মুহাম্মদ জুবায়ের আমার অনুসরণীয় ছিলেন না কোন কালেই...বরং তার লগে মতপার্থক্য ছিলো বরাবর...তার লেখা প্রথম পড়ি কবিসভায় মানভাষা আর উনভাষার বিতর্কে। তিনি প্রায় প্রমিত গদ্যের পক্ষেই তর্ক চালাইতে ছিলেন। তর্ক চালাইতে ছিলেন কইলে ভুল হয়, নিজের মতামত দেওনের পর উনি আর মনে হয় কেবল একটা পোস্ট করছিলেন এই বিষয়ে। তার মতের লগে অনেক বিরোধ থাকলেও তার মানভাষার গদ্য আমার অনেক যুক্তিবচন নির্ভর মনে হইছিলো...
পরে আবার দীর্ঘসময় আমরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রইলাম। মুহাম্মদ জুবায়ের বাংলা সাহিত্যের অনেক বড় কেউ (?) না হওয়াতে আমার অনাগ্রহে অনাদরে দূরের মানুষ হইয়া গেলেন প্রায়। দীর্ঘ বিরতির পর আবার তারে পাইলাম সামহোয়্যার ইন ব্লগের প্রান্তরে। বিষয় বৈচিত্র থাকনে আবার তার লেখনীতে মনোযোগ দিতে বাধ্য হইলাম...যদিও কবিসভায় যেই মুহাম্মদ জুবায়েররে দেখছিলাম, সেই তেজী পুরুষ মুহাম্মদ জুবায়ের হিসাবে তার আর কোন লেখা পড়া হয় নাই আর...একদিন বন্ধু আদিত্য কবীরের বোন অদিতি আইসা আমারে কয় সে নাকি আমার লেখা সামহোয়্যারের ব্লগ থেইকা পাঠ করছে...আমি তারে জিগাইলাম কোত্থেইকা পাইলেন আমার ব্লগ এড্রেস? অদিতি কয় জুবায়ের কাকু নাকি তারে নিয়মিত লিঙ্ক পাঠায় উল্লেখযোগ্য লেখনীর। আমি একটু অবাক বনলাম! মুহাম্মদ জুবায়েরের মতোন প্রমিত ভক্ত বাঙালী আমার লেখা পঠনে তার নিকটজনরে উৎসাহিত করে!
অথচ এই আমি নিজের একরম আত্মম্ভরীতায় জুবায়ের ভাইয়ের লেখা কোন কালেই অনেক মনোযোগ দিয়া পড়ি নাই। তার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস আমার ডেলিবারেট মনে হইতো, তার স্মৃতিময় বচনগুলিতে আমি অনেক ব্যক্তিতান্ত্রিক অনুভূতি খুঁইজা পাই...নিজেরে আসলে ভুল সময়ে জন্ম নেয়া একজন অপরাধী মনে হইলো জুবায়ের ভাইয়ের তুলনায়! অদিতির কাছ থেইকাই আমি প্রথম জানি পঞ্চাশোর্ধ্ব এই তরুণের রোমান্টিক চরিত্রের কথা। যেই বয়সী মানুষের অনেক স্ট্যান্ডার্ড তৈরী কইরা অভিভাবকত্ব কপচানোর কথা, তিনি সেই বয়সেও মুক্ত একটা মনন নিয়াই বাস করেন।
জুবায়ের ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম কথা হয় গুগল টক সার্ভিসে যখন সচলায়তন ব্লগের অনৈতিক আচরন নিয়া আমার ব্লগীয় সংগ্রাম চলতেছে। তিনি আমারে গুগল টকে যুক্ত কইরা জানাইলেন যে আমার সাথে করা সচলায়তন কর্তৃপক্ষের অনৈতিক আচরন তারো অনৈতিকই ঠেকছে। যদিও পরে তিনি আর তার সেই প্রতিবাদী অবস্থানে থাকেন নাই...আমি তার এই অবস্থানরে সমর্থন না করলেও অনুভূতির জোয়ারে বুঝতে পারি একজন প্রবাসীর নিঃসঙ্গতার বোধ আসলে আমার বুঝনের অতীত...
জুবায়ের ভাইয়ের মৃত্যু পরবর্তী বিবিধ আলোচনায় আমি বুঝতে পারি তিনি কেরম স্বপ্নবাজ একজন মানুষ ছিলেন। পাঁচবছর একজন মানুষ দূর্বল ফুসফুস নিয়া বাঁচছেন ধুকতে ধুকতে। মৃত্যু নিকটবর্তী জাইনাও তিনি সেই খবরে জর্জরিত করেন নাই আশেপাশের প্রিয়জনগো জীবন, এই তথ্য আমারে মনে পড়াইয়া দ্যায় আরেক নিঃসঙ্গ শেরপা শহীদ কাদরীর কথা...অন্তরালে থাকতে চাওয়ার তুমুল চেষ্টা আসলে এই সব মানুষরে অনেক বড় কইরা তোলে।
কিছু মানুষ আছে যারা অন্তরালে থাকতেই বেশী পছন্দ করে...সকল সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা কোনরম নেতৃত্বে আগ্রহী হয় না। সামাজিক অনুসঙ্গে এইসব মানুষের গুরুত্ব অনেকসময় অনেক কম হইলেও, সমাজপ্রগতির লড়াইয়ে তারা যে কতোটা প্রয়োজনীয় সেইটা তাগো নিভৃতচার সত্ত্বেও বুঝন যায়...কেবল মৃত্যুসংবাদের প্রয়োজন হয়!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



