গতবার টেকনাফ আসছিলাম একটা ছুটি ছুটি আমেজে, কোন তাড়া ছিলোনা...কিন্তু অ্যাডভেঞ্চার ছিলো পুরামাত্রায়, এই কারনে আমার অভিজ্ঞতা আর তার প্রকাশের মাত্রা দুইটারই বৈচিত্র ছিলো...আর এইবার আমরা টেকনাফ রওনাই দিছি স্কেজ্যুয়াল মাথায় রাইখা...এই কয়দিনের মধ্যে অর্ডারের কাজ শেষ করতে হইলে নাইল এই কয়টাকা লস...অথবা লাভ কম হইবো (পুঁজিবাদের ঘেরাটোপে শিল্প কিম্বা সদুদ্দেশ্য আসলে এই অংকেই গিয়া সমাপ্ত হয়)। রাইতের বেলা যখন হোটেল নে টং'এ গিয়া পৌছাইলাম...তখন গালিব ভাই, যিনি আমাগো এই ডক্যু ছবির ঠিকাদার নির্মাতা, তিনি ফোনে জানাইলেন সকালের কক্সবাজার ফ্লাইট বাতিল করছে জিএমজি, তিনি আগামীদিন আসতে পারবেন না। আমার তখন মাথায় হাত! কেন হুদাই এই শ্যুটিং টিমের সাথে আইলাম...প্লেনে আইলেই তো সেইফ থাকন যাইতো! একটা দিন ঢাকায় ঘুমাইয়া কাটান যাইতো মেঘলা আমেজে! কারণ গালিব ভাইয়ের হাতে আমাগো ইউএনএফপিএর আবেদনপত্র! যেইটাতে নাকি পার্মিশন দিবেন ডিসি মহোদয়...
যাইহোক টিমের আরেকজন কোঅর্ডিনেটর ইমরান হোসেন কিরমানীর সাথে বসলাম...ঢাকায় ফোন দিলাম...কক্সবাজারে ফোনাইলাম...সবজায়গায় অনিশ্চয়তা! কাইলকা সকাল ৭টায় জলোচ্ছ্বাস আকারে নিম্নচাপ যদি আঘাত হানে তাইলে প্রশাসনের কোন সুযোগ থাকবোনা আমাগো পার্মিশনের নজরদারী করনের...তখনো আকাশে মেঘ...তখনো সমুদ্র সীমান্তে উত্তেজনা।
১৪ তারিখ রাইতে পুরা টেকনাফের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন কইরা দেওয়া হইছিলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থায়। আমরাও পর্যটনের জেনারেটরে খানিক্ষণ এইঐদিক করনের পর...হঠাৎ অন্ধকারে...ঘুমান ছাড়া কোন বিকল্প নাই।
১৫ তারিখ সকালে ঘুম থেইকা উইঠা আমরা গেলাম টেকনাফ শহরে নাস্তা করতে। শ্যুটিং ইউনিটরে কিছু জেনারেল ভিডিও নেওনের কথা কইয়া আমি আর ইমরান রওনা করলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে...এইবারো আমার ত্রাতা বহনকারী নুরূল আমিন! স্কুটার স্ট্যান্ডে গিয়া তারে পাইয়া প্রস্তাব দেওনের লগে লগে সে রাজী...১০০ কি.মি. ভ্রমণে...
কক্সবাজার গিয়া আমার জিমেইল থেইকা অনুমতির আবেদনপত্রের প্রতিলিপি ডাউনলোড কইরা ডিসি অফিস...সকাল ১০টায় ডিসি অফিস পুরা খালি...জেলা শহরের নিত্য নৈমিত্তিক অবস্থা...ডিসি নাই, তিনি আসলে আমরা দেখা করতে পারুম...সেই দেখা দিলেন তিনি বেলা ১২টায়...একটা স্বাক্ষর কইরা আমাগো পাঠাইলেন এডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট'এর কাছে...আমরা দুপুর একটা থেইকা এডিএমের অফিসরুমের সামনে বসা...তিনি বাসায় গেছেন কি কাজে...
১৫ তারিখ আমরা দেখলাম একজন সরকারী কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতার নমূনা...বাসায় বইসা গড়াগড়ি করতে গিয়া নাকি তিনি ভুইলা গেছেন অফিসে আমরা অপেক্ষায় আছি...আমলাতান্ত্রিকতা আসলে জরুরী অবস্থাতেও একই চেহারায় থাকে, সেইটার চাক্ষুস প্রমাণ নিয়া আমরা বিকাল সাড়ে পাঁচটায় আবারো ১০০ কি.মি. ভ্রমণ কইরা ফিরলাম টেকনাফ...আইসা শুনি সেইন্ট মার্টিন দ্বীপের অবস্থা নাকি জলোচ্ছ্বাসে খুবই বিপর্যস্ত! একটা লাশ ভাইসা আসছে...নাফ নদীর প্রবহমানতায়...নোঙ্গর ফেলছে হোটেল নে টং'এর সামনের জেটিতে...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


