সামরিক বাহিনী যেই সময়টাতে বন্দুকের নল উচাইয়া দেশের ভবিষ্যত পাল্টানের প্রতিশ্রুতি দিলো তখন আমার বিশ্বাস হয় নাই একরত্তিও...আমি নিরাশা আর অবজ্ঞা নিয়া তখন অনেক ব্লগ রচনা করতে থাকি সেই সময়ে...বিরোধী মানুষেরা, যারা আশার আলো দেখতেছিলো, তাগো লগে যুক্তি তর্ক করি আর যারা আমার সমভাবাপন্ন তাগো লগে কোলাকুলি টাইপ সম্পর্কের উদগারণ। সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কারা আসলে দেশের-ক্ষমতার যাদুই কাঠি নিয়া নাড়াচাড়া করতেছিলো সেইটা আমি যদিও সেই সময়েও অজ্ঞাত ছিলাম তবুও অলক্ষ্যে অনেক সম্ভাবনার প্রতি ইঙ্গিত করছি। সেই সব ইঙ্গিতগুলি এখনো আমারে জ্বালায়। পেটের মধ্যে সেই অস্বস্তি গুটগুট করে। কিন্তু তার কোন সুনির্দিষ্ট উৎস জানতে পারি না বিধায় নিশ্চুপ থাকি এই বেলা।
এই দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতাধারকেরা চিরকাল প্রতিশ্রুতি আর প্রত্যাশার ভাঙনের মধ্যে আমাগো এমনে অভিযোজিত করছে যে আমরা তারে আর সমাধান মনে করতে পারি না। মনে করি সমাধান রয়েছে অন্য কোন খানে...অন্য কারো অঙ্গুলি হেলনে। আর তাই সামরিক বাহিনী ক্ষমতা অধিগ্রহণ করলে, তারা ছদ্মবেশে দরদামে গেলে মনে করি এইটা একটা মুক্তির পথ। যেই সময়টাতে শেখ হাসিনা দুর্নীতির দায়ে বিশেষ জেলে অন্তরীন হইলে আমরা কখনো ভাবি না এইটা কোন অসদুদ্দেশ্য, বরং আমাগো অনেকেই তখন মনে করে খালেদা জিয়া ক্যান তখন স্বাধীনতায় ঘোরাফেরা করে! তারেক জিয়া বা তার সকল সাঙ্গপাঙ্গ যখন ধরা পরে বিশেষ বাহিনীর হাতে তখন আমার নিশ্চিন্তির হাফ ছাইড়া কই, "ভালো হইছে...পাপের শাস্তি মানুষ এমনেই পায়।" নিয়তি বিশ্বাসী আমাগো আসলে এইটুকুতেই প্রশান্তি...
ক্ষমতার গল্প আমার কাছে খুবই সাধারন সমীকরণের মনে হয়। তারে অপারেট করনের মানুষটা পাল্টাইলে বড়জোর অভ্যাসগত কিছু বহিঃপ্রকাশ পাল্টায়। নাইলে যেইরম চলনের আসলে তেমনেই চলে। ক্ষমতা শত্রু আর মিত্রের কৌশলগত দৌর্বল্য আর সবলতা চিন্হিত করে কেবল। রাজনৈতিক নেতারা থাকলে আমরা প্রকাশ্যে আন্দোলন কইরা রাইতে বেলা নিপীড়িত হইতে পারি...প্রতিবাদ আর প্রতিক্রিয়ার একটা ধারাবাহিক পৌণপুণিকতায় প্রবিষ্ট হইতে পারি। কিন্তু সামরিক বাহিনী থাকলে সেই প্রতিরোধের মুখেও ছাই পরে। লাঠিয়ালেরা প্রতিক্রিয়ারে সবসময়ই ডরায়...হোক সে রাজনীতির ধামাধরা কিম্বা নিজেই শাসক।
আর তাই আমার বিশ্বাস করতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না শেখ মুজিবের ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ কতোটা ছিলো...বুঝতে কষ্ট হয় না আবেগে গলাভারী করতে পারা মানুষটা অন্তরালে নোংরামী কইরা একজন কৌশলী রাজনৈতিক চিন্তাবিদরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে পারেন...তার ধারাবাহিকতায় তারে পুরা প্রক্রিয়ায় কোনঠাসা করতেও তারে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয় নাই। বাকশালরে যতোই ক'ই স্যান্ডানিস্টা কিম্বা উজামা'র অনুসৃত মতাদর্শ, মূল উপবাচ্য ছিলো ক্ষমতারে কুক্ষিগত করণ, সেইটা আমি বুঝতে পারি। আমার বুঝতে কষ্ট হয় না মেজর জিয়া জাতিরে স্বাধীনতা দেওনের নামে এই দেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজনীতির পুনঃপ্রবেশের সুযোগ কইরা দ্যান কেবল প্রতিপক্ষরে দুর্বল কইরা বিভাজনের নোংড়া খেলা খেলনের তরে। ক্ষমতার লোভে তিনি ছিড়া গেঞ্জি আর ভাঙা ট্রাঙ্ক সযতনে রাখেন...যেই যাদুই ট্রাঙ্কের ভিতর থেইকা অব্যবহিত পরেই তার স্ত্রী আর সন্তানেরা একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর সম্পদের পাহাড় বাইর করতে থাকে...অর্থনৈতিক মুক্তির নামে খোলা খোলাবাজারে আসলে যেই বৈষম্যের গাঢ় দাঁগ লিখতে চাইছেন তিনি সেইটাও আমার বুঝতে বিন্দুমাত্র কসরত লাগে না। আমি আদৌ বিভ্রান্ত হইতে পারি না শেখমুজিবের সন্তান শেখ হাসিনার ক্রন্দনে...ঐ ক্রন্দন জলে আমি ক্ষমতার অপব্যবহারের সকল হাতছানি দেখি। ঐখানে থাকে লোভ আর অবিবেচনা...ব্যক্তির অভীপ্সা...
দেশে যখন প্রতিবাদের ছ্যাঃ! ছ্যাঃ চলে পুরাদমে...আমি তখন নিভৃতচারী হইতে চাই। জানি ক্ষমতার রূপ যদি বিদ্যমানতার মতোন হয়, তাইলে তার করাল থাবা থেইকা কোন মুক্তি নাই। আমি বর্তমান ধারার কোন প্রশ্বাসে-প্রতিশ্রুতিতে স্বপ্ন ভাঙনের দুঃখ নিতে চাই না। তার থেইকা এই ভালো পেসিমিস্ট আছি!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


