১.
নোয়া সাহেবের মন খারাপ। কেনু মন খারাপ সেইটা অবশ্য তিনি ধরতে পারতেছেন না। আশেপাশের সকল গর্দভ-বান্দর-সাপ--বেজী-খচ্চরেরা তার মলিন মুখ দেইখা একটু বিহ্বল। কিন্তু ভয়ে কেউ কাছে গিয়া জিগাইতে পারতেছে না মন খারাপের কারন। নোয়া সাহেবের রাগ সম্পর্কে তারা পুরামাত্রায় ওয়াকিবহাল। মহাপ্লাবনের টাইমে রাগের চোটে তিনি ডোডো পাখিরে তো ইতিহাস থেইকাই বিলুপ্ত কইরা দিছিলেন! কিন্তু তারা ঠিক বুইঝা উঠতে পারে না যেই নোয়া সাহেব নিজের কেশরাজী দীর্ঘ করনের তরে পৃথিবী থেইকা নাপিতের বংশ নির্বংশ করনের তাগীদ অনুভব করছিলেন, তার আবার অপ্রাপ্তি কীসে!?
একজন গর্দভ গিয়া তার পশ্চাদ্দার পাইতা দ্যায় নোয়া সাহেবের সম্মুখে। নোয়া একবার তাকায়া আবার দৃষ্টি ফিরাইয়া নেন। গর্দভ বেকুবের মতোন তার দিকে চাইয়া থাকে। বান্দর তার চুলে বিনুনী বাইন্ধা দিতে যায় ভয়ে ভয়ে। নোয়া সাহেব কেবল একবার "উহু" বইলা সরাইয়া দ্যান....তার দৃষ্টি ম্যালা থাকে দূরের সমুদ্রে। নোয়া সাহেবরে দেইখা মনে হইতে থাকে য্যান এক সন্ন্যাসব্রত পালনে থাকা মানুষ।
এইরম ভাবেই চইলা যাইতে থাকে বছরের পর বছর। নোয়া সাহেবের কোন দৃকপাত নাই। সে মন খারাপ নিয়া তার বদ্ধ সাম্রাজ্য, তার নৌকা নিয়া ঘুরতে থাকেন...
হঠাৎ এক ভোরে নৌকার সব প্রাণীরা দ্যাখে নোয়া সাহেব তাগো কক্ষের বাইরে দাঁড়াইন্যা। সবার মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্য দেখা দ্যায়। বাৎসল্য প্রবণ প্রাণীকূল নোয়া সাহেবরে দেইখা উদ্বেলিত হয়, তবে হুজুরের মান ভাঙলো?
নোয়া সাহেব গম্ভীর গলায় শৃগালেরে ডাকেন,
শিকু একবার বাইরে আসো।
তারপর আবার তিনি তার আরাম কেদারায় গিয়া বসেন। শৃগাল আইসা তার পাশে দাঁড়াইলে। তার দিকে তিনি বিমর্ষ নয়নে তাকাইয়া ক'ন,
শিকু এই দুনিয়া তো অবিনশ্বর নয়। একদিন সবাইই মরবো? তাই না?
শৃগাল ভয়ে ভয়ে তার দিকে তাকায়া মাথা নাড়ে। মুখে কিছু কয় না।
শিকু আমি যদি মারা যাই...তাইলে এই নৌকার কি হইবো!? আমার নাম তো মুইছা যাইবো এই পৃথিবীর বুক থেইকা...তাইলে এই ক্ষমতার অর্থ কী!?
দীর্ঘ কাল নোয়া সাহেবের নৌকার প্রশ্নহীন এনভায়নমেন্টে থাকতে থাকতে শৃগালেরো বৃদ্ধিতে য্যান মরিচা পইরা গ্যাছে। সেও কিছু ভাবতে পারে না শুরুতে। কিছুক্ষণ পর সে খুবি ম্রিয়মান কন্ঠস্বরে কয়,
হুজুর আপনে বিয়া করেন...
পুরানা কাল হইলে নোয়া সাহেব লগে লগে তারে নৌকার থেইকা নামায়া দিতো মহা সমুদ্রে...কিন্তু এইবার নোয়া সাহেব য্যান তার মধ্যে নাই...এ এক অন্য নোয়া...
[siদেখো কী হয়...
২.
নৌকায় তোড়জোড় পইড়া গ্যালো। নোয়া সাহেবের বিয়ার খবরে প্রাণীকূল রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। তারা সকলে নিজের নিজের কন্যাদিগে সাজাইতে গুছাইতে লাগলো। এরম একটা নৌকার মালিকের লগে বিয়া দিতে পারলে তো তারাও ক্ষমতাধর হইয়া উঠবো এই আশায়...
গর্দভের কন্যা, খচ্চরের কন্যা, বান্দরের কন্যা, ভল্লুকের কন্যা...সবাই মহা সাজ দিয়া নোয়া সাহেবের সামনে দিয়া ঘুরে। নোয়া সাহেব তো কারন খুঁইজা পান না। তিনি ধমকাইয়া উঠেন,
খামোশ! সবাই ভিতরে যাও! সাজগোজ পরিহার করো! নৌকা ঘাটে ভিড়াও!
৩.
প্রাণীকূল যা ছিলো নৌকায় তারা নোয়া সাহেবের পাত্রী খুঁইজা আনতে দলে দলে পৃথিবীর অলিতে গলিতে ছড়াইয়া পরলো। কিন্তু তারা পাত্রী কোথায় পাবে!
সকলেই ব্যর্থ মনোরথে ক্লান্ত শরীরে নৌকায় ঢইলা পড়ে। নোয়া সাহেবের লগে কোন কথা কওনের সাহসও পায় না। কেবল শৃগাল সব সাহস তার মুখে জড়ো কইরা নোয়া সাহেবের সামনে গিয়া খাড়ায়।
হুজুর কেউতো রাজী হয় না। আপনের এতো সুন্দর ফটোগ্রাফ পৃথিবীর সকল রূপসী কন্যারে দেখাইয়া ফেললাম। কিন্তু কারো মনে কোন ভাবান্তর নাই...কেবল আছে অকহতব্য কথা...আমরা ব্যর্থ হুজুর আমাগোরে শাস্তি দ্যান...
নোয়া সাহেব সবাইরে অবাক কইরা দিয়া শান্ত স্বরে ক'ন,
[siকারো ছবি আনছো?
শৃগাল তো মুফতে এরম শান্ত নোয়া সাহেবরে পাইয়া গল্পের ঝুড়ি খুইলা বসতে যায়,
জ্বী হুজুর! একটা দোকানে ঢুইকা শরীরের সমস্ত ত্যাল বেইচা একটা ক্যামেরা ফোন কিন্যাইতো বাইর হইলাম। আমি কি আর গর্দভ-খচ্চর-বান্দরের মতোন বুকা নাকি? তারপর সব মাইয়ার ছবি তুলছি লুকাইয়া...
দেখাও...
এরপর নোয়া সেই ক্যামেরা ফোন নিয়া নিজেই দেখতে শুরু করে। শৃগাল ভাবে সুন্দর মেয়েদের চেহারা দেইখা হুজুরের যদি ভাবান্তর হয়...কিন্তু কোন মেয়ের ছবিতেই তার পুলক জাগে না। তার চেহারা মলিনই থাকে। সে একের পর এক ছবি দেখতেই থাকে আর দেখতেই থাকে। সব প্রাণীকূল অস্থির নয়নে তার দিকে চায়া থাকে...হুজুর যদি একজন মেয়ে পছন্দ করে তাইলে তারে যেমনে হোক এই নৌকায় হাজির করবো তারা...নৌকায় উঠাইয়া মধ্য সমুদ্রে গেলে গা তখন আর পছন্দ অপছন্দের কী বালাই!
নোয়া সাহেব একের পর এক ছবি দেখেন। শয়ে শয়ে ছবি। পুরা মেমোরী কার্ড ভর্তি ছবি...
হঠাৎ...
নোয়া সাহেব থামেন। তিনি মুখ তুইলা তাকান। ক্যামেরা ফোনটা শৃগালের হাতে দ্যান। শৃগাল স্ক্রীনের দিকে তাকাইয়া দেখে। তার চোখ ভয়ে বিষ্ফারিত হয়। একী! এই ছবিতো সে তুলছিলো আরেক শৃগালিনীর লগে টাংকি মারতে গিয়া। এক বাঁশঝাড়ে লুকাইয়া থাকা রূপবতী শৃগালিনী...তবে কী...
না ছবিতে আরো একজন আছে। ঐ বাঁশঝাড়ের মালিক। যে তার লম্বা দাঁ উচাইয়া বাঁশ কাটতেছে। হুজুর কী তবে...
... বছর ... মাস পর
নোয়া সাহেবের মন এখন ভালো। ভালো আছে সেই বাঁশঝাড়ের মালিকও। পুরুষের পশ্চাদ্দার প্রীতি ধর্মে হালাল নয়। কিন্তু আরামেই তো আছে। সারাদিনের শ্রমতো কেবল ঐ বাঁশ উচকাইয়া ধরাটাই। নোয়া সাহেব তো নিজেই নিজের পশ্চাদ্দার উন্মুক্ত করেন ও চাপেন...একদিন যেহেতু মরতেই হইবো...জীবনের সবচাইতে মধুর স্মৃতি নিয়াই তো মরা ভালো...
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


