ধর্ম নিয়া আমার তেমন কোন অস্বস্তি নাই...একজন ব্যক্তি বিশ্বাসের নির্ভরতায় তার অস্তিত্বরে খুঁইজা নিয়া জীবন যাপনের অনিশ্চয়তারে উৎরাইয়া যাইতে চায়...নিয়মতান্ত্রিকতায় নিজেরে পরিচালনা করতে চায়...ধর্মে বিশ্বাসের কারনে তার নিয়মিত জীবন ধারণে বেশ কিছু করণীয় আর অকরণীয় নির্ধারিত রাইখা পদক্ষেপ নেয়...নিয়মিত অথবা অনিয়মিত প্রার্থনা/উপাসনা...আমার কোনটাতেই সমস্যা নাই...একজন ধার্মিক মানুষের মতোন নির্ধারিত কইরা কোনকিছুরে আমি দেখতে পাই না...কিন্তু অন্য কেউ নির্ধারণে রাখলে আমার ঝামেলা কি!? আপাতঃ অর্থে যেহেতু কোন ঝামেলা নাই তাই আমি ধর্ম নিয়া তেমন কুন্ঠিত না।
বাস্তবে ধর্ম নিয়া আমার ব্যক্তিগত সমস্যা আছে...তথ্যগত বা ব্যখ্যার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আছে আমার, হাদিসে মোহাম্মদের জীবনকাহিনী আমি জানি না, বিশেষ আচরনের মাহাত্ম নিয়া আমার হয়তো অনেক কিছুই জানা নাই...কিন্তু আমি বিশ্বাসরে কখনোই একটা চিন্তা পদ্ধতির শুরুর পর্যায় হিসাবে নিতে পারি না। আরোপ কইরা দেওয়া একটা জীবন ধারণে আমি বিশ্বাসী হইতে পারি না। প্রশ্নহীনতায় প্রার্থনা/উপাসনাতো অসম্ভব! ধর্মভিত্তিক কোন আলোচনায় যেই কারনে আমি অংশই নিতে পারি না...কিন্তু আমি চরম-পরম কোন অস্তিত্বের কাছে সমর্পিত হইতে পারি না বৈজ্ঞানিক কোন ব্যখ্যার উপস্থিতি ছাড়া...তারচেয়ে ভালো সংশয়ী থাকা! বিজ্ঞানের সম্ভাবনায় আমি আস্থাশীল থাকি...যেইখানে শুরুতেই পরম সত্য ধইরা নেওনের বেড়াজাল নাই...বরং আমি সম্ভাবনাময় দীর্ঘ উত্তরহীনতায়ও থাকতে রাজী আছি।
ইতিহাস আর দর্শন পাঠের অভিজ্ঞতা শুরু হইছিলো সেই কৈশোরে...তার লগে পারিবারিক পটভূমিতে ধর্মটাও ছিলো...অন্ধের মতোন আরবী অক্ষরগুলি নাড়তে নাড়তে ভাষাটার ঐন্দ্রজালে মায়া তৈরী হইছিলো ঠিকই...কিন্তু সেই মায়াতেও আমি ডুবি নাই অতলে...আমার passion ছিলো দর্শনে, প্রশ্নের গভীরতায়...উদাহরনমাফিক অন্য কারো অভিজ্ঞতায় নিজের জীবন তৈরীর বাসনা আমার কম ছিলো, অনেক ক্ষেত্রে ছিলোই না। তবুও ধর্ম নিয়া আমি ক্ষিপ্ত হই না...ধর্মীয় কোন আচার-আচরন-উপদেশ দেখলে আমি বিরক্ত হই না...ততোক্ষণ পর্যন্ত, যতোক্ষণ সেই ধর্মের পরাকাষ্ঠায় আমারেও জড়ানের আকাঙ্খা করেন সেই ধার্মিক ব্যক্তি...
একজন ধার্মিক মানুষের যেই জীবন, তারে আমি কই ধর্মকেন্দ্রীক জীবনধারণ...ব্যক্তিকেন্দ্রীক এই আচরনরে আমার কোনসময়েই অস্বস্তিকর লাগে না। অফিসের দরকারী কাজের টাইমে কোন মানুষ নামাজ পড়নের লেইগা উইঠা গেলে আমি সহনশীল থাকি...ধর্মীয় ছুটিছাটায় একজন বিশ্বাসী মানুষরে আমি অবশ্যই কন্সিডার করি কর্মস্থলে...একজন ধর্মীয় মানুষ যখন আমার সামনে তার বিশ্বাসের কথা ক'ন আমি তার মতামতে শ্রদ্ধাশীল থাকনের চেষ্টা চালাই...তয় কথা থাকে...আমার এইসব সহনশীলতা পর্ব ঠিক ততোক্ষণ চলে, যতোক্ষণ এই ধর্মকেন্দ্রীকতা আমার উপর নাজিল না করনের সম্ভাবনা থাকে।
ধর্মকেন্দ্রীকতায় তেমন সমস্যা না হইলেও, ধর্মভিত্তিক হইলে আমি বিপদে থাকি...কারন জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্মের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হয় যুক্তি নির্ভরতা আর কান্ডজ্ঞান, আর এই কান্ডজ্ঞানের নিরীখে যদি কেউ ধর্মীয় রেফারেন্সে আস্থাশীল না হইয়া বিশ্বাসী হয়, তখন আমি অস্বস্তিতে পরি...রাষ্ট্র আর সমাজের মতোন যুথবদ্ধতায় যদি বিশ্বাস নির্ভর নিয়মের গাইড বইভিত্তিক চলাচলের বিধান তৈরী হয়, যেই গাইড বইয়ের একটা বাক্যতো দূরের কথা, শব্দও পরিবর্তনযোগ্য না...তারে আমি নিতে পারি না...কারন বিশ্বাসের নামে, চরম সত্যের নামে...চিন্তার অবগুন্ঠন প্রস্তুত হয়। ধর্মেও দেখছি একরম যুক্তি তর্কের চেষ্টা করেন অনেকেই...কিন্তু এই যুক্তি তর্কের গোড়াটা বিশ্বাসের সুতায় বাইন্ধা, তারপর বাখ্যেয় বচন দাঁড়ায়।
ধর্মভিত্তিকতার বিরুদ্ধে আমার এই অবস্থান তৈরী হইছে আমার মুসলমান বাপ-মায়ের হাত ধইরাই...আপাদমস্তক ধর্মীয় অনুশাসনে অভ্যস্ত এই দুই মানুষের চিন্তা করনের ধরণ থেইকাই আমার শৈশবের শিক্ষা লাভ শুরু। এই দেশের মানুষ আগে বাঙালী তারপর তার ধর্মীয় পরিচয়...ধর্মভিত্তিক এক শাসক আর তার দালালগো লগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরিনতি এই দেশ, এই যুদ্ধে এই দেশের মানুষ ধর্মভিত্তিকতা থেইকা মুক্তির সংগ্রাম করছে, শোষণ-নির্যাতন-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে, ভাষাভিত্তিক আধিপত্যকামী চক্রান্তের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে...আর এই সংগ্রামের ফসল আমাগো এই বাংলাদেশ। এই ভূমিতে জন্ম নেয়ার মাহাত্মে আমার শৈশব-কৈশোরও কাটছে সহনশীলতায়...
চক্রান্ত থাকে ছায়ার মতোন...
একটা বিদ্রোহী জাতির উন্মেষ যেকোন আধিপত্যকামী ক্ষমতাধরগো কাছে হুমকীর স্বরূপ। আর তাই নীল নকশায় ঢাকা পরনের সম্ভাবনা তৈরী হয় আমার ধর্মবিষয়ক অনুভূতির এই জমিন। আভ্যন্তরীণ দূর্বলতার সুযোগ নিয়া এই দেশে আবারো সংগঠিত হয় আমাগো শত্রুরা...তারা ধর্মের স্পর্শকাতরতা নিয়া ফাঁদে ফেলতে চায় এই দেশের বিদ্রোহী অথচ সরল মানুষরে। ষড়যন্ত্রের গ্রাস অন্ধকারে ঢাকে আমাগো সহনশীলতার ধর্মরে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নোংরা অধ্যায়গুলি আমাগো দেখতে হয়। চারপাশে ভীড় করে দালালেরা...যারা ধর্মরে পুঁজি কইরা এই দেশের সাধারন মানুষরে অত্যাচার করছে, নারীগো ধর্ষণের পর ধর্মের দোহাই দিয়া তারে জায়েজ করনের দুঃসাহস দেখাইছে...আমাগো বাঙালী বুদ্ধিজীবীগো নির্মমতায় হত্যা করছে...
কিন্তু ধর্মের দোহাইয়ে এই জীবনরে অন্ধকারে সমর্পনের কোন দাসখত লিখি নাই কোনদিন! ধর্মের দোহাই দিয়া এই দেশে যুদ্ধাপরাধীরা নির্বিঘ্ন হইবো...সেই বাস্তবতার কোন ভিত্তি আছে বইলা আমি কখনোই মনে করি নাই। এগিয়ে যাওয়ার আলোতে ধর্মভিত্তিকতার অন্ধকার সরবোই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

