somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কন্সপিরেসীতে নিমগ্ন রাজনৈতিক বাহন...

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা আসলে কিসের পিঠে চইড়া চলতেছি কোন পথে এই প্রশ্নবিদ্ধ হইয়া চলতে শুরু করি এই বেলা...বাহনের চরিত্র নিয়া আমরা (সকল অভ্যাগতের দায়িত্ব নিজ কান্ধে তুইলা নিলাম) সংশয়ে থাকি, সংকটে থাকি। যা কিছু ঘটে চোখের সমুখে, যা কিছু শুনি কর্ণপটহে, যা কিছু ছুঁয়ে যাই এই বেলা-ঐবেলা...সব কিরম উলট পুরান-ফাকা বুলি। বাহনেরা সব ছদ্মবেশে বিভিন্ন কথা শোনায়...এইসব কথায় ছদ্মবেশী শব্দ থাকে, থাকে বিভ্রান্তিকর উচ্চারণ। বিভ্রান্ত করণের সকল কৌশল জানেন আমাগো সারথীরা...

প্রশ্নটা আসলে আমাগো সারথীগো নিয়াই...তারা আমাগো নিয়া রওয়ানা দ্যান উন্নয়নের পথে...আমরা তাগো বাহনে সামিল হ'ই। তারপর সেই বাহনের সকল বাহানা শুরু হয়...বাহনেরা জানে তাগো দৌড় কদ্দূর, কিন্তু সারথীরা তাগো ছদ্মবেশ চড়াইয়া আমাগো সামনে আনে, আমরা মোহিত হইয়া উঠি অদ্ভুত কোনকিছুর পিঠে(!?)। অতীতের সকল সারথীরা আমাগো যা ইচ্ছা তা বুঝাইছে, আমরা অনেক সময় বুঝছি, অনেক সময় বুইঝাও না বুঝনের অথবা না বুইঝাও বুঝনের ভান করছি। আমরা বাহনের বেষ্টনীর ভিতর থেইকা কিন্তু আসলেই বুঝি না কোন পথে যাইতেছি! কিন্তু সারথীরাও কি জানে না? তাগো তো জানতেই হইবো...নাইলেতো তারা আমাগো সমেত পরবো সমূহ খাঁদে।

অনেক এ্যালিগরির মধ্য দিয়া এতোক্ষণ যা কইলাম তাতে সত্য হয়তো থাকে, কিন্তু দূরত্বও সূচীত হয় পাঠকের সাথে। তবু মনে হইলো একই কথা বারবার একইভাবে কইলে বিরক্তি তৈরী হয় বিধায় আমি একটু অন্যভাবে কওনের সুযোগ খুঁজি এইক্ষণে...কিন্তু আসল কথা হইলো আমাগো পূর্ববর্তী শাসকেরা যেমনে আমাগো চালাইতেছিলেন তার বিরুদ্ধে অনেক কথা কইয়া বর্তমানের উপদেষ্টা শাসকেরা আসলেন আমাগো সামনে...তারা আইসা এমন প্রতিশ্রুতি দিলেন যে আমরা ভাবতে শুরু করতে বাধ্য হইলাম এই দেশ থেইকা দুর্নীতি সমূলে উৎপাটিত হইবার সম্ভাবনা তৈরী হইলো বোধকরি। আমরা যারা তাগো এই ভাষ্য নিয়া সন্দিহান ছিলাম তারাও প্রায়শঃ খুশী হইতাম দেশের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদেরা কথিত শাস্তি(!) পাইতেছেন বিধায়।

যদিও দ্রুত পরিস্থিতি মনে হয় পাল্টাইতে শুরু করলো...প্রথমে যুদ্ধাপরাধীগো বিচার তারপর সিডর ইফেক্টে যখন দেশের সাধারন মানুষেরা উদ্বেলিত...মানবতার ডাকে যখন মানুষ রাজনীতির কন্সপিরেসি থেইকা দৃষ্টি খানিকটা সরাইছে, তখনই শুরু হইলো অপরবাস্তবতার খেলা। আজকের পত্রিকায় যখন পড়লাম তারেক জিয়া আর তার ভাই কোকো জিয়া তাগো ছয় মামলার অর্ধেকের হাইকোর্ট অব্দি বিচারে জামিন পাইছে দূর্বল এজাহার আর চার্জশীটের কল্যাণে, তখন কি মনে হওয়াটা স্বাভাবিক না এই দেশে অন্য কোন বাস্তবতা তৈরীর প্রয়াস খুঁজতাছে এই দেশের বর্তমান শাসকেরা।

আমি শুরু থেইকাই কইছি এই সরকার আসলে বাতাবহ হিসাবে পরিস্থিতিরে ঘোলা করতেই আসছে। তারা তাগো মূল উদ্দেশ্য সামনে রাইখাই আগাইতেছে। দুর্নীতি নির্মূলের যেই এজেন্ডা যেই ডিজাইনে তারা উপস্থাপন করে সেইটার কোন ভিত্তি নাই...এইভাবে দৃষ্টান্তমূলকতা দিয়া বর্তমান আইন আর নির্বাহী ব্যবস্থা টিকাইয়া রাইখা দুর্নীতি আঙশিক অর্থেও নির্মূল করা যায় না। রাস্ট্রের কন্সপিরেসী থিওরীর প্রয়োগ আর নির্দিষ্ট ধরণের ব্যবসায়িগো চাহিদা অনুযায়ী কিছু সুবিধা প্রদান ছাড়া তারা দেশের এমন কিছু পরিবর্তন করতাছে না...বরং এই সরকারের নিয়মে ব্যবসায়িরা নতুন বিনিয়োগে অনুৎসাহিত হইতেছে প্রতিনিয়তঃ। বিদ্যুতের সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারী উদ্যোগে বেসরকারী বিদ্যুৎ উৎপাদনরে প্রোমোট করতেছে। কিন্তু তাতে বিদ্যুৎ ব্যবসাই হইতেছে...প্রয়োজনীয় উৎপাদনমূখী ব্যবসা হইতেছে না।

তারা অন্যের দুর্নীতির কথা কইয়া নিজেগো কৌলিণ্য বজায় রাখতে সক্ষম হইতেছে ষোলআনা। নিজেগো মধ্যে সকল সঙ্কীর্ণতা রাইখা...বর্তমান সিস্টেমের প্রতি শতভাগ আনুগত্য রাইখা নতুন সিস্টেমের-পরিবর্তনের ইঙ্গিতবহ গল্প শুনাইতেছে আমাগো। এইসব যে ভুজুং-ভাজুং সেইটা প্রায়শঃ'ই মনে হয় আমাগো...কিন্তু আশা রাখতে চাওয়া মানুষেরা ক্যান হতাশায় যাইবো!? তারাতো সামনে আগাইতে চায়...তারাতো চায় সকল নাগরিক অধিকারের প্রাপ্তির নিশ্চয়তা।

বিজয়ের মাসেও আমাগো চাইতে হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার...আর সেই বিচারের দাবী পৌছানের সম্ভাবনা থাকে সেইসব শাসক প্রতিনিধির কানেই...যারা যুদ্ধাপরাধীগো বিচার চায় না। দেশের পূরা কাঠামোটাই এমনে পাল্টাইছে গতো ৩৬ বছরে...সকল সরকার দাঁড়াইয়া থাকছে কন্সপিরেসী দিয়া, সকল সরকারের পতন হইছে কন্সপিরেসীতেই। কেউ স্বাভাবিক পথে কোন পদক্ষেপের কথা ভাবতেই পারেনা। আর তাই তাগো বাহনে বিভ্রান্তি রচনা করে। ছদ্মবেশে বিভ্রান্ত করে সকল মানুষরে...যারা এই বাহনে উঠছে মানুষ হিসাবে বাঁইচা থাকনের অধিকার পাইতে।
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×