যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে!
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩২
যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা প্রণয়নের দাবীতে যেই আন্দোলনের সূচনা হইছিলো ১৯৯৮'তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তারই ধারাবাহিকতায় আজকে এই ইস্যূ দেশের সচেতন মহলের প্রাণের দাবী হইয়া উঠছে। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই নীতিমালার সপক্ষে আমি নিজেও আছি সোচ্চার...কিন্তু কেবল এই নীতিমালা প্রণয়ন কইরা কি যৌন লাঞ্ছনা ঠেকানো সম্ভব!? আমি আদৌ তা মনে করি না। এই সমাজ পুঁজির ক্ষমতাকেন্দ্রীক বহিঃপ্রকাশের সমাজ। যার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুরুষতান্ত্রিকতার ঘেরাটোপে বন্দি।
১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আমরা আন্দোলন সংগঠিত করতেছিলাম...যখন দিনমান যৌন নিপীড়কগো বিরুদ্ধে প্রচারনায়রত ছিলাম, তখন একটা উপলব্ধি আমাগো প্রকট ছিলো...এই সমাজের প্রত্যেক পুরুষই পোটেনশিয়াল রেপিস্ট। এই সম্ভাবনার বৃত্তে কে জানে আমি নিজেও হয়তো বন্দি আছি। পুরুষের যৌনতাকেন্দ্রীক ফ্যান্টাসীর রূপ নিয়া আমরা বড় হই এই সমাজে। পুঁজি আর পুরুষ এই দুই ক্ষমতার কাঠামোতেই আমাগো সামাজিক আচরন নির্ধারিত হয় যেনো। নারীমুক্তি'র আপাতঃ দৃপ্তবাক্য বা আপ্তবাক্য রচনা কইরাও আমরা মননের কোন এক অন্তরালে পুইষা রাখি নারী সম্ভোগের মনোবৃত্তি। এই মানসিকতার প্রকাশ হয়তো প্রতিনিয়তঃ প্রকাশিত হয় না, কিন্তু সুযোগ পাইলেই তার বিচ্ছুরণ দেখি বিভিন্ন পরিসরে।
প্রতিদিন খবরের কাগজের আনাজ-কানাচ খুঁজলেই পুরুষতান্ত্রিকতার প্রকট প্রকাশের নজীর আমরা দেখতে পাই...প্রতিদিন জীবনযাপনের মুহুর্তগুলির ড্যাটাবেইজ ঘাটলেই টের পাই পুরুষ কতোটা পুরুষ হয় মননে। ক্ষমতা চর্চার সুযোগ পাইলেই পুরুষ ক্ষমতাচক্রের চাবি-কাঠি নিজের হাতে নিয়া নেয়। এমনকি অবহেলিত নারীর আচরনও নির্ধারণ কইরা দ্যায় পুরুষ...ক্রমশঃ সমাজস্থিত একটা বড় অংশের নারীরাও পুরুষের চোখেই তার পরিপার্শ্ব দেখতে শুরু করে।
খবরের কাগজের বাইরে আরেকটা জগৎ তৈরী হইছে বাঙালী ইন্টারনেট সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এই ব্লগজগতে বিভিন্ন ধরণের পদচারণায় টের পাই এইখানেও কেমনে পুরুষ বিরাজ করে তার আপন মহিমায়। যৌন উদ্দীপক প্রকাশের ফল্গুধারা বয় প্রায়শঃ'ই ব্লগীয় ভাষাকাঠামোয়...এইখানে পুরুষ কামরাঙা ছড়া লিখে...এই খানে পুরুষ নারীর কচিত্ব নির্ধারণ কইরা তারে কামড়ানের অভীপ্সা ব্যক্ত করে। এইখানে নারীর যৌন স্পর্শকাতরতা নিয়া আক্রমণের নীলনকশা তৈরী হয়। পুরুষ সমাজের সকল ক্ষেত্রে যেমন কইরা তার ক্ষমতা প্রকাশের বাহাদুরি দেখায় ব্লগেও তারই ধারাবাহিকতা দেখি।
সমাজস্থিত সুশীলতা বিরোধী প্রবনতার প্রকাশ আমরা ব্লগীয় রাজনীতিতেও দেখি। শুনতে ভালোই লাগে হিপোক্রিসির বিরুদ্ধে দেশের অন্তর্জালিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা কেমন লড়াইয়ে আছে...কিন্তু বাস্তবতার উপলব্ধিতে দেখি এইখানে নারীরে অবমূল্যায়িত করনের উগ্র প্রকাশরে সুশীলতা বিরোধী আচরন বইলা চালানের অপচেষ্টা চলে নিয়তঃ।
যৌন নিপীড়ন কেবল নারী অধিকারেই হস্তক্ষেপ করে না। পুরুষের পৌরুষ প্রকাশের চিত্র আরো বহুদূর যায়। এই চিত্রে আক্রান্ত পুরুষরেও লৈখিক ফরম্যাটে নিপীড়িত হইতে দেখি। লোহার ল্যাঙ্গট পরিধানের বিষয়টা ব্লগীয় প্রেক্ষাপটে একসময় তুমুল জনপ্রিয় বিবেচ্য হইছিলো। পোঙ্গা মারা-মলদ্বার দিয়া কিছু একটা ঢুকানের দম্ভ প্রকাশতো আকছার দেখি পোস্টে পোস্টে। যৌন নিপীড়নরে কেবল নারীরে ধর্ষণ কিম্বা গায়ে হাত দিয়া লাঞ্ছনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখন যায়না...নিত্যকার জীবন যাপনে পুরুষালী ক্ষমতার প্রকাশে যৌনতাকেন্দ্রীক বৈষম্য তৈরীর চেষ্টা বহুত শিক্ষিত আর তথাকথিত প্রগতিশীল মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারী লোকজনের মধ্যেই দেখি।
যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে যেই নীতিমালা প্রণয়নের দাবীতে আজ দেশের সচেতন মানুষেরা ইনভল্ভ্ড...সেই নীতিমালায় সকল যৌন বৈষম্যের অবসান চাই। পুরুষের পৌরুষের প্রকাশে যাতে আর কোন নারী লাঞ্ছিত না হয় তার নিশ্চয়তা চাই। ছদ্মপ্রগতিশীলতার মুখোশ উন্মোচন চাই....
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
শিমুল বলেছেন:
পুরুষের যৌনতাকেন্দ্রীক ফ্যান্টাসীর রূপ নিয়া আমরা বড় হই এই সমাজে। ভালো থাকুন!!
লেখক বলেছেন: বড়জোর ভালো থাকনের চেষ্টা করতে পারি..এই সমাজে ভালো থাকবার কথা দিতে পারতেছিনা...
ধন্যবাদ...
লেখক বলেছেন: আগাইয়া আসতে হইবো সবাইরেই...বহুদিন পর তোমার দেখা পাইলাম...তা'ও আবার আন এক্সপেক্টেড সা.ইনে...ভালো আছো?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শিমুল...
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ব্যাবস্থাপনা আদিকাল থেকেই পুরুষালী ধর্ষণটি চালিয়েছে নিপীড়ণ বিরোধী ও নীতিমালা প্রনয়ণের আন্দোলনের উপর। এই ক্রমাগত ধর্ষণকে রুখতে হবে এখনি।
লেখক বলেছেন: ৯৮'এ আমরা জাবিতে প্রক্টোরিয়াল ল পরিবর্তন করাইছিলাম আন্দোলনের চাপে...২৫ পয়সা জরিমানার বিষয়টা বাতিল করা হইছিলো জাবিতে ঐ সময়ে, যদ্দূর জানি ঢাবিতে এখনো ঐ বিধান বলবৎ আছে...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
বুঝলাম, নীতিমালা প্রণিত হল। তারপর......... বাস্তবায়ন করবে কে? তারাই কি নয়, যাদের তদন্তে জাবির শিক্ষক সাহেব রেহাই পেলেন। যদি বাইরের লোকও আনা হয় তাতেই বা লাভ কি। যিনি আসবেন তিনি ঐ শিক্ষদেরই ঘনিষ্ট হবেন, নির্যাতিত ছাত্রির কখনই নয়।নীতিমালার পেছনে সময় ঢালার পরে, ঘুরে ফিরে সমাধানের একটা উপায়ই বের হবে। তা হল রাস্তায় গাড়ী ভাঙ্গা। নইলে কেউ কারো কথা শুনবে না।
এই ক্ষেত্রে সব থেকে ভাল সমাধান হচ্ছে ছাত্র সংগঠনকে শক্তিশালী ও কার্যক্ষম করা। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী যদি ছাত্র সংগঠনের সত্যিকারের অঙ্গ হয় তখনই ছাত্রীদের নিরাপত্তা আসবে।ফালতু নীতিমালার পেছনে সময় নষ্ট না করে ছাত্র ছাত্রীদের সাংগঠনিক দিক শক্ত ও অর্থবহ করার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।
লেখক বলেছেন: নীতিমালা প্রণীত হইলেই সব মুশকিলের আসান হইবো ব্যাপারটা আদৌ তা না...বরং নীতিমালা প্রণয়নের পর দ্বার উন্মুক্ত হইবো আন্দোলনরে সুনির্দিষ্ট গতিপথে ধাবিত করনে। আর এই কারনেই শাসক গোষ্ঠী আর তার তাবেদারেরা নীতিমালা প্রণয়নে গড়িমসি করে...
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
সাথে আছি।
কৌশিক বলেছেন:
নীতিমালার খসড়া কি আছে কোথাও?
সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমা বলেছেন:
শুধুমাত্র নীতিমালা প্রণয়ন কইরা যৌন লাঞ্ছনা ঠেকানো সম্ভব নয়।
বিডি আইডল বলেছেন:
সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমা বলেছেন: শুধুমাত্র নীতিমালা প্রণয়ন কইরা যৌন লাঞ্ছনা ঠেকানো সম্ভব নয়।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
পুরুষের পৌরুষের প্রকাশে যাতে আর কোন নারী লাঞ্ছিত না হয় তার নিশ্চয়তা চাই। ছদ্মপ্রগতিশীলতার মুখোশ উন্মোচন চাই....
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
http://www.sachalayatan.com/suman/9031
এইখানে খসড়া নীতিমালাটা আছে । এইটা অনেক পুরানা । ৯৮ বা ৯৯তে বানানো । নতুন কিছু কারেকশন হয়তো হৈছে ।
লেখক বলেছেন: লিংকের পোস্টে আপনের দেওয়া খসড়া নীতিমালাটারে এই মুহুর্তে সামহোয়্যারে পোস্ট দিলে ভালো লাগতো...এই সময়ে এই খসড়ারও প্রয়োজনিয়তা অনেক...
একজন ব্লগার বলেছেন:
সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমা উরফে শেইকশী আন্টি বলেছেন: শুধুমাত্র নীতিমালা প্রণয়ন কইরা যৌন লাঞ্ছনা ঠেকানো সম্ভব নয়। লেখক বলেছেন: আমার মনে হয় আপনেও একটা যৌন হয়রানিমূলক আচরনই করলেন...
কৌশিক বলেছেন:
হাসিব ধন্যবাদ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
নতুন খসড়া নীতিমালাটা খোঁজ করেছি অনেকের কাছে আমার হাতে আসামাত্র আপডেট দিব। আপনারাও চেষ্টা করতে পারেন।
লেখক বলেছেন: আপডেট দিও...
নুশেরা বলেছেন:
"প্রতিদিন জীবনযাপনের মুহুর্তগুলির ড্যাটাবেইজ ঘাটলেই টের পাই পুরুষ কতোটা পুরুষ হয় মননে।"- এই উপলব্ধির জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ, জামাল ভাস্কর। লেখাটা খুব ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নুশেরা...
বিগব্যাং বলেছেন:
সমর্থন...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















১মত