিলেন রিটনদা । হো মো এরশাদের বিরুদ্ধে লেখা তার ছড়া হাতে হাতে লিখে নকল করে নিলাম । এখনো সেই হস্তলিখিত খাতার পাতা কেটে সেলাই করে বানানো ছড়ার বইটা আমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বেস্ট অফ কালেকশন । ছন্দের জন্য বহু চেনা , অচেনা , পরিচিত , পরিচিত কবিদের কবিতা আমাকে মুগ্ধ করে রেখেছে তখন । কিন্তু রিটন মন কাড়লেন, আমি প্রেমে পড়লাম । তার শব্দের খেলা আমাকে প্রথম শেখালো নিয়ম না মেনে কি করে শব্দ নিয়ে খেলা যায়। আরো শিখলাম কি করে ক্ষুধাকে, দারিদ্রকে, রাস্তার টোকাইদেরকে ছড়ার উপজীব্য করে তোলা যায় । সেই যে রিটনকে গুরু মেনেছি , আজও তিনি আমার গুরু । আমি তার চরম ভক্তও বটে ।

আমার নিজের লেখা তখন ও কেবল দেহ পেতে শুরু করেছে । আর আমার উপলব্ধিতে একটা নতুন রোমাঞ্চ আকার পেতে শুরু করেছে । মাথায় আমার ছন্দ ঘোরে । পড়তে বসলে বড়ই জ্বালায় । না লিখলে মাথার ভিতর খালি কুট কুট করে ।

"আমি যদি হাটতে থাকি , পদ্য হাটে সাথে
বসলে খেতে হায় রে দেখি পদ্য আছে পাতে
পদ্য আমার সকাল বিকাল , পদ্য দিনে রাতে
পায়ের থেকে ফেললে ঝেড়ে আসবে উঠে হাতে
পদ্য যেন আমার ছায়া চাবকে দিলে পরে
বুঝতে পারি নিজের পিঠেই পদ্য ব্যথা করে
পদ্য যদি এমন করে চালায় মাথায় থাবা
কেমন করে পড়বো আমি বলতে পারো বাবা?"

এই ছিলো আমার প্রতিদিনের খুশি ও ক্ষোভ। লিখতে পারি বলে ভালো লাগে । না লিখে থাকতে পারি না বলে রাগে দাঁত কিড়মিড় !

যে কবি সুকান্তের , নজরুলের

বাড়িতে পাঠাগার থাকার অসুবিধা হলো পাগলের মত যখন তখন গোগ্রাসে কবিতা খাওয়া যায় । আমি ও আমরা তখন আসলেই বই খেতাম । চেতনার মূল পর্যন্ত নাড়িয়ে দিলেন সুকান্ত । বড় বোন সুকান্তকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় দাবী করলে আমিও তাকে বেমালুম গিলে ফেলাটা জরুরী মনে করি । আমার লেখার নেশা দেখে মাত্র ক্লাস সেভেনে বাংলা ম্যাডাম কিনে দিলেন পৃথিবী বিখ্যাত দুই কবির অনুবাদ । আজ স্বীকার করছি, একটু পরেই ফেলে দিয়েছি । মাথাতে ঢুকেনি । বিমূর্ত কবিতা তেতো লাগে , নেহায়েত জ্বর না হলে আজও খাই না । (জানিয়ে রাখি, তাদের একজন ছিলেন হুইট্ম্যান) । অনুবাদটা তেতো লেগেছিলো । কিন্তু আজও সেই পুরস্কার এবং সেই বাংলা ম্যাডাম আমার অত্যন্ত প্রিয় , এর আগে কেউ নিজের হাতে একজন মাত্র ছাত্রের বার্ষিক পুরস্কার কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন কিনা জানি না । হুইট্ম্যান সইলো না , কিন্তু আমি তখন এ পার বাংলা ও পার বাংলা মিলিয়ে কবিতা খেতে ব্যস্ত আছি । সেই থেকে রাত জাগা শুরু । ঐ একই সময়ে , হয়ত সুকান্তের প্রভাবেই গদ্য কবিতা লিখতে শুরু করি । অকল্পনীয় রকমের আশ্চর্যটা হলো , সে কবিতার বিষয় ছিলো আমি নারী না মানুষ ! ( আঁতেল ছিলাম , আমার দোষ না , বই পড়ার দোষ)

থাকবো না আর বদ্ধ ঘরে

কলেজে উঠে পরিচয় হলো অন্য ভাষার কবিদের সাথে । বিশ্বসেরা কবিদের ইংরেজি কবিতা পড়ি আর চিন্তা করি , ওহ হো , এ কি আশ্চর্য খনি ! ইশ , কবি হওয়াটা না জানি কত মর্যাদার ! কিন্তু বিধি বাম । ছন্দ আমার পিছু ছাড়ে না । যতই আমি কবিতা লিখি , ততই উহা ছড়ায় রুপ নেয় । যুদ্ধ করেও আমি গদ্য কবিতা লিখতে পারি না । নিজের অজান্তেই দশম চরনে গিয়ে আবিষ্কার করি আমি অন্ত্যমিল দিতে শুরু করেছি । ছড়া আমার রক্তে মিশে গেছে । আর বুঝি কোন দিনই আমার কবি হওয়া হবে না ।

কেউ কখনো খুঁজে কি পায় স্বপ্ন লোকের চাবি , বসে তাই তো ভাবি !

লেখা লেখি নিয়ে স্বপ্নটা দপ করে কফিনবন্দী করতে হলো ডাক্তারী পড়তে গিয়ে । পড়ার নেশা , লেখার নেশা --কাটাতে গিয়ে ভয়ে বইয়ের ধারে কাছে ঘেষি না । কবিতা লেখা কমে গেলো । ধীরে ধীরে আমার বাংলা জ্ঞান ও মরচে ধরতে শুরু করলো । সারাদিন ইংরেজি কপচাই , ভালো লাগে না । তবু কিছু করার নেই । ধীরে ধীরে মরে গেলো সেই মানুষটা যে কিনা প্রশ্ন করেছিলো ,
" কবিতাদের হাত ধরে চলো একটু আগাই
জীবনের পথ , বড় বন্ধুর দিশা ও না পাই
কঠিন যখন সফর তখন শব্দ ধরে
অর্থবিহীন জীবনটাকে সহজ বানাই?"

আজকে , প্রায় এক দশক পরে নিজেকে প্রশ্ন করি , কি হলাম তাহলে ? না কবি না ছড়াকার ! ছন্দ আমাকে এখনো পোড়ায় , নাচায় , হাসায় , কাঁদায় - কিন্তু উত্তীর্ণ কোন ছড়া কি লিখতে পেরেছি "আসমানী" এর মত ? কিংবা "বাবুদের তাল পুকুরের মত" ? একটাও কবিতা কি "কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে "? অথবা হেসে উঠেছে "সৃষ্টি সুখের উল্লাসে"?
না । অবশ্যই না । জীবনের খেরো খাতায় হিসেব কষে দেখলে স্বীকার করতেই হবে , কোন উত্তীর্ণ কবিতা বা ছড়া , কোনটাই আমার দ্বারা এখনো লেখা হয়নি । আমি এখনো কিছুই লিখতে পারিনি । কবিতা আমায় ছেড়ে যায়নি , বরং আমিই চোরের মত পালিয়ে গেছি উপার্জনের কাছে , প্রাণ ছেড়ে পিন্ডির যোগাড়ে !

তবে কেন? তবে কেন মিছে এ দুরাশা!

ভালোবেসে যদি সুখ নাহি - তার পরেও আমরা ভালোবাসি । এতটা কালের ব্যর্থতার পরেও আমি তাই এখনো বিনে পয়সার ব্লগ পেলে নিজেকে কবি কিংবা নিদেন পক্ষে ছড়াকার ভাবতে ভালোবাসি । ভালোবাসা? না , সে তো স্রোতস্বিনীর মতঅ মাটির গভীরেও বহমান হতে পারে । তাহলে প্রকাশের এই উন্মাদনা কেন? বার বার নিজেকে শোনাই ,

"শব্দ তোমরা ক্লান্ত করেছো খুব, আর তোমাদের দেহলিতে যাব না "।

তারপরেও কিসের টানে , কিসের নেশায় বার বার নিজেকে ক্ষত বিক্ষত করে শব্দ ক্ষরণ ? কোন ব্যাখ্যায় যাব না , স্রেফ একটা ছবি দেখতে বলবো ।

কুইলস (২০০০)

মারকুই কে নানান ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ইতিহাসে, আমি সত্য মিথ্যায় যাচ্ছি না । ছবিতে আমার মনযোগ কেড়েছে একজন লেখকের লেখার নেশা। বিষয় কিংবা উদ্দেশ্য নয় , তার নেশা এবং স্বাধীনতার বোধের যে পর্যায় "বিকার" হিসেবে উঠে এসেছে ছবিতে , আমি তাকে বুঝতে পারি । এই লেখা মনস্কতা, এই নেশাগ্রস্ততা, এই সৃষ্টিশীল বিকারকে "আমি বুঝতে পারি"। লেখার সাথে চরমতম যুক্ততা কখন লেখককে বিযুক্ত , বিচ্ছিন্ন করে ফেলে জীবন নামক কাগজ থেকে , বুঝতে পারি !

কি ভয়ংকর এই একাত্মতা!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28855337 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28855337 2008-10-16 07:14:16
তার চোখে হারিয়ে ফেলা কিংবা বুকে লুকানো এক টুকরো মাতৃভূমি
শ্বাপদের বিষ নিঃশ্বাসে চোখ জ্বলে গেলে
তার চোখ নদী হয়ে যায়
এক চিলতে পদ্মা পাপড়ি মেলে ।

নখরে নখরে ছিঁড়ে যাওয়া বোধ
বিস্তীর্ণ খরার মত চেতনার ক্ষেত , ধুলোর জটা
পাতা উলটে যাওয়া ইতিহাসের বইটার পাশে
জমে ওঠা বিস্মরণ , রক্তের ফোটা ।

এতটা অতিক্রমের অভিমান
দলা পাকিয়ে ওঠা কাঁটাময় বিবেক
ধোয়াটে আলো আর বিবমিষার কালো রোদে
চোখ বুজে এলে
তার চোখ "কোন সুদিনের কথা বলে"।

যখন আমি ক্লান্ত , প্রপোঞ্চের সুতো আকড়ে মন
যখন জীবনের দাবী চারিদিকে, নীলাভ ষড়যন্ত্র
বিকার ও বিভ্রান্তির মাঝামাঝি আমি দিশেহারা
তার চোখ
অনিবার্য ধ্রুবতারা !

১৫ই অক্টোবর
তার মুখোমুখি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28854853 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28854853 2008-10-15 06:13:27
যখন বিবেক ঋণ গ্রস্ত আমাদের সন্তানেরা শিকলে তড়পায় পূর্ব পুরুষের পাপে
অতঃপর তাহারা পুনরায় খোঁজে অন্তরীক্ষে জল
শিরায় শিরায় যদিও খোঁচাখুঁচি ক্ষুদ্র ঋণ সকল

এ বাড়ি , ও বাড়ি যেচে , ভিটে মাটিটুকু বেচে
বেঁচে থাকার এ এক অনন্ত প্রহসন খেলা
উঠোনে উঠোনে বিছানো পিতার বক্ষ সেঁচে
পতিত বীজভূমে শুকায় আত্মজ ছেলে মেয়েবেলা

বিস্তৃত এ ভূমি , নদীর ঢেউ আর কৃশকায় লাঙলের ফলা
দু'মুঠো সাদা ভাত , থান পরনের , আযান -আরতি
সেদিন ও ছিল স্বাধীন। আজ মধ্যবিত্ত উন্নয়নের ছলা
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে নিলামে নিয়েছে কিনে ঊণ ও অতি ।

মগের মুলুক সুলুক সন্ধানী বাপ ও ভাইয়ের কব্জায়
বিশ্বায়নের সূত্রে স্ত্রীও রাঁঢ় , ধর্মও বাণিজ্য বটে দুর্দিনে!
শত বিভক্ত পদভক্ত বিবেক নিমকের গান গায়
কিছু লোভে , কিছু নির্লিপ্ততায়, বাকি সব গেছে ঋণে ।

(মানুষের রক্তকে পূঁজি করে যারা মানব উন্নয়নের ভেক ধরে , সেই সব উন্নয়ন ব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে ফেলো , নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া, শোষকের পতন হোক) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28854074 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28854074 2008-10-13 09:01:03
যে দিন আমি মায়ের সমান হবো
আমার নানাভাই ছিলেন শিক্ষক। মুজতবা আলীর "পন্ডিত মশাই" এর মতন তাঁর বেতনও কোনদিন কুকুরের তিন ঠ্যাং এর চেয়ে বেশি হওয়ার সুযোগ পায়নি। ভাই বোনের আধিক্যের সংসারে টিপে টিপে পয়সা গুণে দিন চললেও মা হয়ত খারাপ ছিলেন না । একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই আপাদমস্তক সৎ , গুণী , পর শ্রদ্ধেয় মানুষটি বিশাল এক অপরাধ করে ফেলেছিলেন। তার পুত্র ও কন্যাদের তিনি মুক্তিযুদ্ধে সামিল করেছিলেন, যারা যুদ্ধে যাবার মত বড় হয়েছিলো তাদের , যারা যুদ্ধে যাবার মত বড় হয়নি তাদেরকেও ।

ফলস্বরুপ তাকে ও তাঁর সাথে পাওয়া পরিবারের অন্য পুত্র সন্তানদের হত্যা করা হয় নির্মম ভাবে ।জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বাড়িঘর। লুট হয়ে যায় রাজাকারদের হাতে ভিটেমাটিটুকুও। যুদ্ধ পরবর্তী একটি বিধ্বস্ত দেশে আয়হীন, উপায়হীন নানীমা ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে কি ভাবে বেঁচেছিলেন, ভাবলে শিউরে উঠি বারেবার। মাত্র ১৭ বছর বয়সে পিতাকে হারাতে কেমন লাগে ? কেমন লাগে ঘর বাড়ি হারিয়ে উদবাস্তু হতে ?

আমি কোন দিন জানবো না । আমি জানবো না অবলম্বনহীন জীবন সংগ্রামের কথা । আমি জানবো না শূন্য থেকে শুরু করার কথা । আমি জানবো না মাসের পর মাস জীবন হাতে করে পালিয়ে বেড়াতে কেমন লাগে । আমি জানবো না , প্রতি মুহুর্তে ধর্ষিতা হওয়ার আতংক কেমন। আমি জানবো না , চোখের সামনে প্রিয়তম ভাইয়ের লাশ পড়ে থাকলে মানুষ কিভাবে বেঁচে থাকে। আমি জানবো না , একজন মুক্তিযোদ্ধার কন্যা বছরের পর বছর কেন অপেক্ষা করে , বাবাকে পাওয়া যাবে । অথবা পাওয়া যাবে তাঁর কবরের সন্ধান ।

আমি হয়ত কোনদিনই পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবো না , যেই দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে মামনিকে পিতার রক্তে দাম শুধতে হয়েছে, তিলে তিলে বেঁচে থাকার অসহনীয় কষ্ট পেরুতে হয়েছে সেই দেশটাকে মাত্র ৩৭ বছরের মাথায় আবার পরাধীন হতে দেখলে তাঁর কেমন লাগে। আমি হয়ত কোনদিনই লিখে বর্ননা করতে পারবো না পিতার খুনীর গাড়িতে দেশের পতাকা উড়তে দেখলে আমার মা কেমন কষ্টে , ঘৃণায় , ক্ষোভে তড়পাতে থাকেন । কোনদিনই বলে বুঝাতে পারবো না , সেই হাহাকার আর কান্নার দৃশ্য ।

তবে , একটি ব্যাপারে আমি নিশ্চিত । সময়ের নিষ্ঠুরতম পরিক্রমায় একদিন আমার বাবাও বিদায় নেবেন । যাকে শত্রুর বুলেট, পেতে রাখা ফাঁদ আর পাক সেনাদের উদ্ধত বেয়োনেট কেড়ে নিতে পারেনি , সময় নামক এক অনিবার্য শত্রুর হাত একদিন তাকে গুম করে দেবে তার কন্যার জীবন থেকে ।

রক্তহিম করা অশ্রুর উল্লাসে আমি আছি সেই দিনের অপেক্ষায় , যে দিন আমিও আমার মায়ের সমান হবো । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28848011 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28848011 2008-09-26 03:13:51
জন্মদিন ( উৎসর্গঃ রাত মজুর) “আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম।“ আরে মর জ্বালা রে ! কিয়ের মধ্যে কি! আর পারি নাহ! এই শহরটার মাথায় ঝাটার বাড়ি । একটা জায়গা নাই যেখানে একটু শান্তিমত বসে কথা বলা যায় । ছেলেটা এবার সত্যি সত্যি অসহায় বোধ করে । ইফতারের পরে টিউশনিতে যেতে হবে । যদিও সে নিজে মহা রোযাদার না কিন্তু না চাইলেও থাকতে হয় কারন এ সময় মেসে রান্না বন্ধ থাকে । বুয়ার রান্নার খরচ সবাই মিলে দেওয়া হয় । কেউ না খেলে একার পক্ষে রান্নার টাকা দেওয়া ছেলেটার পক্ষে সাজে না। ও সব বিলাসিতায় না গিয়ে বরং একমাস ধার্মিক হওয়া ভালো । কিন্তু আজকে মানছে না গো। মাথাটা কেমন ঘুরায় । রাত করে ঘুমিয়ে সেহরীতে ওঠাও হয়নি । পাশের ঘরের বড়ভাই দুই একবার ডেকে ক্ষান্ত দিয়েছেন হয়ত । মনেও নেই । লাশের মত ঘুম হয় আজকাল । পয়সা বাচাতে গিয়ে পান না , সিগারেট না, চা না – শখ করে কিছু করা বললে তো ঐ ঘুমই । ঐটুকু সে পুরোমাত্রায় আদায় করেই নিতে চায় ।
“তাহলে কি রিকশায় করে ঘুরবে? “ উত্তরের আশংকায় এই প্রখর রোদেও ছেলেটার ঘাম আসে । এক ঘন্টা মানে ৭০ থেকে ১০০ টাকা । মেয়েটার মাথা নাড়া দেখে হাপ ছেড়ে বাঁচে ছেলেটা । মনে মনে একটু আদর ও করে দেয় ওর ভেজা লালচে গাল দুটোয় । আহারে, রোদের ভিতর দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাপিয়ে উঠেছে । “তাহলে চলো রাস্তায় বসি।“ “ এমা! ছিঃ ! রাস্তায়?” পাট ভাঙ্গা সুতির শাড়িটার দিকে তাকিয়ে মেয়েটার মুখটা করুন হয়ে ওঠে । জ্বালালে দেখছি! “তাহলে কি ইফতার পর্যন্ত এরকম দাঁড়িয়ে থাকবো ?”
গলার স্বর কি একটু উঠে গিয়েছিলো ! মেয়েটা কুকড়ে যায়। নাহ , ঠিক হলো না । লক্ষ একটা রক্তরাঙ্গা চোখ এড়িয়ে , হাজারটা কাজের থেকে সময় বাঁচিয়ে এই যে একটা ঘন্টার জন্য শহরের এ প্রান্তে আসা- সে তো তারই জন্য। হয়ত হেঁটে এসেছে অনেকটা পথ । স্বীকার করবে না যদিও। মনটা খারাপ লাগে । আকাশের ও মন খারাপ। একটা ছাই রঙা পর্দা এগিয়ে আসছে উত্তর পূবে । পশ্চিম তখনও রোদে উজ্জ্বল, তাপ নেই অতটা । ঘড়ি বলছে একটু পরেই নামবে অন্ধকার। বেশ খানিকটা দর কষাকষি করে একটা রিকশাতে উঠেই পড়ে । ধানমন্ডি লেক। মেয়েটা ব্যাগ থেকে এক বোতল পানি বের করে। আর কাগজে মোড়ানো কিছু একটা । কালোমত বস্তুটা যে একটা খাদ্যদ্রব্য উহা না বলিলে বুঝা যাইতো না । মেয়েটার চিকন স্বর আরেকটু ফিস্ফিসে হয়ে উঠে । “না মানে , ওভেন তো নেই তাই সস্পেনে একটু চেষ্টা করেছিলাম।“ বস্তুটির নাম কি হইলেও হইতে পারে যেইটা ওভেনে বানাইতে হয় ভাবতে ভাবতে ছেলেটা আরেকটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। ও আসলেই ভুলে যায় মেয়েটার মাথায় বেলী ফুলের কথা, লাল আঁচলের কথা, দেখা করার তাগিদের কথা আর কাগজে মোড়ানো বস্তুর তাৎপর্যের