দেড় দিন গেলো জওয়ানগো...তারপর গুজব রটলো ডিজির স্ত্রী-কন্যা ধর্ষিত, খুন হইছে ১৬৮ জন...গুজব রটলো সারাদেশে বিডিআর শোডাউন কইরা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতাছে। এরপর অফিসাররা শুরু করলো তাগো কথা, মেজর শাকিল ভালো মানুষ...সে আসলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা কইয়া সমাধানের চিন্তাই করতাছিলেন...খুন হওনের টাইমে অফিসাররা নিরস্ত্র ছিলো...আর্মি অফিসাররাও মানুষ...তারা দেশের সেবারেই ব্রত হিসাবে নিছে নিঃস্বার্থ...আর আমরা যারা শ্রেণীগত ঐক্য বোধ করি অফিসারগো লগে তারা এইখানে খুঁইজা পাইতে লাগলাম ইন্ধন আর উস্কানীর সম্ভাবনা।
জওয়ানরা যখন তাগো দাবীর কথা কইতেছিলো তখন বঞ্চিত সাধারন মানুষ-সেনাশাসনের-সেনা নির্যাতনের খবর জানা মানষেরা তাগো পক্ষে মতপ্রকাশ করতে শুরু করে। তখন অফিসার হত্যার খবর আকাশে-বাতাসে। তবুও সাধারন মানুষের অবস্থান ছিলো বিডিআর বাহিনীর দাবী-দাওয়া বাস্তবায়নের পক্ষে...এমনকি শহরের এইদিকে ঐদিকে বিডিআর সদস্যগো নিরাপত্তার দাবীতে মিছিলো হইছে...এইসব মিছিলের শ্লগান ছিলো যুদ্ধ নয় শান্তি চাই...অবরুদ্ধ বিডিআর বাহিনীর পক্ষে এর বেশী কি আর কইবো জনগণ?
তয় মধ্যবিত্তের শ্রেণীমূলক ভ্রাতৃত্ব আবারো পরিস্থিতির লক্ষ্য পাল্টাইয়া দ্যায়...সেনাবাহিনী নিজে কোন সংখ্যা বা উপস্থিত অফিসারগো তালিকা দিতে না পারলেও গুজবে সংখ্যাটা ১৬৮জনে ছড়াইয়া যায়। গুজবে ছড়ায় ধর্ষণের খবর...আর আমরা টিভিতে দেখি অফিসারগো স্ত্রীরা বাইর হইয়া যাওনের সময় কইতেছেন কেউ তাগো লগে খারাপ ব্যবহার করে নাই...এই অভিজ্ঞতা বাঙালির নতুন না, আমার নিজেরো ৯০'এর ছাত্র-গণঅভ্যূত্থানের সময় বিশেষ ইন্টেলিজেন্স বাহিনীর ভূমিকার কথা মনে পইড়া যায়...আন্দোলনে স্যাবোটাজ করনের কৌশলটা এখন প্রায় নিয়মেই দাঁড়াইয়া গ্যাছে...
বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা কইতেছিলো বিডিআর মহাপরিচালক দুর্নীতিবাজ...সে দুর্ব্যবহার করতো বিডিআর সদস্যগো লগে...তার খুন জখমের বা গুলি করনের রেকর্ডটাও বিদিত...আর তার উল্টা দিকে মুক্ত হওয়া দুই-একজন সেনা অফিসার কইলো মহাপরিচালক সজ্জন, তার ব্যবহার ভালো আর গুলিটা করছে একজন বিডিআর সদস্য। আমরা কার কথা শুনুম!? পরিস্থিতির একটা বিচার বিভাগীয় তদন্তই হইতে হইবো বইলা আমি মনে করি। নিরাপত্তাহীনসতা যদি বহু অফিসার খুন করনের কারন হয়, তাইলে যেই বিচার...উদ্দেশ্যমূলকভাবে খুন করলে নিশ্চিত সেই বিচার আমরা আশা করি না।
তয় এইবার মধ্যবিত্ত শহুইরা মহলের একটা বিষয় দেখলাম, যেইটা আমার কাছে সিগনিফিকেন্ট লাগে...হঠাৎ কইরা তারা সেনাসদস্যগো খুনের বিষয়টায় মানবিকতা দেখা শুরু করলো...সংখ্যাটা যখন অননুমেয় ছিলো ঐ টাইমে তারা ছিলো চুপ...কিন্তু আওতাটা যখন বাড়তে শুরু করলো তাগো অবস্থান মিলিটারীগো পক্ষে যাওয়ার পথটাও সুগম হইলো। কথাগুলি পর্যবেক্ষণ করনের পর আমি যা পাই তা হইলো এইখানে সংখ্যাকেন্দ্রীক অমানবিকতার একটা যুক্তি মধ্যবিত্ত করতে শুরু করছে ঘটনার দ্বিতীয়দিন থেইকা। মধ্যবিত্তের এই যুক্তি আমার কাছে অবোধ্য ঠেকে...খুন করা জায়েজ হইতো যদি কেবল অন্যায়কারী খুন হইতো...কিন্তু এইটা আমরা সকলেই বুঝতে পারি অস্ত্রের অভ্যূত্থান বা বিদ্রোহে কখনো নিয়ম মাইনা খুন করা সম্ভব না, অফিসারগো যদি বিডিআর সদস্যরা খুন করে স্বাভাবিক ভাবেই তার পাল্টা জবাবটা প্রত্যাশিত...আর এই পাল্টাপাল্টিতে হতাহতের সংখ্যাটা বাড়বো গাণিতিক হারে...
মিলিটারীর ভেতরেও শ্রেণী বৈষম্যের প্রকোপটা যে এই বিদ্রোহের মধ্য দিয়া উস্কানী পাইবো সেইটাও আমি বুঝতে পারি...আর তার লেইগা যে আর্মি অফিসাররা শংকিত হইতে শুরু করবো সেইটাও অনুমেয়...আর সেই ধরনের বিদ্রোহের আশঙ্কায় সেনাবাহিনী যে এখন আতঙ্কে দিন কাটাইবো সেইটাও বইলা দেওয়া যায়...প্রাচীন যূগের লাঠিয়াল বাহিনী থেইকা আজকের যূগের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর মধ্যে ইন্টিগ্রিটি টিকাইয়া রাখনের অজুহাতে যেই বৈষম্যমূলক আচরন টিকাইয়া রাখা হয় পুঁজিবাদের আদর্শহীনতার দীনতা ঢাকতে...সেইটার পক্ষে যেকোন ধরণের বিদ্রোহের কথা শুনতে আমার ভালো লাগে...
আর খারাপ লাগে ইন্টেলিজেন্সের অপপ্রচার, আর সেই অপপ্রচার যখন মধ্যবিত্তের শ্রেণী ভ্রাতৃত্বের প্রকাশে ব্যবহৃত হয় তখন আরো ভীত হই...এই ভয় দূর করতে যা প্রয়োজন তার থেইকা আরো দূরে যাইতেছি আমরা, আমরা মানে সমাজের privileged অংশ মধ্যবিত্তরা...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


