তাসনিম খলিলের প্রথম লেখা দেখছিলাম ইয়াহু এক্টিভিস্ট গ্রুপ উত্তরসুরিতে, পার্বত্য অঞ্চলে সেনাশাসনের বাস্তবতা, সেনাবাহিনীর তথ্য ম্যানুপ্যুলেশন আর সন্ত্রাসী অবস্থান নিয়া ছিলো তার প্রতিবেদন। সেইখানে সে শেখ হাসিনার করা ভাওতাবাজির শান্তি চূক্তির বিরোধীতাও করছিলো। তখন সে নিউ এইজে সাংবাদিকতা করতো...তার ঐ লেখা তার পত্রিকা ছাপানের আগে সেন্সর করতে চাওয়াতে সে পত্রিকায় না ছাপাইয়া উত্তরসুরির আশ্রয় নিতে বাধ্য হইছিলো। পোলাটার সাথে তখন থেইকাই পরিচিত হওনের বাসনা ছিলো।
উত্তরসূরির মডারেটর লোপা তাসনিম আর দৃষ্টিপাতের মডারেটর আসিফ সালেহ ঢাকায় আসলেন ২০০৪ সালে, লোপা আমারে ফোন দিয়া কইলেন দেখা করতে চাই...আমি কইলাম করেন...সে কয় আরো কয়জন আইবো...আমি জিগাইলাম, কে কে? সে কয়টা নামের সাথে তাসনিম খলিলের নাম কইলে আমি বাস্তবিকই উৎসাহী হইয়া উঠলাম। সেই বৈঠকেই প্রথম তাসিনমের সাথে দেখা।
প্রথম দেখায় পোলাটারে আমার ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া ইচরে পাকা লাগছিলো...কিন্তু সেই পাকামো যে আসলে মেধার বিচ্ছুরণ সেইটা টের পাইলাম কয় দিনের মধ্যেই। তাসনিম খলিল আমার সাথে পার্বত্য এলাকায় একটা ডক্যুমেন্টারি ছবি তৈরীতে যাওনের আগ্রহ প্রকাশ করলো তার নিজস্ব কিছু ইনসাইট নিয়াই। এর মধ্যে নিউ এইজের পত্রিকা ব্যবসায়ি সূলভ মনোভাবের কারণে সে চাকরী ছারছে বইলা খবরও পাইলাম।
হঠাৎ একদিন ফোন...তার কাছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীগো অত্যাচারের কিছু প্রামাণ্য ফুটেজ আছে সেইগুলি সিডি ফরম্যাটে নিতে চায়...তারে যথাযথ জায়গা দেখাইয়া সহযেগিতা করলাম বিনিময়ে দীর্ঢ়কাল পর দেখা। রাজনৈতিক ভাবে তার সাথে আমার মতাদর্শিক মিল না থাকলেও...এর পর থেইকা যে কোন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার অবস্থান আমার সাথে মিলাইয়া দিতো প্রায়শঃই। কখনোই স্বার্থ নিয়া বায়াস্ড হইয়া কিছু লিখতে পারতোনা বইলা ২ বছরের চাকরী জীবনে সে বেকার হইছিলো বহুবার!
তাসনিম খলিলরা সামরিক শাসনের টাইমে ভালো থাকবো এইটা আসলেই অলীক কল্পনা। হাটুতে বান্ধা মগজের কৌশলে তাসনিম খলিলরে হয়তো নিশ্চুপ করানের সকল চেষ্টা করবো বর্তমান শাসকেরা। কিন্তু এমনে কি আসলে অন্যায়-অবিচার ঢাইকা রাখন সম্ভব!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

