somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ২০১১ সালের জামায়াত এবং ১৯৭১ সালের জামায়তের মাঝে কোন পার্থক্য নেই "জামায়াত অত্যন্ত সচেতন ভাবে , অনেক গুলো কজকে সামনে রেখে ইউনাইটেড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো। ভারতের সাহায্যে স্বাধীনতা অর্জন করে আমরা হয়ত পিন্ডির শাসন থেকে মুক্ত হব কিন্তু দিল্লির পিঞ্জরে থাকব। আমি আমার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছি -জামায়াত যেহেতু সচেতন ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জামায়াতের পলিটিকাল সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জামায়াতের কোন অনুতাপ নেই।"

উপরের কথা গুলো "জামায়াত নেতা নিজামীর জামাতা এবং ইউ কে'র জামাত প্রধান ও মূল স্পোকস্ম্যান জনাব ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের সাথে নিঝুম মজুমদারের একটি টক শোর ভিডিও থেকে পাওয়া। (১৯শে ডিসেম্বর, এটিএন বাংলার মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠানে। -- কৃতজ্ঞতা ঃ নিঝুম মজুমদার"

আমি কিছু বাক্য সংক্ষেপের প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।

১। জামায়াত অত্যন্ত সচেতন ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে
২। অনেক কজকে সামনে রেখে
৩। ইউনাইটেড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো
৪। কোন অনুতাপ নেই

এখন আসুন দেখি বিভিন্ন সভা, সেমিনার , মাহফিল , এবং মিডিয়াতে জামায়াত নেতারা কি বলে?

১। স্বাধীনতার বেশ কিছু বছর পর্যন্ত জামায়াতের বক্তব্য এই রকমই ছিলো যে তারা পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করে কোন ভুল করে নাই। কয়দিন আগে গু আযমকেই সেই কথাই বলতে দেখা গেলো।

২। বিভিন্ন জন সমাগমে গু আযম সহ জামাতের নেতারা বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হিন্দুয়ানি ভাষা, হিন্দু সংস্কৃতি এবং ভারতের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়ে এসেছে।

৩। বেশ কিছু বছর পর্যন্ত জামায়াত পিছলামী স্বীকার করত না যে তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য দল করে। তাদের প্রচার ছিলো এই রকম যে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কাজ করে । ( তাইলে ভোটে দাঁড়ায় কেন?)

৪। জামাত করলে বেহেস্ত পাওয়া যাবে বলে কর্মী সংগ্রহ, আল্লাহর পথে খরচ করা হবে বলে সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া , শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার লোভ দেখিয়ে ভোট আদায় , নারী শাসন মানি না হুঙ্কার দিয়ে হাসিনা - খালেদার লেজুর বৃত্তি ইত্যাদি বহু ভন্ডামি জামায়াতের স্বভাব। এন জি ও বানিয়ে কৃষকের টাকা মেরে দেওয়ার খবরও এসেছিলো এন টিভিতে।

এই যে জামায়াত কোটি কোটি টাকা চাঁদা তোলে, ব্যবসা করে, বিদেশী অনুদান পায়- এইটা দিয়ে তারা কি করে? জামাত শিবির ক্যাডার বাহিনীর জন্য অস্ত্র কেনে, গরীব কর্মীদের পোষে আর নেতার ছেলেদের লন্ডন পাঠিয়ে উকিল বানায়। সাথে বৃটিশ উকিল ভাড়া করা তো আছেই। দেশে বিদেশে নিজের পক্ষে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে গুজব ছড়ানোও একটা খরুচে কাজ। ইসলামী ব্যাংক কিংবা হাসপাতাল, ইবনে সিনা , কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়- আপনার আমার শ্রমের টাকা এখন যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর কাজে লাগছে।

ভিডিওর কথা গুলো লক্ষ্য করুন। জামায়াত যা করেছে অত্যন্ত সচেতন ভাবেই করেছে। ভুল করে করে নাই। জেনে শুনে বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে - জামায়াত ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্র সংঘ (পরে ছাত্র শিবির) লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালী হত্যাকারী এবং নারী ধর্ষণকারী , শিশু হত্যাকারী পাকিস্তানী সরকার এবং পাকিস্তানী সেনা বাহিনীকে সাহায্য করবে। সুদীর্ঘ ৯টা মাস তারা তাই করেছে।

ইসলাম কি জালিমের পক্ষে কাজ করতে বলে না জালিমের জুলুম এর প্রতিবাদ করতে বলে? জুলুম এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলে? জামায়াত মুখে যতই ইসলামের কথা বলুক, তাদের আচরণে ইসলামের বিন্ধুমাত্র প্রভাব নাই। যা আছে, তার পুরাই ভন্ডামি।

তারা ইউনাইটেড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো । অর্থাৎ ২৫শে মার্চের গণহত্যার পরেও তাদের এই সিদ্ধান্ত বব্দলায় নাই। অনেক বাঙ্গালী মুসলমান ২৫শে মার্চের আগে যাই চেয়ে থাকুক, গণহত্যার কথা জানার সাথে সাথেই জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে , মজলুমের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। কিন্তু জামায়াত "অত্যন্ত সচেতনভাবে" জালিমের পক্ষ নিয়েছে। হাজার হাজার মাতা, পিতা, শিশুর লাশ তাদের সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে নাই।

তাদের কোন অনুতাপ নেই। অর্থাৎ ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা এবং ২ লক্ষ নারীকে ধর্ষণ করতে সাহায্য করেছে যেই রাজনৈতিক দল , পাকিস্তানী সেনা বাহিনীকে বাংলার পথ , ঘাট, মানুষ, বুদ্ধিজীবী চিনিয়ে দিয়েছে যেই দল- তাদের কোন অনুতাপ নেই। স্বাধীনতার, হত্যার, ধর্ষণের , আগুনে পুড়িয়ে জান মাল নষ্টের ৪০ বছর পরেও তাদের কোন অনুতাপ নেই। তারা এখনো মনে করে পাকিস্তানকে সাহায্য করার "অত্যন্ত সচেতন সিদ্ধান্ত" সঠিক ছিলো। তার মানে তারা এখনো পাকিস্তান পন্থী।

---------------------------------------

অথচ এই জামায়াতে ইসলামী ইদানিং ভাষা সৈনিক বানায় গে আযমকে যে কিনা লন্ডন আর বাংলাদেশের প্রকাশ্য জনসভায় "বাংলাকে হিন্দুয়ানী" ভাষা বলে গালি দিত ।

এই জামাত এখন ভোট পাওয়ার জন্য বিজয় মিছিল করে বাধ্য হয়ে।

ভোটের জন্য এই জামায়াত ইদানিং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানায় মুক্তিযোদ্ধার পাছায় লাত্থি মেরে।

হ রে ভাই, "সৎ লোকের দলই বটে" !!!!!!!!!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29507039 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29507039 2011-12-21 11:27:42
দুটো স্কলারশিপ - ইউরোপ এশিয়া প্রোগ্রাম
ইউরোপের কিছু ফান্ড আছে যাতে করে আপনি আপনার ব্যাচেলর, মাস্টার্স কিংবা পি এইচ ডির কয়েক বছরের কিছুটা সময় (ক্ষেত্র বিশেষে পুরোটাই ) এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে ইউরোপের পার্টনার ইউনিভার্সিটিতে কাটিয়ে আসতে পারেন।

বর্তমানে দুটো প্রোগ্রাম চালু আছে এবং জড়িত আছে ৪টা বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বন্ধু মারফত খবর পেলাম অনেকেই নাকি জানে না বলে এপ্লাই করে না এবং মেধাবী ছাত্রদের সব জায়গা থেকে পাওয়া যায় না।

১। ইরাসমুস মুনডুস ইউরোপ এশিয়া প্রোগ্রাম

এইটি মূলত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের জন্য প্রযোজ্য। তারাই বাংলাদেশে একমাত্র পার্টনার।

ধরণঃ fully funded
কারা পাবেনঃ
১। undergraduate,
২। master,
৩। doctoral and
৪। post-doctoral , এবং ,
৫। university staff in academic or administrative positions, financed by the European Commission.

ডেডলাইনঃ The on-line application is open between October 15 - December 1, 2011.

The project is coordinated by Lund University (Sweden).

এপ্লিকেশন শুরুর আগে জেনে নিন আপনি কোন টার্গেট গ্রুপে পড়েন ।


২। ইরাসমুস মুনডুস মোবিলিটি উইথ এশিয়া প্রোগ্রাম

এইটি মূলত ৩টি পার্টনার ইউনির স্টুডেন্টদের জন্য- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা, এবং, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।

ধরণঃ funding all expenses for visa, travel, insurance, living, tuition-fees (if required), depending on the level of the individual mobility flow.

কারা পাবেনঃ students, graduates or staff persons related to some university. For students, all levels are eligible: Bachelor, Master, Doctorate and Post-Doctorate.

ডেড লাইনঃ যোগাযোগের এবং প্রস্তুতির ডেড লাইন গুলো পার হয়ে গেছে । আজকে থেকে অনলাইন এপ্লিকেশন শুরু করতে পারবেন এখান থেকে ২৩শে ডিসেম্বরের ভিতরে এপ্লিকেশন শেষ করতে হবে।

এপ্লিকেশন শুরুর আগে জেনে নিন আপনি কোন টার্গেট গ্রুপে ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29491949 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29491949 2011-11-28 10:45:21
মুক্তিযুদ্ধের উপরে একটা ভিডিও পডকাস্ট সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছি , ১লা ডিসেম্বর
এর পাশাপাশি বাংলাদেশী নাগরিকত্ব, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ , মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ১৯৭২ এর সংবিধান নিয়ে যে সব প্রচলিত ভুল ধারণা, গুজব ,কুতর্ক - বিতর্ক রয়েছে - সে গুলো সম্পর্কেও আলাপ আলোচনা থাকবে।

এর বাইরে সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা , স্বাধীনতার পরে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির উত্থান ও পুনর্বাসন এবং সাম্প্রতিক কালে এই বিরোধী শক্তির বিচার নিয়েও থাকবে বিশ্লেষণ।

প্রতিটা পর্বে একজন মুক্তিযোদ্ধার নিজস্ব বক্তব্য, অভিজ্ঞতা, আলোচনা শুনতে পাবেন এবং পরের পর্বে ব্লগারদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হবে আগের দিনের আলোচিত বিষয় গুলো নিয়ে । আগে থেকেই প্রশ্ন জমা করে রাখতে পারেন ।

আপনাদের দেখার/ শোনার আমন্ত্রণ রইলো এবং আশা করছি আপনাদের মনে যে সব প্রশ্ন আছে তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা আপনারা করবেন।

ভিডিও পডকাস্ট গুলো মূলত বিডি নিউজ ২৪ ব্লগে আপ্লোড হবে। টেকনিকালি সুবিধা পাওয়া গেলে সামুতেও দেওয়ার ইচ্ছা আছে ।

মনে রাখবেন, কোন ব্লগে প্রকাশিত হলো সেইটা কোন ব্যাপার নয় , মুক্তিযুদ্ধের উপর এই প্রথম এইভাবে ভিডিও পডকাস্টের চেষ্টা করা হচ্ছে- এইটাই গুরুত্বপূর্ণ ।

পাশাপাশি ফেসবুকে প্রশ্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখবো ।

শুভ ব্লগিং।

-----------------------------------------

২। মেডিকেল ক্রাইমের / চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগের উপর পডকাস্ট শুরু হবে। আপনার অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29486014 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29486014 2011-11-18 23:58:22
একটি প্রতিক্রিয়া পোস্ট - জামাতের কামরুজ্জামান কি একজন ব্যর্থ পিতা?


আমার আগের পোস্টে জাফর ইকবালের কন্যার "অবাঙালী পোশাকের কারণে" অনেক মন্তব্যকারী অভিযোগ করলেন যে নিজ কন্যাকে "বাঙালী" হওয়া এবং "বাঙালীত্ব" হাসিলের এর পথে না আনতে পারায় জাফর ইকবাল একজন ব্যর্থ পিতা, এবং বাঙালিত্ব নিয়ে কোন হেদায়েতের অধিকার তার নাই।

আজব ব্যাপার হইলো সেই পোস্টে জামায়াতে ইসলামী দলের কর্মী এবং দলের পক্ষে সক্রিয় প্রচারনাকারী ওয়ামির "অনৈস্লামিক" কর্মের ছবি দেখেও সেই একই মন্তব্যকারীরাঃ

১। ওয়ামী কত বড় অমুসলিম - সেইটার ধার কাছ দিয়েও কেউ গেলো না। ২। আবার ওয়ামীর পিতা জামায়াত নেতা কামরুজ্জামান যে একজন ব্যর্থ পিতা- এইটাও কেউ বললো না। ৩। নিজের ছেলেকে ইসলামের পথে আনতে না পারায় কামরুজ্জামান যে ইসলাম নিয়ে কথা বলার অধিকার সম্পূর্ণ হারাইলো - এইটাও কেউ বললো না।

এখন জামায়াতের দাবী অনুসারে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ লোক নাকি তাদের ভক্ত, সমর্থক। তার মানে কামরুজ্জামানের কথায় এবং কাজে লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রভাবিত হইতেই পারে । সেই কারণে ওয়ামীর এই অনৈসলামিক আচরণ এবং পিতা হিসেবে কামরুজ্জামান কেন জামাতী ব্লগারদের তীব্র সমালোচনার শিকার হইলো না?

এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এর কি মানে?

আমি শুধু এই প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্যই এই পোস্টটা করেছি। এই ব্যাপারে কৌতুহলী না হলে আপনি অন্য পোস্টে চলে যেতে পারেন।

ধন্যবাদ।


[ এই পোস্ট কেবল মাত্র ওয়ামীর কর্মকান্ড , পিতা হিসেবে কামরুজ্জামান এর সাফল্য/ব্যর্থতা এবং জামায়াত ইসলামী সংক্রান্ত। যে কোন অফ টপিক মন্তব্য মুছে দেওয়া হবে। এই নিয়ম কেবল এই পোস্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে আলোচনার সূত্রে জাফর ইকবাল ও তার কন্যা প্রসঙ্গ আসতে পারে যদি তা ওয়ামীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। না হলে মুছে দেওয়া হবে। আমার আগের পোস্টের মন্তব্যকারীদের বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ করা হইলো। ] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29480121 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29480121 2011-11-09 12:07:54
ইয়েশিম কি বাঙ্গালী ?
যাক সে সব। ছবি গুলোর সাথে জামাতী নেতা কামরুজ্জামানের ছেলের নাইটক্লাবের ছবিগুলোর মিল পেলাম। পার্থক্য হলো , ইয়েশিম নিজের জীবনে নিজেকে খাঁটি মুমিন মুসলমান হিসেবে দাবী করেছে বলে কোথাও দেখি নাই। সে ইসলাম প্রচার করে না। ইসলামের নামে ভোটও চায় না। সে তাকে ভোট দিলে বা তার পছন্দের দলকে ভোট দিলে বেহেস্ত এ যাওয়া যাবে এমন দাবীও কখনো করে নাই। সে কি ভাবে চলাফেরা করে সেইটা নিয়ে কোন কিছু লুকায় নাই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কোন সিদ্ধান্ত সে নেয় না। সে বাংলাদেশ সরকার বা কোন রাজনৈতিক দলের নেতা নয়। তাহলে ইয়েশিম কি খেলো , কি পরলো তাতে আমাদের কি আসে যায়?

জাফর ইকবাল বাঙ্গালী বলে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতে পারেন।

ইয়েশিম কি বাঙ্গালী?

সে যদি নিজেকে আমেরিকান বা আমেরিকান বাঙ্গালী হিসেবে জীবনযাপন করতে চায়- আমাদের কোন অধিকার নাই সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্যাক প্যাক করার। যেদিন ইয়েশিম আমেরিকান বাঙ্গালী হয়ে বাংলাদেশের মানুষকে হেদায়েত করতে আসবে- সেইদিন তাকে প্রশ্ন করা যেতে পারে আদৌ তার সেই জ্ঞান বা অধিকার আছে কি না।

একটা ছোট্ট রিমাইন্ডার-




যাকে উপরের ছবিতে আপ্নারা দেখতে পাচ্ছেন তার নাম হাসান ইকবাল ওয়ামী । এসএসসি ও এইচএসসি ন্যাশনাল ব্যাংক স্কুল ও কলেজ থেকে। ইসলামি ইউনিভার্সিটি থেকে মিডিয়া এন্ড ম্যাস কমিনিকেশনে অনার্স করেছেন, এখন মাস্টার্স শেষ করেছে। শেষ সংবাদ অনুযায়ী ওয়ামী ফ্রান্সে ছিলো। তার একটি বিশেষ পরিচয় হলো সে কুখ্যাত রাজাকার, জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামরুজ্জমানের পুত্র। একসময় ব্লগিং করতো সামহোয়্যার ইনে। মুক্তিযোদ্ধাদের কুকুর বলে সম্বোধন করাতে পুরো ব্লগ ফুঁসে ওঠে। প্রচন্ড রকমের দৌড়ানি খায় মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনকারী ব্লগারদের কাছে।

ওয়ামী মদ খেয়ে ফরাসী বান্ধবীর গলা জড়িয়ে ধরে তাকে কোলে বসিয়ে প্রেম করবে , লিভ টুগেদার করবে আর বাংলাদেশে এসে ইসলামের নামে জামায়াতের প্রচার করবে - এইটা মোনাফেকি, ভন্ডামী, চরম প্রতারণা।

ইয়েশিমকে তো এই রকম জামায়াত ইসলামীর পক্ষে প্রচার করতে দেখি নাই।

জাফর ইকবাল যেহেতু বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেন, তিনি কি খান, কি পরেন নিয়ে সমালোচনা হইতে পারে। তিনি আজকে ইসলাম প্রচার শুরু করলে আমরা বলতে পারি তার কথা-কাজে মিল নাই।

একজন প্রশ্ন তুলেছেন যে হাসিনা বা খালেদার জীবন যাপন নিয়ে ছবি প্রকাশ করা গেলে ইয়েশিমকে নিয়ে কেন যাবে না। দুইটা এক ব্যাপার নয়।

হাসিনা, খালেদা, এরশাদ, নিজামী বা গো আযমের জীবন নিয়ে, আয় ব্যয় নিয়ে, ছবি নিয়ে , পড়ালেখার সার্টিফিকেট নিয়ে আলোচনা অবশ্যই করা উচিত । শুধু এরাই না, যারাই রাজনীতি করে, যে কোন নির্বাচনে দাঁড়ায় - তাদের সকলকে নিয়েই করা উচিত। কারণ,

১। এরা কেউ ব্যক্তিগত জীবনযাপন করে না। করে রাষ্ট্রীয় জীবন যাপন। জনগণের টাকায় চলে এমন কোন পাবলিক অফিস বা নির্বাচনে দাঁড়ালে পাবলিকের কাছে জবাব্দিহিতা করতেই হবে।

২। এই লোকগুলার জীবনযাপন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের চরিত্র দিয়ে আমরা চিন্তিত থাকি কারণ এই সবের সাথে আমাদের জীবন জড়িত। এরা যা করে তার প্রভাব আমাদের জীবনে পড়বেই।

কিন্তু ইয়েশিমের কাজ কর্ম দিয়ে আমার কি? সে মানুষ না টেবিল চেয়ার -তা দিয়ে ভুরুঙ্গামারীর কি লাভ?

যতদূর মনে পড়ে জাফর ইকবাল একবার বলেছিলেন আমার বাচ্চারা বাংলাদেশে ফিরে নাই কারণ ওদের কাছে আমেরিকা ওদের দেশ।

তাই যদি হয় তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন,

ইয়েশিম কি বাঙ্গালী ? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29479626 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29479626 2011-11-08 09:40:01
ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন এবং ওষুধের বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে করুন
১। আপনার রোগের ব্যাপারে আপনার কি কোন প্রশ্ন আছে ?
২। ডাক্তারের দেওয়া বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা / ল্যাব টেস্টের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন আছে?
৩। যে চিকিৎসা বা ঔষধ আপনার সেবনের জন্য দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে কোন দ্বিধা বা প্রশ্ন আছে?
৪। চিকিৎসা শুরুর পরে আপনি কি কোন সাইড এফেক্টে ভুগছেন?
৫। যেই ব্রান্ডের ওষুধ ব্যবহার করছেন সেইটা কি বেশি দামী? কোন জেনেরিক কমদামী ওষুধে সুইচ করতে চান?
৬। এমন কোন ব্যাপারে অসুবিধা হচ্ছে যা মুখ ফুটে ডাক্তারকে বলতে পারছেন না?

নির্দ্বিধায় এবং নিশ্চিন্তে এই ব্লগ পোস্টের মন্তব্যে আপনার যে কোন প্রশ্ন রেখে যান। যথা সম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। বাংলাদেশের ডাক্তাররা ইংরেজিতে ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন লিখেন। অনেকে সংক্ষিপ্ত ভাষা ব্যবহার করেন। অনেকের হাতের লেখা খারাপ। অনেক কারণেই ভুল বুঝা বুঝি হতে পারে। ২০০৩ সালে আমেরিকাতে একটি গবেষণা পত্র থেকে জানা যায় যে আমেরিকায় প্রতি বছর মেডিকেল এরর থেকে মারা যায় ৭৮৩,০০০ এর ও বেশি মানুষ এবং এর ভিতরে প্রেসক্রিপশন ড্রাগ এর ভুল ব্যবহার থেকে মারা যায় ১০৬,০০০ জন মানুষ ।[১]

বাংলাদেশে এই রকম কোন জনমিতি রেকর্ড করা হয় না এখনো। তারপরেও, বাংলাদেশের সংখ্যাটাও অনেক মারাত্মক হওয়ারই কথা। আপনার চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকুন। প্রশ্ন করে জেনে নিন।
--------------------
১। তথ্যসূত্র ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29474773 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29474773 2011-10-30 06:41:59
ঘরে ফেরা আমি অবশ্য অফলাইনে পড়েছি ব্লগ মাঝে মাঝেই। নতুন প্রচুর ব্লগার লিখছেন। এইটা ভালো লাগছে।
ভালো লেখা খুব দ্রুত প্রথম পাতা থেকে সরে পড়ছে। এইটা খারাপ লাগছে।

পুরাতন বন্ধুদের সাথে কথা হবে। এইটা সবচেয়ে ভালো লাগছে ।

ওরে, তোরা কে কোথায়?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29468937 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29468937 2011-10-18 23:56:22
খুব সহজ ও সুস্বাদ্য স্বাস্থ্যকর খাবার
উপকরণঃ

মুরগীর মাংস - ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি
চাল- ২-৪ কাপ
ডাল - মুসুরির ডাল ১ কাপ অথবা পাঁচ মিশালী ডাল দেড় থেকে দুই কাপ
পানি- ১ থেকে ২ লিটার
পিঁয়াজ- মাঝারি সাইজের ১টা
তেল বা মাখন - না দিলেও চলে। ১-২ চা চামচ ।
কাঁচামরিচ- না দিলেও চলে। স্বাদের জন্য ২-৩টা ।

আদা - ১ ইঞ্চি / ১ চা চামচ
রসুন- ২-৩ কোয়া অথবা ২/৩ (তিন ভাগের দুই ভাগ) চা চামচ

সবজিঃ
ফুল কপি - ১ কাপ
গাজর - ১ কাপ
আলু- ১ কাপ
মটরশুটি - ১/২ কাপ
বরবটি- ১/২ কাপ

অন্য যে কোন সুস্বাদু সবজি যোগ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, সবজির স্বাদ যেন একটা আরেকটার সাথে সমন্বয় বজায় রাখে। বাধাকপি, লাউ, পেপে, ঝিঙা, কুমড়া, ঢেড়স , লাল শাক, ডাটা শাক, পালং শাক যা ইচ্ছা তাই দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন।

তবে, সবজি যেন এত বেশি না হয় যাতে মাংস আর ডালের স্বাদ হারিয়ে যায়। মাংস ৫০০ গ্রাম , চাল ২ কাপ, ডাল এক কাপ হলে সবজি সব মিলিয়ে ৩-৪ কাপের বেশি হওয়া উচিত হবে না। সেইভাবে মেপে নিন।

আস্ত গরম মসল্লা ঃ
দারচিনি - ২ ইঞ্চি
গোল মরিচ- ১০ টা
তেজপাতা - ২টা , বড়
লবঙ্গ - ৪ টা
এলাচ - ৫ টা , সবুজ
লবণ - ১ বা দেড় চা চামচ ( মাংস, চাল ও সবজির পরিমাণের উপরে বাড়বে কমবে)

প্রস্তুত প্রণালীঃ

মাংস কেটে ধুয়ে নিন। যাচ্ছেতাই সাইজে কাটুন, কিচ্ছু যায় আসে না। বড় ছোট কোন ব্যাপার না। কাটলেই হলো।
ডাল বেছে ধুয়ে নিন।
সবজি খুব ভালো করে ধুয়ে , তারপর কেটে টুকরো করে রেখে দিন। সবজির সাইজ মোটামুটি ১ ইঞ্চির কাছাকাছি রাখলেই হবে। আলু গাজর ছোট ছোট কিউব করুন।

এবার মাংস, ডাল আর সব মসল্লা পানিসহ চুলায় বসিয়ে দিন। ৩০ মিনিট বেশি জ্বালে ফুটান। এবার চাল দিন। পাঁচ মিনিট ফুটলে সবজি দিন। পাতিলে বেশ পানি থাকবে। কম হলে পানি যোগ করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন যেন তলায় না ধরে যায়। ১০ মিনিট পরে লবণ টেস্ট করুন। পছন্দ অনুযায়ী ঘনত্ব বাড়ান বা কমান।

কখন নামাবেন?

সবজি সিদ্ধ হয়েছে।
চাল ডাল ভেঙে গলে মিশে যাচ্ছে ।
মাংস হাড্ডি থেকে খুলে আসছে।

নামানোর আগে লবণ দেখে নামিয়ে নিন।

প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনঃ

সাদা খিচুড়ির মত করেঃ

চাল, ডাল, সবজি মিশানো উপরের খাবারটি একটি সুষম খাদ্য। যে কোন বয়সের জন্য উপকারী এবং খুবই সুস্বাদু। সাধারণ সুস্থ মানুষ এমনি খেতে পারেন। সাথে কোন ঝাল ঝাল তরকারি দিয়ে খেতে পারেন। ইফতার বা সেহরীতে আদর্শ। যারা এসিডিটি বা গ্যাসে ভুগেন- নিশ্চিন্তে খান। পানি একটু কম করে দিবেন রান্নার সময়ে যাতে রান্না শেষের সাথে পানি শুকিয়ে আসে।

পেট খারাপ, হজমে সমস্যা , স্টমাক ফ্লুঃ

আস্ত গরম মসল্লা গুলো উঠিয়ে নিন। একটা ব্লেন্ডারের অর্ধেক ভরুন। দুই কাপ ফুটন্ত পানি দিন। ব্লেন্ড করুন। হয়ে গেলো পুষ্টিকর স্যুপ । ১ ঘন্টা পর পর ১ কাপ করে খাওয়ান। সাথে প্রচুর পানি। বমি হলেও খাওয়ান। পছন্দ অনুযায়ী ঘন বা পাতলা করুন।

গলা ভাত বা ঢিলা খিচুড়ির মতঃ

এইটাও যে কেউ খেতে পারেন। যাদের রান্নার মেধা অত্যন্ত প্রখর তারা বেশি করে পানি দিয়ে এইটা বানান। তলায় ধরবে না। সেমি সলিড একটা জিনিস হবে কিন্তু খেতে খুবই মজা। দরকার হলে ম্যাগির চিকেন কিউব যোগ করেন ১-২টা মাংস সিদ্ধ করার সময়ে। খেয়াল রাখবেন- ডাল দেওয়ার পর থেকে নাড়তে হবে এবং চুলার সামনে থেকে সরা যাবে না।

অন্যান্যঃ

মাংসের বদলে মুরগীর গিলা -কলিজা, চিংড়ি মাছ, মাশরুম , কাঁটা ছাড়ানো মাছ ইত্যাদি দিয়ে করতে পারেন। সেক্ষেত্রে চিকেন/ফিশ/ভেজিটেবল স্টক মিশিয়ে নিবেন।

মাংস/মাছ/সবজি কে লবণ দিয়ে ফুটিয়ে ঝোলটাকে ঘন করলে যা পাওয়া যায় ওটাকেই স্টক বলে। বাড়িতে বানাতে পারেন বা স্টকের কিউব (ম্যাগি) কিনতে পাওয়া যায়। ওটাও ব্যবহার করতে পারেন।

সাবধানতাঃ

মাশুরুম বা কোন উপকরণে এলার্জি আছে কি না দেখবেন। রক্তে গ্লুকোজ (ডায়াবেটিক) বা ট্রাই গ্লিসারাইড বেশি হলে চাল বেশি খাবেন না।

চাল ডালের তরকারীতে পানিটা উপরে উঠে এসে ফুটতে থাকে। মনে হবে অনেক পানি। কিন্তু ডাল বা চাল তলায় গিয়ে ধরে যায়। সুতরাং, সাধু সাবধান!

রোযায় সুস্থ থাকুন। শুভ ব্লগিং ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29427336 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29427336 2011-08-07 18:46:55
ভিকারুন্নিসার প্রাক্তন ছাত্রীদের বলছি
সামহোয়ার ইন ব্লগের ব্লগারদের অকুন্ঠ্য সমর্থন এর জন্য ধন্যবাদ। অনেক ব্লগার (দুঃখিত, এক এক করে নাম দিতে পারছি না) পোস্ট দিয়েছেন, মানব বন্ধনের খবর পোস্ট করেছেন এবং কয়েক দিন আগে থেকেই পোস্ট-রিপোস্ট করে সব সময় আপডেট জানিয়েছেন। এই কারণে পোস্ট স্টিকি না হলেও পুরো সময়টা ঘটে যাওয়া অন্যায় এবং প্রতিবাদ সংক্রান্ত কোন না কোন পোস্ট প্রথম পেজে ছিলো। প্রচুর ব্লগার মন্তব্যে সক্রিয় ছিলেন। এই সকল ব্লগারদের অসংখ্য ধন্যবাদ। একটা স্টিকি পোস্টের চেয়ে আপনাদের শ্রমের মূল্য অনেক বেশি। আপনাদের জন্য স্যালুট।

ফেসবুকে যারা তুমুল সমর্থন এবং সাহায্য দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ।

যে অভিভাবকরা সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, যারা অংশ নিতে না পারলেও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন তাদের ধন্যবাদ।

আর, অনেক বিশাল ধন্যবাদ আমাদের বাবা, ভাই, পুরুষ বন্ধুদের যারা অতন্দ্র প্রহরীর মত এগিয়ে এসেছেন মানুষের দায়িত্ব পালন করতে। (রেপের ব্যাপারটা অনেকেই এড়িয়ে যান, অস্বস্তি বোধ করেন, এই মানসিকতা থেকে উত্তরণ ঘটেছে দেখে ভালো লাগছে)

সামহোয়ার ইন মডারেটরকে ধন্যবাদ , দেরীতে হলেও অন্তত একটা পোস্ট স্টিকি করার জন্য।
---------------------------------------------------
এই অপরাধ শুধুমাত্র একজন নারীর বিরুদ্ধে নয়, এই অপরাধ হয়েছে একজন শিশুর সাথে। একজন মানুষের সাথে। হ্যাঁ, এইটা ঠিক যে বাংলাদেশের একটা মেয়ে হয়ত আমাদের বোনটার পরিস্থিতি অনেকের চেয়ে ভালো ভাবে অনুভব করতে পারবে কিন্তু প্রতিবাদে, প্রতিরোধে, শাস্তির দাবীতে - আমার মনে হয় কারো নারী হওয়ার প্রয়োজন আছে। মানুষ হলেই চলবে। মানবিক বোধ আর বিবেক থাকলেই আপনি-আমি এই লড়াইয়ে অংশ নেব। সকলকে ধন্যবাদ। নিয়মিত আপডেটের জন্য ফেসবুকে চোখ রাখুন।

ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা ঃ আফরিন তানজিলা
-----------------------------------------------------

আপনার ইউনিফর্মটা কি কাছে আছে এখনো? তাহলে ওটার ধুলো ঝেড়ে গায়ে পরে নিন। আর কালকে যোগ দিন মানব বন্ধনে। হয়ত বলবেন, আইন নিজের পথে চলুক না! সব কিছু নিয়ে আন্দোলন কেন?

কারণ , এই দেশে আইন নিজের পথে চলে না। চলে ক্ষমতার পথে।
------------------------------------------------------
নিচের অংশটুকু রিপোস্ট। কৃতজ্ঞতা ঃ ব্লগার অগ্নিলা
--------------------------------------------------------------

কালকে (জুলাই ৯, ২০১১) ভিকারুননিসার বেইলীরোড শাখার সামনে সকাল ১১টায় অভিযুক্ত পরিমল জয়ধরের বিচারের দাবীতে মেয়েরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আহবান জানিয়েছেন। ব্যাপারটা যে কত শান্তিপূর্ণ তা দেখার জন্য আপনি ফেইসবুকের ইভেন্টের নিময়গুলি দেখতে পারেন-

***Especial notice***

11:00 am - Gathering in front of Viqarunnisa Noon College gate 1.
11:10 am - Road March [Starting from gate 1 surrounding the whole college compound. NOT the inner compound ]

1. Every VNSC students are strictly being advised to wear their school/college UNIFORM.

2. Every attenders are requested to bring at least three placards or posters. Attenders are requested not to write any abusive lines or phrases on their placards.

3. Bring Rain-coats or umbrellas. We don't want the march to be interrupted by the rain. And also bring water bottles.

4. Every attenders are requested to listen to the volunteers and to avoid any kind of violence. No matter what happens STAY CALM.

5. Any loss of personal property (Like cell-phones and money) will not be our concern.

6. Presence of boys are sill unwanted.

* THIS IS THE FINAL DATE AND TIME.THIS WILL NOT BE CHANGED.PLEASE INFORM YOUR FELLOW VNSC STUDENTS ABOUT IT*

বিশৃংখলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় এখানে কোন ছেলে পর্যন্ত এ্যালাউড না।

এরকম একটা শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানের আগে ভিকারুননিসার বর্তমান প্রিন্সিপাল বিকালে কিছু মেয়েকে ডেকে বলেছেন মানব বন্ধনে পুলিশ লাঠি চার্জ করবে, কেউ মার খেতে চাইলে আসতে পারো।

ইতিপূর্বেও তিনি পরিমল জয়ধরকে বাঁচানোর অনেক ন্যাকারজনক চেষ্টা করে এসেছেন। বলেছেন এটা মিউচুয়াল সেক্স।

(বয়সে শিশু যে কোন নাবালক বা নাবালিকার সাথে যৌণতাকে ধর্ষণ বলা হয়। কোন শিশু আইনগত ভাবে যৌণতার অনুমতি দিতে পারে না)

আমি জানি না পরিমলের কি বিচার হবে, এটাও জানি না এই মহিলাকে কি করা হবে তবে এটা জানি কালকে একটা লাঠি যদি একটা মেয়ের গায়ে পরে সে কারেন্ট স্টুডেন্ট হোক বা এক ভিকি অথবা বাইরে থেকে আসা কোন মেয়ে, হোসনে আরা নামক মহিলা আর ভিকারুননিসার ১৪ হোদ্দির মধ্যে আসতে পারবে না। আমাদের মায়ের মত শিক্ষিকারা আমাদের ১২ বছর ধরে তৈরি করেছে আমরা কি সেটা ৫ বছরে আপনি বুঝবেন না বরং আসুন আমরা হাতে কলমে দেখাই আমরা কি?
VIQI's Rule

একটা কথা যোগ করা উচিত মনে করছি, শনিবার হরতালের মেক আপ ক্লাস নেবার জন্য স্কুল খোলা রাখা হয়েছিল। ফেইসবুকের ইভেন্ট দেবার পর গতকাল স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়। আমনকি যে এস সি এর মেয়েদের যে শনিবার নিয়মিত বিশেষ ক্লাস নেয়া হয় সেটাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে মেয়েরা জানিয়েছে তার ইউনিফর্মেই স্কুলে যাবে, মানববন্ধন করতে।
--------------------------------------------------

সবার মন্তব্যের জবাব আলাদা করে দেওয়ার সময় পাচ্ছি না। সবাইকেই ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য। আমার অসুবিধাটুকু বুঝার জন্য কৃতজ্ঞতা। মন্তব্যের জবাবের চেয়ে আন্দোলন সফল হওয়া, পরিমলের মত জন্তুদের শাস্তি হওয়া , ধর্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া অনেক বেশি জরুরী- আমি নিশ্চিত এইটা আপনারা বুঝেন। হ্যাটস অফ টু ব্লগারস।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29409680 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29409680 2011-07-09 00:05:12
রুমানা -সাইদ, কার মিথ্যা বলার সম্ভাবনা বেশি? আপডেট ২১শে জুন ২০১১ঃ

রুমানার দুটো চোখই চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। একজন ডাক্তার হিসেবে আগেও বুঝেছিলাম, তবু মনে হচ্ছিলো, আমার ধারণা ভুল হোক। হয়নি। আল্লাহর দান এই চোখের দৃষ্টি কোন লৌকিক ক্ষমতায় ফেরত পাওয়া যাবে না। রুমানা তার "মেয়েটাকে আর একবার দেখতে চান।" আর কোনদিনই দেখতে পাবেন না। যারা বুঝতে পারছেন না এর মানে কি, তারা নিজেদের চোখ দুটো সম্পূর্ণ বেধে মাত্র ৩০ মিনিট ঘরের ভেতরেই ঘুরাফেরা করুন। কিংবা বাড়ির বাইরে ১০ মিনিট হেটে আসুন। তারপর বলুন, "হাসান সাইদের" কি শাস্তি হওয়া উচিৎ।

বিভিন্ন পত্রিকা মারফত জানা গেছে ( যেইটা আমরা অনেকে আগেই বুঝতে পারছিলাম যে সাইদ এর কথা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি), সাইদ স্বীকার করেছে যে স্ত্রীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে প্ল্যান প্রোগ্রাম করে আঘাত করেছে। শুধু ৫ই জুনই নয়, এর আগেও প্রচন্ড মার ধোর করেছে। হত্যার জন্য গলা টিপে ধরেছে।মানব জমিনে প্রকাশ ঃ

" মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদে নিপীড়ক স্বামী হাসান সাঈদ স্ত্রী নির্যাতনের কারণ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কিছু তথ্য গোপন করে রুমানাকে বিয়ে করেছিলেন। পরে ওইসব গোপন তথ্যই তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরায়। বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করার কথা বললেও পরে তা মিথ্যা বলে ধরা পড়ে। এ নিয়ে হাসান সাঈদ ও রুমানার মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একই সঙ্গে নিজের অন্ধত্বের দুর্বলতা থেকেও রুমানার ওপর ক্ষোভ জমা হয়। তার চোখ নিয়ে ঈর্ষা শুরু করেন। এক পর্যায়ে মিথ্যা সন্দেহের ভিত্তিতে রুমানার চোখ চিরতরে নষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কানাডা থেকে ফিরে আসার পরই তা বাস্তবায়নের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পরপরই হাসান সাঈদ নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তার সবই মিথ্যা।"

আপনার কি চোখে সমস্যা? তাহলে আবার,

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদে নিপীড়ক স্বামী হাসান সাঈদ স্ত্রী নির্যাতনের কারণ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কিছু তথ্য গোপন করে রুমানাকে বিয়ে করেছিলেন। পরে ওইসব গোপন তথ্যই তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরায়।

হাসান সাইদ বহু আগে থেকেই মিথ্যাচার করে অভ্যস্ত। নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মিথ্যা বলা তার অভ্যাস। নইলে মানুষের সম্পর্ক , যা কি না টিকেই থাকে বিশ্বাসের উপর, সেই সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে নামক চুক্তিটা করেইছে মিথ্যা দিয়ে। রুমানা বিয়ে করেছে ভালোবেসে আর সাইদ করেছে প্রতারণা করে। তারপরেও সাইদের ফ্যান ফলোয়ার এর আধিক্য প্রমাণ করে আমাদের আশে পাশে অনেক সাইদ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এক পর্যায়ে মিথ্যা সন্দেহের ভিত্তিতে রুমানার চোখ চিরতরে নষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কানাডা থেকে ফিরে আসার পরই তা বাস্তবায়নের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পরপরই হাসান সাঈদ নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তার সবই মিথ্যা।

আপনি এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইনটা খুঁজে পাননি?

গ্রেপ্তারের পরপরই হাসান সাঈদ নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তার সবই মিথ্যা।

পোস্টের শিরোণাম - কার মিথ্যা বলার সম্ভাবনা বেশি?

সাইদ এখন নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছে কি কি মিথ্যা সে বলেছিলো। পোস্টের আলোচনার মাধ্যমে দেখিয়েছিলাম, কেমন করে তথ্য, যুক্তি এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে বুঝতে পারা যায়- কার মিথ্যা বলার সম্ভাবনা বেশি। এইটা যারা মনে রাখবেন, ভবিষ্যতে যখন নিজের বোন বা কন্যার উপরে হামলা হবে (হতেই হবে, প্রচুর সাইদের ফ্যান আশে পাশে) তখন কাজে লাগবে। আমি আমার নিজের বোন বা কন্যাকে কি করে বাঁচাবো, এখন সেইটাই ভাবছি।
------------------------------------------

( যারা ক্রমাগত রুমানার উপরে নির্যাতনের প্রতিবাদের সোচ্চার, আমি তাদের কথা বলতে এই পোস্ট লিখিনি, লিখেছি কিছু পায়ুজাত কীটের কথা)

বাংলাদেশে সব সময় যেই ঘটনাটা ঘটে , কোন নারী নির্যাতনের কেস হলেই তাতে আগে নারীর চরিত্রে কলংক লেপনের জন্য সবাই উঠে পড়ে লাগে। তাতে অধুনা অগ্নিকুন্ডে গব্য ঘৃত ঢালার কাজটা করেছে দুই মায়ের পরকীয়া এবং শিশু হত্যার সাথে জড়িত থাকার ঘটনা। বাংলাদেশের সমাজ যেখানে পুরুষ সর্বান্তকরণে সুবিধাভোগী , শাসক ও শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ, সেখানে পুরুষ দ্বারা নারী হত্যা, শিশু হত্যা, পুরুষের পরকীয়ার ঘটনা এত বেশি চর্বিত চর্বণ যে ব্যাপারটা অনেক স্বাভাবিক হয়ে গেছে। মানুষ , থুক্কু, মেয়ে মানুষ এটুকু মেনেই নিয়েছে যে পুরুষ যেহেতু "মানুষ" তাই তারা দুই চারটা প্রেম, সেক্স, পরকীয়া, ব্যাভিচার, নির্যাতন, খুন করতেই পারে। আগের দিনে পুরুষের বেশ্যা গমন ছিলো কালচার। পরকীয়াও কালচার । কেউ কেউ সেইটাতে ধর্ম টেনে "আল্লাহ পুরুষকে দিয়েছেন ভ্রমরের স্বভাব" - অতএব পুরুষের কি দোষ টাইপের মিথ্যা, অসৎ , নোংরা গা বাঁচানো ফতোয়া দিয়ে থাকেন। সুতরাং, ঘটনা যাই ঘটুক, সব সময় মেয়েটারই দোষ।

মেয়েরা শুধু সয়ে যাবে, নিজে কোন অপরাধ করবে না, প্রতিবাদও করবে না- করার মধ্যে করবে শুধু আত্মহত্যা। এই টাইপের দুর্বল, কেঁচো স্বভাবের মেয়েরাই বাংলা সাহিত্যে মহান। ত্যাগী, মুখচোরা, অসীম ধৈর্য্যের অধিকারী - শুধু মাত্র স্বামী/প্রেমিক/সন্তান বিপদে পড়লেই এমন মেয়েদের লড়াই করা সাজে। মানে, মেয়েরা নিজেদের জন্য রক্তপাত করে না- করে অন্য কোন পুরুষের জন্য। তার উপরে প্রেমের খাতিরে সকল বিলাইয়া নিজে বিলাই হইয়া থাকো- শিক্ষা দীক্ষার তো কোন কথাই নাই। ফলত, যারাই এই ডমিনেন্ট ডিস্কোর্সের বাইরে বিন্দুমাত্র মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে- তাদের সবাইকে মর্দ নামক গন্ডাররা বেশ্যা প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে যায়।

এর পিছনে আর কিছুই না - ২০০০ বছর ধরে ভোগ করে আসা আধিপত্য, যা-ইচ্ছে-তাই করে বেড়ানো - কীট পতঙ্গ চরিত্রের পুরুষের নিজের সামান্য আধিপত্যটুকু হারানোর ভয়। রুমানা মঞ্জুর তার চোখ হারিয়েছেন, সারা শরীরে জখম নিয়ে হাসপাতালের বেডে অসহায় কাঁদছেন- কিন্তু নরকের পতিত কীটরা কিন্তু লেগে গেছে তার চরিত্র হরণে।

দু-দুটো শিশু পরকীয়া সম্পর্কের শিকার হয়ে খুন হয়েছিল। হত্যা করেছিলো পরকীয়া সম্পর্কের সাথে জড়িত পুরুষটি। কেউ তাদের নাম মনে করতে পারেন? তাদের ছবি আছে? ছেপেছিলো কোন পত্রিকা? নাহ। সারা পাতা জুড়ে ছিলো শিশু এবং মায়ের ছবি।

পর্ণ নামক যৌন সঙ্গমের ছবি গুলোতে শুনেছি মেয়েদের, শিশুদের মুখ ও শরীর প্রদর্শিত হয়। কিন্তু, পুরুষের মুখ থাকে ক্যামেরার বাইরে বা মুখোশ পরিহিত। আমাদের বাংলাদেশের পত্র পত্রিকার খবরের বেলাতেও আমি পাই সেই আশ্চর্য মিল। যেখানে নারী নির্যাতক, সেখানে নারী ও শিশুর ছবি। যেখানে পুরুষ নির্যাতক , সেখানেও বড় বড় করে, পাতা ভরে নারীর ছবি।

ধর্ষনের শিকার পূর্ণিমার ছবি দেখেছেন নিশ্চয়? তার ধর্ষকের ছবি দেখেছেন?

জয়ন্তীকে হত্যার কথা মনে আছে? স্বামী আজম চৌধুরীর চেহারা কি মনে পড়ে? অথচ জড়িত আফসানা মিমিকে আমরা সবাই চিনি। চিনি আজমের বোন শম্পাকেও।

রাহেলার ছবি মনে আছে নিশ্চয়ই? তার ধর্ষকদের ছবি মনে পড়ে? লিটনের ছবি কি বার বার রাহেলা সংক্রান্ত কোন খবরে প্রকাশ পায়?

না পায় না। কারণ পুরুষতান্ত্রিক বাংলাদেশের সমাজে যে সব সাংবাদিক বড় হয়, তাদের মন মানসিকতাও পুরুষতান্ত্রিক। নারীর চোখে বিশ্ব দেখতে চাওয়া তাদের কাছে একটি বিশেষ দিবসের স্লোগান মাত্র। মিডিয়াও তাই নির্যাতিত নারীর পরিচয় বা ছবি গোপন করে না--- গোপন করে রাখে নির্যাতক পুরুষের ছবি।

নারী এবং শিশুর ছবি বিক্রি হয় ভালো।


পাঠকের চাপে, ব্লগারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকলে এই হাসান সাইদের ছবিও "পুলিশ খুঁজে পেত না"। এত গেলো মিডিয়া। পাঠকের কি অবস্থা?

একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারছি না। যারা বিভিন্ন ব্লগে মন্তব্য করছেন, তারা কি বিন্দুমাত্র পড়ালেখা করে ব্লগে এসেছেন নাকি সার্টিফিকেটধারী কুশিক্ষিত?

বেশ কিছু মন্তব্যকারীর মন্তব্য পড়ে বুঝা যাচ্ছে , বাংলাদেশে শিক্ষিত মূর্খের এবং পশুর সংখ্যা প্রচুর। নিজেরা সামান্য পড়ালেখা করে তারপর কি ঘটেছে সেইটা বুঝার চেষ্টা কারো ভিতরে নেই।

ব্লগের কিছু মন্তব্যকারী যা করছে তা হলো ঃ

১। রুমানাকে তারা চিনেন না । রুমানার বক্তব্য অবশ্যই মিথ্যা।

২। সাইদকে তারা চিনেন না। সাইদের বক্তব্য অবশ্যই সত্য।


এই অদ্ভুত ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন কি করে? এর পেছনে যুক্তিটা কি?

ব্লগে বসে মেয়েদের উপর গায়ের জোর দেখানো?

১। সাইদ উচ্চ শিক্ষিত ( অন্তত বুয়েটে ভর্তি হয়েছিল, পাশ করতে পারে নাই) --- এইটা প্রমাণ করে সাইদ মেধাবী। কিন্তু এইটা কি ভাবে প্রমাণ করে যে সে সত্যবাদী কিংবা নিরপরাধ?

২। সাইদের ফ্যামিলি শিক্ষিত, ভাল ফ্যামিলি --- এইটা তার পরিবারের লোক জন সম্পর্কে সামান্য তথ্য দেয়। কিন্তু তাতে কি করে প্রমাণ হয় যে সাইদ নিজে ভালো মানুষ?

সাইদের ছোট ভাই নাকি ড্রাগ এডিক্ট।

৩। সাইদ এর জীবনে ব্যর্থতার পরিমাণ অনেক- এইটা প্রমাণ করে সে কোন কিছুতেই বেশিদিন লেগে থাকতে পারে না। চোখের সমস্যাটা সত্যি হলেও এই বাংলাদেশেই হাত নেই, পা নেই, চোখ নেই কিংবা টাকা পয়সা নেই --- এই ধরনের শারীরিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠে সত্যিকারের ভালো কিছু অর্জন করা মানুষের সংখ্যা কত?

নিশ্চয় একাধিক।

বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে ধরা খেয়ে পথে বসা বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কত?

প্রায় ৩ লাখ পরিবার। এদের ভিতরে কয়জন মানুষ খুন করার চেষ্টা করেছে? এই সব মানুষ যারা কোন অপরাধ করে নাই - এরা স্বাভাবিক না--- সাইদ এর মত পশু, যার সংখ্যা আপাতত একজন , সেই হলো স্বাভাবিক মানুষের মডেল?

মাত্র ১ বছরের সন্দেহ আর মানসিক যন্ত্রনার ফল যদি হয় সাইদ, বউকে অন্ধ করে দেওয়া, মেরে ফেলার চেষ্টা এবং সেইটা কারো কারো কাছে গ্রহনযোগ্য হয় --- তাহলে ১০ বছরের , আচ্ছা কমিয়ে ধরি, ৫ বছরের শারীরিক মানসিক নির্যাতন, অকর্মণ্য, বেকার, নির্যাতক স্বামীর সাথে থাকার ফলে রুমানা কেন হিংস্র হয়ে উঠলো না? মানসিক চাপের যাঁতাকলে পড়ে রুমানা কেন কামড়ে, খুবলে নিল না সাইদকে? এই দাবী কেন কতিপয় সাইদ ফ্যান ব্লগার তুলছে না?

৪। আমরা যারা রুমানাকে কলেজ থেকে চিনি, তাদের কথা বিশ্বাস করবেন, নাকি যারা আন্দাজে অনুমানের উপর নির্ভর করে আবোল তাবোল অপবাদ দিয়ে বেড়াচ্ছেন- তাদের কথা বিশ্বাস করবেন?

৫। যারা সাইদকে ছোটবেলা থেকে চিনেন- এমন সহপাঠী বলেছেন সাইদ ছোটবেলা থেকে বিড়াল জাতীয় প্রানী হত্যা করে স্বর্গীয় সুখ পেত।

সাইদ নিজের বাবা মায়ের যৌন সঙ্গম লুকিয়ে লুকিয়ে দেখত , তারপর এসে বন্ধুদের কাছে ডিটেইল বর্ননা দিত।

ক্যাডেট কলেজ এ সাইদ থাকতে পারেনি। এইচ এস সি এর আগেই তাকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়।ভারতের আই আই টি তে ১ বছর থেকে ওখান থেকেও বিতাড়িত হয়। বুয়েটে ভর্তি হলেও শেষ করতে পারেনি। সবই কি চোখের দোষ? এখন হয়ত চোখে ভালো দেখে না, কিন্তু ৫-১০-১৫ বছর আগে যখন চোখ এখনকার মত খারাপ ছিলো না , তখন কেন পড়ালেখা করতে পারেনি?

সহপাঠিরা বলছে তার আচরণে "ইবলিশের" সাথে মিল ছিল (স্কুলের সহপাঠী) । মূলত আচরণের অস্বাভাবিকতার কারণে বিতাড়িত হয়েছে।

মানুষের জীবনে ক্যাডেট কলেজের বন্ধুরা হয় সবচেয়ে ক্লোজ। কখনো কখনো বাপ মা এর চেয়েও বেশি আপন হয়ে যায় ক্যাডেটের বন্ধু। ব্লগের ক্যাডেটরা এই কথার সত্যতা প্রমাণ করতে পারবেন। অথচ সাইদের ক্যাডেটের সহপাঠীদের কারো সাথেই গত ১৭-১৮ বছর ধরে কোন যোগাযোগ নেই।

৬। সাইদ কোন কাজেই বেশিদিন লেগে থাকতে পারে নাই। না পড়ালেখা, না ব্যবসা, না শেয়ার বাজার। --- এইটা প্রমাণ করে তার কোন বিষয়েই খুব বেশি ধৈর্য্য থাকে না। এর পাশাপাশি , সাইদ পরিশ্রমী নয়। অধ্যাবসয়ী নয়। অন্য কারো উপরে বসে বসে খেতে তার কোন আপত্তি নাই।

তার এক আত্বীয়ের বর্ননায় পাওয়া যাচ্ছে - ব্যবসা সফল হতে হলে যেই স্কিল গুলো লাগে- অফিস ম্যানেজমেন্ট, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা -- কোনটাই তার ভিতরে দেখা যায় নি।

৭। রুমানার নিজের বর্ননায় পাওয়া যায় বিয়ের পর থেকেই সাইদ তাকে নির্যাতন করেছে। দিন কে দিন সেইটা বেড়েছে কেবল।

৮। আজ পর্যন্ত মানুষের ৬-৭ হাজার বছরের ইতিহাসে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি বার দেখা গেছে ধরা পড়ার পর অপরাধী সব সময় নিজেকে নির্দোষ দাবী করে। তারপর ভিকটিমের উপরে দোষ চাপায়। এবং অবশ্যই অবশ্যই মিথ্যা কথা বলে । ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা কথা বলে।

সাইদ কেন এর ব্যাতিক্রম হবে?

৯। অপরাধী যত রকম গল্পই সাজাক না কেন - যুক্তিবাদী মানুষ ফিজিকাল প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, অপরাধের পেছনে মোটিভ এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি দিয়ে বুঝার চেষ্টা করে কোন গল্পটা সত্যের কাছাকাছি। গল্পের সব কয়টা ভার্সনের মধ্যে কোনটা সবচেয়ে যুক্তিগ্রাহ্য এবং কোনটার পক্ষে প্রমাণ সবচেয়ে বেশি।

সাইদকে যারা ছোটবেলা (স্কুল) থেকে বড় বেলা পর্যন্ত চিনে, তাদের সকলেই বলছে তার আচরণে বরাবরই সমস্যা ছিলো। তার আচরণগত সমস্যা এবং চোখের সমস্যা- এই দুই মিলিয়ে সে অনেক আগে থেকেই ব্যর্থ, এবং ডিস্টার্বড মানুষ।

এর বিপরীতে রুমানাকে যারা ছোট বেলা (স্কুল) থেকে বড় বেলা পর্যন্ত চিনে, তাদের সকলেই ( আত্মীয়, বন্ধু, সহপাঠী, ছাত্র ছাত্রী, কলিগ সবাই) এক বাক্যে স্বীকার করেছে , মানুষ হিসেবে রুমানা প্রচন্ড মমতাময়ী, বন্ধুসুলভ, ভালো মানুষ। মেধাবী এবং সফল তো বটেই।


এর পর আসুন দেখি, কার বক্তব্য কি?

১। রুমানা যে বর্ননা দিয়েছে ৫ই জুনের এবং সাইদের আচরনের - সেইটা স্কুল লাইফ থেকে আজকে পর্যন্ত একটা ধারাবাহিকতা আছে। অনেক কিছুই খাপে খাপে মিলে যায়।

২। সাইদ যে বর্ননা দিয়েছে ৫ই জুনের তার সাথে রুমানার শারীরিক জখমের কোন কিছুই মিলে না। রুমানার চারিত্রিক বর্ননাও মিলে না। বরং, ১০ বছরের অশান্তি, সাংসারিক নির্যাতনের পরে কেউ যদি আলাদা হতে চায়- তাহলে নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু , এর সপক্ষে কোন প্রমাণ সাইদ দিতে পারেনি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে রুমানার মত এট্রাক্টিভ, সফল, জনপ্রিয়, সুন্দরী মেয়ের পরকীয়া করার ইচ্ছা থাকলে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে কি?

বাংলাদেশে এখন নাকি হরদম লোক জন পরকীয়া করে বেড়ায়। একলা রুমানারই কানাডা যাওয়ার দরকার পড়লো? তাও আবার ইরানী যুবক যাকে ফেসবুকে খুজে পাওয়া যায় না?

লক্ষ্য করে দেখেন, সাইদ গল্পটা সাজিয়েছে এমন ভাবে যাতে আমরা কেউই সহজে সেইটার সত্যমিথ্যা যাচাই করতে না পারি- দেশটা কানাডা, পাত্রও ইরানী। বেশ রুপকথা টাইপ ভাব আছে।

তারপরেও ধরে নেই, ইজ ইট পসিবল?

ইয়েস।

ইজ ইট প্রবাবল?

নো।

রমানা এবং সাইদের ভিতরে মিথ্যা বলার সম্ভাবনা কার বেশি?

সাইদের।

নিজেকে বাচানোর জন্য মিথ্যা বলার প্রয়োজন কার বেশি?

সাইদের।

কার গল্পে অসঙ্গতি বেশি?

সাইদের।

আমার কাছে মনে হয়েছে হাসান একজন সাইকোপ্যাথ বা সোসিওপ্যাথ- অন্তত তার কাছাকাছি কিছু। ডায়াগনোসিস নয় এটা- তবে তুলনামূলক চিত্র।

এখন আসুন দেখি একজন সাইকোপ্যাথ বা সোসিওপ্যাথ ধরণের অপরাধীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যঃ

common features of descriptions of the behavior of sociopaths.


১। Glibness and Superficial Charm- মেকি ভদ্রতা বা মিষ্টতা যেইটা বেশিদিন ধরে রাখতে পারে না।

২। Manipulative and Conning - অন্যকে প্রভাবিত করার মত চালাক চতুর এবং প্রতারক
They never recognize the rights of others and see their self-serving behaviors as permissible. They appear to be charming, yet are covertly hostile and domineering, seeing their victim as merely an instrument to be used. They may dominate and humiliate their victims. --- অন্য কারো অধিকার স্বীকার করে না। নিজের স্বার্থপরতাকেই সঠিক বলে মানে। তারা আপাত দৃষ্টিতে মিষ্ট বা নরম স্বভাবের কিন্তু ভিতরে ভিতরে হিংস্র, প্রভুত্ব দেখায় এবং তার ভিকটিমকে ব্যবহারের বস্তু ভাবে। ভিকটিমকে প্রায়ই ডমিনেট করে, এবং অপমান করে।

৩। Grandiose Sense of Self
Feels entitled to certain things as "their right."--- নিজের সম্পর্কে অতি উচ্চ ধারণা করে এবং কিছু সুবিধা, সুযোগ বা ভোগ বিলাসকে নিজের "প্রাপ্য অধিকার" বলে মানে।

৪। Pathological Lying
Has no problem lying coolly and easily and it is almost impossible for them to be truthful on a consistent basis. Can create, and get caught up in, a complex belief about their own powers and abilities. Extremely convincing and even able to pass lie detector tests.

এরা এতটাই নিখুঁত মিথ্যাবাদী যে ঠান্ডা মাথায়, সহজেই যে কোন মিথ্যা বলতে পারে। ধারাবাহিকভাবে সত্য বলা এদের পক্ষে অসম্ভব। নিজের শক্তি ওঁ ক্ষমতা সম্পর্কে মিথ্যা গল্প বানাতে বানাতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, এবং নিজেই তার ভিতর ডুবে যায়। মিথ্যা নিরুপণকারী যন্ত্রকে ফাঁকি দিতে পারে।

৫। Lack of Remorse, Shame or Guilt- এদের কোন লজ্জা, অনুতাপ বা অপরাধবোধ নেই।
A deep seated rage, which is split off and repressed, is at their core. Does not see others around them as people, but only as targets and opportunities. Instead of friends, they have victims and accomplices who end up as victims. The end always justifies the means and they let nothing stand in their way.---- অত্যন্ত গভীর হিংস্র ক্রোধ, যা দ্বিধাবিভক্ত এবং চাপা থাকে এদের ভিতরে। তার চারপাশের কাউকে সে মানুষ মনে করে না। সব সময় মনে করে শিকার এবং সুযোগ হিসেবে। বন্ধুর বদলে তারা ভিকটিম তৈরী করে এবং যারা তাকে সাহায্য করে তারাও এক সময় ভিকটিম হয়। নিজে যা চায় সেইটা আদায়ের পথে কোন বাধাকেই তারা মানে না । ( নিজের মেয়ের কান্না সাইদকে থামাতে পারেনি)

৬। Shallow Emotions - অগভীর অনুভূতি

When they show what seems to be warmth, joy, love and compassion it is more feigned than experienced and serves an ulterior motive. Outraged by insignificant matters, yet remaining unmoved and cold by what would upset a normal person. Since they are not genuine, neither are their promises. যখন তারা দেখায় যে তারা (সাইকোপ্যাথরা) ভালোবাসে, তখন আসলে সেইটা স্বার্থ উদ্ধারের উপায় হিসেবে একটা অস্ত্র মাত্র। সাইকোপ্যাথরা ভালোবাসা, মায়া, মমতা অনুভব করে না- স্রেফ ভান করে, ব্যবহার করে। যেহেতু তারা সত্যিকারের কোন অনুভব করে না, তাই দেখা যায় অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হিংস্র আক্রমণ করছে, আবার স্বাভাবিক মানুষ সহ্য করতে পারে না - এমন সব ঘটনায় তারা নির্বিকার ( পাঠক কি মিল ধরতে পারছেন?)

৭। Incapacity for Love - ভালো বাসতে পারে না

৮। Need for Stimulation - সারাক্ষণ উত্তেজনা দরকার হয়
Living on the edge. Verbal outbursts and physical punishments are normal. Promiscuity and gambling are common. ঝুকি পছন্দ। মৌখিক চ্যাচামেচি এবং শারীরিক আঘাত কমন। ব্যাভিচার , জুয়া ইত্যাদিওঁ।

(সাইদ নিজে ব্যাভিচারী বলেই কি রুমানাকে সন্দেহ?)

৯। Callousness/Lack of Empathy- সহমর্মিতা বিহীন
Unable to empathize with the pain of their victims, having only contempt for others' feelings of distress and readily taking advantage of them.

অন্যের ব্যথা বা কষ্টের সাথে সহমর্মি হয় না। অন্যের দুর্বলতার প্রতি স্রেফ ক্ষোভ থাকে এবং সেইটার সুযোগ নিতে রেডি থাকে।

১০। Poor Behavioral Controls/Impulsive Nature -- আচরণগত সমস্যা
Rage and abuse, alternating with small expressions of love and approval produce an addictive cycle for abuser and abused, as well as creating hopelessness in the victim. Believe they are all-powerful, all-knowing, entitled to every wish, no sense of personal boundaries, no concern for their impact on others.

রাগ এবং নির্যাতন, তার পর পরই ছোট খাট প্রেমময় বা সুন্দর আচরণ- এই সাইকেল সাইকো প্যাথ এবং তার ভিকটিমের মধ্যে এক অদ্ভুত সংযোগ গড়ে তুলে। ভিকটিম প্রতিবারই ভাবে - মাফ করে দেই। আর হবে না। ওঁ ভালো হয়ে গেছে। ভুল বুঝতে পেরেছে । কিন্তু অবধারিত ভাবেই আবার আউট বার্স্ট হয়।

রুমানা কেন ১০ বছর তালাক দেয়নি, এই হলো তার কারণ।

১১। Early Behavior Problems/Juvenile Delinquency
Usually has a history of behavioral and academic difficulties, yet "gets by" by conning others. Problems in making and keeping friends; aberrant behaviors such as cruelty to people or animals, stealing, etc.

ছোট বেলা থেকেই আচরণে সমস্যা এবং পড়ালেখায় সমস্যার ইতিহাস থাকে। কিন্তু অন্যদেরকে প্রতারণা করে চালিয়ে নেয়। বন্ধু বানাতে বা টিকিয়ে রাখতে পারে না। অন্য মানুষ, ছোট খাট প্রাণিদের প্রতি নৃশংস আচরণ , চুরির ঘটনা থাকে।

১২। Irresponsibility/Unreliability
Not concerned about wrecking others' lives and dreams. Oblivious or indifferent to the devastation they cause. Does not accept blame themselves, but blames others, even for acts they obviously committed.

দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। অন্যের জীবন ও স্বপ্ন ভাঙতে দ্বিধা করে না। কি ক্ষতি করছে অন্যের তার প্রতি উদাসীন থাকে। নিজের দোষ দেখে না, সব সময় "অন্যের" দোষ খুঁজে বেড়ায়, এমনকি যেইখানে তার নিজের দোষ প্রমাণিত - সেখানেও।

১৩। Promiscuous Sexual Behavior/Infidelity
Promiscuity, child sexual abuse, rape and sexual acting out of all sorts.

পরকীয়া, ব্যাভিচার, শিশু ও নারীদের যৌন নির্যাতন করতে পারে।

১৪। Lack of Realistic Life Plan/Parasitic Lifestyle
Tends to move around a lot or makes all encompassing promises for the future, poor work ethic but exploits others effectively.

বাস্তবধর্মী কোন জীবনের লক্ষ্য থাকে না বা পরজীবী জীবন যাপন করে । ( সাইদ এর সাথে পুরাপুরি মিল)

একটানা কোন কিছু করে না। প্রচুর পরিবর্তন করে , অনেক প্রমিস দেখায়, কিন্তু কাজে কর্মে লবডঙ্কা কিন্তু অন্যদের ব্যবহার করতে সিদ্ধহস্ত।

১৫। Criminal or Entrepreneurial Versatility
Changes their image as needed to avoid prosecution. Changes life story readily.

নিজেকে বাঁচাতে বা অপরাধ ঢাকতে নিজের চেহারা , জীবনের গল্প পালটে ফেলে অহরহ।

----------------------------------------


এরপরেও যারা ভাবছেন, সাইদের মত ছেলে কি করে এই কাজ করে কোন কারণ ছাড়া ( রুমানার উপযুক্ত দোষ ছাড়া) , তারা অনুগ্রহ করে গুগুলে সাইকোপ্যাথ বা সোসিও প্যাথ লিখে সার্চ দেন। যে সব অপরাধীর ইতিহাস জানবেন তাদের প্রতিবেশীরা কোনদিন বিশ্বাস করতে পারে নাই যে তারা কত বড় অপরাধী বা খুনির প্রতিবেশী ছিলো।

সাইকো/সোসিওপ্যাথরা পাগল না । এরা হলো ঠান্ডা মাথার, মেধাবী, সেয়ানা অপরাধী এবং খুনি।

অপরাধ জগতে এই সাইকোপ্যাথ ও সোসিওপ্যাথদের ভিতরে টেড বান্ডি হলো সবচেয়ে পরিচিত, কুখ্যাত। সবাই টেড বান্ডির মত হয় না। তারা আশে পাশের পরিচিত , সাধারণত স্বামী/স্ত্রী/বাপ-মা/ ভাই বোনের উপর অত্যাচার করে করে টিকে থাকে।


দুঃখিত, এর কোন চিকিৎসা নেই।

-----------------------------
তথ্যসূত্রঃ ব্যক্তিগত পরিচয়, সামহোয়ার ইন ব্লগ, সচলায়তন ব্লগ, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা, ইন্টারনেট ওয়েব সাইট, ব্যক্তিগত পড়ালেখা, পরিচিত সাইকোলজিস্ট এবং সাইক্রিয়াটিস্ট কলিগ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29397691 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29397691 2011-06-16 19:25:38
হাসান সাঈদ- পলাতক এই নরপিশাচের খোঁজ চাই (রিপোস্ট)

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29396433 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29396433 2011-06-14 01:23:43
হাসান সাঈদ- পলাতক এই নরপিশাচের খোঁজ চাই (এডিটেড)
কতটা বর্বর এই হাসান সাঈদ? কেমন দেখতে এই মানুষ রুপী রাক্ষস?



এই নরপিশাচ নাকি এখন পলাতক। রুমানার পরিবার এখন রুমানাকে বাঁচাতে ব্যস্ত। এদিকে ওদিকে উড়ো খবর আসছে- কেউ কেউ নাকি হাসান সাঈদকে বাঁচাতে ব্যস্ত। অনেক খবর বাতাসে।

এই নরপিশাচ কি পালিয়ে যাবে?

আমরা কি তাকে পালাতে দেব?

এই সামু ব্লগে বুয়েটের ছেলেদের ছড়াছড়ি। সবার কাছেই অনুরোধ করছি, হাসান সাঈদের ছবি সহ পৈশাচিক নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে দিন দেশ থেকে বিদেশে। একটা ভালো ছবি থাকলে শেয়ার করুন। বিচারের দাবী তুলুন।

আমি চাই হাসান সাঈদ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হোক। তার "সাইডের" গল্পটা সে জেলে বসে বলুক। এই নরপিশাচের ক্ষমা নেই।

এই নরপিশাচের ছবি চাই। খোঁজ চাই। বিচার চাই। ছবিসহ নিচের যে কোন পোস্ট স্টিকি হোক।

নৃশংস নির্যাতনের শিকার ঢাবি শিক্ষক রুমানা

রুমানা ম্যাডামের জন্য দুঃখগাথা, বর্বর স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক

ঢাবি শিক্ষিকার ওপর অমানবিক নির্যাতনকারী স্বামী হাসান সাইদের দ্রুতি বিচার চাই

ফেসবুক থেকে একটা ছবি পেয়েছি । কনফার্ম হয়ে আপ্লোড করে দিলাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29396271 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29396271 2011-06-13 21:07:58
ইন্টার্ন ডাক্তাররা ১ বছর গ্রামে থাকবেন - থাকার, কাজ করার পরিবেশ আছে তো? নতুন জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি অনুযায়ী, এম বি বি এস সনদ পেতে হলে ইন্টার্ন ডাক্তারদের ১ বছর গ্রামে থাকতে হবে।

সরকার এর সদিচ্ছা সম্পর্কে কোন সন্দেহ না রেখেই বলছি- আপনারা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার প্রবাদ বাক্যটা শুনেছেন?

সনদ পাওয়ার জন্য ঘাড়ে ধরে গ্রামে পাঠানোর প্রকল্পটা শেষ পর্যন্ত ঐ অবস্থাতেই পৌঁছাবে বলে মনে করছি। এখনো নতুন স্বাস্থ্যনীতি পড়ে দেখবার সুযোগ হয়নি, ওয়েবে খুজে বেড়াচ্ছি। তারপরেও, আমাকে কেউ বলতে পারেন এম বি বি এস ছাড়া বাকি যে সব ক্যাডারের পেশাজীবী স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকেন , সেই সব প্রফেশনের ব্যাচেলর গ্রাজুয়েটদের গ্রামে থাকার বিধান কি করা হয়েছে?

অন্য কারো গ্রামে থাকার প্রয়োজন নেই? একলা এমবিবিএস একাই সব করে ফেলবেন?

ডাক্তারদের ভিতরে এমবিবিএসরা সাধারণত ব্রাহ্মণ সমাজ হিসেবে স্বীকৃত, কারণ বিডিএস বা ডেন্টিস্ট, নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট কিংবা প্যারামেডিক গ্রাজুয়েটদের পলিসি বা ইমপ্লিমেন্টেশন- কোন জায়গাতেই কোন পাত্তা দেওয়া হয় না। এরা কি? এরা কেন? এরা কোন গ্রহ থেকে আসে, কোথায় থাকে- এইটা একটা বিরাট বিস্ময় বোধক চিহ্ন!

ডাক্তার, বড় জোর নার্স - এর বাইরে সরকারী স্বাস্থ্য সেবা, কিংবা এই সেবাদানে এঁদের অবদান প্রথমোক্ত দুই ক্যাটাগরির পিছনে হারিয়েই যায়।

এদেরকে বা এদের প্রতিনিধিদেরকে আপনি কোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পলিসি মিটিং, মতামত বিনিময় সভা কিংবা কোর্স কারিকুলাম এর মিটিং এ পাবেন না । কোন সভা সেমিনারে দেখবেন না। জাতীয় পত্র পত্রিকায়, টেলিভিশনে - স্বাস্থ্য সেবার উন্নতি- বিষয়ক কোন বক্তব্য দিতে শুনবেন না। হঠাৎ মনে হবে, পৃথিবীতে একমাত্র এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে ভরে ফেললেই মনে হয় সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়ে যাবে। তার চেয়েও বড় কথা- সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত কি ভাবে করতে হবে- এইটা জানা বা বুঝার পূর্ব শর্ত হচ্ছে এমবিবিএস পাশ করা। কারণ - বাকি সবাই মূর্খ!

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ডেন্টাল কলেজ ঢাকা ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রতিষ্ঠার ৩৫-৩৭ বছর পরেও ডেন্টাল কোর্সের সিলেবাস ঠিক করে দিতেন এমবিবিএস ডাক্তার বা কর্মকর্তারা। ডিজিএইচএস এর এই অদ্ভুত খেয়াল কেন তা আজো বুঝিনি।

একই রকম ভাবে - নার্সিং, প্যারামেডিক্স , ল্যাবরেটরি কিংবা হেলথ এসিস্টেন্টদের সিলেবাসও কি এমন ভাবেই প্রবর্তিত হয়? জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে এই নন- এম বি বি এসরা কি সমান গুরুত্ব পেয়েছেন?

প্রতি একজন এম বি বি এস গ্রাজুয়েটের কাজে কর্মে সাহায্য করার জন্য প্রায় ৯ প্যারামেডিক বা প্যারা প্রফেশনাল ক্যাডারের লোক লাগে। ( এইটা ওয়ার্লড হেলথ অর্গানাইজেশনের গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে)।

বাকি নয় ধরনের লোকবল কি ইন্টার্নরা পাবেন?

একটা ডাক্তার আর একটা বিল্ডিং হলেই চলে না। সেই বিল্ডিং এ কিছু সুযোগ সুবিধা থাকা লাগে।

সেই অবকাঠামো কি ইন্টার্নরা পাবেন?

কষ্ট করে অনুন্নত জায়গায় সেবা দানের জন্য "সনদ না পাওয়ার ভয় দেখানোর" পাশাপাশি ইন্টার্নশীপের বেত্ন বাড়ানোর কথা কি একটু ভেবে দেখেছেন? শুধু খাটিয়েই নেবেন? এই ছেলে মেয়েগুলো থাকবে কোথায়, খাবে কোথায়, শোবে কোথায়, নিরাপত্তা দেবে কে --- এই সব ভেবেছেন?

সরকার স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এর কথা উঠলেই কেবল এম বি বি এস শিক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজ বাড়াবার কথা ভাবেন। কিন্তু একজন এম বি বি এস ডাক্তারের কাজে সহায়তা দিতে এবং সর্বোপরি , একজন রোগীর স্বার্বিক তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে যে আর কয়টি প্রফেশনের লোক লাগে, যেমন-

১। বিভিন্ন স্কিলের নার্স

২। বিভিন্ন স্কিলের প্যারামেডিক

৩। ভিন্ন ভিন্ন স্কিলের এসিস্টেন্ট

৪। সাপ্লাই ও ম্যানেজমেন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্কিলের কর্মকর্তা ও ম্যানেজার

৫। সকলেরই কম্পিউটার ব্যবহারের শিক্ষা থাকা উচিত , তারপরেও ইনফরমেশন সিস্টেম ম্যানেজমেন্টের লোক ইত্যাদি ।--- তাদের তৈরী করার ব্যাপারটা কি হবে?

সরকার কি সমান গুরুত্ব ও সমান মানসম্পন্ন সাপোর্টিভ হেলথ প্রফেশনালদের সৃষ্টি করার কথা স্বাস্থ্যনীতিতে রেখেছেন?

লোকবল তৈরী ছাড়াও সমস্যা হচ্ছে গ্রামে যেই জায়গায় পাঠানো হচ্ছে , সেই জায়গায় কাজ করার পরিবেশ আছে কি না।

ছোট্ট একটা বাস্তব অভিজ্ঞতাঃ
মেহেরপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখি ডেন্টিস্ট এর কক্ষে একজন কর্মচারী বসে রোগী দেখছে। ডেন্টিস্ট এর কাজ করার জন্য যে ডেন্টাল চেয়ার প্রয়োজন - তা নেই। সেখানে একটা ভাঙা চোরা পুরনো ডেন্টাল চেয়ারের মৃতদেহ পড়ে আছে। ডেন্টিস্ট নিজে শহরের বাজারে নিজের প্রাইভেট ক্লিনিকে প্রাক্টিস করতে গেছেন। ডাক্তারের কক্ষে একজন কর্মচারী কেন বসে ডাক্তারী করছেন- সে তদন্ত আর করার সুযোগ হয়নি। এখন একজন ডেন্টিস্ট এর ঠিক ঠাক মত কাজ করতে হলে চাই একটা ডেন্টাল চেয়ার, নিয়মিত অফিস করছেন কি না, সেই মনিটরিং এবং ডেন্টাল ট্রিট্মেন্ট দিতে হলে কিছু ম্যাটেরিয়ালস লাগে - সেই সব ম্যাটের‍্যালস এর নিয়মিত সাপ্লাই। পাশাপাশি, ডেন্টিস্টদের কাজে কর্মে সাহায্য করার জন্য একজন ডেন্টাল এসিস্টেন্ট। উল্লেখ্য, ডেন্টিস্ট একা কাজ করতে পারেন না। একটা ছোট খাট অপারেশন করতে হলে ( যেমন দাঁত তোলা) রোগীর মুখ থেকে রক্ত ও পানি সরিয়ে নিতে ডেন্টাল নার্স বা এসিস্টেন্ট এর সাহায্য লাগে। এই পদ গুলো কি হাসপাতালে সৃষ্টি করা হয়েছে? এই ক্যাডারের লোকবল তৈরীর কোর্স সৃষ্টি করা হয়েছে?

কিছুদিন আগে ভোলার মনপুরার স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে সমকালের একটি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে সেখানে ডাক্তাররা বেতন তুলতে আসেন, কাজ কেউই করেন না। ইঞ্জেকশন দেয় ঝাড়ুদার। ( আমার আগের পোস্টে লিংক পাবেন) ।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে পড়ুন।
পর্ব এক।
পর্ব দুই।

ভোলা - মনপুরা- সেইটা প্রত্যন্ত অঞ্চল। কিন্তু ঢাকা থেকে গাড়িতে মাত্র ৩০-৪৫ মিনিট দূরে, সাভারের কাকাবো গ্রামে যেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আছে- সেইটার আঞ্চলিক নাম "ভুতের বাড়ি" । ২০০৫ সালে ৬ মাস ওখানে ছিলাম। একদিনও ডাক্তারকে বসতে দেখিনি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী বসে ওষুধ দেয়, মাঝে মাঝে কবিরাজি চিকিৎসা করে । ইটের বিল্ডিংটাতে শুধু কয়টা সুন্দর সুন্দর ঘর আছে, আর কিছুই নেই। না টেলিফোন, না পানির ব্যবস্থা।

এই রকম হলে চিকিৎসা দেওয়া বা নেওয়া সম্ভব?

সরকারের কাছে অনুরোধ , ইন্টার্নরা এমনিতেই অন্য অনেক বড় বড় ডাক্তারের চেয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে বেশি উৎসাহী থাকে। পাশ করা ডাক্তাররা পোস্ট গ্রাজুয়েশনের জন্য ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি করে - সেই ভয় ইন্টার্নদের নিয়ে নেই।

গ্রামে প্লেসমেন্ট এর এক বছরে প্রতিটা রোগীর তথ্য এবং চিকিৎসার ফলাফল জমা দেওয়ার নিয়ম করলে আশা করি ভুল চিকিৎসাও কেউ দিতে চাইবেন না।


কিন্তু ইন্টার্নরা শিক্ষানবীস বলেই তাদের সব সময় একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে এবং তত্ত্বাবধানে কাজ করা উচিত।

এই নিয়মিত পরামর্শের কাজটা তারা কি ভাবে করবেন? কেস নিয়ে কার সাথে, কি ভাবে আলোচনা করবেন?

সরকার টেলি -মেডিসিন বা ই-হেলথ এর উপরে খুব জোর দিচ্ছেন। এই কার্যক্রম সফল করতে হলে যা প্রয়োজন-

১। ইউনিয়ন সেন্টার গুলোতে বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করুন ( লাইন দিয়ে বা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে) ।

২। ডাক্তাররা যাতে ল্যাপ্টপের মাধ্যমে তাঁর সুপারভাইজরের সাথে কেস নিয়ে আলাপ করতে পারে- সেই ব্যবস্থা করুন।

৩। ওষুধ , যন্ত্রপাতি ইত্যাদি সরবরাহের লজিস্টিক ও ম্যানেজমেন্টকে শক্তিশালী করুন।

৪। রোগীর ডাটা রিপোর্টের সুবিধার জন্য এম আইস এস বা ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের ব্যবস্থা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র / ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করুন। যাতে একটা সাধারণ ল্যাপটপ বা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমকে সহজেই ডাটা বেজে রোগীর রোগ ও ট্রিট্মেন্টের তথ্য রেকর্ড/ এন্ট্রি করা যায়।

৫। রোগীর প্রেস্ক্রিপশন প্রিন্ট আউটের মাধ্যমে দেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিন। রোগ, রোগী, ওষুধ বিতরণের হিসাব দিনেরটা দিনেই পেয়ে যাবেন তাহলে । আলাদা করে রিসার্চ করা লাগবে না।

৬। অনেক ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে ডাক্তার-নার্স- প্যারামেডিকদের থাকার খুব অসুবিধা। যদি সম্ভব হয় , স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলাতে

ক) পানি,

খ) বিদ্যুৎ,

গ) টেলিফোন

ঘ) ইন্টারনেট ( লাইন বা ফোন মডেম যেইভাবে দ্রুত হয়), এবং,

ঙ) রাতে ঘুমানোর কক্ষের ব্যবস্থা করে দিন । ছেলেদের রুম, মেয়েদের রুম আলাদা করে - একটা বেডের উপরে আরেকটা বেড (দুইতলা বেড) দিয়ে ব্যবস্থা করলে খুব বেশি রুম / জায়গা লাগবে না। এতে করে, ডাক্তার- নার্স -প্যারামেডিকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই থাকবেন। ২৪ ঘন্টা অন কলে থাকতে পারবেন। ইমার্জেন্সি রোগীকে সাথে সাথে চিকিৎসা দেওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সকলকে একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করি। পাঠকের কাছে আরো পরামর্শের অনুরোধ রইলো । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29389239 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29389239 2011-05-31 21:29:16
দেশের সব খেটে খাওয়া মানুষেরাই কি দালাল? বাংলাদেশের শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে প্রায়ই খবর আসে। দেশের ভিতরে যার মাধ্যমে টাকা দিয়ে ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে পৌঁছায়, রিক্রুটিং এজেন্সি, বাংলাদেশের দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কোম্পানিসহ প্রশাসন - কারো কাছেই এই গরীব মানুষ গুলো কোন সাহায্য পায় না। বরং পদে পদে হয়রানির শেষ নাই। বছর শেষে গাল ভরা " রেমিটেন্স" স্ট্যাটিস্টিক্স ছাড়া এই রক্ত মাংসের মানুষ গুলো বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের "আধুনিক দাস" , শোষিত , অবহেলিত।

উল্লেখিত খবরেও এর ব্যাতিক্রমী কোন নতুন তথ্য নেই। তবে তথ্য আছে কিছু "দালালের সম্পর্কে" । এরা হোল মধ্যস্বত্তভোগী । সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে -ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সির হয়ে এরা - বিদেশে যেতে ইচ্ছুক - শ্রমিক সংগ্রহ করে।

উল্লেখিত খবরে পাওয়া কিছু তথ্যঃ

১। ঢাকার বাইরে কারও অফিস নেই: বায়রার তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন এক হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। কিন্তু এদের সবার অফিসই ঢাকায়। সরকারিভাবে ঢাকার বাইরে তাদের অফিস নেওয়ার জন্য বলা হলেও কেউ-ই ঢাকার বাইরে অফিস নেয়নি।

এর কারণ সুনির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়নি। একজন মন্তব্যকারী আকরাম তানিম বলেছেন,
সরকারিভাবে ঢাকার বাইরে তাদের অফিস নেওয়ার জন্য বলা হলেও কেউ-ই ঢাকার বাইরে অফিস নেয়নি। " কিভাবে নেবে ? আমার জানা অভিগ্ণতা থেকে বলছি, এলাকার মাস্তানরা চাঁদা চাইবে, অফিস ভাংচুর করবে, প্রশাসনও ঝামেলা করবে। কি দরকার ?

তারমানে, ঢাকার বাইরে ব্যবসা করার মত যথেষ্ট নিরাপত্তা সরকার দিতে পারছে না। আবার কারণটা এইটাও হতে পারে- ঢাকায় বসেই যদি ব্যবসা করা যায়, ঢাকার বাইরে তারা যাবে কেন? অর্থাৎ এইখানেও সরকারের নিয়ন্ত্রনের অভাব। মনিটরিং এর অভাব।

২। দালালদের সহায়তায় বিদেশে যেতে পারলেও সরকার-নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়। মালয়েশিয়া যেতে সরকারি খরচ ৮৪ হাজার টাকা, অথচ দিতে হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

এইখানেও সরকারের মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রনের অভাব।

৩। অথচ গ্রামগঞ্জ ও শহরে ছড়িয়ে আছে ৫০ হাজার থেকে লাখ খানেক দালাল। ----লক্ষ্য করুণ, এই এজেন্টদের সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই। এইখানেও সরকারের তথ্য সংগ্রহ , সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রনের অভাব।


৪। ‘বিদেশগামী এবং রিক্রুটিং এজেন্সি দুই পক্ষই এখন দালালদের ওপর নির্ভরশীল। একজন কর্মী বিদেশে যেতে চাইলে কোথায় যাবেন, কী করবেন—সে ব্যাপারে যথেষ্ট সরকারি তথ্য নেই। এই সুযোগ নেয় দালালেরা। আবার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর তৃণমূলে কোনো কার্যক্রম নেই। তাদের সবার অফিস ঢাকায়। ফলে তাদেরও বিদেশে পাঠানোর জন্য লোক আনতে এই দালালদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এভাবেই দালালপ্রথা টিকে আছে বছরের পর বছর। --- এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই কি দুর্নীতির কারণ নাকি এই চক্র এর উপর কোন নিয়ন্ত্রন না থাকাটা আসল সমস্যা?

৫। প্রমাণ ছাড়াই অর্থ লেনদেনের ফলে প্রতারণা, নিঃস্ব হয়ে যাওয়া, বিদেশ যাওয়ার খরচ বেড়েই চলেছে।

৬। বিদেশে আদম রপ্তানির সাথে জড়িতরা সকলেই রাজনৈতিক দলের নেতা, মন্ত্রীর আত্মীয়। অনেক নেতা নিজেরাই ব্যবসার সাথে জড়িত। ফলে শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা হয় - এমন কোন আইন হয় না। হলেও তার প্রয়োগ হয় না।

গরীব মানুষ গুলোই কি সমস্যা?

কথায় কথায় আমরা দালাল আখ্যা দিয়ে যে কোন প্রক্রিয়াকে দালালমুক্ত করার কথা হুট করে বলে ফেলি। অথচ সারা খবরে এমন কোন তথ্য নেই যে এই দালালেরা কোটিপতি। বরং আদম ব্যবসায়ী , লাইসেন্সপ্রাপ্ত, নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সী গুলোর অনেক মালিকই বরং চরম ধনী।

একবারও কি ভেবে দেখছি যে এই লোক গুলোর অন্য কর্ম সংস্থান নেই? এই দালালির ইনকাম বন্ধ করে দেওয়ার পরে এরা কি করবে? চুরি? ডাকাতি? হত্যা? আমাদেরকে আরেকটু গভীর ভাবে চিন্তা ভাবনা করে তারপর পরামর্শ দেওয়া উচিত। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, প্রতারণা যেমন বন্ধ করতে হবে, সেই রকম ভাবে - শ্রমিকের স্বার্থ, রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থ, এই এক লাখ মানুষের উপার্জনের স্বার্থও দেখতে হবে। দেশে কোন কর্ম সংস্থান নেই। হুট করে দালাল বলে গালি দিচ্ছি, আমরা এই মানুষ গুলা বা তাদের পরিবারকে খাওয়ানো পরানোর দায় দায়িত্ব নেব? কিন্তু সরকারের তো এই দায়িত্ব ভুলে গেলে চলে না, তাই না?

কারো উপার্জনের পথ বন্ধ করে না দিয়ে বরং প্রতারণা আর নিয়ন্ত্রনহীনতাকে বরং দূর করা উচিত। সরকারের কাজ মানুষের রোজগারের পথ বন্ধ করে দেওয়া নয়, রোজগারের পথ নিয়ন্ত্রন করা - যাতে একজনের রোজগার অন্য কারো ক্ষতি না করে।

কারো রুটি রুজির পথ বন্ধ না করে বরং নিম্ন লিখিত ব্যবস্থা গুলো নিন। সরকার বা রিক্রুটিং এজেন্সি - কেউই যখন গ্রামে গঞ্জে এমপ্লয়মেন্ট অফিস খুলছেন না (আপাতত) পুরো প্রক্রিয়াটাকে নিয়ন্ত্রন করুন। যারা অলরেডি এই ফিল্ডে কাজ করছে, তাদেরকে সঠিক ভাবে আইন ও লাইসেন্সের আওতায় আনুন।

১। যারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে লোক সংগ্রহ করে, তাদেরকে লাইসেন্স দিন, তাদের নাম-ধাম-ঠিকানা- সম্পূর্ণ পরিচয় লিপিবদ্ধ করে কাগজে , পেপারে, অনলাইন ওয়েব সাইটে ( সরকারী ওয়েবসাইট ও অনলাইন পত্রিকা) পাবলিশ করে দিন।

ক) কারা এই ধরনের কাজ করতে পারবেন তার একটা বর্ননা ও লাইসেন্স পাওয়া পদ্ধতি ঠিক করে দিন।
খ) শ্রমিকদের সন্তুষ্টির উপরে নম্বর/রেটিং দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। যার ইউজার রেটিং যত ভালো হবে, তার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করুন। এই রেটিং নির্ভর করবে, ঐ জবে যাওয়ার পরে শ্রমিক ভাই বোনেরা কতটা ভালো আছেন তার উপরে ( কাজ, বেতন, সুবিধা শর্তমত পেয়েছে কিনা)
পুরস্কার দেওয়া উচিত কারণ এই মানুষ গুলো কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করছে। সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে এতে দেশের আয় হয়।

২। দালাল ও শ্রমিক, উভয় পক্ষের জন্য ব্যাংক একাউন্ট খুলে দিন । সমস্ত টাকা পয়সার লেন দেন ব্যাংকের মাধ্যমে করার ব্যবস্থা করুন। ব্যাংক ব্যবহারের জন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করুন। বিদেশ থেকে কি ভাবে টাকা পাঠাবেন, কি ভাবে দেশে যোগাযোগ করবেন ইত্যাদির ট্রেনিং দিন। এই ট্রেনিং এর ব্যবস্থা রিক্রুটিং এজেন্সিই করতে পারে। সরকার শুধু আইন তৈরী ও মনিটরিং করবে।

৩। প্রতিটা এজেন্ট কাকে কাকে, কোন রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে নিয়ে যাচ্ছে - তার রেকর্ড রাখার ( কাগজ ও অনলাইনে) ব্যবস্থা করুন।

৪। প্রতিটা শ্রমিক যখন বিদেশে যায় - তখন সেই শ্রমিকের পরিচয়ের পূর্ণ বিবরণ, যেমন --
ক) নাম
খ) ঠিকানা
গ) ছবি
ঘ) ব্যাংক একাউন্ট এর তথ্য
ঞ) তার পরিবারের তথ্য-পরিচয়, যোগাযোগের ঠিকানা, টেলিফোন, ছবি
চ) যার মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে গেছে তার তথ্য- পরিচয়, যোগাযোগের ঠিকানা, টেলিফোন, ছবি, লাইসেন্স নম্বর
ছ) রিক্রুটিং এজেন্সির তথ্য-নাম, অফিসের ঠিকানা, টেলিফোন, লাইসেন্স নম্বর
জ) যেই কোম্পানিতে কাজ করতে যাচ্ছে সেই কোম্পানির পরিচয়- নাম, অফিসের ঠিকানা, টেলিফোন, লাইসেন্স নম্বর
ঝ) যে কাজ করতে যাচ্ছে তার বর্ননা-পদ, দায়িত্বের বিবরণ, বেতন, শর্তসমূহ

--- উপরের সমস্ত তথ্যে এক কপি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়সমূহ, এক কপি রিক্রুটিং এজেন্সি ও এক কপি সেই দেশের দূতাবাসে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

এই তথ্যগুলো যাচাই ও সম্পন্নের জন্য এয়ারপোর্টে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অফিস, কম্পিউটারের শিক্ষায় শিক্ষিত কর্মী রাখার ব্যবস্থা করুন। -- দেশের অন্য কোথাও যদি কেউ মিস হয়েও যায় - অন্তত এয়ারপোর্টে , প্লেনে উঠার আগে তাকে ধরার এবং সাহায্য করার ব্যবস্থা করুন।

৫। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ভিসা দেওয়া হবে না।

৬। শ্রমিকদের ডিজিটাল পরিচয় পত্র দিন যেখানে ৪ নম্বরের সমস্ত তথ্য ঐ ডিজিটাল কার্ডের চিপে সংরক্ষিত থাকবে। যে কোন প্রশাসন কার্ড রিডারের মাধ্যমে এই তথ্য যে কোন সময় এক্সেস করতে পারবেন। এয়ারপোর্টে এই কার্ড দেখিয়ে , তথ্য যাচাই করে প্লেনে উঠার অনুমতি দেওয়া হবে, নইলে নয়।

আজকের টেকনলজির যুগে নিয়ম করে এই সামান্য কাজ টুকু করা কোন ব্যাপারই না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29388030 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29388030 2011-05-29 17:33:57
"হেলথ ফর অল (health for all)" এর জায়গায় "সমান উন্নয়ন সবার জন্য (Equal development for all)" কবে দেখবো? পর্ব -... স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এই রকম হযবরল অবস্থা ও ভেঙে পড়ার কারণ কি?

আসুন এক এক করে কমন কিছু সমস্যাকে আলোচনা করে দেখি আসলেই সমস্যা যা মনে হয় তাই নাকি অন্য কোথাও। আমাদেরকে প্রথমেই মনে রাখতে হবে, দেশের ভিতরে যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমেই দরকার হবে সেই সমস্যার আদ্যপান্ত বিশ্লেষণ করে তার সমাধানে একটি রুপরেখা । রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাই যে কোন চাহিদাপূরণে বা সমস্যার সমাধানে দেশব্যপী বাস্তবায়নের একটি পলিসি পেপার থাকে। সেই পলিসি পেপারে সমস্যার উল্লেখ, চরিত্র ও সমাধানে করনীয় মূল দর্শন উল্লেখিত থাকে। এজন্য, প্রতিটা সমস্যার সমাধানে আমরা আগে দেখবো সেই সমস্যার ব্যাপারে আমাদের স্বাস্থ্যনীতি না পলিসি পেপারে কি বলা আছে, তারপর এর বাস্তবায়নে কি কি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, এবং তারপর বাস্তবতার নিরিখে এর সমাধান/ প্রস্তাবিত সমাধান।

আমাদের জনবল এর অভাবঃ

সন্দেহ নেই যে আমাদের জনবলের অভাব আছে । সেইটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবী জুড়েই আছে । ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন এর এই ওয়েব সাইটে গেলে এ বিষয়ে নানা তথ্য পাবেন।

বিশ্বব্যপী স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা মাপার জন্য জনপ্রতি ডাক্তারের সংখ্যা হিসাব করা হয়। পরিমাপ হিসেবে এর কার্যকারিতা খুব একটা ভালো নয়। কারণ একজন ডাক্তার ঠিক কয়জন নাগরিকের স্বাস্থ্যের দেখভাল করতে পারবেন তা নির্ভর করে সেই ডাক্তার, প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো , টেকনোলজির পাশাপাশি লোকালয়ের মানুষ কে কয়জন কি ধরণের অসুখে ভুগেন তার উপর।

সুতরাং, আমেরিকা কিংবা ইউরোপে বসে একজন ডাক্তার হয়ত ৩০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যের দেখা শোনা করতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া কিংবা বেনিনে তা সম্ভব নয়। সুতরাং, জনবলের সংখ্যা তাত্ত্বিক হিসেব করে ডাক্তারের সংখ্যা বাড়ালেই সেবার মান বৃদ্ধি হবে না।

আমাদের যন্ত্রপাতির অভাবঃ

হেলথ টেকনোলজি বলতে আমরা অনেকেই যন্ত্রপাতি , সুঁচ সিরিঞ্জ বুঝি। আসলে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে হেলথ টেকনোলজি বলতে বুঝায় ঃ

১। সব ধরণের ফার্মাসিউটিক্যালস । এর ভিতর ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাক্সিন, টিকা, হোমিওপ্যাথি সব রকম কেমিকেলই পড়বে।
২। স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহৃত সকল প্রকার যন্ত্রপাতি বা ডিভাইস । সেইটা সুতাও হইতে পারে, সিটি স্ক্যানারও হতে পারে, আবার মোবাইল টেলিফোন সহ যে কোন মোবাইল ডিভাইস যা রোগ প্রতিরোধ, রোগের নির্ণয় বা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে ।
৩। যে কোন ধরনের মাইনর ও মেজর সার্জিকাল প্রসিডিউর । মানে কাটাছেঁড়ার পদ্ধতি । ট্রিট্মেন্ট প্রটোকল ( যেমন - ক্যান্সার চিকিৎসার গাইড লাইন) এবং ক্লিনিকাল গাইড লাইন।
4. এমন কি স্বাস্থ্য সেবা কি ভাবে সাজানো গুছানো থাকবে এইটাও টেকনোলজির অন্তরভূক্ত । যেমন বাংলাদেশের অবকাঠামো হইলো কমিউনিটি ক্লিনিক (৬০০০ মানুষ) --> ইউনিয়ন কেন্দ্র (২৫-৩০ হাজার মানুষ) --> উপজেলা কেন্দ্র---> জেলা কেন্দ্র---> বিভাগীয় কেন্দ্র--> জাতীয় পর্যায়ের কেন্দ্র ।
আবার প্রাইভেট -পাবলিক পার্টনারশীপ কিভাবে কাজ করবে- এই রুপরেখাও হেলথ টেকনোলজি।

এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে এইখানে ক্লিক করুন ঃ
health technology include the following. • Drugs: e.g., aspirin, beta-blockers, antibiotics, HMG-CoA reductase inhibitors (“statins”) • Biologics: vaccines, blood products, cellular and gene therapies • Devices, equipment and supplies: e.g., cardiac pacemakers, CT scanners, surgical gloves,diagnostic test kits • Medical and surgical procedures: e.g., psychotherapy, nutrition counseling, coronary angiography, gall bladder removal • Support systems: e.g., electronic patient record systems, tele-medicine systems, drug formularies,blood banks, clinical laboratories • Organizational and managerial systems: e.g., prospective payment using diagnosis-related groups, alternative health care delivery configurations, clinical pathways, total quality management programs

এখন কথা হলো,

ক) এই টেকনোলজি গুলোর কয়টা আমাদের দেশে কোনখানে কয় পিস করে লাগবে, বেশি আছে না কম, কয়টা রোগীর জন্য কয়টা টেকনোলজি আসলেই দরকার -সেই সব ডাটা সংগ্রহ করা হয় কি?
-না হয় না। এই ধরনের ডাটা কালেকশন , এনালাইসিস এবং প্রাপ্ত রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে যদি ডিসিশন নেওয়া হত তাহলে আমাদের অলরেডি অপ্রতুল রিসোর্স ( সেইটা জনবল, টেকনলজি বা অর্থ- সবই হতে পারে) কে এলোকেশন বা ভাগাভাগি করার সিদ্ধান্ত গুলো আরেকটু সঠিক হত। সম্পদের অপচয় হত না।

খ) বাংলাদেশ এখন যেই সব টেকনলজি ব্যবহার করে তাদের ভিতরে কোনটা কতটুকু নিরাপদ, কতটুকু ইফেক্টিভ ( যা করার কথা তা করে কি না) কতটুকু কস্ট ইফেক্টিভ ( সর্বনিম্ন দামে সর্বোচ্চ উপকার দেয় কিনা বা মূল্যের বিপরীতে পাওয়া উপকারের পরিমাণ) তা স্টাডি করা হয় কি না?
--- না হয় না । আমরা অন্ধের মত উন্নত বিশ্বের দেওয়া প্রেস্ক্রিপশন অনুকরণ করি। যদিও তাদের প্রেক্ষাপটে যা অমৃত , আমাদের প্রেক্ষাপটে তা বিষ হতে পারে। আবার, দামী দামী অনেক যন্ত্রপাতি কিনে এনে চালাতে পারি না, ফেলে রাখি। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা অনেক যন্ত্র অনুদান দেয়, যা অনেক সময় আউট ডেটেড বা সমস্যাযুক্ত।
প্রচুর প্রযুক্তি দাতা দেশের কোন কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করে । যেমন ভিটামিন যুক্ত ফর্টিফায়েড বিস্কিট কিংবা প্লাম্পি নাট । মানুষের খাবার উৎপাদন কিংবা ক্রয় ক্ষমতা অর্জনে উপার্জনের ব্যবস্থা না করে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করে এই নাট কেন খেতে হবে ? আবার, সবার জন্য নিরাপদ পানির সরবরাহে দেশীয় বিনিয়োগে পানি শোধনাগার স্থাপন না করে কেন কলেরা ভ্যাক্সিন উৎপাদন করতে হবে - এই গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালা কর্মকান্ড গুলার কারণ হইলো সঠিক এভিডেন্স বেজড ডিসিশন মেকিং প্রসেসের অভাব।

গ) টেকনোলজি গুলোর দাম কি আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত?
--- এক ওষুধ ছাড়া আর কিছুই আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত দাম নিয়ে আসে না। ওষুধ দেশীয় কোম্পানি গুলো তৈরী করে বলে তাও কিছুটা গা সোয়া। আগের ওষুধ নীতি অনুযায়ী উৎপাদন মূল্যের উপরে মাত্র ২০% লাভে ওষুধের দাম নির্ধারিত হত । পরে ওষুধ কোম্পানি গুলোর লবিং এর কারণে পলিসিতে পরিবর্তন করা হয়, এখন কোম্পানি গুলো ইচ্ছামত দাম নির্ধারণ করতে পারে। বিদেশে নতুন ওষুধ গবেষণায় বিলিওন বিলিওন টাকা ইনভেস্ট করে বলে কোম্পানি গুলোকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে যাতে গবেষণায় উৎসাহ পায়। কিন্তু বাংলাদেশের কোন কোম্পানিরই রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এ কোন বিনিয়োগ নেই। এরা সকলেই জেনেরিক ড্রাগ বা অন্যের আবিষ্কার করা ফর্মূলায় নিজেদের ওষুধ উৎপাদন করে। সুতরাং, এই ইচ্ছেমত দাম নির্ধারণের সুবিধা পাওয়াটা এক রকম সাংবিধানিক অধিকার লংঘন করে নাগরিকের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।

ঘ) টেকনোজির দাম সহনীয় রাখতে দেশে উৎপাদন সম্ভব?
--- অবশ্যই সম্ভব। এমন অনেক টেকনোলজি আছে যেইটা দেশেই উৎপাদন করা যায়, আমদানি করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু উদ্যোগ। কিন্তু হায় হতিস্মি! দেশে একটা কম্পিউটার উৎপাদনের কোম্পানি নেই, কিন্তু বুয়েটসহ সকল টেকনিকাল ভার্সিটিতে সবাই হাক ডাক দিয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ায়। অথচ একটা ভার্সিটিও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে না। আমাদের ছেলে মেয়েরা নাসার জন্য রোবট বানাইতে খুবই উৎসাহী কিন্তু দেশের ১৬ কোটি মানুষের ব্যবহারে লাগবে এমন হেলথ টেকনোলজির কোটি কোটি টাকার মার্কেট পড়ে আছে অবহেলিত।

ডাক্তারদের গালি দেওয়ার লোকের অভাব নাই। কিন্তু এই ক্ষেত্রে বলা যায়, ডাক্তাররা যদি এক একটা কসাই হয়, তাহলে দেশের হেলথ টেকনলোজির অবহেলিত মার্কেটের জন্য ইঞ্জিনিয়াররাও এক একটা কসাই। চাঁদের দেশে মাটি কেমনে তোলা যাবে- এইটা নিয়ে চিন্তা করতে ভালো লাগে , কিন্তু নিজের দেশের মাটির প্রতি কোন দায় দায়িত্ববোধ এদের নাই। কেন বলছি? বুয়েট আর ঢাকা মেডিকেল পাশাপাশি। যতদিন ঢাকা মেডিকেলে ছিলাম, বহুবার বুয়েটের বন্ধুরা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে, বেড়াতে, সিঙ্গারা খেতে, প্রেম করতে এসেছেন- কিন্তু আজ পর্যন্ত দেখিনি বা শুনিনি কেউ এসে বলেছেন - মেডিকেলের এই সমস্যাটার সমাধান এই ডিজাইন দিয়ে করা যায়- কিংবা, ঐ সমস্যাটার একটা টেকনোলজিকাল সমাধান সম্ভব! এই অভিযোগ আমার নিজের বন্ধুদের বিরুদ্ধেও। কষ্ট লাগে যখন ভাবি, বুয়েটের বন্ধুরা প্রয়োজন হলে মেডিকেলে এসে বন্ধুর জন্য রক্ত দিয়ে গেছে - অথচ তাদের মাথায় একবারো আসে নাই যে তার শিক্ষা ও জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষেত্রটাও তো হতে পারে ঢাকা মেডিকেল! আমি ডাক্তার হয়ে যখন নিজে হেলথ টেকনোলজি নিয়ে শিক্ষা লাভ করলাম, তখন জানলাম , আমার ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুদেরও অনেক কিছু করার ছিলো , আছে- কিন্তু তারা এসব নিয়ে ভাবেই না! টিকেটিং সিস্টেম, পেশেন্ট রেকর্ড, পেশেন্ট ডাটাবেজ, মনিটরিং সিস্টেম, ড্রাগ ডিস্পেন্সারী ও কন্ট্রোল, ডিউটি রোস্টার, কমিউনিকেশন, লজিস্টিক্স , ম্যানেজমেন্ট --- কত কিছুই না ইঞ্জিনিয়ারদের উপর নির্ভরশীল, টেকনোলজিস্টদের উপরে নির্ভরশীল- কত্ত কিছু করার আছে!

আমাদের অর্থের অভাবঃ

এইটা একটা আরোপিত জুজুর ভয় জনিত সমস্যা । সন্দেহ নাই যে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের হার্টের একটা করে পেস মেকার, একবার করে এম আর আই / সিটি স্ক্যান কিংবা ৩০টা করে সিপ্রোফ্লক্সাসিন দেওয়া মত টাকা আমাদের নাই। কিন্তু এইটা মোটেই সত্যি কথা না যে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অর্থ দিয়ে চিকিৎসা সেবা কেনার সামর্থ নাই। আগেও বলেছি , হাসপাতালে আসতে যাতায়াতে, আসার পরে বিভিন্ন টেস্ট আর ওষুধের পিছনে মানুষের শত শত টাকা খরচ হয়। কিন্তু টাকার কোন হিসাব নিকাশ নাই। এইটা কতিপয় কর্মকর্তা কিংবা দোকানীর পকেটে না ঢুকে সিস্টমেটিকালি সরকারী রেভেনিউ খাতে ঢুকলে হাসপাতাল গুলো অন্তত এখনকার চেয়ে বেশি ভালো ভাবে পরিচালিত হতে পারত ।

দেখুন, আমাদের দেশের মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব । এর জন্য যদি প্রতিনিয়ত দাতার কাছে ভিক্ষা চাইতে হয়, সে তো কুকুর লেলিয়ে দেবেই। তখন সেই কুকুরকে ডগ বিস্কিট খাওয়াতে আমাদের ঋণের অর্থ শেষ হয়ে যাবে। ঠিক এই কারণেই কষ্ট করে হলেও আমাদের উচিত স্বাস্থ্যখাত পরিচালনার পয়সাটা সঠিক জায়গায় দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এখন, সেই দেওয়াটা কি ভাবে হবে ট্যাক্স নাকি হেলথ ইন্সুরেন্স - এইটা আলোচনার দরকার আছে । অনেকেই মনে করেন, এখনকার পরিস্থিতিতে আমার যখন দরকার হচ্ছে আমি শুধু তখনই , নিজের জন্য টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিচ্ছি । আর দরকার না হলে খরচ করছি না। এতে খুউউউউব লাভ হচ্ছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো , ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে আপনাকে যখন চিকিৎসা নিতে হচ্ছে- সেইটা জীবনে একবার হলেও - আপনি এক সাথে এত বেশি টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন যে ঐ একবারেই আপনাকে পথে বসে যেতে হতে পারে।

অল্টারনেটিভ কি?

কয়েক ধাপে বিভক্ত স্বাস্থ্য সেবা । এর খরচ যোগাড় করা হবে বিভিন্ন ট্যাক্স ও হেলথ ইন্সুরেন্সসহ অনুদানের মাধ্যমে। সেবা পাবেন সকল নাগরিক। সেবা পাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক থাকবে কিন্তু সেবা নেওয়ার/ না নেওয়ার ফ্রিডম থাকবে। মূলত, সকল উপার্জনক্ষম নাগরিক একটা বেসিক হেলথ স্কীম দিয়ে সুরক্ষিত থাকবেন। কেউই বাদ পড়বেন না। বেসিকের নিচের মানুষ গতর খেটে এবং বেসিকের উপরের ধনী ব্যক্তিরা অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে হাইয়ার স্কীমের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। আধুনিক কোন সেবার জন্য যেন বাংলাদেশের বাইরে যেতে না হয়, সেইটা সরকার নিশ্চিত করবে ডাক্তারদের ট্রেনিং ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবল দিয়ে।

বেসিক স্কীম ঃ

স্বাস্থ্য সেবা খাতের উন্ন্যনের জন্য কেবল মাত্র স্বাস্থ্য ট্যাক্স নেওয়া যায়- যা সকল নাগরিকের উপর বাধ্যতামূলক। এইটা বাধ্যতামূলক বেসিক হেলথ ইন্সুরেন্সও বলতে পারেন। বাংলাদেশের সকল উপার্জনক্ষম নাগরিক একটা ন্যুনতম অর্থ প্রতিমাসে দেবেন। এর বিপরীতে বেসিক চিকিৎসা সেবা স্কীম এর আন্ডারে কিছু নির্দিষ্ট সেবা এবং এসেন্সিয়াল মেডিসিন লিস্টের যে কোন ওষুধ নিতে পারবেন।
- কস্ট ইফেক্টিভনেস স্টাডি এর মাধ্যমে
- বাংলাদেশের জনগণের উপরে পরিচালিত রিসার্চ দ্বারা প্রাপ্ত
- রিয়েল এভিডেন্স এর উপর নির্ভর করে
-- একটা জাতীয় সাইন্টিফিক কাউন্সিল সরকারকে পরামর্শ দেবে
- এই বেসিক স্কীমে কোন কোন সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে

সরকারী সহ সকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যারা বেসিক সেবা দিতে চায় , তাদেরকে লাইসেন্স ভূক্ত হতে হবে। এই বেসিক স্কীম পাওয়ার অধিকার সকলের।

বেসিকের নীচে পুওর স্কীমঃ

যাদের দেওয়ার সামর্থ নেই, তারা সরকারের স্পেশাল স্কীমের আন্ডারে থাকতে পারেন। যেমন - কাজের বিনিময়ে খাদ্যের মত কাজের বিনিময়ে চিকিৎসা। সুস্থ অবস্থায় স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন কাজ করে দিয়ে আপনি বিভিন্ন ধরণের ভাউচার উপার্জন করতে পারবেন । অসুস্থ হলে ঐ ভাউচার দেখিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন। যারা সিজনাল ওয়ার্কার - অর্থাৎ নিয়মিত আয় করতে পারেন না কিন্তু মাঝে মাঝে উপার্জন করেন - তাদের জন্য এই ধরনের ভাউচার কাজে লাগবে।
এক একটি সেবার জন্য এক একটি ভাউচার থাকতে পারে। যেমন- মাতৃসেবা পাওয়ার জন্য ভাউচার। মেডিসিন ভাউচার ইত্যাদি। রোগী নিজেই নিজের প্রয়োজন মত তার জন্য দরকারী ভাউচার নিতে পারবে। এতে করে প্রচুর পার্ট টাইম কাজের সুযোগ হবে।

যথাযত পলিসির অভাবঃ

আমাদের মূল স্বাস্থ্যনীতি যথেষ্ট ভালো একটা পলিসি পেপার। প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য কমুইনিটি ক্লিনিক এবং ধাপে ধাপে কমিউনিটি থেকে ইউনিয়ন--> উপজেলা--> জেলা--> বিভাগ--> জাতীয় পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থাটা আসলেই খুব ভালো । সুচিন্তিত এবং সিস্টেমেটিক। তাইলে সমস্যাটা কোথায় ? সামগ্রিক ভাবে চিকিৎসা সেবা বা স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে হইলে কিছু পূর্ব শর্ত পালিত হইতে হবে। যেমন-

১। সেবাদানকারীর নিজের জ্ঞান
২। সেবাদানকারীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য লোকবল
৩। সহায়তাকারী টেকনোলজি
৪। রোগ নির্ণইয়ের ব্যবস্থা
৫। রোগ নির্নয়ের পরে চিকিৎসা প্রদানের সরঞ্জাম, অবকাঠামো , ওষুধ পাতি ইত্যাদি ।

প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্যতৈরী করা কমিউনিটি ক্লিনিক/ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স/ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মানুষকে সেবা দেবে সেখানে কারা থাকবে?

একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের জন্য সরকার স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও এবং স্বাস্থ্য সহকারীর ব্যবস্থা হেলথ কেয়ার নেটোয়ার্কে রেখেছেন। আবার ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন এম বি বি এস ডাক্তার এর পোস্ট তৈরী করা হয়েছে। উপজেলা, জেলা পর্যায়ে প্রচুর পোস্ট আছে কিন্তু এদের অনেক গুলোই খালি ।

চাকুরীর এই সোনার হরিণের বাজারেও কেন পোস্ট খালি পড়ে থাকে?

এর বিবিধ কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে আমাদের রাজধানী কেন্দ্রিক উন্নয়ন। আমার জন্মের পর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত গত ৩ যুগে ঢাকা পরিবর্তিত হয়েছে দ্রুত । বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের এক মাত্র খোলা জানালা হলো ঢাকা । মানুষের জীবনের মৌল চাহিদার নিরিখে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, বাসস্থানের জন্য পানি, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট , স্যানিটেশন , স্বাস্থ্য সেবার উন্নত প্রতিষ্ঠান, দেশের বড় বড় ফ্যাশন হাউজ, বিনোদন এর মাধ্যম - সবই ঢাকায় । যখন মেডিকেলে ভর্তি হই, রাজশাহী যেতে হয়েছিলো--- আমার মনে হচ্ছিলো পুরো রাজশাহী শহর ঢাকার যে কোন বড় পাড়া/মহল্লার ভিতরে অনায়াসে ঢুকে যাবে। সেখানে রাস্তার এক পাশে পাকা বাড়ি তো অন্য পাশে কাঁচা ঘর, উঠান, গরু চরে বেড়াচ্ছে । একই অভিজ্ঞতা ময়মনসিংহকে নিয়ে। ৪০ বছর পরে দিনাজপুরের সাদীপুরে বেড়াতে গিয়ে আমার মায়ের মন্তব্য " কিছুই বদলায়নি- যা ছিলো সবই আগের মত" । ভাবখানা এই রকম - ঢাকাই বাংলাদেশ । ঢাকা খাবে, ঘুমাবে, হাগু করবে - আর ঢাকার বাইরে পুরো দেশটা রয়েছেই শুধু ঢাকাকে খাদ্য, বস্ত্র, বিলাস ব্যাসনের উপকরণের যোগান দিতে।

সৌদি আরব যেমন তেলের টাকায় সারা বিশ্ব থেকে আগত সম্পদ ভোগ করে আর সেদেশে যাওয়া শ্রমিকদের "মিসকিন মিসকিন" বলে গালি দেয় - সত্যিকার অর্থে আমরা ঢাকাবাসীদের আচরণে খুব একটা পার্থক্য নেই। ঢাকার বাইরের মানুষেরা , বিশেষ করে চাষী-কামার- কুমোর- মুচি- শ্রমিকরা আমাদের কাছে মিসকিন। তাই ঐ সব মিসকিনদের জন্য ওয়াসার পানির লাইন, ডেসকোর বিদ্যুতের লাইন, কিউ বির ইন্টারনেট এর লাইন কিংবা উন্নত কল কারখানা, ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ কিংবা হাসপাতাল করতে আমাদের খুব গায়ে লাগে।

আমরা এতটাই স্বার্থপর শুয়োর প্রকৃতির মানুষ যে সারাদেশের সকল জেলায় ইউনিভার্সিটি স্থাপনের কথা শুনলে আমরা হায় হায় করে উঠি ! হায়, শিক্ষা ব্যবস্থার মানের তাহলে কি হবে? সত্যিই তো ! দেশের সবাই যদি ব্যাচেলর ডিগ্রী নিয়ে ফেলে, তাইলে আমি তো আর এক্সক্লুসিভ রইলাম না! অতএব, যে কোন মূল্যে মানুষের শিক্ষিত হওয়া ঠেকাও!

শুয়োর শব্দটা কি আপনাকে নাড়া দিলো ? তাহলে দেখুন-

আমাদের সমাজের উপর তলার মানুষেরা হয়ত দেখতে চান একদিন এমনকি ৩য় -৪র্থ শ্রেণীর চাকুরিজিবী রাও graduate , post graduate হবে । সেটা জাতির জন্য কতটা গৌরবের হবে তা চিন্তা করতেও আমি শিউরে উঠি । ---- এই হলো আমাদের অবস্থা । কোথায় শিক্ষার মান যাতে উন্নত ও সমান থাকে তার জন্য চেষ্টা করবো - তা না শিক্ষার মান এর স্বার্থে শিক্ষার পথই বন্ধ করে দাও! হক মাওলা!

তো এই ঢাকা কেন্দ্রিক উন্নয়নের ফলাফল হইলো ঢাকার বাইরে সম মানের শিক্ষা সহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নাই। ফলে, কেউই ঢাকার বাইরে থাকতে চায় না। সকলেই বাইরে থেকে ঢাকায় চলে আসতে চায়। এই সমস্যার কথা যে সব ডাক্তার সরকারী চাকুরি ছেড়ে দিচ্ছেন তাদের কথাতেও উঠে এসেছে। যেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সকলেই ঢাকায় থাকতে চায়, সেখানে কেবল ডাক্তারদের মফস্বলে পড়ে থাকতে বলাটা অন্যায় এবং তারা সেখানে থাকবেন- এইটা আশা করাটা নিতান্তই আহাম্মকি।

কেন?

দেশের সেরা মেধাবীরা ডাক্তারী পড়ে। ডাক্তারী পড়াটা অনেক কষ্টের কাজ। ডাক্তাররা পোস্ট গ্রাজুয়েশন করতে চায়। ডাক্তারের পরিবারের (স্ত্রী/স্বামী) রাও মেধাবী কেউ হয় যারা ঢাকার মত বড় শহরে থেকে কাজ করে/করতে চায়। আর পরিবার চাকুরী না করলেও সন্তানদের দেশের সেরা স্কুল/কলেজে পড়াতে সকলেই চায়। তার উপরে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেটের ব্যাপার তো আছেই। সুতরাং, শুধু ডাক্তার নয়, পাশাপাশি মেধাবী নার্স, প্যারামেডিক, টেকনিশিয়ানদের মফস্বলে, গ্রামে, ধরে রাখতে চাইলে তাদের থাকার জায়গাটাতে বিদ্যুৎ, পানি , ইন্টারনেটের সুবিধা দিতে হবে। তাদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য আশে পাশে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে। ঢাকার মার্কেট যে সব খাদ্য, বস্ত্র ও বিনোদন অফার করতে পারে - সেই মফস্বল বা গ্রামেও তা পৌছানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এই দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করলে , বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতিক দল, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারী - কেউই সঠিক পলিসিতে চলে না। যেখানে দেশের হাজার হাজার বর্গ মাইল পড়ে আছে, কোটি কোটি কাঁচা ঘর - সেখানে কোন উন্নয়নের চিত্র নাই। পাকা বাড়ি বানানোর ব্যবস্থা করা - সে সব বাড়িতে ন্যুনতম বিদ্যুৎ, পানি, একটা করে টেলিফোন, ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা - এই ধরনের কোন কার্যক্রম না লীগের ইশতেহারে আছে, না বি এন পির। এমন কি সাধারণ মানুষের দাবীতেও তেমন নেই। কারণ তারাও চায়, দরকার হইলে সরকার ফ্লাই ওভার, ওয়াক অভার, আকাশে বাতাসে ফ্ল্যাট গড়ে হলেও ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা করে দিক।

তাহলে এর সমাধান কি?

সবার আগে দরকার কিছু পলিসি বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া। যেমন-

যেই সরকারই ক্ষমতায় আসুক , সকল বিভাগ-->জেলা-->উপজেলা-->ইউনিয়ন--> গ্রাম পর্যায়ে সুযোগ, সুবিধা ও উন্নয়নের সমান মান, পরিমাণ ও চরিত্র বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকিবে।

সোজা বাংলায়, সুযোগ সুবিধার কিছু বেসিক লিস্ট থাকবে যেইটা সারা বাংলাদেশের জন্য সমান হবে।

ঢাকা বিভাগে যা যা থাকবে, বাকি সকল বিভাগে তা তা-ই থাকতে হবে। ঢাকা বিভাগ সহ একই বিভাগের অধীনে সকল জেলায় সমান সুযোগ, সুবিধা ও সেবার ব্যবস্থা থাকবে। একই ভাবে উপজেলা পর্যায়ে সকল উপজেলার জন্য একই ধরনের নাগরিক সেবা দিতে হবে। ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের বেলাতেও তাই।

কিছু মৌলিক অধিকারের কথা সকল নাগরিকের জন্য সমান ভাবেই সংবিধানে রচিত আছে । কিন্তু বাংলাদেশের যে কোন সরকার যখন কোন প্রকল্প নেয়, তখন সেই সব উন্নয়ন প্রকল্পের মূলনীতি হিসেবে কখনোই " সকলের জন্য সমান উন্নয়ন" - এই নীতি মেনে প্রকল্প ডিজাইন করে না। নইলে, যেদিন থেকে ঢাকায় ওয়াসা হয়েছে সেইদিন থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটা জেলার পরিশোধিত পানির ব্যবস্থা চালুর প্রকল্প নেওয়া হত। প্রতিটা জেলায় , উপজেলায় একটা করে আগোরার মত সুপার মল থাকতো। কক্সবাজারকে বাই পাস করে ইন্টারনেট এর সুবিধা ঢাকায় ঢুকতে পারতো না । প্রতিটা নাগরিককে ইন্টারনেটের সুবিধার আওতায় আনার ইচ্ছা থাকলে ভারতে ইন্টারনেট রপ্তানির মত উদ্ভট প্রস্তাব শুনতে হত না।

আমেরিকায় বেশ কয়েক বছর থাকার পরে আমার এক আত্মীয় বলেছিলেন- সব শহর ঘোরার দরকার নেই। আমেরিকার কয়েকটা শহর দেখে ফেললে বাকি গুলো একই রকম লাগে। বাস থেকে নেমে চোখে পড়বে একটা ওয়াল মার্ট ।

হল্যান্ডবাসী এক বন্ধুর মন্তব্য ঃ
প্রায়ই পথ হারিয়ে ফেলি। কারণ রাস্তা - বাড়ি সব একই রকম দেখতে। এক শহরে বাস থেকে নামলে যে সব প্রতিষ্ঠান চোখে পড়ে, বাকি শহর গুলোতেও তাই। কেমন যেন সব কপি পেস্ট !

একি স্বপ্ন? না সম্ভব?

নিঃ সন্দেহে একদিনে সম্ভব না । আমেরিকা কিংবা হল্যান্ড এর মত দেশ কয়েক শত বছর ধরে একটু একটু করে আজকের অবস্থানে এসেছে। কারণ তাদের রাষ্ট্রনীতিতে স্পষ্ট লেখা আছে --- দেশের একটি এলাকা , তা রাজধানী থেকে যত দূরেই হউক আর কাছেই হউক --- অন্য সকল এলাকার মত সমান সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হইবে।

তাই, তারা যখন উন্নয়ন প্রকল্প নেয়, শুধু ঢাকা , শুধু চট্টগ্রাম কিংবা খুলনার জন্য নেয় না --- দেশের সকল জেলার জন্য নেয়। সকল উপজেলার জন্য নেয়।

মানুষের স্বভাব চরিত্র (মূলত ডাক্তার) খারাপ, সেবা দেওয়ার সঠিক মনভাব নাই।

এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় । পুরো সিস্টেমটাই যখন নষ্ট হয়ে গেছে , যার যা ইচ্ছা তাই করছে , তখন এই ধরনের অধঃপতন হবেই। দরজা খোলা রেখে ঘুমালে চোরকে নামায পড়িয়ে লাভ নেই। সে চুরি করবেই। দরকার হলো দরজা বন্ধ করা, সামনে ক্যামেরা লাগানো, চোরের জন্য বিকল্প উপার্জনের পথ করা এবং তারপর মানুষকে উপদেশ দেওয়া যাতে তারা চোরাই মাল না কেনে।

একদিনে যেহেতু সারা বাংলাদেশকে ঢাকা বানায় ফেলা সম্ভব না - সেই জন্য এখনি অল্প অল্প করে কিছু কঠোর , কিছু সহযোগিতা মূলক পলিসি নেওয়া। যেমন- ঢাকায় আর নতুন আবাসন তৈরী করতে না দেওয়া । ঢাকার বাইরে অন্যান্য এলাকায় সরকারী - বেসরকারী - ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন, ইন্টারনেট সুবিধা সহ বাড়ি/ ফ্লাট বানানো। মানুষ যদি কিনে তো ভালো। না কিনতে পারলে কিস্তিতে ভাড়া দেওয়া । ঢাকার বাইরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে এখনি উন্নত লাইব্রেরী, ইন্টারনেট , নিরাপদ পানি এবং প্রয়োজনে হোস্টেলের ব্যবস্থা করে দেওয়া।

ঢাকার বাইরে আবাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, পরিশধিত পানির কারখানা ( ওয়াসার মত) এবং উন্নত মার্কেট স্থাপনের জন্য প্রাইভেট- পাবলিক বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা। যারা এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে তাদের বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সুবিধা দেওয়া ।

টেকনোলজির সর্বোচ্চ ব্যবহারঃ

বাংলাদেশের অনেক অনেক টাকা নেই। তাই অনেক কিছু হুট করে করা সম্ভব হয় না। কিন্তু আজকের যুগে স্রেফ টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষকে সমান সুযোগ ও সুবিধা দেওয়া সম্ভব। সেই রকম টেকনোলজি হচ্ছে আই সি টি এবং আই টি । আর কিছু না হোক, সারা বাংলাদেশে শুধু যদি হাই স্পিড ইন্টারনেট এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায় তাহলে বাকি আরো অনেক মৌল চাহিদা মেটানোর রাস্তা মানুষ নিজে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, সমষ্টিগত ভাবে কমিউনিটি চেষ্টা বা প্রাইভেট বিনিয়োগে নিজেরাই করে নিতে পারবে।

টেকনোলজি তথা ইন্টেরনেট , কম্পিউটার, ভিডিও-অডিও ইত্যাদি নানা রকম টেকনোলজির কারণে এখন আর গ্রামে গ্রামে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু আমাদের থিংকিং প্রসেস বদলানোর । আমেরিকার বাঙ্গালী সালমান খানের নাম আপনারা হয়ত শুনেছেন। সালমান আমাদের অতি পরিচিত ইন্টারনেট এবং ভিডিও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা দানের ব্যবস্থাটাকেই পালটে ফেলার চেষ্টা করছেন । না- তিনি স্কুল বন্ধ করতে বলেন নি। টিচারদের চাকুরী থেকে ছাটাই করে দিতে বলেননি । স্রেফ এইটুকু বলেছেন যে মিলে মিশে আনন্দ নিয়ে, এক একজনের সুবিধা ও সময় মত শিক্ষা দানের পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে। আগে যেমন শিক্ষা দানের গুরুরা বাসায় শিক্ষা দিতেন, একজন শিক্ষার্থী গুরুর সাথে আলোচনায় বসতেন, বছরের পর বছর দীক্ষা নিয়ে গুরু যখন বলতেন - হ্যাঁ , তোমার শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে - তখন তারা বাকিদের দীক্ষা দিতে বেরুতেন। অনেকটা সেই রকম।

এই শিক্ষা ব্যবস্থার উপকারিতা কি?

প্রথম উপকারিতা ঃ সকলের জন্য সমান মানের শিক্ষক

আধুনিক যুগে মুশকিল হয়েছে আমরা সবাই মিলে গুরুর বাড়িতে গিয়ে থাকতে পারছি না । আবার একই গুরুর পক্ষে হাজার হাজার মানুষকে শিক্ষা দিয়ে বেড়ানোও সম্ভব না । তাই দেশে দেশে স্কুলের প্রচলন হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সব গ্রামে কি একই মানের শিক্ষক পাঠানো সম্ভব?
না।

কিন্তু একই মানের ভিডিও শিক্ষক পাঠানো সম্ভব?

হ্যাঁ। এই জন্যই সালমানের ১০ মিনিটের ভিডিও শিক্ষা এত জনপ্রিয় হয়েছে। সারা বিশ্ব থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন শিক্ষার্থী - বয়স কিংবা লেভেল নির্বিশেষে এই সব ভিডিও থেকে শিক্ষা নিচ্ছে । আমি নিজেও অংক করছি কয়েক দিন ধরে ।

দ্বিতীয় উপকারিতা ঃ সকলের জন্য সমান মানের সনদ

এর চেয়ে গণতান্ত্রিক, সামাজিক ন্যায় আর হয় না। পৃথিবীর কোন শিক্ষা যদি দাবী করতে পারে যে তারা সকল মানুষকে সমান সুযোগ, সমান সুবিধা , সমান দক্ষতার সনদ দিয়ে থাকে - তাহলে তা হলো এই সালমান খান একাডেমি । এখানে মানুষ ৮০-১০০% এর জন্য পড়ে না। এখানে সকলেরই লক্ষ্য থাকে ১০০% অর্জনের।

চিন্তা করে দেখুন - এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা যা বাধ্য করছে প্রতিটা শিক্ষার্থীকে ১০০% বা সুপার এ গ্রেড পেতে । তুমি যতক্ষণ না একটি বিষয়ের একটি লেসনে ১০০% দক্ষতা না পাচ্ছো , ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি পরের লেসনে যাবেই না ! কি আশ্চর্য সাম্য! কি সুন্দর ন্যায়!

আমরা এখন কি করছি? কাউকে এ গ্রেড, কাউকে বি গ্রেড , কাউকে সি গ্রেডের সিল কপালে লাগিয়ে এস এস সি, এইচ এস সি সনদ দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছি। যারা ফার্স ক্লাস , তারা মাত্র ৬০% দক্ষতা নিয়ে পাশ করছে ।

একটু ভেবে দেখুন তো ! আপনি কোন গাড়িতে চড়বেন যার ব্রেক ৬০% কাজ করে? কিন্তু আপনি সেই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেবেন যে কিনা মাত্র ৫০% দক্ষ । ( বাংলাদেশে মেডিকেলে পাশের জন্য ৫০% নম্বর পেতে হয়) তার মানে, বাকি ৫০% না জেনেও আমি আপনার গলায় ছুরি চালাতে আইনত অনুমোদিত !!!!!

অথচ সালমানের পদ্ধতিতে এনাটমিতে ১০০% দক্ষতা অর্জন না করে আমার পক্ষে সম্ভবই ছিলো না পরের সাবজেক্টে যাওয়ার।

এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে স্কুলে স্কুলে মান সম্মত ভিডিও পাঠানো যায়। দরকার শুধু ভিডিও প্লেয়ার একটি কম্পিউটার , আর বিদ্যুৎ। সোলার বিদ্যুৎ দিয়ে যে সব স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব হচ্ছে - সেখানে এই ধরণের ভিডিও চালানো যায়।

বাংলাদেশ সরকার টিভিতে ভালো স্কুলের ক্লাস প্রচার করবে। আমার কথা হলো, সেইটা রেকর্ড করে ইন্টারনেটে আপলোড করে দিলে দেশের যে কোন স্থান থেকে বার বার , যতবার ইচ্ছা , যতজনের ইচ্ছা নামিয়ে ব্যবহার করতে পারবে।

এর ফলে, (কি ভয়ানক কথা) আমাদের ৩য়-৪র্থ শ্রেনীর কর্মকর্তারাও অফিসের শেষে বাসায় বসে বসে পড়ালেখা করতে পারবেন। হাজার হাজার , লক্ষ লক্ষ মান সম্মত শিক্ষক তৈরীর প্রয়োজন কালকেই মিটানো সম্ভব না। কিন্তু এইটা খুবই সম্ভব যে মান সম্মত শিক্ষকদের দিয়ে ১০ মিনিটের ভিডিও বানিয়ে বানিয়ে সেইটা সারা বাংলাদেশে পৌছানোর ব্যবস্থা করা।

হাসপাতাল গুলোর ক্ষেত্রেঃ

কিছু জিনিসের অটোমাইজেশন প্রয়োজন । হাসপাতালে টিকেটিং, পেশেন্ট রেকর্ড ইত্যাদি প্রচুর ক্ষেত্রে ডাটা কালেকশন ও লজিস্টিক্সকে অটোমাইজ করে ভুল ত্রুটি , রোগীর চাপ ইত্যাদি কমানো সম্ভব। পাশাপাশি, আরেকটা জিনিস করা দরকার । তাহলো , ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানদের কাছে রেজিষ্ট্রি বাধ্যতামূলক করা । গ্রামের রোগীরা এবং শহরের ওয়ার্ডের রোগীরা প্রথমে তার নিজস্ব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান এর কাছে যাবে। এরপর ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান রেফার করলে বিশেষজ্ঞদের কাছে যাবে। এতে করে সর্দি কাশির জন্য জাতীয় অধ্যাপকের কাছে যাওয়া বন্ধ হবে। এবং কেউ ২০ টাকায় বসে ওষুধের দোকানে রোগী দেখবে আর কেউ ধান্মন্ডিতে বসে কোটি টাকা কামাবে - এই অন্যায় ও বন্ধ হবে। যতজন এম বি বি এস , বি ডি এস রা পাশ করে বেরিয়েছেন - তাদের সকলের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।

এই ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত সকল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঐ এম বি বি এস এবং বি ডি এস দায়ী থাকবেন। সরকারের কাজ হবে মাঝে মাঝে র‍্যান্ডমলি কিছু লোকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা , তার কাগজ পত্র দেখা। প্রতি ৬ মাস অন্তর একজন বিডি এস কাছে চেক আপ করতে হবে। প্রতি এক বছর অন্তর এম বি বি এস এর কাছে । এর বাইরে অসুস্থ হলে তো দেখাবেই। সরকার যদি দেখে কোন ডাক্তারের আন্ডারে থাকা সকল মানুষের চেক আপের কাগজ পত্র, স্বাস্থ্য ইত্যাদি দেখ ভাল ঠিক মত আছে - তাহলে সেই অনুযায়ী বেতনের উপরে ডাক্তারদের ইঙ্ক্রিমেন্ট বাড়বে।

যেই ডাক্তার যত বেশি রিমোট অঞ্চলে কাজ করবেন , তিনি তত বেশি বেতন পাবেন। ( এইটা চালু থাকবে, যতদিন না রিমোট অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে) ।

৬০০০ মানুষের কাগজ পত্র ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যদি অবহেলা পাওয়া যায় , তাহলে ডাক্তারকে শো কজ করা যাইতে পারে। এতে করে , ডাক্তারদের "গড" এর আচরণ করা কমবে। ভুয়া ডাক্তারীও বন্ধ হবে- যেহেতু মানুষের স্বাস্থ্যের উপরে নির্ভর করছে সেবাদানকারীর বেতন-ভাতা।

অনেক আপত্তি থাকতে পারে এই সব সমাধানে । আপনারা আলোচনা করুন। সমাধান বেরিয়ে আসুক।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29387538 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29387538 2011-05-28 17:50:42
"হেলথ ফর অল (health for all)" এর জায়গায় "সমান উন্নয়ন সবার জন্য (Equal development for all)" কবে দেখবো? পর্ব -... বাংলাদেশের হেলথ সার্ভিস অর্থাৎ সরকারী, বেসরকারী (স্বাস্থ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান) বা এন জি ও প্রদত্ত স্বাস্থ্য সেবা নিতে গিয়ে - ১। আপনি কি কোন বিড়ম্বনার সম্মুখীন হয়েছেন? ২। আপনি কি কোন আর্থিক, মানসিক, শারীরীক বা সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন? ৩। অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার কারণে কোন আপন জন হারিয়েছেন? ৪। অবহেলা- ভুল চিকিৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা কাউকে হতে দেখেছেন?

আমার কাছে কোন ভরসাযোগ্য দেশব্যাপী পরিচালিত জনমিতি (population statistics) নেই। কিন্তু কেন যেন মনে হয়, উপরের যে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর আপনি যেই হোন না কেন, বাংলাদেশবাসী হলে, "হ্যাঁ" হবেই। আমি ১০০% নিশ্চিত। আসুন, মূল আলোচনায় যাবার আগে দেখি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কি ধরণের সেবা পাওয়ার অধিকার আপনার আমার আছে।

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের অধিকার

চিকিৎসা একটি সেবা, অর্থাৎ Public Good। কোন ব্যবসা পণ্য নয়। এর মানে হলো, আপনি বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্থান, কাল, পাত্র, জাতি, ধর্ম, উপার্জন- এমন কি নাগরিকত্ব নির্বিশেষে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত যে কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকারী। (per Section 15(A) of the Bangladesh Constitution, and develop the health and nutrition status of the people as per Section 18(A) of the Bangladesh Constitution.)

বাংলাদেশের হেলথ পলিসি আমাদেরকে বলে-
Health is defined asঃ

“A state of complete physical, mental and social well-being and not merely the absence of disease or infirmity.” -- অর্থাৎ শুধু নিরোগ হইলেই চলবে না, রাষ্ট্র আপনাকে আমাকে শারীরীক, মানসিক ও সামাজিক "ভালো থাকা"কে নিশ্চিত করতে অঙ্গীকার করছে। সেই ভালো থাকার রুপটি কেমন?

১। Every Citizen has the basic right to adequate health care - চিকিত্তসা সেবা পাওয়ার অধিকার
২। The State and the government are constitutionally obliged to ensure health care for its citizens - নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের
৩। To ensure an effective health care system that responds to the need of a healthy nation, a health policy provides the vision and mission for development. - একটি লিখিত নীতি দ্বারা উল্লেখিত
৪। Pursuance of such policy will fulfill the demands of the people of the country, while the health service providers will be encouraged and inspired. People’s physical well-being and free thought process have proved to be a precondition for the growth and intellectual enrichment in today’s human society -- সেই লিখিত সনদ এর বাস্তবায়ন নাগরিকের চাওয়াকে মেটাবে, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহী করবে।
এর পাশাপাশি একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মানুষের সুস্বাস্থ্য ও স্বাধীন চিন্তা চেতনা আধুনিক মানব সমাজের উন্নয়ন ও মানসিক বিকাশের আবশ্যিক পূর্ব শর্ত।

সাক্ষরিত চুক্তি সমূহঃ Bangladesh expressed agreement on the declarations:
১। Alma Ata, 1978
২। The World Summit for Children 1990
৩। International Conference on Population and Development, 1994
৪। Beijing Women’s Conference, 1995

Ministry of Health & Family Welfare seeks to create conditions whereby the people of Bangladesh have the opportunity to reach and maintain the highest attainable level of people health. It is a vision that recognizes health as a fundamental human right and therefore the need to promote health and reduce suffering in the spirit of social justice. --- এইটা আমাদের বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের "vision" আর এইটা হইলো "objective" ।

ভিশন অনুযায়ী , তিনটা বিষয় গুরুত্ব পূর্ণ। অর্জনযোগ্য সর্বোচ্চ স্তরের স্বাস্থ্য, মৌলিক মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যয় অর্জনের সাথে দেশের স্বাস্থ্য অধিকার-সেবা - সিস্টেমকে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ।

মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে আরো দেওয়া আছে এই সব ভিশন, মিশন, অব্জেক্টিভ, গোল ইতাদি অর্জন করার রুপ রেখা। তার ভিতরে একটি গুরুত্ব পূর্ণ সনদ হইলো আলমা আটা ১৯৭৮ । এইটা রুচি কিংবা তীর আটা নয়, একটা চুক্তি যাতে বাংলাদেশ সরকার সাইন করে এই প্রতিজ্ঞা করেছে যে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য সেবা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। এই কারণেই প্রতিটা স্বাস্থ্য, মা, বাবা, নাতি-পুতি, বন্ধু দিবসে, নিরাপদ পানি, ভাত, পায়খানা দিবসে, এবং বিভিন্ন আমাশা, ডায়রিয়া, এইডস, ম্যালেরিয়া দিবসে ঘুরে ফিরে এই "সকলের জন্য স্বাস্থ্য" বাক্যটি বারংবার উচ্চারিত হয়।

এইবার আসুন দেখি, বাস্তবায়ন পর্যায়ে এসে এই সব ঘোষণা ও দিবসের কি হাল?
এইখানে ১৯৯৭-২০০৭ সন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যখাতের খরচের হিসাব আছে ।

এইখানে আছে হাসপাতাল গুলোর রিপোর্ট কার্ড ২০০৭

কারা সেবা প্রাপ্ত হয়, সেই বেনিফিশিয়ারী রিপোর্টের পিডি এফ টাই নামানো গেলো না। মুমূর্ষু পি ডি এফ নিজেই।

এত গেলো সরকারী হিসেব কিতাবে। এখন কাজীর গরু মাঠে নামলে কি দেখা যায়?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, মেডিকেল স্টুডেন্টদের এক নম্বর পছন্দের কলেজ ঢাকা, দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা (টারশিয়ারী) একাডেমিক মেডিকেল হসপিটাল ঢাকার রাতের অবস্থা

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ব্লগার রেজোয়ানসহ অনেকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

বিশেষজ্ঞসহ ডাক্তাররা স্বাস্থ্যসেবার সরকারী খাত ছেড়ে পালাচ্ছেন ।

রাজধানী ছেড়ে একটু বাইরে গেলেই স্বাস্থ্যসেবা কেতাবী গরু হয়ে যায়। দূর ভোলার চিত্র কি হতে পারে? সমকালের রিপোর্ট ঝাড়ূদার যখন ডাক্তার!

ভুক্তভোগী রোগী ও দর্শক হিসেবে আমাদের কু অভিজ্ঞতার শেষ নাই। ডাক্তাররা নিজেরা কি বলছেন?

বেসরকারি ব্যয়বহুল হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা বেশি, এটি সত্য। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে কোনো সরকারই চিকিৎসকদের মেধার গুরুত্ব দেয়নি। বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য হয়ে গেছে। তাই হতাশ ও বাধ্য হয়ে তাঁরা চাকরি ছেড়েছেন।

ঢাকার বাইরে বেশির ভাগ জায়গায় এখনো সপরিবারে থাকার মতো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। মূলত সে কারণেই তিনি চাকরি ছেড়েছেন।

তাঁর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ যে বিষয়ের ওপর, তা প্রয়োগের জন্য ঢাকাই একমাত্র জায়গা কিন্তু তাঁকে বদলি করা হয় টাঙ্গাইলের একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে রোগীদের প্যারাসিটামল ও হিস্টাসিন দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ ছিল না। চিকিৎসকদের বদলির ভয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রভাব পড়ছে দরিদ্র সাধারণ মানুষের ওপর। এক সময় বিএনপি-সমর্থিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) একজন ব্যক্তি সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন স্বাচিপের অসংখ্য দরবেশ, মোয়াজ্জিন গজিয়েছে। তাদের তোষামোদ করে চলা কোনো সুস্থ, শিক্ষিত, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনিও চাকরি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

এর পাশাপাশি বেতন বৈষম্য নিয়ে একজন পাঠকের মন্তব্য ঃ

একজন অধ্যাপক চিকিৎসকের সর্বচ্চ বেতন ৪০,০০০ টাকা। একজন সদ্য প্রকৌশলী তো এই বেতনে চাকরী করতে চাইবেন না।

সূত্রঃ প্রথম আলো

এবার আলোচনাঃ

উপরের উদাহরণ গুলো থেকে দেখা যাচ্ছে , স্বাস্থ্য সেবা খাতের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রদানকারী এবং রোগীরা কেউই ভালো নেই। সংবিধান এবং স্বাস্থ্যনীতি আমাদের যে "ভালো থাকার" অঙ্গীকার করে, বাস্তবে তার দেখা পাওয়া মুশকিল। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ, প্রধান্মন্ত্রীর কানের চিকিৎসা করার সামর্থ বাংলাদেশে নাই। মন্ত্রী , সাংসদসহ সকল ধনী ব্যক্তিরা পারলে বিদেশে চিকিসা নেয়। গরীব লোকেরা সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, আমেরিকা না পারুন, অন্তত পাশের দেশ ভারতের কোলকাতা, মাদ্রাজ -এ গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এই রকম হযবরল অবস্থা ও ভেঙে পড়ার কারণ কি?

অনেকেই বলেন আমাদের জনবল, যন্ত্রপাতি ও অর্থের অভাব। যথাযত পলিসির অভাব। মানুষের স্বভাব চরিত্র (মূলত ডাক্তার) খারাপ, সেবা দেওয়ার সঠিক মনভাব নাই। প্রচুর প্রস্তাবে মানুষ ভেটো দিয়ে বসে থাকে। যেমন - হাসপাতালের টিকেটের দাম বাড়ানো যাবে না অথচ এমনিতেও আগত রোগীদের পকেট থেকে শত শত টাকা খরচ হয়ে যায়। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের জন্য অর্থ খরচের বেলায় দাতা দেশের কাছে হাত পেতে বসে থাকতে হয় অথচ সকল প্রকার চিকিৎসা "ফ্রি" । সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বলতে কতগুলো ইটকাঠের বিল্ডিং করে রাখা হয়েছে কিন্তু সেই অবকাঠামো চালাতে হলে পারিপার্শ্বিক যেই সুযোগ সুবিধা (পলিসি, জনবল, বিদ্যুৎ, পানি থেকে শুরু করে জীবন যাপনের মৌলিক চাহিদা পূরণের উন্নত ব্যবস্থা) দরকার , সেসবের সমন্বয় করতে বলতে " ইহা আমাদের দায়িত্ব নহে" ধরনের মনভাব।


পোস্ট বেশ বড় হয়ে গেলো। পরের পর্বে এই সব কারণ , সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে লিখবো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29387403 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29387403 2011-05-28 12:42:01
সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে আরেকবার ভাবুন সবাই
আমি দীর্ঘ ৫ বছর সৌদি আরবে ছিলাম ।আমার নিজের চোখে দেখা নারী শ্রমিকদের কষ্টের কথা লিখছি।ভয়াবহ সব দিন কাটানো মানুষগুলোর অনেক গল্পের কয়েকটা গল্প তুলে দিলাম ।এটা খুব সামান্য এর চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পরতে হয় ওদের কে। আমি নারী শ্রমিক রপ্তানীর বিরোধী নয়। তবে সে ক্ষেত্রে দক্ষ, শিক্ষিত ও ভাষা জ্ঞান সম্পন্ন নারী শ্রমিক পাঠানোর দাবী করি। যারা নিজেদের অধিকার চাহিদা নিয়ে সচেতন। আরবরা ব্যাক্তিগত ভাবে কাজের লোক বা খাদ্দামাদের প্রতি নির্দয়। সদয় পাওয়াও যায় তবে সেটা লাখে একটা। এ ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে আমরা কি আমাদের বোনদের একটি হাইলি একোমডেট কারাগারে পাঠাবো যেখানে সে নিপীড়িত হবে।



দ্‌শ্য-১

১৭/৪২০০৬

ভোর -৬টা

স্থান: গুলশান সউদি দূতাবাস এর প্রধান ফটকের বাইরে।

সবাই লাইনে দাড়ানো। একজন মহিলা একটা দুধের শিশু কোলে নিয়ে দাড়িয়েছেন, বাচ্চাটা কাদছে অবিরত। একেতো ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে লাইনে এর পরে সামনে একটা বাচ্চার আবিরাম কান্না। মেজাজ খারাপ হলেও করতে পারছিনা মহিলার দারিদ্রমাখা মলিন চেহারা দেখে। অবাক হলাম আপনি এখানে কেন দাড়িয়েছেন এইটা তো ভিসার লাইন। উত্তর দিলেন ভিসার জন্য। কি????????????/ মাথা ঘুরে যাওার দশা। ঘুম পুরা উধাও।কি করবেন সউদি গিয়ে? খাদ্দামার কামে যাইমু। খাদ্দামা শব্দটার সাথে পরিচয় ছিলো না কিনতু বোঝার চেষ্টা করলাম, বুঝলাম কাজের লোক। কিন্তু আপনি কি কাজ করবেন? যে কাম দেয় হেইডা করমু। বিস্ময়ের চুড়ান্ত। আরবী বলতে পারেন? না পারি না। কিভাবে কথা বলবেন? হিগগা ফালামু। বাংলা বা ইংরেজী লিখতে পড়তে পারেন? না পড়া লিখা জানি না। কেনো যাচ্ছেন? বইন বড় অভাব গেনদার বাপের কোনো কাম নাই। স্বামীকে দেখালেন। লাইনের বাইরে পার্কের গেটের সামনে বিড়ি ফুকছেন। ভাদাইম্যা শব্দটা তার জন্য যথাযথ। বললাম কিভাবে ভিসা পেলেন? আমার দুলাভাই যোগাড় করছে। কত টাকা লাগছে? ৩লাখ টেকা। টাকা কে দিল? আমার মায়ের যা আছিল বেইচা দিছে। যে বাড়িতে কাজ করবেন ওরা কত টাকা দিবে? জানি না, দুলাভাই জানে। হেরেও টেকা দিতে হইবো।হে ভিসা কিনছে ৪০হাজার টাকা দিয়ে।

তখন ও সেই মহিলার প্রবাস জীবনের ভয়াভতা আচ করতে পারি নাই। তবে সন্দিহান ছিলাম আদৌ তার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে কিনা।



দ্‌শ্য-২

১৮/০৭/০৬

স্থান : আমার ক্লাশরুম

সকাল-৮টা

আমাদের স্কুলের আয়া এসে বলল আপা ২টা কাম কইরা দিবেন? বললাম কি? একটা ক্যামেরা আর একটা মোবাইল কিননা দিবেন ফোডো তুলন যায় এমন মোবাইল। বাজেট কত ? আপা ৬০০রিয়াল। ওকে , কি জন্য কিনবেন? আপা আমার পোলাডার লাইগগা কিনমু। পাঠাবেন কি করে? আপারা বাড়ি যাইতেছে ওদের কাছে দিমু। আপার বাসা থেইককা আমার পোলা লইয়া যাব। গুড, ২য় কাজটা কি। আপা একটা চিঠি লিখা দিবেন? মোবাইলে মেলা পয়শা কাটে।ওকে করে দিব।

আপাতত নাটকের বিরতি। আসেন আমাদের আয়ার ফ্লাশবেক এ যাই।

মোটামুটি সম্ভ্রান্ত ঘরের এতিম মেয়ে। অনেক কস্ট করে বড় হয়েছে। বিয়ের পর ২সন্তান রেখে স্বামী মারা যায়। অভাবের তারনায় আর প্রতারকের খপ্পরে পরে সউদি আরব আসা। যাদের আন্ডারে ভিসা নিয়ে এসেছিলেন তাদের চুড়ান্ত অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে আসেন বাংলাদেশ কনসুলেটে। ছেলেদের ব্যাপারে যতটা নির্দয় হননা কেন মহিলাদের প্রতি আমাদের কর্মকর্তাদের একটা ভালোবাসা আছে। এক কারণ উনাদের বৌদের সোনার বরন কালো হয়ে যাচ্ছে কাজের লোকের অভাবে।সুতরাং বাংলাদেশি একটা কাজের মহিলা হাত ছাড়া করা যায় না। তাদেরকে রাখা হয় কনসুলেটের বিভিন্ন কর্মচারির বাসায়। মোটামুটি নিরাপদ একটা আবাস। এটা তাদের ই কপালে জোটে যারা পালিয়ে আসতে পারেন। আর যারা পারেন না তাদের কথা ধারাবাহিক ভাবে বলছি।





দ্‌শ্য-৩

তারিখ মনে নাই

স্থান : আমার বাসা

বিকাল

মোটামুটি সেচ্চাসেবক হিসাবে একটা সুনাম আছে। তার সুবাদে একজন সিনিয়র কলিগ ফোন করে বললেন একটু উপকার করবা ? আমি বললাম কি আপা বলেন।আমার বুয়াটাকে তোমার বাসায় পাঠাচ্ছি একটু কি কোনো মহিলা ড: এর কাছে নিয়ে যাবা। প্রথমেই প্রশ্ন করলাম আপনি বুআ কোথায় পেলেন? বললেন কনসুলেটের এক ভাই যোগাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু খুব অসুস্থ। আমি বললাম পাঠিয়ে দিন। যে মহিলাটা আসলেন খুব বিধ্বস্ত চেহারার একজন মানুষ বয়স আনুমানিক ৩৫। যেতে যেতে অনেক কথা হল । কি করে আসলেন কি করেন। পুরানো ঘটনা দালাল নিয়ে এসেছে।ভাষা জানেন না বলে কাজ করতে পারতেন না। মুনিব অত্যাচার করত। সারাদিন ঘরে বন্দি কারোর সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন না। ওদের যে খাবার গুলো দিত সেগুলো খেতে পারতেন না। সবচেয়ে বড় যে কষ্ট পেয়েছেন সেটার বেপারে উনি কিছু না বললেও ডঃ জানালেন। পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে বললেন। যে রোগ একটা সময় পর্যন্ত ভালো থাকবেন চিকিৎসা পেয়ে। কিন্তু জের টানতে হবে সারাজীবন। কিছুটা আচ করতে পারলেও প্রশ্ন করলাম নিশ্চিত হওয়ার জন্য। রোগ টা কি? উত্তরে যা জানলাম তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। উনি যৌন হয়রানির শিকার। একবার না অনেকবার ধর্ষিত হয়েছেন , একজন না অনেকজন দারা। পা থেকে মাথা কেপে উঠল। এখন হয়তো কিছুদিন ভালো থাকবেন কিন্তু ভবিষ্যতে এটি গনরিয়া নামক ভয়াবহ যৌন রোগে পরিণত হবে আপাত দ্‌ষ্টে লক্ষন তাই বলে। ভাষা হারিয়ে ফেললাম। প্রয়োজন মাফিক ঔষধ কিনে দিলাম। বললাম কেন আসছিলেন এখানে ....বইন ভাবছিলাম সুখে থাকমু কাম করমু পোলার বাপের টেকা পাঠামু জমি জিরাত করমু। টাকা পাঠাতে পেরেছেন?নাগো বইন পালাইয়া আসাতে কাগজ ও রাইখা আইসা পড়ছি যামু কই কি করমু কিছুই জানি না। যদি আপাগো বাড়িতে কাম কইরা কিছু টেকা জমাইতে পারি ধার দেনা শোধ দিয়া বাড়ি যামুগা। এইখানে থাকুম না। খুব মায়া লাগল কিন্তু কিছুই করতে পারছিনা। একবার প্রশ্ন করতে চাইলাম কি অসুখ জানেন কি? করলাম না। ঘরে ফিরে যাবার আশা ভংগ করতে মন চাইলো না। স্বপ্ন তো আমরা সবাই দেখি। কারো স্বপ্ন ভাংগার অধিকার নাইবা নিলাম। ধার শোধ করে বাড়ি ফিরে যাবেন। সংগে এই দেশের কদর্যতা নিয়ে যাবেন। আর তাদের টাকা দিয়েই আমাদের রেমিটেন্স বাড়বে। আমরা গর্ব করে বলব আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। জানবো ও না এর মধ্যে এমন সব মানুষের পাঠানো টাকা আছে জীবন যাদের কাছে বিভাষিকাময়। এর পর এরা যখন দেশে ফিরে আসবে বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের মাল রেখে দিবেন । সব হারিয়ে কাদবেন অসহা্য় একজন মহিলা। এমন ছবি সহ খবর ছাপিয়ে বাহবা কুড়াব।



দ্‌শ্য-৪

তারিখ : মনে নাই

স্থান : আমার বাসা

আমি হঠাত করে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। একলা মানুষ খাবার দাবার রান্না করা খুব কস্টের ঘরের কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় সকলের পরামর্শ মোতাবেক একজন কাজের লোক রাখি ।এমন ই একজন পালিয়ে আসা বাংলাদেশী মহিলা। বয়স আনুমানিক ৩৩ হবে। আমার কাজের ব্যাপারে খুব খুতখুতানি আছে । নিজের কাজ নিজেই করি । তাই বুআকে আদ্যপোন্ত দেখার সময় দেখলাম হাত ভরা ইনফেকশন। জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে। বলল আপা জানি না চুলকাতে চুলকাতে হয়েছে। এখানকার আবহাওয়া এত শুস্ক যে এই ধরনের খুজলী পাচড়া টাইপের রোগ নেই। বললাম আর কারো দেখেছেন? এরকম হয়েছে? বলল যে সউদি বাড়িতে কাম করতাম হেই বাড়ির একজনের ছিল। কার প্রশ্ন করায় উত্তরে অনিহা দেখে আমি আর প্রশ্ন করলাম না। আমি বললাম ঠিক আছে আমি রাতে ডঃ এর কাছে যাব আপনাকে নিয়ে যাব। যথারিতী একি ঘটনা অভাব মোচনে এ পথে পা বাড়িয়েছেন। বাড়িতে টাকা পাঠানোই একমাত্র উদ্দেশ্য। তাই করে চলছেন ৪বছর ধরে। বেশ কিছুদিন হল পালিয়ে এসেছেন। কারণ অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন আর পারছেন না তাই এই পালানো। মাঝখানে একবার মালিকএর বউ মেরে মাথা ফাটিয়েও দিয়েছিলেন। ঋন মোটামুটি শেষ । আমি বললাম তো বাড়ি ফিরে যাচছেন না কেন? যেটা বলল সেটা আরো বেদনার। গেনদার বাপের আমার পাঠানি টেকা দিয়া বাড়ি তুলছে পোলা আর মাইয়ারে বাড়ি থেইকা বের করে দিছে। হে নয়া বিয়া করছে। মানুষ নাকি তাকে বুঝিয়েছে তোমার বউ আর ভালো নাই। বইন দেশে গেলে আর কি করমু। পোলাগো কি খাওয়ামু। তাই মেলা কস্ট কইরা থাকতেছি। পোলারা আমার ভাইয়ের কাছে টেকা তারেই পাঠাই। ওরা মানুষ হইলে আমি বাড়িত ফিরা যামু। রাতে ডঃ এর কাছে নিয়ে গেলাম । আমি মোটামুটি প্রস্তুত ছিলাম কি রোগ জানার জন্য । আবার পুনারাব্‌ত্তি । বহু মানুষ দাড়া যৌন নির্যাতনের শিকার। যার কারনে শরীরে নানাবিধ রোগ বাসা বেধেছে। নারী হিসাবে লজ্জা পেলাম। কি লাভ এত ত্যাগের। কেও কি এর মুল্য দিবে। দেশে ফিরে গেলে তাকে মানুষ নস্টা বলে অপবাদ দিবে। এক ঘরে করে রাখবে। আর বেশি কিছু কি আশা করতে পারি?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29358726 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29358726 2011-04-07 17:31:08
ব্ল্যাক সোয়ান - একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার / ড্রামা


প্রথম দিকে ছবিটা নিয়ে তেমন আগ্রহ পাইনি। সোয়ান লেক সেই ১৮৭৫ সাল থেকে উপস্থাপিত বিখ্যাত রাশিয়ান ব্যালে। প্রায় দেড়শ বছর ধরে এই ব্যালে এত বার প্রযোজিত, উপস্থাপিত, বিবর্তিত , উন্নত - ইত্যাদি হয়েছে যে সেই একই চর্বিত চর্বণ ভেবে ছবিটা পেয়েও দেখা হয় নাই। এক রাতে- শরীর ও মন যখন যথেষ্ট খারাপ এবং মন আর কোন কাজের চাপ নিতে রাজি নয়- স্রেফ খেয়াল বশে ছবিটার ট্রেইলার দেখলাম - এবং বুঝলাম - না দেখাটা ভুল হবে। এখানে উল্লেখ্য- আমি হরর মুভির সেই রকম ফ্যান । অনেক দিন থেকে কোন ভালো হরর তৈরী হচ্ছে না ( সব রকমের প্লটই কোন না কোন ভাবে আগে তৈরী হয়ে গেছে) বলে বেশ হতাশ।

তো দেখা শুরু করলাম- আমার মত যারা ছবিটা সোয়ান লেক নামক ব্যালে বা হরর ড্রামা ভেবে শুরু করবেন , তারা বিরাট ভুল করবেন। আসলে ছবির ট্রেইলার দেখলে মনে হয় যেন হরর মুভি।

ব্ল্যাক সোয়ান - ছবিটা মনযোগ দিয়ে দেখার মত একটা ছবি। ছবির মূল চরিত্র নিনা নামের একটি মেয়ে যে শহরের বিখ্যাত ব্যালে কোম্পানিতে অনেক দিন ধরেই নাচে। আর সবার মত তারও ইচ্ছা, সোয়ান লেকের বর্তমান সোয়ান কুইন বিদায় নিলে ঐ জায়গাটা তার নিজের পাওয়ার। হবেই বা না কেন? বছরের পর বছর, দিন রাত ২৪ ঘন্টা সে নিজেকে শুধু ব্যালের জন্যই তৈরী করেছে - তার ধ্যান , জ্ঞান, প্রেম, অবসেশন - সবটাই ব্যালে। আসুন, ছবিতে প্রবেশের আগে , সোয়ান লেকের কাহিনী সংক্ষেপ জানি।

ওডেট একজন অভিশপ্ত রাজকন্যা যে রথবার্টের অভিশাপে রাজ হাঁসে পরিণত হয় দিনে, কেবল রাতেই তার অপরুপ সুন্দর মানবী রুপ বের হয়ে আসে। চিরবন্দিনী ওডেট মুক্তির জন্য কাতর কিন্তু নিরুপায়। তাকে অভিশাপ মুক্ত করতে পারবে একমাত্র অনুগত ও সত্য প্রেম, চিরন্তন হলে। রাজপুত্র সিগফ্রেড ওডেটকে (সাদা রাজহাঁস) দেখে প্রেমে পড়লে এবং সব কিছু জেনে শুনে চিরন্তন আনুগত্যের প্রতিজ্ঞা করলে রথবার্ট তার কন্যা ওডেলকে (ছবিতে ওডেট এর ইভিল টুইন, কালো রাজহাঁস) ওডেট সাজিয়ে এই প্রেম ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় । সফলও হয়, যখন রাজপুত্র ওডেলকেই তার প্রেম ভেবে বিয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ভগ্ন হৃদয় ওডেট শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে চির আকাঙ্খিত মুক্তি পাওয়ার জন্য।

এখন ছবিতে গল্পটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। কারণ ছবিতে নিনা ও নিনার মনস্তত্ত্বই প্রধান। নিনা এতই সহজ, সরল মিষ্টি একটা মেয়ে যে তার পক্ষে ছলনাময়ী, লাস্যময়ী (সিডাক্টিভ) কালো রাজহাঁসের অভিনয়টা হচ্ছিলো না। সে পবিত্র ও সুন্দরের প্রতীক হোয়াইট সোয়ান খুব সহজেই নাচতে পারছিলো , কিন্তু অসুন্দর- ষড়যন্ত্র ও স্বার্থপরতার প্রতীক ব্ল্যাক সোয়ান এর কোন বৈশিষ্ট্যই যেন তার ভিতরে অনুপস্থিত। নিনা, এটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসাবে নেয়- সে একজন নিঁখুত ব্যালেরিনা। ব্ল্যাক সোয়ানকে সে পারফেক্ট করেই ছাড়বে!

ছবির গল্প এর পর আবর্তিত হতে থাকে নিনার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। নিনা এমনিতেই ভয়াবহ নার্ভাস ( পিঠ আঁচড়ানো ঘুমের মধ্যে) । তার উপরে একজন পারফেকশনিস্ট। এই পারফেকশন অর্জন করতে গিয়ে সে পুরনো " সোয়ান কুইনের" জিনিস পত্র চুরি করে । এই পারফেকশন তার অবসেশন এ পরিণত হলে সে তার স্বভাব বিরুদ্ধ কাজ গুলোও করে। কিন্তু,

" মানুষ যখন তার আত্মার বিরুদ্ধে কাজ করে, সে নিজেকেই ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।"

নিনার নিজের "খারাপ" হওয়ার ইচ্ছা বা চেষ্টা মনে হয় না দেখানো হয়েছে ছবিতে। বরং পারফেকশনের জন্য তার ডেশপারেশন তাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে ঠেলে ফেলেছে , সেইটাই ছবির উপজীব্য মনে হয়েছে আমার কাছে।পারফেক্ট ব্ল্যাক সোয়ান হতে গিয়ে তাই নিনা নিজেকে, মানে হোয়াইট সোয়ানকেও ধ্বংস করে ফেলে।

এখানে নাটালি পোর্ট্ম্যানকে বিশাল অভিনন্দন - একজন অল্প বয়স্ক , পারফেকশনিস্ট, ডেস্পারেট ব্যালেরিনার মনস্তত্ত্বকে অত্যন্ত সফল ভাবে উপস্থাপনের জন্য।

সেই সাথে অভিনন্দন ডাইরেক্টরকেও , একটা সাইকোলজিকাল মুভিকে , মুভির হ্যালুসিনেশন অংশ গুলোকে এত রিয়েল করে ফুটিয়ে তুলতে পারার জন্য।

এইটা ঠিক, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে নিনার সাথে একাত্ব বোধ করলে (আবারো নাটালির কৃতিত্ব) ছবির শেষের দিকে নিনার পরিবর্তন গুলো সহ্য করা কঠিন।

( মাত্রাতিরিক্ত ডেস্পেরাশন অথবা অবসেশন এর ভালো বাংলা প্রতিশব্দ কি হতে পারে?) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29357753 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29357753 2011-04-05 23:58:06
ডিব্বার স্বপ্ন ডিব্বাতেই রয়ে গেলো!
হার মানায় মধ্যযুগের বর্বরতাকেও !!!!

আচছা, এই কথাটা প্রায়ই শুনি। "মধ্যযুগের বর্বরতা"।

একটু বুঝায় বলেন তো,

১। মধ্যযুগ মানে কোন যুগ? কত সাল থেকে কত সাল?
২। এই যুগটারে বর্বর বলে কেন?
৩। বর্বরতা বলতে তখন আসলে কি হইতো?
৪। কি ভাবে হরতালের সময়কার ঘটনা মধ্যযুগের বর্বরতাকে হার মানাইলো? মানে বর্বরতার হিসাবে কেমন করে "মসজিদের ভিতর জলকামান" জিনিসটা বেশি বর্বর হইলো?



al jazeera এই লিংকটাতে গিয়ে দেখেন। মসজিদের ভিতর গুলি করে মানুষ মেরে ফেলেছে। জল কামান কি এইটারেও হার মানিয়েছে?

আমিনির অনুসারীরা যে বিন্দুমাত্র পড়ালেখা করে, সেই প্রমাণ আর পাওয়া গেলো না।

আফসোস!

(আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন কুরআন শুরুই করেছেন "ইকরা", মানে "পড়" শব্দটা দিয়ে। বলা হয়, আল্লাহ স্বয়ং এবং দ্বীন ইসলাম পড়ালেখার উপর অসীম গুরুত্ব দেয় বলেই এমন করে কুরআন শুরু করা হয়েছে। কিন্তু ইসলামের "তথাকথিত দন্ডবাহকদের" মাঝে পড়ালেখা বাদ দিয়া মুমিনাদের সমপত্তি মেরে খাওয়া আর মুসলমান বাচ্চা দিয়ে দুনিয়া কিলবিল কিলবিল করাতে উতসাহ বেশি!!!)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29357712 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29357712 2011-04-05 22:41:05
আমি পেলাম! আমি ইহাকে পেলাম! সুখ তুমি কি বড় জানতে ইচ্ছে করে " আমার খুব প্রিয় একটা গান। কাল বিকেলে দেখি আব্বু ব্লগে পোস্ট লেখার জন্য খুব কসরৎ করছে। এই বয়সে নতুন করে কম্পিউটার, ই মেইল, ইন্টারনেট, ব্লগ - এসব শেখা যে কি বিরাট ঝক্কি সেইটা আমি আব্বু আম্মুকে শিখাতে গিয়ে টের পেয়েছি। নতুন নতুন টেকনোলজি শিখতে গিয়ে তাঁরা এখন নতুন শিশু আর আমি হয়েছি মা। <img src=" style="border:0;" />

তো, আব্বু দেখি মহাবিরক্ত! কেন? 'হয়েছে' লিখতে গিয়ে 'য়'-কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কার এত্ত বড় সাহস যে বর্ণমালার 'য়' নিয়ে দিনে দুপুরে চম্পট দিলো! বহুত কষ্টে হাসি চেপে দেখিয়ে দিলাম। আব্বু আগে প্রায় ১০ বছর ধরে বিজয় আর বাংলা কি বোর্ড দিয়ে লিখে অভ্যস্ত। এখন আবার নতুন করে 'অভ্র' আর 'ফোনেটিক' শিখতে হচ্ছে। তো দেখিয়ে দেওয়ার পরে পুরো পাঁচ লাইন বানান করে করে লিখলেন। আর একটু পর পর "আরে! হয়ে গেলো তো!" , "এই তো পেয়েছি", "এইটাও তো হয়ে গেলো", "বাহ! পারছি তো!" - বলে বলে খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন। বাচ্চাদের মতোই কি তার হাসি আর খুশি!

নিজের সমস্ত অতি জরুরী কাজ ফেলে, বসে বসে আব্বুর আনন্দ দেখলাম। পাঁচ লাইন লিখতে লাগলো প্রায় ২০ মিনিট। তারপরেও মনে হলো, সারাটা জীবন যাকে কিছু একটা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতেই চলে গেলো, তাকে এইটুকু দিতে পেরে 'সুখ' পাখির একটা পালক হয়ত সত্যি সত্যি - "আমি পেলাম! আমি ইহাকে পেলাম!" ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29322391 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29322391 2011-02-08 06:24:52
প্রাপ্তমনস্কদের জন্য পোস্ট ( বয়স দিলাম না, বয়সের সাথে সাথে সবাই প্রাপ্তমনস্ক হয় না)
পৃথিবীতে কত আজগুবি ঘটনাই না ঘটে৷ এমনই একটা ঘটনা ঘটেছে ব্রিটেনে৷ সেখানে ঘোড়ার সঙ্গে যৌনক্রিয়া করার জন্য একজনকে শাস্তি দিয়েছে আদালত!


ঘটনাটা এরকম – ডেরেক উডস নামের ২৬ বছরের এক তরুণ৷ তাকে ঘোড়ার সঙ্গে যৌনক্রিয়ারত অবস্থায় গত বছরের আগস্টে আটক করে পুলিশ৷

তবে আটক প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না৷ এজন্য আস্তাবলে বসানো হয়েছিল গোপন ক্যামেরা৷ সঙ্গে ছিল অ্যালার্ম৷ ফলে যৌনকাজ করায় সময় উডসের হাত হঠাৎ ঐ অ্যালার্মের উপর পড়লে সে ধরা পড়ে যায়৷

এরপর তার বিচার শুরু হয়৷ আদালত তাকে দুই বছর পুলিশী পর্যবেক্ষণে থাকার শাস্তি দেয়৷ এছাড়া ঘোড়ার ঐ আস্তাবলের এক মাইলের মধ্যে সে যেতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে৷

কিন্তু কেন সে এই কাজ করলো? এর উত্তর জানা যায় নি৷ কারণ উডসের আইনজীবী বলছেন, ধরা পরার পর উডস এতটাই লজ্জিত যে এই বিষয়টা নিয়ে সে কথা বলতে চায় নি৷

তবে জানা গেছে, উডস খুবই নিঃসঙ্গ একজন মানুষ এবং সে সবসময় অ্যালকোহল পান করে থাকে৷ অ্যালকোহলের প্রভাবমুক্ত হওয়ার জন্য আদালত তাকে চিকিৎসা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছে


ইহা একটি (চিত্রপরিচালকদের জন্য) শিক্ষামূলক পোস্ট।
জনস্বার্থে - ক্র্যাক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29316954 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29316954 2011-01-30 01:59:12
ধ্রুপদী টেরাকোটা
২৪ জানুয়ারী ২০১১


চাঁদের দিকে হাত বাড়ালে চাঁদ দিয়েছে পুড়ে,
সেই ব্যথাকে কাব্য বলো? লিখছি হৃদয় খুঁড়ে !
বুকের ভিতর ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ, লাল বরণী জোৎস্না
গোলাপ ভেবে তাকেই চুমিশ, এমন নিঠুর হোস না!
নয়ন জুড়ে বিষন্নতা, মেঘ ঢেকে যায় জলে
তোমরা তাকেও করলে গোপন, "কাজল কালো" ছলে!
বুকের জমিন দগ্ধ, নিঃস্ব, সকল পুড়ে ছাই ,
পোড়ামাটির এমন শিল্প, বললে, "কোথাও নাই"!
খাঁচার দেহ ভাঙছে যখন অবাক সমীরণে
তোমরা বলো, গীত বেঁধেছি ইমনী কল্যাণে! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29313629 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29313629 2011-01-24 21:25:28
ইউনিয়ন তথ্য ওসেবা কেন্দ্রের আয় বাড়ানোর কিছু উপায়
EhealthGuidebook.pdf


telemedicine_bennoor.pdf


Bangladesh_eHealth_status.pps


বাংলাদেশের শিশু বয়সের ( নবজাতক থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ) বাচ্চাদের রোগ ও রোগের প্রতিকার সম্বলিত বিভিন্ন গাইড বুক। এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে লাগতে পারে। জিজ্ঞেস করে জেনে নিন, এই বই গুলোর বাংলা ভার্শন কোথা থেকে পাওয়া যায়।


কমিউনিটি -ইন্টেগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অফ চাইল্ডহুড ইলনেস (শিশুকালের রোগ প্রতিকারের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা)


অনেক এন জি ও আছে যাদের ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রেনিং দিতে হয়। আবার ট্রেনিং প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের বার বার রিফ্রেশার ট্রেনিং দিতে হয়। এই সব ট্রেনিং এ মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ভিডিও, ছবি , পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদির সাহায্যে ট্রেনিং দিলে কাজটা সহজ ও আরো ফলপ্রসূ হয়। এছাড়া , ট্রেনিং এর কাজে আপনাদের মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করতে দিয়ে আয় করতে পারবেন।


ঢাকা বা হেড অফিস থেকে প্রায়শই এই সব স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় বড় ডাটা ফাইল পাঠানো হয়। গাইড বই, বিভিন্ন ফর্ম ও পুস্তিকা পাঠানো হয়। আবার স্বাস্থ্যকর্মীদেরকেও নিয়মিত বিভিন্ন ডাটা হেড অফিসে বা জেলা অফিসে পাঠাতে হয়। এই সমস্ত কাজে আপনারা এন জি ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে যদি ব্যক্তিগত ই মেইল খুলে দেন এবং সেইটা ব্যবহার করে কি করে বিভিন্ন ধরনের ফাইল আদান প্রদান করতে হয় তা শিখিয়ে দেন তাহলে এই সেবার বিনিময় আয় করতে পারবেন।অনেক এন জি ও কর্মী আছেন যারা কম্পিউটার ব্যবহার জানেন না । তাদেরকে কম্পিউটার ব্যবহার করে কি ভাবে তথ্য পাঠাতে হয় তা শিখিয়ে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিয়ে কেন্দ্রের আয় বাড়াতে পারেন।


বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে ইউনিয়ন লেভেলে অনেক খবর, ঘোষণা, তথ্য ও নির্দেশ পাঠানো ও প্রচারের দরকার হয়। এই ধরনের তথ্য গুলো সরকার আপনাদের কাছে পাঠাতে পারে। এবং আপনাদেরকে স্বল্প টাকার বিনিময়ে সে সবের প্রচারে কাজে লাগাতে পারে। এই ধরনের কাজ করার জন্য আপনার ইউনিয়নে কয়টি খানা (পরিবার) আছে, তাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য সহ একটা তালিকা সব সময় হাতের কাছে রাখুন। পারলে যাদের মোবাইল ফোন আছে, তাদের টেলিফোন নম্বর এবং দরকারী সমস্ত সরকারী অফিসের নম্বর সহ।


একই ভাবে, ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক ধরনের তথ্য সরকার নিয়মিত সংগ্রহ করে। এইগুলাকে বলে জরিপ। সেই সবের মধ্যে এলাকার স্বাস্থ্যের তথ্য, কৃষি তথ্য, পশু পাখির তথ্য, শিক্ষার তথ্য, রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন উন্নয়ন্মূলক কাজের তথ্য ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনারা ইউনিয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে কর্মীদের এই তথ্য পাঠানোর কাজে সাহায্য করতে পারেন। আপনারা যদি শিখে নেন জরিপ কি ভাবে করতে হয় তাহলে, তাহলে খুবই ভালো হয়। এইগুলা খুব কঠিন কিছু না। যেমন ধরুন, আদমশুমারি। প্রতি ১০ বছর পর পর বাংলাদেশ সরকার দেশের লোকসংখ্যা গুণে। কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু তাও সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। আপনারা সারা বছর ধরে একটু একটু করে আপনার ইউনিয়নের পারিবারিক তথ্য ও তালিকা তৈরী করতে পারেন। স্রেফ পরিবারের সংখ্যা, পরিবারে সদস্যের সংখ্যা = মানে এলাকায় মোট কতজন লোক বাস করে - শুধু এই তথ্য আপনার কাছে থাকলেই একটা জরিপের কাজ হয়ে গেলো। জরিপের বিনিময়ে জাতীয় ডাটাবেজে তথ্য পাঠিয়ে টাকা আয় করতে পারেন।


আরেকটা জরিপ হলো বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভে। ২০০৭ সালে শেষ একটা জরিপ হয়েছে। মাত্র ১০,৮৩০ টি খানা বা পরিবারের সম্পর্কে কিছু তথ্য নিয়ে সারা বাংলাদেশের ১৫-১৬ কোটি মানুষের বয়স, পেশা, স্বাস্থ্য , আর্থসামাজিক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করে এই তথ্য। এর মানে হইলো, ১০ জনকে দিয়ে ১০০ জনের অবস্থা আন্দাজ করার মত। বা একটা মাত্র ভাত টিপে বলার চেষ্টা করা যে হাড়ির সব ভাত সিদ্ধ হইলো কিনা। স্বাভাবিক ভাবেই এই ধরনের জরিপে, ভুল থাকতেই পারে। আবার যত বেশি মানুষের উপর জরিপ করা হবে এবং যত বেশি মানুষের সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হবে - জরিপের ফলাফলে তত ভুল কম হবে। আবার এই জরিপের ফলের উপরে ভিত্তি করেই বাংলাদেশের সকল বাজেট এবং অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই, এই ধরনের তথ্যের দাম অনেক অনেক বেশি। আপনারা যদি নিজ নিজ ইউনিয়নে একই ধরনের তথ্য নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করেন এবং তা নিয়মিত আপডেট করেন ( মানে , সাম্প্রতিকতম তথ্য যোগাড় করে রাখেন) তাহলে যখন যেই সংস্থা বাংলাদেশের মানুষের উপরে কোন কাজ করবে , তাদেরকে আপনাদের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। বার বার লোক জন ট্রেনিং দিয়ে বার বার জরিপ করার চেয়ে আপনাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া সোজা এবং নির্ভুল হহওয়ার সম্ভাবনা বেশি । বিদেশে অনেক প্রাইভেট কোম্পানি এই রকম মানুষের তথ্য বড় বড় সংস্থা এবং সরকারের কাছে বিক্রি করে। আপনারাও সেবা বিক্রি করতে পারেন। ডেমোগ্রাফিক ডাটায় যে সব তথ্য যুক্ত করতে হবে তা এই ফাইল থেকে দেখে নিন। ব্লগার জয়নাল আবেদীন পারিবারিক স্বাস্থ্য কার্ড করতে চাইছেন। এই ফাইলের শেষের দিকে একটা উদাহরণ দেওয়া আছে, কি কি প্রশ্ন করা হয় এবং কি ভাবে উত্তর নেওয়া হয়। বাংলাটা পাইনি, ইংরেজিটা দেখে দেখে একই রকম প্রশ্ন পত্র তৈরী করে নিতে পারেন। এই প্রশ্ন পত্রের তথ্য অনুযায়ী ডাটা বেজ তৈরী করতে হবে। সেই ডাটা বেজ থেকে পরে যে কোন ধরনের কার্ড ( পারিবারিক স্বাস্থ্য কার্ড, ভোটার কার্ড ইত্যাদি) বানাতে পারবেন।



বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভে

পিডিএফ ফাইলটা বড় বলে এইখানে আপলোড করলাম না। আপনারা লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিন। কেউ মেইল এড্রেস দিলে আমি মেইল করে দিতে পারি। ফাইলের ৩০৪ নম্বর পৃষ্ঠায় প্রশ্নপত্রটা আছে।


এছাড়া অন্যান্য ট্রেনিং যা দিয়ে কেন্দ্রের আয় বাড়াতে পারেনঃ


লেখাপড়া, ট্রেনিং ও অন্যান্য কাজে কি ভাবে মাইক্রোসফট অফিসের এপ্লিকেশন ( ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এক্সেল, এক্সেস, ইত্যাদি) ব্যবহার করতে হয় তা শিক্ষক, ছাত্র ছাত্রী , এন জি ও কর্মীদের ক্লাস নিয়ে শিখাতে পারেন। যারা ছবি তুলেন তাদেরকে শিখাতে পারেন পিকচার ম্যানেজার ও ফটোশপ। যারা ব্যবসা করেন তাদের শিখাতে পারেন এক্সেল শিটে কি ভাবে ব্যবসার হিসাব নিকাশ করতে হয়। আপনারা নিজেরাও এই ধরনের বহু সফট ওয়ার আছে যা নিজে নিজে গুতাগুতি করতে করতে শিখে নিতে পারবেন। অনলাইনে টিউটোরিয়াল ও পাওয়া যায়। তবে বেশির ভাগই ইংরেজিতে।


যারা নতুন কিছু শিখতে চাইছে কিন্তু শেখানোর কাউকে পাচ্ছেন না , তারা গুগুলে আপনার শিখার বিষয়টির নাম লিখে সার্চ দেবেন। এরপর পেজের উপরের দিকে যেখানে Web Images Videos Maps News Shopping Gmail more এই রকম লেখা থাকে, সেখানে Videos তে ক্লিক করবেন । এতে করে, সেই বিষয়ের উপরে যে সব ভিডিও আছে, আপনার ইন্টারনেট লাইনের স্পিড ভালো থাকলে তা দেখতে পাবেন।


আজ এইটুকুই ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29303521 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29303521 2011-01-07 22:23:32
শীতে রোগ প্রতিরোধ ও ক্ষমতা বাড়াতে খিচুড়ি, সহজ রান্না, পাঁচ মিশালী ডাল , হালিম পাঁচমিশালি খিচুড়ি
উপকরণঃ পোলাওয়ের চাল ১ কাপ,
মসুর ডাল এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ,
মুগ ডাল এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ (হালকা ভাজা),
আলু ১টি,
বরবটি টুকরা এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ,
গাজর লম্বা টুকরা আধা কাপ,
পটল ১টি,
লাল শাক আধা কাপ,
ঝিঙা ১টি,
টমেটো ১টি,
ধনেপাতা,
পুদিনা পাতা
(ফুলকপি ও মটরশুঁটি শীতের দিনে)
ও কাঁচামরিচ।
পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ,
পানি ৩ কাপ,
আদা বাটা ১ চা চামচ,
রসুন বাটা আধা চা চামচ,
আস্ত রসুন কোয়া ৫-৬টি,
হলুদ গুঁড়া এক চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ,
লবণ ১ চা চামচ,
তেজপাতা ১টি,
তেল ৩ টেবিল চামচ।
নামানোর আগে ধনেপাতা, পুদিনা পাতা, কাঁচামরিচ।

প্রণালীঃ তেল গরম হলে তেজপাতা ও পেঁয়াজ, আদা বাটা, হলুদ ও লবণ, চাল, ডাল ও সবজি দিয়ে ভুনে পানি দিয়ে বেশি করে জ্বাল দিতে হবে। ফুটে উঠলে অল্প আঁচে ঢাকনা দিয়ে রান্না করতে হবে। লাল শাক, টমেটো, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা ও কাঁচামরিচ দিতে হবে। ২০ থেকে ২৫ মিনিট দমে রাখতে হবে। নতুন মায়েদের জন্য এই খিচুড়ি অনেক পুষ্টিকর।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মে ০৫, ২০০৯

ঘন ঘন খিদা যাতে না লাগে তাই খাবার দাবার ব্লেন্ড করে সেমি সলিড অবস্থায় বা ঘন স্যুপের মত করে খেতে হয়। পাকস্থলী হলো ছাঁকনির মত। ছাকনির মধ্যে আস্ত আস্ত ডাল দিয়ে পানি ঢাললে সুরুৎ করে চলে যাবে কিন্তু রান্না করা ঘন ডাল ঢেলে দিলে ছাকনির মধ্যে দিয়ে সহজে যেতে চায় না। গরীবের পেট ভরা রাখতে চাইলে তাই ঢিলা খিচুড়ি বেস্ট।



সহজে পুষ্টিকর খাদ্য রান্না করতে হলে হালিম বেস্ট। হালিমে দামী দামী মাংসই দিতে হবে, এমন কোন কথা নেই। যে কোন মাছ বা মুরগী দিয়েও হালিম রান্না করা সম্ভব। এর সাথে চাল যোগ করে দিলে হয়ে গেলো পাঁচ মিশালী ঢিলা খিচুড়ি। অনুপাত -
হালিমে মাংসঃডাল=১ঃ১। মসল্লা দ্বিগুণ।
খিচুড়িতে চালঃডাল= ২ঃ১ অথবা ৩ঃ১। মাংস - যে কোন পরিমাণ। মসল্লা কম।

লাবড়া ? সবচেয়ে সহজ রেসিপি হলো মাংসকে মাংসের মত করে রান্না করুন। ( তেল, লবণ, হলুদ, মরিচ, পিয়াজ, আদা, রসুন, জিরা, ধনে, গরম মসল্লা) । আরেকটা হাড়িতে ৫-৬ রকমের ডাল সিদ্ধ করে ফেলুন। মিনিট ১৫-২০ মিনিট আগে চাল ও সবজি যোগ করুন। সিদ্ধ হয়ে এলে এবার মাছ/মুরগী/মাংসের হাড়িতে গরম মসল্লাসহ ডাল-চাল-সবজির মিশ্রণ ঢেলে দিন। ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ কুচি দিয়ে দমে রাখুন। যেইটা হবে সেইটার নাম কি হবে জানি না , তবে খেতে খুবই মজা আর পুষ্টিকর। এইটাকে লাবড়া বলে কিনা জানি না।

শীতে রোগ প্রতিরোধঃ

শীতে কি ধরনের খাবার খেতে হবে? কোন ধরনের ভিটামিনযুক্ত খাবারকে প্রাধান্য দেবে? অতিরিক্ত শীত শিশুদের জন্য কি ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে, তার থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? অল্প টাকায় এমন কোন খাবারের ব্যবস্থা করা যায় কি না, যা শিশুদের শীত হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত বৃদ্ধরা কি করবে?

১। শীতের জন্য আলাদা করে কোন খাবারের প্রয়োজন নেই। পুষ্টিকর খাবার খেলেই হলো।
২। শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত রাখতে সব ভিটামিনের ভূমিকাই এক। মানে শরীর চাই সুস্থ ও সবল। তবে, কেউ কেউ ভিটামিন এ ও ডি এর কথা বলেন। সার্বজনীন ভাবে, রোগ প্রতিরোধের সিস্টেম মানে ইমিউন সিস্টেম ভালো হইলেই হলো।
এর বাইরে বাংলাদেশের কবিরাজি ও হোমিও প্যাথি শীত প্রতিরোধে বেশ ভালো। যেমন, কাচা রসুন। সরিষার তেল। কালিজিরা ভর্তা। আদার রস। মধু। গরম দুধ। ইত্যাদি।
৩। অতিরিক্ত শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাস তন্ত্র আক্রান্ত হয়। ফ্লু, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগে মারা যায়। বাংলাদেশে যত নবজাতক মারা যায় তার মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগে মারা যায় সবচেয়ে বেশি। ঠান্ডা ও রোগ এড়াতে করনীয় নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের newborn care guideline পাবলিশ হয়েছে। ডাউনলোড করে নিতে,
Click This Link

৪। বৃদ্ধদের ঠান্ডা এড়ানোর উপায়ঃ
ক) যতটা সম্ভব একই তাপমাত্রায় থাকা
খ) নাক মুখ ঢেকে চলাচল করা, বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে
গ) বার বার হাত ও মুখমন্ডল ধুয়ে পরিষ্কার রাখা।
ঙ) হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা।
চ) প্রতিদিন ধোয়া রুমাল ব্যবহার
ছ) একটা মোটা কাপড় না পরে, দুই তিন স্তরে কাপড় পড়লে ঠান্ডা কম লাগবে
জ) ঘন ঘন গরম চা, পানীয়, দুধ, তরল পান
ঝ) ঠান্ডা লেগে গেলে গরম পানি খাওয়া ও গার্গল করা।
ঞ) দুই বেলা দাঁত মেজে মুখ পরিষ্কার রাখা ( মুখের জীবানু ফুসফুসে যায়)

৫। হার্টের রোগী ও এজমার রোগীদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন প্রয়োজন।

৬। অল্প টাকায় সবচেয়ে ভালো খাবার হলো সবজি খিচুড়ি। কয়েক রকমের ডাল আর সবজি দিয়ে ঢিলা খিচুড়ি খাওয়া ভালো। একটু ঘুটা দিয়ে সেমি সলিড করে নিলে ভালো। এই খাবার সুস্বাদু, পুষ্টিকর, পেটে থাকে বেশিক্ষণ ফলে খিদা লাগবে কম। আবাল বৃদ্ধবণিতা সকলের উপযোগী।

৭। পা মোজা, হাতের দস্তানা, মাথার টুপি ও নাক মুখের জন্য মাফলার - আবশ্যক।

৮। সদ্য ভূমিষ্ট বাচ্চাকে ৩ দিনের আগে গোসল করানো যাবে না এবং সাথে সাথে বুকের শাল দুধ খাওয়াতে হবে।

বিস্কুট বনামখিচুড়ি বিতর্ক

গওহার নঈম ওয়ারা

‘স্কুলে বিস্কুট! ও আমার ভালো খোদা! ‘Oh my good God’-এর সরল অনুবাদ ‘ও আমার ভালো খোদা’। এদেশে বিদেশীরা কাজ করতে এলে বাংলা শেখার চেষ্টা করেন। উদ্দেশ্য মহৎÑ এদেশের র-অনেস্বর (রং) ঢ-অনেস্বর (ঢং) বোঝা। স্থানীয় সংস্কৃতি জানা ও সেই মতো আচরণ করা। এদেরই কোনো একজন এদেশের শিশুদের পুষ্টিমান বাড়ানোর ওসিহত নিয়ে কাজ করতে এসেছিলেন বছরতিনেক আগে। ‘Oh my good God’-এর অনুবাদ এভাবে করেছিলেন তিনি। সভা সমিতিতে কোনো কারণে বিস্মিত হলে বেশ জোরে বলে উঠতেন, ‘ও আমার ভালো খোদা!’ তিনি এখনো আছেন। মনে হয় এদেশের শিশুদের পুষ্টি বাড়ানোর জন্য কোনো পাথর সরানোর কাজ তিনি বাদ রাখবেন না। সাধু! সাধু!! জোরে বলুন সাধু! সাধু!!

পাঠক জানেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা শিশুদের মুখে বিস্কুট পুরে দিয়ে পুষ্টিমান বাড়ানোর ঝামেলহীন কার্যক্রম অনেকদিন থেকে চলে এলেও পরপর কতগুলো জেলায় বিস্কুট খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লে (মতান্তরে একজনের মৃত্যু ঘটলে) প্রতিবাদের মুখে এই কর্মসূচিতে সাময়িক বিরতি দেয়া হয়। তবে এই বিরতি এখন টিভি সিরিয়ালের কমার্শিয়াল ব্রেকে পরিণত হয়েছে। বিস্কুট পক্ষেও স্বার্থরক্ষার সকল বিজ্ঞাপন শেষে আবার বিস্কুট বিতরণ শুরু হতে যাচ্ছে। বিস্কুট উকিলরা (!) তাদের পক্ষে যে যুক্তিগুলো দেখিয়েছেন সেগুলো হচ্ছে (পাঠক হাসবেন না প্লিজ)-

১। বিস্কুটে ময়েশ্চার কনটেন্ট (আর্দ্রতা) প্রায় থাকেই না। ময়েশ্চার কনটেন্ট বেশি হলে বাংলাদেশের উষ্ণ জলবায়ুতে যে কোনো খাবারের জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে (এখানে অবশ্য প্রায় থাকেই না বলতে কি বোঝানো হয়েছে তা জানা যায় না, তবে এটা বোঝা যায় যে একেবারেই যে থকে না তা কেউ বলছেন না।)

২। খিচুড়ি স্থানীয় পর্যায়ে রান্না করতে হবে বিধায় অধিক জনবল ও উপকরণের প্রয়োজন হবে, যার সংস্থান করা সরকারের পক্ষে বেশি কঠিন ও জটিল। (আমরা কি শপথ নিয়েছি যে শুধু সহজ আর সরল কাজগুলো করব)

৩। যেহেতু স্কুল ফিডিং কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ স্কুলগুলোয় পরিচালিত হয়, সেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে এর মান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সকলে মনে করেন (ডি, এল রায়ের নন্দলাল একদা বলেছিলেন, ‘আমি না দেখিলে কে দেখিবে...।’ ঢাকাস্থ কর্মকর্তা ছাড়া খিচুড়ির মান নিয়ন্ত্রণ কেউ করতে পারবে নাÑ এটা শুধু নন্দলালরা ভাবতে পারেন। সে জন্যই হয়ত তাদের ‘তাই শুয়ে শুয়ে কষ্টে বাঁচিয়া’ থাকতে হবে।)

৪। বিস্কুটে যে পুষ্টিমানের নিয়শ্চতা থাকে, তা খিচুড়িতে দেয়া সম্ভব নয়। (কেন? কীসের ভিত্তিতে এই উপসংহার)

৫। গ্রামীণ পরিবেশে বাচ্চারা খিচুড়ি প্রায়ই তাদের বাড়িতে খেয়ে থাকে বরং বিস্কুটের প্রতি তাদের একটা আকর্ষণ থাকে (প্রায়ই খিচুড়ি খেয়ে যদি তার প্রতি আকর্ষণ হারায় তা হলে রোজ বিস্কুট খেলে বিস্কুটের প্রতি আকর্ষণ থাকবে কি?)

৬। সর্বোপরি এমন কোনো জরিপ নেই, যাতে করে সরকার বুঝতে পারেÑ বিস্কুটের চেয়ে বরং খিচুড়ি বাচ্চারা অধিক পছন্দ করে এবং তা বেশি পরিমাণ পুষ্টির যোগান দিতে সক্ষম। (জরিপ নেই, জরিপ করুন কে বাধা দিয়েছে? সোজা কথায় শিশুদের জিজ্ঞাসা করুন তারা কি চায়)।

এসব বিতর্কিত বিষয়টি চাপা পড়ে যাচ্ছে সেটা হলো- বিস্কুট খেয়ে কেন শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল? তদন্ত কি বলে? কে তদন্ত করেছিলেন? তিনি কি আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাদের বাবা মা বা যাদের দায়িত্বে তারা আছে তাদের ‘‘শুধায়ছিলেন’’ ঘটনা কি? শিক্ষকরাই বা কি বলেন? ইত্যাদি নানা প্রশ্নের জট না খুলে আবার বিস্কুটে ফিরে যাওয়া কতটা বিবেক প্রসূত হবে? এর জবাব কে দেবে? আম মিষ্টি হয় পাকলে আর আমলাদের বিবেক খোলে অবসরের সর খেতে খেতে। অতএব যারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাদের বিবেকের কাছে আবেদন-নিবেদন করে কোনো লাভ নেই। তাদের মতেই সব কিছু হবে।

এই ‘মত’-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন উপমহাদেশের বিখ্যাত শিক্ষাবিদ কবি মেঘনাপুত্র চাঁদপুরের সন্তান শঙ্খ ঘোষ :
‘...এতো দিন কি শিখেছি একে একে বলি শুনে নাও
মত কাকে বলে, শোনো। মত তা-ই যা আমার মত
সেও যদি সায় দেয় সেই মত তবে সে মহৎ,
জ্ঞানীও সে, এমনকি আপনলোক, প্রিয়। তার চাই
দু’-পাঁচটি পালক লাগানে টুপি, ছড়ি, কেন না সে
আমার পাশেই থাকে আমার মতের পাশে পাশে...’
এই যখন অবস্থা তখন বিস্কুটের বিরুদ্ধে মত দেয়ার ঝুঁকি কে নেবে? আমাদের বাঙ্গাল ভাষায় :
‘ব’সে কইচে তাই
আর কোন যুক্তি নাই...’

কিন্তু যুক্তি আছে বিস্কুটের বিপক্ষে। এটা শুনতে হবে। ‘ও আমার ভালো খোদা’ বলে পাশ কাটানো যাবে না। পাঠকরা জানেন এই বিস্কুট যক্ষ্মা রোগীকে ওষুধ খাওয়ানোর মতো শিক্ষকের সামনে খেতে হয়। যখন শিক্ষক বলবেন আর যখন তার দেখার সময় হবে তখন। খিদে পাক বা না পাক। খাবার ইচ্ছা হোক বা না হোক । ওষুধ বানানো হয়েছে এই বিস্কুট সমাধানকে। আপনাদের হয়ত মনে আছে একবার এক শিশু তার বাড়িতে থাকা ছোট ভাইয়ের জন্য বিস্কুট না খেয়ে লুকিয়ে রেখেছিল পকেটে। জানা জানি হয়ে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক তাকে এমন প্যাদানি দিয়েছিলেন যে শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে হয়। শিশুটি আর হাসপাতাল থেকে ফেরেনি। কেন ফেরেনি সে বিতর্ক নাই বা করলাম। কারণ ইতোমধ্যেই ‘মত’ দেয়া হয়ে গিয়েছে। শঙ্খ ঘোষ বলেছেন, ‘মত তা-ই যা আমার মত....’। এ রকম নির্যাতনের ঘটনা আরো আছে। খবরে সব আসে না।

গ্রামের অনেক স্কুলে এখন শিশু শ্রেণী খোলা হয়েছে। এইসব শিশুর ঠাঁই হয়েছে স্কুলের দাওয়াই বা বারান্দায়। এ সব ভবিষ্যত ছাত্র-ছাত্রীরা উঁকি দিয়ে দেখে ঘরের ভেতর বড় ভাই-বোনরা বিস্কুট খায়। তাকিয়ে থাকে নতুন শিশুর দল। চোখের সামনে দেখে বুক ফাটা বৈষম্যের ছবি। কি শেখাচ্ছি আমরা? সবশিশুকে বিস্কুট দেয়ার বিষয়ে কয়েকবার দেনদরবার করার কথা শুনেছি। দাতা সংস্থা একই উত্তর দিয়েছেন বার বার নানা ভাবে। ‘‘করার কিছু নেই, সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছে, শিশু শ্রেণীর শিশুরা মূল স্কুলের অংশ নয়। আমরা পারব না।’’ কে বোঝাবে কাকে? ইংরেজিতে একেই বলেÑ ‘‘If I am not interested then nobody can make me interested.’’। সাধু! সাধু!!

খিচুড়ি রান্নার উপকরণ, জনবল, মাননিয়ন্ত্রণ, পুষ্টিমান ইত্যাদি নিয়ে যেসব যুক্তি এখন দেখানো হচ্ছে তার কোনোটাই কিন্তু খিচুড়ির পক্ষে বাধা হতে পারে না। পাশের রাষ্ট্র (আমি ভারতের দালাল নই) ভারতে ‘‘অঙ্গন বাড়ি’’ নামে একটা প্রাক স্কুল কর্মসূচি আছে। স্থানীয় মায়েদের সম্পৃক্ত করে সারা ভারতে শিশুদের পুষ্টি বৃদ্ধির এই কর্মসূচি খুবই সফলভাবে চলছে। খিচুড়ি রান্নার জনবল এমনকি হাঁড়ি-পাতিল এবং কাঠখড়িও গ্রামের মানুষ পালা করে যোগায়। মায়েরা দল বেধে দিন ভাগ করে নিয়েছেন। কে কবে এসে শিশুদের খাওয়াবে। শিখিয়ে দেয়া হয়েছে; কেমন করে স্থানীয় উপাদান দিয়ে বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন তরিকায় সুস্বাদু আর পুষ্টিকর খিচুড়ি বানানো যায়। কোনো কোনো মায়ের হাত যশ ভালো, তাঁরা রাঁধেন ভালো। শিশুদের আনন্দ বাড়ে তাদের দেখে। তবে আস্তে আস্তে সব মায়ই শিশুদের পছন্দ বুঝতে শিখেছেন। খিচুড়ি একমাত্র খাবার যার পুষ্টিমান বজায় রেখে নানা স্বাদে নানা রঙ এ রান্না করা যায়। একঘেয়েমির আশঙ্কা থেকে শিশুকে দূরে রাখা যায়।

ও আমার ভালো খোদা- আমি এসব কাকে বলছি। শঙ্খ ঘোষের বাণী বাজে কানেঃ
‘‘আর যা ঘটবার তা ঘটতে থাকে
আর আমাদের প্রতিবাদগুলো খেলা করে
আমরা গুমরাই, গান গাই
আমরা কথা বলি, পিঁপড়া হয়ে এগোই
যা ঘটবার তা ঘটতে থাকে
আমরা প্রতিবাদ করি
করতে করতে ঘুমাই
ঘুমুতে ঘুমুতে কথা বলি
যা ঘটবার ঘটতে থাকে
ঘটতে থাকে...’’

আহা আমার পিছনে বা পাশে যদি দু’একটা সর খাওয়া অবসরপ্রাপ্ত আমলা থাকতেন তাদের সদ্যমুক্তিপ্রাপ্ত বিবেক নিয়ে তা হলে হয়ত কোনো একটা টকশো’ এই বিস্কুটের বিষয়টি তোলা যেত।


সূত্রঃ Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29302681 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29302681 2011-01-06 10:07:18
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি তাহলে ব্লগ পড়েন? নববর্ষের শুভেচ্ছা। স্বাগতম ২০১১। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
আজ রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে জাতীয় সমাজসেবা দিবস ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক কার্যক্রমের অধীনে প্রদত্ত ভাতাসমূহ সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সব ভাতা দেওয়া হবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা কোনো ধরনের সুযোগ বা ভাতা গ্রহণকারীদের ঠকাতে পারবে না।
----------------

কত কিছুই লিখি ব্লগে। প্রত্যাশা থাকে নীতিনির্ধারকদের কারো চোখে যদি পড়ে ! যদি কেউ তাদের কানে তোলে! পলিসি লেভেলে কিছু পরিবর্তন এলে নিজেকে সার্থক মনে হয়। এমনিতে জানার কোন উপায় নেই, শেখ হাসিনা কিংবা শিক্ষা মন্ত্রী অথবা আমলাদের কেউ কিছু পড়লো কিনা। (মডু মশাই, তেমন কিছু ঘটলে জানাবেন দয়া করে, খুশি হওয়ার মত কটা ঘটনাই বা ঘটে , বলুন?)

তারপরেও আজকের এই খবরটা পড়ে মনে হলো, শেখ হাসিনা নিজে না হোক, কেউ পড়ে তাকে শুনিয়েছে। বিশেষ করে, সরকারী বেতন, শিক্ষা বৃত্তি ও সরকারী ভাতা মানুষের হাতে নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর জন্য ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা পৌঁছানোর প্রস্তাব করেছিলাম । ৬৪ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাবও দিয়েছিলাম - যেন এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও ইন্টার্নশীপ চালু হয়।

সত্যি সত্যি যদি ব্লগ পড়ে কেউ এসব পদক্ষেপ নিয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও নীতি নির্ধারন (পলিসি মেকিং ) এ তা হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।

প্রধানমন্ত্রী , আপনার সাথে কথা বলা খুব কঠিন। আমরা পৌঁছাতে পারি না। আপনি যদি ব্লগ পড়েন- তাহলে সত্যিই খুব উপকার হয়। আমি জানি, আপনি নিয়মিত বেশ কয়টা দৈনিক পত্রিকা পড়েন। ডিজিটাল বাংলাদেশের পথিকৃত হিসেবে আশা করছি, ব্লগকেও সংবাদ ও মতামত জানার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন। এবং সেই সব মত ও চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন আমরা সরকারী নীতি ও কার্যবিধিতে দেখব।

২০১১ সালের নতুন বছরে শুভেচ্ছাসহ এই একটাই প্রত্যাশা।

আমার কিছু বাংলাদেশ বিষয়ক লেখা ঃ

আইডিয়া বোর্ড / পরিকল্পনা / টাস্ক ম্যাট্রিক্স

সাবমেরিন কেবল , ব্রড ব্যান্ড রপ্তানির পাগলামি আর ঘরে ঘরে চাকুরীর জন্য একটা বিকল্প প্রস্তাব

ডিজিটাল মনিটরিং, ডাটাবেজ, স্কুলে সোলার প্যানেল ও কম্পুটার ল্যাব, ব্লগের নতুন ফিচার - কিছু মতামত


সামু ব্লগে ইংরেজি পোস্ট এবং মন্তব্য ঃ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আপনাদের মতামত

নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে এই রকম খবর, ব্লগ পোস্ট দেখতে চাই ।

বিদ্যৎ সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান ও জাতীয় পরিচয় পত্র - কিছু ভাবনা ।

কার্যকরী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী , কিছু অনুরোধ !

(নারী) পুরুষের যৌণ সমস্যা নাকি আমাদের শিক্ষার সমস্যা ? কিছু প্রশ্ন , কিছু প্রস্তাব - সমস্যার উল্লেখ কিংবা হতাশা প্রকাশ নয়, আসুন সমাধান নিয়ে কথা বলি

লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর- শেষ পর্ব

মোবাইল ফোন , ডেভেলপমেন্ট ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা

মাননীয় নির্বাচন কমিশনার , আমার জাতীয় পরিচয়টা যদি

(নারী) পুরুষের যৌণ সমস্যা নাকি আমাদের শিক্ষার সমস্যা ?

---------------------------
এই পোস্টটি কেউ কোথাও শেয়ার করতে চাইলে নির্দ্বিধায় করতে পারেন। আগাম ধন্যবাদ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29301005 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29301005 2011-01-03 00:26:48
আইডিয়া বোর্ড / পরিকল্পনা / টাস্ক ম্যাট্রিক্স
কিছু আইডিয়া অনেক বিশাল কিছু নিয়ে। যেমন, " বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা" কিংবা "স্বাস্থ্য সেক্টর এ রিসার্চের সমন্বয় " ইত্যাদি। আবার কিছু আইডিয়া বেশ ছোট ছোট, যেমন, 'ওষুধ খেতে ভুলে গেলে মনে রাখার সহজ উপায়' কিংবা 'ইলেক্ট্রনিক হেলথ রেকর্ড" ।

ছোট হোক , বড় হোক, চিন্তা গুলো মাথায় কামাড়াতে থাকে, কিছু না করা পর্যন্ত অন্য কোন কাজে মন দেওয়া দুস্কর হয়ে যায়।

এখন ব্লগ লিখার সময় নাই। তাই এই আইডিয়া বোর্ড হিসাবে ব্লগকে ব্যবহার। যখন যা চিন্তা আসবে, লিখে রাখবো। আরেকটা কারণ হইলো, এই সব চিন্তা থেকে কোন বিজনেস আইডিয়া যদি কেউ বের করে কাজ শুরু করতে পারে তো ," খুব ভালো"!

আইডিয়া ১

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৈনিক কাজকর্মকে ডিজিটাইজড করা । এইটা এ আই ইউ বি করে দেখিয়েছে। সুতরাং, সিস্টেম নতুন করে ডেভেলপ বা না কিনলেও চলবে। অন্যান্য ইউনি বা স্কুল কলেজের জন্য স্রেফ কাস্টমাইজড করে নিলেই হবে। টার্গেট স্কুল হিসেবে ঢাকার স্কলাস্টিকা, আগা খান, রেসিডেন্সিয়াল নেওয়া যায়। টাকা, জ্ঞান ও ইচ্ছা বড় ফ্যাক্টর। রংপুরের একটি স্কুল উপস্থিতি নিশ্চিত করার ডিজিটাল যন্ত্র বসিয়েছে। ইন্টারেস্টিং কিন্তু জরুরী নয়। এর চেয়ে অনেক বেশি জরুরী ছাত্র ছাত্রীদের অনলাইন প্রোফাইল/ একাউন্ট, এসাইন্মেন্ট অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা, রেজাল্ট অনলাইনে দেখা, দৈনিক উপস্থিতি- ক্লাস হইলো কিনা- কে ক্লাসে কেমন করছে - শিক্ষকের কাজ কর্ম ইত্যাদির হিসাব ডিজিটালি সংরক্ষণ। স্কুলে ভর্তির দিন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহ , মাসের এবং সাব্জেক্ট প্রতি ছাত্র ছাত্রীদের প্রগ্রেস ডিজিটালি সংরক্ষণ করলে এইটাই বার্ষিক রিপোর্ট কার্ড এবং স্কুল কম্পলিশন শেষে ট্রান্সক্রিপ্ট হিসেবে কাজ করবে। এক্সেল শিটের মত কিছু হলে স্কুলের সার্বিক শিক্ষার বিভিন্ন ইন্ডিকেটরে খুব সহজেই গ্রাফ তৈরী করে দেখা যাবে। এইটা ছাত্র, শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের সেলফ ইভ্যালুয়েশনে কাজ করবে।

তথ্যের মালিকানা ও নিরাপত্তা এই ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

শিক্ষা মন্ত্রনালয় যেই সব শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য নিয়মিত রিপোর্ট করতে বলে - সে সমস্ত ইন্ডিকেটরের উপরে তথ্য সংগ্রহ ও রিপোর্টের ইলেট্রনিক ব্যবস্থা। স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট এই ব্যাপারে বড় ভূমিকা রাখবে। যে সব স্কুলে এখনো নেই, সে সব জায়গায় ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের সাহায্য নেওয়া যায়। শিক্ষা বোর্ডের ডিজিটাইজেশন অতি জরুরী।

আইডিয়া দুই

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাইজেশন। এইটা সেক্টরকে অটমাইজেশন করাটা , বিশেষ করে লোকাল লেভেলে অনেক সহজ হবে। বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড় যোগাযোগ, সেন্সিটাইজড হেলথ ওয়ার্ক ফোর্স , প্রচুর অপারেশনাল রিসার্চ , ডাটা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা , মোবাইল ফোনের ব্যবহার , মোবাইল হেলথ এবং ই হেলথ সংক্রান্ত পলিসি - এই ফ্যাক্টর গুলা সাহায্য করবে।

প্রাইভেট সেক্টর অনেক এগিয়ে গেছে । পাবলিক সেক্টর কুম্ভকর্নের ভূমিকা নিয়েছে। টেকনোলজির ব্যবহারে লোকাল গভর্মেন্টের লোক জন যেমন, থানা, ইউনিয়ন, উপজেলা , এমন কি জেলা প্রশাসনকেও উৎসাহী করা সহজ হয়। উপর মহলে না জানাইতে হলে নিজেরা নিজেরা নতুন কোন টেকনোলজি টেস্ট ও করে ফেলা যায়। ঢাকার মন্ত্রনালয়কে কিছু বুঝাইতে যাওয়া টাফ। এই বাধাটা কেমনে কি করা যায় ভাবতে হবে।

মেডিকেল এডুকেশনে রিসার্চ সেন্টার গুলো এগিয়ে আছে (প্রাইভেট)। প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ গুলো পাবলিক মেডিকেল কলেজের রিটায়ার্ড প্রফেসর কিংবা তাদের সমসাময়িক দিয়ে নিয়ন্ত্রিত । ফলে , পাবলিক মেডিকেল কলেজের যেই কুম্ভকর্ন হাল , প্রাইভেটরাও সেই জড়তার পাথরে চাপা পড়েছে ।

ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহারে সবচেয়ে আগে এগিয়ে আসবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা । বিশেষ করে যারা হাজারটা ডাটা কালেক্ট করে হয়রান। এর ভিতরে বেচারা স্কুল শিক্ষকেরাও আছেন। মন্ত্রনালয়ের পরিবার পরিকল্পনা কর্মী লেভেল লোক জন কি করবে বুঝা যাচ্ছে না । শিক্ষা ও কম্ফোর্ট লেভেল বিবেচ্য।

প্যারামেডিক, ল্যাব টেকনিশিয়ান, নার্সরা কেমন ভাবে নিবে বুঝা যাচ্ছে না। কম্পিউটার কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করে যদি কাজ কমে, কষ্ট কমে, সময় বাঁচে - তাহলে উৎসাহ পাবে। এই ব্যাপারে কি করা যায়?

ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি , সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে পাওয়ার ফুল বাধা , ঝামেলা তৈরী করবে ডাক্তাররা । ইন জেনারেল, ডাক্তাররা আই সি টি সম্পর্কে বড়ই উন্নাসিক। তবে, নতুন প্রজন্ম যারা কম্পিউটার , ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ইত্যাদির বহুমুখী ব্যবহার আগে থেকেই জানে এবং ডাক্তারী পড়তে ঢুকছে , তারা "কোর ম্যাস" হিসেবে কাজ করতে পারে ।

সবার আগে দেশের বড় বড় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গুলাকে ডিজিটাইজেশন --- নাকি আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্স , তারপর আস্তে আস্তে উপরের দিকে?

মেডিকেল সাপ্লাইকে সবার আগে ডিজিটাইজড করা দরকার -

ড্রাগ, ভ্যাক্সিন, মেডিকেল ডিভাইস , সার্জিকাল ইকুইপমেন্ট - ইনভেন্টরি , সাপ্লাই, ডিমান্ড , এরর রিপোর্ট , এক্সপেন্ডিচার ইত্যাদির ক্ষেত্রে সফট ওয়ার ব্যবহার। বার কোড ব্যবহার। ডিফেক্ট স্টাম্প ( ডিভাইসের ক্ষেত্রে) ব্যবহার। ডিভাইস ব্যবহারের জন্য ট্রেনিং ।

ওষুধ নীতির মত বাকি মেডিকেল টেকনোলজির জন্য জাতীয় নীতিমালা। ক্লিনিকাল গাইড লাইন।

ইলেক্ট্রনিক হেলথ রেকর্ড। ইলেক্ট্রনিক ইনভেন্টরি রেকর্ড।

সারা দেশের হাসপাতাল/ সরকারী ফার্মেসী গুলোকে অনলাইনে সংযুক্ত করা ।

সারা দেশের সরকারী হাসপাতালে ডেন্টাল ইউনিটের যন্ত্রপাতি, মাল মসল্লার ইনভেন্টরি ও ম্যানেজমেন্ট।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে এই সব ফার্মেসী এবং হাসপাতাল ইনভেন্টরী গুলোকে অনলাইনে , সেইম সফট ওয়ারের মাধ্যমে সংযুক্ত রাখা ।

কোথায় কি সাপ্লাই হচ্ছে, খরচ হচ্ছে, নষ্ট ও মেরামত হচ্ছে - তার একটা জাতীয় হিসাব।

চিঠি চালা চালি থেকে মুক্তি চাই। আমি তেতুলিয়ায় বসে অনলাইনে কোন ডিমান্ড নোট পাঠালে সেইটা পরের পাঁচ মিনিটে রেড এলার্ট সহ ঢাকার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যেন দেখতে পায়। বছরের শেষে দুইশ মাইল লম্বা রিপোর্ট লিখতে চাই না । বাজেটের আগে একটি " রিপোর্ট বাটনে" ক্লিক করলেই যেন সারা বছরের রিপোর্ট রেডি হয়ে যায় ( যা নিয়মিয় আপডেট হয়েছে প্রতি সপ্তাহে, মাসে)। একটা সিদ্ধান্তের জন্য ৬ মাস অপেক্ষা করতে চাই না । ডিজিটাল সাইনের মাধ্যমে সরকারী সিদ্ধান্ত ৩-৭ ওয়ার্কিং ডে'স এর মাঝে আসা/যাওয়া উচিত।

এই ভাবে সাপ্লাই চেইনকে অটোমাইজেশন করা দরকার।

টেস্ট কেস হিসাবে ঢাকা মেডিকেল আর ঢাকা ডেন্টাল টার্গেট করা হইলো। চট্টগ্রাম আর রাজশাহী সেকেন্ড চয়েস।

আইডিয়া তিন

মেডিকেল এডুকেশন এর সিলেবাসে রিসার্চ মেথোডলজি এবং হেলথ সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট কম্পোনেন্ট ঢুকানো দরকার ।

প্রতিটা ডাক্তারই পাশ করে একটা সরকারী হেলথ কম্পলেক্স বা প্রাইভেট ক্লিনিক চালায়। নিদেন পক্ষে অন্য কারো ক্লিনিক বা হাসপাতালে কাজ করে। এই সব ক্লিনিক, কমপ্লেক্স, প্যাথ ল্যাব, ও চেম্বার চালাইতে হইলে ডাক্তারী জ্ঞানের পাশাপাশি কিছু ব্যবসা পাতির জ্ঞান লাগে। সাথে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ও সেইটার কর্মীদের নিজেদের সেইফটি, কোয়ালিটি , ক্লিনিকাল গাইড লাইন এর জ্ঞান থাকা লাগে। যন্ত্রপাতি কিনতে আমদানি নীতির জ্ঞান লাগে।

সুতরাং একজন ডাক্তার শুধু একজন স্বাস্থ্যকর্মীই না। ক্লিনিকাল ডিসিশনের পাশপাশি তার বিজনেস, ম্যানেজমেন্ট, বাজেটিং , হিউমেন রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিশন নেওয়া লাগে। এই গুলা সম্পর্কে ধারণা , শিক্ষা , প্র্যাক্টিস ছাত্র জীবন থেকেই পাওয়া উচিত ।

চেম্বারের জন্য জায়গা সিলেকশন, পেশেন্ট বেজ, কম্পিটিশন, লেবার মার্কেট , কনজিউমার প্রোফাইল --- জানা উচিত।


( এই ধরনের আইডিয়া ব্লগ আপডেট হতে থাকবে)

পুনরায় নিজের ডিব্বায় ফেরত যাইতেছি। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />


মাথা এখন খালি । কি শান্তি । কি শান্তি । কি শান্তি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29277841 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29277841 2010-11-25 20:23:40
সুরের রানী , হৃদয়ের মণি রুনাকে শুভ জন্মদিন - ঈদের শুভেচ্ছা সবাইকে
অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও, অভাবের মাঝেও রুনা রুনাই। তাঁর কন্ঠের জাদু বাংলা গানকে যা দিয়েছে - তুলনাহীন। আমার কৈশোরে এসে রুনা আর সাবিনা ইয়াসমিনের মাঝে শুরু হয় এক অযথা প্রতিযোগিতা। অযথা এই জন্য যে সেই প্রতিযোগিতা আমাদের সমৃদ্ধ করেছিল বলে আমার মনে হয়নি। বরং বদ্ধ পুকুরের পানি নিয়ে টানাটানিই মনে হত- যদিও রুনা এ সবের উর্ধ্বে - খোলা সমুদ্রের শিল্পী। তাই হয়ত ইউটিউবে প্রায়ই বিভিন্ন দেশী শ্রোতাকে দেখা যায় রুনাকে " উপমহাদেশের শিল্পী বলে দাবী" করতে। সকলেই তাকে চায়- ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ - এমন কি যে এই ভূখন্ডের ভাষা বুঝে না- সেও!

প্রিয় শিল্পীকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। রুনার প্রিয় শিল্পী আব্দুল আলিমের মতন রুনাও শ্রোতাদের হৃদয়ের সিংহাসনে সম্রাজ্ঞী হয়ে থাকুন চির নির্মল, চির উজ্জ্বল, চির অমলিন।

কিশোরী রুনা ঃ


অনেক গানের মাঝে প্রিয় একটা ঃ সুখ তুমি কি?


সুফী কাওয়ালী ঃ দমা দাম মাস্তকালান্দার
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29273768 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29273768 2010-11-17 20:55:47
একটি নির্ভুল ব্লগে নির্ভুল ভাবে নির্ভুল রেজিস্ট্রেশন সহায়িকা
অত্যন্ত বুদ্ধিমানের মত তাহারা তাহাদের ওয়েব সাইটটি গোপন করে রেখেছেন। কিছুই বুঝলাম না । ই গভর্নেন্স মানে হইলো আরো বেশি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন। কিন্তু ইনারা জনগণের কাছে তালাবন্ধ উপায়ে কেমনে আসবেন?

বৃটিশ আমলে সরকারী সকল কিছুই " সিভিলিয়ান" জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখার চেষ্টা হত। এই অবস্থা বজায় ছিলো পাকিস্তান আমলেও। কারণ - বৃটিশ ও পাকি - দুই সরকার যন্ত্রই ছিলো শাসকের নয়, শোষকের । জনগণ তাই শত্রু । জনগণ সব কিছু দেখে ফেললে , জেনে ফেললে বিপদ হবে - এই ছিলো মনভাব । ( অত্যাচারী চিরকালই ভীরু)

কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকারের লেবেল আটা সরকারী লোকজনের তো এই ভয়ে ভীত হওয়া উচিত না । আর আমাদের চিকন বুদ্ধিও কম না । সুতরাং, ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র ব্লগে রেজিষ্ট্রেশন করে ফেলুন। উনারা না চাইলেও - আমরা আমাদের নাগরিক মতামত তাদের দিবই দিব।

এই লিংকে যান

১। আপনার ইমেইল ও যে কোন একটা পাস ওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।

২। এর পরে একটা পাতা আসবে আপনার নাম ধাম পদবী, জেলা ইত্যাদি চেয়ে --- * চিহ্নিত বাক্স গুলা মোটামুটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করুন।

৩। কোন ইউনিয়নের কোন পদবীর জায়গায় " জানি না" লিখলেও সমস্যা নাই। বাক্স পূরণ হইলেই হইলো । (ক্রস চেকের ব্যবস্থা নাই কেন আল্লাহ জানে!)

৪। পূরণ শেষ ?

৫। এইবার নিশ্চিন্ত মনে ব্লগ পোস্ট লেখেন, ছবি আপ্লোডান , বন্ধু নিমন্ত্রণ করেন ইত্যাদি ইত্যাদি ।

তবে সকলের কাছে অনুরোধ , বাংলাদেশের স্বার্থে এইটার অপব্যবহার কইরেন না ।

পদ্ধতিটা টেস্ট করতে গিয়ে নিজে রেজিস্ট্রেশন/ আবিষ্কার করে ফেলেছি । আমার পরিচিত ইউনিয়ন নিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করবো। আরও কেউ যদি করে ফেলেন, তাহলে মনে রাখবেন, এইখানে যারা লিখছেন তারা কেউ নেটিজেন নন। দক্ষও নন। সুতরাং, সাহায্য সহযোগিতার মনভাব না থাকলে আপাতত সমালোচনা করার মন নিয়ে না ঢোকাই ভাল ।

কেউ আমারে দোষ দেওয়ার আগেই বলি, আমি যে ঢুকতে পেরেছি এইটা সাইটের দুর্বলতা কিংবা হয়ত ভবিষ্যতে উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা করে রাখা। তবে, বর্তমানের তালা যে কাজ করে না - এইটা জানানোটাও তো দায়িত্ব , কি বলেন? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29269945 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29269945 2010-11-10 21:15:53
নিজের দেশের প্রতি কি কোন আগ্রহ নেই আমাদের?
কথায় কথায় আমরা কি বোর্ড ভেঙ্গে ফেলি - তৃণমূলের কাছে পৌছাতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক সুবিধা পৌঁছাতে হবে। গ্রামের মানুষকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি ।

কিন্তু গ্রামের মানুষ, ইউনিয়নের মানুষ- আমাদেরই আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব কিংবা দাদাবাড়ি - নানাবাড়ি; তাদেরকে নিয়ে এই মহাযজ্ঞে আমাদের কোন আগ্রহই নাই দেখা যাচ্ছে !

কম্পিউটার জগতের ব্লগে নিচের লেখাটা পেলামঃ

তৃণমূল পর্যায়ের জনগণকে জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতধারার সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দেশের ৪৫০১ টি ইউনিয়ন পরিষদে ‘ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র’ তথা ইউআইএসসি স্থাপন করে সমাজের সবস্তরের জনগণকে তথ্যসেবা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর সকাল ১১টা ৩০মিনিটে দেশের এসব ‘ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র’ উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। comjagat.com অনুষ্ঠানটি সরাসরি ওয়েবকাস্ট করবে। অনলাইনে এ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট http://www.bangladesh.gov.bd ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্লগ (http://digitalbangladesh.gov.bd ), http://www.uiscbd.ning.com ও Click This Link –এ একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সমস্যাটা কোথায়?

ইউনিয়ন ডুবুক, ভাসুক, মরুক বাঁচুক- আমার কি?

নাকি, প্রচারের অভাব?
নাকি, প্রচারক এর প্রতি বিতৃষ্ণা?

আসলেই, সমস্যাটা কি?

এত বড় একটা ঘটনা নিয়ে, কারো কোন আগ্রহ, মন্তব্য, আলোচনা , অন্তত নিদেন পক্ষে একটা নিন্দা বাক্যও নাই কেন?

ব্লগে আস্তিক-নাস্তিক, মুক্তিযুদ্ধ- রাজাকার, প্রাইভেট- পাবলিক নিয়ে কুতর্ক করে ব্লগ ফাটায় ফেলা কুতুবরাই বা কই? সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে তাহাদের অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে তাহারা " কাজের বেলায় ঠন ঠন" ।

বড় কষ্ট নিয়ে লিখলাম এই পোস্ট!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29269905 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29269905 2010-11-10 20:12:14
সাবমেরিন কেবল , ব্রড ব্যান্ড রপ্তানির পাগলামি আর ঘরে ঘরে চাকুরীর জন্য একটা বিকল্প প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের বিভিন্ন তথ্য অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি সফটওয়্যার ব্যবস্থা চালু করেছে রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ

উদ্যোগটা ভালো লাগলো। ঢাকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এত টাকা নেয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে , তাদের জন্য এই সব অটোমেশন , ছাত্রছাত্রীদের জন্য হাই স্পিড ইন্টারনেট বাধ্যতামূলক করা যায় না? ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন এবং সরকারের কাছে জোর দাবী থাকলো।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ গুলো যখন মেগাবাইট/ সেকেন্ডে বহির্বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে যোগাযোগ , পড়ালেখা ও জ্ঞান আদান প্রদান করতে পারছে না , সেইখানে কেন শুনি যে বাংলাদেশ ১০০ গিগা রপ্তানি করবে?
১৬ কোটি মানুষের দেশে ২৫ কোটি টাকা আয় করা কোন আহা মরি লাভ না। মাথা পিছু আমাদের আয় হবে ২ টাকারও কম। কি এমন কচু হাতি ঘন্টা উপকার হবে তাতে? ২ টাকা দিয়ে কি উন্নতি করবো আমরা?

প্লিজ , পাঠক, মানুষদেরকে বুঝান , সরকারকে চিঠি দিন, মানব বন্ধন করুন, প্রেস কনফারেন্স করুন, মেইল করুন, ব্লগে লিখুন --- বি এন পি রে বলেন ট্রানজিটের মতন ব্রড ব্যান্ড নিয়ে আন্দোলনে নামতে । অন্তত আগামী দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল- কলেজ, লাইব্রেরী এবং হাসপাতাল গুলাকে ফ্রি হাই স্পিড ইন্টারনেট দিতে বলেন।

কম্পিউটার আমদানীর উপরে জিরো ট্যাক্সের সুফল আমরা দেখেছি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - এই দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানে দুইটা বছর ব্রড ব্যান্ড ফ্রি দিতে বলেন।

ছাত্রছাত্রীরা ইন্টার্নশীপ ব্যবস্থার মাধ্যমে লোকাল প্রতিষ্ঠান গুলোর কোন একটা সমস্যা - ভাগে ভাগে- সমাধান করুক থিসিস হিসাবে (যেমনটা বিদেশে হয়) । এই কাজ গুলো করে দেওয়া ও সমস্যা সমাধানের জন্য স্টুডেন্ট ও বিদ্যালয় বেতন ভাগাভাগি করে নিতে পারে।

যেমন ধরুন - ঢাকা মেডিকেল এর হাসপাতালের জন্য ইলেক্ট্রনিক হেলথ রেকর্ড আর মেডিকেল কলেজের জন্য সি এম এস তৈরী/ ভার্চুয়াল ভার্সিটি করলো ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টরা । কাজটা ছোট ছোট এসাইন্টমেন্ট এ ভাগ করে ৩-৪ মাসের ইন্টার্নশীপ বানানো যায়।
বাইরের কাউকে দিয়ে করালে সরকার যেই পয়সাটা দিত, সেইটাই স্টুডেন্টদেরকে বেতন হিসাবে দিবে। একটা পার্সেন্টেজ স্টুডেন্ট এর সুপারভাইজারের ডিপার্ট্মেন্ট পাবে। এতে করে লাভ ৩ টা।

১। স্টুডেন্টরা সরাসরি কাজ করার মাধ্যমে কাজ শিখবে। রিয়েল প্রবলেম সল্ভিং অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগবে, সিভির ওজন বাড়বে, কিছু বেতন পাবে। থিসিস পাবলিকেশন পাবে।

২। স্টুডেন্ট এর সুপারভাইজরের ডিপার্ট্মেন্ট এর ফান্ড বাড়বে। ভার্সিটির আয় আসবে। পাবলিকেশন বাড়বে। এইটারে প্রমোশনের সাথে যুক্ত করলে টিচারদের উৎসাহ বাড়বে। এই ফান্ড দিয়া মাস্টার্স, পি এইচ ডি অফার করতে পারবে।

৩। যেই পাবলিক বা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান করা হইলো, তারা আসল বেতনের চেয়ে কম বেতনে ( ইন্টার্নদের বেতন কমই হয়) খুব ভালো কোয়ালিটির সমাধান পাবে। উৎসাহী করার জন্য যারা যত বেশি ইন্টার্ণ নিবে, বেতন ভালো দিবে - তাদের ট্যাক্স বেনিফিট তত বেশি দেওয়া যাইতে পারে। ইন্টার্নশীপে ভালো করলে গ্রাজুয়েশনের পরে সরাসরি চাকুরী দেওয়া যাবে- নিয়োগ টিয়োগ পরীক্ষার ঝামেলা ছাড়াই। এবং, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সেরা কর্মী পাওয়া যাবে।

এই ভাবে কোন আদার ব্যাপারি, ফলের ব্যবসায়ী, সুপার মার্কেট, ঢাকার ট্রাফিক, বিদ্যুৎ এর স্মার্ট গ্রিড, সারা দেশের খাদ্য পরিবহন ব্যবস্থা, পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য নতুন নতুন শিল্প / পণ্য উদ্ভাবন, সুপেয় ও নিরাপদ পানি উৎপাদন ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি সব কিছুই এমন ইন্টার্নশীপ রিসার্চ/ থিসিসের মাধ্যমে করা যায়। বিদেশী ইউনিভার্সিটি গুলোর সাথে যুগ্ম প্রোগ্রাম করা যায়।

এতে বিদেশী কনসাল্টেন্টদের পিছনে বিশাল বেতন জলে ফেলাটা বাঁচে।

এই ভাবে , আমাদের প্রতিষ্ঠান , ব্যবসা গুলো দাঁড়িয়ে যাক। তারপর না হয় , ফি, ট্যাক্স যা ইচ্ছা বসাক।

প্রতিটা পরিবারের জন্য হাসিনাকে চাকুরী বানাইতে হবে না । ব্রড ব্যান্ড ফ্রি / সুলভে দিলে ১ কোটি শিক্ষিত বেকার নিজেরাই কাজ খুঁজে নিবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , আই সি টির নীতিমালায় লিখেছেন বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট প্রাপ্তি ও ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা । ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১০০ গিগা কি করে উদ্বৃত্ত হয়?

আমরা কি অংক ভুলেছি? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29268909 http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/29268909 2010-11-08 21:57:03