দুর্নীতি দূরীকরণের তুমুল শ্লোগান দিয়া, লাঠি-সরকী নিয়া মাঠে নাইমা শহুইরা বিরক্ত(!) মধ্যবিত্তের সমর্থনও লাভ কইরা ফেলছিলো এই সরকার। তৎকালেই বিতর্কের এক পক্ষ হিসাবে আমরা যখন নেতিবাচক সম্ভাবনার কথা কইছি তখন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষচারণ করা বহুত মানুষ আমাগো বাঙালিত্ব নিয়া প্রশ্ন তুইলা পাগল প্রতিপন্ন করনের চেষ্টাও চালাইছে। যাই হোক, দিনে দিনে যুক্তির জয় হইছে...আমাগো আশংকা আর অমূলক থাকে নাই। মুখোশ উন্মোচিত হইছে ছদ্মবেশী বিভীষণের। যদিও তাতে আনন্দের কোন উপলক্ষ্য নাই, বরং আরো শংকিত হই ভবিষ্যতের সংশয়ী বাস্তবতায়।
সম্প্রতি হঠাৎ বিদেশী নীতি-নির্ধারকেরা আমাগো দেশের নির্বাচন নিয়া অনেক বেশী ভিন্নরম বক্তব্য দিতে শুরু করনের পর আমি সংশয়ী চিত্তে আরো শংকিত হই। তারা দেশের নির্বাচনের সুষ্ঠতা নিয়া চিন্তা-ভাবনা শুরু করছে প্রবল। জরুরী অবস্থার শুরুতে থাকা তাগো কোমল চক্ষু এখন রক্তাভ আভায় পূর্ণ। বিদেশী বেনিয়ারা এখন কেনো জানি আবার রাজনৈতিকতায়ই বেশী বিশ্বস্তা খুঁইজা পাইতেছে...নির্বাচন না হইলে বা ঠিকমতোন না হইলে সম্পর্ক ছিন্ন করনের মতোন হুমকীও তারা দিয়া বসছে ইতোমধ্যেই।
ক্ষমতা দখলের পরপরই তত্ত্বাবধায়কের ছদ্মাবরণে থাকা সামরিক শাসকেরা বিদেশী প্রভূগো প্রেসক্রিপশন মোতাবেক অনেক পদক্ষেপ নিতে শুরু করছিলো। কিন্তু জনগণ আর দেশবিরোধী এইসব পদক্ষেপে বিভ্রান্ত হয় নাই দেশের মানুষ...প্রতিবাদের মুখে যার অধিকাংশ'ই আর বাস্তবায়িত হইতে পারে নাই। ধীরে ধীরে রাজনৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে এই শ্বেত চামড়ার প্রভূরা...যেই কারনে একে একে সকল দূর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতারা জামিন পাইতে শুরু করে, কেউ কেউ খালাসও পায়। সবশেষে যখন দুই নেত্রীই খোলা হাওয়ায় নামে, তখন দেখা যায় মার্কিনী প্রতিনিধিরা তাগো লগে মিটিঙে বসনের লেইগা উন্মাদ। এক একটা বৈঠক হয়, ত.স.'রা একটা একটা কইরা দাবী মানে বা নরম হয়।
নির্বাচনে সুষ্ঠতা নির্ধারণের একটা প্রধান মাত্রা হইলো সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করন। আওয়ামি লীগ আর জাতীয় পার্টি এক পায়ে খাড়া নিবন্ধনে...তারা ফর্ম ফিলআপ শুরু কইরা দিছে। কিন্তু একটু রাজনৈতিক বিপাকে থাকা চার দল নিবন্ধনের বিষয়ে একটা ধোয়াটে অবস্থান নিয়া বইসা আছে। এই সরকার ক্ষমতায় আইসা মূলতঃ শেষ সরকারের দূর্নীতি নিয়াই বেশি প্রচারে গেছে...চার দলের সকল দুর্নীতিরে উন্মোচিতকরনের পাশাপাশি বিএনপি'র নেতা, খালেদা জিয়া বড় পোলা তারেক জিয়ারে টার্গেট কইরাই তাগো বিজ্ঞাপন হইছে বেশি। যার ফলে বিএনপি'র গ্রহণযোগ্যতাতে ধ্বস নামছে বেশি...এই ধ্বসরে আবার stable করতে তাগো যেই নির্বাচনী প্রচারে যাইতে হইবো এখন সেইটার লেইগা প্রয়োজন সময়...আর দরকার হুমকী ধামকী ছাড়া একটা নির্বাচনী পরিবেশ। জরুরী অবস্থা বহাল রাইখা যেই প্রচারণা কখনোই সম্ভব না।
এই অবস্থায় বিএনপি আর তার চারদলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের একটা সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা ঝুলাইয়া রাইখা দিছে...কেবল এই চারদল'ই না আশংকায় থাকা সকল ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলই ধূয়া তুলছে নিবন্ধন না করনের পক্ষে। নির্বাচন সুষ্ঠ (?) না হওনের এই বাস্তবতার আশংকায় পৌনে দুই বছর আগের কঠোর(!?) সরকার এখন নরম হইতাছে পদে পদে। যার নজীর তারা দুই দিন আগে ওয়ারেন্ট প্রাপ্ত আসামী'র লগে রাজনৈতিক বৈঠক কইরা আমাগো সামনে রাখছে।
আর তারই ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দরের সম্মুখ থেইকা ভাষ্কর্য্য সরাইয়া ফেলনের সিদ্ধান্ত নিলো গতোকাল। এই ভাষ্কর্য্য যেহেতু সরকারী আদেশেই নির্মিত হইতেছিলো তাই তার জন্য টাকা যাইবো...এই ভাষ্কর্য্য ঐখানে নির্মিত হওনের লেইগা আশেপাশে যেই যানজট লাগতেছিলো সেইসব চলবো আরো বহুদিন...কিচ্ছু আসে যায় না! মুখাপেক্ষী ঘরানার এই রাজনৈতিক আচরন যতোদিন আছে এই দেশের রাজনৈতিকতায়, ততোদিন চলবো এইসব...এই সংস্কৃতি যদ্দিন আশকারা পাইবো এই দেশে তদ্দিন চলবো এই নতজানু হওনের রাজনীতি...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



