পশ্চিমা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ক কিছু ভাবনা
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৩২
শাসক শ্রেণীর মৌনতা আমারে অসহায় করে। শাসক শ্রেণীর প্রগলভতা আমারে ভাবায়। শাসকশ্রেণীর প্রতিশ্রুতিবান হওনের আচরন আমারে সন্দিহান করে। শাসক শ্রেণীর উপর আস্থাশীল হইতে পারি বাস্তবায়নেই...যদিও বাস্তবায়নেও দূরভিসন্ধি থাকে। পুঁজিতন্ত্রের ফ্রিডম কেন্দ্রিক যেই ধারনা তারে নিয়া আমার দোলাচল আছে...পুঁজিতন্ত্রের ফ্রিডম ধারনার উদ্ভব কাল হইতে বিবেচনা করবার গেলেই বুঝন যায় তার অন্তর্নিহিত উৎসের ধারা। যার আসলে খুব বেশী জটিলতা নাই, অতীব সরল এই কৌশলেই তারা তাগো উদ্দেশ্য হাসিল করবার পারছে। বিশ্ব ব্যবস্থায় যখন প্রতিযোগিতা ছিলো, বিশ্ব ব্যবস্থায় যখন মুক্তির অর্থ নির্ধারনের দার্শনিক বিতর্ক ছিলো তখন থেইকাই পুঁজিতান্ত্রিক ফ্রিডমের ধারনা আসে...এই ফ্রিডম ব্যক্তির, একান্ত ব্যক্তির মুক্তি বিষয়ক ধারণা।
মানুষের আল্টিমেট মুক্তির কথা নিয়া আসলে ভাবছিলেন কার্ল মার্ক্স, আর এই মুক্তির ধারনা আসছিলো দ্বান্দ্বিক জগতের স্বাভাবিকতা থেইকা। মানুষ আসলে মানুষের সাথেই দ্বান্দ্বিকতার সম্পর্কের বন্ধনে থাকে বইলা তাগো মধ্যে বৈষম্যমূলক সম্পর্কের ধারণা বিদ্যমান থাকে আর এই বৈষম্য মানুষের-সমাজের সকল আচরনে সকল প্রকাশে বিচ্ছুরিত হয়, প্রতিফলিত হয়। আর এই বৈষম্য থাকে কারন সমাজে ন্যায়-অন্যায়ের ধারণা থাকে, সমাজে মূল্যবোধ কেন্দ্রীক একরম শ্রেণী কর্তৃক মান নির্ধারনি খেলা থাকে। শ্রেণী-শাসিত, শ্রেণীবিভাজিত সমাজে শাসক শ্রেণীর মান'ইতো সকলের মান হইবো...এইটাই স্বাভাবিক। অহেতুক বাগাড়ম্বর হয় আমার এতোক্ষণ কওয়া কথাগুলি। কার্ল মার্ক্স এবং এঙ্গেলস সাহেবরা একটা সংগ্রামের ধারণা দিছিলেন এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেইকা উত্তরনের। যার ধারাবাহিকতায় বিশ্বে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে আস্থাশীল হইয়া উঠছিলো অনেক বিপ্লবী মানুষ, যার ভিত্তিতে পৃথিবীর একটা বড় অংশ পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের বাজার ব্যবস্থার লেইগা হুমকীস্বরূপ সামনে আসতে শুরু করলো।
আর যেই কারনে মানুষরে এই সংগ্রামকালীন সময়ের যা কিছু নেতিবাচকতা তার বিরুদ্ধে প্রচারনায় গেলো পুঁজিতন্ত্রের ধারকেরা। মূলতঃ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় আর সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যক্তির স্বাধীনতা, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মত প্রকাশের স্বাধীনতা, দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রেণী মানসিকতার বিদ্যমানতা নিয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রতিযোগিতামূলক মতাদর্শিক স্বাধীনতা...এইসব বিষয়রে তারা সামনে নিয়া আসলো। পাশ্চাত্যের পুঁজিতান্ত্রিকতায় এই স্বাধীনতার সর্বোৎকৃষ্ট প্রকাশ সম্ভব, এই প্রচারনায় নামলো তারা। স্বাধীনতা হইলো তাগো রাষ্ট্রনীতির সবচাইতে চিত্তাকর্ষক বেচাবিক্রির পয়েন্ট। বেচাবিক্রির এই প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রের সকল সমস্যায় তারা ছিলো সর্বদা সচেষ্ট...যেই কারনে প্রতি দশক পরপর তারা অর্থনৈতিক মন্দার শিকার হইছে। ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা থাকনে তারা সেই মন্দা সময় কাটাইছে অথবা প্রচারনার মায়া জাল তৈরী করছে। কিন্তু তবুও নব্বই দশক পর্যন্ত তারা বাধ্য ছিলো এই স্বাধীনতাকামী মতাদর্শ(?)'এর প্রচারনায়।
নব্বই পরবর্তী সময়ে তাগো মত প্রকাশের এই সংগ্রামে নতুন মাত্রা আসলো। নিজেগো তৈরী করা ধর্মীয় বিদ্রোহী অবস্থান ধীরে ধীরে খোলস অবমুক্ত করলো। ধর্মরে সামনে আনছিলো তারা একটা অপিনিয়ন হিসাবেই। ধর্মরে তারা দাঁড় করাইছিলো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংগ্রামের বিপরীতে...আর সেই ধর্মই তাগো সামনে আরেকটা মত হিসাবে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়া দাঁড়াইয়া গেলে, তাগো চৈতন্য ভাঙে। তারা বুঝে মতপ্রকাশের সকল ফ্রিডম আসলে জুইতের হয় না।
তয় ফ্রিডমের যেই ধারণা পশ্চিমে শুরু হইছিলো, সেইটার বিস্তৃতি ঘটছে বাজার সম্প্রসারনের মতোই। সকল অপিনিয়নের প্রকাশ বাঞ্ছনীয় কইয়া তারা আসলে স্টেইটমেন্টের বাজার তৈরী করছে, যেই স্টেইটমেন্টের সারবত্তা নাই, যৌক্তিক কোন প্রেমিজ নাই...কিন্তু যেহেতু তারা একরম আল্ট্রা স্বাধীনতার মতাদর্শরে সামনে আনতে চাইছে...তাই সবকিছুরই একটা বাজারমূল্য সৃষ্টি করতে তারা পারঙ্গম হইছে। তারা জাতীয়তা বিসর্জন দেওনেরও চেষ্টা করছে...কিন্তু সক্ষম হয় নাই...তারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য সামনে আসতে দিছে...কিন্তু নিজেরা আধিপত্যকামী মানসিকতা থেইকা কখনো সইরা আসে নাই। ধীরে ধীরে তারা ব্যক্তির স্বাধীনতার তত্ত্ব বেইচা পরিবার প্রথারে হুমকীতে ফালাইছে। এতসব কিছুর প্রচার আসলেই যেই কারনে ঘটছে সেইটা খুব সাধারন...ভোক্তার সংখ্যা বাড়ছে...
পশ্চিমের বুনিয়াদি পুঁজিতান্ত্রিকতায় তা'ও এই ফ্রিডমের চর্চা চালাইতে তারা সক্ষম হইছে। ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ সেইখানে প্রধান হইয়া উঠে নাই। ব্যক্তি সেইখানে ব্যক্তিগত অভিরুচী'র প্রশ্নে তাই এক্কেরে ব্যক্তিগত ধারণারেই লালন করতে পারছে অনেক ক্ষেত্রেই। যদিও প্রত্যেক মহামন্দার কালেই তারা যখন আবার নিয়ন্ত্রন করতে গেছে, তখন আবার ছোট ছোট নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী সামনে চইলা আসছে তাগো শিল্প-সাহিত্য-জীবন যাপনের ধরণের কারনে। এই নৈরাজ্য নেতিবাচক অর্থে না...পরিবর্তনের অর্থেই তারা নৈরাজ্যের চর্চা করছে। কিন্তু ঔপনিবেশিকতা উত্তর কালে উপনিবেশগুলি যখন জাতি রাষ্ট্র হইছে তখন সেইখানে পশ্চিমা এই ফ্রিডম আসছে বাজারী পণ্যের সাথে...পছন্দ আর উপযোগিতাকেন্দ্রীক এই ধারণার প্রচারনা হইছে...আসলে এখনো হইতাছে।
আর এই ফ্রিডম চর্চার ধারাবাহিকতায় এই দেশেও জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন জীবনাদর্শের প্রসারও স্বল্পভাবে শুরু হইলো। এই দেশে সমাজতন্ত্রীগো অতীত ভূমিকার লেইগা, সকল সংগ্রামে আপোষহীন ভূমিকার লেইগা দেশের সাংস্কৃতিক ভিত্তিতে এই বাজারী ফ্রিডমের চর্চা কম হইছে। তয় নব্বইয়ের সোভিয়েত বিপর্যয়ের পর স্নায়ুযুদ্ধমুক্ত, মুক্তবাজারের শ্লোগানময় পরিবেশে এই অঞ্চলেও ফ্রিডমের এই আল্ট্রা ফরম্যাটের প্রসার ঘটে। কিন্তু পশ্চিমের মতোন নিশ্চয়তার জীবনতো নাই এই দেশের তরুন সমাজের...তাগো ভাবনা আর কল্পনায়ও লাগাম পরাইতে হয়...ইতিহাসে যেহেতু বিপ্লবের গন্ধ, তাই ইতিহাস পঠনের দারিদ্ররে মহার্ঘ্য করা হইলো এই এই ফ্রিডমে। যার পথ ধইরা আবার বিকশিত হওনের সুযোগ পাইলো হিপি মানসিকতা, স্বীকার করতে কুন্ঠা নাই সেই জীবনের চর্চা আমি নিজেও করছি।
নব্বইয়ের পর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন-স্পিচ আর অপিনিয়নের বিষয়গুলি অনেক প্রমিন্যান্ট হইলেও, এই ধারণার যথেচ্ছাচার আর সামাজিক মূল্যবোধের কথিত ঐতিহাসিক মাহাত্ম নিয়া ধর্মও হইলো আরেকটা অবস্থান...যার সাথে পরিবর্তনকামী-শ্রেণীহীন সমাজের স্বপ্ন, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা-চেতনা আর মননের প্রবল বিরোধ থাকলেও এই ফ্রিডমের কেরম জানি যোগসূত্র তৈরী হয়। বাজারী ফ্রিডম তাই সমাজে একরম উন্নাসিকতার সুযোগ তৈরী করে। উন্নাসিকতা'র সাথে সমন্বয় সাধিত হয় ধর্মভিত্তিক চেতনারও...কারন দুইজনেই চায় আমাগো ইতিহাসের স্মরণীয় মুহুর্তগুলিরে ভুলতে...যেই ইতিহাসের সাথে সম্পর্কীত সেই সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামের সম্ভাবনা, যেই সম্ভাবনা ছিলো মানবের চূড়ান্ত মুক্তির প্রয়াস।
যুদ্ধাপরাধীগো বিচার না চাইয়া ভবিষ্যত উন্নয়নের কথা ভাবতে হইবো এইরম চিন্তার অবকাশ তৈরী হয় রাষ্ট্রে...কিন্তু যুদ্ধাপরাধীরা যেই ধর্মের দোহাই দিয়া একটা রাষ্ট্রের স্বাধীনতার বিরোধীতা করছিলো তার চর্চা এই সমাজে আবার তারা শুরু করছে...বিভিন্নজনের কান্ধে চাইপা নিজেগো অস্তিত্ব প্রমান করনের চেষ্টাও নিয়মিত করে তারা। সেই ধর্মকেন্দ্রীকতার বিভাজনে আমাগো আল্ট্রা স্বাধীনতাকামীগো কোন আগ্রহ না থাকলেও মৌন সম্মতি আছে। মৌন সম্মতি শব্দটা হয়তো খুব জুইতের হইলো না, কিন্তু মৌনতায় সম্মতির সম্ভাবনা থাকে...কিন্তু সমাজের স্বাভাবিক নিয়মেই আসলে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে/পাটাতনে পূর্বের নেতিবাচক অধ্যায়গুলি বিস্মরণের প্রয়োজন পড়ে। যেই বিস্মরণ মানে অস্বীকার না, যেই বিস্মরণ মানে শিক্ষাহীনতা না।
এখন সময় হইছে ভাববার...আল্ট্রা ফ্রিডমের নামে আমাগো মুক্তির চেতনাবিরোধী সকল পরিত্যক্ত আদর্শরে অবমুক্ত করুম!? যুদ্ধাপরাধীগো বিচারে দাবীরে অহেতুক মনে করুম!? যুদ্ধাপরাধীগো চেতনার লগে সহাবস্থানের লগে আপোষ করুম!?
...আসলেই এই অবস্থানসমূহ কি অগ্রগমনের নির্দেশিকা!?
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
ভালো.........
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
নরাধম বলেছেন:
এখন সময় হইছে ভাববার...আল্ট্রা ফ্রিডমের নামে আমাগো মুক্তির চেতনাবিরোধী সকল পরিত্যক্ত আদর্শরে অবমুক্ত করুম!? যুদ্ধাপরাধীগো বিচারে দাবীরে অহেতুক মনে করুম!? যুদ্ধাপরাধীগো চেতনার লগে সহাবস্থানের লগে আপোষ করুম!?লেখক বলেছেন: হুমম...
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
একটু কঠিন লাগচে তয় মুক্ত বাজারের লগে মুক্ত কথার সম্পর্ক টা মনে হয় আরো জটিল। একটা থাকলে আরেকটা আসে। সাউথ কোরিয়ারে নিতে পারেন এক্সামপেল হিসাবে, মুক্ত বাজার কিন্তু মুক্ত গনতন্ত্র আনচে
লেখক বলেছেন: আমি এই জায়গাটার বিরোধীতাই করতে চাইছি...মুক্ত বাণিজ্যের প্রয়োজনেই মুক্ত বাক বা প্রকাশের তত্ত্ব প্রচার করা হইছে...যা মানুষরে আরো বেশি ইনডিভিজ্যুয়াল করে, যা মানুষরে অন্য মানুষ সম্পর্কে আপাতঃ আগ্রহী দেখাইলেও আসলে অনীহ করে। যেই কারনে মার্কিনী নির্বাচনে দিন দিন পোলিং রেইট কমতাছে...তারমানে কি এই যে তাগো নির্বাচন নিয়া কোন আগ্রহ নাই? তা নিশ্চয়ই না?
সাউথ কোরিয়ার রাজনীতিরে তার আঞ্চলিক বাস্তবতার সাপেক্ষে ব্যখ্যা করতে গেলে দেখবেন অন্যরম লাগে...আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রাজনীতিতে তার অবস্থান তারে অনেক স্পেশাল কেইস বানাইয়া দিছে...
লেখক বলেছেন: আলোচনা করলে ভালো লাগবো...
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
কে হায় হৃদয় খুড়ে (পরাজয়ের) বেদনা জাগাতে ভালোবাসে
লেখক বলেছেন: হি হি হি...প্রয়োজনে সব হইবো পিয়াল ভাই...হৃদয় খুইড়া বেদনার বাইরেও অনেক কিছু জাগানো হবে...
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
জামাল মিয়া কোরিয়াতে কিন্তু আগে মুক্তি বাজার তারপর মুক্ত বাজার। আর তাইলে কিন্তু আপনার যুক্তি উল্টা হইয়া যায়। আর তাইওয়ানও একি ব্যাপার। স্পেইন আসতে পারে এ আলোচনায়।আর ২০০০, ২০০২, ২০০৪। ২০০৬ সব মার্কিন ইলেকশনে ভোট কিন্তু বাড়সে প্রায় ষাট শতাংসের কাছাকাছি ২০০০, ২০০৪
লেখক বলেছেন: চীনা প্রভাব আর বলয়ের যেইসব জায়গা আমেরিকানরা broader অর্থে পশ্চিমারা কিন্তু আগে মুক্তির গল্পই শুনাইছে...আমার পোস্টে আমি সেইটার কথা বলছিও...মুক্তির কথা শুনাইয়া সমাজতান্ত্রিক চীনের বিরুদ্ধে জনবল প্লাস ভোক্তা তৈরী এই দুইটাই ছিলো তাগো উদ্দেশ্য। আর তার মাধ্যমেই মুক্তবাজারটাও প্রতিষ্ঠিত হইয়া যায়। তয় তাইওয়ানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সহজ ছিলো কারন জাতিগত কারনেই চীনের লগে তাগো একটা সংঘর্ষ ছিলো। যদিও এখন সেই অবস্থা নাই, তাইওয়ানে এখন চীনপন্থী শিবির শক্তিশালী। কোরিয়ারে তারা সেনাক্যাম্প বানাইবার তাগীদে অনেক বেশি নজর দিছে...একটা প্রতিচ্ছায়া তৈরী করছে...সাউথ কোরিয়ারে মুক্ত করতে হইছে তাগো কারন এইখানে জাপান বিরোধী যেই মানসিকতা ছিলো সেইটারে কোমল করতে হইছে, যেহেতু জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ক্রমে বাণিজ্যিক প্রতিপক্ষ হইলেও বাজার সম্প্রসারনের মিত্র হিসাবেই কাজ করছে। আর ম্যান্যুফ্যাকচারিঙের দুনিয়ায় আমেরিকা আর কাউরেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে না...তারা তথ্য প্রবাহের বাজার দখলেই বেশি উৎসাহি...
নির্বাচনের তাগীদ বাড়ছে ক্যান সেইটার লগে বিবেচ্য কিন্তু আরো অনেক কিছু আছে...আমেরিকার জাতীয়তাবাদী নিয়ন্ত্রনও কিন্তু বাড়ছে...আগের মতোন পতাকা পুড়াইয়া ফেলনের স্বাধীনতা কিন্তু নাই এখন...তার মানে পুরানা সেই ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনটা আগের মতোন নাই...ধর্মীয় উন্মাদনার বিপরীতে ভয় থেইকা তারা নিজেগো এখন জাতীয়তাবাদী ক্রিশ্চিয়ান হওনের একটা প্রক্রিয়া হাতে নিছে এইটা সমসাময়িক আমেরিকান গ্রুপগুলির লগে খানিক্ষণ কাটাইলে বুঝন যায়।
লেখক বলেছেন: মার্কিন নির্বাচনে ভোট কমা নিয়া আমার তথ্য জানা আছে...বাড়নের সোর্সগুলি জানা থাকলে ভালো হইতো...সোর্সগুলি দিলে ভালো হয়...তয় এই জাতীয়তাবাদি পদক্ষেপগুলির সম্পর্কে জানা আছে...
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
জামাল মিয়া একন রাইত ১১ টা কালকা সকালে দিমুনে।
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
In the presidential election of November2004, the 64 percent of voting-age citizens
who voted was higher than the
60 percent who turned out in ২০০০
Click This Link
লেখক বলেছেন: আপনের সোর্সটা দেইখা ভালো লাগলো...আর সেইখান থেইকা আরেকটা জিনিস মনে হইলো। ২০০৪'এ ভোট পরছে ৬০%'এর উপরে, কিন্তু এর আগে ৯২তেও ভালো পরছিলো...৬৮ ভাগ লোক ভোট দিছিলো সেইবার। কি দারুন মিল দেখেন... যুদ্ধের পর আমেরিকান নাগরিকেরা ভোট দ্যায়...তারা জাতীয়তাবাদের প্রমান দ্যায় কেবল অন্যরে আক্রমনের পর...এইটার সামাজিক কারনটা পাইলে ভালো লাগতো...
লেখক বলেছেন: আমেরিকাবাসী কারো লগে তর্ক করনটা একটু কষ্টকর আমার লেইগা...আমি যখন ঘুমামু তখন সে জাগবো আর আমার জাগনের টাইমে তার ঘুম...তয় এইরম আলোচনায় আমার আগ্রহ চিরকাল...
লেখক বলেছেন: আর আমারে কড়া বামপন্থী কওনে আমার আপত্তি আছে...
অচেনা বাঙালি বলেছেন:
ঠিকাছে, কি বলব শুধু বামপন্থী? আপনাকে একটা প্রশ্ন করি,
সাধারণ মানুষ কারা ভাল আছে, উত্তর কোরিয়ার না দক্ষিণ কোরিয়ার?
সাধারন মানুষের ভালো থাকা বিষয়ে আমার প্রশ্ন আছে...যদি প্রতিযোগিতামূলকতারে ভালো কন তাইলে দক্ষিনীরা সেইরম আছে...আর দীর্ঘ সময়ের বাণিজ্যিক আর রাজনৈতিক অবরোধের মধ্যে উত্তর কোরিয়া যেমনে আছে সেইটা রিমার্কেবল!
বাঙাল যুবক বলেছেন:
আলোচনা খুবই ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
মাছরাঙ্গা বলেছেন:
বিষয় বর্ণনায় চমৎকার।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
জামাল মিয়া:১৯৯২ সনে অর্থনীতির কারনে ভোট বাড়সে। আবার সেই মুক্ত বাজার থিওরী। তোমার ডিমান্ড চাকরীর, আর বেতন, নাই তাই তোমারে ডিমান্ড এক্সপ্রেসন হইসে ভোটের হারে। ২০০৪ এ বেকারের হার ৫% আর ১৯৯২ তে মনে হয় প্রায় ৯%। সেটা বড় কারন। আর আপনে একটা মজার জিনিষ দেখেন, জাপান, তাইওয়ান, পস্চিম ইউরোপ, কোরিয়া, সবাই আগে মুক্ত বাজার তারপরে গনতন্ত্র। আর আমার সে জন্যই মনে হয় যে দুইটা অন্গাঅন্গি ভাবে যায়, মুক্ত বাজার চায় সবার পারটিসিপেশন নট সেন্ট্রালাইজড প্ল্যানিং আর গনতন্ত্র একই ব্যাপার
লেখক বলেছেন: হামিদ মিয়া
তাইলে আপনে কি কইতে চান? যখন মন্দাভাব থাকবো অর্থনীতিতে তখনই খালি মুক্তবাজার তার স্বরূপে থাকে? আমার লগে আপনের যেই জায়গায় গিয়া লাগতেছে সেইটা হইলো এইরম...আমি কইতাছি মুক্ত বাজারের প্রয়োজনেই মুক্ত আচারের প্রবনতা প্রয়োজন...মুক্ত বাজার থাকলো কিন্তু সমাজ গঠন হইলো আফঘানিস্তানের মতোন, তাইলে সেই মুক্ত বাজারে অস্ত্র বিক্রি ভালো হইলেও কর্পোরেট ব্র্যান্ড বেচনটা সহজ না।
জাপানের বিষয়টা জানি...তারা আগে ন্যাশনালিস্ট হইছে...উপভোগরে অবসর হিসাবে নিয়া মুক্ত আচরনের হইছে তারপর মুক্তবাজারে গেছে...কোরিয়া একটু ভিন্ন আগেই কইছি...তাইওয়ানের ক্ষেত্রে চীনের বিরোধীতায় গিয়া মুক্ত আচারের বা কথিত স্বাধীনতার আগমন ঘটছে তারপর বাজার মুক্ত হইছে...
আর একটা কথা গণতন্ত্র আর কথিত স্বাধীনতা ব্যবস্থাটারে আমি এক কইরা দেখতেছি না।
আর আপনে আগে মুক্ত বাজারের কথা কইতেছেন, তারপর গণতন্ত্রের আগমন ঘটবো...সাথে গণতন্ত্ররে কথিত স্বাধীনতা লগে মিলাইতেছেন...গণতন্ত্র মানে ফ্রিডম এক্সপ্রেশন না বা স্পিচ না...আল্ট্রা ফ্রিডম মানে বরং উন্নাসিকতা...যেইটা গণতান্ত্রিক সমাজে বরং পরিত্যাজ্য...
মুক্ত বাজার অর্থনীতির ভেতরে বহুজাতিক করপোরেট দৈত্যদের কূট কৌশল বিদ্যমান যা সাম্রাজ্যবাদকে সহায়তা করে।
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
তাই নাকি সারোয়ার? একটা এমপরিক্যাল এভিডেনস দেখাও
তোমাকে দেখিয়ে লাভ নেই। তুমি পুঁজিবাদের সমর্থক।
করপোরেট বাণিজ্যের চাতুরী দিয়াই উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নাটবল্টু টাইট করে রেখেছে সাম্রাজ্যবাদীরা।
সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য আমার একটা বইতে আছে। পরে তুলে দেবো।
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
আমি মনে হয় পরিষকার কইরা কইতে পারতাসিনা। সো একটু গুছাইয়া চিন্তা কইরা লিকুম ওকে,
মিরাজ বলেছেন:
জামাল ভাস্কর,আলোচনা করতে চাচ্ছিলাম কিন্তু পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছিলামনা ।
আপনার বক্তব্যের প্রারম্ভিক বেশ কিছু অংশের সাথে একমত নই তবে সেই আলাপ পরে হবে। আগে দেশের চিন্তায় আসি, যুদ্ধাপরাধী বিচার নিয়া আমার ধারণা আর আপনার ধারণার মধ্যে কিছুটা সংঘর্ষ আছে বলেই মনে হচ্ছে । তবে আলোচনা আমার আর আপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই ।
জামাল ভাস্কর, সমাজ একটা ক্রমপরিবর্তনশীল এনটিটি, এটা সময়ের দাবীতে, সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিত হয়। সময়ের এই প্রয়োজনটা সে সমাজ বুঝতে পারে, সেই সমাজ উন্নত হয়, সেটা পুজিবাদী সমাজই হোক আর সমাজতান্ত্রিক সমাজই হোক । এই রেসে পিছাইয়া পড়া শুরু করলে শুধু পিছাইয়াই পড়তে হয়। কারন সমাজে বিদ্যমান নানাবিধ সমস্যা একটা অপরটার সাথে সম্পর্কিত কোনটাই একটা স্বতন্ত্র সমস্যা হিসাবে আবির্ভূত হয়না । যুদ্ধাপরাধী বিচারের সমস্যাও এইরকমই একটা সমস্যা । যেটা সমাজের অন্যান্য সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
আমি তাই সমাজ পরিবর্তনের অংশ হিসাবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ছাড়া সমাজ পরিবর্তিত হবেনা এই ধারণায় আমি বিশ্বাসী নয়। বরং উল্টোটা মনে করি যে, বর্তমান সমাজ পরিবর্তিত হলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, নইলে শুধু বিচার বিচার নাটক হবে, শাসক গোষ্ঠী মাঝে মাঝে নাটকের পাত্র - পাত্রীদের শক্তি ক্ষমতা যাচাই করবে, শক্তিমত্তা অনুযায়ী কিছু প্রতিশ্রুতি আসলেও আসতে পারে। তারপর আবার সেই পূর্ব-অবস্থা । এইভাবে একদিন এইসব যুদ্ধাপরাধীরা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবে যা তাদের প্রাপ্য নয়।
কেন এই অবস্থা হচ্ছে? এর একটা বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির রাজনৈতিক নীতিহীনতা আর সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা । দুইটার কোনটাকেই ছোট করে দেখতে রাজী নই । রাজনৈতিক দলগুলির নীতিহীনতার সমস্যা না থাকলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আরও আগে সম্পন্ন হতো। সেই নীতিহীনতা অদূর ভবিষ্যতে দুর হবে তার কোন সম্ভাবনা দেখিনা, তার মানে দাড়াচ্ছে বিচারও খুব শীঘ্রি হবে সেটাও আশা করিনা । শাসকগোষ্ঠী বিচার করতো যদিনা তারা মন ভুলানো বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি আর নাটুকেপনা দিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে না পারতো।
এখন আসেন ২য় ব্যাপারটিতে, যেটাকে বললাম সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। দেশের সিংহভাগ মানুষের কাছেই একমাসের আহার জোগানোর (ক্ষেত্র বিশেষে এক সপ্তাহ বা এমনকি ১ দিনের) মত টাকা নেই । তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী তার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়না, এরা ঠিকই যুদ্ধাপরাধীদের ঘৃণা করে কিন্তু এদের বিচারের চাইতে নিজের পরিবারের জন্য আহার জোগানোটাকে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। আপনি এদের এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারবেননা।
আর সেজন্যই আসে সমাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নের কথা । বিদ্যমান সমস্যাগুলিকে একত্রে দেখা, বিচ্ছিন্নভাবে নয়। দেশের মূল সমস্যাগুলি (যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তাদের মধ্যে প্রধান একটি) সমাধানের জন্য যদি সবাই সচেষ্ট হয়ে সমাজ উন্নত করা যায় ( আপনার সাথে দ্বিমত জানিয়ে বলি এটা পুজিবাদি উন্নয়নের মাধ্যমেই সম্ভব), তখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অনেক বাধাই দুর হবে। সব মানুষ স্বত:স্ফূর্তভাবেই এই দুষ্টক্ষত শরীর থেকে দুর করার জন্য আগাবে।
রুয়ান্ডা, আলজিরিয়ার মত দেশে ভয়াবহ সব যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়েছে কিন্তু কোন বিচার সম্ভব হয়নি, অদূর ভবিষ্যতেও হবে এমন কোন সম্ভাবনা দেখিনা । কিন্তু ইওরোপে কিন্তু বিচার সম্ভব হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইন করা গেছে, বিচার এখনো চলছে।
তাই আমাদের দেখতে হবে আমরা কোন উদাহরণকে সামনে রেখে আগাতে চাই?
এজন্যই বলি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে আলাদা করে দেখলে বাংলাদেশের মত পশ্চাৎপদ সমাজে সফলতার সম্ভাবনা কম। সমাজ পরিবর্তনের অংশ হিসাবে দেখতে হবে। একজন জামাল ভাস্কর বা একজন মিরাজ কিন্তু সাধারন বাংলাদেশের সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করেনা । এইটা বুঝতে হবে।
আলোচনার অপেক্ষায় থাকলাম ।
তয় যুদ্ধাপরাধীগো বিচার কইতে আমি কেবল কিছু অপরাধীর বিচার বুঝি না। যুদ্ধাপরাধীগো বিচার কইতে আসলে একটা মতাদর্শিক অবস্থানের বিচার বুঝি, যুদ্ধাপরাধীগো বিচার কইতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনরুদ্ধার বুঝি। আর তাই যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের দাবীর লগে আমি সেই হিসাবেই একাত্ম হই। যুদ্ধাপরাধের বিচার সমাজ পরিবর্তনের আগে হইবো নাকি পরে, এই বিতর্ক সেই পুরানা ডিম আগে মুরগী আগে'র মতোন প্যারাডক্সের মতোই লাগে আমার কাছে।
আপনে সমাজ উন্নয়ন কইতে কি বুঝেন আমি জানি না...কিন্তু আমি সমাজ উন্নয়ন কইতে বুঝি পরিকল্পিত অর্থনীতি আর রাষ্ট্র বা সমাজে মানুষের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ। আর এই বিষয়সমূহরে নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন। আর দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তনের লেইগা যেইটা এইমুহুর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হইলো সামাজিক বৈষম্য কমাইয়া নিয়া আসনের সংগ্রাম। প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা আমাগো দেশে দুর্নীতির সম্প্রসারনই ঘটাইতেছে গতো প্রায় সাড়ে তিন দশক ধইরা।
আমি পরিবর্তনের কথা বলতে চাই...চাইরপাশের মানুষের আচরন আর সামাজিক বৈষম্য দেইখা মনে হয়...সমাজতন্ত্র মুক্তির একটা পথ হইতে পারে...বিকল্পতো সামনে আর নাই...
তাই বইলা তো এই সমাজে যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবী না তুইলা বইসা থাকুম না? এই দাবী আমাগো বাঁচতে শিখাইতে পারে...ইতিহাস পঠন আর তৈরী করনের প্রেরণা জোগাইতে পারে!
রুয়ান্ডা আর আলজিরিয়া আমাগো দিকনির্দেশনা হইলে দুইটা অবক্ষয়ী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার দেশ হইবো উদাহরন...নিশ্চয়ই আমরা তা চাই না। ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী-খবরদারী আর মোড়লগিরির বিরোধীতা করি বইলা তাগো সভ্যতারেও অস্বীকার করতে হইবো বিষয়টাতো তা না!
তয় মানুষের দারিদ্যমোচনের যেই কথা কইলেন সেইটারে আমি সবসময় ঠিক মনে করি না। এই দেশের লাখো মানুষ একাত্তরে রাজাকার হওনের আর্থিক লোভ এড়াইয়াও যুদ্ধে গেছে...৯০'এর ছাত্র-গণ অভ্যূত্থানে সাধারন খাইটা খাওয়া মানুষ প্রাণ দিছে...কানসাট-ফুলবাড়িতে ভূক্তভোগী মানুষ ক্ষমতার সব বেড়াজাল ছিন্ন কইরা মাঠে নামছে...এতোসব ইতিহাস ভুলি কেমনে...কেবল যথার্থ বিষয়টারে যথার্থ ভাষায় তাগো কাছে নিয়া যাওনের অপেক্ষা করি...ব্যবসা কিম্বা অবমাননা কোনটাই না!
মিরাজ বলেছেন:
জামাল ভাস্কর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়া আমার মতের সাথে তেমন দ্বিমত না থাকায় খুশী হইলাম । তবে এই সাইটের ব্লগারদের একটা অংশ একমত হইতে পারেনা, তারা মনে করে যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবীই বর্তমান সময়ের একমাত্র জরুরী কাজ, দেশের অন্য সমস্যা নিয়া ভাবনার সময় নাই, আগে বিচার হউক তারপর দেখা যাবে। আর তাই এখানে দেশের সবচেয়ে সুবিধাভোগী শিক্ষিত মানুষদের পদচারণা দেখলে দেশের নানা সমস্যা যা ভবিষ্যতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করার জন্য যথেষ্ট তা নিয়া ভাবনা দেখিনা । যাক, আমি মনে হয় কিছু কিছু ব্যাপার আপনাকে বুঝাইতে পারি নাই । যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়া আসলে কোন প্যারাডক্স নাই, প্যারাডক্স মনে হয় কারন আমরা বারবার শাসকগোষ্ঠীর প্রতারণার শিকার হবার পরেও তাদের দিকেই বিচারের জন্য তাকাইয়া থাকি।
আগে আপনার মন্তব্যের যে অংশের সাথে দ্বিমত আছে সেই অংশটা নিয়ে আলোচনা করি পরে পোষ্টের বাকী অংশ নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা আছে । আপনি বলেছেন
"প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা আমাগো দেশে দুর্নীতির সম্প্রসারনই ঘটাইতেছে গতো প্রায় সাড়ে তিন দশক ধইরা।"
এইটা মানতে পারলামনা । প্রতিযোগিতা মুলক মানসিকতাই গত তিন দশক ধরে রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতার পরও একটা শক্ত মধ্যবিত্ত শ্রেনীর জন্ম দিছে যারা সরকারের যাবতীয় অসহযোগীতা ও দুর্নীতির পরও অর্থনীতিকে টিকাইয়া রাখছে আমাদের কৃষিকে সাথে নিয়ে । এই প্রতিযোগিতাটুকু না থাকলে দেশের বর্তমান অবস্থা আরো খারাপ হতো বলেই আমার ধারণা।
দূর্নীতি তৃতীয় বিশ্বের অর্থনীতির একটা বড় উপাদান এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই দূর্নীতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহৃত হয়। আর এর প্রভাব পড়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে, একটা সংস্কৃতি দাড়াইয়া যায়। এর জন্য রাজনৈতিক আদর্শের অনুপস্থিতিতে নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রাখা যতটা বড় কারণ, প্রতিযোগিতামুলক মানসিকতা ততটা নয়। আর রাজনৈতিক সরকারের এই লুটপাটের মহোৎসবে সরকারী আমলারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক অধ:পতনের সুযোগ নেয় দুর্নীতিকে পাকাপোক্ত করার জন্য । এরা দুই দলই এক অপরকে আশ্রয় করে বেচে থাকে।
আর লাখো মানুষ বারবার ক্ষুধা পেটে নিয়াই আন্দোলন সংগ্রামে গেছে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়, কিন্তু সেই ভাগ্য কিন্তু পরিবর্তন হয় নাই, তারপরও আবারও একই আশায় সাধারণ মানুষ সামনে আসবে, তবে সাধারণ মানুষ তখনই সামনে আসে যখন তার অস্তিত্বের উপর আঘাত আসে যেটা আসছিল ৭১ এ, কানসাট ফুলবাড়ীতে। ৭১ এর আবেদন ছিল ব্যাপক যাকে আমরা ব্যবহার করতে পরিনি, আর কানসাট ফুলবাড়ীর মত স্থানভিত্তিক ঘটনা আরো বড় পরিসরে প্রভাব ফেলবার আগেই সেই সাধারণ মানুষ তার আহার কেন্দ্রিক নৈমিত্তিকতায় ফিরে যায়। যার ফলে এইভাবে সমাজ পরিবর্তন হবে সেটা আমি মনে করিনা ।
আমার চোখে সমাজতন্ত্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এটা প্রতিযোগিতামুলক মানসিকতা সৃষ্টি করেনা, ব্যক্তির সম্পদ লাভের ও বিস্তৃতির অধিকারকে উৎসাহ দেয়না। এই দুইয়ে সমন্বয় না হলে ব্যক্তি উদ্যমে পরিবর্তন আসেনা, ব্যক্তির ভাগ্য পরিবর্তন হয়না বা আরো ব্যাপক অর্থে ব্যক্তির উদ্যোগে সমাজ পরিবর্তনের উদ্যোগ সূচিত হয়না। একজন বিল গেটস বা লক্ষী মিত্তাল বা রতন টাটার সৃষ্টি হয়না যারা সমাজ পরিবর্তনের সুচকগুলোকে তার ভাগ্য পরিবর্তনের সুতোর সাথে এক সূতায় গাথতে পারে ।
আদর্শ মানুষের ভিতর বোধ জাগানোর জন্য যথেষ্ট কিন্তু সেই বোধ তাড়িত হয়ে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে নিজ ভালো মন্দের উর্ধে উঠে শুধু সমাজ নিয়ে চিন্তা করতে আর সেই চিন্তা বাস্তবায়নে কাজ করতে প্রেরণা দেয়না। লোভ, ব্যক্তি উন্নয়ন, সম্পদ লাভের আকাংখা এইগুলি মানুষের প্রাকৃতিক কামনা বাসনার অন্তর্গত, মেজরিটি মানুষ এর উর্ধে উঠতে পারেনা (অস্বীকার করিনা কিছু মানুষ অবশ্যই পারেন, আর সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দ্যাখেন) আর তাই একে অস্বীকার করে আদর্শতাড়িত হয়ে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব হয়না।
লেখক বলেছেন: প্রতিযোগিতা মুলক মানসিকতাই গত তিন দশক ধরে রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতার পরও একটা শক্ত মধ্যবিত্ত শ্রেনীর জন্ম দিছে যারা সরকারের যাবতীয় অসহযোগীতা ও দুর্নীতির পরও অর্থনীতিকে টিকাইয়া রাখছে আমাদের কৃষিকে সাথে নিয়ে । এই প্রতিযোগিতাটুকু না থাকলে দেশের বর্তমান অবস্থা আরো খারাপ হতো বলেই আমার ধারণা।
আমাগো অর্থনীতি আসলে কারা টিকায়, এই অর্থনীতিতে কারা টিকে এইটা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক transaction নিয়া একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা না থাকলে বোঝাটা অসম্ভব। এই কয় দিন আগেই এক বন্ধুর লগে আপনের কথিত শক্ত মধ্যবিত্তগো লইয়া আলোচনা করতেছিলাম...আমার অবস্থান ছিলো এই শক্ত মধ্যবিত্তরা যাগো আমরা executive class কইতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করি, তাগো বিরুদ্ধেই। আমাগো দেশের জীবনাযাত্রার যেই বৈষম্যমূলকতা তারে আসলে এই অংশটাই আরো প্রকট করতেছে...এরা মাসে ২০-৫০ হাজার টাকার গড় ইনকাম করে...আমদানীকৃত পোষাক আর গাড়ি কিনে, অর্থনীতির লেইগা ক্ষতিকর রিয়াল এস্টেট ব্যবসারে চাঙ্গা করে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়া...আর পার্টি এটেন্ড করে প্রত্যেক বিষ্যুদবার (এখন যদিও এই শ্রেণী কজমো-ডেকাগন-অট্রিয়ামে উইক ডে'তেও থাকে)। এগো কারনে দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের সম্ভাবনা তিরোহিত হইয়া ট্রেডিং ব্যবসা বাড়তেছে...
প্রতিযোগিতামূলকতারে আসলে শক্তিশালী অর্থনৈতিক backbone ছাড়া নিয়ন্ত্রন করা খুব কঠিন...একটা দেশে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিরে প্রতিষ্ঠিত করতে হইলে একরম স্বচ্ছলতা বা আপাতঃ রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণের নজীর। খোদ আমেরিকান অর্থনীতির পঠনেও বিষয়গুলি এইরমই দেখা যায়। আমাগো দেশে প্রতিযোগিতামূলকতা চেতনায় আসছে সত্তর দশকের শেষ দিকে সামাজিক উপসর্গ হিসাবে (প্রথম ভাগে যেহেতু একটা বছর জাতীয় সংহতির চেতনা আর ২টা বছর দুর্ভিক্ষের দাহ...তাই অর্থনৈতিক কোন পরিকল্পনার সুযোগই সেইভাবে মিলে নাই...হাই ক্লাস প্রোফাইল ছাড়া প্রতিযোগিতার স্বপ্নটা কেউই দেখতে পারতো না)।
তো প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার বিস্তার ঘটছে এই দেশে ক্ষমতা চর্চ্চার হাত ধইরা...আর এই চর্চ্চা কখনোই যোগ্যতার নিরীখে যায় নাই, সবসময় ছিলো টেবিলের পেছনের গল্প...শুরুর দিকে হয়তো তা'ও খানিকটা ছিলো...এখন তা'ও নাই। এখন প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার সিংহভাগ জুইড়াই থাকে কন্সপিরেসী...যারে কর্পোরেইট দুনিয়া সিদ্ধ game বইলা ধরা হয় সেইটার প্রচলন ঘটছে...কিন্তু পশ্চিমা অর্থনীতিতে একটা কর্পোরেইট গইড়া উঠনের ইতিহাস থাকে, একটা বুদ্ধিভিত্তিক শুরু থাকে...আর আমাগো দেশে আছে আলমের পঁচা সাবান, আজাদ প্রোডাক্টস্...যারা আসলে কখনোই অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে নাই...আমি অর্থনৈতিক ভূমিকা কইতে জিডিপি আর জিএনপি'র কথা কইতেছি।
রাজনীতি একটা বড় সমস্যা মানি...কিন্তু কেবল রাজনৈতিক আচরন এইখানে দায়ী না। আসলে একটা আচরন কখনোই দায়ী হয় না অর্থনৈতিক কাঠামোর সংগঠনে...এইখানে রাজনীতি দায়ী হয় তার সিস্টেম নিয়াই...ক্ষমতার চর্চ্চা একটা অবক্ষয়ী পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে ঠিক যেমনটা হওনের কথা এই যুগে আমাগো দেশে ঠিক তেমনেই চলে সবকিছু। এই খানে যেই কারনে কিছু মুনাফাভোগী জন্মায়...কারন তারা জানে সকল রাজনৈতিক দলের সময়েই তারা নিজেগো স্বার্থ উদ্ধার করতে পারবো। প্রতিযোগিতা এই খানে আছে ষোলআনা,...এই প্রতিযোগিতা নোংড়ামীর...এই প্রতিযোগিতা অসুস্থ্য।
বিসিএস পরীক্ষা নিয়া এই নোংড়া প্রতিযোগিতা চলে...বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া নিয়া এইখানে নোংড়ামী চলে...পত্রিকার কাটতি নিয়া এইখানে নোংড়ামী চলে...কর্পোরেইট মাল্টি ন্যাশনালে চাকরী পাওয়া নিয়া এইখানে নোংড়ামী চলে...ব্যবসায়িক পণ্যের বাজারজাতকরনে এই খানে নোংড়ামী চলে...শুল্কমুক্ত গাড়ির ব্যবসা নিয়া এইখানে নোংড়ামী চলে...এইসব কিছু চলে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার খাতিরেই...
তয় আপনের কথা সত্য কানসাট-ফুলবাড়ির মতোন আন্দোলন দিয়া এই দেশে সমাজ পরিবর্তন হইয়া যাইবো এইটা আমিও বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমি সম্ভাবনা দেখি...ইতিহাসে দেখি সেই সব দেয়ালে পিঠ ঠেইকা যাওয়া মানুষের মুখ যাগো চোখে বিজলী চমকায়...সেই বিজলীর দমকে শোষকের কইলজা পুইড়া যায়...আমাগো স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমিকাও এইরম উজ্জ্বলতায় গড়া।
সমাজতন্ত্র সম্পর্কে যেই সমালোচনা করলেন এইটা আসলে universal একটা বক্তব্য...প্রতিযোগিতামূলকতা ছাড়া আসলে প্রাযুক্তিক উন্নয়ন হয় না তা মানি, কিন্তু functional-structural development-এর লেইগা প্রতিযোগিতামূলকতা সবসময়েই সেকেন্ডারী বিষয়...রাজতন্ত্রকালে তৎকালীন রাশিয়া ছিলো দারিদ্রের পরাকাষ্ঠা...বিজ্ঞান সেইখানে এক্কেরেই অনুপস্থিত ছিলো...টলস্টয় আর পুশকিন বাদে তেমন কোন ব্যক্তিত্বই ছিলো না সেই সমাজে। কিন্তু বিপ্লব পরবর্তী কালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজ্ঞান সম্পর্কীত অ্যাচিভমেন্ট আর প্রাযুক্তিক কাঠামোর বিকাশের সময়কাল মিলান ইউরোপ-আমেরিকার অভিজ্ঞতার সাথে...
একজন বিল গেট্স, লক্ষী মিতাল কিম্বা রতন টাটা দাঁড়াইতে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা লাগে কি না আমি জানি না। তয় অজানাকে জাননের আগ্রহটাই যে বড় হয় সেইটা জানি...আর সমাজতান্ত্রিক সমাজে ব্যক্তির চাইতে সমাজের উন্নয়নটা বেশি জরুরী বইলা ধরা হয় বইলা অনেকসময়েই কেবল বিশেষ্যিকৃত নেতৃত্ব ছাড়া বাকীগো গল্প জানা যায় না...কিন্তু সমান্তরালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বৈজ্ঞানিক achievement বিবেচনা কইরা দেখতে পারেন স্নায়ুযুদ্ধকালে...
আদর্শ মানুষের ভিতর বোধ জাগানোর জন্য যথেষ্ট কিন্তু সেই বোধ তাড়িত হয়ে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে নিজ ভালো মন্দের উর্ধে উঠে শুধু সমাজ নিয়ে চিন্তা করতে আর সেই চিন্তা বাস্তবায়নে কাজ করতে প্রেরণা দেয়না। লোভ, ব্যক্তি উন্নয়ন, সম্পদ লাভের আকাংখা এইগুলি মানুষের প্রাকৃতিক কামনা বাসনার অন্তর্গত, মেজরিটি মানুষ এর উর্ধে উঠতে পারেনা (অস্বীকার করিনা কিছু মানুষ অবশ্যই পারেন, আর সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দ্যাখেন) আর তাই একে অস্বীকার করে আদর্শতাড়িত হয়ে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব হয়না।
এই প্যারাগ্রাফটা আসলে একটু অস্বস্তিকর লাগলো আমার কাছে...আমি মানুষের ব্যক্তিগত মানসিকতার জাজমেন্টরে কখনোই এইরম চোখে দেখি না...ইতিহাস আমারে এইরম শিক্ষা দ্যায় না...তয় আপনের suggestion শিরোধার্য্য...আসলেই মানুষই হইতে পারে যেকোন উন্নয়নের পরিমাপক...আর তাই মানুষের অংশগ্রহণ আর মতাদর্শিক দৃঢ়তাই পারে পরিবর্তনের নিয়ামক হইতে...
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন:
মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাটাই হচ্ছে একটি শ্রেণীপক্ষপাতহীন অর্থনৈতিক ও সমাজ কাঠামো নির্মাণ। যুদ্ধপরাধী ও স্বাধীনতাবিরুধীদের বিচার না করে, সুবিধাবাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটাকে জিইয়ে রেখে মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্খিত সমাজ নির্মাণের কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। মুনাফাকেন্দ্রিক গণতন্ত্র ও উদারনীতি দিয়ে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গাঢ় করা যাবে, কিন্তু উন্নয়ন সম্ভম নয়। সুতরাং উন্নয়ন এর স্বার্থেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়াটা জরুরি। পোস্টটি ভাল লেগেছে.......আপনাকে ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: আপনারেও ধন্যবাদ...
মিরাজ বলেছেন:
@ জামাল ভাস্করআপনি বলেছেন
এই প্যারাগ্রাফটা আসলে একটু অস্বস্তিকর লাগলো আমার কাছে...আমি মানুষের ব্যক্তিগত মানসিকতার জাজমেন্টরে কখনোই এইরম চোখে দেখি না...ইতিহাস আমারে এইরম শিক্ষা দ্যায় না...তয় আপনের suggestion শিরোধার্য্য...আসলেই মানুষই হইতে পারে যেকোন উন্নয়নের পরিমাপক...আর তাই মানুষের অংশগ্রহণ আর মতাদর্শিক দৃঢ়তাই পারে পরিবর্তনের নিয়ামক হইতে...
-----------------------------------------------------------------
আপনার মন্তব্যের মধ্যে "..তয় আপনের suggestion শিরোধার্য্য..." অংশটুকু ভালো লাগলোনা । একটু শ্লেষের দেখা পেলাম। এখানে আমরা দুজন একটা বিষয়ে আলোচনা করছি। দুজনের মধ্যে বেশ কিছু ব্যাপারে মতৈক্য থাকলেও যে বিষয়গুলি নিয়ে মতানৈক্য আছে সেগুলির ব্যাপারে যার যার মতামত উল্লেখ করছি। তার মধ্যে এই লাইনটা বড় বেখাপ্পা লাগলো ।
আপনার সাথে আলোচনা চালাইতে চাই কিন্তু এইরকম কথা আলোচনা চালাবার জন্য খুব একটা সহায়ক হয়না।
আর শেষে যেই প্যারাগ্রাফটা বোল্ড করে দিছেন সেখানে ক্লারিফিকেশনের স্বার্থে এখন মনে হচ্ছে দুইটা কথা উল্লেখ করা উচিত ছিল । এখানে তুলে দিলাম, ব্রাকেটের ভিতর কিছু মানুষ অবশ্যই পারে এর পরে হবে ---
(অস্বীকার করিনা কিছু মানুষ অবশ্যই পারেন, এইসবের উর্ধে ইঠেই তারা সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দ্যাখেন)
লেখক বলেছেন: মিরাজ,
শিরোধার্য্য শব্দটা আমি শ্লেষের অর্থে ব্যবহার করি নাই...আমি ঐটারে একটা নিয়মের মতোন কইরা ভাবতে ভালোবাসি...এইকারনেই পরের লাইনগুলি গুলি লিখছি...আপনের ভালো না লাগনের কারন আমার প্রকাশের সীমাবদ্ধতা...আমার মনে হয় ঐটা বাদ দিয়া পড়তে পারেন, এই খানে কমেন্ট মডারেশন সম্ভব না।
আর ঐ লাইনটা আসলে আমার কাছে একটু কম গুরুত্বপূর্ণ হইয়া যায় বক্তব্যের বাকী অংশের জন্য...তয় আপনে তর্খ চালাইলেই আমি খুশী হইতাম...
মিরাজ বলেছেন:
ধুরো তাড়াহুরায় আবার ভুল করলাম, একটা কাজে একটু ব্যস্ত আছি কথাটা হবে
(অস্বীকার করিনা কিছু মানুষ অবশ্যই পারেন, এইসবের উর্ধে উঠেই তারা সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দ্যাখেন)

















