পাকিস্তানের শোষকেরা আসলে কি চায়?
১৪ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:০০
বন্ধু রাকেশ চক্রবর্তী'র পরিবারের সকল সমর্থ সদস্য যখন ভারতে চইলা গেলো তখন তারে আমরা প্রশ্ন করলাম, তুমি কবে যাইবা? প্রশ্নের আগেই আমরা ধইরা নিছিলাম রাকেশ এইবার বিরসবদন কইরা দৃষ্টি ভাসাইবো শূন্যে...তারপর সময় নিয়া কইবো, "জানি না..."
আমাগো সকল অনুমানরে অপমানিত কইরা রাকেশ পাল্টা প্রশ্ন ছুইড়া দিলো আমাগোর উদ্দেশ্যে, আমি ক্যান যামু! তার মুখে বিরক্তির বলিরেখা। যেই রাকেশ নির্বাচনের সময় লিটারালি ভয়ে শিটকাইয়া থাকে, যেই রাকেশ তার ছেলেরে পানি না কইয়া জল কইতে শিখায়...সেই রাকেশের এরম দেশপ্রেম আমাগো একটু অস্বাভাবিক লাগে...দেশপ্রেম আসলে এইরম'ই হয়...সেইখানে আবেগের অনুরনন থাকে...
সেই রাকেশ চক্রবর্তী'র লগে দুইদিন আগে পাকিস্তান পরিস্থিতি নিয়া কথা কইতে যাই...যেহেতু তার আফঘানিস্তানে দুই বচ্ছর থাকনের অভিজ্ঞতা আছে। ইসলামাবাদ আর পাকিস্তানের পেশোয়ারে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে। গাড়ি পথে আফঘানিস্তান থেইকা পাকিস্তানে আইসা এরোপ্লেন ধরনের নজীর আছে...তার অভিজ্ঞতা আর বিশ্লেষণ আমার নিজস্ব বিশ্লেষণ তৈরীতে কামে দিবো বইলা মনে করি...একজন হিন্দু পরিবারের সন্তান হিসাবে তার প্রতিক্রিয়ায় ভিন্ন বিশ্লেষণ পামু বইলা পূর্ব নির্ধারিত এসাম্পশন কইরাই বসি আরামসে...
"রাকেশ কওতো পাকিস্তান কোনদিকে যাইতেছে? এইবার কি তালিবানীরা দখল নিতে পারবো পাকিস্তানের?" রাকেশের কষ্টক্লীষ্ট মুখ আশা কইরাই তার দিকে তাকাই। এক্কেরেই হতাশ কইরা দিয়া, বরাবরের মতোই রাকেশ আমারে পাল্টা প্রশ্ন করে,"তালিবান কারা? পাকিস্তান ক্যান এখনো একটা রাষ্ট্র থাকবো? আমি তারে পত্র-পত্রিকার রেফারেন্স বুঝাই...রাকেশ তালিবান চিনে না! একজন মধ্য এশিয়া বিশেষজ্ঞ বইলা আইলাম আলোচনা করতে, এখন তারে আমার পাল্টা তালিবান চিনাইতে হয়...রাকেশের ভাষ্যমতে পাকিস্তানে তালিবানগো কোন বিদ্রোহ হইতাছে না...পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেইকাই যেই বিদ্রোহ শুরু হইছিলো...যেই বিদ্রোহে বাংলাদেশের সৃষ্টি তেমনই যুদ্ধের ঘোষণা বলবৎ আছে সেই ভূখন্ডে...
রাকেশের অভিজ্ঞতা মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষে যেহেতু তালিবান কইয়া বিদ্রোহ দমন সহজ...তাই স্বাধীনতাকামী অংশ তালিবান হইয়া যায়...বেলুচীস্থান আর পাহাড়ি পাকিস্তানীগো স্বাধীনতা প্রত্যাশী আন্দোলনতো বহুদিনের! যেই আন্দোলনরে ধামাচাপা দিতেই সকল প্রতিরোধরে কওয়া হইতেছে তালিবানীগো আন্দোলন...এতোদিন বেলুচরাই কেবল ধারাবাহিক আন্দোলনে ছিলো, এইবার তাগো লগে পাহাড়ি জনপদ একীভূত হওয়াতে পাকিস্তানের শাসকেরা পরছে বিপদে...কারন জনগণের টাকায় যেই ইসলামাবাদ শহর তারা বানাইছে মনের মাধুরী মিশাইয়া নিজেগো বিলাস ব্যসনে, তার অবস্থিতি পাহাড়ি এলাকার মধ্যেই প্রায়...
হয়তো এই আন্দোলনের সুবিধা নিতে তালিবানী নীল নকশার প্রণয়নকারীরাও আছে...কিন্তু তাই বইলা মানুষের অধিকার আদায়ের যুদ্ধও কি নস্যাৎ হইয়া যায়? পাকিস্তানীগো লগে মার্কিনীরা আছে। যেই মার্কিনীরা একসময় তাগো নীল নকশা বাস্তবায়নে এই পাহাড়ি এলাকারেই ব্যবহার করছিলো বেদম...তাগো সরলতারে অজ্ঞানতা বানাইয়া এই মার্কিনীরাই একসময় ধর্ম ভিত্তিক চিন্তার অনুপ্রবেশ ঘটাইছিলো মিডিয়া সাম্রাজ্যে...আন্তর্জাতিক নোংরা গেইম থিওরীর চিপায় পইরা এই জনপদ বিভ্রান্ত হইছে...তালিবান হইছে...এখন এই জনপদ বুঝতে পারছে তাগো নিজস্ব আইডেন্টিটি প্রয়োজন...তারা কাশ্মীর বিদ্রোহী কিম্বা তালিবানী পরিচয়ের চাইতে নিজেগো রাষ্ট্র চায়...অতএব পাকিস্তান এইবার টুকরা হইবো আবার যদি না মার্কিনীরা তাগো লগে থাকে...
আমি রাকেশের কথায় বিভ্রান্ত হই...আন্তর্জাতিক রাজনীতি বুঝনের দৌড় খুব বেশী না আমার...তাই নিশ্চুপও থাকি। ভিন্ন উপলব্ধি আশা করছিলাম...কিন্তু তাই বইলা এই! বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের লগে এই প্রতিরোধের তুলনা করা গেলে তো আসলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ!
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: অভিশাপ না মনে হয়...এইটা পাকিস্তানী শাসকগো শোষন আর নির্যাতনের প্রতিক্রিয়া আর দালালী তো আছেই...
কৌশিক বলেছেন:
আমিও ঐরকম শুনছি
লেখক বলেছেন: কোত্থেইকা?
আলাউদ্দীন বলেছেন:
পাকিস্তানের পরিস্থিতি আসলেই আশংকাজনক।তবে তাদের নিয়া ভাবতে ভাল লাগানে।
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
সোজা হিসাবটা এইরকম:ইজরাইলের বর্ডার যদি বামের প্রান্ত ধরেন, তারপরে ইরাক, (মধ্যিখানে ইরান), আফগানিস্তান পার হইয়া তারপরেই পাকিস্তানরে ধরেন ডান প্রান্ত। এই জায়গায় তেল, গ্যাসের হিস্যা সহজ তখনই করা যাবে যখন এই প্রত্যেকটা দেশরে ব্যর্থ দেশে রূপান্তর করা যায়।
আমেরিকান মিলিটারী ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের ব্যবসাটাও বাড়ে, অন্যদিকে আগামী কয়েক দশকের জন্য তেল গ্যাসের অবাধ চুরিটাও নিশ্চিত করা যায়।
পাকিস্তান মহা আহাম্মক এক দেশ (নতুন কুনু খবর না)। সুতরাং তারা সর্বশেষ স্বীকার। পাকিস্তানের শোষকরা আবার কি চাইবো, হ্যারা চুষতে চায় (শোষনের আরেকটা বাংলা আর কি)। তয় বেশি জরুরী ছবিটা পাওন যাইবো যদি লেন্সটা আমগো আমরিকার ফরেন পলিসির উপরে ফেলাই।
লেখক বলেছেন: আমেরিকান ফরেন পলিসি নিয়া কোন প্রশ্ন নাই...কিন্তু প্রশ্ন হয় তখন, যখন আমরা কাউরে ট্যাগিং করি।
যদি রাকেশের কথা সত্য মনে করি তাইলে মার্কিনীগো পাকসহায়তারে আমরা কি হিসাবে দেখুম? বিভিন্ন মানুষের মতামত দেখলাম কয়দিন অনলাইন কমিউনিটি গুলিতে, সেইখানকার ইম্প্রেশনটা হইলো তালিবানীরা মার্কিনী নীল নকশার ফল, এখন তারা সেইটারে নিয়া কি করবো সেইটা তারা বুঝুক, আবার আরেকদল কয় ধর্মভিত্তিক জনগোষ্ঠীই মার্কিন বিরোধীতায় বা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতায় অগ্রগণ্য তাই তাগো প্রতিরোধ ঠিক, অনেকে কয় এইটা দুই কুকুরের লড়াই তারা তারা কাইজ্জা কইরা মরুক...কিন্তু যদি এই আন্দোলনে অবহেলিত জনপদের রোষ ফুইটা ওঠে তাইলে ইনটারপ্রিটেশন কই যাইবো?
রাকেশের মতে সরকারের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ অবহেলিত আর নির্যাতিত পাহাড়ি জনপদের...তাইলেতো এই যুদ্ধে আমাগো একটা পক্ষ নেওনের প্রশ্ন তৈরী হয়...
আর আজকাল কোন পক্ষ নেওনটা খুব রিস্কি মনে হয়...কে যে কার নখড় বাড়ায় আড়চোখে...
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
পাকিস্তান যে এখনও টুকরা টুকরা হয় নাই সেটাই তো অবাক করা ব্যাপার
লেখক বলেছেন: মার্কিনীরা বাঁচাইয়া রাখছে এতোদিন...একাত্তরে চেষ্টা চালাইয়াও ব্যর্থ হইছিলো...
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন:
অপেক্ষায় আছি পাকিস্থানরে টুকরা টুকরা দেহার লেইগা।
লেখক বলেছেন: মার্কিনীরা পাহাড়িগো লগে কেমনে যুদ্ধ করে সেইটা দেখনের আকাঙ্খায় আছি...
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
যত দোষ সব নন্দ ঘোষের তয় এই নন্দ আঙ্কেল স্যাম তার পছন্দ মত গুটি সাজায়, খেলে আর জেতে। হারুপার্টির হাহুতাশ ওবামাগং থোরাই কেয়ার করে।
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: কেয়ার না করনটা স্বাভাবিক...ঐটাই তাগো প্রয়োগবাদের ধর্ম...কিন্তু তাই বইলা হা হুতাশ কিম্বা প্রতিবাদ করন যাইবো না?
আর দালালী বিষয়ে আপনের বক্তব্য কি?
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
দালালের লেবাসমুক্ত হওয়ার নিমিত্ত প্রতিবাদের দরকার আছে বই কি।
লেখক বলেছেন: প্রতিবাদের সদিচ্ছারে তাও গুরুত্ব দিবেন না?
ময়ুরবাহন বলেছেন:
বাঙালীরা আগেই স্বাধীনতা পেয়েছে ৷ বালোচরা এখন চেস্টা করছে ৷ দেখা যাক বালোচরা পাকিস্তানের থেকে স্বাধীনতা পায় কিনা ৷ একটা জনপ্রিয় সাইট আছে ৷http://www.balochvoice.com
লেখক বলেছেন: সাইটের লিংক দেওনের জন্য ধন্যবাদ...বেলুচ গো স্বাধীনতা আন্দোলন সফল হোক!
লেখক বলেছেন: আমারতো মনে হইতাছে বিবিসি'র ভাষ্য পুরাপুরি মিলা গেলো...কারন পাহাড়ি আর ট্রাইবাল এরিয়াতেই তারা কইতাছে তালেবান উপস্থিতি বাড়তাছে। এই ম্যাপের যেই বর্ণনা তারা করছে তাগো সাইটে সেইটা পড়লেতো তাই মনে হয়...
তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসাবে এইখানে বেলুচীস্থানরে দেখানো হইতেছে, south wazhiristan এলাকাটা হইলো এইখানে বেলুচ প্রদেশ...বানের হইলো ইসলামাবাদ শহর থেইকা মাত্র ৬৫ মাইল দূরে সেইটাও তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা...আমি তো এই ম্যাপ দেইখা বরং রাকেশের ভাষ্যের সাথে মিল পাইলাম অনেকখানি...কেবল পাঞ্জাব আর আজাদ কাশ্মীরের ধারে কাছের এলাকা ছাড়া পাকি সরকারের নিয়ন্ত্রণে কোন এলাকা নাই...
ম্যাপটার বিষদ বর্ণনা পাইবেন এই লিংকে
Click This Link
লেখক বলেছেন: একাত্তরে বাঙালিগো কইছিলো হিন্দু আর এখন বেলুচ আর পশতুগো কইতাছে তালিবান এইরমও হইতে পারে...
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
"রাকেশের মতে সরকারের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ অবহেলিত আর নির্যাতিত পাহাড়ি জনপদের...তাইলেতো এই যুদ্ধে আমাগো একটা পক্ষ নেওনের প্রশ্ন তৈরী হয়..."আসলেই কি তাই!
অবহেলিত এবং নির্যাতিতদের প্রধান মোরাল (এদিক সেদিক থেকে যতটুকু বুঝি) এখানে ধর্ম; তারা ক্ষমতায় গেলে যে আফগানিস্তান স্টাইলে তালেবান শাসন জারী করবে না, তার নিশ্চয়তা কি!(ইতোমধ্যেই মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ হয়েছে, মেয়েদের স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে এমন খবর পাই)
স্বাধীনতা কিংবা অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবকিছু নিয়ম মেনে হয়না; তালিবানদের যতটা পাকিস্তানী সৈন্যদের খতম করে তার চেয়ে বেশি নিরীহ(টার্মটা নিসন্দেহে বিতর্কিত এই প্রসংগে) মানুষ মারে অনেক বেশী।এইটার ফলে তাদের স্বাধীনতার বিষয়টা কি লঘু হয়ে যায় না?
নাকি পাহাড়ী ও বেলুচদের নামে সাম্রাজ্যবাদী কায়দায় পুরণো ঐতিহ্য অনুসারে কলংক ছড়ানো হচ্ছে!
আগে থেকেই কনফিউজড ছিলাম, আপনার পোষ্ট পড়ে আরো কনফিউজড হৈলাম।
লেখক বলেছেন: ধর্ম বিষয়টা নিয়া রাকেশরে ঠিক এই প্রশ্নটাই করছিলাম..."ট্রাইবাল কইয়া যাগোরে নির্যাতন করতেছে তাগো ধর্মীয় বোধের জায়গা নিয়া তোমার বক্তব্য কি?"
তার বক্তব্য হইলো যে কোন বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যা হয় এই পাহাড়ি জনপদ তার চাইতে ভিন্ন কিছু না। তারা পুরুষতান্ত্রিক...তারা কট্টর মুসলিম...কিন্তু এই কারনে তারা পাকি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাইতেছে না...তারা বঞ্চিত বইলাই স্বাধীন হইতে চায়। কারন পাকিস্তানে শরীয়া আইন ক্ষমতাসীনরাও সুযোগ মতোন কম পালন করে না...
রাজর্ষী বলেছেন:
ভিন্ন দৃষ্টিভংগি হলেও গ্রহনযোগ্য। আর এর সাথে আরেকটা পয়েন্ট যেটা যোগ করা যায় তা হলো পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে আছে আসলে পান্জাবীরা। তারা অন্য জাতি স্বত্ত্বাগুলোকে দাবিয়ে রাখে, আর্মি তারা কন্টোল করে। সুতরাং বাকিরা তো বিদ্রোহ কর্বেই। আমাদের মুক্তিযুদ্দ্বেও আমরা পান্জাবী খান সেনা দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম।
লেখক বলেছেন: মাথায় পাঞ্জাবীগো উদাহরন ছিলো বিধায়ই আসলে এই ভিন্ন চিন্তারেও আলোচনামূলক করতে আগ্রহী হইছিলাম।
আবু নাঈম বলেছেন:
আমার দু'একটা কথা একটু বিবেচনা করে দেখতে পারেন।(১) গত দু'তিন বছর ধরে, আমেরিকা অনেক বেশি ভারত-নির্ভর হয়ে পড়েছিল, বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে। কারণ চীন এবং জাপান দুটোই আমেরিকার প্রবল প্রতিপক্ষ, এশিয়ায়। ফলে আমেরিকা ভেবেছিল ভারতকে ভর করে সে তার শক্তি ও প্রাধান্য বিস্তার করে রাখতে পারবে। যে কারণে কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত-পাকিস্তানকে এক জায়গায় বসানোর এবং একটা সমঝোতা করানোর চেষ্টা আমেরিকা শুরু করেছিল।
(২) মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি মার খায়নি শুধু, মুখ থুবড়ে পড়েছে।
(৩) এখন তারে মন্দায় ধরেছে। ডলার-পাউন্ডের পাল্লাপাল্লিতে পাউন্ড শক্তি অর্জন করে চলেছে।
=>অর্থাৎ আমেরিকার সামনে অর্থনৈতিক-সামরিক সব দিক দিয়েই বিপদ।
(৪) এদিকে ভারত ইতোমধ্যে আমেরিকার দুর্বলতা বুঝে তা কাজে লাগাতে সচেষ্ট হয়ে উঠেছে। সে অনুযায়ী আমেরিকার 'চীনা-ভীতি' কাজে লাগিয়ে তাকে অনেকটা বাগেও নিয়ে এসেছে। আমেরিকাকে সাহায্য করার নামে ভারত আসলে তার নিজের আখের গুছিয়েছে। তামিলদের পুরো উচ্ছেদ করার রাস্তা প্রশস্ত করেছে।
(৫) পাকি বেয়কুফরাও আমেরিকা থেকে তালেবান দমনের নামে টাকা খাওয়াটাই বড় কাজ বলে মনে করেছিল। আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোনদিকে ঘুরে যাচ্ছে সেটা এরা বুঝতেই পারেনি।
(৬) আমেরিকা বিষয়গুলো ধরতে পারলেও কোনো রাস্তা বরে করতে পারছিল না। আমেরিকার সামনে এখন দুটো রাস্তা। এক. পুরো ভারতের তল্পিবাহক হয়ে থাকা, এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে। অথবা, নিজের আরেকটা শক্ত জায়গা দাঁড় করানো।
=> আমার ধারণা, তালেবান দমনটা আমেরিকা নিজের একটা শক্ত জায়গা দাঁড় করানোর উদ্দেশ্য নিয়েই করছে। পাকিস্তান এখনই ভাঙবে বলে আমার মনে হয় না। কিন্তু নিয়ন্ত্রণটা পুরো আমেরিকার হাতে চলে যাবে। আর ভাঙনটা তীব্র হয়ে উঠতে থাকবে।
লেখক বলেছেন: ডলার পাউন্ডের পাল্লাপাল্লি বিষয়টা ঠিক মনে হইলো না। ব্রিটিশরাও ধরা খাইছে মন্দায়। মন্দারে যদি কেবল ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখো তাইলে মনে হয় না ঠিক হয়। মন্দা হইছে পুঁজির নোংরা চলনেই।
বিলাস ব্যসনে ব্যাংক সহায়তার নামে যেই চিত্তাকর্ষক জীবনের প্রতিশ্রুতি পুঁজিবাদে দেওয়া হয় তার চক্করেই মন্দার আবির্ভাব...ব্যাংক পুঁজির চলনে যেই নিশ্চয়তা দেওয়া হয় সমাজতো সেইখানে ততোটা নিশ্চয়তায় চলে না। যেই কারনে নিয়ন্ত্রিত বাজার আছে যাগো সেইসব রাষ্ট্রগুলি তুলনামূলক মন্দার বাইরে আছে।
আর তালিবান কেবল পাকিগো টাকা খাওনের মামলা না...এইটা পশ্চিমা সকল সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরই রাজনৈতিক হাতিয়ার। তারা নিজেরাই তালিবানগো পৃষ্ঠপোষকতা করে আবার একই সাথে তাগো বিরুদ্ধেও যায়।
আর বেলুচ কিম্বা পাহাড়ি উপজাতীয় কোন্দলে তালিবানরাতো সুযোগ নিবোই এইটাই তো বাস্তবতা। তাগো স্থায়িত্ব নিশ্চিতেতো এইটা ভূমিকা রাখতেই পারে...তাই বইলা এইসব আন্দোলন তালিবান গো কাজ কইলে পশ্চিমাগোও লাভ আছে লগে পাকিগোও নিস্তার হয়।
মার্কিনীরা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবো কি পারবো না সেইটা আসলে দেখতে হইবো এইবার...কারন ধান্দাবাজ তালিবানিরা বাদেও মুক্তিকামী একটা শক্তি যুদ্ধ আছে এইবার...যাগো হাতে অস্ত্র আছে...নিজস্ব এলাকার যুদ্ধকৌশল আছে।
আবু নাঈম বলেছেন:
দুঃখিত। ইউরো লেখতে পাউন্ড লিখে ফেলেছি।মন্দা কোনো ষড়যন্ত্র না। কিন্তু এ মন্দায় আন্তর্জাতিক বিনিময় মাধ্যম হিসাবে মুদ্রাবাজারে ইউরো ডলারের তুলনায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারত : আমি গত পরশু দিন মন্তব্য করেছিলাম, এবারের নির্বাচনে ভারত একটা সংহত সরকার গঠন করবে। কোনোরকম ঝুলন্ত পার্লামেন্ট তো থাকবেই না। কোয়ালিশন সরকারও থাকবে না। এটা ভারতের পুঁজিপতিরা বেশ বুঝেছে যে এই হল সুযোগ।
লেখক বলেছেন: আলোচনা পোস্টের থেইকা অন্য দিকে যাইতাছেগা মনে হয়। তয় ইউরো'র দাম কম কমছে বা রাশ কিছুটা টানতে পারা গেছে কারন এইখানে সংঘবদ্ধতা আছে...প্রায় সব ইউরোপিয়ান দেশগুলির স্বার্থ জড়িত থাকনে তাগো ইনভলভমেন্ট ছিলো অন্যরম...স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্রগুলির উদ্যোগ এইখানে কাজে দিছে।
আর নির্বাচন বিষয়ে আমি কোন সময় প্রেডিকশনে যাই না। বুর্জোয়া ব্যবস্থার নির্বাচনে অনেকগুলি pseudo ফ্যাক্টর কাজ করে যেইগুলি নিয়া প্রেডিকশন খুব কঠিন...
আবু নাঈম বলেছেন:
আমি হয়ত সহজ করে বলতে গিয়ে জটিল করে ফেলেছি।আমি যে কথাটা বলতে চাইছিলাম তাহল, পাকিস্তানের আজকের পরিস্থিতির পেছেন অভ্যন্তরীণ কারণ যতটা গুরুত্বপূর্ণ ঠিক একইভাবে বিশ্বরাজনৈতিক পরিস্থিতি, উপমহাদেশে মার্কিন-ভারত আধিপত্য বিস্তার করার চলমান যুদ্ধ ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক বলেছেন: মার্কিন-ভারত রাজনীতির বিষয়টাতো আছেই...এইটা নিয়া বিকল্প ভাবনার আর কি আছে? বিশ্ব মিডিয়া তালেবররাতো তাগো সুবিধার্থেই উঠে বসে...
মজনু পাটোয়ারী বলেছেন:
পাকিস্তানের যেমন উচিত আমেরিকার সাথে থাকা, আমেরিকারও তেমনি কর্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করা।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















ভালো পোষ্ট।