ধর্মের দোহাইয়ে যুদ্ধাপরাধের নিস্তার নাই!!
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৫৬
ধর্ম নিয়া আমার তেমন কোন অস্বস্তি নাই...একজন ব্যক্তি বিশ্বাসের নির্ভরতায় তার অস্তিত্বরে খুঁইজা নিয়া জীবন যাপনের অনিশ্চয়তারে উৎরাইয়া যাইতে চায়...নিয়মতান্ত্রিকতায় নিজেরে পরিচালনা করতে চায়...ধর্মে বিশ্বাসের কারনে তার নিয়মিত জীবন ধারণে বেশ কিছু করণীয় আর অকরণীয় নির্ধারিত রাইখা পদক্ষেপ নেয়...নিয়মিত অথবা অনিয়মিত প্রার্থনা/উপাসনা...আমার কোনটাতেই সমস্যা নাই...একজন ধার্মিক মানুষের মতোন নির্ধারিত কইরা কোনকিছুরে আমি দেখতে পাই না...কিন্তু অন্য কেউ নির্ধারণে রাখলে আমার ঝামেলা কি!? আপাতঃ অর্থে যেহেতু কোন ঝামেলা নাই তাই আমি ধর্ম নিয়া তেমন কুন্ঠিত না।
বাস্তবে ধর্ম নিয়া আমার ব্যক্তিগত সমস্যা আছে...তথ্যগত বা ব্যখ্যার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আছে আমার, হাদিসে মোহাম্মদের জীবনকাহিনী আমি জানি না, বিশেষ আচরনের মাহাত্ম নিয়া আমার হয়তো অনেক কিছুই জানা নাই...কিন্তু আমি বিশ্বাসরে কখনোই একটা চিন্তা পদ্ধতির শুরুর পর্যায় হিসাবে নিতে পারি না। আরোপ কইরা দেওয়া একটা জীবন ধারণে আমি বিশ্বাসী হইতে পারি না। প্রশ্নহীনতায় প্রার্থনা/উপাসনাতো অসম্ভব! ধর্মভিত্তিক কোন আলোচনায় যেই কারনে আমি অংশই নিতে পারি না...কিন্তু আমি চরম-পরম কোন অস্তিত্বের কাছে সমর্পিত হইতে পারি না বৈজ্ঞানিক কোন ব্যখ্যার উপস্থিতি ছাড়া...তারচেয়ে ভালো সংশয়ী থাকা! বিজ্ঞানের সম্ভাবনায় আমি আস্থাশীল থাকি...যেইখানে শুরুতেই পরম সত্য ধইরা নেওনের বেড়াজাল নাই...বরং আমি সম্ভাবনাময় দীর্ঘ উত্তরহীনতায়ও থাকতে রাজী আছি।
ইতিহাস আর দর্শন পাঠের অভিজ্ঞতা শুরু হইছিলো সেই কৈশোরে...তার লগে পারিবারিক পটভূমিতে ধর্মটাও ছিলো...অন্ধের মতোন আরবী অক্ষরগুলি নাড়তে নাড়তে ভাষাটার ঐন্দ্রজালে মায়া তৈরী হইছিলো ঠিকই...কিন্তু সেই মায়াতেও আমি ডুবি নাই অতলে...আমার passion ছিলো দর্শনে, প্রশ্নের গভীরতায়...উদাহরনমাফিক অন্য কারো অভিজ্ঞতায় নিজের জীবন তৈরীর বাসনা আমার কম ছিলো, অনেক ক্ষেত্রে ছিলোই না। তবুও ধর্ম নিয়া আমি ক্ষিপ্ত হই না...ধর্মীয় কোন আচার-আচরন-উপদেশ দেখলে আমি বিরক্ত হই না...ততোক্ষণ পর্যন্ত, যতোক্ষণ সেই ধর্মের পরাকাষ্ঠায় আমারেও জড়ানের আকাঙ্খা করেন সেই ধার্মিক ব্যক্তি...
একজন ধার্মিক মানুষের যেই জীবন, তারে আমি কই ধর্মকেন্দ্রীক জীবনধারণ...ব্যক্তিকেন্দ্রীক এই আচরনরে আমার কোনসময়েই অস্বস্তিকর লাগে না। অফিসের দরকারী কাজের টাইমে কোন মানুষ নামাজ পড়নের লেইগা উইঠা গেলে আমি সহনশীল থাকি...ধর্মীয় ছুটিছাটায় একজন বিশ্বাসী মানুষরে আমি অবশ্যই কন্সিডার করি কর্মস্থলে...একজন ধর্মীয় মানুষ যখন আমার সামনে তার বিশ্বাসের কথা ক'ন আমি তার মতামতে শ্রদ্ধাশীল থাকনের চেষ্টা চালাই...তয় কথা থাকে...আমার এইসব সহনশীলতা পর্ব ঠিক ততোক্ষণ চলে, যতোক্ষণ এই ধর্মকেন্দ্রীকতা আমার উপর নাজিল না করনের সম্ভাবনা থাকে।
ধর্মকেন্দ্রীকতায় তেমন সমস্যা না হইলেও, ধর্মভিত্তিক হইলে আমি বিপদে থাকি...কারন জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্মের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হয় যুক্তি নির্ভরতা আর কান্ডজ্ঞান, আর এই কান্ডজ্ঞানের নিরীখে যদি কেউ ধর্মীয় রেফারেন্সে আস্থাশীল না হইয়া বিশ্বাসী হয়, তখন আমি অস্বস্তিতে পরি...রাষ্ট্র আর সমাজের মতোন যুথবদ্ধতায় যদি বিশ্বাস নির্ভর নিয়মের গাইড বইভিত্তিক চলাচলের বিধান তৈরী হয়, যেই গাইড বইয়ের একটা বাক্যতো দূরের কথা, শব্দও পরিবর্তনযোগ্য না...তারে আমি নিতে পারি না...কারন বিশ্বাসের নামে, চরম সত্যের নামে...চিন্তার অবগুন্ঠন প্রস্তুত হয়। ধর্মেও দেখছি একরম যুক্তি তর্কের চেষ্টা করেন অনেকেই...কিন্তু এই যুক্তি তর্কের গোড়াটা বিশ্বাসের সুতায় বাইন্ধা, তারপর বাখ্যেয় বচন দাঁড়ায়।
ধর্মভিত্তিকতার বিরুদ্ধে আমার এই অবস্থান তৈরী হইছে আমার মুসলমান বাপ-মায়ের হাত ধইরাই...আপাদমস্তক ধর্মীয় অনুশাসনে অভ্যস্ত এই দুই মানুষের চিন্তা করনের ধরণ থেইকাই আমার শৈশবের শিক্ষা লাভ শুরু। এই দেশের মানুষ আগে বাঙালী তারপর তার ধর্মীয় পরিচয়...ধর্মভিত্তিক এক শাসক আর তার দালালগো লগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরিনতি এই দেশ, এই যুদ্ধে এই দেশের মানুষ ধর্মভিত্তিকতা থেইকা মুক্তির সংগ্রাম করছে, শোষণ-নির্যাতন-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে, ভাষাভিত্তিক আধিপত্যকামী চক্রান্তের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে...আর এই সংগ্রামের ফসল আমাগো এই বাংলাদেশ। এই ভূমিতে জন্ম নেয়ার মাহাত্মে আমার শৈশব-কৈশোরও কাটছে সহনশীলতায়...
চক্রান্ত থাকে ছায়ার মতোন...
একটা বিদ্রোহী জাতির উন্মেষ যেকোন আধিপত্যকামী ক্ষমতাধরগো কাছে হুমকীর স্বরূপ। আর তাই নীল নকশায় ঢাকা পরনের সম্ভাবনা তৈরী হয় আমার ধর্মবিষয়ক অনুভূতির এই জমিন। আভ্যন্তরীণ দূর্বলতার সুযোগ নিয়া এই দেশে আবারো সংগঠিত হয় আমাগো শত্রুরা...তারা ধর্মের স্পর্শকাতরতা নিয়া ফাঁদে ফেলতে চায় এই দেশের বিদ্রোহী অথচ সরল মানুষরে। ষড়যন্ত্রের গ্রাস অন্ধকারে ঢাকে আমাগো সহনশীলতার ধর্মরে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নোংরা অধ্যায়গুলি আমাগো দেখতে হয়। চারপাশে ভীড় করে দালালেরা...যারা ধর্মরে পুঁজি কইরা এই দেশের সাধারন মানুষরে অত্যাচার করছে, নারীগো ধর্ষণের পর ধর্মের দোহাই দিয়া তারে জায়েজ করনের দুঃসাহস দেখাইছে...আমাগো বাঙালী বুদ্ধিজীবীগো নির্মমতায় হত্যা করছে...
কিন্তু ধর্মের দোহাইয়ে এই জীবনরে অন্ধকারে সমর্পনের কোন দাসখত লিখি নাই কোনদিন! ধর্মের দোহাই দিয়া এই দেশে যুদ্ধাপরাধীরা নির্বিঘ্ন হইবো...সেই বাস্তবতার কোন ভিত্তি আছে বইলা আমি কখনোই মনে করি নাই। এগিয়ে যাওয়ার আলোতে ধর্মভিত্তিকতার অন্ধকার সরবোই!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ব্লগ ;
লেখক বলেছেন: আইজকা যারা ইসলামের কথা কয় তাগো বেশীরভাগ আপনের কথিত ভূয়া ইসলামের ধ্বজাধারী পাকিস্তানী শাসকগো দালালী করছে ইসলামী রাষ্ট্রের সংহতি টিকাইয়া রাখনের মাজেজায়...তারমানে তারা তখনকার ঐ রাষ্ট্রব্যবস্থারে ইসলামী বইলা স্বীকৃতি দিছে...
ধর্মরে ব্যবহার কইরা শাসন কাঠামো প্রনয়নের এই চক্রান্ত পাকিস্তানী আমলেও চলছে...এখনো চলতাছে...ধর্ম এই দেশের ক্ষমতা চর্চ্চাকারী সকল সংগঠনের বর্ম হইছে...ধর্মের ব্যবহার মানুষরে সবসময় প্রতারিত'ই করছে...
িদদারুল আলম বাননা বলেছেন:
পান্জেরী ভাই সালাম নিবেন।আপনার কথায় সহমত।সমস্যা হচ্ছে আজকাল টুপি আর দাঁড়িওয়ালা লোক দেখলেই তারা বলে রাজাকার।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
পান্জেরী বলেছেন: ১৯৪৭-১৯৭১ পাকিস্তানী শাসকশ্রেণী ধর্মকে ভিত্তি করে আমাদের শাসন করতে চেয়েছিল। অথচ তারা নিজেরাই ধর্ম পালন করতো না।তা আর কি বলতে। জামাতের মত খাঁটি ইসলামী দল ক্যামন কইর্যা ৭১এ বহুগামী, মদ্যপ ইয়াহিয়া খানের জন্য জান পেহচান হইয়া পড়লো বুঝতাছি না।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
একমত
সুশীল সমাজ বলেছেন:
একমত
মিরাজ বলেছেন:
লেখাটি চমৎকার । যুদ্ধাপরাধীর বিচারে ধর্ম কখনই বাধা হয় দাড়াবে বলে বিশ্বাস করি না । তবে বিচারকে আড়াল করার জন্য ধর্মকে আশ্রয় করা হচ্ছে তাও বুঝতে পারি ।
আমার কাছে ধর্মকে আশ্রয় করার এই চেষ্টা যতটা না সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে তার চেয়ে বেশী কাজে লেগেছে শাসকগোষ্ঠীর। প্রতিটি শাসকগোষ্ঠী বিচার না করার অজুহাত হিসাবে এর আড়ালে আশ্রয় খুজেছে ।
এখনো সিংহভাগ ধার্মিক বাংলাদেশী ধর্মরে থেকে যুদ্ধাপরাধকে খুব সহজেই আলাদা করতে পারে ।
লেখক বলেছেন: ব্লগেও দেখবেন ধর্মের আশ্রয়ে এই কৌশল চলতাছে...তয় সত্য কইছেন,এখনো সিংহভাগ ধার্মিক বাংলাদেশী ধর্মরে থেকে যুদ্ধাপরাধকে খুব সহজেই আলাদা করতে পারে ।
মদনবাবু বলেছেন:
সময়ের অনিবার্য দাবির পক্ষে একটা যৌক্তিক লিখা ।+++++
কৌশিক বলেছেন:
ধর্মের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হয় যুক্তি নির্ভরতা আর কান্ডজ্ঞান, আর এই কান্ডজ্ঞানের নিরীখে যদি কেউ ধর্মীয় রেফারেন্সে আস্থাশীল না হইয়া বিশ্বাসী হয়, তখন আমি অস্বস্তিতে পরি...রাষ্ট্র আর সমাজের মতোন যুথবদ্ধতায় যদি বিশ্বাস নির্ভর নিয়মের গাইড বইভিত্তিক চলাচলের বিধান তৈরী হয়, যেই গাইড বইয়ের একটা বাক্যতো দূরের কথা, শব্দও পরিবর্তনযোগ্য না...তারে আমি নিতে পারি না...কারন বিশ্বাসের নামে, চরম সত্যের নামে...চিন্তার অবগুন্ঠন প্রস্তুত হয়।কঠিন কথা।
বাকী বিল্লাহ বলেছেন:
আইজকা যারা ইসলামের কথা কয় তাগো বেশীরভাগ আপনের কথিত ভূয়া ইসলামের ধ্বজাধারী পাকিস্তানী শাসকগো দালালী করছে ইসলামী রাষ্ট্রের সংহতি টিকাইয়া রাখনের মাজেজায়...তারমানে তারা তখনকার ঐ রাষ্ট্রব্যবস্থারে ইসলামী বইলা স্বীকৃতি দিছে...পরবর্তী হাজার বারেও একই ঘটনা ঘটবে।
লেখক বলেছেন: ধর্মের ব্যবহার কইরা জামায়াতে ইসলামী সহ আর যারা পাকিস্তানের দালালী করছিলো তারা নিজেগো স্বার্থে অধর্মের লগেও যাইবো...এইখানে ধর্মের চাইতে তাগো দালালী চরিত্রটাই বড়...
আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সীমাবদ্ধতাও এইখানে দায়ী কিছুটা...মানুষের জান-মান গেলো'র চাইতে তাগো কাছে ইসলাম গেলো শ্লোগান বড় হইয়া উঠছে অতীতে, ভবিষ্যতেও তার ব্যত্যয় হইবো এইটা ভাবনের কোন কারন নাই...
নাভদ বলেছেন:
+
রাশেদ বলেছেন:
++


















এর জন্য ইসলাম নামক স্রষ্টা কর্তৃক প্রদত্ত পরিপূর্ণ জীবনবিধান দায়ী নয়, দায়ী মানুষগুলো যারা একে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছে।
আজ যারা ইসলামী শাসনের কথা বলছে, তারা যদি সততার সাথে তা করতে চায়, তবে তাদের সমর্থন করি। নইলে তাদেরকেও পাকিগো মতো অনুরূপ নিন্দা জানাই।