যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা প্রণয়নের দাবীতে যেই আন্দোলনের সূচনা হইছিলো ১৯৯৮'তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তারই ধারাবাহিকতায় আজকে এই ইস্যূ দেশের সচেতন মহলের প্রাণের দাবী হইয়া উঠছে। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই নীতিমালার সপক্ষে আমি নিজেও আছি সোচ্চার...কিন্তু কেবল এই নীতিমালা প্রণয়ন কইরা কি যৌন লাঞ্ছনা ঠেকানো সম্ভব!? আমি আদৌ তা মনে করি না। এই সমাজ পুঁজির ক্ষমতাকেন্দ্রীক বহিঃপ্রকাশের সমাজ। যার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুরুষতান্ত্রিকতার ঘেরাটোপে বন্দি।
১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আমরা আন্দোলন সংগঠিত করতেছিলাম...যখন দিনমান যৌন নিপীড়কগো বিরুদ্ধে প্রচারনায়রত ছিলাম, তখন একটা উপলব্ধি আমাগো প্রকট ছিলো...এই সমাজের প্রত্যেক পুরুষই পোটেনশিয়াল রেপিস্ট। এই সম্ভাবনার বৃত্তে কে জানে আমি নিজেও হয়তো বন্দি আছি। পুরুষের যৌনতাকেন্দ্রীক ফ্যান্টাসীর রূপ নিয়া আমরা বড় হই এই সমাজে। পুঁজি আর পুরুষ এই দুই ক্ষমতার কাঠামোতেই আমাগো সামাজিক আচরন নির্ধারিত হয় যেনো। নারীমুক্তি'র আপাতঃ দৃপ্তবাক্য বা আপ্তবাক্য রচনা কইরাও আমরা মননের কোন এক অন্তরালে পুইষা রাখি নারী সম্ভোগের মনোবৃত্তি। এই মানসিকতার প্রকাশ হয়তো প্রতিনিয়তঃ প্রকাশিত হয় না, কিন্তু সুযোগ পাইলেই তার বিচ্ছুরণ দেখি বিভিন্ন পরিসরে।
প্রতিদিন খবরের কাগজের আনাজ-কানাচ খুঁজলেই পুরুষতান্ত্রিকতার প্রকট প্রকাশের নজীর আমরা দেখতে পাই...প্রতিদিন জীবনযাপনের মুহুর্তগুলির ড্যাটাবেইজ ঘাটলেই টের পাই পুরুষ কতোটা পুরুষ হয় মননে। ক্ষমতা চর্চার সুযোগ পাইলেই পুরুষ ক্ষমতাচক্রের চাবি-কাঠি নিজের হাতে নিয়া নেয়। এমনকি অবহেলিত নারীর আচরনও নির্ধারণ কইরা দ্যায় পুরুষ...ক্রমশঃ সমাজস্থিত একটা বড় অংশের নারীরাও পুরুষের চোখেই তার পরিপার্শ্ব দেখতে শুরু করে।
খবরের কাগজের বাইরে আরেকটা জগৎ তৈরী হইছে বাঙালী ইন্টারনেট সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এই ব্লগজগতে বিভিন্ন ধরণের পদচারণায় টের পাই এইখানেও কেমনে পুরুষ বিরাজ করে তার আপন মহিমায়। যৌন উদ্দীপক প্রকাশের ফল্গুধারা বয় প্রায়শঃ'ই ব্লগীয় ভাষাকাঠামোয়...এইখানে পুরুষ কামরাঙা ছড়া লিখে...এই খানে পুরুষ নারীর কচিত্ব নির্ধারণ কইরা তারে কামড়ানের অভীপ্সা ব্যক্ত করে। এইখানে নারীর যৌন স্পর্শকাতরতা নিয়া আক্রমণের নীলনকশা তৈরী হয়। পুরুষ সমাজের সকল ক্ষেত্রে যেমন কইরা তার ক্ষমতা প্রকাশের বাহাদুরি দেখায় ব্লগেও তারই ধারাবাহিকতা দেখি।
সমাজস্থিত সুশীলতা বিরোধী প্রবনতার প্রকাশ আমরা ব্লগীয় রাজনীতিতেও দেখি। শুনতে ভালোই লাগে হিপোক্রিসির বিরুদ্ধে দেশের অন্তর্জালিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা কেমন লড়াইয়ে আছে...কিন্তু বাস্তবতার উপলব্ধিতে দেখি এইখানে নারীরে অবমূল্যায়িত করনের উগ্র প্রকাশরে সুশীলতা বিরোধী আচরন বইলা চালানের অপচেষ্টা চলে নিয়তঃ।
যৌন নিপীড়ন কেবল নারী অধিকারেই হস্তক্ষেপ করে না। পুরুষের পৌরুষ প্রকাশের চিত্র আরো বহুদূর যায়। এই চিত্রে আক্রান্ত পুরুষরেও লৈখিক ফরম্যাটে নিপীড়িত হইতে দেখি। লোহার ল্যাঙ্গট পরিধানের বিষয়টা ব্লগীয় প্রেক্ষাপটে একসময় তুমুল জনপ্রিয় বিবেচ্য হইছিলো। পোঙ্গা মারা-মলদ্বার দিয়া কিছু একটা ঢুকানের দম্ভ প্রকাশতো আকছার দেখি পোস্টে পোস্টে। যৌন নিপীড়নরে কেবল নারীরে ধর্ষণ কিম্বা গায়ে হাত দিয়া লাঞ্ছনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখন যায়না...নিত্যকার জীবন যাপনে পুরুষালী ক্ষমতার প্রকাশে যৌনতাকেন্দ্রীক বৈষম্য তৈরীর চেষ্টা বহুত শিক্ষিত আর তথাকথিত প্রগতিশীল মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারী লোকজনের মধ্যেই দেখি।
যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে যেই নীতিমালা প্রণয়নের দাবীতে আজ দেশের সচেতন মানুষেরা ইনভল্ভ্ড...সেই নীতিমালায় সকল যৌন বৈষম্যের অবসান চাই। পুরুষের পৌরুষের প্রকাশে যাতে আর কোন নারী লাঞ্ছিত না হয় তার নিশ্চয়তা চাই। ছদ্মপ্রগতিশীলতার মুখোশ উন্মোচন চাই....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

