ধর্ম নিয়া আমার নিজের তেমন মাথাব্যথা নাই, যদিও মানুষের বিশ্বাস করনের মেথডোলজি নিয়া যৌক্তিক তর্ক করতে আমি পছন্দই করি। কিন্তু তার বিশ্বাসরে ততোক্ষণ পর্যন্ত একরম শ্রদ্ধাই করি যতোক্ষণ সেই বিশ্বাস আমার যুক্তির গলা টিপতে না চায়, যতোক্ষণ পর্যন্ত তার নিজের পদ্ধতিতে আমারে অপরাধী ঘোষণা না করে। মানুষের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ না করে। আমার অবস্থান ধর্মহীনতার পক্ষে...যে কোন ধরণের নির্দেশনামূলক জীবন যাপনের বিরুদ্ধে, পদ্ধতিগত জীবন আর নির্দেশনামূলক জীবনযাপন যে এক না সেই মানদন্ড ধইরা নিয়াই আমার অবস্থান নির্ধারিত করছি আমি। আমার ধর্মহীনতা যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসরে চিহ্নিত করে, তাইলে আমি নাস্তিক হই। যেকোন ধরণের পবিত্র গ্রন্থের প্রতি সমর্পনের প্রশ্নে যেহেতু আমার অবস্থান নেতিবাচক সেহেতু আমারে যদি নাস্তিক বলা হয়, আমি তাইলে নাস্তিক হই। কিন্তু মতাদর্শিক জায়গায় আমি আবারো স্পষ্ট করতে চাই...ধর্মহীনতাই আমার ধর্মগত অবস্থান...
দুনিয়াতে যেই কয়টা গ্রন্থ নির্ভর বা প্রচারণামূলক, গ্রহণ করনের ধর্ম আছে, তারমধ্যে ক্রিশ্চিয়ান আর ইসলাম ধর্মই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম...বৌদ্ধ ধর্মেরও একটা ব্যাপকতা আছে কিন্তু আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা আর অহিংস হওনের কারনে এই ধর্মের ব্যপকতা ঠিক নজরে পড়ে না। নব্বই পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধ সমাপ্তির পর মৌলবাদী ইসলামের ধ্বজাধারীরা লাইমলাইটে চইলা আসনের পর ধর্মভিত্তিকতার বিরোধী যেকোন বক্তব্যে তারাই অগ্রগণ্য হয় আলোচনার প্রেক্ষিতে। ক্রিশ্চিয়ানরা আর প্রচারের সুবিধা বঞ্চিত ইহুদীরা সাম্রাজ্যবাদীগো ছায়াতলে থাইকা যতোটা না ধর্মগত ভাবে সামনে আসে তার চাইতে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকা দিয়া চিহ্নিত হয়।
একটা অভিযোগ করা হয় কোন নাস্তিক কোনোদিনও ইসলাম ধর্মকে সহ্য করতে পারবোনা, ইসলাম ধর্মের অগ্রগতি হোক-প্রসার হোক তা চাইবো না। ধর্মের প্রসার মানে আসলে কি? বেশীরভাগ মানুষ মুসলিম হইয়া যাওয়া? ব্যক্তি জীবনে ইসলাম ধর্ম পালন করা শুরু করবো? আমি এইসবে সমস্যা দেখি না ব্যক্তিগত ভাবে...আরোপ না কইরা, নিয়ম না কইরা, ভয় আর লোভ না দেখাইয়া যদি ইসলামের প্রতি অনুরক্ত বানাইতে পারা যায় তাইলে কোন সমস্যা নাই...কিন্তু চারপাশের সকল মানুষের মানবিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ কইরা ইসলাম চাপাইতে চাওনটা আমি সমর্থন করি না। ইসলাম ধর্মের অগ্রগতি যদি হয় সম্প্রদায়ের দখলদারীত্ব, তাইলে সেইটা একজন মানুষ হিসাবে আমি সমর্থন করি না।
নাস্তিক হিসাবে যাগো বলা হয়...তাগো মধ্যে স্রষ্টার অনস্তিত্বের প্রমান দেওনের বিষয়টা অনেক সময় বড় হয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এইটার প্রয়োজন সকল ক্ষেত্রে দেখি না। বিবর্তনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে আমার বিশ্বাস আছে...সৃষ্টির অবৈজ্ঞানিকতায় তাই কোনদিন আস্থাশীল/বিশ্বাসী হই নাই। প্রশ্ন করলে তর্কে যাইতে আমার দ্বিধা নাই, কিন্তু আগ বাড়াইয়া কারো বিশ্বাসের পরিবর্তনটাও আমার ধাতের লগে যায় না। কিন্তু তাই বইলা যদি কেউ কয় ইসলামের ক্ষতি করে বা ইসলামের অবমাননা করে এমন যেকোন সংগঠনকে নাস্তিকরা সমর্থন দেবে । (যেমন কাদীয়ানী )...তখন সত্যই আমি ক্বাদিয়ানিগো পক্ষে থাকি...একদল লোক নিজের বিশ্বাসের ধরণ নিয়া থাকে। সে তার নিজের ডিজাইনে, নিজের পরিকল্পনায়, নিজের অনুশাসন নিয়া থাকতে চায়...এই অবস্থায় যদি অন্য কোন গোষ্ঠী তার উপর নির্যাতন মূলক হয় তখন আমার ভূমিকা কি হইতে পারে!? সমাজমনষ্ক, দায়িত্বশীল মানুষ কি নির্যাতনের পক্ষে দাঁড়াইবো!? ইসলাম ইসলাম কইয়া গলা ফাটাইয়া আরেকদল নিভৃত নিজের মতোন চলতে থাকা মানুষরে যারা নিশ্চিহ্ন করতে চায়, তার বিরুদ্ধে আমি থাকি! যদি এইটারে ইসলাম বিরোধীতা কওয়া হয় তাইলে তাই...
অনৈতিকতার মধ্য দিয়া চলা এই সমাজে ক্ষমতার দখলীস্বত্ব নেওনের লেইগা অনেক ধরণের অপকৌশল তৈরী হয়...আর এইসব অপকৌশল চলে ব্যক্তি থেইকা ব্যক্তিতে...যুগ থেইকা যুগে...তেমনি এই দেশে ইসলামের নামে রাজনীতি চলে সেই বৃটিশ ঔপনিবেশিক সময় থেইকাই...জামায়াতে ইসলামী নাম দিয়া এই যেই মওদুদীবাদ শুরু হইছিলো এই দেশে ক্ষমতাকেন্দ্রীক ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের প্রয়াসে...যেই কারনে এই দেশের ইসলামী চিন্তাবিদেরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যেই কারনে এই দেশে ধর্মীয় বিশ্লেষণে ইসলাম বিরোধী ভাবা হয় সেই আমল থেইকাই। এখন এইসবতো আমার মাথাব্যথা হওনের কথা না...কিন্তু তা'ও ক্যান জামায়াতে ইসলামীর বিরোধীতা করি...কারন সেই একই...ক্ষমতা দখলের প্রয়োজনে এরা কৌশলাশ্রয়ী হয়...ধর্মটাও তার অনেক অপকৌশলের একটা...কন্সপিরেসী তত্ত্ব অনেকসময়েই ধরা খায়...কিন্তু ধর্মের আফিমে যখন অপকৌশল হয় তখন সেইটা যেকোন কন্সপিরেসী'র চাইতে নোংরা হয়...
ধর্ম নিয়া প্রশ্ন করতে গিয়া যেইসব সংগঠন কিম্বা ব্যক্তি আদতে ফায়দা লুটনের কথা ভাবে, যারা ধর্মরে সবসময় নিজেগো অন্যায়রে জায়েজ করনের হাতিয়ার মতো ব্যবহার করে, তাগো বিরুদ্ধেই ছিলো আমাগো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা...৭১'এ বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধ যেই কারনে পৃথিবীর অন্য যেই কোন মুক্তির সংগ্রাম থেইকা ভিন্নতর নির্দেশনা তৈরী করে...একজন বাঙালী হিসাবে তার মহিমা আমার গায়েও খানিক লাগে...ধর্মভিত্তিকতার বিরোধীতামূলক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হই!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



