শ্রেণী বৈষম্য, শ্রেণী সংঘাত আর শ্রেণী সংগ্রাম এই তিন ফেনোমেনা যে এক না সেইটা বুঝনের তাগদ আমার আছে। বিডিআর বিদ্রোহরে তাই আমি শ্রেণী বৈষম্যের বাড়াবাড়িতে শ্রেণী সংঘাত হিসাবেই দেখি। ২৫ তারিখ যখন গোলাগুলি শুরু হয় তখন আমি ছিলাম লালবাগ কেল্লার ভিতরে...এক্কেরেই পেশাগত কাজে সারা রাত্তির জাইগা নির্ঘুম চোখে ভোরের বাতাসে ঘুম তাড়াইতেছিলাম...সেরম একটা সময়ে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা আমার পেশাগত কাজটারে হুমকীর মুখে ফালাইলেও শ্রেণী বৈষম্যজনিত শ্রেণী সংঘাতের আওয়াজটারে শুনতে পাইতেছিলাম...আর তাই এই বিদ্রোহের কোন সম্ভাবনা না দেখতে পাইলেও শ্রদ্ধাবনত ছিলাম বিডিআর বিদ্রোহীদের প্রতি।
সারাদিন আমি বা আমার চাইর পাশে থাকা শ'খানেক মানুষের লগে কথা কইছি...মত বিনিময় করছি। একমুহুর্তের লেইগাও মিডিয়ার কোন প্রচারে অংশ নিতে পারি নাই...উড়া উড়া ভাসা ভাসা বিভিন্ন পরিচিতজনগো লগে মত বিনিময় আর কদ্দূর যাইতে পারে সেইসব নিয়া মত বিনিময়...
এই বৈষম্যটারে আমি বুঝি আমার আত্মীয় স্বজনগো মধ্যে কিছু আর্মি অফিসার আর একই সাথে এক-দুইজন সিপাহী থাকনের মাজেজায়। আমার মনে পইড়া যায় বন্ধু প্রশান্ত মৃধার কথা...বিশ্বিদ্যালয় জীবনে এক্কেরেই শখে ভয়ের সন্ত্রাস নিয়া কাজ করতে গিয়া তার লগে কথা কইতে গেলে তার মুখে শোনা একটা অনুভূতির কথা আমার কর্ণপটহে ভাসে...প্রশান্ত কইছিলো, তোরে তো আর কোনদিন মালু ডাক শুনতে শুনতে বড় হইতে হয় নাই, তাই তুই বুঝবি না এই দেশের এক একজন হিন্দু ক্যান এই দেশে সংখ্যালঘু মানসিকতায় ভুগে!...আমি স্তব্ধ হইয়া গেছিলাম...তব্ধা খাওয়া চোখে জল ছল ছল ছাড়া আর কোন ভাষা ব্যবহার করতে পারি নাই আমি সেই বেলা। আমি এইবারো হয়তো বুঝতে পারুম না একজন সিপাহী'র কেমন লাগে জওয়ান শব্দটা শুনতে...কেমন লাগে কারনে অকারনে সেনা অফিসারের পাঙ্গা খাইতে...লাঠিয়াল বাহিনী'র চরিত্র তো এইরমই হওয়ার কথা, বইলা হয়তো আমি এড়াইয়া যাই এখনো...কিন্তু অস্ত্র হাতে পাওয়া মানুষটার ক্ষোভের ধরণ বুঝতে পারাটা আমার সাধ্যাতীত...
বিডিআর বাহিনীর লোকজনেরা ধরা পড়তেছে লুটের সোনা গয়নাসহ...তারা চোর প্রতিপন্ন হইতেছে আমাগোর চোখে...কিন্তু তারা যখন কয় অপারেশন ডাল-ভাতের টাকা তারা পায় নাই...নির্বাচন কিম্বা ইজতেমায় দেওয়া খাটুনির মজুরী এখনো আমলেই আনে নাই কর্তৃপক্ষ...কিন্তু তারা গাড়ি হাকায় মিশনের কিম্বা চোরাচালানীর পয়সায়...কর্তৃপক্ষীয় আচরনে আবার সেইসবরে জায়েজ করে প্রতিনিয়তঃ, সেরম একসময় তারা যদি ঐ সোনা-গয়নায় তাগোও হক আছে বইলা দাবী করে, তাতে আমি হয়তো বুঝতে পারুম না তাগো জ্বালাটা...তবুওতো তারা চোর!
বিডিআর বাহিনী আমাগো সুর্যসন্তানেগো নাকি মাইরা সাফা কইরা ফেলছে...এইরম কইরা আমরা কওনের ইচ্ছা পোষণ করি। সুর্যসন্তানেরা যে কতোটা সূর্যের তা নির্ণয়ের জ্ঞান আমার নাই...কিন্তু আমার আবারো মনে পইড়া যায় যে ৭১'এর আগে পরে কতো সূর্যসন্তানেরা রাইতের আন্ধারে প্রাণ দিছে নিজেগো বাহিনীর সহযোদ্ধাগো হাতেই...এই তথ্য আমরা আবার স্বল্পকালীন স্মৃতিভ্রষ্ট হই, তাই বলতে চাই এই গণহত্যার লগে কোন কিছু তুলনা চলে না।
আমরা তবুও বিশ্বাস করি মেজর আলমগীর আর লেঃ কর্নেল কামরুজ্জামানের বক্তব্য দুইরমের হইলেও তারা ঠিক কথাই কন...কারন বিডিআর অনেক বেশী খুন কইরা ফালাইছে, লুটতরাজ করছে...একজন মিথ্যা কথা কইলেও আমাগো কাছে পথভ্রষ্ট বঞ্চিতের লুটপাট আমাগো মধ্যবিত্ত চোখে বড় অপরাধ...গণহত্যা কখনোই সমর্থনযোগ্য না, কিন্তু গণহত্যার বিরোধীতা করতে গিয়া বিদ্যমান বৈষম্যরে জায়েজ করনের যেই প্রচেষ্টা দেখি অনেকের কথায় সেইটারে নিয়া ভয়ে থাকি। হঠকারী হইলেও আমি এখনো বিশ্বাস করি এই আন্দোলনে কোন কেন্দ্র বিন্দু থাকলে...চেয়ার টেবিলে বইসা দরদামের অভিজ্ঞতা আছে এইরম কেউ থাকলে একই বিদ্রোহ অন্য রূপে ধরা দিতে পারতো।
আমি নিজেরে একজন অস্ত্রধারী বিদ্রোহী হিসাবে ভাবতে চেষ্টা করি...অস্ত্র হাতে থাকলে নিজেরে তো ঈশ্বরও ভাবতে পারা যায়! আমি নিজেরে এমন একটা সিচ্যুয়েশানে ভাবতে চেষ্টা করি যেইখানে পাল্টা গুলি চলনের সম্ভাবনা থাকে...লক্ষ্যবস্তু তখন অসংখ্য হয় অনিশ্চয়তা বাড়ে...আমি আমার ক্ষোভে সুযোগসন্ধানি উস্কানিদাতার উপস্থিতি ভাবতে গেলে দেখি সেইরম সুযোগসন্ধানি গ্রুপ অনেক!
এই দেশে তবু মিডিয়া দোলে...কথাটা খুব আক্ষেপের কইলাম...কিন্তু এইরমই তো হওনের কথা...মিডিয়ার ব্যবসা আর টিকা থাকনের প্রেসার দুইয়ের দৌলতে তারা তো দুলবারই কথা! বিডিআরের সৌর্য্য তো পরাজিত হওনের পর বাজার হারাইছে পুরাটাই...অতএব অফিসারগো বা মৃত স্বজনগো আহাজারী বেচো এইবার...মেজর মুজিব ছিলো ডাল-ভাত কর্মসূচীর যেই প্রতারণা তার রূপকার...বিডিআরগো ক্ষোভ গিয়া যদি তার উপরে পড়ে তাইলে কি তারে খুব বালখিল্য বলা যায়!? তার বাড়ি মর্টার শেলে গুড়াইয়া দিলে সমবেদনা তৈরি হইলেও ক্ষোভের মধ্যে যৌক্তিকতাটা ও কি দেখুম না আমরা?
টানা তিনদিন একটা বিষয়েই আবদ্ধ হইয়া আছি...এর থেইকা বাইর হইতে পারতেছি না...আসলে বিদ্রোহের সম্ভাবনাটাতেই অনেক ভালো লাগা তৈরী হয়...মুক্তির অন্য কোন পথ আমার তো জানা নাই...কারো কি আছে?
ফুলবাড়ি-কানসাট-বিডিআর ব্যারাক সব আমার কাছে একরমই লাগে...বৈষম্য আর বঞ্চনার জবাবে মানুষের ক্ষোভের বিচ্ছুরন...কেবল প্রকাশের সহিংসতাটা ছাড়া...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


