ছানোয়াররে দোষী সাব্যস্ত করন যাইতো যদি সে প্রকাশ্য দিবালোকে কোন ছাত্রীর গায়ে হাত দিতো...বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যরা ছানোয়ারের বহিষ্কারাদেশ দিতে পারতেন, যদি সে নগ্ন অবস্থায় কোন ছাত্রীরে বিভাগের বারান্দায় জোর কইরা ধর্ষণে উদ্যত হইতো। পুরুষের বিচারে এইরম মানদন্ডই চলে, এর বাইরে হইলে সেইটা হয় সামাজিক নিয়ম বহির্ভূত...ছানির বিরুদ্ধে করা চারজন ভূক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ নিয়া সন্দেহ হয় কর্তৃপক্ষের, তাগো অভিযোগ প্রমাণিত করনের খেলায় প্রয়োজন আরো সন্দেহ বহির্ভূত দৃষ্টান্ত। পর্দার আড়ালে ছানোয়ার যা'ই করুক তার বৈধতা দিতে উন্মূখ এই সমাজের-রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকেরা...
ছানোয়াররে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিসি নির্ধারকেরা সন্দেহাতীত ভাবে দোষী করতে পারেন না, তখন তার পক্ষের শক্তি দাঁড়ায় অন্য পরিচয় নিয়া...তিনি নাকি আওয়ামী নেতা। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে পরিচিত অনেক মুখের মুখোশ খইসা পরতে দেখি। যেইসব মুখগুলি প্রয়োজনে সাহিত্যানুরাগী হয়, প্রয়োজনে মাস্তানুরাগী, প্রয়োজনে হয় ধর্ষকের অনুরাগী সহায়ক...তাগো কাছে সামাজিক শিষ্টতার সংজ্ঞা হয় ক্ষমতার দাপট। নেতৃ যদিও তাগো শেখ হাসিনা....কিন্তু পুরুষের অনুগত সমাজে এই নারী আসলে পুরুষের পদলেহী হয় ক্ষমতার লালসায়।
ছানোয়াররে চিনি তার ছাত্রাবস্থা থেইকাই...সৃজনশীল শিক্ষক মঈনুদ্দিন আকা সেলিম আল দীনের অনেক অনৈতিক কর্মকান্ডের দোসর হিসাবে প্রিয়ভাজন...যার সূত্রে বিশুদ্ধ ছ'এর উচ্চারনে নিজের নাম কইয়াও নাট্যতত্ত্বের মতোন ব্যাকরণধর্মী একটা বিষয়ের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পাইয়া গেছিলো অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরে সরাইয়া। অনেক শিক্ষকের নোংরা প্রস্তাব ছাত্রীগো মধ্যে পৌছাইয়া দেওনের দায়িত্ব ছিলো এই ছানোয়ারের। এই সমাজে ক্ষমতা এমনেই অপারেট করে। কাছের মানুষেরা সবসময়ই অগ্রাধিকার পায়...দূরের মানুষেরা অবিশ্বাসের দোলাচলে হারায়। শিক্ষক নির্বাচনের বেলায় মেধা বিবেচনার চাইতে অন্য বিবেচনা প্রধান হয় বিদ্যমান ব্যবস্থায়। ছানোয়ারেরা আসলে তাগো গুরুবাদী আচরনের প্রকাশ ঘটায়...স্নাতকোত্তর পাশ দিয়া আসলে তারা ধর্ষণের সার্টিফিকেট পায়...
একবার শিক্ষক সমিতির সভায় শিক্ষিকা রেহনুমা আহমেদের অনুপস্থিতিতেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়া করা একটা মন্তব্য শুনছিলাম সেই সভায় থাকা এক বন্ধুপ্রতীম শিক্ষকের কাছ থেইকা...শুনছিলাম আমাগো শিক্ষকেরা কেমনে একজন নারীর শ্লীলতা সম্পর্কীত ধারণা পোষণ করে...নারীর ইজ্জত নিয়া তারা কতোটা ভাবিত হইতে পছন্দ করে...পুরুষের দোর্দন্ড ক্ষমতারে কতোটা প্রশংসনীয় মনে করে...সেই শিক্ষকেরা ছানোয়ারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগকারী ছাত্রীগো নিয়া কি ভাষায় কথা কইতে পারে তা ভাবতেও ভয় পাইতেছি...ছানোয়ারগো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করনের অধিকার রাখে না এই সব ছাত্রীরা...বরং এই সমাজের অধিপতিরা এমনেই নারীকূলরে স্মরণ করাইয়া দ্যায়, তাগো মনোরঞ্জনের দায়িত্ব...
যেই সমাজ পরিকল্পিত ভাবে ছানোয়ারগো পিঠ বাঁচাইয়া দিয়া পুনর্বাসিত করে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানের স্বপ্ন লালন করি...ছানোয়ারগো উৎখাত ছাড়া ক্ষমতার অনৈতিক দাপট থামান যাইবো না কোন কালে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

