অমিত আহমেদের গল্পের বইয়ের দ্বিতীয় গল্প পাঠের পর আমার একটা অবজার্ভেশন তৈরী হয় লেখক সম্বন্ধে...তিনি গল্পের রহস্যময়তা ভালোবাসেন। বা এইটারেই যদি একটু অন্যরম কইরা কই সেইটা হইলো তিনি রহস্যের গল্পরে ভালোবাসেন...প্রত্নতথ্য নামের এই গল্প পড়নের অভিজ্ঞতায় আমি নিজের রুচীবোধের লগে মিলাই...এই গল্পের গল্পটারে খুঁজি..গল্পের কয়েকজন, রেজা-মেজবাহ-মহীতোষ-ডঃ হিরকক কিম্বা শেফালির বাপ সকলের চারিত্রিক উপস্থিতির মধ্য দিয়া আসলেই কি রহস্যটারে গল্প করতে চাইছেন অমিত?
এই গল্পের মেলোড্রামা আমার নজর কাড়ে...মেলোড্রামা অব্যবহিত ভাবেই রহস্যগল্পের একটা উপাদান...এই গল্পের পরিনতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে...এই পরিনতি একটা প্যারা নরমাল এনভায়নমেন্টের দিকে ইঙ্গিত করে...যেই পরিনতি রহস্য গল্পের বেসিক চরিত্র। কিন্তু তারপরও ক্যানো জানি আমার বুকে খচখচ করে...অমিত আহমেদের গল্পটা কি আসলে অন্য কিছুর? গল্পটা হইলো এরম...রেজা কানাডায় আইছে বহুদিন, তার একটা ব্যবসায়ি আর টাকা পয়সা সংক্রান্ত অতীত আছে বইলা জানা যায়...মেজবাহ একজন মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ দেওয়া ছাত্র, যে এনিমেশনে পটু...মহীতোষ একজন পশ্চিমবঙ্গীয় মিউজিক কম্পোজার। তিনজন মিলা কানাডার এক শ্রেণীর বিজ্ঞাপণধর্মীতার বাজারে তাগো স্ব-স্ব মেধা কাজে লাগাইয়া প্রতিষ্ঠিত হইয়া যায় একটা প্রতিষ্ঠান হিসাবে। মেজবাহ আর মহীতোষ সংসার পাতে...কিন্তু রেজার জীবনে কোন নির্দিষ্ট নারী নাই, সে নারীরে মাপে যৌনতার মাপকাঠিতে। কিন্তু একসময় সে একাকীত্বের দোটানায় বিয়া করনের সিদ্ধান্ত নেয়। মেসবাহ'র একজন আত্মীয়ার ছবি সাপ্লাই করা হয় তারে...সে মেয়ের ছবি দেইখা মুগ্ধ...এমন এক সময়ে হঠাৎ একটা চেহারা দেইখা রেজার মানসিক পরিবর্তন ঘটে...তার চাঞ্চল্য-তার বেপরোয়াপনায় কিসের ধাক্কা লাগে...সে ভীত হইয়া পড়ে। বন্ধুগো কটুবাক্য এড়াইয়াই সে ডঃ হিরককের চেম্বারে যায় অনেক পয়সার বিনিময়ে...সেইখানে গিয়া ডাঃ সাহেবের বিশ্লেষণ শুইনা বাড়িতে ফিরা আইসা ঠিক ঘুমের আগে সে বুঝতে পারে লোকটা কে...
এই লোকের উপস্থিতিই তার জীবনের টার্নিংপয়েন্ট...এই লোকের মেয়ের চিকিৎসার টাকাই তার কানাডায় আসনের পুঁজি...যার জীবনের বিনিময়েই সে আজ প্রতিষ্ঠিত...একটা মেয়ের জীবন প্রদীপ নিভাইয়াই তার জীবনের আলো এতো জাজ্জ্বল্যমান। এরপর আরো অনেক রহস্য শেষে গল্পের পরিনতি...যেই পরিনতিতে সিদ্ধান্ত আসে রেজা তার একাকীত্বরেই বরন কইরা নেয়...বিবাহের সিদ্ধান্ত নাকচ করে...
গল্পের বিশ্লেষণে অতঃপর আমি আমার সংশয়ের জাস্টিফিকেশন পাই। গল্পের সবগুলি রহস্য বাদ দিয়া পাঠের চেষ্টা করি...আর রহস্য বাদ দেওনের পরে এইটার পুঁজির চরিত্র বিশ্লেষণী জায়গাটা আমার কাছে মূর্ত হইয়া উঠে অনেক বেশী। রহস্যটারে কেবল উপলক্ষ্যমাত্র মনে হয়...কাঠামোর আমন্ত্রণে আসা একটা উপাত্ত লাগে। রহস্যের এই মাত্রা হয়তো দূর্বলতার নির্দেশকও হইতে পারে। কিন্তু এই দূর্বলতারে আমি নাকচ করি লেখকের নিস্পৃহ ঢঙের প্রেজেন্টেশনে...আমার কাছে মনে হয় অমিত খুব ইন্টেনশনালিই রহস্যদৃশ্য গুলিরে ডিটেইল ছাড়া দায় সারছে...তার লেখার ঢঙে রহস্যগল্পের একটা বড় বৈশিষ্ট্য, গল্পের ক্লাইম্যাক্স তৈরীর আরোহ পদ্ধতির অনুপস্থিতি আমারে আকর্ষণ করে। এই চিহ্নায়নের পর আমি গল্পটায় পুঁজির চরিত্রটা টের পাই...ছোটবেলায় শেখা পুঁজির একটা সূত্রের কথা মনে পড়ে,
পুঁজি=পুঁজি+পুঁজি*
এই গল্পরে মনে হয় সময়ের নিশ্চয়তা সন্ধানী রেজা-মেসবাহ-মহীতোষগো গল্প...যেই গল্পে একজন দেবতাও থাকেন, শেফালির বাপ। রেজা-মেসবাহরা এই সময়ের তরুণগো একটা অংশ যারা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়া আগায় কেবল একটা নিশ্চিত জীবনের হাতছানিতে। যেই হাতছানি এড়াইয়া যাওয়া কঠিন...নিশ্চয়তার জীবন কারো হাত ধইরা আসে না...এই জীবন আসে আর কারো নিঃস্ব করনের মাধ্যমেই। পুঁজি এই খানে প্রতারনা করে...পুঁজি গোপন রাখে তার নিজের বৈশিষ্ঠ্য...তার মহাজনী চরিত্র ছদ্মবেশে থাকে প্রায়শঃই..বৈষম্যের যেই নিয়ম, একজনের কাছে বেশী থাকা মানে আরেকজনের কাছে কম থাকা, এতোটাই যোগবিয়োগধর্মীতা নিয়া পুঁজি pseudo থাকে আমাগো সামাজিক রন্ধ্রে...
ছদ্মবেশ নামক গল্পের মতোন অনেক চিত্তাকর্ষক না হইলেও অমিতের লেখনীতে প্রত্নতথ্য আমার নাপছন্দ গল্প অন্তত হয় না। তয় আমি পরের গল্প পালিশের আলোচনার লেইগা উদগ্রীব হই...
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



