প্রতিষ্ঠানের নিরপরাধ সহযোগী আর জঙ্গীত্ব বিষয়ে: উৎসর্গ অপবাক
১৬ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫
অন্য কোনো উপায়ে যদি প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা না যায় তাহলে প্রতিষ্ঠানের সহযোগী নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করতে হবে এই ন্যায়সংগত আন্দোলনকে আমার অগ্রহনযোগ্য মনে হয়। - অপ বাক
প্রতিষ্ঠান আসলে কি? আরিস্ততলের একটা প্রতিষ্ঠান ছিলো বহুকাল আগে আকাডেমি নামের এই প্রতিষ্ঠানে নাকি জ্ঞানান্বেষী প্রাণগো লেইগা দ্বার অবারিত ছিলো...অর্থের বৈষম্যে সেইখানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গইড়া উঠে নাই...উঠবোই বা কেমনে...তখন মাত্র'ই দাসপ্রথা বিলুপ্তির আন্দোলন শেষ হইছে, তার কিছুকাল, মানে শ'দুয়েক বা দেড়েক আগে দর্শনের বিষয়বস্তু হিসাবে মানুষ প্রধান হইয়া উঠছে...দেব-দেবী আর কজমোলজি'র বাইরে মানুষের জীবনচরিত নিয়া ভাবতে বাধ্য হইছে আরিস্ততলরাই...প্রাচীন এইসব প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানের প্রতি আকাঙ্খা লাগতো ষোলআনা, তয় আনুগত্য থাকতে হইতো। প্রতিষ্ঠানের একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য তাইলে পাইলাম...আনুগত্য!
প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের এই ধারা কি সমাজের পরিবর্তনশীল গ্রতিপ্রবাহে পাল্টাইছে? আনুগত্য কি প্রশ্নহীন হইছে? আমি ইতিহাসের স্বল্প জ্ঞান নিয়া বাইর করতে পারি না...বরং আলেকজান্দ্রিয়া থেইকা বের হইয়া যাইতে দেখি প্রশ্নকর্তাগো, আশারীয়া কিম্বা মুতাজ্বীলাগো বের কইরা দিতে দেখি ইসলামী খলিফা'র দরবার থেইকা...কার্ল মার্ক্সরে হেগেলের সান্নিধ্যচ্যূত হইতে দেখি...যূগে যূগে কালে কালে এইরম ঘটে। প্রশ্নহীন আনুগত্য না থাকলে প্রতিষ্ঠান সহযোগী হওন যায় না।
তয় পুঁজিবাদের এই কালে আইসা প্রতিষ্ঠান আর কেবল আনুগত্যের শিরোনামে বন্দী থাকে না এইটা নিশ্চিত বলা যায়। একটা প্রতিষ্ঠানরে সমাজবিচ্যূত হইতে হয়, যারা বৈষম্যের নিরীখে অন্যগো চেয়ে আলাদা থাকে। প্রতিষ্ঠানরে পুঁজিকেন্দ্রীক চিন্তাভাবনায় গা ভাসাইতে হয়। প্রতিষ্ঠানের আওতাভূক্তি হওনের যোগ্যতা হিসাবে লাভালাভের বিবেচনা থাকতে হয়। সোজাকথায় প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান বৈষম্যরে স্থায়িত্ব দেওনের সকল দূরাচারে নিয়োজিত থাকে।
প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আসলে বৈষম্যমূলকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম। প্রতিষ্ঠান সকল ক্ষেত্রেই কনজিউমারিজমের প্রচার করে...মানুষের অধিকার-মানুষের মেধা সবকিছুরে প্রতিষ্ঠার পণ্য বানানের চক্রান্ত করে। প্রতিষ্ঠান প্রশ্নহীন আনুগত্য চায় তার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই। আর এই আনুগত্য প্রকাশের ধরণে একসময় অসহায়ত্ব থাকে। কিন্তু যদি চলমান আন্দোলন থাকে? যদি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়া মানুষের মধ্যে সংশয় জাগানিয়া মতাদর্শিক অবস্থান জায়েজ থাকে?
অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ না দিয়াও কওন যায়, এই যে ব্লগ প্রান্তরে আমরা লিখি...তার যখন একটা প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা তৈরী হয় তখন সে কিরম আচরন করে? এই যে সামহোয়্যার ইন-সচলায়তন এরা যখন প্রশ্নের মুখামুখি হয় তখন এরা কি করে? বিরুদ্ধ মতরে উৎসাহিত কইরা, মাল্টিপল মতাদর্শরে তাগো স্পেইসে জায়গা দেওনের মর্তবা লইয়া যখন এতো উদার প্রান্তর সাজাইছে বা সাজাইতেছে, তখন যদি কেউ প্রশ্ন করে তার রিয়্যাকশনে তারা কি করে?
আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেইকা জানি প্রতিষ্ঠান অনেক বিরূপ হইতে জানে...প্রতিষ্ঠান অপরাধ কইরা সেইটারে জাস্টিফাই করবার সকল অপচেষ্টায় রত হয়। এতো যে প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার উদগারণ করতেছি, তার কারন কেবল প্রতিষ্ঠানের চরিত্র উন্মোচন না...প্রতিষ্ঠানের সহযোগীরাও যে আসলে অজান্তেই অপরাধ করেন...প্রতিষ্ঠানের সহযোগীরা জাইনাও অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের অপরাধে সামিল হন...প্রতিষ্ঠানের সহযোগীরা প্রতিষ্ঠান বিরোধী অবস্থানরে নিরাপদ সুবিধাজনক না ভাইবা প্রতিষ্ঠানে সহযোগ করতে থাকেন, বিকল্প খুঁজনের চেষ্টা করেন না কখনোই...
প্রতিষ্ঠানের সহযোগী মানুষেরা তাইলে কেমনে নিরপরাধ থাকতে পারেন? একটা আন্দোলনের কোন একটা পর্যায়ে জঙ্গীত্ব আসতেই পারে...জঙ্গীত্ব একটা খারাপ আচরন বইলা আমরা কখনো কোন সংগ্রামরে ফুলেল কইরা তুলতে চাইলেই তো আর তা সম্ভব হয় না। প্রতিষ্ঠানের প্রতিরোধ অনেক সময়ই একটা আন্দোলনরে জঙ্গীত্ব বরনে বাধ্য করে। আর এই ধরণের প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানের মূল অপরাধ-শক্তি হয় তার সহযোগীরাই...
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): প্রতি মন্তব্য ;
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
রাশেদ বলেছেন:
হুমম...
লেখক বলেছেন: হুমম...
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
ভালো বিশ্লেষণ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
কৌশিক বলেছেন:
এই যে সামহোয়্যার ইন-সচলায়তন এরা যখন প্রশ্নের মুখামুখি হয় তখন এরা কি করে? আপনার কি মনে হয় না, সচলায়তনের চেয়ে সামহোয়ার মাল্টিপল মতাদর্শরে বেশী স্পেস দেয়?
কিন্তু যেই বিষয় তারা নিজেরা দক্ষতার সাথে সামলাইতে পারেন না, মানে তর্কের পরিধী নিয়ন্ত্রন করতে না পারনের সম্ভাবনা দেখলে উভয়েই একইরম সিদ্ধান্ত নিয়া ফেলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা (?) নামের এক উদ্ভট কারন দেখাইয়া।
সচলায়তনে ব্যাপারটা বেশী ঘটে কারন তারা তর্কের গন্তব্য সম্পর্কে শুরুতেই একটু বেশি ভাবিত হইয়া পরে...আর সামহোয়্যার ইন যারা চালায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা তর্কটা বুঝেই না। সচলায়তনের মডারেটররা নিজেরাও ব্লগার আর সামহোয়্যারের লোকেরা মনে হয় ইজ্জতের ডরে ব্লগাইতে চান না...এইসব কারনে দুইজনের প্রকাশ দুইরকম হয়...তয় আমি নিজে বিদ্যমান সামহোয়্যারের পরিবেশ আমার নিজের জন্য ভালো মনে করি...
কৌশিক বলেছেন:
আর সামহোয়্যার ইন যারা চালায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা তর্কটা বুঝেই না। - আপনার এই মন্তব্য শুনে মডারেটদের কি উৎফুল্ল হওয়া উচিত? বাই এনি চান্স তারা কি এটাকে প্রশংসাসূচক মনে করতে পারে?
লেখক বলেছেন: আমি হইলে করতাম না...
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
প্রতিষ্টানের লগে যখনই কোন ব্যক্তি জড়িত, তখনই সে নিজেই প্রতিষ্ঠানের অংশ। মানুষেরাই তো প্রতিষ্ঠান গইড়া তুলে। আর প্রতিষ্ঠানের অপরাধ সেই সংশ্লিষ্ট মানুষগুলার দ্বারাই সংগঠিত হয়। কাজেই প্রতিষ্ঠানের দায় দায়িত্ব অনেকাংশে ব্যক্তির উপর পড়ে।অনেক সময় প্রতিষ্ঠান আর ব্যক্তির মাঝে থাকে বেবাক ফারাক। দেখা যায় প্রতিষ্ঠান একদিকে যাইতেছে, কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি যাইতে চাইতেছে অন্যদিকে। আনুগত্য সেইখানে বিরল। প্রশ্নহীন আনুগত্য কি বস্তু বুঝলাম না। যে কোন অন্ধ আনুগত্যই খারাপ, অন্তত আমার কাছে।
আর আমরা যতই বাক স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা কই চিল্লাই না কেন, যেখানে প্রশ্ন করলেই থাবড়া খাইতে হয়, সেখানে এইসব চিল্লাচিল্লি কইরা কোন ফায়দা নাই। আগে নিজেগো মনমানসিকতার পরিবর্তন করা দরকার। ব্লগে হোক আর সমাজেই হোক

আপনেতো বস একেকটা মিসাইল মারেন, একেকটা পড়ি আর আমি নিজের ভেতরে নিজের মৃত্যু টের পাই
লেখক বলেছেন: আনুগত্য অনেক সময় প্রশ্নের মধ্য দিয়াও তৈরী হইতে পারে...
মিসাইলে আপনে মরলেতো কষ্ট পামু...যাগো লক্ষ্য কইরা মারি তারা মরুক বরং...
কৌশিক বলেছেন:
হাহাহাআহ
লেখক বলেছেন: হুমম...
নীল-লোহিত বলেছেন:
জামাল ভাই জিন্দাবাদ পিলাস
লেখক বলেছেন: জিন্দাবাদ দিয়া আমারে প্রতিষ্ঠান বানানের চক্রান্ত কইরেন না...
পিলাসের লেইগা আপনেরে ধন্যবাদ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
মাহবুব সুমন বলেছেন:
বড্ড কঠিন লেখা
লেখক বলেছেন: হ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
অপ বাক বলেছেন:
রাষ্ট্র যখন নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান তখন অজান্তেই নাগরিক সেই রাষ্ট্রের সহযোগী অংশ, নাগরিক নিজেই প্রতিনিধি নির্বাচন করছে, নাগরিক নিজের বোধসমেত সেখানে উপস্থিত থাকলেও গণের ভীড়ে তার কণ্ঠ তেমন উচ্চকিত নয়।প্রশ্ন হলো এই নাগরিককে আক্রান্ত করবার অধিকার কোনো আদর্শের যোদ্ধা অর্জন করে কি না প্রতিরোধ লড়াইয়ের সুত্রে? শিন্ডি বর্তমানে মার্কিন সংবাদপত্রের প্রচারণায় যুদ্ধাক্রান্ত পরিবারের বিবেক, মানুষের যুদ্ধবিহীন সময়ের দাবির যোদ্ধা। নির্মম পরিহাস হলো শিন্ডি নিজের সন্তান হারিয়ে যে উপলব্ধি এবং যে লড়াই শুরু করেছেন, যদি কখনও ইরাকে গিয়ে তাকেও ইরাকের মুক্তিকামী যোদ্ধার কবলে পড়ে বেঘোরে মরতে হয় তবে এটাকে নির্মম কৌতুক বলা যাবে?
ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে অনেকেই সরব, অনেকে এটাকে প্রতিরোধ লড়াই বলছে, অনেকে এটাকে খ্রীষ্টান সাম্রাজ্যবাদ বলছে। লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা যেখান থেকেই আসুক না কেনো, কতিপয় ইরাকী স্বাধীনতাকামী এই লড়াইয়ে ইরাকি সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে যাওয়া মানুষদের হত্যা করছে।
প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এরাও হয়তো একদা তাদের প্রতিরোধ করবে- হয়তো শব্দটাও সাবধানে ব্যবহার করতে হচ্ছে এখন। তবে এই ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে জীবিকার কোনো উপকরণ নেই সেখানে এই লোভনীয় চাকুরির লোভে যেসব মানুষ মারা যাচ্ছে তারাও কোনো না কোনো ভাবে একটা লক্ষ্যকে পুরণ করছে হয়তো।
কিংবা যেসব বেসামরিক কর্মী ইরাকের স্থাপনা পুননির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের ভেতরে বেছে বেছে বিদেশী নাগরিকদের ধরে কতল করে ফেলা কোন স্বাধীনতা সংগ্রাম? কোন লড়াই?
এই মৃত্যুকে সমর্থন করবার মানসিকতা আমার নেই।
আফগানিস্তানে গিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা বাঙালী ব্রাকের কর্মীর অপহৃত হয়ে থাকা ২ মাসের গল্পের অনিশ্চিত জীবন কি আমি আদর্শের লড়াইয়ে চাই?
নিজের মতের সমর্থন লাভের জন্য, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়বার জন্য এই জঙ্গী সিদ্ধান্তগুলোকে আমার সমর্থনযোগ্য মনে হয় না। যতই প্রতিষ্ঠানের চরিত্র এবং বিরোধিতার সুন্দর শরবত গিলিয়ে দেওয়া হোক না কেনো- আমি এই জঙ্গীবাদ সমর্থন করবো না।
প্রতিষ্ঠান প্রতিরোধ সহ্য করতে চায় না, প্রতিষ্ঠান নিজের সম্প্রসারণ চায়- সেটা যেকোনো অর্থেই, প্রতিরোধী প্রতিষ্ঠানও একই রকম কাজে নিয়োজিত থাকে। তারাও নিজের ক্ষমতা আর প্রতিরোধ বাড়াতে চায়, তারঅ প্রভাবপ্রতিপত্তি বাড়াতে চায়, সব প্রতিষ্ঠানেই এই সংগ্রাম এবং প্রতিরোধের জায়গা আছে- সেখানের সহযোগী মানুষগুলোকে যেকোনো বিচারে স্তব্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়াটা সমর্থনযোগ্য বিবেচিত হলে সেটা আপনার বিচারে সমর্থনযোগ্য- আমার বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানের সাথে সামান্য হলেও কোনো না কোনো ভাবে সংযুক্ত মানুষগুলোকে অহেতুক খুন করাটা আদর্শ প্রতিষ্ঠার পন্থা মনে হয় না।
আদর্শ ভিন্নমত হজম করতে চায় না, যেকোনো আদর্শই ভিন্নমত প্রতিরোধ করে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকারের দাবীতে সশস্ত্র লড়াই যেমন একটা প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেয়- এই ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার অধিকার হরণ করে অন্য একটা অর্থনৈতিক চক্রের জন্ম দেয় আলাদা একটা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে দ্বন্দ্ব থাকে।
তবে কথা হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সমর্থক এবং সক্রিয় কর্মীদের ভেতরে কতটা উন্মাদনা বিদ্যমান যে তারা প্রতিষ্ঠানের গন্ধ শুঁকলেই তাকে ধরে বেধে নিশ্চিহ্ন করতে বদ্ধ পরিকর হবে?
লেখক বলেছেন: আন্দোলন বা যুদ্ধের যেকোনরম পর্যায়ে আত্মাহুতিমূলক বোমা হামলা হইতে পারে জঙ্গীবাদের ধারাবাহিক কার্য্যক্রমের অংশ, আবার হইতে পারে কৌশলী জঙ্গীত্বমূলক আচরন...জঙ্গীবাদী হইলো তারা যারা জঙ্গীত্বরেই একমাত্র নীতি বা কৌশল মনে করে...আর একটা সাধারন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও জঙ্গীত্ব প্রকাশিত হইতে পারে কোন এক মুহুর্তে...পরিস্থিতি মোতাবেক।
ইরাক আর মার্কিন যুদ্ধের উদাহরন যেহেতু আসলো, তাই কই তারে মাথায় রাইখাই। মার্কিনী মদদে ইরাকের সাথে আরব বিশ্বের পুরানা ক্যাচাল, ইরাকের সাথে ইসরায়েলের সাধারন মুসলিমি আক্রোশ, আর সর্বশেষ সাদ্দামরে ইস্যূ কইরা ইরাকের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বের আক্রমন এতোসব কিছুর পর যদি কোন ইরাকী দাবী তুলে তাগো সমাধান আসতে হইবো জাতিসংঘের আদালতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যুদ্ধবিরতি দিয়া তাইলে তার মস্তিষ্কের সুস্থ্যতা নিয়া প্রশ্ন উঠতে পারে। সহজ কারন, জাতিসংঘ কার তর্জনীর ইশারায় চলে সেইটা মনে হয় সক্কলেই জানে।
বাংলাদেশেও যখন মুক্তিযুদ্ধ চলে তখন এইরম যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়া জাতিসংঘে গেছিলো শাহ আজিজুর রহমান আর সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ...তারা তখন মুসলিম লীগের হইয়া পাকিস্তানের পক্ষে দালালী করে। বাঙালীর স্বাধীনতা যুদ্ধের দাবী তাগো কাছে ইসলাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্র...একদিক দিয়া যুদ্ধের অমানবিকতা নিয়া তারা কথা কয় জাতিসংঘে আর অন্য দিকে শান্তি বাহিনী আর এনএসএফ দিয়া নিরীহ লোকজন সমেত মুক্তিকামী জনগণরে শান্টিং দ্যায়...প্রতিবিপ্লবের প্রতিরোধ যেইরম হয়!
প্রতিবাদের কৌশলে সুশীলতা খুব একটা কাজে দ্যায় না মনে হয়...তর্ক আর আলোচনার পাশাপাশি চিরকালই জঙ্গীত্বের প্রকাশ লাগছে যে কোন মতাদর্শিক বা অমতাদর্শিক পরিবর্তনে...সংঘর্ষ ছাড়া মনে হয় না জগৎ-জীবন-সংসারে কিছু পাল্টায়...
রাষ্ট্র হইলো সবচাইতে অনৈতিক প্রতিষ্ঠান, তারপরেও তার চাইতে কুটিল প্রতিষ্ঠান আছে সমাজে...
(ক্রমশঃ)
কামাল ভাই বলেছেন:
"আমারবল্গ", দৃষ্টিপাত এগিলির পরিবেশ লয়া জামাল ভাই যুদি কিছু বল্তেন
লেখক বলেছেন: আমার ব্লগতো মোটে শুরু হইলো...তয় তার মডারেশনহীনতার প্রতিশ্রুতি পছন্দ হইছে আমার...
দৃষ্টিপাত যখন ইয়াহু গ্রুপ আছিলো তখন তার সদস্য হইছিলাম...কিন্তু ব্লগ হওনের পর ঐ দিকে কচিৎ গেছি...আমি নিজে ঠিক দৃষ্টিপাতের সুশীল পরিবেশ খাপ খাই না। তার চাইতে উত্তরসুরী ভালো লাগে...
মেন্টাল বলেছেন:
জামাল ভাস্কর বলেছেন: ...আর সামহোয়্যার ইন যারা চালায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা তর্কটা বুঝেই না। ...................****************
হাসতে হাসতে পইড়া গেলাম।
লেখক বলেছেন: আমার লাগে দুঃখ... ![]()

















