সায়িদ স্যাররে নিয়া অনেক বিষোদগার করলাম...বাস্তবিক সায়িদ স্যাররে নিয়া আমার কোন ক্ষোভ নাই, ক্ষোভ যতোটুক তার সবটুকু একজন আইকনিক আবদুল্লাহ আবু সায়িদরে নিয়া। সায়িদ স্যারের জীবন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রময় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে তিনি ব্যক্তিগত কোন লাভালাভের দিকে নজর দিতে পারেন নাই। সত্তর দশকের মাঝামাঝিতে মাত্র তারুণ্য পার হওয়া আবদুল্লাহ্ আবু সায়িদ আর তার বন্ধুরা যেমনে ভাবছিলো এই জাতির মূল সমস্যা পঠনের তারে পাল্টাইতে হইবো...সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০০৮ সালেও দূর্দম আগাইতেছেন। দেখতে ভালো লাগে যখন কেন্দ্রের প্রান্তর প্রতি শুক্কুর আর মঙ্গলবারে মূখরিত হইয়া উঠে।
ভালোলাগার এই কেন্দ্রে তাই সময়ের সকল আধুনিক প্রযুক্তি আর প্রবনতা অভিযোজিত হোক তাই প্রত্যাশা করছি আমরা। কিন্তু সায়িদ স্যারের একরোখামীতে আমরা তার সঙ্গীত সংগ্রহ যখন রোদ্দুরে শুকাইতে দেই তখন বুঝি কিরম আগলাইয়া রাখনের আকাঙ্খা তার মধ্যে কাজ করে। তিনি একটা মিউজিক লাইব্রেরী করবেন বইলা ভক্তকূলের দানে আর নিজের সংগ্রহশালা মিলাইয়া প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের বিভিন্ন সময়ের-বিভিন্ন পর্যায়ের লং প্লে দিয়া সাজাইছেন, কিন্তু অযত্নে আর অনাগ্রহে তার প্রায় সবই নষ্ট হইছে...আগ্রহী কাউরে সেইসব ছুঁইয়াও দেখতে দ্যান নাই। একজন মানুষের আলোর দিশারী হওনের কথা...আর তিনি নিজের সংগ্রহের গরবে অন্যগো হেয় করনের মানসিকতা নিয়া ঘোরাঘুরি করেন...অন্যদের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা রাখতে পারেন না...এইরম ভাবতেও তো ভয় লাগে!
প্রতিষ্ঠানের চরিত্র আসলে এইরমই হয়...এতো স্বাভাবিক কইরাই ভাবতে পারি আমি। কিন্তু তার সম্পর্কে সমাজস্থিত মনোভাব এইরম না বইলা ভয় লাগে...একজন প্রাতিষ্ঠানিক সুশীল আমাগো জীবনে মহাত্মা হইয়া উঠেন। যিনি তার পরিচালিত টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নারীদের আচরন নিয়া সস্তা ফাইজলামি করতে পারেন তিনিই আবার নারী দিবসের প্রাক্কালে নারী স্বাধীনতার উপর ভারী বক্তব্য রাখনের লেইগা নির্বাচিত হ'ন। তিনি প্রতিনিধিত্বকারী হ'ন এই সমাজের সকল উন্নয়নমূলক চিন্তাভাবনায়। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আইডেন্টিটি তারে এই সুযোগ কইরা দ্যায়। একজন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আবদুল্লাহ্ আবু সায়িদ আমাগো বুঝান এইভাবে উন্নয়ন হয়...আমরা সেইটারে শিরোধার্য্য মনে করি...
কেন্দ্রের চাকরী জীবনের পর তার সাথে আমার আরো বেশ কয়েকবার বিভিন্ন কার্য্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা আছে। কার্য্যক্রম না বইলা এইসবরে প্রজেক্ট বললে মানায় বেশী। এইসব প্রজেক্ট আমার কেন্দ্রকাথার সাথে অপ্রাসঙ্গিক বিধায় তারে এইখানে উপস্থিত করতে চাই নাই। তবে তার শিক্ষা সম্পর্কীত চিন্তার সাথে আমি আরো নিবিরতা পাইছি ঐসব প্রজেক্টে...তিনি আসলে তার সময়রে উৎরাইয়া যাইতে পারেন নাই কখনোই...যেইটা অনেকে পারেন...সময়রে অতিক্রম কইরা যাওয়া মানুষগোই আমরা আইকন হিসাবে ভাবতে পারি আসলে...কারন এই অবক্ষয়ী সমাজে সময়ের স্থিরতাই আমাগো প্রধান সমস্যা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

