গত কয় বছরের চাকরীকালীন অভিজ্ঞতায় আমি দেশের প্রথিতযশা বহুত এনজিওর মাতৃত্ব আর যৌনতা নিয়া ব্যবসা ভালোই দেখনের সুযোগ পাইছি। ২০০১ সালে যখন প্রথম ভিটামিন এ আর বি লইয়া মানে, লাল ক্যাপসুল আর নীল ক্যাপসুলের প্রসার বাড়াইতে তিনটা প্রযুক্তিময় অভিনব বিজ্ঞাপণধর্মী ছবি বানাইবার কাজ করতেছি, ঠিক শ্যুটিং শুরুর দিন পত্রিকার সংবাদে চোখ আটকায়...ভারতের বিহার এলাকায় ৭৫০ জন মা ভিটামিন ক্যাপসুলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুপথযাত্রী! আমার ছোট বোইন ঠিক একইরম প্রজেক্টে চাকরী করে বিধায় তৎক্ষণাত তারে ফোনাইয়া জানলাম...এইটা হইতেই পারে। কারণ এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পরিমাপের লেইগাই বাংলাদেশেও প্রায় ৩ বছর ধইরা একই গবেষণা চলতেছে উত্তরবঙ্গের প্রায় ৫০ হাজার মায়ের উপর।
আমাগো শ্যুটিং আটকানের মতো সমাজবিপ্লবের বাস্তবতা আমার এই মুহুর্তে নাই। কিম্বা এই মানবাধিকার লঙ্ঘনেও আমি চাকরী ছাইড়া দিতে পারি না! রাজনৈতিক সংগ্রাম থেইকা সইড়া আসনের পর থেইকা এইরম শঠমানুষ হইছি! গন্ডারের চামরায় নিজেরে ভালোই বানছি...কোন ভ্রুক্ষেপও থাকে না অনেক সময়...বন্ধুগো আড্ডায় চায়ের কাপে ঝড় তোলা বাদে।
আর তাই নীরব চোখে ক্যামেরার সাদা কালো ভিউ ফাইন্ডারে দেখছি জরুরী প্রজনন সেবার নামে অপারেশন কইরা বাচ্চা প্রসবের তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা। প্রকল্প পরিচালকরে যখন জিগাইলাম, "মাঈদা আপা এই যে ক্যামেরা নিয়া অপারেশন থিয়েটারে ঢুইকা পরতেছি...নিজেগো শরীরও তেমন কোন স্টেরিলাইজ করনের সুযোগ নাই (ক্যামেরাতো কোন ছাড়!), এইটা যদি উন্নত দেশ আমেরিকা কিম্বা লন্ডন হইতো তাইলে কি হইতো?" তিনি মুখ চাইপা হাসছিলেন খালি। অন্য যেকোন স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার সুযোগ আছে এরম দেশে এই শ্যুটিং-এর লেইগা প্রস্তুতি লাগতো বহুদিনের...নাইলে আদালতে মামলা হইতো!
২০০২'এর শেষভাগ থেইকাই শুরু হইলো ঘাতক ব্যাধি এইডসের সাবধানবানী। আগে যেই প্রজেক্টগুলি ছিলো সেইগুলিই খোলনলচে পাল্টাইতে শুরু করলো খালি। একই লোক...একই নিয়ন্ত্রণ কর্তা...খালি ডোনেশনের ধরণ আর প্রজেক্ট টাইটেল আলাদা! নবজাত শিশুর বাঁচানের প্রকল্পতেও এইডস ঢুকানের লেইগা সেইটার দেখভালের আওতা বাড়ানো হইলো।
যূথচারী আমার একটা কথারে উদ্ধৃত কইরা একটা সম্পূর্ণ পোস্ট পয়দা করনের পর আমার প্রথমে মনে হইলো আসলেইতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হয় যেকোন রিফ্যুজিরা! পরক্ষণেই আমার উদ্দেশ্যের কথা মনে পড়লো। এইচআইভি/এইডসের সংক্রমণ বিষয়ে তারা ঝুঁকিপূর্ণ হয় এইটা ছিলো আমার গবেষণার উপপাদ্য। তাগো আমি প্রিমিটিভ বানাইছি...যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে অযাচারে ফালাইছি...তারপর তাগো কইছি এইচআইভি তাগো শিরায় আসতে পারে যেকোন সমে এইটা ভবিতব্য!
নিজেরে অনেক ছোট লাগছে যখন এই কল্প প্রকল্পের ভিত্তিমূল শক্ত করনের রসদ জোগাইছি। কিন্তু আসলেই অনেক ভীতু হইছি এখন...দারিদ্রের ভয়ে প্রতিবাদও ভুইলা যাই মাঝে মাঝে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

