১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাসের কনকনা ঠান্ডায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রভবনের সামনে দাঁড়াইয়া যখন আমি শিবির মাস্তান শাহাদাতের হুমকী খাই, তখন সারাদেশ ফুইসা উঠতে শুরু করছে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে...স্থানীয় ছাত্রদলের একটা অংশ যেহেতু ইসলামী ছাত্র শিবিরের ছত্রছায়ায় চলতো তারা তখন খানিকটা দিশেহারা...আর যেই অংশ শিবির বিরোধী, তারা ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের স্বপ্ন দেখতাছিলো...
দুই বা তিন বছর পর আওয়ামি শাসনামলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়া দেখি ক্যাম্পাসে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ...জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শোডাউন করে হাততালি মিছিল কইরা...আর বাতাসে গুজব ছড়ায় ক্যাম্পাসে শিবির বিরোধী মিছিল হইবো ছাত্রদলের...এক গুজবেই দেখি পরিস্থিতি হিম...লাইব্রেরীর সামনের মাঠে পায়জামা পাঞ্জাবী পরিহিত একজন শ্লোগান দিলো আর প্রশাসনের সাথে চূক্তি করা প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ কইরা ইসলামী ছাত্র শিবিরের মিছিল...
হল দখল কখনোই ইসলামী ছাত্র শিবির ছাড়ে নাই...যারা অন্য রাজনৈতিক আন্দোলনে ছিলো কিম্বা শিবিরের রাজনীতির বিরোধী ছিলো...তারা শহরের হোস্টেল/মেস সংস্কৃতি বাঁচাইয়া রাখছিলো...প্রশাসন সবসময় দখলদারের হাতে থাকে এই দেশে...দখলদারের অঙ্গুলিহেলনের লগে তারা হেলে...শিবিরের সামনে হুমকী হিসাবে আসা সব ছাত্রনেতারাই নির্যাতনের শিকার হইছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে...রাজেশদার লগে পরিচয় হইলো ঐ সময়টায়...নওগার ছেলে...আইন পড়তেছিলেন। হলে থাকতে চেষ্টা করছিলেন জেদ কইরা...কোন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিলো না তার। কিন্তু ইসলামের নামে প্যানিক তৈরীর রাজনীতির বলি হইছিলো তার বামহাত...কনুইয়ের পর থেইকা কাইটা ফেলছিলো শিবির সন্ত্রাসীরা...ক্ষোভে বিক্ষোভে এই জেদী ছেলেটা যুক্ত হইলো রাজনীতিতে...
তার মুখে শুনছিলাম, নওগায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের বন্ধুটাও নাকি ক্যাম্পাসে খবরদারী ম্যানিপ্যুলেট করতে ইসলামী ছাত্র শিবির করতো..
সেই পরিচিত ক্যাম্পাসের খবর যখন পাই, তখন আমারও স্মৃতিহত হওয়া...জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বিদ্যালয়ের পর এই জায়গাতে আমার ছাত্র রাজনৈতিক জীবনের ছোট একটু অংশ কাটছিলো...যখন শুনি শিবির ছয়টা হলে তান্ডব চালাইতেছে, আমি নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করি...যখন শুনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাসীরা বিনোদপুরে ব্যবসায়িরে মারধোর করছে, আমি প্রশ্নহীন আস্থা রাখি এই খবরে...যখন শুনি বন্দুক যুদ্ধ...তখন আমি দেখতে পাই আধুনিক অস্ত্র হাতে শিবিরের সন্ত্রাসী দৌড়াইতেছে...আর তার সাথে কেবল একটা অপরিচিত চিত্র...আওয়ামি ছাত্রলীগও নাকি গুলি চালাইছে...
আত্মবিশ্বাসী দখলদারগো নেতা নোমানী মারা গেছে শুইনা আমার মনে হইলো শুধু একটা কথাই...যাক বহুদিন পর কেউ পাল্টা গুলি চালাইলো! দখল ছাড়লে আশপাশের বহুত ব্যবসায়িক এলাকার চান্দাবাজী শেষ...বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা দেখাইয়া মেসগুলিতে অবৈধ কাজকর্ম করনের দিন শেষ...তার উপর কেন্দ্রীয় নেতা হওনের সম্ভাব্য ভবিষ্যত রুদ্ধ...মরনকামড় ছাড়া কি এইরম উর্বর জমি কেউ ছাড়ে!
নোমানী কেরম ছিলো আমি জানি না, জানতেও চাই না...দখলদারেরা আর যাই হোক, মানুষের মঙ্গলাকাঙ্খী হয় না!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


