
গল্পটা প্রথম যখন পড়ি,আমি তখন কাঁদছিলাম, আপনিও না কেঁদে পারবেন না বলেই আমার বিশ্বাস :'(
আজ থেকে ১১ বছর আগের কথা।বার্সেলোনায় এক দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নিল ফুটফুটে এক চাঁদের টুকরা।কী অদ্ভুত ঘোরলাগা তার চাহনি, কী অদ্ভুত মায়া তার হাসিতে।বাবা মা তাদের এত আনন্দ কোথায় রাখবে বুঝে পায় না।তারা তাদের রাজপুত্রের নাম রাখলেন সোফিয়ানা।
কিন্তু খুব বেশিদিন গেল না।বাবা-মায়ের চোখ ফেটে এল জল। সোফিয়ানা যে জন্ম থেকেই... বিকলাঙ্গ। লরিন-স্যান্ড্রো সিনড্রোম নামের ভয়াবহ রোগের কারণে জন্ম থেকেই পা দুটো তার অকেজো। শুধু তাই নয় দুহাতের আঙুলগুলোও জোড়া লাগানো।
...
যখন আট বছর বয়সে অকেজো পা দুটো কেটে ফেলতে হয়। তখন থেকে নকল পা-ই ভরসা সোফিয়ানার। সোফিয়ানার স্বপ্নের হিরো আর কেউ নন লিওনেল মেসি।তারও স্বপ্ন, একদিন মেসির মতো খেলবে।কিন্তু ফুটবল যে পায়ের খেলা। স্বপ্নপূরণের পথে এই বাধা সে কিভাবে পার করবে?
আসল পা না থাকলে কী হবে,সোফিয়ান নকল পা দিয়েও বেশ ভালো খেলে। সোফিয়ানের এই মানবিক গল্পটি নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র বানানো হয়েছে—দ্য বয় হু ওয়ানটেড টু ফ্লাই।
এই প্রামাণ্যচিত্র দেখে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি মেসি। এর পর থেকেই সোফিয়ানের সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে দেখা-সাক্ষাৎ হয় মেসির।দুজনের মধ্যে বেশ দোস্তি।
সোফিয়ান মেসিকে দিয়ে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেয়, একটা গোল তাকে উৎসর্গ করতে হবে। সাধারণত প্রতিটা গোল মেসি তাঁর স্বর্গত নানিকে উৎসর্গ করেন আকাশের দিকে দুই তর্জনী উঁচিয়ে। কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বর ওসাসুনার বিপক্ষে গোল করার পর আকাশের দিকে না তাকিয়ে মেসি এক হাত দিয়ে স্পর্শ করেন তাঁর পা। এভাবেই সোফিয়ানকে দেওয়া কথাটা রেখেছেন মেসি।
মেসির এই মহানুভবতায় ছোট্ট সোফিয়ান রীতিমতো বিগলিত। এরপর যখন মেসি টিভি সাক্ষাৎকারে বলছেন, সোফিয়ানের লড়াইটাকে তিনি শ্রদ্ধা করেন, ছোট্ট ছেলেটি যেন ভাষা খুঁজে পায়নি,‘আমি কী বলব। আমি নিজেই তো মেসিকে অনেক শ্রদ্ধা করি!’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



