somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বিদ্রোহ পরবর্তী বিশ্লেষন শ্রেণী সংঘাতই কি বিডিআর বিদ্রোহের মূল কারন?

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেড় দিন গেলো জওয়ানগো...তারপর গুজব রটলো ডিজির স্ত্রী-কন্যা ধর্ষিত, খুন হইছে ১৬৮ জন...গুজব রটলো সারাদেশে বিডিআর শোডাউন কইরা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতাছে। এরপর অফিসাররা শুরু করলো তাগো কথা, মেজর শাকিল ভালো মানুষ...সে আসলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা কইয়া সমাধানের চিন্তাই করতাছিলেন...খুন হওনের টাইমে অফিসাররা নিরস্ত্র ছিলো...আর্মি অফিসাররাও মানুষ...তারা দেশের সেবারেই ব্রত হিসাবে নিছে নিঃস্বার্থ...আর আমরা যারা শ্রেণীগত ঐক্য বোধ করি অফিসারগো লগে তারা এইখানে খুঁইজা পাইতে লাগলাম ইন্ধন আর উস্কানীর সম্ভাবনা।

জওয়ানরা যখন তাগো দাবীর কথা কইতেছিলো তখন বঞ্চিত সাধারন মানুষ-সেনাশাসনের-সেনা নির্যাতনের খবর জানা মানষেরা তাগো পক্ষে মতপ্রকাশ করতে শুরু করে। তখন অফিসার হত্যার খবর আকাশে-বাতাসে। তবুও সাধারন মানুষের অবস্থান ছিলো বিডিআর বাহিনীর দাবী-দাওয়া বাস্তবায়নের পক্ষে...এমনকি শহরের এইদিকে ঐদিকে বিডিআর সদস্যগো নিরাপত্তার দাবীতে মিছিলো হইছে...এইসব মিছিলের শ্লগান ছিলো যুদ্ধ নয় শান্তি চাই...অবরুদ্ধ বিডিআর বাহিনীর পক্ষে এর বেশী কি আর কইবো জনগণ?

তয় মধ্যবিত্তের শ্রেণীমূলক ভ্রাতৃত্ব আবারো পরিস্থিতির লক্ষ্য পাল্টাইয়া দ্যায়...সেনাবাহিনী নিজে কোন সংখ্যা বা উপস্থিত অফিসারগো তালিকা দিতে না পারলেও গুজবে সংখ্যাটা ১৬৮জনে ছড়াইয়া যায়। গুজবে ছড়ায় ধর্ষণের খবর...আর আমরা টিভিতে দেখি অফিসারগো স্ত্রীরা বাইর হইয়া যাওনের সময় কইতেছেন কেউ তাগো লগে খারাপ ব্যবহার করে নাই...এই অভিজ্ঞতা বাঙালির নতুন না, আমার নিজেরো ৯০'এর ছাত্র-গণঅভ্যূত্থানের সময় বিশেষ ইন্টেলিজেন্স বাহিনীর ভূমিকার কথা মনে পইড়া যায়...আন্দোলনে স্যাবোটাজ করনের কৌশলটা এখন প্রায় নিয়মেই দাঁড়াইয়া গ্যাছে...

বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা কইতেছিলো বিডিআর মহাপরিচালক দুর্নীতিবাজ...সে দুর্ব্যবহার করতো বিডিআর সদস্যগো লগে...তার খুন জখমের বা গুলি করনের রেকর্ডটাও বিদিত...আর তার উল্টা দিকে মুক্ত হওয়া দুই-একজন সেনা অফিসার কইলো মহাপরিচালক সজ্জন, তার ব্যবহার ভালো আর গুলিটা করছে একজন বিডিআর সদস্য। আমরা কার কথা শুনুম!? পরিস্থিতির একটা বিচার বিভাগীয় তদন্তই হইতে হইবো বইলা আমি মনে করি। নিরাপত্তাহীনসতা যদি বহু অফিসার খুন করনের কারন হয়, তাইলে যেই বিচার...উদ্দেশ্যমূলকভাবে খুন করলে নিশ্চিত সেই বিচার আমরা আশা করি না।

তয় এইবার মধ্যবিত্ত শহুইরা মহলের একটা বিষয় দেখলাম, যেইটা আমার কাছে সিগনিফিকেন্ট লাগে...হঠাৎ কইরা তারা সেনাসদস্যগো খুনের বিষয়টায় মানবিকতা দেখা শুরু করলো...সংখ্যাটা যখন অননুমেয় ছিলো ঐ টাইমে তারা ছিলো চুপ...কিন্তু আওতাটা যখন বাড়তে শুরু করলো তাগো অবস্থান মিলিটারীগো পক্ষে যাওয়ার পথটাও সুগম হইলো। কথাগুলি পর্যবেক্ষণ করনের পর আমি যা পাই তা হইলো এইখানে সংখ্যাকেন্দ্রীক অমানবিকতার একটা যুক্তি মধ্যবিত্ত করতে শুরু করছে ঘটনার দ্বিতীয়দিন থেইকা। মধ্যবিত্তের এই যুক্তি আমার কাছে অবোধ্য ঠেকে...খুন করা জায়েজ হইতো যদি কেবল অন্যায়কারী খুন হইতো...কিন্তু এইটা আমরা সকলেই বুঝতে পারি অস্ত্রের অভ্যূত্থান বা বিদ্রোহে কখনো নিয়ম মাইনা খুন করা সম্ভব না, অফিসারগো যদি বিডিআর সদস্যরা খুন করে স্বাভাবিক ভাবেই তার পাল্টা জবাবটা প্রত্যাশিত...আর এই পাল্টাপাল্টিতে হতাহতের সংখ্যাটা বাড়বো গাণিতিক হারে...

মিলিটারীর ভেতরেও শ্রেণী বৈষম্যের প্রকোপটা যে এই বিদ্রোহের মধ্য দিয়া উস্কানী পাইবো সেইটাও আমি বুঝতে পারি...আর তার লেইগা যে আর্মি অফিসাররা শংকিত হইতে শুরু করবো সেইটাও অনুমেয়...আর সেই ধরনের বিদ্রোহের আশঙ্কায় সেনাবাহিনী যে এখন আতঙ্কে দিন কাটাইবো সেইটাও বইলা দেওয়া যায়...প্রাচীন যূগের লাঠিয়াল বাহিনী থেইকা আজকের যূগের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর মধ্যে ইন্টিগ্রিটি টিকাইয়া রাখনের অজুহাতে যেই বৈষম্যমূলক আচরন টিকাইয়া রাখা হয় পুঁজিবাদের আদর্শহীনতার দীনতা ঢাকতে...সেইটার পক্ষে যেকোন ধরণের বিদ্রোহের কথা শুনতে আমার ভালো লাগে...

আর খারাপ লাগে ইন্টেলিজেন্সের অপপ্রচার, আর সেই অপপ্রচার যখন মধ্যবিত্তের শ্রেণী ভ্রাতৃত্বের প্রকাশে ব্যবহৃত হয় তখন আরো ভীত হই...এই ভয় দূর করতে যা প্রয়োজন তার থেইকা আরো দূরে যাইতেছি আমরা, আমরা মানে সমাজের privileged অংশ মধ্যবিত্তরা...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫৩
২৪টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×