বেসিক ইন্সটিঙ্কট বইলা একটা বিষয় নিয়া একটা বিতর্ক আছে...একদল কয় ঈর্ষা-লোভ-প্রতিহিংসা এইসব নাকি মানুষের সহজাত, আরেকদল কয় এইসব সমাজের বিরাজমান বৈষম্য থেইকা উদ্ভুত স্বভাব। আমি এই বিতর্কে উৎসাহী অংশগ্রহণকারী চিরকাল...আর অবস্থান নেই দ্বিতীয় দলের পক্ষে। মানুষের ব্যক্তিগত আক্রোশের রূপ হিসাবে ঐসব নেতিবাচক প্রকাশগুলি ঘটে বইলাই মনে করি আর ব্যক্তিগত আক্রোশের পিছনে কাজ করে ক্ষমতার বলয়ে অবস্থানের নিয়মিত চর্চা।
ক্ষমতার যেই নিজস্ব চরিত্র তৈরী হয়, তারে আমি শ্বাশতঃ বইলা না মানলেও সংগ্রামহীনতায় তার যেই প্রকাশ, সেইটারে অবশ্যম্ভাবী বইলা স্বীকার করি। এর প্রমান দেখি জীবনচর্চার হাটে-মাঠে-ঘাটে...জীবনচর্চার মধ্যে আজকাল ব্লগে কাটাইন্যা সময়গুলিও উল্লেখযোগ্য। আর তাই ব্লগ চর্চায় যেই ক্ষমতার প্রকাশ হয়, সেইসবেও আমার আগ্রহ তৈরী হয়। উপভোগ করি ক্ষমতা চর্চার ইতিবৃত্ত।
বাংলা কমিউনিটি ব্লগে কাটাইতেছি প্রায় তিন বচ্ছর...সামহোয়্যার ইন, সচলায়তন হইয়া আবার সামহোয়্যার ইন, আমার ব্লগের জীবন...ক্ষমতার লগে নিয়মিত সংঘর্ষে যাই...ক্ষমতার লগে বাদানুবাদ করি...তার মধ্যেই চলে লেখালেখি...কতোরকমের ঘটনার ধারাবাহিকতায় এই ব্লগজীবন গেলো সেইটা ভাবলে বেশ রোমাঞ্চই বোধ করি...
পুরানা স্মৃতির কথা কইলে এখনকার অনেকেই মিলাইতে পারবেন না বিধায় সম্প্রতি ঘইটা যাওয়া ব্লগীয় চর্চার দুইটা ঘটনার উদাহরনেই যা কইলাম তার প্রমান দেওন যায়। কয় দিন আগে বাবুয়া নামের একজন ব্লগার ব্যান খাইলেন...তার যেই মন্তব্যের কারনে এই ব্যানাব্যানি সেইখান পইড়া আমার মনে পড়ছিলো পুরুষের ক্ষমতা চর্চার সেই পুরানা কাসুন্দির কথা...তারে নাকি কে কে রাজাকার কইছিলো, যার ফলশ্রুতিতে সে একজন নারীর দর্শনযোগ্যতা নিয়া প্রশ্ন তুলছে সেই কমেন্টে। এই প্রকাশে আমি ক্ষমতা চর্চার দিনগুলিরেই দেখি...তার পক্ষের লোকজনের বক্তব্য শুনলে মনে হয় ঐ নারী যদি রূপবতী আর শ্লীল চরিত্রের হইতো, যারে পুরুষেরা আদর্শ নারীর চরিত্র মনে করে, তাইলে তার পক্ষে বাবুয়ারে রাজাকার কওয়া জায়েজ ছিলো। বাবুয়ার মন্তব্য আমারে উত্তেজিত করে...উত্তাপে অনেক প্রতিক্রিয়া দেখানের পথে দেখি...সে ব্যান খাইছে...
তারপর দিন যায়...ব্লগারগো মধ্যে তার সমর্থকেরা আশাহত হইয়া নিস্পৃহ হয়...আবারো যে কে সেই...ক্ষমতার চর্চার অন্য চেষ্টা চলে কারো কারো ব্লগ লিখনীতে...কেউ কেউ বিবাদের মধ্য দিয়া সুযোগ খুঁজে। কিন্তু বিবাদের কোন বুদ্ধিজাত বিচ্ছুরন দেখি না! ব্লগারগো আর লেখকগো নিয়া গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়...ব্লগিং এক্টিভিজমে লক্ষাধিক স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়...আন্দোলনের জোরালো ভিত্তিমূল তৈরী হয়...এমনই একসময়ে আইজকা বিকালে হঠাৎ খবর পাই, আরেকজন সহব্লগারের কপালে বাবুয়ার পরিনতি নাইমা আসছে। হাসিব ব্যান!
হাসিবরে যদ্দূর চিনি, সে সামহোয়্যার ইন ব্লগে অন্ততঃ সবসময় বিকল্প চিন্তার পক্ষের লোক। মাঝে মাঝে তার মন্তব্যরাজীতেও হয়তো বিরক্ত হওনের মতোন উপাদান থাকে...কিন্তু একটা বিষয়রে অল্টারনেটিভ দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখনের চেষ্টায় তার জুড়ি মেলা ভার...
হাসিব ব্যান! আমি তব্ধা খাই! তার ব্লগের ইউআরএল'ই নাকি ব্লগ কর্তৃপক্ষ বন্ধ কইরা দিছে...আমি আড়মোড়া ভাঙি! বুঝতে চেষ্টা করি ব্লগ করনের ক্ষমতা কাইড়া নেওনের মতোন কি করতে পারে হাসিব! এই দিক ঐদিক হাতড়াইয়া যেই সংবাদ পাই, তাতে মনে হয় হাসিবের বিরুদ্ধে ব্লগ কর্তৃপক্ষের অভিযোগমালা বিশাল...কিন্তু অভিযোগ আসলে কখন অভিযোগ হইয়া উঠে!? আমি যেরম বুঝি তাতে অভিযোগের বিবেচনায় সামাজিক শ্রেণী অবস্থান একটা বিরাট ভূমিকা রাখে। ক্ষমতার লগে বিবাদ করনটা ক্ষমতার চর্চাকারী শক্তি কোনদিনই খুব ভালো দৃষ্টিতে দেখে না। আর তাই ক্ষমতার বলয়ে থাকা মানুষের অনেক অভিযোগ'ই দূরে থাকা মানুষের কাছে অনুযোগ হিসাবে ধরা খায়।
আমার কাছে হাসিবের ব্যান খাওয়া বিষয়টা ব্লগ কর্তৃপক্ষের প্রতিহিংসা আর ব্যক্তিগত আক্রোশ ছাড়া আর কোনকিছুই মনে হয় না। একই অপরাধে বহুজনরেই দেখছি কতো নির্বিঘ্নে ব্লগায়...কিন্তু যেহেতু যারে দেখতে নারি তার চরন বাঁকা...তাই হাসিব কোপানলে পড়ে...সাম্প্রতিক সময়ে হাসিবরে ব্যান করনের মতোন কোন কারন আমার চোখে পড়ে নাই। যদি তারে পুরানকালের কোন আচরনের লেইগা ব্যান করা হয় তাইলে এই ব্লগের বহুত ব্লগারই আর ব্লগ করনের অধিকার রাখতো না। কৌশিক কিম্বা রাসেল কিম্বা আরো অনেক ব্লগারই এখনো টিকা আছে তাগো গালিপ্রিয়তা নিয়াই...হাসিবের আগে করা কারনে যদি এখন ব্লক বা ব্যান করনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হইয়া থাকে, তাইলে সেইটারে ব্যক্তিগত আক্রোশ ছাড়া আর কোনকিছু ভাবতে আমার ইচ্ছা করে না।
ব্যক্তিগত আক্রোশ আসলেই সামাজিক চর্চার ফসল...সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষরে আমার সেইরমই মনে হয়! তারা ক্ষমতার চর্চা করতেছেন...যখন ইচ্ছা যেমন ইচ্ছা টাইপ আচরন কইরা তাগো ক্ষমতার প্রকাশ দেখাইতেছেন...তারা সমাজের যেই শ্রেণী থেইকা আসেন সেইখানে কম ক্ষমতার মানুষরে চ্যুৎমারানি গালি দিয়া নিজের সন্তানেরে শুদ্ধাচারী বানানের বাসনা থাকে। যারা গালি দেয় না, তারা লাত্থি মারে....তারা ব্যান করে...ক্ষমতার এই নিজস্ব ফ্যাসিবাদের চর্চায় তারা দিনাতিপাত করে।
সব কিছুরে যারা ব্যক্তিগত নিতে আরাম পায়...তারা আসলে কম বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ...আর কম বুদ্ধি সম্পন্নরা নাই বুদ্ধির চাইতে ভয়ঙ্কর...এরা বোকামী করে আর সেই বোকামীরে জায়েজ করতে চায় ঠ্যাটামি কইরা...সামহোয়্যার ইনের কর্তৃপক্ষের অবস্থান আমার প্রায়শঃই এইরম লাগে...তারা ঠ্যাটামি করে...আর তাগো ঠ্যাটামির নির্বুদ্ধিতার শিকার হয় হাসিবরা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


