somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কন্সপিরেসী’র কালো অধ্যায় আর একজন স্বপ্নাচারী মানুষ

২১ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা বিক্ষুব্ধ সময় ছিলো তখন…শেখ মুজিবর রহমানরে সপরিবারে হত্যা করনের পর উল্লম্ফন ছিলো খুনী চক্রের, ছিলো মতাদর্শহীন একদল আবেগী সেনা কর্মকর্তার প্রতিরোধকামী হঠকারীতা…এরে অরাজকতা ছাড়া আর কিছু কি কওন যায়!

একটা জাতীয়তাবাদী যুদ্ধের পর যুদ্ধবিক্ষুব্ধ দেশে যখন ব্যক্তিতান্ত্রিকতার চর্চা শুরু হয়, কেবল একজন নেতার ব্যক্তিত্য বেচাবিক্রীর পয়েন্টে দেশবাসীরে সঙহত করনের চেষ্টা শুরু হয় আওয়ামি স্টাইলে, দুর্ভিক্ষ আর দুষ্প্রাপ্যতারে তার ধারাবাহিকতায় দুরীকরণের চেষ্টা চলে, তখন স্বভাবজাত অনাস্থার প্রকাশ ঘটে সাধারন মানুষের চেতনায়। এর সাথে যুক্ত হয় ক্ষমতাকেন্দ্রীক আচরনের যথেচ্ছাচার…আমার আওয়ামি সমর্থক বাপও গল্প করেন শেখ কামাল কেমনে কইরা খেলার মাঠে পিস্তল বাইর করতো, সেই হিরোইজমের কাহিনী।

যদিও এই দেশের আপামর জনতার প্রকাশ্য অংশগ্রহণের মধ্য দিয়াই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হইছিলো…যদিও মুষ্টিমেয় পাক-হানাদারগো দোসর এই দেশের মুক্ত আন্দোলনের বিরোধীতা করছিলো দেশের অভ্যন্তর থেইকা…কিন্তু দেখা যায় আওয়ামি জান্তা এই দেশের মালিকানাবৎ আচরনে প্রকাশিত হয়…তার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক-সাংগঠনিক অংশগ্রহণ ছিলো যেই সকল রাজনৈতিক দলের তারা কেরম নিষ্প্রভতায় ভুগতে থাকা অসুখী জনপদে পরিণত হইতে শুরু করলো। সিপিবি হইলো আওয়ামি মুখাপেক্ষী, জাতীয় দল গেলো মিউজিয়ামের সংরক্ষানাগারে…কেবল ভাসানী সাহেব তখনো স্ফুলিঙ্গের মতোন জ্বলতেন আবার নিভতেন…

এমনই এক সময়ে এই দেশে তারুণ্যের শক্তি হিসাবে সংগঠিত হইলো জাসদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে যেমন ছিলো আওয়ামি বিরোধীতা-তারুণ্যের জোশ কিম্বা সাম্যবাদের রোমাঞ্চকর স্বপ্ন, ঠিক তেমনি তাগো আদর্শবাদের দারিদ্রও ছিলো। আওয়ামি দূরাচারের কারনে জাসদ হইলো প্রতিবাদী শক্তি, মতামর্শিক দারিদ্র ঢাকা পইরা যাইতো প্রতিরোধ আর প্রতিশোধের আড়ালে। দেশের আর সকল প্রপঞ্চের মতোন জাসদেও খুব ধীরে হইলেও বিনির্মাণ হইতেছিলো…পালাবদল চলতেছিলো। যদিও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ছিলো এই অঞ্চলের সবচাইতে সংগঠিত বামপন্থী শক্তি…কিন্তু তাগো আওয়ামি তোষণ নীতি…মাঝে সাঝে হঠকারী কৌশলের কারনে যুক্তিবাদী অথচ পরিবর্তনকামী প্রতিবাদী তারুণ্যের কাছে তারা ক্রমশঃ অজনপ্রিয় হইতেছিলো। জাসদে যুক্ত হইতে শুরু করে দেশের স্বপ্নচারী মানুষেরা…যারা দেশের অথর্নীতিতে সুষম বন্টন প্রয়াসী, যারা প্রতিরোধে প্রতিশোধে বিশ্বাসী ছিলো।

শেখ মুজিবর রহমানরে স্বপরিবারে হত্যা করনের পর এই দেশের রাজনৈতিক গতিপথ হঠাৎ কইরা তার সকল চরিত্র হারাইলো…গন্তব্যহীনতায় পরলো সকল অভিলাস। বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষিপ্ত প্রতিরোধ হয়তো গইড়া উঠছে…কিন্তু উদ্দেশ্যহীনতার কোন লক্ষ্য অর্জন থাকে না…খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে গইড়া উঠা স্বল্পকালীন বিদ্রোহের কারণ নিয়া যেই কারনে আজো সাধারন মানুষ সংশয়ী থাকে…

এই সময়টারে কেবল গুটিকয় মানুষ উপলব্ধ করতে পারছিলেন…তারমধ্যেই ছিলেন কর্নেল তাহের। যে পরাজিত হইতে শিখে নাই কোনদিন! যার কাছে পরাজয়ের চাইতে মৃত্যু শ্রেয় ছিলো…রাষ্ট্রীয় যেই দূরাচারের চর্চা শুরু হইছিলো মুক্তিযুদ্ধের পর…বৈষম্যের প্রাতিষ্ঠানিক যেই চর্চা শুরু হইছিলো এই দেশে, তার ছায়া এই দেশের অসংগঠিত সামরিক বাহিনীতেও ছিলো। সাধারন সেনা সদস্যগো কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছে আর্জি ছিলো দেশের এই পরিস্থিতি থেইকা সবাইরে যাতে মুক্ত করা হয়…কারন কর্নেল আবু তাহেরের স্বপ্ন নিয়া কারো সংশয় ছিলো না…তার দৃঢ়চেতা মনোভাব নিয়া কারো সন্দেহ ছিলো না…দেশের প্রতি তার ভালোবাসার কাঠামো নিয়া কেউ সন্দিহান ছিলো না।

কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে অপরিনামদর্শী খালেদ মোশাররফের বিদ্রোহের অবসান ঘটলো আর মুক্তি পাইলো মেজর জিয়া…আপাদমস্তক বিপ্লবী হওনের স্বপ্ন লালন করা মানুষেরো ভুল হয়…মেজর জিয়ারে মুক্ত করনের পর কর্নেল তাহের বিশ্বাস রাখছিলেন তার প্রাক্তন সহকর্মী’র উপর…কিন্তু সেই সময়ের বিদ্রোহী প্রান্তরে যে ষড়যন্ত্রের-লোভের ক্যান্সার ছড়াইতেছিলো তার চারপাশে ভালো মানুষ তাহের সেইটা আন্দাজ করতে পারেন নাই। আর তাই অপরিনামদর্শী খালেদ মোশাররফের মতোন তারেও অপরিনামদর্শীতার অপবাদ তারেও নিতে হইতে পারে সেইটা তিনি ভাবতেও পারেন নাই…ক্ষমতার লোভ যে মুক্তির কৃতজ্ঞতাবোধের চাইতে বড় হইতে পারে সেই কন্সপিরেসীমূলক বোধের কথা ভাবেনও নাই কর্নেল তাহের…

আর তাই খেসারত দিতে হয় ইতিহাসরেই। খেসারত দ্যায় এই জনগোষ্ঠী। কর্নেল তাহেরের মহাপ্রয়ান হয় ফাসী কাষ্ঠে…ইতিহাস তাই বরণ কইরা নিতে বাধ্য হয় বিকৃতিরে…বিকৃত ইতিহাস নির্ভর একটা জাতিরে পথ দেখাইতে যতোদিন না আর কোন বিপ্লবী আসে, ততোদিন খেসারত দিবো আমরা…সাধারন মানুষ!

যদিও স্বপ্ন দেখি নিঃশঙ্ক চিত্তেই…তার চাইতে বড় সম্পদতো আর নাই!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×