আমাগো কৈশোরে বিপ্লব চক্রবর্তী নামে এক গায়ক নেত্রকোনা থেইকা আইসা রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা গান গাইতেন। অন্তর বাজাও নামে একটা গানের দলও মনে হয় তৈরী হইছিলো ঐ সময়টায়। তার কিছু গান মনে পড়তেছে হঠাৎ আজকে।
করিতে না পারি দড়াদড়ি
সহিতে না পারি দড়াদড়ি
সমাজের শেকলে আটকা পড়েছে পা
সোহাগে নাম রেখেছো নারী...
আরেকটা গান ছিলো রুদ্রদার
আমার এ মরুভূমি
দূরে সুদূরে তুমি
শহরের দালান কোঠা রইলো পড়ে রে
দিন গেলো দিন গেলোরে ও দিন গেলোরে...
চারুকলার আড্ডাটারে মিস করতেছি আইজকা। আমি মনে হয় কনিষ্ঠতমগো মধ্যে একজন ছিলাম। কতোরকমের লোক জমা হইতো সেইখানে!
জাহিদ নামের একজনের একটা গান খুব জনপ্রিয় হইলো একসময়...
নারী হয় লজ্জাতে লাল
ফাল্গুনে লাল শিমুল বন
এ কোন রঙে রঙীন হইলো বাউল মন...
আমাগো সময়টা ছিলো অনেক ঘটনার-অঘটনার। বর্তমান শহরের প্লাস্টিক কাহিনীটারে আসলেই কেরম অসহ্য ঠেকতেছে আজকের এই মধ্যরাতে। পাঠক সমাবেশের আড্ডার লগে আজিজ মার্কেটরে মিলাইতে পারি না। পিজি'র পিছনের বটগাছ। শান্তনুদা-তপনদা-শোয়েব সাদাব-বিষ্ণু দা, বন্ধু শামীম, বায়েজীদ মাহবুব, আসাদ, বহুজনের নাম আইসা অহেতুক ভীড় করতেছে মাথায়।
বয়স বাড়তেছে আসলে। মনে পড়তেছে আজফার ভাই একদিন টাল হইয়া বনলতা সেনের এক্সটেম্পোর অনুবাদ পড়তেছিলেন...এনামুল হক নামের একজনের মুখে একদিন শুনলাম। সে নাকি জীবনানন্দ দাসের চাইতে অনেক ভালো লাইন লেখে। কবি হইলেন বিনয় মজুমদার। এনামুল হকের খুব বেশি কবিতা পড়ি নাই, একটা কবিতার লাইন মনে পড়লো হঠাৎ,
রিকসা কার খানকী মাগী, মটরকার লেসবিয়ান সঠিকতা নিয়া যদিও সন্দেহও আছে।
আজিজ মার্কেট এখন আগের চাইতে অনেক বেশী জমজমাট। কিন্তু সেইখানে যাইতে ভয় লাগে ক্যান জানি।
আজকের রাতটারে পুরানা অনেক স্মৃতির মোড়কে ঢাকতেছি। সাইবার পার্ভারশনটা অন্ততঃ ছিলো না তখন। প্রযুক্তি আসলেই পুঁজিতান্ত্রিক ব্যক্তিকেন্দ্রীকতার মাল...এইখানে যূথবদ্ধতার কোন জায়গা নাই...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

