জামায়াত শিবির কর্মীরে দেখলে গালি দেওন যাইবো...হিংস্র পশুরে গালি দেওন যাইবো...যারা বেঈমানি করে তাগো গালি দেওন যাইবো...এইরম ফতোয়াগুলি ব্লগে হঠাৎ যখন চোখে পড়লো, তৎপর আমার সামহোয়্যার ইন ব্লগের সেই স্বর্ণযূগের কথা মনে পইড়া যায়। যেই যূগে গালির নহর বইয়া যাইতো এই ভূখন্ডে...যেই যূগে বাঘে আর মহিষে পরষ্পর গলাগলি কইরা গালি দেওনের প্রতিযোগিতা করতো। সাম্প্রতিক সময়ে গালাগালি বহুদিন পর আবার আলোচিত হইয়া উঠনের সম্ভাবনা দেখাইলে পুরানা দিনগুলি চোখে ভাসে...যেই সব দিনে গালির প্রতিপক্ষরা মিনমিনা গলায় প্রতিবাদ কইরা আবার ভিন্ন নিকে আইসা ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাইতো গালাগালির...
গালাগালির বিভাজনে এই ব্লগে এক মহা শ্রেণী বিভাজন শুরু হইছিলো ২০০৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে। যারা গালির বিপক্ষে দাঁড়ায় তারা সুশীল। ইসলামপন্থীগো জামায়াতি ট্যাগিংয়ের পর এইটাই মনে হয় সবচাইতে জনপ্রিয় ট্যাগিং। আমি নিজে কখনো ব্লগের লেখালিখিতে গালি দেই নাই, বা দেওনের প্রয়োজনটাও বোধ করি না। কিন্তু সামাজিক রুচীবোধের রীতি-নীতি'র বিরোধী অবস্থান বইলা তার বিরোধীতায় সোচ্চারও হই নাই কোনদিন। আমার মনে হইতো এইটা তো চমৎকার প্রতিবাদের এক্সপ্রেশন! কিরম নিরীহ মানুষ! যারে সমাজের এটিকেট মানা মানুষ বইলাই জানি...তার লেখনীতে যেই গালির তোড় প্রবহমান হয়, তারে অশ্রদ্ধা করনের কোন কারনও খুঁইজা পাইতাম না।
অবশ্য সামহোয়্যার ইন ব্লগে না...গালি বিষয়ক চিন্তায় আমার প্রথম ভিন্নমাত্রা আসলো অন্যকোনখানে। এই ব্লগের প্রতিবাদী প্রো-লিবারেশন অংশের অনেক মানুষ ছিলেন, যারা সামহোয়্যার ইন ব্লগের পশ্চিমা মতাদর্শের নামে জামায়াত তোষণের বিরোধীতা করতেন...যারা ওপেন কম্যুনিটি ব্লগের সুযোগে প্রকাশ্য স্বাধীনতা বিরোধীগো ব্লগ লিখালিখিরে মাইনা নিতে পারতেন না, এবং যথাবিহিত গালির ফল্গু ধারা বহাইতেন...আর এর ধারাবাহিকতায় গালিবিরোধীগো তারা সুশীল ট্যাগিং মারফত জাস্টিফাই করতেন নিজেগো অবস্থান। এই তারা'রাই প্রতিবাদ স্বরূপ প্রো-লিবারেশন ঘরানার আরেকটা লেখনীর এলাকা তৈরী করলেন...যেই এলাকায় তারা আর ক্যানো জানি অসুশীল থাকতে পারেন না। কোন পুরানা সহযোদ্ধা যখন তাগো সেই এলাকাতেও গালি দিলো অসুশীলতার নিয়মমতোন...আমাগো পুরানা অসুশীল ভাইয়েরা সেই গালির অবৈধতা জারী করলেন নিমিষেই! আর এই পদক্ষেপ গালি বিষয়ে আমার অবস্থানরে প্রশ্নের মুখামুখি কইরা দিলো...
সামহোয়্যার ইন ব্লগে এর পরেও গালি দেওয়া দেওয়ি হইছে...সেই গালির পাল্টা পোস্টও পরছে অনবরত...কিন্তু যখন এই দীর্ঘ বিরতির পর আবার গালাগালি বিষয়ক আলোচনাটা ব্লগের আলোচনায় আইলো...তখন মনে হইলো আমার চিন্তাগত ভিন্নমাত্রায় আরেকটা পর্যবেক্ষণ যূক্ত হইবার পারে...মেঘ নামক একজন ব্লগার খা. চো./মা.চো./বা.চো. টাইপ ট্যাগিং করলে পর সবাই ধইরাই নিলো এইসব গালি...আমি নিজেও সেই দলের মানুষ খা.চো শব্দটা পড়তে গেলে আমার খানকী চোদা'ই মনে হয়...যিয়ান দি আইসছস হিয়ানদি সান্ধাই দিমু- টাইপ বাক্য পড়লে আমার মাথায় কোন গুহ্যদ্বারের ইমেজই প্রতিভাত হয়।
মেঘ একজন নারী। এই তথ্য আমি জানি বইলা আমার পুরুষতান্ত্রিক সত্ত্বা লাফাইয়া বাইর হইছে তার গালি শুইনা...ব্যাপারটা এইরম বইলা আমি মাইনা নিতে পারি না। আমার কাছে মনে হয় মেঘ যদি সত্যিই খানকী চোদা বইলা থাকে কাউরে, সেইটা আসলে কারে অপমান করে!? খানকী শব্দটা আসছে নিশ্চিত জানি দেহব্যবসায় নিয়োজিত নারীগো পতিত জ্ঞান কইরাই...আর সেই কথিত পতিত নারীতে গমন করে যেই পুরুষ তারে নাপাক জ্ঞান কইরা গালিতে পুরুষরেও অংশীদার করা হইছে...এই এক্সপ্রেশন অনেক পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিজস্ব বইলাই আমার ধারনা হয়...সবচেয়ে সেনসিটিভ একটা প্রসঙ্গ মুক্তিযুদ্ধের মূল্যায়ন করতে গিয়া তিনি আর তার সমর্থকেরা আসলেই কি এই অবমূল্যায়ন করতেছেন সচেতন ভাবে?
যারা অভ্যাসবশতঃ এক্সপ্রেশনের প্রাত্যহিকতা মতোন গালি দ্যায় তাগো প্রতি আমার অশ্রদ্ধা নাই...সুযোগসন্ধানী গালিদাতাগো নিয়া আমি আসলেই সন্দিহান...
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


