somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয় মা কাত্যায়নি অথবা যুদ্ধজয়ের পুজোৎসবে...(শেষপর্ব)

২৩ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাত্যায়নি পুজা দর্শনে যাওনের আগে আমার কোন অভিসন্ধি ছিলো না...নিয়তঃ খাই-পরি পুঁজিবাদের নাগপাশেই...বিজ্ঞাপনি সংস্থায় চাকরীর সুবাদে আমার নিজেরও রুটি-রুজি জুটে পুঁজিবাদী নোংরা কৌশলের বিস্তারে সহযোগিতা কইরা...পুঁজিবাদ কেমনে মানুষের আচরন পাল্টাইয়া পণ্য বিপণনে নামে তা এক্কেরেই ভেতর থেইকা দেখতে পারি। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার উপস্থিতিরে কেমনে পুজিতন্ত্রে ব্যবহার করা হয় তা বুঝতে হইলে আসলেই গ্রাম-বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নির্ভর বোঝাপরা লাগবো...মাগুরার কাত্যায়নি উৎসব আমারে সেই ধারণা দ্যায়...দেশের তাবৎ মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় বিক্রীবাট্টা নির্ভর উন্নয়ন তন্ত্রে...তার নির্ভরতায় দেশের বাস্তবতা বুঝনটা এতো সহজ না।

তয় আমি এই বিজ্ঞাপনি শিল্পে নিজেরে একজন শ্রমিক'ই মনে করি। শ্রম বেচি ঠিক একজন কারখানার শ্রমিকের মতোনই...ঘন্টামাফিক। সামন্তীয় মানসিকতায় দাঁড়াইয়া থাকা কৃতজ্ঞতা বোধের ঝান্ডা উড়াই না। আর সেই কারনেই শিঁরদাড়া উচা কইরা কোনকিছু কইতেও ভয়খাওনের কোন মর্তবা দেখি না। আমার এই বচন নিজের অবস্থানরে জায়েজ করনের লেইগা না...বরং নিজেরে বুঝ দেওনের মতোন শুনাই, নিজেরে অভ্যস্ত রাখি...নিজেরে প্রস্তুত রাখি সেইসব সংগ্রামি মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা বলবৎ রাখতে, যারা সমাজ পাল্টানের স্বপ্ন দেখেন।

আমি খুব ভেতর থেইকা দেখি বইলাই জানি একটা মোবাইল কোম্পানী কিম্বা তামাক কোম্পানী ক্যান সমাজ উন্নয়নমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মোবাইল কোম্পানীর বিরুদ্ধে সারা পৃথিবী জুইড়াই অস্থিরতা আছে...ঠিক যেমনটা আছে তেল উত্তোলনকারী কোম্পানীর, তামাক শিল্পের ধ্বজাধারী কোম্পানীর...এখন আমরা অনেক কিছুই কইতে পারি, তীব্র প্রতিবাদে ফুইসা উঠতে পারি...কিন্তু তারে একটা কোম্পানী বিজ্ঞাপন হিসাবেই দেখে বলা যায় বিজ্ঞাপন হিসাবে ব্যবহার করনের সুবিধাপ্রাপ্তি হিসাবেই দেখে...কারন সমাজে পণ্য নির্ভরতা, পণ্যকেন্দ্রীক মানসিকতা টিকাইয়া রাখতে তারা সক্ষম, এই ধারণা নিয়া তারা দাঁড়াইয়া আছে।

কাত্যায়নি পুজাও তেমনি তাগো উৎসাহ জোগায়...আমরা মাগুরা শহরের পাশে শত্রুজিতপুরে তপতীর নানাবাড়ি যাওনের পথে দেখি গ্রামীন ফোনের পথে পথে উৎসব। মেলায় উপস্থিত অভ্যাগতরা গ্রামীন ফোনের কনসার্টে মাতছে...এই জনগোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতারে প্রশ্রয় দ্যায় না...তারা তাগো জীবনের সকল বঞ্চনা-বৈষম্য-অপ্রাপ্তি'র কথা ভুইলা থাকতে চায় গীটারের স্ট্রিঙের মাদকতাময় টানে...সকালে আমার মোবাইল ফোন হারাইছি সেই দুঃখ নিয়াই আমি তাগো সিম কিননের উৎসব দেখি...আমার অফিসের দেওয়া মটোরেজর হয়তো কারো নেশার উপকরন জোগাইতেই কাজে লাগছে...আবার হয়তো কারো প্রতিযোগিতার বাজারে টিকা থাকনের সম্ভ্রম বাড়াইছে। পণ্য এমনে কইরাই আমাগো ব্যক্তিজীবনের স্ট্যাটাস নির্ভরতা তৈরী করে...আমরা মানুষের এই মানসিকতা আর অভ্যস্ততা কাজে লাগাইয়া বিপণন করি...

দেশের খবরে রাকেশ যখন ভাইঙ্গা পরে তখন আমাগো কিছু করনের থাকেনা...বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ক'ন ৩/৪ দিনের মধ্যেই সব ঠিক হইবো...কিন্তু রাকেশের তপন দাদা'র কথামতো আমরা আগেই জানি এই দুর্যোগ একমাসেও ঠিক করা কষ্টকর...কিন্তু পুঁজিতন্ত্রের মিডিয়া প্রচারে যায়, সাধারন মানুষরে তারা বিশ্বাস করাইয়া ফেলতে পারে নিজেদের তৈরী করা রিয়ালিটিরে...আমাগো দেশের স্বচ্ছল মানুষরা আসলে দেশরে খুব চিনে না সেইটা আমরা উপলব্ধ করি। তারা শরনখোলায় ভাগ্যাহত মানুষ কেমন থাকতে পারে সেইটা বুঝনের বাস্তবতা রাখে না...কাউখালীতে ক্যান গফুর মিয়া নিজের ঘর ছাইড়া ঘূর্ণিঝড় শেল্টারে যাইতে রাজী না সেইটাও বুঝনের সামর্থ্য তাগো নাই।

রুটি-রুজির টানে আমার আর মৌসুমের কাত্যায়নি পুজার সমাপ্তি না টাইনাই শহরমুখী হইতে হয়। আমরা ঢাকায় ফিরতে ফিরতে জানতে পারি ঢাকার জনজীবন এখন আবার পূর্বাবস্থায় ফেরত আসছে। টিভিতে আর পত্রিকায় এখন আমরা দেশের একটা বড় অংশের দূর্গতগো হেলিকপ্টার মারফত সাহায্য পাঠাইতে পারতেছি...এসএমএস আর একাউন্ট মারফত কর্তৃপক্ষ টাকা পাইতেছেন...আমরা আশা রাখি সেই টাকা দিয়া কোন প্রভাবশালী কর্মকর্তার বাড়ির টিনের সাশ্রয় হইবো না...বিদেশী উন্নয়ন বিশেষজ্ঞের বেতনের সংস্থান হইবো না।

যেহেতু কোন ধর্মেই বিশ্বাস নাই তাই যুদ্ধ উপলক্ষে দেওয়া পুজারে অর্থহীন মনে হয়...কিন্তু তার প্রেরনা আমারে একটুও কি নাড়া দ্যায় না!?

ঢাকায় ফিরা যখন শুনতে পাই সঞ্জীবদা মারা গেছেন...তখন মনে পড়ে,"আমাদের যাকে যাকে প্রয়োজন...তারাই পালায়...দূরের সমুদ্রে চলে যায়"।
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×