দেয়ালের যেহেতু কান নাই, তাই দেয়াল হলাম...

তবুও তাহারা মৌন রহেন...

০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৪৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

১৯৯২ সালে গণ আদালত সংগঠন, তারপর সেই গণ আদালত বিষয়ে আইনগত বৈধতা আর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরী করনের সরকারী অভিযোগ আর তৎ পরবর্তী কালে তাগো মৌনতায় আমরা আসলে মনে করতাম এই দেশে একসময় সরকার বা রাষ্ট্রীয় সংগঠনরে যুদ্ধাপরাধীগো বিচার করনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা যাইবো। জনস্রোত দেখাইয়া এইসব দুর্নীতি আর ধান্দাবাজীতে নিমগ্ন সরকার বা রাষ্ট্ররেও ভয় পাওয়াইয়া দেওন যায়...সেই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হইতাম আমাগো কার্যক্রম নির্ধারণে। রাষ্ট্র বা সরকারের মৌনতারে আমরা ধইরা নিতাম দূর্বলতা হিসাবেই...সেই দূর্বলতার শিকড় আমরা উপড়াইয়া ফেলতে সক্ষম বইলাই ভাবতাম।

কিন্তু এই দূর্বলতার শিকড়ের সন্ধান আমরা এখনো করতেছি। তারা সকলেই যুদ্ধাপরাধীগো বিরুদ্ধে বক্তব্য দ্যায়...এই দেশের স্বাধীনতা আর মুক্তির যুদ্ধ নিয়া আহা-উহু করে...কিন্তু যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের প্রশ্নে তারা মৌন থাকেন...কারনটা কি! মৌনতা এইখানে কিসের কৌশল...কৌশলটা খুব পুরানা আর সরল সেইটা উপলব্ধি করতে খুব বেশি পরিশ্রম লাগে না। আসলে যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের বাসনা কখনোই তৈরী হয় না আমাগো শাসকগোষ্ঠীর...তারা এই সেন্টিমেন্ট দিয়া তাগো রাজনৈতিক ব্যবসার একটা পণ্য কনসেপ্ট তৈরী করে। সময়ে সময়ে যার বাজারজাত হয়।

ক্ষমতার বাইরে যেই মানুষগুলির প্রধান উপজীব্য হয় যুদ্ধ আর যুদ্ধাপরাধ, তারাই এই দেশে ক্ষমতায় আরোহনের পর মৌনবালক হয়। কারন তারা ঐটার সহযোগেই তাগো ক্ষমতার চর্চ্চা করে...যুদ্ধাপরাধীরা তাগো ক্ষমতার গুটি হিসেবে ভালোই দাঁড়ায়। আবার জনগণরেও সম্ভাবনায় রাখন যায়...তয় একটা পক্ষ আবার যুদ্ধাপরাধীগো খুব নিকটবর্তী হওনে একটু অন্য কৌশলে আগায়...তারা কয় ৩৬ বছর বছর পার হইয়া যাওনের পর ক্যান পুরান কাসুন্দি ঘাটনের প্রয়োজন পড়ে। আমরা সকলেই জানি এই বাক্যও আসলে প্রসঙ্গান্তরের বাক্য...এই বচনে আসলে কিছু বলা হয় না...যুদ্ধাপরাধীরা মাঝখান থেইকা ফায়দা লুটে...তারা এই ভিন্নধর্মী নীরবতার সুযোগ লইয়া নিজেরাই নিজেগো পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।

৩৬ বছরের এই তত্ত্ব দিয়া আসলে কখনোই নিজেগো যুদ্ধাপরাধীগো পক্ষের শক্তি প্রমাণ করতে চায় না এই গোষ্ঠী...তাগো এজেন্ডা বাস্তবিক মৌনতায়...তারা অপরপক্ষরে দুষে...যে এই পক্ষ আসলে মৌন থাকে, এই পক্ষ আসলে যুদ্ধাপরাধীগো বিচারে আগ্রহী ছিলো না কোন কালে...যেই ধোঁয়াটে বচন আমাগো মধ্যে মিথ্যা আশ্বাস জোগায় এরা বোধহয় যুদ্ধাপরাধ নিয়া অতোটা অনাগ্রহী না। কিন্তু বাস্তবতা নিহিত অনেক অন্তরালে...

এই অন্তরালে যাওনের আগ্রহ আমার তেমন নাই আজকাল...এই অন্তরালরে আমি চিনি মনে হয়। আমি জানি যুদ্ধাপরাধীগো বিচাররে যেমন এক অংশ পণ্য বানায়...এই অন্তরালও সেইরম পণ্য বানানের সম্ভাবনারে মুক্তপ্রান্ত রাখে। তারা যুদ্ধাপরাধীগো সাথে কোয়ালিশন কইরাও কইতে চায় আমরাও কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আমাগো নেতাও মুক্তিযুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখছিলেন...

জনগণ যুদ্ধাপরাধীগো বিচার চায় কি না সেইটা নিয়া আমি প্রশ্ন তুলনের অধিকার রাখি না...১৯৯২ সালে গণ-আদালতের সময়ে যখন সংশপ্তক বাহিনীতে নাম লেখাইছিলাম, তখন দেখছি-টের পাইছি মানুষের হৃদয় তন্ত্রীতে কিরম আবেগ জড়ায় এই প্রসঙ্গ। মানুষের মনে যুদ্ধাপরাধীগো নিয়া কোন সহানুভূতি নাই...তারা কেবল বিভ্রান্ত হয় ক্ষমতায় থাকা না থাকা রাজনৈতিক দলগুলির কৌশলের কারনে। জনগণ হাতের লাঠিরে কেরম আগ্নেয়াস্ত্র হিসাবে ভাবে সেইটা নিজচোখে দেখা আমার...এখনো নিজের পেশাগত কারনে অনেক নতুন প্রজন্মের সাথে দেখা হয় পরিচিতি হয়...খুব কমজনরেই দেখছি এই বিষয়ে নেতিবাচক ভাবনা আছে...দারিদ্রপিড়ীত মানুষ তার ভাতের অধিকারের লগে যুদ্ধাপরাধীগো বিরুদ্ধেও অবস্থান জানায়...যদিও দলবাজীর কারনে এইসব যুদ্ধাপরাধীরা পার পাইয়া যায় অনেক সময়...তারা ক্ষমতাকেন্দ্রীক দলগুলির সাথে গাটছড়া বাইন্ধা নিজেগো অস্তিত্বশীল রাখে। তারা বিভ্রান্তির আভরণ চড়ায় গায়ে...যাতে আমরা যারা ইগনোরান্ট জনগণ, তারা বিভ্রান্ত হই নিমেষে।

আর মৌন থাকেন ক্ষমতার মানুষেরা...মৌনতা মানে আসলে অস্থিরতা...আমরা অস্থিরতায় হতাশ হইয়া কোন এক সময় আর কোন দাবী রাখবোনা প্রকাশ্যে...ক্ষমতায় থাকা মানুষেরা, রাষ্ট্র আর সরকারে থাকা মানুষেরা পাকাপোক্ত রাখতে চায় পাটাতনরে...যেনো পাটাতন অটুট থাকে। পাটাতনে যেনো স্থিরতা থাকে...কেবল তারা নাড়াইলেই যা মেরুদন্ড সোজা কইরা দাঁড়াইবো...ব্যবসাটা খারাপ না...কি কন...


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): যুদ্ধাপরাধ ;

 

  • ২৪ টি মন্তব্য
  • ৫১৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৪ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৫৪
comment by: কৌশিক আহমেদ বলেছেন: এক্সিলেন্ট।
২. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:০৯
comment by: দ্বিতীয়নাম বলেছেন: এইটা ক্যামন কথা, আঃলীগ, বিএনপির মত চরম দুর্নীতিগ্রস্ত, সুবিধাবাদী, ১০০% মতলববাজী মাফিয়া গোষ্ঠিগুলির উপর নির্ভর কইর‌্যা যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের আশা করা শিশুসুলভ আচরণ।
৩. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:২০
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: বিচারের আশা করাটা কখনো শিশুসুলভ আচরণ হয় না মনে হয়...বিচারের দাবী আর আশা সাধারন মানুষ যে কারো কাছেই করতে পারে...কিন্তু তাগো মৌনতা যে তাগো দুর্বলতা না, সেইটা স্পষ্ট, এইটা একটা কৌশল, আমার পোস্টে তাই কইতে চাইছি। আশা নিরাশার প্রশ্নটা ভিন্ন আলোচনা...

এমনকি এই উপদেষ্টা সরকারও একই কৌশল নিছে...মৌনতা দিয়া যদি হতাশাগ্রস্ত করন যায় মানুষরে, যদি ক্লান্ত করন যায় আন্দোলনরত মানুষরে...
৪. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:২৩
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন: ৫
ওইসব মৌনতাবাদীদের গালে সজোর সহস্র চপেটাঘাত!!
৫. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৫
comment by: দ্বিতীয়নাম বলেছেন: "ওইসব মৌনতাবাদীদের গালে সজোর সহস্র চপেটাঘাত"
হ, মৌনতাবাদীরাই আশাবাদী পাবলিকরে অহরহ চপেটাঘাত মাইর‌্যা যাইতেছে।
৬. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৫
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন: ঠিক বলেছেন দ্বিতীয়নাম
৭. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৬
comment by: মদন বলেছেন: অসাধারন!
৮. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৯
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: হ
৯. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৭
comment by: কৌশিক আহমেদ বলেছেন: আওয়ামী লীগ এর সংস্কার সেভেন্টি ওয়ান পরবর্তী সমাজতান্ত্রিকতা সাপেক্ষে হতে হবে।
১০. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৩
comment by: এস্কিমো বলেছেন: সঠিক পর্যালোচনা।
সবসময় ঝাকির মধ্যে রাখতে হবে। তবে সেটাই একমাত্র পথ নয়।

৫।
১১. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৩
comment by: মিরাজ বলেছেন: দ্বিমত করার সুযোগ রাখেন নাই।

সাধারণ জনসাধারনের মধ্যে একটা ব্যাপক সচেতনতা না আসলে শাসকগোষ্ঠীর এই বিচার বিচার খেলাই আমাদের দেখতে হবে।

১২. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৩৮
comment by: রাশেদ বলেছেন: জটিল।
১৩. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২৭
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইরে...
১৪. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩৮
comment by: মিরাজ বলেছেন: এই পোষ্টটাকে প্রিয় পোষ্টে রাখা দরকার আর মাঝে মাঝে একটা ঠেলা দেয়া দরকার।

প্রিয় পোষ্টে রাখলাম আর একটা ঠেলা দিলাম ।
১৫. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩৮
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এই পয়েন্টটা নিয়াই এইবার যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে শপথ অনুষ্ঠানে কথা কইছিলাম প্রজন্ম ৭১এর কিছু নেতার সঙ্গে। তারা স্বীকার করছেন এই সমস্যাটা। এই কারণেই এবারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে এই দাবিটা তোলা হইতাছে যাতে যদি তারা পিছলায় ও তারপরো আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলার নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে এটা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন হবে যাতে তারা ক্ষমতায় গেলে বিচার করে এমন নিশ্চয়তা দেয়। তার আগে দরকার জনসচেতনতা। জনগন মনেপ্রাণে চাইলে এই সরকারই বিচার করতে বাধ্য। এবং আমিও মনে করি এরাই পারফেক্ট। আজকে বঙ্গবন্ধুরে জাতির জনক ঘোষণা দিয়া পাঠ্যবই সংশোধনের খবর পড়লাম। বুকটা জুইড়া গেল
১৬. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৫০
comment by: মুজিব মেহদী বলেছেন: জনগণ যতই দাবি তুলুক, এ সরকার আর বিচারের দিকে যাবে বলে মনে হয় না। জামাল ভাস্করের আগের পোস্টটাতেই বলা আছে কী কৌশলে এরাও পিছলে যাবে। সাবোট্যাজ করবে, মানুষের মনোযোগ ঘুরিয়ে দিবে অন্যদিকে। তখন আন্দোলনও আর দাঁড়াবে না।

আসলে কোনো সরকারই বিচার হোক এটা চায়নি। চাইলে বিচার হতো। এরা চাইলেও হবে। কিন্তু চাবে না।
১৭. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:২০
comment by: সূর্য বলেছেন: এই বুর্জোয়া রাষ্ট্রের বিচার-আচার ইত্যাদি ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকড় আমরা তো ভালই দেখছি। সেইটার মধ্যে তাইলে বিচার চাই কেন আমরা? আর বিচার করারও দরকার আছে কি না তাও আমার কথা। কারা কী অপরাধে অপরাধী তা আমাগো জানা আছে। এর জন্য কোন সাক্ষ্য-প্রমান দিয়া সওয়াল-জবাব দরকার আছে কি? এখন দরকার শাস্তি।
সংশপ্তক যদি এখনো থাইকা থাকে তবে তাগো মধ্য থেইকাই আসতে হইবো বিচার না শাস্তি।
১৮. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২১
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: দাবী করাতেতো কোন সমস্যা দেখি না...আপনে আমি অনেক ভালো বুঝলেও এখনো এই গোষ্ঠীগুলির পিছনে মানুষ দাঁড়ায়...তাগো কাছে এইসব দলগুলি এখনো নিঃশেষ হইয়া যায় নাই...তাগো অসারতা প্রমাণ করতেও আমাগো এখনো দাবী অটুট রাখতে হইবো...
১৯. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:০৮
comment by: মিরাজ বলেছেন: পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পোষ্টটাকে একবার ঠেলা দিলাম।

আরো বেশী ব্লগার পড়ুক এই পোষ্টটি।
২০. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩৭
comment by: মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: ৫, আমিও দিলাম আরেক ঠেলা,প্রিয় পোস্ট।
২১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৩২
comment by: জুবুথুবু বলেছেন: সিরিজ হিসেবে লিখবেন আশাকরি। পরের কিস্তির অপেক্ষায় থাকলাম।
২২. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৭
comment by: মিরাজ বলেছেন: সহমত @ জবুথুবু ।

২৩. ১১ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৫২
comment by: মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: সবার পড়া দরকার এই লেখাটি
১৩ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:০৭

লেখক বলেছেন: তবুও তাহারা মৌন রহেন...

 



 


স্বপ্ন দেখতে দেখতে কাটাইছি কৈশোর তক, স্বপ্ন ভাঙতে ভাঙতে গ্যাছে তারুণ্য, এখন মধ্যবয়সে আবার শৈশবের স্বপ্ন দেখি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭৮৪৫৯