somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ডাইরী ১১১ এক.
কোন কিছুতেই আর থিতু হওয়া হইবো না হয়তো। ঘরে ঢুকলেই মনে হয় আর কোথাও গিয়া রাতটা কাটাইয়া আসা যাইতো...আবার বাইরে অন্ধকারে হাটতে হাটতে মনে হয়, বাড়ি ফিরা যাওনের কথা। অন্ততঃ বিছানাটারেতো আপন বইলা জানি। ঐখানে কাওরে তোয়াক্কা কইরা চলতে হয় না। বাসায় ঢুইকা নিজের ঘরের দরজা আটকাইলেই মনে হয় এই স্থানটা একান্ত আমার। কেউ আইসা উকি দেওনের নাই। খবরদারীর জন্য আগ বাড়াইয়া কেউ দাঁড়ায় না এই ঘরের দরোজায়। রিপিটেডলি একই গান চলতে পারে এই ঘরে। বিরক্ত হইয়া কারো থামাইয়া দেওনের সম্ভাবনা নাই। আমার সমস্ত আইলসামী নিয়া কেবল এই ঘরেই আমি অনায়াশে কাটাইতে পারি। এই ঘরে উদ্যোগীরা নিষিদ্ধ। এই ঘরে উচ্চাশাদের মানা...

দুই.
আমার ঘর গুছাইতে আমার মা'ও ভয় পায়। অথচ ছোটবেলায় এই মায়ের ডরে কতো অযুহাতই না বানাইতাম। নিষেধ থাকা সব কাজেই যেহেতু ছিলাম সমান ভাবে তাই অযুহাতগুলিরে সৃজনশীল এবং বাস্তবানুগ করতে হইতো। আর এখন আমার ঘরের ধুলা ছাড়া আর কোন কিছুই অবস্থান পরিবর্তন করে না। যে যেইখানে যেমনে জীবন শুরু করছে ঐখানেই তারে থাকতে হয়, যাতে হাত বাড়াইলেই তারে পাওয়া যায় অভ্যাসমতোন। আমি এখন প্রিয় জিনিষ-প্রিয়জন হারাইয়া ফেলনের আশঙ্কারে লালন করি প্রতিনিয়তঃ।

তিন.
নিজের ঘরে, নিজের মধ্যে থাকতে থাকতে উপলব্ধি তৈরী হয়, যতো কমসংখ্যক মানুষের মুখ দেখি দিনে ততো ভালো, মানুষের মুখ-প্রশ্ন আর অনুসন্ধিৎসা বিব্রতকর হয়। ফেইসবুক-ব্লগের প্রচ্ছায়ায় থাকা মানুষগুলিরে দেখার রিস্কেও যাইতে কেরম অসহায় লাগে কয়েক সময়।

কোন কিছুতেই যেহেতু আর থিতু থাকতে পারি না, সেহেতু হয়তো এই অবস্থারো পরিবর্তন ঘটবো। আমি হয়তো আবার কিছুদিন কাটামু বাইরে পরিচিত গন্ডিতে...আবার ঘরে একলা। পৌণপুনিকতা আর ভালো লাগে না মানুষ জীবনে...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29160362 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29160362 2010-05-22 15:59:07
ডাইরী ১১০
লেখার টাইমে তা'ও শব্দেরা ভাবনার সাথে সাথে দৃশ্যমান হয়, কিন্তু কথা কওনের সময় আমি হাত-পা নাড়ি, বাংলার পরিবর্তে ইংরেজী শব্দে সাজাইতে হয় চিন্তার মূর্তিরে। ইংরেজীটাও যদি ভালো পারতাম! তাইলে অন্ততঃ ভাইবা নিতে পারতাম একটা অঞ্চলের মানুষরেতো প্রতিনিধিত্ব করতেছি। নিজের দূর্বলতারে ঢাকনের লেইগা বাংলা আর ইংরেজী শব্দের মিশ্রনে গোজামিল দেই...আমার লেখনীর একটা বৈশিষ্ঠ্য হিসাবে হয়তো বিষয়টা আগের থেইকাই ছিলো...কিন্তু এখন সেই বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিকতায় ঘটনাটা ঘটে না। বরং এখন স্বতঃপ্রনোদিতভাবেই আমি বাক্যরে ভারী করি শব্দের ঘনঘটায়।

ভারী বাক্যগুলিতে ছদ্মবেশ চড়াই...মাত্রার গাথুনিতে ফেলি...তারা যেই কাঠামোটা পায় সেইটারে অনেকে কবিতা হিসাবে গণ্য করে। অনেকে জিগায় এইটা কি মূক্তগদ্যের কাঠামো কী না...আমি তখন কইতে পারি না কিছুতেই, নিজের দূর্বলতারে প্রকাশ করনের তাকদ আমার থাকে না। আদর্শ মধ্যবিত্তের মতোন আমি নিজেরে লুকাইয়া ফেলতে চাই, নিজেরে রহস্যের ঘেরাটোপে আটকাই। চারপাশের পরিচিত মানুষেরাও দেখি রহস্যরে সমীহ করে। এই সমীহের প্রকাশে আমি ক্রমশঃ আনন্দিত হই...এই আনন্দ একেবারেই মধ্যবিত্তের নিম্নবর্গীয় অনুকরণ। আজকের রাতে আমার মুখোশটারে অন্ততঃ আয়নায় খুইলা দেখনের ইচ্ছা জাগ্রত হয়। আমি উন্মোচনের যেই প্রক্রিয়াটা জানি তারেই প্রয়োগ করনে সচেষ্ট হই। বড়ো ক্লিশে এই পদ্ধতি!

যদিও ক্লিশে'রে আমি চীরকাল ভালোবাসছি। চীরকাল ক্লিশেরে নিজের চিন্তা কাঠামোতে অন্তর্ভূক্ত করছি, আলোচনার ব্যপ্তিতে সবসময় ক্লিশের স্বাভাবিক প্রকাশের চেষ্টা করছি। সেই ক্লিশে ভক্ত আমি এখন প্রায়শঃ'ই ক্লিশে চিন্তারে শব্দের কাঠামোতে দেখতে পারি না। আমার শর্ট টার্ম মেমোরী লস বইলা একটা মানসিক অশান্তি দেখা দ্যায়। আমি চুল ছিড়ি শব্দের খোঁজে। আমি বাতাসে হাতরাই-স্মৃতির পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টাই। কিন্তু প্রয়োজনীয় শব্দেরা কোথাও কোন আড়ালে লুকাইছে...আমার ডাকে তারা মাঝে মাঝেই সাড়া দ্যায় না। শব্দের সাথে বসতির জীবনাচরণ নেওনের সাধটা আস্তে আস্তে কঠিন হইয়া পড়ে, রিসেন্টলি সরলমতি হইয়া উঠা আমার।

সমস্যাটা চিহ্নিত করতে পারি অবশ্য আমি। আজকাল বিবিধ বন্ধুগো(?) ফেইসবুক স্টেটাস ছাড়া বাংলায় গঠিত বাক্য পড়া'ই হয় না। বাড়িতে এই মুহুর্তে কোন বাংলা বই নাই...সময় কাটাইতে আমি ছড়ানো ছিটানো ইংরেজী বইগুলি থেইকাই খানিকটা খানিকটা কইরা পড়ি। কাছাকাছি সময়েই আমি তিনটা বই একসাথে শুরু করি। তারপর গল্প মনে করতে গিয়া খেই হারাইয়া ফেলি...যেই গল্পের শুরুটা ভাবি তার চরিত্রের বিস্তৃতি ঘটে আরেক গল্পের অন্য কোনো উপস্থাপনের রীতিতে। নিজেরে কেরম আনফিট লাগে সবকিছুর মধ্যে। এই বাক্যটা লিখতে গিয়া আমার হঠাৎ আমাগো সময়ের লিজেন্ড হইয়া ওঠা গায়ক আজম খানের কথা মনে পড়তে থাকে। এই লেখা তৈরীর আগে ফেইসবুকে কার জানি একটা লিংক থেইকা আজম খানের পারফরম্যান্সওয়ালা একটা বিজ্ঞাপন দেখছিলাম। সেইখানে তিনি মাইকেল জ্যাকসনের মতো পোষাকে সজ্জিত থাকেন। সম্ভবতঃ কোন ডামি পারফরমার জ্যাকসনের নাচের মূদ্রাগুলি অভিনয় করে। আমার মনে পড়ে কয়দিন আগে একটা কনসার্টে পাশে বইসা থাকা তিন/চারজন এই প্রজন্মের মাইয়া আজম খানের নাচ দেইখা হাসতে হাসতে গড়াইয়া পড়তেছিলো। নিজেরে কেরম মিসফিট লাগে। একসময় এই নাচের ধরণটা মুখস্ত করতাম। তার উপস্থাপন রীতি ঘোর তৈরী করতো আমার মধ্যে। যখন কোন আসরে গাইতাম 'সারারাত জেগে জেগে, কতো কথা আমি ভাবি' তখন আসলেই মনে হইতো আমি কোন একজন পাপড়ি'র স্মৃতিকাতর হইয়া পড়ি। মনে হইতো সেই পাপড়ি আমার দুঃখ বোঝে না আর তাই আমার ঘুম আসে না...

এই গানটা গাওনের টাইমে আমাগো সময়ের গুরুর অঙ্গভঙ্গী দেইখা নতুন প্রজন্ম কৌতুক বোধ করে! এরা সুললিত গণিতের মতোন নাচের মূদ্রায় আহ্লাদিত হয়। আবেগের এলোমেলো ধরণের প্রকাশরে এই প্রজন্মের কাছে হাস্যকর ঠেকে। আজম খানের প্রতি ছুইড়া দেওয়া টিটকারী আমি নিজের উপর টাইনা নিয়া, তব্ধা খাইয়া বইসা থাকি। মনে হয় রুচীবোধের এতো ফারাক নিয়া কেমনে দুইটা জেনারেশন মুখোমুখি জীবনযাপন করবো? এই প্রশ্নের আসলে কোন জবাব হয় না...অনেক অবভিয়াস ঘটনা এইটা...সময় আসলে এইরম আচরনরেই উৎসাহিত করে।

কৈশোরে যেরম ফুল ভলিউমে জুডাস প্রিস্ট-ডিপ পার্পল-ব্ল্যাক সাবাথ-রেইন বো-ইউরায়া হিপ শুনতাম, আজকাল আমি ছুটির দিনে আর রাইতে সেইরম গান ছাইড়া দিয়া চোখ বন্ধ করি। নিজের সেই সময়টারে ভাবতে গিয়া দেখি, আমার খালি শর্ট টার্ম না...লং টার্ম মেমোরীও আক্রান্ত হইছে। স্মৃতির তালিকা থেইকা অনেক কিছুই হাওয়া হইয়া গেছে...তাই বইলা আমি স্মৃতিভ্রষ্ট হই নাই! আমার স্মৃতি জুইড়া এখন কেবল সোয়া তিন বছর। প্রত্যেকটা মুহুর্ত আমি এখন মনে করতে পারি। আর এইসব মুহুর্তের গ্রাসেই আমি বান্ধা থাকি। যতোই তারে ভুইলা যাওনের সংকল্প করি, ততোই তারা সংখ্যায় বাড়তে থাকে। ভারাক্রান্ত হই।

ভারাক্রান্ত হইতে হইতে নুইয়া পড়ি...মাথা উচু কইরা রাখনের পুরানা অভ্যাসটা যখন মাথাচাড়া দ্যায় মাঝেমাঝে, তখন ভাবি সময় কইরা কোন একদিন কোন এক নদীর পাড়ে গিয়া তারে স্রোতে ভাসাইয়া দিতে হইবো...একই নদীর জলে দ্বিতীয়বার অবগাহন করন যায় না শুনছি...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29157920 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29157920 2010-05-19 02:23:16
ডাইরী ১০৯ প্রতিদিন তবে ঝড় উঠুক প্রান্তরে, প্রতিদিন তবে উড়ে যাক মনোহর বেলাভূমি...
এক.
এমন একটা ঝড় যদি আকাশ সীমানা ছেড়ে চলে যেতো দিগ্বিদিকে! জলের সীমানা ভেঙে চৌচির হঠাৎ শ্রান্ত বরফের কনা! তারপর হিমবাহ হতো স্লেজগাড়ি...শুভ্র স্যান্টা তোমারে জড়িয়ে ক্রোড়ে তুলে নিয়ে ছুট! কিছু বুঝে উঠবার আগেই এক্সপ্রেস মেইলের মতো তুমি চলে এলে আমাদের বিরান নিসর্গে...

দুই.
আমি কথা কই বর্ণ মেপে। আজকের দিনে কোটা শেষ হলে গল্প বলার আসর শেষ। কাল দেখা হবে বলে পালিয়েছি সমাগম থেকে।

তিন.
আজ যেহেতু ঝড়ের দেখা নাই ঈষানের গায়ে...ঝড়ের দায়ভার নেবো তবে কাঁধে তুলে। স্বেদসিক্ত আমারে বড়োই ঘুনে ধরা মনে হয়...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29155683 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29155683 2010-05-15 22:08:46
ডাইরী ১০৮ চুপ!

দুই.
চুপ!

তিন.
চুপ!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29153214 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29153214 2010-05-11 19:15:28
ডাইরী ১০৬ আমার শব্দেরা তোমারে নির্মাণ করে,
শব্দ সমূহ থাকনা আমার কাছে।
শব্দের সরব খেলা,
চলেছে শব্দের খোলামাঠ-বিছানো প্রান্তরে,
শব্দের আয়কর শোধে শব্দেরাই আছে...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29152392 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29152392 2010-05-10 13:51:19
ডাইরী ১০৫ আমি সূর্যালোক কিম্বা বাতাস অথবা
বৃষ্টি হবো...তোমার স্থবির দরোজায়
বসে র'ব আজীবন। তুমি বাইরে বেরোলেও
অপেক্ষায় কাটবে আমার সময়...
কেবল তোমার জন্য অপেক্ষা আমার
চীরকাল প্রিয় ছিলো...মনে পড়ে?

দুই.
যদিও আকাঙ্খা ছিলো
হবো তোমার চোখের মনি,
অথবা বাড়িয়ে দেয়া হাত...
তুমি হেটে যাবে পথে, নিজের গন্তব্যে।

তিন.
আমি তোমার গন্তব্য হতে চাইনা,
গন্তব্যেরা বড়ো দূরে দূরে থাকে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29150993 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29150993 2010-05-08 10:59:51
ডাইরী ১০৪ কখনোই একা থাকা হয় না আমার, মুহুর্তেরা এমন রয়েছে পাশে।

দুই.
স্মৃতি সহচর হলে, তারে কখনো এড়িয়ে যেতে চাই নাই...

তিন.
তুড়ি মারতেই সব মুছে হয়ে গেলো সাদা পাতা, ভুলে যাওয়া যদি এমন সহজ হতো!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29150797 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29150797 2010-05-08 00:57:29
ডাইরী ১০৩ আরেকটা রাতের নাগাল থেকে ঠিকই বেরিয়ে এলাম...ঘুম ভেঙে যখন উঠেছি কোন এক শুভ্র স্মৃতিময় খামারের মধ্যিখানে, তখন আসলে দিন নয়...তবে রাতের হাতেও আমি নেই, আমারে তখন আড়েঠোড়ে ডাকছিলো মৃত্যু; যেহেতু কিনারায় আছি, ঝাপ দিলেই তার পাজরের হাড়। কিন্তু আমি কেনো জানি আর মৃত্যুর কাছে ফিরে যেতে চাই নাই এই বেলা...

দুই.
আর আমি বসে থাকি শব্দের প্রত্যাশা নিয়ে। একেকটা শব্দে আমার অসহ যাপন...খুব শব্দপ্রেমী হয়ে উঠেছি আজকাল।

তিন.
শার্লক হোমস দেখে মনে হলো এইরম ফ্যান্টাসীতে আর মন নাই...যদিও বাস্তবতারে বন্ধুত্ব দেই নাই...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29150307 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29150307 2010-05-07 09:47:40
ডাইরী ১০৩ এক.
তবে আমি একা রয়ে যাই,
একা থেকে ভুলে যেতে চাই
কোনকালে এইখানে মানুষের বাস
ছিলো, এইখানে মানুষেরা পাশাপাশি
হাত ধরে হেটে যেতো বহুদূর কোন
নদীর কিনারে...যাহার স্রোতের টানে
তারা বিভাজিত হয়, আর
একা একা হয় ক্রমাগত...

দুই.
তুমি যদি একা হও তবে,
একাই চলেছে দেখি ঝুলন্ত বাসেরা
বিদ্যুতের সঙ্গ ভুলে তারা
কখনো যদিও ঝরে পড়ে নাই এই
ধরণীতে; ধরে নিতে হয় কারো কারো
ভালোবাসা রয়ে যায় একা
একাকীত্বের মোড়কে...

তিন.
তবু আমি একা রয়ে যাই
একা থাকাটারে ঘৃণা ভরে ভালোবেসে...
হায়রে দোটানা! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29149317 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29149317 2010-05-05 21:03:28
ডাইরী ১০২ ধাঁধাঁময় গোলক বাড়িতে ঘুরি। কোথায় কোথাও চিহ্ন পড়ে আছে তোমার পায়ের...কোথায় তোমার শরীরের ঘ্রাণ লেগে আছে। ধাঁধাঁর আড়ালে লিখে রাখা বিভাজন রীতি ভুল করে দেখে ফেলি অথবা দেখেছি ভুল...ভয়ে আমি চোখ বেধে ঘুরেছি এবার। হয়তো পা হড়কে পড়ে যাই...চোখ বান্ধা বলে বুঝি নাই।

দুই.
এ বাড়ির মেঝেময় জলের নহর। কেউ কেউ নাকি পাঙ্গাশ মাছের ঝাঁক চলে যেতে দেখে। আমার তালিকা দেখে তারা হয়তো থামে নাই এইবার। আমি তাহাদের পিছল প্রান্তরে পা হড়কাই নাই কিংবা বান্ধা চোখে দেখি নাই পাঙ্গাশের ব্যর্থ চলাফেরা। আমার নজর কেবল তোমার সময়ে...শব্দে, শব্দে...তোমার অরণ্যে।

তিন.
আমি চোখের বাঁধন খুলে ফেলে দেখি বাড়িটার থেকে বেরিয়েছি। দেয়ালের রঙ পাল্টালেও তার আস্তরণে লেগে আছে পুরান সুবাস...আমার জীবন তবে যাক ঘ্রাণে ঘ্রাণে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29148740 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29148740 2010-05-05 00:23:15
ডাইরী ১০১ মুখোমুখি আমি আর কারো সাথে
কথা কইবো না। মুখ আর মুখ,
মুখোমুখি হলে মূখর সময় কেটেছে
এককালে...এখন আমি মুখেরে বিশ্রামে
রাখি। ক্লান্ত মুখ অপরাধে নত থাকে...
তাকায় না কোন মুখপানে...
কেবল প্রায়শঃ পানে পানে
শব্দ লেখালেখি...

দুই.
নারীদের বিষয়ে আমার অনাগ্রহ ছিলো না কখনো।
কেবল নারীর নাড়ি নিয়ে ভাবি নাই,
ভাবি নাই কবে আমি অধিকারী হবো,
কোন এক নারীর শরীরে।
শরীরের অধিকারে আমার রয়েছে
অবিশ্বাসের পঠন।
শরীরে সম্মতি বিষয়ক খেলা
বড়ো অসহায় খেলে,
তারচেয়ে ভালো হয় মন নিয়ে
উচাটন, ফুটবল খেলা...
সে খেলায় গোল হয়, সমাপ্তির রেখা আছে,
মৃত্যুর মতোন।

তিন.
তবে আমিও পিছলে পড়েছি
তোমার শরীরে...শরীরের ঘ্রাণে।
পরিসমাপ্তি ঘটেছে
আরেক মাসের...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29145081 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29145081 2010-04-29 21:38:21
ডাইরী ১০০ একদিন তোমার কন্ঠস্বরে ভেসে যাবো এমন ইচ্ছের স্রোত আমারে আলুথালু স্থিতু রাখে। যদিওবা আমি আজকাল বেশ সৃজনশীল হয়েছি, তোমার ফেলে দেয়া অক্ষরগুলোরে স্বর বানিয়ে শুনেছি কিছুক্ষণ। দুধের সোয়াদ যদি মিটে যেতো ঘোলে তবে আর কোন উদ্বেগ ছিলো না, কেবল সবেগে ছোটাছুটি হতো।

দুই.
অনেক ভাবার পর বুঝে গেছি বাংলা ভেঙেছিলো আভিজাত্যের কোন্দলে। আমিও আভিজাত্যের পোশাক রেখেছি খুলে, তুমি বললে তারে পোড়াবো আগুনে।

তিন.
আমার শব্দেরা ভেঙেছে কাঙ্খিত নীরবতা। নীরবতায় যেমন শান্তি আছে বিপরীতে শব্দেরা কর্কশ হয়...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29143120 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29143120 2010-04-27 12:47:14
ডাইরী ৯৯ আভিজাত্য আর স্বতন্ত্র হওয়ার আকাঙ্খায় থেকেছে তাহারা, তাই আমি আর কোন অঞ্চলে যাবো না কখনোই। এর চেয়ে ভালো নিজের গভীরে অন্তর্গত থাকা। মানুষের সাথে আর আজকাল কথা কওয়া হয় না...আমার চারপাশে সব অভিজাত পোশাকেরা ঘোরাফেরা করে। তাদের সুতায় সুতায় রয়েছে লেখা বুননের নীতিমালা। যারে ভুল করে নতুন বুনোট দিলে পাল্টে যাবে পরিচয়, বিদেশী বনিক ছুড়ে ফেলে দেবে হয়তো আস্তাকুড়ে।

এই ভয় কাজ করে পোশাকের আভিজাত্যে...

দুই.
চুপচাপ তবে আগের মতোই থাকি...কারো কোন কথা পর্দা পেরিয়ে আমার কানে পৌছবে না, এমন একলা থাকনের রীতিটাই ভালো।

তিন.
আমি বাংলাকে আবারো ভেঙে ফেলি এই সুযোগে। ইতিহাসের নতুন নির্মাণ করেছি অনায়াশে। যারা যারা ফ্যাসিজমে ছিলো তারা সব কীটের অধম। সময়ে তাহারা অনেক ক্ষমতা ধরেছিলো যদিওবা, কিন্তু ইতিহাসের হার্ডল পেরোলেই তারা হয়েছে আবর্জনার সম...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29142379 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29142379 2010-04-26 08:57:17
ডাইরী ৫০ এক.
নাম নিয়া ভালোই প‌্যাচ লাগে এই দেশে। নবজাতকের নাম রাখা নিয়া রীতিমতো পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দ্যায়। নানা বাড়ি থেইকা দেওয়া নাম আর দাবা বাড়ির নামের পছন্দ এক না হওনে মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়। আমার নিজের নাম নিয়াই এমন ক্যাচাল লাগছিলো...নানা স্বদেশী আন্দোলনে গেছিলেন তার বাবার পিস্তল চুরি কইরা। তখন তার নাকি মাত্র ১৫/১৬ বছর বয়স। তিনি ফিরা আসেন অবশ্য বিদ্রোহের মাঝামাঝি সময়েই, কারণ বৃটিশ শাসকের চাকরী করা তার বাপের তখন খুব খারাপ অবস্থা। এমনিতেই ধর্ম পরিবর্তনের লেইগা নিজের সমাজচ্যূত হইছিলেন তিনি শুরুতেই...তার উপর ইংরেজরাও তখন শত্রু। নানা ঐ কৈশোর কালে এই চাপ নিয়া খুব বেশিদিন পলাইয়া থাকতে পারেন নাই।

তো এই বিদ্রোহী নানা শেষ কালে আমার নাম করণ করলেন এক বিপ্লবী ডাকাতের নামে। আর দাদা বাড়ি থেইকা দেওয়া হইলো আরেক নাম। নানার দেওয়া নাম হিন্দুয়ানি দোষে দুষ্ট হওনের কারণে বাড়িতে আমারে দাদাবাড়ির দেওয়া নামেই ডাকা হয় বেশীরভাগ সময়। কিন্তু আমি নানার নাম ব্যবহার কইরা ফেলতে সক্ষম হই সার্টিফিকেটে-পাসপোর্টে।

আমার বাপতো মেঝো চাচার শ্বশুর বাড়িতে যাওয়া বন্ধ রাখছিলেন দীর্ঘদিন। তাগো অপরাধ মেঝো চাচার একমাত্র ছেলের নাম রাখছিলাম আমি। কিন্তু তার বেয়াই সাহেবের নিয়ত মতো অন্য আরেক নামে তার পরিচিতি হইতে শুরু হয়। আমার নিজের তেমন কোন ক্ষোভ ছিলো না যদিও। কারণ এই চাচীর বাড়িতে যাইতে ভালোই লাগতো আমার। অনেক খাওন দাওন জুটতো।

তো আজকে হঠাৎ নাম নিয়া নতুন বিতর্ক উঠতে দেইখা মজাই পাইলাম। আমাগো শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নাম পাল্টানো হইলো দীর্ঘকাল পর। নতুন নাম কি হইতে পারে এইটা মনে হয় না অনেক হার্ড লাইনার আওয়ামি কর্মীরাও আন্দাজ করতে পারছিলো। আমারে জিগাইলে আমিও মনে হয় সবার মতোন কইতাম বঙ্গবন্ধু'র নামে হইতে পারে। কিন্তু সকল মানুষরে অবাক কইরা দিয়া বিমান বন্দরের নতুন নাম দেওয়া হইলো ইসলামী আওলিয়া শাহজালালের নামে।

এই নামকরণের উদ্দেশ্য-বিধেয় বুঝতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। যাতে জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে একটা ইসলামী প্রতিপক্ষ দাঁড় করাইয়া ভবিষ্যত আন্দোলনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করা যায়। অথবা আওয়ামিরা হয়তো ভাবতেছে তারা আর ক্ষমতায় আরোহন করবার পারবো না পরবর্তী নির্বাচনে, তাই আগের থেইকাই একটা আন্দোলনের সুযোগ তৈরী কইরা রাখা আর কি...কারণ চারদল বা বিএনপি যেই ভাবেই পরবর্তী সরকার গঠিত হোক, বিমান বন্দর থেইকা জিয়ার নাম তুইলা দেওনের প্রক্রিয়া যাতে বহাল থাকে। তখন ইসলামী বাতাবরণে আওয়ামিরা ভালোই আন্দোলন চালাইবো।

লোকমুখে জানি আওয়ামি লীগের ইতিহাসে মুসলিম কানেকশান সবসময় শরীয়তি ছিলো। যাগো লগে জামায়াতের খুব বেশী দূরত্ব নাই। বিশ্ব রাজনীতিতেও শরীয়ত পন্থী দেশগুলির লগে আওয়ামি কানেকশান ভালো্। কিন্তু এই ইসলাম দিয়া জামায়াত-বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন...তারাও বড়ো শরীয়তের মুসলমান। কিন্তু মারেফত বা হাকীকতের যেই ইসলাম এই দেশের বড় অংশের মানুষের পছন্দ, তারে পুঁজি করলে বরং আওয়ামিগো আখেরে লাভ হওনের সম্ভাবনা। যার ফলশ্রুতিতেই আওয়ামি লীগ বাইছা নিলো এই দেশের বুজুর্গ ধর্ম প্রচারকগো মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়জনরে। শাহজালাল সাহেব নিজে এই রাজনৈতিক খেলারে কেমনে দেখতেন কে জানে...

দুই.
নাম যাই হোক না কেনো আমার মন খারাপের কোন পরিবর্তন হয় না। আমি স্থবির অসুস্থ থাকি। বাতাসে শরীর ভাসানোর খেলা খেলতে গিয়ে বুঝতে পারি...বয়সের ভার অনেক গিয়েছে বেড়ে। যদিও দুষেছি মধ্যাকর্ষণ শক্তিরে...

তিন.
ঘুম কম হওয়াতে মনে হয় বেড়ে যাচ্ছে আমার টেনশন। অজানা-অচেনা সব সম্ভাবনা গুলি প্রবল দৌড়ায় আমার হৃৎপিন্ডের প্রান্ত এলাকায়...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29099414 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29099414 2010-02-17 01:23:02
ডাইরী ৪৯ কেবল মেটাফোর নয়। সম্ভবতঃ সেই বায়ূ গুলি আমার পাকস্থলিময় ঘোরাফেরা করে। আর প্রায়শঃ হৃৎপিন্ডের বহিস্থভাগে চাপ দ্যায়। আমি ব্যথা অনুভব করি।

ঘুমতো গিয়েছে ঘুমের বাড়িতে...আমার চারপাশে তারা tip toe করে হাটে। কোনভাবেই তার পদশব্দ শুনি না রাত হলে। ধরতে গেলে বাউলি কেটে সরে যায় অন্যকোনখানে। কিন্তু আজকে আমার ঘুমানোর রাত হওনের কথা। কাল সকালে উইঠা আবার সেই হাতিরপুল যাইতে হইবো। তারপর যাইতে হইবো অফিসে...চারটা স্ক্রিপ্টের কাজ পইড়া আছে দুই সপ্তা ধইরা। কোন গল্পই জুইত মতো ফেলতে পারতেছিনা ব্র্যান্ড সেটআপে।

উইন্যাম্পে এখনই বাজতেছে শৈশব-কৈশোরের প্রিয় একটা গান। কাকতালীয়ভাবে গতোদিন বিমার লগে এই গান নিয়া গল্প হইতেছিলো। UB40-র এই গানে মাথার চুল দুলাইয়া নাঁচতাম আমরা। বয়সের লগে সেই উৎসাহ কই গেছে...বেশ কিছুদিন হয় Led Zepplin শোনা বাদ দিছি...দুঃখবোধের গান শুইনা আরো অস্থিরতা ভীর করে। এখন শুনি টানা Beatles আর আজকে থেইকা Bob Marley শুনতেছি। লগে কেমনে জানি একটা আক্ষেপের গান ঢুইকা গেছে play list-e...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29098665 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29098665 2010-02-16 00:36:39
ডাইরী ৪৮ প্রায় ৩৭ বসন্ত দেখনের ভাগ্য হইলো আমার। ভ্যালেন্টাইন দিবস আমার জীবনে খুব বেশী সময় গুরুত্ববহ হইছে কীনা তা মনে করতে পারতেছিনা। তয় এইবারের ভ্যালেন্টাইন দিবসের আগেই আমি কেরম সংকুচিত হইয়া যাই। কেরম অন্যরম সব উপলব্ধি তৈরী হইতে শুরু করে। যেই কারণে বিকাল থেইকাই শরীর খারাপ বুঝতে পারলেও গা করি নাই। ভাবছি মন খারাপের সাথে শরীর খারাপের হয়তো যোগসূত্র আছে। কিন্তু রাত বাড়তে থাকলে বুঝি এইবার হয়তো নতুন কোন সিম্পটম বাসা বাঁধে শরীরের কুঠরীতে।

আমার জীবন খুব বেশী দিনের হয়তো নয়। মানুষ আরো বহুদূর যায়। তবু বুঝি বার্ধক্য আসে চুপিসারে। রাতের সাথে গভীর হইতে শুরু করে স্টমাক পেইন। সাধারণ ধারণা মতোই বুঝি এই ব্যথা মন খারাপজাত নয়। এই ব্যথা বয়স্ক আর অনভ্যস্ত পাকস্থলীতে হঠাৎ ভারী খাবারের যন্ত্রণা। উদ্ভট সব শব্দে গ্যাস নির্গত হইতে শুরু করে পেট থেইকা। পাক খাইয়া খাইয়া অসম্ভব ব্যথা। রাত যখন ২টা তখন বুঝি এই ব্যথা হয়তো রাত ফুরাইলেও শেষ হইবার নয়।

রাত যখন আড়াইটা তখন ফোন দিলাম বেশ কয়েকজন বন্ধু আর পরিচিতরে তারা যদি জানে এই বেদনার উপশম। কিন্তু কেউ ফোন ধরেনা। একজন অতঃপর ধইরা কয় পেইন কিলার খাইতে পারেন এন্টাসিড সহযোগে। আমি সারা বাড়ি তন্ন কইরা কোন এন্টাসিড উদ্ধার করতে পারি না। তখন সে আবার ফোন করে। কয় দাদা হাসপাতালে যান। এই ব্যথা অনেক সময় কম্প্লিকেসী তৈরী করে। আমি রীতিমতোই আসলে ভয় খাই।

এতো রাইতে, মানে পৌনে তিনটার সময় হাসপাতালে কেমনে যামু। বাসায় বৃদ্ধ বাপ-মায়েরে জাগাইতে ইচ্ছা করেনা। অতঃপর একাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই ভয়ে। আমার মনে পড়ে মান্না ভাইয়ের কথা তিনিও নাকি একা গাড়ি ড্রাইভ কইরা হাসপাতাল গেছিলেন। সেই হাসপাতাল থেইকা তিনি আর ফেরেন নাই। একা থাকনে কোন সাক্ষীও নাই যে হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দায়ের করবার পারে। আমি তবু বাইর হই। কিন্তু নিজেরে কেরম অক্ষম মনে হয়। পেট চাইপা ধইরা ডানের রাস্তায় যাই। সেইখানে অবস্থানরত চৌকিদার কয় বামের পথে কিছু রিকসা পাইবেন। আমি তার কাছ থেইকা পানি চাইয়া পান করি। কিন্তু ব্যথা কমে না। উপরন্তু আবারো বমি হয়, পেট আবারো খালি হয়। একটা মোটর বাইকে একজন ভদ্রলোক আসেন...আমি তারে অনুরোধ করি,"ভাই আমারে একটু হাসপাতালে নামাইয়া দিয়া আসেন।" সে ভয় পায় প্রত্যাশিত মতেই। আমি আর কিছু কইতে পারি না। কেবল ভাবি হয়তো আমিও একই আচরণ করতাম এই পরিস্থিতিতে। সামাজিক সম্পর্কের ধরণতো এখন এইরমই...

বামের রাতা ধইরা এইবার হাটি। পথ আর ফুরাইতে চায় না। একসময় পৌছাইলে বামের রাস্তার চৌকিদারের কাছ থেইকা পানি খাই আর পরিনতিতে আবার বমি। কিন্তু এইবার একটা রিকসার মুখ দেখি। তিনজন কর্মজীবী কোনখান থেইকা বাড়ি আসতেছে। আমি তাদের কাছে গিয়া অনুরোধ করতেই তারা রিকসা থেইকা নামে। তাগো মহানুভবতা আমারে মুগ্ধ করে। কিন্তু পেটের ব্যথায় তার প্রকাশেও মনে হয় ঘাটতি রয়ে যায়!

আমি একা একাই হাসপাতালে পৌছাই। ইমার্জেন্সীতে যোগাযোগ করি। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পৌছাই একই রিকশায়। রিকশাওয়ালা ভাইয়ের সচেতনতা আমারে মুগ্ধ করে। আহা শ্রেণীর ঐক্য!

দুই.
ভোররাতে ঘুমাইতে যাওনের কারণে ঘুম ভাঙে প্রায়ে দুপুর বেলা। এর মধ্যেই মৌসুমের বাবা'র ফোন। যদি তাদের কোনভাবে সহযোগিতা করতে পারি একটা পারিবারিক কাজে। আমি নিজের অবস্থার কথা জানাইলে তারাও আমারে বিশ্রাম নিতেই বলেন। কিন্তু নিজেরে আসলে দায়বদ্ধ'ই লাগে। তাই বিকালে বের হই হাতিরপুলের পথে।

তখন মাথায় আসে ব্লগীয় বন্ধুগো আড্ডায় যাইনা কেনো এর পর...তাই কাজ শেষ হইলে একলাই রওনা দেই ধানমন্ডি ৫ নম্বরের দিকে। সেইখানে প্রায় সাড়ে আটটা পর্যন্ত গপসপ। কিন্তু বিমারে নিয়া বাড়ি ফেরার পথে বুঝি বাঙালি সংস্কৃতি এক নতুন উপপাদ্যে আছে। সারা ঢাকা শহরের ট্যাক্সি ক্যাব আর সিএনজি অটো রিকশা আজকে ভ্যালেন্টাইন দিবসে একলা মানুষের সেবা বর্জন করছে। প্রেমিক-প্রেমিকা যূগল না হইলে এই ঢাকায় আজকে কোন যানবাহনেই ওঠা সম্ভব নয়।

আমি হাটতে শুরু করি। শুক্রাবাদ থেইকা ফার্মগেইট। ফার্মগেইট থেইকা মহাখালি। পথরে আমার ভ্যালেন্টাইন মনে হয়। পথের সাথে জোড় বেধে আমি হাটতে থাকি। আমার শ্লথগতিরে কেরম অন্যরম লাগে চারপাশের বাড়ি ফেরতা যূগলগো পাশে। শো শো কইরা তারা আমারে অতিক্রম করে। গাড়ি পায়...আমি হাটি।

একটা বাস পাই শেষে মহাখালিতে পৌছাইয়া। এবং অবাক করা বিষয়, প্রায় খালি একটা বাস। যেনো পথরেও আমার থেইকা দূরে সরানের চক্রান্ত। আমার তখন আর কেউ থাকে না। আমি একলা হই বাসভর্তি মানুষের ভীরে। বাড়ি ফিরি। একলা ঘরে বন্দি হই। আমার ভ্যালেন্টাইন হয়ে বাঁচে আমার চিন্তারা...স্মৃতি...আর একাকীত্ব...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29097989 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29097989 2010-02-15 00:40:21
ডাইরী ৪৭ ফাগুনের মাতাল হাওয়া মন উতলা করে দেয়।
উতলা আমি রঙের সরোবরে ভেসে যাই...
কিন্তু কেরম প্লাস্টিক মানব-মানবীদের স্রোতে
ফিরে আসি তীরে...নাক ঢেকে মাটির ঘেরান নেই,
আহা! আমার প্লাস্টিক গন্ধী ভোর।

দুই.
তেলে আর জলে যেরম মিশেছে এইবেলা
আমিও তেমন রয়েছি...আল্ট্রা ওয়াইড দৃষ্টিতে
তাদের বড়ো দূরের মানবী ঠেকে।
আর কাছে গেলে তাদের ভাঙাচোড়া মুখ
যাতনার অনুভূতি তোলে...

তিন.
কালো পাঞ্জাবীটা আজ গেয়েছে শোকের গান।
আর ক্যামেরার কালো স্ট্র্যাপের বসন্ত
ঠিকরে পড়েছে কোন ফুটপাতে।
আমার উৎসব এভাবেই থেমে থাকে।
পথে আর ফুটপাতে। পথের ধুলোয় মাখামাখি করে
তারা বারম্বার তাড়া দ্যায় বাড়ি ফিরে যেতে।

চার.
সন্ধ্যে হবার আগেই আমি বাড়ি ফিরে এসে
বর্ণহীন ঠান্ডা জলের নীচে শরীরটাকে ছুড়ে দেই।
শরীরের নিথর ভাষায় জল বুঝে নেয়
দিনটা কেমন গিয়েছে আবর্জনায়
আর প্লাস্টিকে প্লাস্টিকে... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29096931 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29096931 2010-02-13 20:57:09
ডাইরী ৪৬
আমার জীবনে শব্দ এখন গুরুত্ববহ হয়। আমি কী-বোর্ডের ঠকঠকানি ভালোবাসি, আমি এখন সারাদিনরাত কোমল গান শুনি বাংলা-ইংরেজী। আজকে অভীক চইলা যাইতেছে মালয়শিয়াতে। ৬ মাসের জন্য। আমার একটা খুব খারাপ সময়ে ক্যানো জানি না অভীক অনেক কাছের বন্ধু হইয়া গেলো। এখন আমি যে আবার অন্ততঃ সতেজ চোখে ঘুরিফিরি...তার জন্য অভীকের অবদান অনেক্ষানি।

বন্ধুত্ব বিষয়টা উদ্ভট লাগে আমার ধীরে ধীরে। আসলেই মানুষের কাছে আমার গ্রহণীয়তা নিজের কাছেই উদ্ভট লাগে। এতোদিন আমার ধারণা জন্মাইছিলো সবাই আমারে এড়াইয়া চলার চেষ্টা করে...মিডিওক্রিসি কে ভালোবাসবো কও! যেমন মেলায় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্লগার তীরন্দাজ আমার পরিচয় পাওনের পর যখন জড়াইয়া ধরলেন, আমি সত্যিই অভিভূত হই। আমি অভিভূত হই যখন অনেক দূরবর্তী বন্ধুরা আমার বিষন্নতার পাশে এসে দাঁড়ায়...তারা উদ্দীপ্ত করনের জন্য উদ্যোগ নেয় কোন কারণ ছাড়াই...আমি সত্যিই আবেগের দোলাচলে ভাসি।

কয়দিন আসলে নিপাট বক্তব্য লিখতেছি। কাব্যময়তা হারায় চিন্তার অভাবে। আহা, আমি তারে বিসর্জন দিতে উন্মুখ থাকি। আমি কেবল ডুবে যেতে চাই নিজের মধ্যে...কেবল ভাবি দায়বদ্ধতায় জীবনেরে আর কখনো বাঁধা যাইবো না...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29096334 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29096334 2010-02-13 00:16:39
ডাইরী ৪৫ আমার ছিলো ইচ্ছাঘুম। যখন ইচ্ছা তখন চাইলেই ঘুমাইতে পারতাম। আর এখন আমি চাইলেই ঘুমানের সেই ক্ষমতা হারাইয়া ফেলছি। ঠিক যেনো টাইফয়েড রোগীর মতোন অবস্থা। জ্বর শেষে তার একটা দাঁগ রাইখা যাবে রোগীর শরীরে। কেউ কানে খাটো হয়, কারো কোন একটা অঙ্গ শক্তিহীন হইয়া পড়ে। স্পৃহা নষ্ট হয় কারো। আর আমার জীবনের এই মুহুর্তের বদলা গেছে ঘুম, আসছে একগাদা স্মৃতির পসরা। আমি নির্ঘুম থাকি, গান শুনি আর আমার মাথায় খেলে সব উদ্ভট ইমেজ।

তবে অবস্থার উন্নতিটা বুঝতে পারি। মাসখানেক আগেও আমি মানুষের সঙ্গ আদৌ উপভোগ করতাম না। এখনও হয়তো উপভোগ করি না। কিন্তু সহ্য কইরা নিতে পারি। মাঝখানে অনেক আবোল তাবোল অভ্যাসের দাস হইয়া পড়ছিলাম। সেইগুলি থেইকা নিজেরে বের কইরা আনতে পারছি। রাত হইলেই যখন ঘুম থাকে না চোখে...কেবল স্মৃতিহত স্বপ্ন থাকে, তখন বিষন্নতায় পায়।

ছোটবেলায় সিবা-গেইগীর একটা অষুধের বিজ্ঞাপন দিতো। বিষন্নতা একটি রোগ। আর কিছু না বইলা তারা বেচতো তাগো স্ট্রেস রিলিভিং পিল লারগ্যাকটিল। পরে এই অষুধটারে মানসিক চিকিৎসকরাও প্রেসক্রাইব করতো মাদকাশক্তি নিরাময়ের পথ্য হিসাবে। কিন্তু ধীরে ধীরে এর ব্যবহার কমছে, কারণ এইসব প্রজাতির অষুধে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। মানুষ ক্রমশঃ অন্য আসক্তিতে নিপতিত হয়। এক শেকল থেইকা বের হইয়া অন্য শেকলের বন্ধনে আটকায়।

আর আমি যখন চেষ্টা করলাম...আমার কোন আসক্তিতেই খামতি পড়লো না। আমি আরো আষ্টেপৃষ্টে জড়াই স্মৃতিরে। স্মৃতিরে অনেক আনন্দময় মনে হয়...যার নিরীখে ভবিষ্যতরে মনে হয় অনিশ্চয়তা আর একাকীত্বের...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29095754 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29095754 2010-02-12 01:21:11
ডাইরী ৪৪
আজকে হঠাৎ কইরাই মনে হইলো এই সপ্তাহের শেষটাও ঢাকার বাইরে কোথাও যাই। এক বন্ধু মারফত যাওনের জায়গাটাও ঠিক হইয়া গেলো। তার গবেষণাস্থল বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় ছবি তুলতে যামু। কয়লার আন্ধারে স্মৃতিরেও আঁধার করে রাখতে যদি পারি!?

আমার কলিজারে নরম কইলো একজন। নরম কলিজার কোন স্থান নাই এই পৃথিবীর দৌড়ে। আমি অস্বীকার করবার পারি না। আমার ঘরে এখন গান বাঁজে নরম...তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29095068 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29095068 2010-02-11 02:03:25
ডাইরী ৪৩ অর্থহীনতারে আমি হৃদয় মিশিয়ে চিনি...আমার অর্থহীনতা আসে অর্থের অভাবে...অতএব খুঁজে পাই সকল কিছুতে বেনিয়মের মজা।

দুই.
যে তুমি আছো অর্থের সঙ্কটে তারে আমি নতশিরে সেলাম জানাই। অর্থ মানে, নিশ্চয়তারে, এড়িয়ে গিয়েছি এইবার...অথচ তারেই জানি জীবনের নিয়মমাফিক।

তিন.
এইবার তবে চলো অর্থহীনতারে খেলি। একীভূত করি উভয়ের বেঁচে থাকা। ভবিষ্যতের সকল প্রতিশ্রুতি আর প্রত্যাশারে ঝেটিয়ে বিদায় করে চলো নেমে যাই জলজ উদ্যানে...যেইখানে রয়েছে সকল সুখের আশ্বাস...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29093705 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29093705 2010-02-08 22:56:35
ডাইরী ৪২ অর্থহীনতা বেদম বাঁজো তুমি...অর্থহীনতা এই প্রহরে শোনাও তবে গান...অর্থহীনতায় তবে সপে দেবো আমার পরান...আহা!

২.
আমার মতোই তুমিও কী তবে
অর্থহীনতায় আছো...আহা, আমার প্রবেশ দ্বার
তবে কেবল তোমার জন্য দিবারাত্র খোলা...

৩.
আমার শহর শূন্য করে কোন শহরে বেজেছো
তবে তুমি?
আমার শহর তাই দেখি আজ নীরব থেকেছে,
মরুভূমি?



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29093127 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29093127 2010-02-07 23:55:42
ডাইরী ৪১
বহুদিন পর এক্কেবারে চিন্তাবিহীন যা ইচ্ছা তা কওয়া শুরু করলাম। শুরুতে ঘর অন্ধকার কইরা আয়রন মেইডেন শুনলাম খানিক্ষণ...তারপর একেবারে ভোরে মনে হইলো এইবার ঘুমাই...কিন্তু ঘুম আসলো না...উদ্ভট একটা ফোন আসলো। একটা বাচ্চা মেয়ে ফোন করছে, কয় চাচ্চু আন্টি বাজারে গেছে তোমারে ঘুমাইতে নিষেধ করছে। আমি আর ঘুমাইনি। এখনো জেগে আছি...কোন আন্টি আর বাজার থেকে ফিরে না।

দুপুরে একবার ফোনের রিসিভ্ড নাম্বার চেক করলাম। না এইরম কোন ফোন নাম্বার নাই। আমি একটা জিপি নম্বর দেখছিলাম যদ্দূর মনে পড়ে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29090845 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29090845 2010-02-03 20:24:38
ডাইরী ৪০
ছোটবেলায় ভয়ের স্বপ্নগুলি দেখলে কোত্থেইকা জানি মা আইসা উপস্থিত হইতেন। আর আমি তার আঁচলে মুখ গুজতাম। কিন্তু কালকে আমি কারে জানি একবার কইলাম, "এইবার আমি পলাইতে চাই...যেইখানে কোন সংকট নাই..."। মানে আমি বলতে চাইতেছিলাম অচেনা এমন কোনখানে যাইতে চাই...যেইখানে তুমিও নাই...সবকিছুরে সন্দেহ হইতেছিলো। রেস্তোরাঁর ওয়েটার থেইকা পানির গেলাস...সবকিছুরে...

দুঃস্বপ্ন আমি দেখি নাই এর মাঝে এইরম না। গতোকাল ছিলো ভৌতিক রাত। আজকের কৃষ্ণা দ্বাদশীর চাঁদটার মতোন। কেরম ক্ষয়াটে। কেরম ঘোর লাগা। সিনিক্যাল হইতেছিলাম। আর পলাইতে চাইতেছিলাম। কিন্তু কিভাবে পলাইয়া থাকা সম্ভব সেইটাও বুঝতে পারতেছিলাম না। কাউরে বুঝাইতেও পারতেছিলাম না যে, আমার কোন প্রত্যাশা নাই। এমন কি মুক্তির!

আমার সাধারণ স্বপ্নের কাহিনীতে অনেক জটিলতা থাকে প্রায়শঃ'ই। কিন্তু ন্যারেটিভ একটা গল্প অন্তর্হিত থাকে। গতোকালের স্বপ্ন আসতেছিলো অযৌক্তিক ধারাবাহিকতায়। রিপিটেশন হইতেছিলো একই ঘটনার। ভূত-ভবিষ্যত-বর্তমানের কোন মা-বাপ ছিলো না। তবে সবচাইতে ভয় পাইতেছিলাম একটা খবরে...কোন একটা চিঠি আসতেছে, যারে মনে হয় সমন বলা যায়...আমি বুঝতে পারতেছিলাম না কীসের সমন! কিন্তু আশপাশের অপরিচিত মানুষদের জিজ্ঞাসিলে তারা হাসতেছিলো ইঙ্গিতময়তায়...

যাউগ্গা ভয়াল স্বপ্নের পর আজকে হঠাৎ রিচার্ড ফেইনম্যানের তিনটা লেকচারের একটা প্রকাশনা পাইলাম হাতে...সংশয়বাদী এই পদার্থবিদের আলোচনার ভূমিকা পইড়াই অনুবাদের খায়েশ জাগলো। কালকের স্বপ্নটা যে অনিশ্চয়তার ছিলো বারবার তার কথা মনে পড়তেছিলো। ফেইনম্যানও মূলতঃ সন্দেহবাদী আর অনিশ্চয়তার বিজ্ঞান, এই বিজ্ঞানের রাজনৈতিকতা আর ধার্মিকতার পরিভাষা এবং এইসবের প্রভাবে সমাজ তার কাছে যেইরূপে ধরা দেয় তার ব্যখ্যা করতে চাইছেন। মজার ব্যাপার হইলো তিনি এই বিষয় বাইছা নিছিলেন একটা তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার সম্মেলনে বক্তৃতা দেওনের জন্য। যেইখানে উপস্থিত বিজ্ঞানীদের কাছে এই বিষয়গুলিরে অপ্রয়োজনীয়'ই মনে হওয়ার কথা। কিন্তু ফেইনম্যান বইলা কথা...গত শতকে তার চাইতে বিজ্ঞান নিয়া আর কয়জন ভাবছে!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29089715 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29089715 2010-02-01 22:52:54
ডাইরী ৩৯ চোখের ডাক্তার দেখাইয়া বিপদেই পড়লাম। নতুন চশমা দিছে। বাল্যকালের সকল সমস্যা নাকি আবার ফিরা আসছে। এক্সিসে সমস্যা। মাইওপিয়া হইছে দ্বিগুণের বেশী। চশমার সিলিন্ড্রিক্যাল কাঁচের অনভ্যস্ততায় পড়ছি। তয় চশমার দোকানে গিয়া ছোটকালের সেই শিয়াল পন্ডিত ফ্রেমটা কিনতে ইচ্ছা করতেছিলো বহুত। কিন্তু কি ভাইবা জানি কিনি নাই।

আগে এইরম সিদ্ধান্ত নেওনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ভাবতাম না। এখন কেনো যে ভাবি ক্যান জানি। ভাবাভাবির জায়গা থেইকা বাইর হইয়া নিজের মতোন হওনের সিদ্ধান্তটাই নিতে চাই আবার। সেই বাল্যকালের মতোন। যা ইচ্ছা করবো তাই করুম।

শবে বরাতের রাইতে মরিচ বাতি বানানের লেইগা পটাশিয়াম নাইট্রেট, সালফার আর গরুর ঝিল্লি লইয়া ধরা খাইলাম পুলিশের হাতে। ঘটনাক্রমে একমাস হাজতবাস। বাপে তখন ভারতবাসী। সে ফিরা আসছে একমাস পর হাতে একগাদা পুজাবার্ষিকী আর একটা এসএস ম্যাচ ব্যাট। আইসা খুশিতে যখন গদগদ, তখন মা হাসতে হাসতে কইলো পোলায় তো তোমার শ্বশুড়বাড়ি ঘুইরা আইছে। সে কিছু না ভাইবাই চড় মারলো।

আর আমি কিছু না ভাইবা পলাইলাম বাড়ি থেইকা। ২০০ টাকা পকেটে লইয়া সীমান্তবর্তী শহর রুহিয়ায় চইলা গেলাম। আজকাল সেইসব দিনের মতোন বাধাহীন হইতেই ইচ্ছা করে আবার। নিজেরে কেরম আটকা আটকা লাগে।

আমার পুরানা স্বভাবে ফিরা যাইতে ফিরা যাইতে পারতেছি মনে হয়। চোখের ডাক্তার থেইকা চইলা আসছি আটকা লাগনের অনুভূতিতে...আসলেই শৈশব-কৈশোরের সেইসব স্বাধীনতারে আবার ফিরা পাইতে ইচ্ছা করতেছে বহুত...দায়বদ্ধ থাকনের দায় দিয়া কিছু হয় না মনে হয়। থাকতে হয় আস্থা। আমরা কেউ আস্থাশীল না হইয়াই অবদমনের খেলা খেলতে শুরু করি।

আর অবদমন নয় এইরম জায়গা থেইকাই আবার নিজের পৃথিবীটারে সিলিন্ড্রিক্যাল কাঁচের এই পাশ থেইকা দেখতে ইচ্ছা করতেছে আজকাল...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29089010 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29089010 2010-01-31 17:30:39
ডাইরী ৩৮ আর উনি আকাশের চাইতে ভালোবাসেন সবুজ বন
অথবা পাহাড়।
তিনি পায়ে হাটা পথটারে চান মসৃণতার নির্মাণ,
আর উনি খানিকটা এলোমেলো ছন্দবিহীন চলেন
তাঁর দায়িত্ববোধে সচেতনা
উনি স্বপ্নে থাকেন বিলাসী...

ফারাকগুলো চোখের 'পরে লাগে
ফারাকগুলো ভীষণ যন্ত্রণাতে বাঁজে
তবু
যে কীসের অনুরাগে আছেন তাহারা পরস্পরে...

তবু আমি সময়টারে উপভোগেই থাকি
চেয়ে থাকি পরস্পরের পৃথক
ভালোবাসায়, বাসায়।

অবসন্ন দুপুরগুলোতে তাঁরা পানের বাটায় মগ্ন থেকে
আড়মোড়া ভাঙেন অবসাদের বিষন্ন দোলায়
তবু
যে কীসের অনুরাগে আছেন তাহারা একীভূত-যোগাযোগে...

প্রশ্নগুলো কার কাছে যে করি...প্রশ্নগুলো একলা পড়ে থাকুক...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29088410 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29088410 2010-01-30 15:39:27
ডাইরী ৩৭
উপলব্ধিগুলি যদি সাথে সাথে হইতো তাইলে তো পৃথিবীর সকল আবিস্কারক পাল্টাইয়া যাইতো। ধরেন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করতো নগুগি ইমাদো নামের কেউ, স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কারে ভূমিকা রাখতো হয়তো পিটার ক্যানেস্তারা, পুথিবী সুর্যের চতুর্পাশে ঘোরে এই খবর জানা যাইতো থিওটনিয়াস অনোনি নামক কারো মারফত। তাইলে মানুষের দোষটা কোথায়? লেনিন সাহেবরে এই কারণেই শ্রদ্ধা করি...ভুল না করলে বিপ্লবও সম্ভব না, এইরম কথা কেবল তিনিই কইতে পারছিলেন..]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29088008 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29088008 2010-01-29 20:53:37
ডাইরী ৩৬
করিতে না পারি দড়াদড়ি সহিতে না পারি দড়াদড়ি সমাজের শেকলে আটকা পড়েছে পা সোহাগে নাম রেখেছো নারী...
আরেকটা গান ছিলো রুদ্রদার

আমার এ মরুভূমি দূরে সুদূরে তুমি শহরের দালান কোঠা রইলো পড়ে রে দিন গেলো দিন গেলোরে ও দিন গেলোরে...

চারুকলার আড্ডাটারে মিস করতেছি আইজকা। আমি মনে হয় কনিষ্ঠতমগো মধ্যে একজন ছিলাম। কতোরকমের লোক জমা হইতো সেইখানে!

জাহিদ নামের একজনের একটা গান খুব জনপ্রিয় হইলো একসময়...

নারী হয় লজ্জাতে লাল ফাল্গুনে লাল শিমুল বন এ কোন রঙে রঙীন হইলো বাউল মন...

আমাগো সময়টা ছিলো অনেক ঘটনার-অঘটনার। বর্তমান শহরের প্লাস্টিক কাহিনীটারে আসলেই কেরম অসহ্য ঠেকতেছে আজকের এই মধ্যরাতে। পাঠক সমাবেশের আড্ডার লগে আজিজ মার্কেটরে মিলাইতে পারি না। পিজি'র পিছনের বটগাছ। শান্তনুদা-তপনদা-শোয়েব সাদাব-বিষ্ণু দা, বন্ধু শামীম, বায়েজীদ মাহবুব, আসাদ, বহুজনের নাম আইসা অহেতুক ভীড় করতেছে মাথায়।

বয়স বাড়তেছে আসলে। মনে পড়তেছে আজফার ভাই একদিন টাল হইয়া বনলতা সেনের এক্সটেম্পোর অনুবাদ পড়তেছিলেন...এনামুল হক নামের একজনের মুখে একদিন শুনলাম। সে নাকি জীবনানন্দ দাসের চাইতে অনেক ভালো লাইন লেখে। কবি হইলেন বিনয় মজুমদার। এনামুল হকের খুব বেশি কবিতা পড়ি নাই, একটা কবিতার লাইন মনে পড়লো হঠাৎ,
রিকসা কার খানকী মাগী, মটরকার লেসবিয়ান সঠিকতা নিয়া যদিও সন্দেহও আছে।

আজিজ মার্কেট এখন আগের চাইতে অনেক বেশী জমজমাট। কিন্তু সেইখানে যাইতে ভয় লাগে ক্যান জানি।

আজকের রাতটারে পুরানা অনেক স্মৃতির মোড়কে ঢাকতেছি। সাইবার পার্ভারশনটা অন্ততঃ ছিলো না তখন। প্রযুক্তি আসলেই পুঁজিতান্ত্রিক ব্যক্তিকেন্দ্রীকতার মাল...এইখানে যূথবদ্ধতার কোন জায়গা নাই...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29087594 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29087594 2010-01-29 00:56:04
ডাইরী ৩৫
যাউগ্গা আবার একটু ঘুমানের চেষ্টা করুম এখন যদি ক্লান্তি খানিকটা কমে। মাথায়তো চাপ পড়ছে কাইলকা অনেক। একটা বিশাল পত্রই অনেক। তার মধ্যে নিজেরে ব্যবহৃত হইছি বইলা মনে হওয়াতে বেশ ছোটলোক ছোটলোক লাগে। শ্রেণী বিভাজনের বা শ্রেণী বৈষম্যের বিরুদ্ধে আছি তবুও খুব আরামপ্রদ লাগে না জায়গাটারে।

যেই কথা কয়দিন আগে কইছিলাম জোর কইরা জোড় বান্ধন যায় না সেই চিন্তার জায়গাটা প্রকট হইতেছে। তয় আগের মতোন কোন উপলক্ষ্যটা অতো শক্তিশালি না...

এখন মনে হইতেছে যারা বন্ধুপক্ষ হইছে তাগো শত্রু বানাই। কিন্তু শত্রু বানাইতে যে কী করতে হইবো সেইটাও বুঝতেছিনা। তাগো কমু যে সব ভুল আমার...আমি খারাপ লোক, আমি আসলে মিথ্যা অপবাদ তৈরী করছি সব। আসলে কিচ্ছু ঘটে নাই। কিন্তু আমার তাতে উদ্দেশ্যটা কী?
আমিতো কারো অপেক্ষাতে নাই...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29087108 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29087108 2010-01-28 08:03:45
ডাইরী ৩৪
আড়ষ্টতা মানুষরে ঠেকায়। মানুষরে ঠেকায় তখন অসততা। এইসবতো তুড়ি মারলেই পাল্টায়। মনোবিদেরা নাইলে এতো গবেষণা করে ক্যান? তাড়া তাড়া কাগজ নষ্ট করনের লেইগা?

আমি তো ভাবি আজকাল সেই থ্রিলার যূগে ফিরা যামু। বিকাল তিনটার রেডিও বাংলাদেশে।

হ্যালো লিসনার্স! আপনারা এখন শুনবেন থ্রিলার...অ্যান্ড ইট্স ইওর ফেভারিট মাইকেল জ্যাকসন!!


It's close to midnight
something evil's lurkin' from the dark
under moonlight
You see a sight that almost stops your heart
You try to scream
But terror takes the sound before you make it
You start to freeze
As terror looks you right between your eyes
You're paralyzed

'Cause this is thriller
Thriller night
And no one's gonna save you
From the beast about to strike
You know it's killer
Thriller night
You're fighting for your life
Inside a killer
Thriller tonight, yeah...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29086746 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/29086746 2010-01-27 17:26:10