সামহোয়্যার ইন ব্লগের এখনকার যেই প্রাণ অনুভব করা যায়...এখন যেই কম্যুনিটি ব্লগিং দেখি তার শুরু হইছিলো কিছু তরুণের প্রাণোচ্ছ্বল অংশগ্রহণে। তারমধ্যে রাশেদরে চোখে পড়তো সবচেয়ে বেশি...তারপর একে একে আসলো আরো বেশ কয়েকজন। প্রবাসে থাকা প্রায় সমবয়সী এই সব ব্লগাররা ব্লগে আন্তঃযোগাযোগরে নিয়ম বানাইয়া দিলো। এই সব তরুণের মধ্যে বিষাক্ত মানুষ-ছায়ার আলো-নরাধম-একরামুল হক শামীমের নাম মনে পড়তেছে এই মুহুর্তে। তারা সব ব্লগারের ব্লগে গিয়া কমেন্ট করতো। দীর্ঘ আড্ডা দিতো ব্লগেই। যার উপর ভর কইরা সামহোয়্যার ইন তার আজকের রূপ পাইছে। আজকের এই যে ব্লগারগো ফ্রেটারনিটি তৈরী হইছে এইটা গইড়া তুলনের লেইগা একদল তরুণের প্রচূর সময় গেছে ব্লগভূমিতে। আমি নিজে উৎসাহিত হইতাম তাগো তারুণ্যের উচ্ছ্বাস দেইখা।
বিষাক্ত মানুষ নিকের আড়ালে থাকা ছেলেটার লগে আমার পরিচয় হইলো একটা আড্ডায়। ইউরোপ থেইকা দেশে ফিরা আসা একজন তরুণ। পুরা আড্ডা জমাইয়া রাখলো তার প্রাণবন্ত প্রকাশ দিয়া। কখনো সে বিনয়ের অবতার, কখনো সে প্রতিবাদী তরুণ।
সেই বিষাক্ত মানুষের ব্লগ ডিলিট হইছে শুইনা আমিতো আকাশ থেইকা পড়লাম। সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের হইছেটা কী! পরে এক বন্ধুর মুখে যা শুনলাম তাতে অবশ্য ব্যাপারটারে আমার স্বাভাবিকই মনে হইলো। সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের সেই পুরানা অভ্যাসমতো এইবারো ব্যক্তিগত আস্ফালনের শিকার হইলো আরেকজন ব্লগার। এই ব্লগ যেহেতু তাগো পয়সায় চলে (যদিও এখন একটেল কোম্পানীর একটা বিজ্ঞাপণ ঝুলানের কারণে এই দাবী সম্পূর্ণ সঠিক নয়), তাগো ইচ্ছাধীনই থাকতে হইবো সব ব্লগাররে। কোন কিছুর প্রতিবাদ করন যাইবো না, কর্তৃপক্ষীয় কোন আচরণের বিরোধীতা করন যাইবো না... কেবল গঠনমূলক সমালোচনার নামে তাগো প্রশস্তি গাইতে হইবো। নাইলে কারো রক্ষা নাই...
বিমা কোন বিষয়ে পোস্ট দিছিলো, কারে আক্রমণ কইরা পোস্ট দিছিলো সেই তথ্য আমার জানা নাই স্পেসিফিক্যালি, তয় শুনলাম সে কর্তৃপক্ষের কাউরে একজন ব্যানকৃত ব্লগারের দেহরক্ষিনী কইছিলো...শব্দটা শুইনা যদিও আমার তেমন কিছু মনে হয় নাই প্রথমে...কিন্তু সূত্র যখন ইঙ্গিতপূর্ণ কইলো তখন মনে হইলো বাংলা ভাষা কম জানা মানুষের কাছে এইটারে অন্যরকম লাগতেও পারে...
বাবুয়া যদি হয় সেই ব্যানকৃত ব্লগার তাইলে ব্লগ কর্তৃপক্ষরে আমারো অনেক সময়েই বডিগার্ড টাইপ মনে হইছে। তারা এই ব্লগারের বিরুদ্ধে গেলে অনেক কিছুই মুইছা দ্যায়...এই ব্লগারের অনেক নেতিবাচক কমেন্ট তাগো দৃষ্টি এড়াইয়া যায়। নতুন নিকে আসা বাবুয়া তাই জুলভার্ন হইয়াও তার পুরানা এটিচ্যুড নিয়াই চলে...ইভটিজিং নিয়া একটা তৃতীয় সারির পোস্ট কর্তৃপক্ষ স্টিকি বানাইয়া ঝুলাইয়া রাখে, যাতে ব্যান হওয়া বাবুয়ার যাতে জুলভার্ন হিসাবে ইমেজ পুনরুদ্ধার হয়। যেই পোস্টে জুলভার্ন ইভটিজিংয়ের জন্য মেয়েরাও দায়ী বইলা পুরুষের নোংরামিরে জায়েজ করতে চাইছে তারে একজন নারী মডারেটর কর্তৃক ভালো লাগা পোস্ট হিসাবে বিবেচিত হইতে দেইখা এই দেশের নারীগো পুরুষতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য টের পাই।
আর কিছু কইতে চাই না। কেবল বিষাক্ত মানুষের ব্লগ ডিলিটের মধ্য দিয়া ব্লগ কর্তৃপক্ষ যে আবারো তাগো অযোগ্যতা প্রমাণ করলেন, আবারো যে তারা দেখাইলেন ব্যক্তিগত ইগো আসলে অবিবেচক মানুষের প্রকাশভঙ্গী...তার প্রতিবাদ জানাইতে চাই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

