somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নোয়া সাহেবের বিবাহ...

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
নোয়া সাহেবের মন খারাপ। কেনু মন খারাপ সেইটা অবশ্য তিনি ধরতে পারতেছেন না। আশেপাশের সকল গর্দভ-বান্দর-সাপ--বেজী-খচ্চরেরা তার মলিন মুখ দেইখা একটু বিহ্বল। কিন্তু ভয়ে কেউ কাছে গিয়া জিগাইতে পারতেছে না মন খারাপের কারন। নোয়া সাহেবের রাগ সম্পর্কে তারা পুরামাত্রায় ওয়াকিবহাল। মহাপ্লাবনের টাইমে রাগের চোটে তিনি ডোডো পাখিরে তো ইতিহাস থেইকাই বিলুপ্ত কইরা দিছিলেন! কিন্তু তারা ঠিক বুইঝা উঠতে পারে না যেই নোয়া সাহেব নিজের কেশরাজী দীর্ঘ করনের তরে পৃথিবী থেইকা নাপিতের বংশ নির্বংশ করনের তাগীদ অনুভব করছিলেন, তার আবার অপ্রাপ্তি কীসে!?

একজন গর্দভ গিয়া তার পশ্চাদ্দার পাইতা দ্যায় নোয়া সাহেবের সম্মুখে। নোয়া একবার তাকায়া আবার দৃষ্টি ফিরাইয়া নেন। গর্দভ বেকুবের মতোন তার দিকে চাইয়া থাকে। বান্দর তার চুলে বিনুনী বাইন্ধা দিতে যায় ভয়ে ভয়ে। নোয়া সাহেব কেবল একবার "উহু" বইলা সরাইয়া দ্যান....তার দৃষ্টি ম্যালা থাকে দূরের সমুদ্রে। নোয়া সাহেবরে দেইখা মনে হইতে থাকে য্যান এক সন্ন্যাসব্রত পালনে থাকা মানুষ।

এইরম ভাবেই চইলা যাইতে থাকে বছরের পর বছর। নোয়া সাহেবের কোন দৃকপাত নাই। সে মন খারাপ নিয়া তার বদ্ধ সাম্রাজ্য, তার নৌকা নিয়া ঘুরতে থাকেন...

হঠাৎ এক ভোরে নৌকার সব প্রাণীরা দ্যাখে নোয়া সাহেব তাগো কক্ষের বাইরে দাঁড়াইন্যা। সবার মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্য দেখা দ্যায়। বাৎসল্য প্রবণ প্রাণীকূল নোয়া সাহেবরে দেইখা উদ্বেলিত হয়, তবে হুজুরের মান ভাঙলো?

নোয়া সাহেব গম্ভীর গলায় শৃগালেরে ডাকেন,

শিকু একবার বাইরে আসো।

তারপর আবার তিনি তার আরাম কেদারায় গিয়া বসেন। শৃগাল আইসা তার পাশে দাঁড়াইলে। তার দিকে তিনি বিমর্ষ নয়নে তাকাইয়া ক'ন,

শিকু এই দুনিয়া তো অবিনশ্বর নয়। একদিন সবাইই মরবো? তাই না?

শৃগাল ভয়ে ভয়ে তার দিকে তাকায়া মাথা নাড়ে। মুখে কিছু কয় না।

শিকু আমি যদি মারা যাই...তাইলে এই নৌকার কি হইবো!? আমার নাম তো মুইছা যাইবো এই পৃথিবীর বুক থেইকা...তাইলে এই ক্ষমতার অর্থ কী!?

দীর্ঘ কাল নোয়া সাহেবের নৌকার প্রশ্নহীন এনভায়নমেন্টে থাকতে থাকতে শৃগালেরো বৃদ্ধিতে য্যান মরিচা পইরা গ্যাছে। সেও কিছু ভাবতে পারে না শুরুতে। কিছুক্ষণ পর সে খুবি ম্রিয়মান কন্ঠস্বরে কয়,

হুজুর আপনে বিয়া করেন...

পুরানা কাল হইলে নোয়া সাহেব লগে লগে তারে নৌকার থেইকা নামায়া দিতো মহা সমুদ্রে...কিন্তু এইবার নোয়া সাহেব য্যান তার মধ্যে নাই...এ এক অন্য নোয়া...

[siদেখো কী হয়...

২.
নৌকায় তোড়জোড় পইড়া গ্যালো। নোয়া সাহেবের বিয়ার খবরে প্রাণীকূল রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। তারা সকলে নিজের নিজের কন্যাদিগে সাজাইতে গুছাইতে লাগলো। এরম একটা নৌকার মালিকের লগে বিয়া দিতে পারলে তো তারাও ক্ষমতাধর হইয়া উঠবো এই আশায়...

গর্দভের কন্যা, খচ্চরের কন্যা, বান্দরের কন্যা, ভল্লুকের কন্যা...সবাই মহা সাজ দিয়া নোয়া সাহেবের সামনে দিয়া ঘুরে। নোয়া সাহেব তো কারন খুঁইজা পান না। তিনি ধমকাইয়া উঠেন,

খামোশ! সবাই ভিতরে যাও! সাজগোজ পরিহার করো! নৌকা ঘাটে ভিড়াও!

৩.
প্রাণীকূল যা ছিলো নৌকায় তারা নোয়া সাহেবের পাত্রী খুঁইজা আনতে দলে দলে পৃথিবীর অলিতে গলিতে ছড়াইয়া পরলো। কিন্তু তারা পাত্রী কোথায় পাবে!

সকলেই ব্যর্থ মনোরথে ক্লান্ত শরীরে নৌকায় ঢইলা পড়ে। নোয়া সাহেবের লগে কোন কথা কওনের সাহসও পায় না। কেবল শৃগাল সব সাহস তার মুখে জড়ো কইরা নোয়া সাহেবের সামনে গিয়া খাড়ায়।

হুজুর কেউতো রাজী হয় না। আপনের এতো সুন্দর ফটোগ্রাফ পৃথিবীর সকল রূপসী কন্যারে দেখাইয়া ফেললাম। কিন্তু কারো মনে কোন ভাবান্তর নাই...কেবল আছে অকহতব্য কথা...আমরা ব্যর্থ হুজুর আমাগোরে শাস্তি দ্যান...

নোয়া সাহেব সবাইরে অবাক কইরা দিয়া শান্ত স্বরে ক'ন,

[siকারো ছবি আনছো?

শৃগাল তো মুফতে এরম শান্ত নোয়া সাহেবরে পাইয়া গল্পের ঝুড়ি খুইলা বসতে যায়,

জ্বী হুজুর! একটা দোকানে ঢুইকা শরীরের সমস্ত ত্যাল বেইচা একটা ক্যামেরা ফোন কিন্যাইতো বাইর হইলাম। আমি কি আর গর্দভ-খচ্চর-বান্দরের মতোন বুকা নাকি? তারপর সব মাইয়ার ছবি তুলছি লুকাইয়া...

দেখাও...

এরপর নোয়া সেই ক্যামেরা ফোন নিয়া নিজেই দেখতে শুরু করে। শৃগাল ভাবে সুন্দর মেয়েদের চেহারা দেইখা হুজুরের যদি ভাবান্তর হয়...কিন্তু কোন মেয়ের ছবিতেই তার পুলক জাগে না। তার চেহারা মলিনই থাকে। সে একের পর এক ছবি দেখতেই থাকে আর দেখতেই থাকে। সব প্রাণীকূল অস্থির নয়নে তার দিকে চায়া থাকে...হুজুর যদি একজন মেয়ে পছন্দ করে তাইলে তারে যেমনে হোক এই নৌকায় হাজির করবো তারা...নৌকায় উঠাইয়া মধ্য সমুদ্রে গেলে গা তখন আর পছন্দ অপছন্দের কী বালাই!

নোয়া সাহেব একের পর এক ছবি দেখেন। শয়ে শয়ে ছবি। পুরা মেমোরী কার্ড ভর্তি ছবি...

হঠাৎ...

নোয়া সাহেব থামেন। তিনি মুখ তুইলা তাকান। ক্যামেরা ফোনটা শৃগালের হাতে দ্যান। শৃগাল স্ক্রীনের দিকে তাকাইয়া দেখে। তার চোখ ভয়ে বিষ্ফারিত হয়। একী! এই ছবিতো সে তুলছিলো আরেক শৃগালিনীর লগে টাংকি মারতে গিয়া। এক বাঁশঝাড়ে লুকাইয়া থাকা রূপবতী শৃগালিনী...তবে কী...

না ছবিতে আরো একজন আছে। ঐ বাঁশঝাড়ের মালিক। যে তার লম্বা দাঁ উচাইয়া বাঁশ কাটতেছে। হুজুর কী তবে...

... বছর ... মাস পর

নোয়া সাহেবের মন এখন ভালো। ভালো আছে সেই বাঁশঝাড়ের মালিকও। পুরুষের পশ্চাদ্দার প্রীতি ধর্মে হালাল নয়। কিন্তু আরামেই তো আছে। সারাদিনের শ্রমতো কেবল ঐ বাঁশ উচকাইয়া ধরাটাই। নোয়া সাহেব তো নিজেই নিজের পশ্চাদ্দার উন্মুক্ত করেন ও চাপেন...একদিন যেহেতু মরতেই হইবো...জীবনের সবচাইতে মধুর স্মৃতি নিয়াই তো মরা ভালো...
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৭
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×