বন্ধু রাকেশ চক্রবর্তী'র পরিবারের সকল সমর্থ সদস্য যখন ভারতে চইলা গেলো তখন তারে আমরা প্রশ্ন করলাম, তুমি কবে যাইবা? প্রশ্নের আগেই আমরা ধইরা নিছিলাম রাকেশ এইবার বিরসবদন কইরা দৃষ্টি ভাসাইবো শূন্যে...তারপর সময় নিয়া কইবো, "জানি না..."
আমাগো সকল অনুমানরে অপমানিত কইরা রাকেশ পাল্টা প্রশ্ন ছুইড়া দিলো আমাগোর উদ্দেশ্যে, আমি ক্যান যামু! তার মুখে বিরক্তির বলিরেখা। যেই রাকেশ নির্বাচনের সময় লিটারালি ভয়ে শিটকাইয়া থাকে, যেই রাকেশ তার ছেলেরে পানি না কইয়া জল কইতে শিখায়...সেই রাকেশের এরম দেশপ্রেম আমাগো একটু অস্বাভাবিক লাগে...দেশপ্রেম আসলে এইরম'ই হয়...সেইখানে আবেগের অনুরনন থাকে...
সেই রাকেশ চক্রবর্তী'র লগে দুইদিন আগে পাকিস্তান পরিস্থিতি নিয়া কথা কইতে যাই...যেহেতু তার আফঘানিস্তানে দুই বচ্ছর থাকনের অভিজ্ঞতা আছে। ইসলামাবাদ আর পাকিস্তানের পেশোয়ারে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে। গাড়ি পথে আফঘানিস্তান থেইকা পাকিস্তানে আইসা এরোপ্লেন ধরনের নজীর আছে...তার অভিজ্ঞতা আর বিশ্লেষণ আমার নিজস্ব বিশ্লেষণ তৈরীতে কামে দিবো বইলা মনে করি...একজন হিন্দু পরিবারের সন্তান হিসাবে তার প্রতিক্রিয়ায় ভিন্ন বিশ্লেষণ পামু বইলা পূর্ব নির্ধারিত এসাম্পশন কইরাই বসি আরামসে...
"রাকেশ কওতো পাকিস্তান কোনদিকে যাইতেছে? এইবার কি তালিবানীরা দখল নিতে পারবো পাকিস্তানের?" রাকেশের কষ্টক্লীষ্ট মুখ আশা কইরাই তার দিকে তাকাই। এক্কেরেই হতাশ কইরা দিয়া, বরাবরের মতোই রাকেশ আমারে পাল্টা প্রশ্ন করে,"তালিবান কারা? পাকিস্তান ক্যান এখনো একটা রাষ্ট্র থাকবো? আমি তারে পত্র-পত্রিকার রেফারেন্স বুঝাই...রাকেশ তালিবান চিনে না! একজন মধ্য এশিয়া বিশেষজ্ঞ বইলা আইলাম আলোচনা করতে, এখন তারে আমার পাল্টা তালিবান চিনাইতে হয়...রাকেশের ভাষ্যমতে পাকিস্তানে তালিবানগো কোন বিদ্রোহ হইতাছে না...পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেইকাই যেই বিদ্রোহ শুরু হইছিলো...যেই বিদ্রোহে বাংলাদেশের সৃষ্টি তেমনই যুদ্ধের ঘোষণা বলবৎ আছে সেই ভূখন্ডে...
রাকেশের অভিজ্ঞতা মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষে যেহেতু তালিবান কইয়া বিদ্রোহ দমন সহজ...তাই স্বাধীনতাকামী অংশ তালিবান হইয়া যায়...বেলুচীস্থান আর পাহাড়ি পাকিস্তানীগো স্বাধীনতা প্রত্যাশী আন্দোলনতো বহুদিনের! যেই আন্দোলনরে ধামাচাপা দিতেই সকল প্রতিরোধরে কওয়া হইতেছে তালিবানীগো আন্দোলন...এতোদিন বেলুচরাই কেবল ধারাবাহিক আন্দোলনে ছিলো, এইবার তাগো লগে পাহাড়ি জনপদ একীভূত হওয়াতে পাকিস্তানের শাসকেরা পরছে বিপদে...কারন জনগণের টাকায় যেই ইসলামাবাদ শহর তারা বানাইছে মনের মাধুরী মিশাইয়া নিজেগো বিলাস ব্যসনে, তার অবস্থিতি পাহাড়ি এলাকার মধ্যেই প্রায়...
হয়তো এই আন্দোলনের সুবিধা নিতে তালিবানী নীল নকশার প্রণয়নকারীরাও আছে...কিন্তু তাই বইলা মানুষের অধিকার আদায়ের যুদ্ধও কি নস্যাৎ হইয়া যায়? পাকিস্তানীগো লগে মার্কিনীরা আছে। যেই মার্কিনীরা একসময় তাগো নীল নকশা বাস্তবায়নে এই পাহাড়ি এলাকারেই ব্যবহার করছিলো বেদম...তাগো সরলতারে অজ্ঞানতা বানাইয়া এই মার্কিনীরাই একসময় ধর্ম ভিত্তিক চিন্তার অনুপ্রবেশ ঘটাইছিলো মিডিয়া সাম্রাজ্যে...আন্তর্জাতিক নোংরা গেইম থিওরীর চিপায় পইরা এই জনপদ বিভ্রান্ত হইছে...তালিবান হইছে...এখন এই জনপদ বুঝতে পারছে তাগো নিজস্ব আইডেন্টিটি প্রয়োজন...তারা কাশ্মীর বিদ্রোহী কিম্বা তালিবানী পরিচয়ের চাইতে নিজেগো রাষ্ট্র চায়...অতএব পাকিস্তান এইবার টুকরা হইবো আবার যদি না মার্কিনীরা তাগো লগে থাকে...
আমি রাকেশের কথায় বিভ্রান্ত হই...আন্তর্জাতিক রাজনীতি বুঝনের দৌড় খুব বেশী না আমার...তাই নিশ্চুপও থাকি। ভিন্ন উপলব্ধি আশা করছিলাম...কিন্তু তাই বইলা এই! বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের লগে এই প্রতিরোধের তুলনা করা গেলে তো আসলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

