রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি সংগঠনের একটা পুস্তিকা বেচতে। কেন ছাত্র সমাজ রাজনীতি করবে- বাসদ নেতা খালেকুজ্জামানের অসংখ্য বক্তৃতামূলক পুস্তিকার একটা। দেড় মাস আগে জাবিরে শিবিরের দখলমুক্ত কইরা রাইতের পর রাইত হল পাহারা দিয়া, আমরা তখন দেশব্যাপী ছাত্রসমাজের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাইতেছি। তারই অংশ হিসাবে ৫০০ কপি পুস্তিকা নিয়া একরাইতের নোটিশে রাজশাহী পৌছাইছিলাম।
সকালে ক্যাম্পাসে পৌছাইয়া মুখস্থমতো টেন্টে গিয়া হাজির হইয়া দেখি সেইখানে কাক-পক্ষীও নাই। টেন্টের সিমেন্টের বেঞ্চিতে বইসা আশেপাশে পরিচিত মুখ খুঁজি। যদি কেউ আমারে অনিশ্চয়তার হাত থেইকা রক্ষা করবার পারে! প্রায় দুই আড়াই ঘন্টা টানা বেকার বইসা থাকনের পর একজনরে পাওয়া গেলো সংগঠনের সমর্থক লেভেলের। তার তথ্যমতে আরিফ ভাই গেছেন পাশের জেলা নাটোরে আর কৃষ্ণপদ পরীক্ষার প্রেশারে গৃহবন্দী।
তো কি আর করা...নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম, ২০ কপি বই নিয়া ক্যাম্পাসের ভাও বুঝতে বাইর হইয়া যাই। খোদকারীর কেউ যেহেতু নাই তাই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাত্রা। প্রথমে গেলাম মৈত্রীর টেন্টে, সেইখানে তাগো কেন্দ্রীয় নেতা রায়হান ভাই তোতা ভাই বসা। তারা কয়েক কপি বই রাইখা টাকা দিয়া দিলেন। তারা উপদেশ বিতরণ করলেন বিনা পয়সায়...ভাই ক্যাম্পাস শিবিরের দখলে যাই করেন একটু বুইঝা কইরেন। আপনের দায়িত্ব নিতে কেউ আইবোনা শিবির ঝামেলা করলে। আর তাই খুব সাবধানী হইয়া লোক চিনতে চেষ্টা করবার কৌশল অবলম্বন করলাম আমি।
দাড়াইয়া ছিলাম আর্টস ফ্যাকাল্টির সামনে, সেইখান থেইকা চোখ আটকাইলো এক স্মার্ট তরুণে...বাবড়ি চুল-ক্লিন শেভ্ড-ছাটা গোফ-ভারতীয় ভেড়ার লোমের দামী স্যোয়েটার-ব্যাগী টাইপ প্যান্ট পরা তরুণের চারপাশে ৩/৪জন তরুণী তার সাথে রীতিমতো খুনসুটি করতেছিলো। দূর থেইকা তারে মনে হইলো বেশ সপ্রতিভ, বাকপটু এবং অবশ্যই মডার্ন!
আমি কাছে গিয়া গলা খাকরানি সহকারে তার দৃষ্টি আকর্ষণ কইরা পুস্তিকা বাড়াইয়া দিয়া যা বলার তা বলতে শুরু করলাম। তার চোখে চোখ রাইখা বুঝতে চেষ্টা করতেছিলাম রিয়্যাকশন গুলি...কিন্তু এতো নিষ্প্রভ-ঠান্ডা চোখ আমি জীবনে কম দেখছি বইলাই ধারণা। কথা শেষে স্মার্ট তরুণ চোখ দিয়া আগাপাশতলা মাপলো আমারে। তারপর ঠান্ডা গলায় কইলো, " কোত্থেইকা আইছস তুই!" আমার বিনয়ী উত্তর,"জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়" শুইনা সে চোখ গরম কইরা ফালাইলো নিমেষেই!
"১৫ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাস থেইকা বাইর হবি! কাইলকা থেইকা তরে আর কাজলার এইপাশে দেখতে চাইনা!" আমি সত্যিই ভয় পাইছিলাম এই আনএক্সপেক্টেড প্রতিক্রিয়ায়।
ঐখান থেইকা আইসা বন্ধু কবিবর বদরে মুনির সানির সাথে দেখা...সে বহুকাল পর ক্যাম্পাসে আসছে সেইদিন। আমারে আবার ছাত্রমৈত্রীর টেন্টে নিয়া বসাইলো সে। তোতা ভাই আমারে সাহস দিয়া কইলেন তাদের লগেই কাটাইতে বাকীটা সময়। আমি পরের ২/৩ দিন ক্যাম্পাসে আইসা ঐ টেন্টেই বসলাম এরপর। আর সেই সুবেশী তরুণের পরিচয় জানলাম...শিবিরের মাস্তান শাহাদত নাকি তার ১০ দিন আগে জাসাসের রাবি শাখার সহসভাপতি আমানুল্লাহ আমানরে দিবালোকে কোপাইয়া খুন করছে, পরীক্ষার হল থেইকা বাইর হওনের টাইমে।
এই শাহাদত পরে শুনছি আইন বিভাগের শিক্ষক হওনের সম্ভাবনায় চাইলা আসছিলো! কিন্তু আমান হত্যা মামলার কারণে জামাতী শিক্ষকেরাও তারে বেশিদূর নিবার পারে নাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


