somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন আমি জামায়াত-শিবিরের বিরোধীতা করি...(উৎসর্গ: ভালো নামের অপকৌশলী ব্লগাররে)

৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম নিয়া আমার নিজের তেমন মাথাব্যথা নাই, যদিও মানুষের বিশ্বাস করনের মেথডোলজি নিয়া যৌক্তিক তর্ক করতে আমি পছন্দই করি। কিন্তু তার বিশ্বাসরে ততোক্ষণ পর্যন্ত একরম শ্রদ্ধাই করি যতোক্ষণ সেই বিশ্বাস আমার যুক্তির গলা টিপতে না চায়, যতোক্ষণ পর্যন্ত তার নিজের পদ্ধতিতে আমারে অপরাধী ঘোষণা না করে। মানুষের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ না করে। আমার অবস্থান ধর্মহীনতার পক্ষে...যে কোন ধরণের নির্দেশনামূলক জীবন যাপনের বিরুদ্ধে, পদ্ধতিগত জীবন আর নির্দেশনামূলক জীবনযাপন যে এক না সেই মানদন্ড ধইরা নিয়াই আমার অবস্থান নির্ধারিত করছি আমি। আমার ধর্মহীনতা যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসরে চিহ্নিত করে, তাইলে আমি নাস্তিক হই। যেকোন ধরণের পবিত্র গ্রন্থের প্রতি সমর্পনের প্রশ্নে যেহেতু আমার অবস্থান নেতিবাচক সেহেতু আমারে যদি নাস্তিক বলা হয়, আমি তাইলে নাস্তিক হই। কিন্তু মতাদর্শিক জায়গায় আমি আবারো স্পষ্ট করতে চাই...ধর্মহীনতাই আমার ধর্মগত অবস্থান...

দুনিয়াতে যেই কয়টা গ্রন্থ নির্ভর বা প্রচারণামূলক, গ্রহণ করনের ধর্ম আছে, তারমধ্যে ক্রিশ্চিয়ান আর ইসলাম ধর্মই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম...বৌদ্ধ ধর্মেরও একটা ব্যাপকতা আছে কিন্তু আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা আর অহিংস হওনের কারনে এই ধর্মের ব্যপকতা ঠিক নজরে পড়ে না। নব্বই পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধ সমাপ্তির পর মৌলবাদী ইসলামের ধ্বজাধারীরা লাইমলাইটে চইলা আসনের পর ধর্মভিত্তিকতার বিরোধী যেকোন বক্তব্যে তারাই অগ্রগণ্য হয় আলোচনার প্রেক্ষিতে। ক্রিশ্চিয়ানরা আর প্রচারের সুবিধা বঞ্চিত ইহুদীরা সাম্রাজ্যবাদীগো ছায়াতলে থাইকা যতোটা না ধর্মগত ভাবে সামনে আসে তার চাইতে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকা দিয়া চিহ্নিত হয়।

একটা অভিযোগ করা হয় কোন নাস্তিক কোনোদিনও ইসলাম ধর্মকে সহ্য করতে পারবোনা, ইসলাম ধর্মের অগ্রগতি হোক-প্রসার হোক তা চাইবো না। ধর্মের প্রসার মানে আসলে কি? বেশীরভাগ মানুষ মুসলিম হইয়া যাওয়া? ব্যক্তি জীবনে ইসলাম ধর্ম পালন করা শুরু করবো? আমি এইসবে সমস্যা দেখি না ব্যক্তিগত ভাবে...আরোপ না কইরা, নিয়ম না কইরা, ভয় আর লোভ না দেখাইয়া যদি ইসলামের প্রতি অনুরক্ত বানাইতে পারা যায় তাইলে কোন সমস্যা নাই...কিন্তু চারপাশের সকল মানুষের মানবিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ কইরা ইসলাম চাপাইতে চাওনটা আমি সমর্থন করি না। ইসলাম ধর্মের অগ্রগতি যদি হয় সম্প্রদায়ের দখলদারীত্ব, তাইলে সেইটা একজন মানুষ হিসাবে আমি সমর্থন করি না।

নাস্তিক হিসাবে যাগো বলা হয়...তাগো মধ্যে স্রষ্টার অনস্তিত্বের প্রমান দেওনের বিষয়টা অনেক সময় বড় হয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এইটার প্রয়োজন সকল ক্ষেত্রে দেখি না। বিবর্তনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে আমার বিশ্বাস আছে...সৃষ্টির অবৈজ্ঞানিকতায় তাই কোনদিন আস্থাশীল/বিশ্বাসী হই নাই। প্রশ্ন করলে তর্কে যাইতে আমার দ্বিধা নাই, কিন্তু আগ বাড়াইয়া কারো বিশ্বাসের পরিবর্তনটাও আমার ধাতের লগে যায় না। কিন্তু তাই বইলা যদি কেউ কয় ইসলামের ক্ষতি করে বা ইসলামের অবমাননা করে এমন যেকোন সংগঠনকে নাস্তিকরা সমর্থন দেবে । (যেমন কাদীয়ানী )...তখন সত্যই আমি ক্বাদিয়ানিগো পক্ষে থাকি...একদল লোক নিজের বিশ্বাসের ধরণ নিয়া থাকে। সে তার নিজের ডিজাইনে, নিজের পরিকল্পনায়, নিজের অনুশাসন নিয়া থাকতে চায়...এই অবস্থায় যদি অন্য কোন গোষ্ঠী তার উপর নির্যাতন মূলক হয় তখন আমার ভূমিকা কি হইতে পারে!? সমাজমনষ্ক, দায়িত্বশীল মানুষ কি নির্যাতনের পক্ষে দাঁড়াইবো!? ইসলাম ইসলাম কইয়া গলা ফাটাইয়া আরেকদল নিভৃত নিজের মতোন চলতে থাকা মানুষরে যারা নিশ্চিহ্ন করতে চায়, তার বিরুদ্ধে আমি থাকি! যদি এইটারে ইসলাম বিরোধীতা কওয়া হয় তাইলে তাই...

অনৈতিকতার মধ্য দিয়া চলা এই সমাজে ক্ষমতার দখলীস্বত্ব নেওনের লেইগা অনেক ধরণের অপকৌশল তৈরী হয়...আর এইসব অপকৌশল চলে ব্যক্তি থেইকা ব্যক্তিতে...যুগ থেইকা যুগে...তেমনি এই দেশে ইসলামের নামে রাজনীতি চলে সেই বৃটিশ ঔপনিবেশিক সময় থেইকাই...জামায়াতে ইসলামী নাম দিয়া এই যেই মওদুদীবাদ শুরু হইছিলো এই দেশে ক্ষমতাকেন্দ্রীক ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের প্রয়াসে...যেই কারনে এই দেশের ইসলামী চিন্তাবিদেরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যেই কারনে এই দেশে ধর্মীয় বিশ্লেষণে ইসলাম বিরোধী ভাবা হয় সেই আমল থেইকাই। এখন এইসবতো আমার মাথাব্যথা হওনের কথা না...কিন্তু তা'ও ক্যান জামায়াতে ইসলামীর বিরোধীতা করি...কারন সেই একই...ক্ষমতা দখলের প্রয়োজনে এরা কৌশলাশ্রয়ী হয়...ধর্মটাও তার অনেক অপকৌশলের একটা...কন্সপিরেসী তত্ত্ব অনেকসময়েই ধরা খায়...কিন্তু ধর্মের আফিমে যখন অপকৌশল হয় তখন সেইটা যেকোন কন্সপিরেসী'র চাইতে নোংরা হয়...

ধর্ম নিয়া প্রশ্ন করতে গিয়া যেইসব সংগঠন কিম্বা ব্যক্তি আদতে ফায়দা লুটনের কথা ভাবে, যারা ধর্মরে সবসময় নিজেগো অন্যায়রে জায়েজ করনের হাতিয়ার মতো ব্যবহার করে, তাগো বিরুদ্ধেই ছিলো আমাগো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা...৭১'এ বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধ যেই কারনে পৃথিবীর অন্য যেই কোন মুক্তির সংগ্রাম থেইকা ভিন্নতর নির্দেশনা তৈরী করে...একজন বাঙালী হিসাবে তার মহিমা আমার গায়েও খানিক লাগে...ধর্মভিত্তিকতার বিরোধীতামূলক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হই!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৮
৫৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×