সেইসব ধুলিমাখা দিন আর এইসব রক্তরাঙা রাত
০১ লা আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫৩
যখন ইশকুলে পড়ি আর পড়ি উত্তরাধিকার-কালবেলা-কালপুরুষ কিম্বা গর্ভধারিণী, তখন স্বপ্ন দেখতাম জিন্সের শার্ট-প্যান্ট পইরা খালি পায়ে কান্ধে বন্দুক নিয়া জঙ্গলের মধ্যে রবিন হুডের জীবন...মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত রোমাঞ্চকর জীবনের হাতছানি! তখন ভালোবাসতাম নকশাল বাড়ির মানুষগুলিরে, যারা শ্রেণী শত্রুগো বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামের ঘোষণা দ্যায়...যারা নিপীড়িত মানুষের অন্তরের টান অনুভব করে। সেই কৈশোরে যেই কারনে চেষ্টাও চালাইছিলাম আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনৈতিক দলে ভিরা যাইতে...যোগাযোগের সকল সমস্যা নিয়াও রওনা দিছিলাম উত্তরবঙ্গে...
বয়সের সাথে সাথে শহুইরা মনোবৃত্তি আর অভিলাষের চাপে আমিও ধীর স্থির হইছি...রাজনীতির যে কয়টা ধারা আছে, রাষ্ট্রচরিত্র বিশ্লেষণ আর উৎপাদন সম্পর্কের রিয়েলাইজেশনে তার একটারে বাইছা নিলাম নিজের জীবনের গতিধারা হিসাবে। রোমাঞ্চের মাত্রাগত পার্থক্য নিয়া ছাত্র রাজনীতি করছি দীর্ঘ সময়...ছাত্রজীবন শেষেও রাজনৈতিক সংগ্রামের সাথে কাটাইছি কিছুকাল...এরপর নিজের র্চচাগত সীমাবদ্ধতায় রাজনৈতিক সংগ্রামের সক্রিয়তা থেইকা কিছুটা ছিটকাইছি...চর্চাগত বিরোধ থাকলেও মতাদর্শিক বিরোধ কোনকালেই ছিলো না...এখনো এই রাষ্ট্রের চরিত্র বিশ্লেষণে একটা পুঁজিবাদী রাষ্ট্ররেই দেখি...এখনো বুঝি আধা সামন্তীয় চেতনা বইলা কোন কিছুর অস্তিত্ব এই অঞ্চলে নাই...
কিন্তু যাগো লগে আমার বিশ্লেষণগত ঐক্য নাই তারা কি অপরাধী!? এই প্রশ্নের উত্তরে আমি হা কিংবা না এই উত্তরেই সীমিত থাকি। সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে সকল অংশগ্রহণকারীর চেতনারেই আমি শ্রদ্ধা করি...এই শ্রদ্ধায় ভালোবাসা আছে নতমুখ নাই। ষাইটের দশকে এই ভূখন্ডেও সারা বিশ্বব্যবস্থার লগে তাল মিলাইয়া বিভাজন আসছে। কেউ মস্কো'র বৃষ্টিতে ছাতা ধরছে, কেউ কোন চীনামুখরে চেয়ারম্যান বানাইছে নিজদেশে। প্রেসক্রিপশন দিয়া যে মার্ক্সবাদী সংগ্রাম চলেনা সেই বোধ অপসারিত ছিলো তাগো সংগ্রামে...বাঙালি'র চিরায়ত দর্শন, অন্যের দ্বারা পরিচালিত হওনের শর্ত মাইনাই তারা চলছে...হয়তো ভুল ছিলো সেই চেতনায়, হয়তো হঠকারীতা ছিলো সেই চেতনায়...কিন্তু উদ্দেশ্যমুখীনতা ছিলো পরম...
রাজনীতিরে আমি বিবেচনা করি এই উদ্দেশ্যমুখীনতা দিয়াই...যখন সিরাজ সিকদাররে হত্যা কইরা শেখ মুজিবর রহমান সংসদে উল্লাস করেন, তারে আমি পাশবিতায় অনুবাদ করতে পারি। যখন শেখ ওয়াহিদুর রহমান নির্যাতিত হ'ন তারে আমি সামাজিক অনিয়ম বলতে পারি...যখন মোফাখ্খর চৌধুরী ক্রসফায়ার নামক আজগুবি নাটকের শিকার হ'ন তারে আমি প্রতিহিংসা বইলা বুঝি। তবুও অপেক্ষা করি এই আধুনিক বুর্জোয়া আধুনিক সমাজে হয়তোবা যৌক্তিক নির্ভরতা আসনের সম্ভাবনা থাকে...তাই ভাবি তপন মালিথা কিম্বা ডাক্তার টুটুল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের উপলক্ষ্য হইবো না।
এই রাষ্ট্র অনিয়ম করে, এই রাষ্ট্র মানুষের মানবিক অধিকার দ্যায় না, এই রাষ্ট্র চায় না মানুষ তার নিজের প্রজাতির লগে দ্বান্দ্বিক সংগ্রাম খ্যান্ত দেক...এই রাষ্ট্র চায় শোষণের অধিকার, এই রাষ্ট্র প্রতিযোগিতামূলকতার নামে বৈষম্য টিকাইয়া রাখনের চক্রান্তে নামে, রাষ্ট্রের পরিচালকেরা অতএব সুখে দিনাতিপাত করনের সার্টিফিকেট পায়। কিন্তু তাগো এই চক্রান্ত যেইসব মানুষ উপলব্ধি করে, তারা কি করবো!? বিদ্রোহ কি চেতনার প্রকাশ নয়! অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যদি অপরাধ হয়, তাইলে সেই প্রতিবাদের জোয়ারে আমি গা ভাসাইতে রাজী চিরকাল...
ধরা যাক এই সব বিপ্লব অন্ত্যপ্রাণ যদি অপরাধীও হয় এই রাষ্ট্রের সূচকে, তাইলে কি রাষ্ট্রীয় আইনেই তারা বিচারের সুযোগ পাইতে পারে না!? রাষ্ট্র যদি তার নিজের আইন ভাঙতে শুরু করে, তাইলে কি সে নিজেই অপরাধী হয় না!? নাটকের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরীর অপচেষ্টায় যতোটা নিপুন এই রাষ্ট্র, তার চাইতে অনেক কম মনযোগী সে মানুষের দুর্দশা দুরীকরণে...আর তাই ডাঃ টুটুলেরা প্রাণ দ্যায়...কিন্তু তাতে কি বিদ্রোহ থমকায়!?
বিদ্রোহ কোন অলীক মেঘ নয়, বিদ্রোহ হইলো পুঞ্জিভূত ক্ষোভ...এই ক্ষোভের সমাপ্তি কখনো ক্রসফায়ারে সম্ভব নয়!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
কঁাকন বলেছেন:
বিদ্রোহ কোন অলীক মেঘ নয়, বিদ্রোহ হইলো পুঞ্জিভূত ক্ষোভ...এই ক্ষোভের সমাপ্তি কখনো ক্রসফায়ারে সম্ভব নয়!লেখক বলেছেন: হুমম...
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
ক্রশফায়ার/বিনা বিচারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পক্ষে নাই। কিন্তু টুটুলরা, মালিথারা যা করছে, করতাছে তারে বিদ্রোহ, সর্বহারাগো চেতনা কইতে পারুম না। দরিদ্র গ্রামবাসী, স্বনির্ভর স্বচ্ছল কৃষকগো উপর চাঁদাবাজী আর রাহাজানি এগো মূল চেতনায় পর্যবসিত হইছে।লেখক বলেছেন: এগো চেতনা কি সেইটা নিয়া তাইলে তর্ক হোক...অপরাধের শাস্তি নির্ধারিত হোক রাষ্ট্রীয় আইনে...ক্রসফায়ার কখনো বিচার্য বিধান হইতে পারে না...
তপন মালিথা সম্পর্কে আপনে যা কইলেন সেইসব আমারো শোনা কথা, কিন্তু ডাঃ টুটুল সম্পর্কে যা শুনছি তাতে তারে কখনোই আপনের মূল্যায়ন মতোন লাগে নাই...
মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন:
" বিদ্রোহ কোন অলীক মেঘ নয়, বিদ্রোহ হইলো পুঞ্জিভূত ক্ষোভ...এই ক্ষোভের সমাপ্তি কখনো ক্রসফায়ারে সম্ভব নয়! "" কিন্তু টুটুলরা, মালিথারা যা করছে, করতাছে তারে বিদ্রোহ, সর্বহারাগো চেতনা কইতে পারুম না। দরিদ্র গ্রামবাসী, স্বনির্ভর স্বচ্ছল কৃষকগো উপর চাঁদাবাজী আর রাহাজানি এগো মূল চেতনায় পর্যবসিত হইছে। "
আমিও একমত !!!
মাহবুব সুমন বলেছেন:
বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেনী বিপ্লব হতে একটু দূরে থাকতেই পছন্দ করে, এজন্যই হয়তো ব্রিটিশ কলোনিয়ালদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরাতে অনুশীলন সমিতিকে সন্ত্রাসী বা স্বদেশীদের ডাকাত বলা হতো তৎকালীন সমাজে ! কম্যুনিস্ট মানেই রাস্ট্রবিরোধী উগ্রবাদী অংশ এরকমটি ধারনা মনের মাঝে গেঁথে দেয়া হয়। বিপ্লব অস্ত্র দিয়েই হয়, রজনিগন্ধার দন্ড নিয়ে হয় না, কিন্তু বিপ্লবকে খেয়ে ফেলে প্রতিবিপ্লবি যেটা বাংলাদেশেও দেখা গিয়েছে অতীতে বা বর্তমানে। ক্রসফায়ার সমর্থন করি না।
লেখক বলেছেন: হুমম...
রাসেল ( ........) বলেছেন:
মৃত্যুর মিছিলে নতুন নাম যুক্ত হবেই।টুটুলের রক্তের দাগ মুছে না যেতেই মারা গেলো শিমুল। সম্ভবত টুটুলের স্ত্রীর ভাই। জনযুদ্ধের আরও এক গ্রেফরাতকৃত সদস্য।
মৃত্যুর ধরণটাও একই রকম। ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসী ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিলো, লাইন ওফ ফায়ারে পড়ে গুরুতর আহত এবং হাসপাতালে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছে তাকে।
একজন ব্যবসায়ীর পাঁজরের হাড় ভেঙেছে পুলিশ। গত কাল দুপুরে একজন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো র্যাবের অফিসে, সেখানে তার হৃৎযন্ত্র বিকল হয়ে যায়।
অহেতুক মানুষ খুন করবার এত বাহানা খুঁজবার প্রয়োজন কি তাদের?
লেখক বলেছেন: আমাগো দেশের পুলিশ যখন রাস্তার পাশের দোকানদারের কাছ থেইকা বখরা আদায় করে, রাষ্ট্রের পালিত মাস্তানেরা যখন নিরীহ মানুষের কাছ থেইকা চান্দাবাজি করে, তারে কেন্দ্র কইরা তো এইসব বিদ্রোহী মানুষের মতোন কইরা প্রচারণা আসে না! তারে তো আমরা নিয়ম মনে কইরা মাইনা নেওনের আপোষ করনের খেলা খেলি...
বাহানাটা আসলে নিজেগো অপরাধরে ঢাইকা দেওনের চেষ্টা রাসেল...
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
গৌতম ঘোষের কোন একটা ছবিতে একটা ডায়ালগ ছিলো"টেরোরিজম ইজ্ দ্যা আউটবার্সট অফ লং ডিপ্রাইভেশন"।"বিদ্রোহ কোন অলীক মেঘ নয়, বিদ্রোহ হইলো পুঞ্জিভূত ক্ষোভ...এই ক্ষোভের সমাপ্তি কখনো ক্রসফায়ারে সম্ভব নয়"!সহমত।
একটু দেরিতে হলেও বক্তব্য সঠিক।
লেখক বলেছেন: এই বক্তব্যের আবার দেরী আর অদেরী...অনেকবছর ধইরাইতো রাষ্ট্র এই কান্ড ঘটাইতেছে...ভবিষ্যতে আরো ঘটবো নিশ্চিত...
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
না,মানে ডাক্তার টুটুল'রে যেদিন হত্যা করা হয়,তখন কিছু বেকুবের প্রলয়নৃত্য'র মাঝে এই পোষ্ট'টা হয়তোবা একটা জবাব হতো পারতো।অবশ্য এইটাও ঠিক এই কান্ড ভবিষ্যতে আরো ঘটবে।যদি কর্তাব্যাক্তিরা কখণো ভুলেও এই ব্লগে আসে,আরো উৎসাহিত হইতে পারে।
লেখক বলেছেন: ঐ সময় থেইকাই আসলে কিছু একটা লিখন দরকার ভাবতেছিলাম তা'ও সত্যি, সময় কইরা উঠতে পারতেছিলাম না...পরিচিত একজন এখনো ক্ষমতাসীন গুন্ডাবাহিনীর হাতে শুনছি...ঠিক মিলাইতে পারতেছি না বাস্তবতা...
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
মুশকিল হচ্ছে, সর্বহারা বা জঙ্গিদের বিরাট অংশটাই যে, শ্রেণীসংগ্রাম ভিন্ন খাতে বইয়ে দেয়া আর লাল পতাকারে লাল পতাকা দিয়া ঢেকে দেয়ার কৌশল, এদের অনেকেই যে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর যোগসাজশে অস্ত্রধারী, সেই সত্য অনেকেরই চোখে পড়ে না। এ পর্যন্ত যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই দেখা যাবে রাজনৈতিক ক্যাডার, ডাকাত নয়। এর বাইরে তপন মালিথার মতো লোক আছে, যাদের আর প্রয়োজন নাই বলে হত্যা করা হয়। আমি এরও বিরোধী এ কারণে যে, খুনের জবাবে পাল্টা খুনের অভ্যাসের মধ্যে খোদ রাষ্ট্রটাই যে খুনী হয়ে ওঠে!
রাষ্ট্রকে এরকম খুনের লাইসেন্স দিলে তা যে শেষ পর্যন্ত খুনের অভয়ারণ্যই সৃষ্টি করে সেদিকে দেখি বেশিরভাগেরই নজর নাই। ডাকাতের আচরণ যখন রাষ্ট্র নিজেই করে, তখন সেই রাষ্ট্রের আইনী বৈধতা আর থাকে কোথায়? আমরা নির্বিচার সহিংসতার বিরোধী। কাজেকাজেই রাষ্ট্র যখন একই কাজ করে, তখন তারও বিরোধী।
লেখক বলেছেন: মতাদর্শের দারিদ্রে এই যুদ্ধের অনেক যোদ্ধাই রাষ্ট্রের যোগসাজশে বড় মাস্তান হয়...এর বড় অংশটাই হয়তো ভাড়াটিয়া মাস্তানের মতোন রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত হয় অনেক সময়...কিন্তু কথিত এই সর্বহারা আন্দোলনের লাইনরে তার মূল থেইকা আমি কখনো অশ্রদ্ধা করবার পারি না।
আমি বরং এই লড়াইরে এই ব্যর্থ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটা হঠকারী কৌশল হিসাবেই দেখতে পারি কেবল...
অনার্য তাপস বলেছেন:
আপনার কথার সাথে একমত। কিন্তু আমার একখান প্রশ্ন আছে। বিপ্লব মানে কী? রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধচারণই কি বিপ্লব? ক্রশফায়ারে হত্যা একটি অমানবিক এবং মানবতা বিরোধী কাজ। আপনি যাদের নাম লিখেছেন তাদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কি নির্দোষ ছিলেন? মানলাম তারা একটা রাজনৈতিক আদর্শে নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উঠল ক্যান? শ্রেণী শত্রু খতমের অধিকার হাতে নিয়ে তারাও তো একধরনের অপরাধ করেছে, নাকি?বিপ্লব মানে আমি যতটুকু বুঝি, একটা গোটা সমাজ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন। আর এটা আসতে হবে প্রতিটি মানুষের জীবনের যাপন চর্চার মাধ্যমে। বিপ্লব একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া নয় কি ?
লেখক বলেছেন: আমি অ্যানার্কিস্টগোও বিপ্লবী কইতে রাজী আছি সময়ভেদে...এখন আমার পোস্ট হয়তো আপনারে ভুল ধারণা দিছে আমার উপলব্ধি নিয়া...এইসব আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনৈতিক কর্মীগো লাইনে পরিবর্তন সম্ভব না সেইটা আমিও মনে করি। কিন্তু তার চাওয়াটারে আমি অশ্রদ্ধা করবার পারি না আদৌ...
রাষ্ট্র নিজে অপরাধ করে, রাষ্ট্ররে নির্ভর কইরা ক্ষমতার পেরিফেরীতে অবস্থানরত মানুষেরা অপরাধ করে, তারে আমরা যতোটা খারাপ চোখে দেখি রাজনৈতিক পরিবর্তনের অভিলাসী এই মানুষগুলিরে দেখি তার চেয়ে পরিত্যাজ্যবৎ...
বিপ্লবী দীর্ঘ প্রক্রিয়াই, যাপিত জীবনের চর্চার মধ্য দিয়াই হয়তো এই পরিবর্তন আসবো...কিন্তু এই যাপনের পথে শত্রুরে খতম করনটাও প্রয়োজন হইতে পারে...এখন আমি ধ্রূব ধরি না এই কৌশলরে, কিন্তু যেই মানুষগুলি সেইরম মনে করে তারে আমি অপরাধী কইতে পারি না, বড়জোর তারে হঠকারী ভাবি।
অনার্য তাপস বলেছেন:
ক্যান তারে অপরাধী কইতে পারেন না? RAB কেও তবে হঠকারী কওয়া যায়। কারণ রাষ্ট্রের মনে হইছে এখন ক্রশফায়ার লাগব। খুন খুনই। তারে ফিরান যায় না। সেটা যেই করুক সেই সমান অপরাধী। আপনি প্রয়োজনের কথা কইলেন। এই শব্দটা খুব সুবিধাবদি শব্দ বইলা মনে হয় আমার কাছে। যখন আমার অমুক জিনিসটা প্রয়োজন হইব তখন আমি ওইটা লমু এবং তার একটা ব্যাখ্যা দাঁড়করামু লওয়াটারে জায়েজ করনের লাইগা। এইটা ক্যামন কথা।
লেখক বলেছেন: RAB একটা পরিকল্পিত দমনপীড়নের বাহিনী আর এই মানুষগুলি একটা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে। ক্ষমতাসীন শ্রেণীর অযাচাররে আমার হঠকারী মনে হয় না তারে ক্ষমতার দুরাচারই মনে হয়।
প্রয়োজনটারে আমি প্রায়োগিকতার প্রক্রিয়া হিসাবে ভাবতেছিনা এই বেলা, প্রয়োজনটা শত্রুনিধন, যেই শত্রু এই সমাজে বৈষম্য টিকাইয়া রাখতে চায়, যেই শত্রু মানুষের মৌলিক অধিকারের উপর পরিকল্পিত হস্তক্ষেপ করে, যেই শত্রু কুক্ষিগত করে অযাচিত সম্পদ তার নিজের সুবিধা আর ভোগের লেইগা...এখন সেই শত্রু মতাদর্শিক পরিবর্তনেও আগ্রহী হইতে পারে, সেইটা হইলে তারে খতমের প্রয়োজন নাও হইতে পারে।
অনার্য তাপস বলেছেন:
একজেনের মতের সাথে আমার নাও যাইতে পারে। আমার নিজস্বতো একটা মত থাকতে পারে। সেটারে সম্মান জানেনো অন্যের উচিৎ কিনা? আমার কাছে মনে হয় আমরা কেউই কোন মতের উপর মজবুত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকি না দীঘীকাল। যখনি আমাদের স্বার্থে আঘাত লাগে তখনি আমরা সরে পরি সেই মত থেকে। এর ম্যালা উদাহরণ আছে। সেটারে আপরনি কী বলতে চান।
লেখক বলেছেন: আপনার মত থাকনটা একরম আর সেই মত অন্যের উপর খবরদারী কইরা চাপাইতে চাওনটা আরেকরম...এখন আপনে বৈষম্য টিকাইয়া রাখনের লেইগা নিজের মত নিয়া অন্যরে ম্যানিপ্যুলেট করবেন আর সেইটারে আপনের মতের স্বাধীনতা মনে কইরা অন্যরা প্রগতিশীলতা দেখাইবো বিষয়টা কি এইরম?
মতের পরিবর্তন যদি যুক্তির ভিত্তিতে হয় তাইলে সেইটারে নিয়া তর্ক করন যায়...কিন্তু স্বার্থের লেইগা যেই মত পরিবর্তন সেইটাতো মত পরিবর্তন না...এর লেইগাই মতাদর্শের প্রাসঙ্গিকতা আসে।
উদাহরন সবখানেই আছে...তা দিয়া কি বুঝায় কন তো?
অনার্য তাপস বলেছেন:
চাপানোর বিষয়টা থেকে কেউ কি মুক্ত? সবাইতো চাপাইতে চায়। আপনিও আমিও। আর উদাহরণ মানেই তো সেই জিনিসটার একটা অস্তিত্ব আছে। যখন উদাহরণটা অনেক বেশি।


















