somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অমিত আহমেদের বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময় গল্প গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনা (২)

১৩ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অমিত আহমেদের গল্পের বইয়ের দ্বিতীয় গল্প পাঠের পর আমার একটা অবজার্ভেশন তৈরী হয় লেখক সম্বন্ধে...তিনি গল্পের রহস্যময়তা ভালোবাসেন। বা এইটারেই যদি একটু অন্যরম কইরা কই সেইটা হইলো তিনি রহস্যের গল্পরে ভালোবাসেন...প্রত্নতথ্য নামের এই গল্প পড়নের অভিজ্ঞতায় আমি নিজের রুচীবোধের লগে মিলাই...এই গল্পের গল্পটারে খুঁজি..গল্পের কয়েকজন, রেজা-মেজবাহ-মহীতোষ-ডঃ হিরকক কিম্বা শেফালির বাপ সকলের চারিত্রিক উপস্থিতির মধ্য দিয়া আসলেই কি রহস্যটারে গল্প করতে চাইছেন অমিত?

এই গল্পের মেলোড্রামা আমার নজর কাড়ে...মেলোড্রামা অব্যবহিত ভাবেই রহস্যগল্পের একটা উপাদান...এই গল্পের পরিনতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে...এই পরিনতি একটা প‌্যারা নরমাল এনভায়নমেন্টের দিকে ইঙ্গিত করে...যেই পরিনতি রহস্য গল্পের বেসিক চরিত্র। কিন্তু তারপরও ক্যানো জানি আমার বুকে খচখচ করে...অমিত আহমেদের গল্পটা কি আসলে অন্য কিছুর? গল্পটা হইলো এরম...রেজা কানাডায় আইছে বহুদিন, তার একটা ব্যবসায়ি আর টাকা পয়সা সংক্রান্ত অতীত আছে বইলা জানা যায়...মেজবাহ একজন মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ দেওয়া ছাত্র, যে এনিমেশনে পটু...মহীতোষ একজন পশ্চিমবঙ্গীয় মিউজিক কম্পোজার। তিনজন মিলা কানাডার এক শ্রেণীর বিজ্ঞাপণধর্মীতার বাজারে তাগো স্ব-স্ব মেধা কাজে লাগাইয়া প্রতিষ্ঠিত হইয়া যায় একটা প্রতিষ্ঠান হিসাবে। মেজবাহ আর মহীতোষ সংসার পাতে...কিন্তু রেজার জীবনে কোন নির্দিষ্ট নারী নাই, সে নারীরে মাপে যৌনতার মাপকাঠিতে। কিন্তু একসময় সে একাকীত্বের দোটানায় বিয়া করনের সিদ্ধান্ত নেয়। মেসবাহ'র একজন আত্মীয়ার ছবি সাপ্লাই করা হয় তারে...সে মেয়ের ছবি দেইখা মুগ্ধ...এমন এক সময়ে হঠাৎ একটা চেহারা দেইখা রেজার মানসিক পরিবর্তন ঘটে...তার চাঞ্চল্য-তার বেপরোয়াপনায় কিসের ধাক্কা লাগে...সে ভীত হইয়া পড়ে। বন্ধুগো কটুবাক্য এড়াইয়াই সে ডঃ হিরককের চেম্বারে যায় অনেক পয়সার বিনিময়ে...সেইখানে গিয়া ডাঃ সাহেবের বিশ্লেষণ শুইনা বাড়িতে ফিরা আইসা ঠিক ঘুমের আগে সে বুঝতে পারে লোকটা কে...

এই লোকের উপস্থিতিই তার জীবনের টার্নিংপয়েন্ট...এই লোকের মেয়ের চিকিৎসার টাকাই তার কানাডায় আসনের পুঁজি...যার জীবনের বিনিময়েই সে আজ প্রতিষ্ঠিত...একটা মেয়ের জীবন প্রদীপ নিভাইয়াই তার জীবনের আলো এতো জাজ্জ্বল্যমান। এরপর আরো অনেক রহস্য শেষে গল্পের পরিনতি...যেই পরিনতিতে সিদ্ধান্ত আসে রেজা তার একাকীত্বরেই বরন কইরা নেয়...বিবাহের সিদ্ধান্ত নাকচ করে...


গল্পের বিশ্লেষণে অতঃপর আমি আমার সংশয়ের জাস্টিফিকেশন পাই। গল্পের সবগুলি রহস্য বাদ দিয়া পাঠের চেষ্টা করি...আর রহস্য বাদ দেওনের পরে এইটার পুঁজির চরিত্র বিশ্লেষণী জায়গাটা আমার কাছে মূর্ত হইয়া উঠে অনেক বেশী। রহস্যটারে কেবল উপলক্ষ্যমাত্র মনে হয়...কাঠামোর আমন্ত্রণে আসা একটা উপাত্ত লাগে। রহস্যের এই মাত্রা হয়তো দূর্বলতার নির্দেশকও হইতে পারে। কিন্তু এই দূর্বলতারে আমি নাকচ করি লেখকের নিস্পৃহ ঢঙের প্রেজেন্টেশনে...আমার কাছে মনে হয় অমিত খুব ইন্টেনশনালিই রহস্যদৃশ্য গুলিরে ডিটেইল ছাড়া দায় সারছে...তার লেখার ঢঙে রহস্যগল্পের একটা বড় বৈশিষ্ট্য, গল্পের ক্লাইম্যাক্স তৈরীর আরোহ পদ্ধতির অনুপস্থিতি আমারে আকর্ষণ করে। এই চিহ্নায়নের পর আমি গল্পটায় পুঁজির চরিত্রটা টের পাই...ছোটবেলায় শেখা পুঁজির একটা সূত্রের কথা মনে পড়ে,

পুঁজি=পুঁজি+পুঁজি*

এই গল্পরে মনে হয় সময়ের নিশ্চয়তা সন্ধানী রেজা-মেসবাহ-মহীতোষগো গল্প...যেই গল্পে একজন দেবতাও থাকেন, শেফালির বাপ। রেজা-মেসবাহরা এই সময়ের তরুণগো একটা অংশ যারা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়া আগায় কেবল একটা নিশ্চিত জীবনের হাতছানিতে। যেই হাতছানি এড়াইয়া যাওয়া কঠিন...নিশ্চয়তার জীবন কারো হাত ধইরা আসে না...এই জীবন আসে আর কারো নিঃস্ব করনের মাধ্যমেই। পুঁজি এই খানে প্রতারনা করে...পুঁজি গোপন রাখে তার নিজের বৈশিষ্ঠ্য...তার মহাজনী চরিত্র ছদ্মবেশে থাকে প্রায়শঃই..বৈষম্যের যেই নিয়ম, একজনের কাছে বেশী থাকা মানে আরেকজনের কাছে কম থাকা, এতোটাই যোগবিয়োগধর্মীতা নিয়া পুঁজি pseudo থাকে আমাগো সামাজিক রন্ধ্রে...

ছদ্মবেশ নামক গল্পের মতোন অনেক চিত্তাকর্ষক না হইলেও অমিতের লেখনীতে প্রত্নতথ্য আমার নাপছন্দ গল্প অন্তত হয় না। তয় আমি পরের গল্প পালিশের আলোচনার লেইগা উদগ্রীব হই...

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০২
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×