ব্লগ আর জীবন...ব্লগজীবন বিষয়ে আমার খুচরা অনুভূতিমালা...(প্রেরণাদাতা সাদিক)
২৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩১
১.
গোলামের আযমের ছবি দেইখা আমি খুব প্রীত হইনা...গোলাম আযমের রাষ্ট্রোন্নয়ন মার্কা বক্তব্যে আমার গা জ্বলুনি হয়...গোলাম আযমরে সমর্থন কইরা, আদর্শ চরিত্র ভাইবা যারা এই রাষ্ট্রে ইসলামী আন্দোলনের কথা কয় তাগোরে বন্ধু কিম্বা সহচর বানানের তাগীদ আমার কোনকালেও ছিলোনা।
২.
ছোটবেলায় এমন একটা পরিবেশে বড় হইছি, যেইখানে গালাগালি কোন মাত্রা কিম্বা ক্যাটেগরি মাইনা চলতো না। ৪ বছরের পোলারে দেখছি মায়রে নিয়া যৌন ইঙ্গিত করতে...গালির অর্থটা সেইখানে কোন বিবেচ্য আছিলো না...ঐটা ছিলো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। মা'ও নিশ্চিত সেইটা বুঝতো...গালির শ্লীলতা অশ্লীলতা নিয়া ভাবনের চাইতে বরং গালির উদ্দেশ্য সেইখানে বড় ব্যাপার ছিলো।
৩.
...ব্লগ পরিবেশ নিয়া অনেক কথা উঠতেছে, গালাগালি আর নোংরা(?) নিকের সমাবেশে অনেকেই অনাগ্রহী হইতেছে লেখালেখিতে, আবার অনেকেই হতাশ হইতেছেন ব্লগের "বাঁধ ভাঙার আওয়াজ" পেইজে জামায়াতিগো রাজনৈতিক প্রচারণায়...আমি নিজেও আসলে ব্লগ পরিবেশ নিয়া খুব আনন্দিত না। আমারও অনেক কিছুর বিরোধীতা করবার সাধ হয়। মনে হয় এইসব না থাকলে মনে হয় আমার ব্লগ ভ্রমণ আনন্দময় হইয়া উঠতো।
৪.
দীর্ঘসময় রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। অনেক রমের গল্প-কাহিনীর প্রেক্ষাপটে আমার চলাচল ছিলো...সেইখানে মুক্তিযুদ্ধ ছিলো, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতা ছিলো, জাতীয়তাবাদ ছিলো...জাতীয়তাবাদের বিপরীতে আন্তর্জাতিকতাবাদও ছিলো। স্বার্থের সাধারনীকরণ ছিলো...ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের খায়েশও ছিলো। এরমধ্য দিয়াই আমরা সিদ্ধান্ত নিতাম আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের...কখনো এই সব সিদ্ধান্ত কোন পক্ষের ভালো লাগতো, স্বাভাবিক ভাবেই অন্যপক্ষ তখন ব্যাজার হইতো...এই প্রক্রিয়া এক্কেরেই ভাইস ভার্সা ছিলো।
৫.
ব্যক্তি জীবনে আমি অনেক রগচটা মানুষ হিসাবে পরিচিত ছিলাম...যখন খেপতাম তখন হুশ জ্ঞান হারাইতাম প্রায়ই, কিন্তু রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা আমার এই সহজেই ম্যুড পরিবর্তনের ব্যাপারটারে নিয়ন্ত্রণ করতে সহযোগিতা করছে, আমি এখন খেইপা গেলেও নিজেরে নিবৃত্ত করতে পারি আক্রমণ থেইকা...শত্রুর দূর্বলতা খুঁজি...তারপর সময় ও সুযোগ!
৬.
আমার মা আমাগো তিন ভাইবোনরেই তুমুল ছাইড়া মানুষ করনের ব্রত নিছিলেন...কিন্তু তার একটা শর্ত ছিলো, কোন গোপণ রাখা যাইবো না। যাই করি তার সাথে সেইটা শেয়ার করতে হইবো। আর তাই চরিত্রের মধ্যেই একটা সোজাসুজি ব্যাপার খাড়াইয়া গেছে। যা করি অনেক অংক কইরা নিজেরে বাঁচাইয়া করি না...যা বলি মন থেইকা বলতে ইচ্ছা হইলেই বলি...এইরম হওয়াতে অনেক সময়ই হয়তো ভুল করি-ভুল বলি! কিন্তু ঐ ভুলচূক নিয়াই আমি।
৭.
ব্লগে একটা কথা আমি কই অনেকদিন ধইরা...ত্রিভুজরে আমার ব্লগীয় বিনোদনের উপায় বইলা মনে হয়, তার সাথে তর্ক কইরা আমি নিটোল আনন্দ পাই। আর এইসব বিতর্ক আছে বইলাই আমার নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ে...যুক্তির নিরীখে কথা কওনের প্রবণতা শক্তিশালি হয়। যুক্তি ভুল হইলে ভিন্ন কথা...বচনে বিভ্রান্তি থাকলে অনেক সময়ই নিজের ভুলটারে রিয়েলাইজ করি...
৮.
আমি বিশ্বাস করি মানুষরে মোটিভেট করন যায়, আমি বিশ্বাস করি মানুষের বিশ্বাসে পরিবর্তন আনন যায়...কিন্তু এই পরিবর্তন শীলতায় মাস্টারীর আবির্ভাব আমারে বিযুক্ত করে প্রক্রিয়া থেইকা। কাউরে শিখাইয়া-পড়াইয়া পাল্টানের খেলাটা খুবই বিরক্তিকর। জ্ঞানদানকারী অভিভাবকত্বসূলভ বক্তব্য আমি এক্কেরেই নিতে পারি না, নিজেও পারতঃপক্ষে না করনের চেষ্টা করি এইসময়ে আইসা...
৯.
গালাগালি বিষয়টারেও আমার অভিভাবকত্বসূলভ একটা ব্যাপারই মনে হয় মাঝে সাঝে...মনে হয় এমনে জোর কইরা কিছু পাল্টানের খেলা খেলনের কোন অধিকার আমার কি আছে! আবার গালাগালি বন্ধ করনের আহ্বানটারেও তাই! কারো যদি গালিতেই আনন্দ তাইলে আমার কি করার থাকে! কিন্তু কৌশল হিসাবে বা অভিব্যক্তি হিসাবে যা'ই কওয়া হোক না ক্যান...আমি সেইখানে গার্জিয়ানগিরী দেখি। গোলাম আযমের ছবি কিম্বা ইসলামী আন্দোলনের আহ্বান যেমনে আমারে খেপায়...গালাগালির মাস্টারী কিম্বা সম্ভাব্য শত্রুরে নিবৃত্ত করনের কৌশল হিসাবে তার প্রকাশও আমার কাছে খুব আনন্দময় লাগে না।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): অনুভূতিমালা, অনুভূতিমালা, অনুভূতিমালা অনুভূতিমালা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
কৌশিক বলেছেন:
আপনি যখন লিখছেন, ভালই হবে। না পইড়া ৫ দিলাম। জারীর স্টাইল।
আর গত দুইদিনের ব্যাপারটা আমার কাছে সারওয়ার কামালের পাতা ফাঁদ মনে হইছে ...
শ্যাজা বলেছেন:
মন দিয়া পড়লাম। ভাল লাগসে...
অরা আসলে গালি খাইতে আসে, এইটা আমারো মনে হয়...@ জ্বিনের বাদশা
মুক্তা বলেছেন:
vaia valo?
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
আমার শেষ পোস্টে কিন্তু গালাগালি বন করার ফোকাস ছিলো না। আমার খুব মারাতক গালাগালি এলার্জী নাই, আর সামহোয়্যার বিরক্ত লাগলে অন্য বহুত কিছু করার আছে। তাই গালাগালি বন করা না করা নিয়া লিখতে আগ্রহী ছিলাম না। আগ্রহী ছিলাম টার্গেট গ্রুপ নিয়া। আমার বরাবরই মনে হইছে মুক্তিযুদ্ধের অবজেক্টিভ লেখার আসল পাঠক অমিরহমান বা চোর বা কৌশিক না। তারা অলরেডি রাঘব বোয়াল। যাদের সেই অবজেক্টিভ লেখা পড়ার আর জানার দরকার আছে তাগোরে গাইলাইয়া খেদাইনোর মধ্যে আমি কোন বিশাল বাহাদুরী দেখি না। আমার পয়েন্ট সেইখানেই
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
না পুরা লেখায় গালাগালি প্রসঙ্গটা এতবার উইঠা আসছে আপাদমস্তক তাই ওইদিকেই চিন্তাটা দৌড়াইছিলো।
যূথচারী বলেছেন:
ছবি চেঞ্জ করছেন ক্যান? চে'-র ছবিকে আর নিজের ছবি মনে হয় না? সুকান্ত বৃথাই গাইলো?
যূথচারী বলেছেন:
সুকান্তের কবিতাটা মনে করে বলেছিলাম-লেনিন ভূমিষ্ঠ রক্তে, ক্লীবতার কাছে নেই ঋণ
বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয়, আমিই লেনিন!
হোসেইন বলেছেন:
গালাগালি আমার বহুত পছন্দ।রাজাকারগো যেমন প্রফেসরস লিটারেচার পোস্টের অধিকার আচে,আমারও তেমন তাগো গালাগালি করনের অধিকার আচে।দুইটাই থাউক,নাইলে কুনুটাই না।আর কুনু শিবিরের পুলারে ভাল কতা কইয়া ভালা করন যাইব হেইটা মানি না।কুত্তারে লাইত্থানিই ভালা সমাধান।
যার যার মত,তার মত।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














