হাটুতে মগজআলা শাসক হইলে...তাসনিমরা জেলেই থাকে!
১১ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৩:২৯
তাসনিম খলিলের প্রথম লেখা দেখছিলাম ইয়াহু এক্টিভিস্ট গ্রুপ উত্তরসুরিতে, পার্বত্য অঞ্চলে সেনাশাসনের বাস্তবতা, সেনাবাহিনীর তথ্য ম্যানুপ্যুলেশন আর সন্ত্রাসী অবস্থান নিয়া ছিলো তার প্রতিবেদন। সেইখানে সে শেখ হাসিনার করা ভাওতাবাজির শান্তি চূক্তির বিরোধীতাও করছিলো। তখন সে নিউ এইজে সাংবাদিকতা করতো...তার ঐ লেখা তার পত্রিকা ছাপানের আগে সেন্সর করতে চাওয়াতে সে পত্রিকায় না ছাপাইয়া উত্তরসুরির আশ্রয় নিতে বাধ্য হইছিলো। পোলাটার সাথে তখন থেইকাই পরিচিত হওনের বাসনা ছিলো।
উত্তরসূরির মডারেটর লোপা তাসনিম আর দৃষ্টিপাতের মডারেটর আসিফ সালেহ ঢাকায় আসলেন ২০০৪ সালে, লোপা আমারে ফোন দিয়া কইলেন দেখা করতে চাই...আমি কইলাম করেন...সে কয় আরো কয়জন আইবো...আমি জিগাইলাম, কে কে? সে কয়টা নামের সাথে তাসনিম খলিলের নাম কইলে আমি বাস্তবিকই উৎসাহী হইয়া উঠলাম। সেই বৈঠকেই প্রথম তাসিনমের সাথে দেখা।
প্রথম দেখায় পোলাটারে আমার ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া ইচরে পাকা লাগছিলো...কিন্তু সেই পাকামো যে আসলে মেধার বিচ্ছুরণ সেইটা টের পাইলাম কয় দিনের মধ্যেই। তাসনিম খলিল আমার সাথে পার্বত্য এলাকায় একটা ডক্যুমেন্টারি ছবি তৈরীতে যাওনের আগ্রহ প্রকাশ করলো তার নিজস্ব কিছু ইনসাইট নিয়াই। এর মধ্যে নিউ এইজের পত্রিকা ব্যবসায়ি সূলভ মনোভাবের কারণে সে চাকরী ছারছে বইলা খবরও পাইলাম।
হঠাৎ একদিন ফোন...তার কাছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীগো অত্যাচারের কিছু প্রামাণ্য ফুটেজ আছে সেইগুলি সিডি ফরম্যাটে নিতে চায়...তারে যথাযথ জায়গা দেখাইয়া সহযেগিতা করলাম বিনিময়ে দীর্ঢ়কাল পর দেখা। রাজনৈতিক ভাবে তার সাথে আমার মতাদর্শিক মিল না থাকলেও...এর পর থেইকা যে কোন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার অবস্থান আমার সাথে মিলাইয়া দিতো প্রায়শঃই। কখনোই স্বার্থ নিয়া বায়াস্ড হইয়া কিছু লিখতে পারতোনা বইলা ২ বছরের চাকরী জীবনে সে বেকার হইছিলো বহুবার!
তাসনিম খলিলরা সামরিক শাসনের টাইমে ভালো থাকবো এইটা আসলেই অলীক কল্পনা। হাটুতে বান্ধা মগজের কৌশলে তাসনিম খলিলরে হয়তো নিশ্চুপ করানের সকল চেষ্টা করবো বর্তমান শাসকেরা। কিন্তু এমনে কি আসলে অন্যায়-অবিচার ঢাইকা রাখন সম্ভব!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
একমত ভাস্কর দা, প্রতিবাদ
ব্রুটাস বলেছেন:
মগজ হাঁটুতে মনে হয় না। হলে মগজ-দমন করতে চাইতো না।
সেনাশাসকেরা আসলে একের পর এক এইরম পুরান কাহিনীর রেপ্লিকা টাইপ ভুল করতে থাকবো...
ব্রুটাস বলেছেন:
হুম
ধূসর ছায়া বলেছেন:
আমি তাসনিম ভাইকে চিনি না । তবে উনার মতো প্রতিবাদি মানুষকে সালাম জানাই । প্রতিবাদ চলবেই । কতদিন রাখবে সামরিক জান্তা ? একদিন তো ছাড়তেই হবে । তখন হয়তো উনার প্রতিবাদি চরিত্র ব্যাপক আকার ধারণ করবে । আল্লাহ আমাদেরকে শক্তি দিক সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।
শমিত বলেছেন:
স্বৈরাচারী রাষ্ট্রশক্তি সকল সীমানাতেই ঘৃণিত । তাসনিম খলিলের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন রইলো ।
দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন:
আসুন অন্তত: ২৪ ঘন্টা উত্সর্গ করি তাসনিম খলিলের জন্য। প্রতিবাদ করি। স্থগিত রাখি অন্য লেখা। অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হই।চলুক এই প্রতিবাদ।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
বাকস্বাধীনতা মাঝেমাঝে খাদ্যের চেয়েও বেশী প্রয়োজনীয় ... এটাকে হারাতে দেয়া যাবেনা...প্রতিবাদে অংশ নিলাম ...
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
এতক্ষণে সব মিডিয়া খবরটা প্রকাশ করছে ।এরা আবার সব বুদ্ধি নাভি তে জমা রাখছে, কর্পোরেট আর জলপাই ভয়ে ।
এইটা বাংলায় লিখা দেখান তো? বুঝুম কয়দিন কম্পিউটার ব্যাবহার করতাছেন??
কৌশিক বলেছেন:
বিপদ্দজনক পোস্ট। যৌথবাহিনীর নজর পড়ছে এইটার উপর।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
চাচা: ব্যাপক কইসো।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
ঐ যে গোসল এবং পোস্ট দুটোই।
মুকুল বলেছেন:
তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
কেমিকেল আলী বলেছেন:
ওগো আবার হাটুতে মগজ আছে নি? আমি তো জানতাম ওগো মগজই নাই।
সাধক শঙ্কু বলেছেন:
রাসায়নিকালী সঠিক।
কেমিকেল আলী বলেছেন:
আরে গুরু আপনারা কইলে তো আমরা থাকি না @ শঙ্কু দা
যুঞ্চিক্ত বলেছেন:
সিভিল সোসাইটির বোধ হয় বাংলা করছে "সুসিল সমাজ"। বাংলাটাও ব্যর্থ। আমার মতে এইটা হৈব "নাগরিক সমাজ"। "সুশীল" কৈ্যাই ডুবছে। "সংস্কৃতিবান" সাজনের মত নিজেগ সাধারন হৈতে আলাদা করতে গিয়াই রামধরা খাইছে।এখন "রাজাকার"-এর লাহান "সুসীল" ো গালিতে পরিণত হৈতেছে।



















এই দিন আর সেই দিন নাই। প্রতিবাদের ভাষা আর ব্যাপ্তি অনেক গভীর। জেলে ভরতে পারে, শক্তি আছে। কিন্তু প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ বন্ধ হবে না। বরং তাসনিমের শেষ লেখাটা (বগুড়ার প্রিন্স)-এখন আরও বেশী দূর দুরান্তে ছড়িয়েছে। চলুক..