somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে!
আমার নিজের কিছু উপলব্ধি আছে, ব্যখ্যাও আছে জঙ্গীগো উদ্দেশ্য লক্ষ্য আর অস্তিত্ব নিয়া। কিন্তু প্রায় মধ্যরাইতে যখন খবর পাই আমাগো দেশীয় জঙ্গীরাও চেষ্টা চালাইতে শুরু করছে তাগো অস্তিত্ব জাহিরের। যখন আমাগো দেশীয় ধর্মের ধ্বজাধারীরাও সংস্কৃতিরে বলি দেওনের অপচেষ্টায় রত তখন মুম্বাইয়ের হত্যাকান্ডরে বহুদূরের কন্সপিরেসী লাগে।

বলাকা চত্বরের নিষ্পাপ স্থবির বলাকারা আঘাতপ্রাপ্ত হয় কার স্বার্থে সেইটা আমার মাথায় ঘোরাফেরা করতে শুরু করে। মুম্বাইয়ে তা'ও জঙ্গীরা কওনের চেষ্টা করছে তাগো এই অমানবিক হামলা মুসলমানগো নির্যাতনের প্রতিবাদে সংঘটিত হইছে। কিন্তু আমাগো মূর্তি ভাঙনের কন্ট্রাক্টররা কি কইবো!?

যূগে যূগে কালে ধর্মরে ব্যবহার কইরা শাসক প্রতিনিধিরা ফায়দা লুটনের ষড়যন্ত্রমূলক খেলায় নামছে। যেমন তা ঘটে মুম্বাইতে ঠিক তেমনি ঘটে বিমানবন্দরের সামনে, মতিঝিলে...

প্রতিবাদ জানাই ধর্মের ব্যবহারে জর্জরিত এই রাজনৈতিক কন্সপিরেসী খেলার। আহ্বান জানাই সকল সচেতন মানুষরে এই সব অপকৌশলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হইতে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28876011 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28876011 2008-11-30 00:03:45
সব দোষ বাঙালির! তারপরেও আমরা বাঙালি!
বাঙ্গালিত্ব বিসর্জন দিয়া আরেকধরনের উগ্র জাতীয়তাবাদের চর্চা করতে শুরু করনের এই কৌশলটা বা অভিমতটা কেবল ডঃ ইউনুসের অন্ধভক্তগোই সম্পদ না এর ব্যবহার চলে জীবনের আরো অনেক মুহুর্তে। আপনে বাড়তি বাস ভাড়া নেওনের প্রতিবাদে কন্ডাক্টরের লগে বাদানুবাদ করতেছেন, পেছন থেইকা শুনবেন এই ধরনের কাইজ্জামূলক ঘটনার লেইগা দায়ী আপনের অথবা বাস কন্ডাক্টরের বাঙ্গালিত্ব...অন্য কারো স্টাইল বা ফ্যাশন আপনের ভালো লাগলে তার অনুকরণ করনের পর শুনলেন বাঙ্গালি হওনের লেইগাই আপনের রক্তে এই অহেতুক অনুকরনের অভ্যাস তৈরী আছে।

আজকে এক্কেরেই বিরক্তির সময়ে টিভি চ্যানেল সার্ফিং করনের টাইমে হঠাৎ বিজ্ঞাপন জগতের দুই রথী-মহারথীর আড্ডাবাজীমূলক এক অনুষ্ঠানের মাঝখানে গিয়া থামলাম...অংশগ্রহণকারী অমিতাভ রেজা আর রাজীব চৌধুরী দুইজনেই পরিচিত মানুষ হওনে অনাগ্রহের মধ্যেও তাগো কথা শুননের তাগীদ পাইলাম। তো উপস্থাপিকা তাগো প্রশ্ন করলো অমিতাভ আর রাজীবের কিছু বিজ্ঞাপন দেখলে মনে হয় একই গল্পের পুনরাবৃত্তি, এর কারন কি? বা আজকালকার বেশীরভাগ বিজ্ঞাপনই ক্যান একরম মনে হয়। তো রাজীব চৌধুরী উপস্থাপিকা আর অমিতাভের মুখের কথা কাইড়া নিয়া শুরু করলেন আরেকটা চরিত্র উন্মোচন...বাঙ্গালিরা নাকি মারতে ভালোবাসে...এই মারা কইতে তিনি বুঝাইতে চাইলেনযে বাঙ্গালিরা চুরি কইরা বা অনুকরন কইরা চলতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। তারা কখনো মৌলিক কোনকিছু করতে পারে না।

একজন বিপনন কর্মী হিসাবে রাজীব চৌধুরীর আচরন আমার কাছে সেই পুরানা মানসিকতা ছাড়া আর কিছু মনে হইলো না। অনিশ্চিত বাজারের খুব সাধারন প্রবনতা হইলো বিদ্যমানতারে কেনাবেচা...কোন বিজ্ঞাপন যদি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে তাইলে সেইটারে একটা মান ধইরা নেওনটা কেবল বাংলাদেশ না, যেকোন অনিশ্চিত বাজারের বৈশিষ্ট্য হইতে পারে। যেই বাজারে ভোক্তার মানসিকতা অনির্ধারিত, যেইখানে ভোক্তার অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা এক্কেরেই অনির্ধারিত, সেইখানে বিপননে ক্যান রিস্ক ফ্যাক্টর নিবো ব্যবসায়িরা!?

এক্কেরেই আর্থ-সামাজিকতা কেন্দ্রীক আচরনরে বাঙ্গালির আচরন বইলা এড়াইয়া যাওনটা বরং বাঙ্গালি মধ্যবিত্তের আচরনে পরিনত হইতেছে ইদানিং...এই প্রবণতার ফ্যাড়ে আটকাইয়া যাওয়া সুশীল মধ্যবিত্তরা আর তাই আজকাল নিজেরে জায়েজ করনের খেলায় নামা ছাড়া আর কিছু করতে পারে না...শেষ কৌশল...

সব দোষ বাঙ্গালির...হায়রে বাঙালি জাতি! মুখাপেক্ষি থাকনের জ্বালাটা বড়ো জ্বালায় তোরে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28872272 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28872272 2008-11-21 21:03:22
নীতিমালা সম্পর্কে আমি যা ভাবি...
সকল বাংলা ব্লগেই পুরানা আমলের যেই ডিসকাশন ফোরাম টাইপ একটা জিনিষ আছে বা ছিলো, সেইটার ছায়া দেখি। যেই কারনে এইখানে একজন ব্লগার লেখালেখির উৎসাহ হারাইয়া ফেলে ইন্টারেকশনের অভাবে। মাইনাস-প্লাস এইখানে গুরুত্বপূর্ণ হয় প্রায়শঃই....কাস্টোমাইজ ফ্রন্ট পেইজের দাবী এইখানে তিরোহিত হয় সূচনাতেই...এইরম বহুরকমের পাঠক-লেখক চাহিদা তৈরী হয় আসলে আলোচনা-মূল্যায়ন এইসবের নিরীখেই।

ঐ আমলে সামহোয়্যার ইন'এর একটা নীতিমালা ছিলো...যেইটা ছিলো এখনকার প্রথম আলো ব্লগের নীতিমালার শেষ কথাটার মতোন। যে কোন ব্লগপোস্ট নিয়া সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষ যা ইচ্ছা তা করবার ক্ষমতা রাখেন। শুরুতে ব্লগীয় নীতিমালা নিয়া তেমন আগ্রহ না থাকায় এইটা জানছি ব্লগিং শুরু করনের বহু পরে। যখন ব্লগে ব্যানাব্যানির খেলাটা চরমে উঠলো...যুঞ্চিক্ত নামের এক সহ ব্লগার ব্যান খাইলেন যখন, তখন কে জানি এই বিষয়টা তুলছিলো সেইটা মনে নাই।

সামহোয়্যার ইনের নীতিমালা কখনোই সেই অর্থে দেখা হয় নাই, কারন ঐ সময়ে সামহোয়্যার ইন মডারেশন আসলে কখন কি হইতো সেইটা বুঝনের সাধ্য কারো ছিলো না। একটা নতুন ব্লগ সাইট যেইটা তখনো ডেভেলপমেন্টের পর্যায়ে ছিলো, সেইসময় তার অনেক ভুলভ্রান্তি মাইনা নিলেও যুঞ্চিক্তরে ব্যান করনের পর বিষয়টা ভালো না লাগাতে আমি নিজেই সামহোয়্যার ইনে আর না লিখনের সিদ্ধান্ত নেই। নতুন ব্লগ সচলায়তন, যার তখন মাত্র যাত্রা শুরু হইছে, সেইখানে লিখতে শুরু করি।

সচলায়তনে যাওনের পরেই মূলতঃ আমার নিজের নীতিমালা বিষয়ে আগ্রহ তৈরী হয়...সচলায়তনের একজন কর্তৃপক্ষের নীতিমালা প্রণয়নে সহযোগিতা করনের তাগীদে। যদিও তাগো আমি সেই সময় জানাইয়া দেই এই ধরনের ব্লগীয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে আমি নীতিমালার চাইতে কর্তৃপক্ষের ট্রান্সপারেন্সী বেশি পছন্দ করি। আমার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারনেই আসলেই আর সেই নীতিমালা প্রণয়নে অংশ নেয়া হয় নাই। তয় পরে সচলায়তন কর্তৃপক্ষের নীতিমালা আসনের পর সেই খানে বিতর্ক শুরু হয়।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় যা হয়, একটা সমস্যার সামনে পইরা, তৎসম্পর্কীত সিদ্ধান্ত নিয়া ফেইলা তারপর নীতিমালা বানানের উদযোগ থাকে ক্ষমতার চর্চাকারীগো। সচলায়তনেও অসমাধিত একটা বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভূক্ত হওনের আগেই তার বাস্তবায়ন শুরু করে কর্তৃপক্ষ, সেই সিদ্ধান্তের বলি আমার নিজেরেই হইতে হয়। ঘটনার পরম্পরায় সচলায়তন থেইকা আমারে ব্লক করা হয়। ইতোমধ্যে সামহোয়্যার ইন একটা ধোয়াটে হইলেও মোটামুটি সুস্থ্য নীতিমালা তৈরী করে...যেইটা আমার লেখালেখির লেইগা হুমকী মনে হয় নাই বইলা আমি আবারো সামহোয়্যার ইনে লিখতে শুরু কইরা দেই।

নীতিমালা আপাতঃ সুস্থ্য কইতে আমি যা বুঝি, আমার মতপ্রকাশের নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা। যেই স্বাধীনতা যেকোন সামাজিক বিষয় নিয়া লিখতে আমার লেইগা বাঁধা হইয়া দাঁড়ায় না। সামাজিক একটা রুচীবোধের জায়গা সেই নীতিমালায় হয়তো স্বীকৃত থাকে, কিন্তু সেই রুচীবোধ আমার মতপ্রকাশের লগে সংঘর্ষে না গেলেই হইলো।

সামহোয়্যার ইন ব্লগে একটা পোস্ট মারফত আইজকা জানতে পারলাম প্রথম আলো ব্লগ একটা নীতিমালা করছে। কিছুদিন আগে প্রথম আলো ব্লগের কর্তৃপক্ষরা বাংলাদেশের কয়েকজন ব্লগারের লগে মত বিনিময় সভা করলে সেই সভায় আমারেও পত্র মারফত আমন্ত্রন জানানো হয়, সেই আমন্ত্রনে আমি সেইখানে গিয়া দেখি সামহোয়্যার ইন'এরই একদল ব্লগার সেইখানে উপস্থিত...যারা আমি পৌছানের আগেই সেইখানে বক্তব্য দিয়া ফেলছে। আমিও তাই তাড়াহুড়ায় সেইখানে কিছু বলি, মডারেশনের কঠোরতা নিয়া আমার যেই বিরোধীতা আছে সেইটা খোলাখুলিই বলতে দ্যান প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ, অন্ততঃ সেই সভাতে কোন মডারেশন হয় নাই...

আইজকা সকালে প্রথম আলো'র যেই নীতিমালা দেখলাম তাতে আমি একটু অবাকই হইলাম...মনে হইলো এই নীতিমালার প্রায় প্রত্যেকটা অংশ একজন ভূক্তভোগীর ব্যক্তিগত প্রকাশ। সেই প্রকাশে আমার সহমর্মীতা থাকলেও নীতিমালা হিসাবে তারে মাইনা নিতে আমি অপারগ। পুরা নীতিমালা পইড়া দেখনের আগ্রহটাও আমার হয় নাই, যতোটুক জানছি সেইটা আরিফ জেবতিকের রম্য রচনা থেইকাই। তয় নীতিমালা'র শেষ লাইনটা...

কর্তৃপক্ষ যে কোনো ব্লগ ও ব্লগারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিল করার অধিকার রাখে।

আমার চোখে লাগছে বেশি, সাথে কলিজাতেও লাগছে। এইরম ক্ষমতার দম্ভ থাকলে আমি কোন ভাবেই সেই শক্তির ধারে কাছে নাই। প্রথম আলো ব্লগের সদস্য আমি হইতে চাই না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28859162 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28859162 2008-10-24 21:44:20
আমরা এই ভায়োলেন্ট ভায়োলেশনের বিরুদ্ধে আছি!
১. জমায়েতের স্থান : বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড এর সামনে
( বনানী থেকে উত্তরা যাওয়ার পথে হাতের বামে
বিমানবন্দরের বাসস্ট্যান্ড । যেখানে হোটেল হলিডে ইন তৈরী করা হচ্ছে , সেখানে ।
)
২. জমায়েতের সময় : বিকেল ৩টা ।
৩. কর্মসূচী শুরু : বিকেল ৩.৩০ মিনিট ।
৪. তারিখ : ২৫ অক্টোবর ,শনিবার ।

আগ্রহীগো অংশগ্রহণে সম্মতিসূচক মন্তব্য আহ্বান করতেছি...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28858980 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28858980 2008-10-24 10:21:56
নিপীড়কের গদীতে, আগুণ জ্বালো একসাথে!
নিপীড়ক ছানিরে যারা অপরাধ সন্দেহাতীত প্রমাণিত না হওয়ার অজুহাতে বাঁচাইলো চক্রান্ত কইরা, তারা আজকে সন্ধ্যায় আবার সাধারন মানুষের ট্যাক্সের টাকায় চা-পানি খাইয়া আন্দোলনরত ৬ ছাত্র-ছাত্রীরে বহিষ্কার করনের সিদ্ধান্ত নিছে। এইখানে সন্দেহ থাকনটা বাঞ্ছনীয় নয়। ছাত্রদল-ছাত্রলীগের মাস্তানেরা এখন আবার দখলে নিবো বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28857946 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28857946 2008-10-22 00:44:44
জাত গেলো জাত গেলো বলে, একী আজব কারখানা! আসুন ২৫ অক্টোবর মিলিত হই জাত পাত ভুলে... যেইদিন শহীদ মিনার ভাইঙ্গা দিছিলো পাক হানাদাররা সেইদিন আমার মায়ের চোখে জল ছিলো কি না সেইটা দেখনের সুযোগ আমার হয় নাই। কিন্তু তার আবেগী গলার স্মৃতিচারণ শুনতে শুনতে আমি টের পাই তার ক্ষোভের তেজ...কেমন দমকে দমকে উঠে। আমার মনে হইতে থাকে সেইদিন যদি আমি থাকতাম সেই প্রতিবাদমূখর চত্বরে...ভাবনার জালে আমি শিহরিত হই...অন্তরের অন্তঃস্থল থেইকা অনুভব করতে পারি তরুন প্রাণের অহংকার। ঢাকা শহরের সেই বিক্ষুব্ধ প্রান্তরে আমার মায়ের পায়ের ছাপ আছে ভাবতেই আমার হৃৎপিন্ড প্রসারিত হয়...আমি প্রায়শঃ'ই বালখিল্য বালকের মতোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে হাটতে হাটতে খুঁজতে চেষ্টা করি তার নমূনা।

ইতিহাস আর চেতনার পরাজয় কখনো এই জাতি মাইনা নেয় নাই, রূইখা দাঁড়াইতে অকুতোভয় বাঙালী জাতি তাই সবসময়েই প্রতিবাদী ছিলো...শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠিত হইছে আরো বিস্তৃত অবয়বে...একনায়কতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্রের পরাজয় ঘটছে বিভিন্ন পর্যায়ে...বাঙালী জাতি স্বাধীনতাত্তোর ইতিহাস হইছে দশকময় প্রতিবাদের ইতিহাস...কিন্তু এই দেশেও শকুনেরা বাইড়া উঠে কিছু সুবিধাভোগী লোভী মানুষের ছত্রছায়ায়...পরাজিত শক্তির নীল নকশায়। প্রতিবাদে ফুইসা উঠতে জানা তেজী বাঙালীরে বিভ্রান্ত করনটাও সহজ হইছে তাগো সরলতার ম্যানিপ‌্যুলেশনে...

আর এই শক্তির ধারাবাহিক পরিকল্পণাতে মাঝে মাঝেই আমাগো দেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়। ধর্ম ব্যবসায়িগো কুটিল চক্রান্তে এলোমেলো হয় জীবনযাপন। গতো পনর অক্টোবর আবারো তারা যখন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে নির্মাণাধীন একটা ভাষ্কর্য প্রশাসনে সামনেই জঙ্গীপনা দেখাইয়া টাইনা নামাইলো তখন আমার রক্ত শিহরিত হয়, শহীদ মিনার ভাইঙ্গা দেওয়ার পর আমার মায়ের অনুভূতি যেন আমি বুঝতে পারি...আমারো প্রতিবাদে ফাইটা পরতে ইচ্ছা করে ক্ষোভে...আমারো ঝাপাইয়া পরতে ইচ্ছা করে আন্দোলনে...

আর তাই আগামী ২৫ অক্টোবরে বিমানবন্দর চত্বরে ঘোষিত মৌন সমাবেশে আমিও থাকতে চাই...বিকাল ৩টায় আমি উপস্থিত থাকতে চাই একতারা হাতে...যেই বাউলেরা বৃটিশ অধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিলো এই দেশে, তাগো স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবনত হইতে চাই...রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাইয়া দিতে চাই মৌনতায়...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28857538 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28857538 2008-10-21 00:22:32
আমি ফাইজলামিটাই করতে চাই...রিফাত হাসান সমীপেষূ রিফাত হাসান যদিও ফাইজলামির সীমানা নির্ধারণ কইরা দিয়া গেছেন তবু আমি ধৃষ্টতা দেখাইতে কোন কসূর আমি করতেছি না আপাততঃ। লালনের প্রতি আমার অনেক আগ্রহ না থাকলেও কওমি মৌলভীগো ইতিহাস নিয়া বরং খানিকটা আগ্রহ তৈরী হয় তার কথায়, তার লেখনীতে।

তিনি তার আলোচনা শুরু করেন এইভাবে:

শিক্ষিত মধ্যবিত্ত্ব, যারা বেশীরভাগ সময়ই জরুরী মুহূর্তে কোন রেডিক্যাল অবস্থান নিতে পারে না হরেক সুবিধাবাদিতার কারণে, তাদের একটা আক্রোশ অবশ্যই আছে অশিক্ষিত মৌলভিদের প্রতি, যারা জরুরী অবস্থায় কথা বলে, প্রতিবাদ করে, ভাঙ্গে, পৌত্তলিক সমাজের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য আইকনগুলো। যারা কোন সুবিধাভোগি নয়, যারা এইসবকে প্রত্যাখ্যান করেছে, উদ্ধত, জঙলি এবং অসভ্য উপায়ে, সভ্য মানুষের ভাষায়।


তিনি খুব ভালো মধ্যবিত্ত চিনছেন বুঝন যায়, তাগো সুবিধাবাদীতায় তার চরম অনাগ্রহ আছে টের পাওন যায়। শিক্ষিত মধ্যবিত্তগো আক্রোশটাও তিনি স্পন্দনে আঁচ করবার পারেন...আর তার মধ্য দিয়া তিনি রূপকল্প তৈরী করেন কওমী মৌলানাগো যারা নাকি জরুরী অবস্থায় কথা কয়, চিল্লায়! মৌলানাগো চরিত্র নিয়া তিনি আলোচনা করতে গিয়া আইকন বিরোধী চরিত্রটারেও তুইলা আনতে চান। তাৎক্ষণিকতায় হয়তো ডিটেইল দিতে তিনি অপারগ হ'ন যেইটা পরে কখনো দিতে পারবেন যখন হুজুগ থাকবো না। আইকন কইতে তিনি আসলে কি বুঝেন!? আমি যদি মুহাম্মদরে গালি দেই তাইলে কওমীরা কি করবো? তখনো তারা আইকন বিরোধী থাকবো? আইকন কি কেবল মূর্তি পূজায় থাকে!? কওমীরা কখন জরুরী অবস্থার বিরুদ্ধে কথা কয়? চাইলের দাম যখন বাড়ে, যখন দেদারসে অনৈতিক-নৈতিক গ্রেফতার বাণিজ্য চলে, অর্থনীতি যখন দুরাবস্থার চরমে পৌছায়, তখন কওমীরা কি কয়? কেবল ধর্মের আইকনেই তাগো আপত্তি...তাগো নিজেগো আইকন ভাইঙ্গা যখন প্রতিদ্বন্দ্বী আইকন খাঁড়ায় তখনি তারা উদ্যত হয়, সেইটা কখনো অসভ্য হয়...কখনো অনেক বেশী সুশীলও হয়...আমেরিকান দূতের নারীমূখও তারা দর্শন করে খোলাচোখেই হেফাজত ছাড়া...

রিফাত হাসান সত্য কথা ক'ন পুঁজির আইকন বিষয়ক বাণিজ্যিক টেন্ডেন্সী নিয়া...কিন্তু যেই সিদ্ধান্তে তিনি পৌছান সেইটা হইলো এই:

এখানে একটি ব্যাপার স্মর্তব্য, ফ্যাশন কোম্পানি যখন চে'কে নিয়ে ব্যবসা করে, আর রোমান্টিক একটিভিস্টরা অই পোশাক পরে ঘুমের মধ্যে বিপ্লব সাধন করে, তখন অই দৃশ্য দেখে আমার বোধোদয় ঘটে যে, চে কেন ছবি তোলাটাকে এত অপছন্দ করেছেন সব সময়। একই ব্যাপার, লালনের মূর্তি নিয়ে আমাদের কান্নাকাটি দেখেও। এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতো রীতিমতো হাজ্বীদেরকে আত্মশুদ্ধির জন্য মনের মূর্তি সরানোর পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু ঘটনা হলো তিনি এই ব্যাপারটির প্রতি নিজের পৌত্তলিক বিরাগটারে সরায়ে ফেলতে পারেন নাই। যদি পারতেন, তাহলে, এর সংস্লিষ্ট আরো কিছু বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা পেতাম, যেগুলি দরকারি।


অধ্যাপকের বিরাগটা যে পৌত্তলিক সেইটা তিনি কেমনে ধইরা ফেলেন!? ঐ অধ্যাপক ভদ্রলোকও যদি ক'ন তিনি তাৎক্ষণিক বক্তব্য'ই দিছেন, আর তাই সেইখানে অন্য আলোকপাত নাই, তখন তিনি কি কইবেন?


রিফাত হাসান জ্ঞানগর্ভ উপস্থাপণরীতি জানেন, আর তাই তিনি বলেন

মৌলভিদের মূর্তিবিরোধিতার মোকাবেলায় অইটার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে ফ্যানাটিসিজম দিয়ে আলাপ সারা আর ফাজলামো করা একই কথা। কারণ এই আলোচনাটির সাথে দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক আলোচনাটি জড়িত। আনকন্ডিশন, নিরাকারকে আকার প্রদান, ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিজত্বের ধারণা, পৃথিবীতে ধর্মের বিবর্তনের যে ইতিহাস, এইসব ব্যাপারগুলিতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং স্ট্যাণ্ডপয়েন্ট আলোচনায় আনতে হবে।

নিরাকারের আকার থাকলোই কি আর না থাকলোই বা, কি আসে যায়? যার সবসময়েই আকার থাকে তারে মৌলভীরা কি করে? ইসলাম সেই ব্যাপারে কি কয়?ধর্মের বিবর্তনের ইতিহাসে মানলাম ইসলাম অনেক উদারতা দেখাইছে...মানুষরে আকারের পূজা থেইকা নিরাকারের পূজা করাইছে...সমাজে বৈষম্য কিছুটা কমাইতে সচেষ্ট হইছে...কিন্তু তার মানে কি তারা নিজেগো মতবাদ চাপাইয়া দেওনের অধিকার পাইছে সকলের উপর? নন্দনতত্ত্বের বিষয়ে বিধিনিষেধ তৈরী করনের সামর্থ্য অর্জণ করছে?

রিফাত হাসানের উপসংহার অনেক একাডেমিয় ভাষায় তৈরী হয়...কিন্তু আমি তার বিসর্গেও কিছু উপলব্ধ করবার পারি না।

মৌলভিদের প্রতিবাদের উত্তরে প্রতিক্রিয়াশীল মধ্যবিত্তিয় অবস্থান ও অবস্থান-সঞ্জাত ভাষাকে মোকাবেলা করার ও এই সকল অবস্থান উৎপত্তির মনন কাঠামো বোঝার একটি চমৎকার ও কার্যকর বুদ্ধিবৃত্তিয় অবস্থান তৈরী হয়েছে আজকের উপরোক্ত ঘটনার আলোকে, যা কিনা একই সাথে আমাদের রাষ্ট্রের বর্তমান সংকটের মূল বিন্দুসমূহের একটি গুচ্ছকেও নির্দেশ করে বলে আমার মনে হয়।


মৌলভীগোটা তার কাছে হয় প্রতিবাদ আর মধ্যবিত্তগো চেতনাটা হয় প্রতিক্রিয়াশীলতা...এই বিষয়টা তার কাছ থেইকা আরো ডিটেইলে যাই...নাইলে ধর্মের আইকন নিয়াও যেই ব্যবসা চলে এই দেশে তার ধান্দায় রিফাত হাসানের মতোন আমারো চোখ আন্ধা হইয়া যাওনের সম্ভাবনা জারী করে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28855967 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28855967 2008-10-17 15:26:47
ভাষ্কর্য্য সরাইয়া নেওনের রাজনীতি বিষয়ে কিছু কথা...
সম্প্রতি হঠাৎ বিদেশী নীতি-নির্ধারকেরা আমাগো দেশের নির্বাচন নিয়া অনেক বেশী ভিন্নরম বক্তব্য দিতে শুরু করনের পর আমি সংশয়ী চিত্তে আরো শংকিত হই। তারা দেশের নির্বাচনের সুষ্ঠতা নিয়া চিন্তা-ভাবনা শুরু করছে প্রবল। জরুরী অবস্থার শুরুতে থাকা তাগো কোমল চক্ষু এখন রক্তাভ আভায় পূর্ণ। বিদেশী বেনিয়ারা এখন কেনো জানি আবার রাজনৈতিকতায়ই বেশী বিশ্বস্তা খুঁইজা পাইতেছে...নির্বাচন না হইলে বা ঠিকমতোন না হইলে সম্পর্ক ছিন্ন করনের মতোন হুমকীও তারা দিয়া বসছে ইতোমধ্যেই।

ক্ষমতা দখলের পরপরই তত্ত্বাবধায়কের ছদ্মাবরণে থাকা সামরিক শাসকেরা বিদেশী প্রভূগো প্রেসক্রিপশন মোতাবেক অনেক পদক্ষেপ নিতে শুরু করছিলো। কিন্তু জনগণ আর দেশবিরোধী এইসব পদক্ষেপে বিভ্রান্ত হয় নাই দেশের মানুষ...প্রতিবাদের মুখে যার অধিকাংশ'ই আর বাস্তবায়িত হইতে পারে নাই। ধীরে ধীরে রাজনৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে এই শ্বেত চামড়ার প্রভূরা...যেই কারনে একে একে সকল দূর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতারা জামিন পাইতে শুরু করে, কেউ কেউ খালাসও পায়। সবশেষে যখন দুই নেত্রীই খোলা হাওয়ায় নামে, তখন দেখা যায় মার্কিনী প্রতিনিধিরা তাগো লগে মিটিঙে বসনের লেইগা উন্মাদ। এক একটা বৈঠক হয়, ত.স.'রা একটা একটা কইরা দাবী মানে বা নরম হয়।

নির্বাচনে সুষ্ঠতা নির্ধারণের একটা প্রধান মাত্রা হইলো সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করন। আওয়ামি লীগ আর জাতীয় পার্টি এক পায়ে খাড়া নিবন্ধনে...তারা ফর্ম ফিলআপ শুরু কইরা দিছে। কিন্তু একটু রাজনৈতিক বিপাকে থাকা চার দল নিবন্ধনের বিষয়ে একটা ধোয়াটে অবস্থান নিয়া বইসা আছে। এই সরকার ক্ষমতায় আইসা মূলতঃ শেষ সরকারের দূর্নীতি নিয়াই বেশি প্রচারে গেছে...চার দলের সকল দুর্নীতিরে উন্মোচিতকরনের পাশাপাশি বিএনপি'র নেতা, খালেদা জিয়া বড় পোলা তারেক জিয়ারে টার্গেট কইরাই তাগো বিজ্ঞাপন হইছে বেশি। যার ফলে বিএনপি'র গ্রহণযোগ্যতাতে ধ্বস নামছে বেশি...এই ধ্বসরে আবার stable করতে তাগো যেই নির্বাচনী প্রচারে যাইতে হইবো এখন সেইটার লেইগা প্রয়োজন সময়...আর দরকার হুমকী ধামকী ছাড়া একটা নির্বাচনী পরিবেশ। জরুরী অবস্থা বহাল রাইখা যেই প্রচারণা কখনোই সম্ভব না।

এই অবস্থায় বিএনপি আর তার চারদলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের একটা সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা ঝুলাইয়া রাইখা দিছে...কেবল এই চারদল'ই না আশংকায় থাকা সকল ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলই ধূয়া তুলছে নিবন্ধন না করনের পক্ষে। নির্বাচন সুষ্ঠ (?) না হওনের এই বাস্তবতার আশংকায় পৌনে দুই বছর আগের কঠোর(!?) সরকার এখন নরম হইতাছে পদে পদে। যার নজীর তারা দুই দিন আগে ওয়ারেন্ট প্রাপ্ত আসামী'র লগে রাজনৈতিক বৈঠক কইরা আমাগো সামনে রাখছে।

আর তারই ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দরের সম্মুখ থেইকা ভাষ্কর্য্য সরাইয়া ফেলনের সিদ্ধান্ত নিলো গতোকাল। এই ভাষ্কর্য্য যেহেতু সরকারী আদেশেই নির্মিত হইতেছিলো তাই তার জন্য টাকা যাইবো...এই ভাষ্কর্য্য ঐখানে নির্মিত হওনের লেইগা আশেপাশে যেই যানজট লাগতেছিলো সেইসব চলবো আরো বহুদিন...কিচ্ছু আসে যায় না! মুখাপেক্ষী ঘরানার এই রাজনৈতিক আচরন যতোদিন আছে এই দেশের রাজনৈতিকতায়, ততোদিন চলবো এইসব...এই সংস্কৃতি যদ্দিন আশকারা পাইবো এই দেশে তদ্দিন চলবো এই নতজানু হওনের রাজনীতি...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28855517 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28855517 2008-10-16 15:12:19
প্রতারণার কৌশল বিষয়ে যতোকিছু আমি শিখেছি... আজ হঠাৎ আলোক সম্পাতের এই নগরী ছেড়ে যেতে সাধ হয়...সবুজের মাঝে একবেলা চুপচাপ মাথা গুজে, ক্রন্দনরত নিজেরে দেখি...প্লাস্টিক বুননে নির্মিত মা দূর্গাদের শরীরের ঘ্রাণ আমারে বিপন্ন করে...

সেই শৈশবের পঞ্জি থেকে তুলে আনা
কিছু থকথকে ইমেজের পসরা সাজাতে
চেয়েছি আমিও।

বাজারের সকল অভ্যাস জেনে গেছি এতোদিনে, অতএব
অনাবিল প্রাণময়তায় আচমকা এসেছে তারা,
এই ভাবে বেঁচে দিতে চাই বিদ্যমান হাটে...

পরিপার্শ্বে যতো ভোক্তা সমবেত
তাদের ভেবেছি প্রতারিত মানুষের দল।

যদিও আশৈশব
আমার বাবারে পরখ নির্ভর দেখি,
তবু জানি এই যূগে আমার বাবা আর বাজারে যান না...

অনুপম আলোক সম্পাতে
আমি পসরা সাজিয়ে আছি
একে একে প্রতারিত হয় অসহায় মানুষের দল...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28852012 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28852012 2008-10-07 19:14:58
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ পাবি...
পরে আবার দীর্ঘসময় আমরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রইলাম। মুহাম্মদ জুবায়ের বাংলা সাহিত্যের অনেক বড় কেউ (?) না হওয়াতে আমার অনাগ্রহে অনাদরে দূরের মানুষ হইয়া গেলেন প্রায়। দীর্ঘ বিরতির পর আবার তারে পাইলাম সামহোয়্যার ইন ব্লগের প্রান্তরে। বিষয় বৈচিত্র থাকনে আবার তার লেখনীতে মনোযোগ দিতে বাধ্য হইলাম...যদিও কবিসভায় যেই মুহাম্মদ জুবায়েররে দেখছিলাম, সেই তেজী পুরুষ মুহাম্মদ জুবায়ের হিসাবে তার আর কোন লেখা পড়া হয় নাই আর...একদিন বন্ধু আদিত্য কবীরের বোন অদিতি আইসা আমারে কয় সে নাকি আমার লেখা সামহোয়্যারের ব্লগ থেইকা পাঠ করছে...আমি তারে জিগাইলাম কোত্থেইকা পাইলেন আমার ব্লগ এড্রেস? অদিতি কয় জুবায়ের কাকু নাকি তারে নিয়মিত লিঙ্ক পাঠায় উল্লেখযোগ্য লেখনীর। আমি একটু অবাক বনলাম! মুহাম্মদ জুবায়েরের মতোন প্রমিত ভক্ত বাঙালী আমার লেখা পঠনে তার নিকটজনরে উৎসাহিত করে!

অথচ এই আমি নিজের একরম আত্মম্ভরীতায় জুবায়ের ভাইয়ের লেখা কোন কালেই অনেক মনোযোগ দিয়া পড়ি নাই। তার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস আমার ডেলিবারেট মনে হইতো, তার স্মৃতিময় বচনগুলিতে আমি অনেক ব্যক্তিতান্ত্রিক অনুভূতি খুঁইজা পাই...নিজেরে আসলে ভুল সময়ে জন্ম নেয়া একজন অপরাধী মনে হইলো জুবায়ের ভাইয়ের তুলনায়! অদিতির কাছ থেইকাই আমি প্রথম জানি পঞ্চাশোর্ধ্ব এই তরুণের রোমান্টিক চরিত্রের কথা। যেই বয়সী মানুষের অনেক স্ট্যান্ডার্ড তৈরী কইরা অভিভাবকত্ব কপচানোর কথা, তিনি সেই বয়সেও মুক্ত একটা মনন নিয়াই বাস করেন।

জুবায়ের ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম কথা হয় গুগল টক সার্ভিসে যখন সচলায়তন ব্লগের অনৈতিক আচরন নিয়া আমার ব্লগীয় সংগ্রাম চলতেছে। তিনি আমারে গুগল টকে যুক্ত কইরা জানাইলেন যে আমার সাথে করা সচলায়তন কর্তৃপক্ষের অনৈতিক আচরন তারো অনৈতিকই ঠেকছে। যদিও পরে তিনি আর তার সেই প্রতিবাদী অবস্থানে থাকেন নাই...আমি তার এই অবস্থানরে সমর্থন না করলেও অনুভূতির জোয়ারে বুঝতে পারি একজন প্রবাসীর নিঃসঙ্গতার বোধ আসলে আমার বুঝনের অতীত...

জুবায়ের ভাইয়ের মৃত্যু পরবর্তী বিবিধ আলোচনায় আমি বুঝতে পারি তিনি কেরম স্বপ্নবাজ একজন মানুষ ছিলেন। পাঁচবছর একজন মানুষ দূর্বল ফুসফুস নিয়া বাঁচছেন ধুকতে ধুকতে। মৃত্যু নিকটবর্তী জাইনাও তিনি সেই খবরে জর্জরিত করেন নাই আশেপাশের প্রিয়জনগো জীবন, এই তথ্য আমারে মনে পড়াইয়া দ্যায় আরেক নিঃসঙ্গ শেরপা শহীদ কাদরীর কথা...অন্তরালে থাকতে চাওয়ার তুমুল চেষ্টা আসলে এই সব মানুষরে অনেক বড় কইরা তোলে।

কিছু মানুষ আছে যারা অন্তরালে থাকতেই বেশী পছন্দ করে...সকল সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা কোনরম নেতৃত্বে আগ্রহী হয় না। সামাজিক অনুসঙ্গে এইসব মানুষের গুরুত্ব অনেকসময় অনেক কম হইলেও, সমাজপ্রগতির লড়াইয়ে তারা যে কতোটা প্রয়োজনীয় সেইটা তাগো নিভৃতচার সত্ত্বেও বুঝন যায়...কেবল মৃত্যুসংবাদের প্রয়োজন হয়! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28848082 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28848082 2008-09-26 12:02:17
রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর(?) ঈদ...
সারাবছর অভাবের জ্বালা যেমনেই থাকুক না ক্যান ঈদের দিনে বাড়িতে আয়-ব্যয়ের হিসাব না কইরা য্যান পোলাও কোরমা রান্ধা হইতো লিটারেলি...মায়ের হাতের সেমাই খাইয়া যখন রহমত আপনাসেই প্রশস্তি গাইতো,"আব্বে হালায় তর মায়ে পুরা বিশ্বকাপ!" শুইনা আমি ভয়ে থাকলেও, এই দিনে মায়ের মুখের হাসি আমারে বিভ্রান্ত করছে আজীবন...বাড়িতে ধর্মকর্মের অনেক চাপাচাপি না থাকলেও সংস্কৃতির চাপটা ছিলো নিয়মমতোন...ঈদের দিনে আমরা অজান্তেই অনেক ধার্মিক হইতাম...আর সংস্কৃতির মায়রে বাপ!

আমার বাপে পুরান ঢাকার কুট্টি হওনে একটা ডিসিপ্লিন মাইনা চলতো তখন। এক ঈদের পরেই টাকা জমাইতো পরের ঈদের আতিশয্য মেইনটেইন করনের তাগীদে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় ধর্মবোধ আর পারিবারিক আবেগের যেই মন্থন ছিলো তার হৃদয়ে...কষ্টের নীলকন্ঠ নিয়া তার নিরাবেগ চোখে অভিনয়টারে আমরা ঐ বয়সে একদম বুঝি নাই। ঈদের দিনের যেই আবশ্যিক অভিনয়ের খেলা তারে এখন জীবনের এই মধ্যগগনে আইসা উপলব্ধ করি।

এতো কিছু মাথায় আইসা ভীড় করে যখন খবরের কাগজে গারমেন্ট শ্রমিকগো সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সুশীল শহুইরা মধ্যবিত্তরা প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকরনে রত হন বিভিন্ন মাধ্যমে। গারমেন্ট্স শ্রমিকরা ঈদের আগে বেতনভাতা পরিষোধের দাবীতে শহরের রাস্তায় গাড়ি ভাঙচূড় করনের কালে স্বচ্ছল মধ্যবিত্তরা আক্রান্ত হইছেন তাগো রোষের...আমি এই রোষের মধ্যে যৌক্তিকতা খুঁজতে চাই...কিন্তু কোন যুক্তিতেই তার সঠিকতা মানতে পারি না। কেবল আবেগ দেখি. একদল ভাগ্যাহত মানুষের...যারা তার সন্তানের লগে অভিনয় করতে চায় না, যারা অন্য সকলের মতোন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে চায়...স্বচ্ছল মধ্যবিত্তগো শংকায় ফালানো ছাড়া তাগো কবে কি পাওনা আদায় হইছে!?

মুসলমানি সংস্কৃতিতে ঈদের গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় অনেক নিয়ম-নীতি, বিধিনিষেধের মধ্য দিয়া ইসলাম ধর্মবিশ্বাসী মুসলমানেরা ঈদের দিনে আনন্দময়তায় মাতে। কিন্তু এইসব মুসলিম শ্রমিকেরা নীরবে বেতন ভাতা না পাইয়া দুঃখী মুখটারে আনন্দের মুখোশে ঢাইকা ঈদের দিন ঘুইরা বেড়াইবো...আমরা কথিত উপরতলার মানুষেরা তাগো সাময়িক প্রশ্রয় দিয়া কমু এই দিন আনন্দের দিন! এই দিন সহমর্মিতার দিন! আমাগো চাওয়াটারেও যৌক্তিক ঠেকতেছে কি না সেই dillemaতে আছি...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28846962 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28846962 2008-09-23 16:40:42
মেষরে মেষ তুই আছিস বেশ সময়টা কেরম স্থবির হইয়া আছে...কোন কিছুতে মতি পাই না। বহুদিন কোন "অন্য" শহরে ঘুরতে যাই না। বহুদিন কোন ভালো সিনেমা দেখি না। বহুদিন জুইত কইরা খানা-পিনা করি না। কেরম স্রোতে ভাসা চেলা কাঠের মতো গতানুগতিকতায় চলি...যেদিকে যাইবো নদীর জল সেইখানেই আপাতঃ বিরতি...এই জীবনে মতাদর্শ নির্ভর বাগাড়ম্বর আছে, জ্ঞানের অহংকারজনিত স্ফুরন আছে, শ্রদ্ধা আর অশ্রদ্ধা নির্ভর রুচিবাণিজ্য আছে। কিন্তু মনে হয় জীবনে অস্থিরতা প্রয়োজন...প্রয়োজন আছে বিতন্ডার...প্রয়োজন পড়ে অনিশ্চয়তার অস্বস্তি...

গতো সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ গেলাম যৌন নিপীড়ন বিরোধী সমাবেশে...নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসাবে ঐ দিন সংহতি সমাবেশ ছিলো স্বোপার্জিত স্বাধীনতা নামের ভয়াবহ স্থাপত্যের চত্বরে। যাওনের আগে হৃদয়তন্ত্রীতে অনেক প্রত্যাশার বাজুবন্ধ বানছিলাম বইলা একটু হতাশাগ্রস্থ হওনের অবকাশ পাইলাম। বয়স বাড়নের একটা সমস্যা আছে...নস্টালজিয়া নামের ব্যক্তিতান্ত্রিক অনুভূতির প্রাবল্যে হতাশার গুণিতক জ্যামিতিক হারে বাড়ে। আমার কেবলি ১৯৯৮ সালের রৌদ্রক্রান্ত দুপুর আর...অনিশ্চিত রাত্রির কথা মনে পড়তে শুরু করে...তখন আমরা ধর্ষিত নারীর অধিকার আদায়ের যেই ব্রত আরম্ভ করছিলাম, তখন আমরা ধর্ষকের বিচার দাবী কইরা দেশব্যাপী যেই ক্রোধের বিচ্ছুরন ঘটাইছিলাম, যার আগুণে এমনকি ধর্ষকের আশ্রয়দাতারা পর্যন্ত বিপর্যস্ত হইয়া উঠছিলো...অন্তরে ভয় আর প্রকাশে হায়েনা হইয়া তারা ভয় দেখাইতো বিভিন্ন জুজুর। তাগো আস্ফালনের নিঃশ্বাসে পুড়াইতে চাইতো আন্দোলনের পবিত্রতা...কিন্তু তবুও সংগঠিত ছিলাম...তবুও আমরা নির্ভয় ছিলাম...

১৬ তারিখের সমাবেশের আগত বক্তাগো বক্তব্য আমার প্রাণ ছুঁইয়া গেলো, ১৬ তারিখে সংহতিস্থলে উপস্থিত মানুষগুলির শক্ত কঠিন প্রতিবাদী মুখগুলির আন্দোলনের প্রতি আস্থা আর একাগ্রতা আমারেও খানিকটা আন্দোলিত করে...কিন্তু পুরা পরিবেশে কিসের অভাব টের পাই...সেই "কিসের" অভাবে আমি হতাশাগ্রস্ত হই...মনে হয় মানুষগুলি কেরম ব্যক্তি হইয়া উঠতেছে দিনকে দিন...বিরোধটাও তাই ছানি কিম্বা মানিকের লগে! আন্দোলনকারীরাও তাই বামপন্থী কিম্বা নাট্যতত্ত্বের ছাত্র-ছাত্রীরাই হয় সমাজের চোখে...যূথবদ্ধতায় তাই নিষেধের বেড়াজাল পরে। মুষ্টিবদ্ধ হাতের নিদর্শনে তাই ব্যর্থতা আইসা নাড়া খায়।

এইরম সুধী সমাবেশে আমার খানিকটা অনাগ্রহই ছিলো চিরকাল...আন্দোলনে মনে হয় আভ্যন্তরীন মানুষগুলিই বেশী ক্রিয়াশীল হয় বইলা আস্থা রাখি। আন্দোলনে থাকা মানুষের প্রিয়মুখে যেই দৃঢ়তা থাকে তারে অনুকরণ আসলেই সম্ভব না কোন কালে...এই মানুষগুলি তত্ত্ব জানে কম, প্রয়োগের উল্লাসই তাগো ব্রত হয়...প্রশস্তির আকাঙ্খা প্রায় দুরীভূত থাকে তাগো চোখে মুখে। ১৬ তারিখের সমাবেশে সেইসব মানুষগুলির মুখ আমি খুব একটা দেখতে পাই না...সুধীরাই কেরম অলঙ্কার হইয়া জ্বলজ্বল করে দিবালোকে।

শাসকেরা শাসিতের দাবী পূরণে কোনকালেই আগ্রহী হয় না, ইতিহাসে তার নজীর ভুড়িভুড়ি...শাসিতের দাবীতে তারা স্পর্ধা খুঁইজা পায়...দাবীপূরণের পুরা প্রক্রিয়াতে তারা পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখে। প্রবল প্রতিরোধের জোয়ার ছাড়া তাই শাসকেরা কোনদিন নতি স্বীকার করে না। শাসিতের যৌক্তিকতাও তাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় শাসকের প্রচারণায়। আন্দোলনের মাঠে তাই চলে লাঠিয়ালের তান্ডব! সুধীরা কোনকালে শক্তিমান ছিলো লাঠি'র সামনে!?

যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীতিমালা প্রণয়নের যেই আন্দোলন তার ভবিষ্যত নিয়া আমার কোন সন্দেহ নাই, কিন্তু ভয় পাই সুধী অনুরক্তির...প্রয়োজন মনে করি আন্দোলনের মাঠে প্রতিবাদের যূথবদ্ধতা...আড়াই ফুট উচু মঞ্চ সবসময় বিভাজন আনে...সাহসী প্রাণ তরুণ-তরুণীগো তাই দেখতে চাই বলীয়ান...মেষে'র মুখোশে সবাইরে মানায় না...সমর প্রাঙ্গনে চাই যুদ্ধের আয়োজন...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28845298 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28845298 2008-09-19 17:22:12
ডাক দিয়ে যাই প্রতিরোধের সকল কন্ঠরে!!
বহুদিনের শিথিলতা আর স্থিরতায় প্রতিবাদী প্রকাশের তন্ত্রীতে মরিচা ধরছিলো যেনো আমার! নির্বিকারত্বে কোন সুখ নাই সেই বোধ পাইতে আমার প্রয়োজন পড়লো মানুষের মিলিত আহ্বান। আর তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-ছাত্রীগো আন্দোলনে পা বাড়াইয়া দেওনের তাগীদ অনুভব করি...হৃৎপিন্ডে ধরাস-ধরাস, দীর্ঘদিনের অনভ্যস্ততার অসোয়াস্তি...তবুও প্রতিবাদী তরুণদলের সাথে একসাথে পথ হাটনটারেই শ্রেয় মনে করি।

এই আন্দোলনের গতিপথ কি হইবো তার রূপরেখা নির্ধারণের জন্য নয়, এই আন্দোলনের বিরোধী পক্ষের সাথে লড়াইয়ে যুদ্ধ কৌশল কি হইবো তার নকশা নির্মাণের জন্য নয়...কেবল এই রাষ্ট্র আর সমাজের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানের তাগীদেই প্রয়োজন অনুভব করি স্বোপার্জিত স্বাধীনতার চত্বরে গিয়া উপস্থিত হওনের...কোন জায়গায় দাঁড়াইলে কতোটা কার্য্যকরী হয় একটা আন্দোলন, এই প্রশ্ন বিভ্রান্তির বেড়াজালের মতোন ঠেকে। আন্দোলনের মানুষেরা জানে কেমনে অপশক্তিরে রুখতে হয়।

আমি জানি ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্র কিশোর সুস্থ্য হইয়া আবার যোগ দিবো লড়াইয়ের ময়দানে...আমি জানি দুর্বার সাহসী কিশোররে ভয় পায় সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের গুন্ডারা। আমি জানি এই আন্দোলনের কাতারে অসংখ্য কিশোরেরা গজরায়। তারা প্রতিশোধ নিতে জানে!

আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি নিকটবর্তী স্বোপার্জিত স্বাধীনতার চত্বরে আমি উপস্থিত হইতে চাই ঠিক তিনটায়...কন্ঠ মিলাইতে চাই সকল চিরচেনা বিপ্লবী কন্ঠের সাথে... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28843560 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28843560 2008-09-15 17:58:41
যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে!
১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আমরা আন্দোলন সংগঠিত করতেছিলাম...যখন দিনমান যৌন নিপীড়কগো বিরুদ্ধে প্রচারনায়রত ছিলাম, তখন একটা উপলব্ধি আমাগো প্রকট ছিলো...এই সমাজের প্রত্যেক পুরুষই পোটেনশিয়াল রেপিস্ট। এই সম্ভাবনার বৃত্তে কে জানে আমি নিজেও হয়তো বন্দি আছি। পুরুষের যৌনতাকেন্দ্রীক ফ্যান্টাসীর রূপ নিয়া আমরা বড় হই এই সমাজে। পুঁজি আর পুরুষ এই দুই ক্ষমতার কাঠামোতেই আমাগো সামাজিক আচরন নির্ধারিত হয় যেনো। নারীমুক্তি'র আপাতঃ দৃপ্তবাক্য বা আপ্তবাক্য রচনা কইরাও আমরা মননের কোন এক অন্তরালে পুইষা রাখি নারী সম্ভোগের মনোবৃত্তি। এই মানসিকতার প্রকাশ হয়তো প্রতিনিয়তঃ প্রকাশিত হয় না, কিন্তু সুযোগ পাইলেই তার বিচ্ছুরণ দেখি বিভিন্ন পরিসরে।

প্রতিদিন খবরের কাগজের আনাজ-কানাচ খুঁজলেই পুরুষতান্ত্রিকতার প্রকট প্রকাশের নজীর আমরা দেখতে পাই...প্রতিদিন জীবনযাপনের মুহুর্তগুলির ড্যাটাবেইজ ঘাটলেই টের পাই পুরুষ কতোটা পুরুষ হয় মননে। ক্ষমতা চর্চার সুযোগ পাইলেই পুরুষ ক্ষমতাচক্রের চাবি-কাঠি নিজের হাতে নিয়া নেয়। এমনকি অবহেলিত নারীর আচরনও নির্ধারণ কইরা দ্যায় পুরুষ...ক্রমশঃ সমাজস্থিত একটা বড় অংশের নারীরাও পুরুষের চোখেই তার পরিপার্শ্ব দেখতে শুরু করে।

খবরের কাগজের বাইরে আরেকটা জগৎ তৈরী হইছে বাঙালী ইন্টারনেট সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এই ব্লগজগতে বিভিন্ন ধরণের পদচারণায় টের পাই এইখানেও কেমনে পুরুষ বিরাজ করে তার আপন মহিমায়। যৌন উদ্দীপক প্রকাশের ফল্গুধারা বয় প্রায়শঃ'ই ব্লগীয় ভাষাকাঠামোয়...এইখানে পুরুষ কামরাঙা ছড়া লিখে...এই খানে পুরুষ নারীর কচিত্ব নির্ধারণ কইরা তারে কামড়ানের অভীপ্সা ব্যক্ত করে। এইখানে নারীর যৌন স্পর্শকাতরতা নিয়া আক্রমণের নীলনকশা তৈরী হয়। পুরুষ সমাজের সকল ক্ষেত্রে যেমন কইরা তার ক্ষমতা প্রকাশের বাহাদুরি দেখায় ব্লগেও তারই ধারাবাহিকতা দেখি।

সমাজস্থিত সুশীলতা বিরোধী প্রবনতার প্রকাশ আমরা ব্লগীয় রাজনীতিতেও দেখি। শুনতে ভালোই লাগে হিপোক্রিসির বিরুদ্ধে দেশের অন্তর্জালিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা কেমন লড়াইয়ে আছে...কিন্তু বাস্তবতার উপলব্ধিতে দেখি এইখানে নারীরে অবমূল্যায়িত করনের উগ্র প্রকাশরে সুশীলতা বিরোধী আচরন বইলা চালানের অপচেষ্টা চলে নিয়তঃ।

যৌন নিপীড়ন কেবল নারী অধিকারেই হস্তক্ষেপ করে না। পুরুষের পৌরুষ প্রকাশের চিত্র আরো বহুদূর যায়। এই চিত্রে আক্রান্ত পুরুষরেও লৈখিক ফরম্যাটে নিপীড়িত হইতে দেখি। লোহার ল্যাঙ্গট পরিধানের বিষয়টা ব্লগীয় প্রেক্ষাপটে একসময় তুমুল জনপ্রিয় বিবেচ্য হইছিলো। পোঙ্গা মারা-মলদ্বার দিয়া কিছু একটা ঢুকানের দম্ভ প্রকাশতো আকছার দেখি পোস্টে পোস্টে। যৌন নিপীড়নরে কেবল নারীরে ধর্ষণ কিম্বা গায়ে হাত দিয়া লাঞ্ছনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখন যায়না...নিত্যকার জীবন যাপনে পুরুষালী ক্ষমতার প্রকাশে যৌনতাকেন্দ্রীক বৈষম্য তৈরীর চেষ্টা বহুত শিক্ষিত আর তথাকথিত প্রগতিশীল মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারী লোকজনের মধ্যেই দেখি।

যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে যেই নীতিমালা প্রণয়নের দাবীতে আজ দেশের সচেতন মানুষেরা ইনভল্ভ্ড...সেই নীতিমালায় সকল যৌন বৈষম্যের অবসান চাই। পুরুষের পৌরুষের প্রকাশে যাতে আর কোন নারী লাঞ্ছিত না হয় তার নিশ্চয়তা চাই। ছদ্মপ্রগতিশীলতার মুখোশ উন্মোচন চাই....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28843252 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28843252 2008-09-14 23:32:24
ছানোয়ারের অপসারন চাই! করতে হবে!
ছানোয়াররে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিসি নির্ধারকেরা সন্দেহাতীত ভাবে দোষী করতে পারেন না, তখন তার পক্ষের শক্তি দাঁড়ায় অন্য পরিচয় নিয়া...তিনি নাকি আওয়ামী নেতা। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে পরিচিত অনেক মুখের মুখোশ খইসা পরতে দেখি। যেইসব মুখগুলি প্রয়োজনে সাহিত্যানুরাগী হয়, প্রয়োজনে মাস্তানুরাগী, প্রয়োজনে হয় ধর্ষকের অনুরাগী সহায়ক...তাগো কাছে সামাজিক শিষ্টতার সংজ্ঞা হয় ক্ষমতার দাপট। নেতৃ যদিও তাগো শেখ হাসিনা....কিন্তু পুরুষের অনুগত সমাজে এই নারী আসলে পুরুষের পদলেহী হয় ক্ষমতার লালসায়।

ছানোয়াররে চিনি তার ছাত্রাবস্থা থেইকাই...সৃজনশীল শিক্ষক মঈনুদ্দিন আকা সেলিম আল দীনের অনেক অনৈতিক কর্মকান্ডের দোসর হিসাবে প্রিয়ভাজন...যার সূত্রে বিশুদ্ধ 'এর উচ্চারনে নিজের নাম কইয়াও নাট্যতত্ত্বের মতোন ব্যাকরণধর্মী একটা বিষয়ের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পাইয়া গেছিলো অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরে সরাইয়া। অনেক শিক্ষকের নোংরা প্রস্তাব ছাত্রীগো মধ্যে পৌছাইয়া দেওনের দায়িত্ব ছিলো এই ছানোয়ারের। এই সমাজে ক্ষমতা এমনেই অপারেট করে। কাছের মানুষেরা সবসময়ই অগ্রাধিকার পায়...দূরের মানুষেরা অবিশ্বাসের দোলাচলে হারায়। শিক্ষক নির্বাচনের বেলায় মেধা বিবেচনার চাইতে অন্য বিবেচনা প্রধান হয় বিদ্যমান ব্যবস্থায়। ছানোয়ারেরা আসলে তাগো গুরুবাদী আচরনের প্রকাশ ঘটায়...স্নাতকোত্তর পাশ দিয়া আসলে তারা ধর্ষণের সার্টিফিকেট পায়...

একবার শিক্ষক সমিতির সভায় শিক্ষিকা রেহনুমা আহমেদের অনুপস্থিতিতেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়া করা একটা মন্তব্য শুনছিলাম সেই সভায় থাকা এক বন্ধুপ্রতীম শিক্ষকের কাছ থেইকা...শুনছিলাম আমাগো শিক্ষকেরা কেমনে একজন নারীর শ্লীলতা সম্পর্কীত ধারণা পোষণ করে...নারীর ইজ্জত নিয়া তারা কতোটা ভাবিত হইতে পছন্দ করে...পুরুষের দোর্দন্ড ক্ষমতারে কতোটা প্রশংসনীয় মনে করে...সেই শিক্ষকেরা ছানোয়ারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগকারী ছাত্রীগো নিয়া কি ভাষায় কথা কইতে পারে তা ভাবতেও ভয় পাইতেছি...ছানোয়ারগো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করনের অধিকার রাখে না এই সব ছাত্রীরা...বরং এই সমাজের অধিপতিরা এমনেই নারীকূলরে স্মরণ করাইয়া দ্যায়, তাগো মনোরঞ্জনের দায়িত্ব...

যেই সমাজ পরিকল্পিত ভাবে ছানোয়ারগো পিঠ বাঁচাইয়া দিয়া পুনর্বাসিত করে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানের স্বপ্ন লালন করি...ছানোয়ারগো উৎখাত ছাড়া ক্ষমতার অনৈতিক দাপট থামান যাইবো না কোন কালে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28843064 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28843064 2008-09-14 16:11:54
বিজ্ঞান-অবিজ্ঞান কিম্বা কুবিজ্ঞানের তর্ক রচনা পড়লাম দ্বিতীয়নাম নামক ব্লগারের প্ররোচনায়। পইড়া মনে হইলো আজো কিছু মানুষ বাস্তবতঃই সমাজ পরিবর্তনের কৌশল নিয়া ভাবেন, মনে হইলো এই ভাবনার প্রয়োজন আছে...এই ভাবনার প্রসারণ না থাকলে সমাজ প্রগতির লড়াই থাইমা যাইতো ১৯৯১ সালের সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পতনের লগে লগেই। এই ভাবনার অবস্থান ছিলো না বইলাই ক্ষমতা তার নিজের নিয়মে অপারেট করছে প্রায় ৩ যূগ ধইরা, যদিও মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিরূপ অন্যরম ছিলো। যেই কারনে একটা আগ্রাসী শক্তি pseudo-socialist চরিত্র নিয়া মানুষের কাছে আরাধ্য শক্তি হিসাবে পরিচিত হওনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত রাখছিলো বহুকাল।

তয় তথ্যের মধ্যে অসম্পূর্ণতা থাকলে একটা যুক্তি বচন দুর্বল হয়। যুক্তিবচন দুর্বল হইলে তর্কের জোরালো হওনের সম্ভাবনা আদৌ বাড়ে না, বরং যুক্তির সমাপ্তি ঘটে। অবৈধ বচনে কোন বৈধ যুক্তির অবতারণা হইতে পারে না। অভিজিৎ সাহেবের উত্থাপনের বিশ্লেযণ কইরা আমার প্রথমেই আমার এই অনুভূতি হয়। মার্ক্সবাদ বিজ্ঞান কি অবিজ্ঞান কি নৈতিকতার মাপকাঠি এই বিষয়ে আলোচনার চাইতে আমি বেশি আগ্রহী হইয়া উঠি তার আলোচনার ধারাবাহিক আলোচনায়। তিনি লিখেন,

মার্ক্স তার জীবদ্দশায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আর্থসামাজিক বিন্যাস লক্ষ্য করেন। এই পুঁজিবাদী বা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার শোষণমূলক এবং মানবতাবিরোধী রূপ দেখে তিনি ব্যথিত হন –আর এ থেকে সাধারণ বঞ্চিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন।

এই নির্দোষ বাক্যে আমি অভিসন্ধি খুঁইজা পাই। আমার মনে পড়ে, মার্ক্স সাহেবের বাল্যকালের স্মৃতিচারণ...তিনি পুঁজিবাদী আর্থসামাজিক বিন্যাস নয় কেবল, বুর্জোয়াতন্ত্রের উন্মেষ তিনি দেখেন...পুঁজিবাদের যেই প্রতিশ্রুতিমূলকতা, পরিবর্তনের আহ্বান...সব তিনি দেখেন তার জীবদ্দশায়। আর তাই শুরুতেই তার মুখে বিপ্লবী আহ্বানের বাক্য ঝড়ে না। তিনি বৈষম্যের উৎসে মনোনিবেশ করেন অনেক বেশী। এতে যতোটা না মানবতা তার চাইতে অনেক বেশি দর্শনের দারিদ্র দেখেন। কার্ল মার্ক্স অভিজিৎ সাহেবের কলমে তাই অনেক যাদুকর হইলেও আমার কাছে তিনি বিশ্লেষণ ধর্মী চিন্তক হিসাবেই প্রতিভাত হ'ন।

আর তাই কার্ল মার্ক্সের চিন্তার ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখন যায় তিনি শ্রমিক আন্দোলনের সহিংসতায় মনোকষ্টে ভুগেন। তাগো মতাদর্শিক শুণ্যতারে চিহ্নিত কইরা বিকল্পের খোঁজে দৌড়ান। কার্ল মার্ক্স পরিপূর্ণরূপেই একজন সমাজচিন্তক হওয়াতে যেইসব প্রপঞ্চ তার দৃষ্টি এড়াইয়া যাওনের সম্ভাবনা ছিলো, তারে গোচরীভূত করনে সহযোগী হন ফ্রেডরিক এঙ্গেলস...যিনি উনবিংশ শতকে গতিবিদ্যা সম্পর্কীত গণিতেও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উপস্থাপণ করছিলেন। আর এই সবের ফলশ্রুতিই তাগো সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইশতেহারের দিকে নিয়া যায়, যেই ইশতেহারে ছিলো মানব মুক্তির ডাক...যেই ইশতেহার অনেক রাজনৈতিক আহ্বান...যেই ইশতেহার তার নিজেরই দর্শণগত চিন্তার একটা লিফলেটসম প্রকাশ...

মার্ক্স সাহেবের সমাজদর্শণগত চিন্তার আলোতে যে কয়টা বিষয় উপপাদ্যসম ছিলো তার কিছু উল্লেখ করাটা জরুরী এই পর্যায়ে...তিনি শ্রেণী সংগ্রাম, দ্বন্দ্বমূলক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ আর উদ্বৃত্ত মূল্য ত্ত্ত্ব এই আলোচ্যগুলি নিয়াই বেশি আলোচনা করছেন তার জীবদ্দশায়। আলোচ্য পোস্ট অনেকেই শ্রেণী সংগ্রাম সম্পর্কীত মার্ক্সীয় সীমাবদ্ধতা আর তার আধুনিক বিচার্য নিয়া উত্থাপণ করছেন। কিন্তু পাঠাভ্যাসের সীমাবদ্ধতা, বিশেষ কইরা টেক্সট না পইড়া ইন্টারপ্রিটেশন পাঠের আগ্রহ টের পাওন যায় এই সকল অভিযোগকারীর কথায়। ঐতিহাসিক বস্তুবাদ বা ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যখ্যার মধ্য দিয়া এক্কেরে প্রিলিমিনারী নজর দিলেও দেখন যায় শ্রেণী সংগ্রামের ধরণ পাল্টায়...এর সাথে সম্পর্কীত সমাজের আনুসঙ্গীক অনেক উপাদান...প্রোডাকশন-রিপ্রোডাকশন হইলো তন্মধ্যে অন্যতম...

মার্ক্সের তত্ত্ব কতোটা বৈজ্ঞানিক ছিলো, কতোটা মানবিক, কতোটা রাজনৈতিক এই বিতর্ক উত্থাপণের ধরণটা চিরকালই চিত্তাকর্ষক। মার্ক্সের জন্মের আগেই রেনে ডেকার্ত নামক একজন দার্শনিক একটা দার্শনিক চিন্তা পদ্ধতির অবতারণা করছিলেন। তার এই মেথডরে জগৎবাসী চিনে কার্তেজীয় পদ্ধতি হিসাবে...যার প্রায়োগিক ব্যবহার এখনো বিভিন্ন ল্যাবরেটরী কিম্বা সমাজ বিজ্ঞানের গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হইলো প্রচলিত ধারণাসমূহরে নাকচ কইরা কোন একটা সিদ্ধান্ত পৌছানের চেষ্টা। এখন এই পদ্ধতি কিন্তু কার্ল মার্ক্সের দার্শনিক চিন্তার উপস্থাপণেও আমরা টের পাই। বৈজ্ঞানিক এই চিন্তাপদ্ধতির ব্যবহার কতোটা বিজ্ঞান এই বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তার scientific nature নিয়া মনে হয় না বিরোধ থাকনের অবকাশ থাকে।

মার্ক্সরে ঈশ্বর বানানের ধরণ নিয়া উত্তর আধুনিকতাবাদী সকলের মনেই প্রশ্ন থাকনটা স্বাভাবিক। অভিজিৎ সাহেবের আছে, আমার আছে, স্নিগ্ধা জামানের আছে...এখন এইসব প্রশ্নের লেইগা মার্ক্স সাহেবের তত্ত্ব বাতিলের খাতায় যাইবো কি যাইবো না তা নিয়া প্রশ্ন উঠলে আমি এর বিরোধী পক্ষেই আছি। অতীতে স্তালিন সাহেব কি করছেন-চওসেস্কু কি করছেন এই রম উদাহরণ দিয়া মার্ক্সরে বাতিল করন যায় না। তারে বিজ্ঞান সম্মত দৃষ্টিভঙ্গী থেইকা চ্যূত করনটা দৃষ্টিকটু ঠেকে।

মার্ক্সের সময়কার পুঁজিবাদের ধরণ নিয়া তার বিশ্লেষণের পরে জগৎ অনেক পাল্টাইছে। একের পর এক মহামন্দা আসছে, পুঁজির নিয়ন্ত্রকেরা একেরপর এক সংস্কার করছে নিজেগো অস্তিত্ত্ব টিকাইয়া রাখনের তরে। পুঁজির চরিত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত হইছে। তার সাথে পাল্টাইছে সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কের ধরণ। মার্ক্সের উনবিংশ শতকীয় অনেক ব্যখ্যায় ভ্রান্তি ধরা পরছে...বুর্জোয়া চক্রান্তে। এইটারে বুর্জোয়া চক্রান্ত'ই কই। নিজের নীতিমালা ভাইঙ্গা নতুন সিদ্ধান্ত নিয়া যদি কই এইটাই নিয়ম তখন সেইটা চক্রান্ত'ই হয়। কিন্তু সেইসব নতুন বিধি আগে কাউরে জানানো হয় না...এক্কেরেই প্রায়োগিক ধারামতে চলে তার অনুধাবন। এতে আপাতঃ সংহতি আর নিজের পিঠ বাঁচানো গেলেও মূল সমস্যারে আরো গভীরতরই করা হয়। সমাজের মূল কাঠামোতে আরো পচন ধরনের সম্ভাবনাই বাড়ে।

ভোক্তা বাড়ানের খাতিরে পুঁজির নিয়ন্ত্রকেরা বিজ্ঞাপনধর্মী সমাজের পত্তন করে। মানুষরে অনেক ব্যক্তিকেন্দ্রীক করনের প্রক্রিয়া চলে। এই সব নীলনকশা কিন্তু এক্কেরেই পরিকল্পণা প্রকৌশলের প্রতিফলন। মানুষের চিন্তা পদ্ধতিও তখন ব্যক্তিকেন্দ্রীক হয়...যেই চেতনা তার দেয়ালে পিঠ ঠেকলেও প্রতিরোধ করনের আগে পলায়নের, একান্ত নিজের পলায়ন পথের খোঁজ নিতে বাধ্য করে। পুঁজি মানুষের জীবনে সমাজের চাইতে বড় উপবাচ্য হয়। যেই কারনে শ্রমিক শ্রেণীর দেয়ালে পিঠ কিম্বা পেট তার পিঠে গিয়া ঠেকলেও সন্তানের ভবিষ্যত ভাবাটা জরুরী হয় তার নিকট...কারন তার সামনে অনিশ্চয়তা উপস্থাপিত হয় ভয়াবহ রূপ নিয়া প্রতিনিয়তঃ...তার সামনে একটা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অবনত অথচ চিত্তাকর্ষক জীনধারণের উদাহরণ উপস্থাপিত হয় সম্ভাবনার নিরীখে। "একটু খাটো...একটু দুই নাম্বারী করো তুমিও পাইবা এই জীবনের খোঁজ..."। এখন এই শ্রমিকের ব্যক্তিচেতনার লেইগা মার্ক্স কি ভ্রান্ত হইয়া যান? আমি মনে করি যান না। কারন যে কোন বিজ্ঞান অনুগত পদ্ধতির মতো মার্ক্স সাহেবের সিদ্ধান্তগুলিও আসছিলো other things remaining equal এই শর্ত মোতাবেক। সমাজবিজ্ঞান যেই কারনে বিজ্ঞানেরও অধিক বিজ্ঞান হয়। কারন তারে আরো ক্ষুদ্র ডিটেইলে মনোনিবেশ করতে হয়...তার আচরনবিদ্যার প্রতিও আগ্রহী থাকতে হয়।

ক্ষমতা যখন শ্রেণী প্রতিনিধির হাতে যায় কোনরম গণতান্ত্রিক একেন্দ্রীকরণ ছাড়া তার রূপ সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের মতোনই হইবো এইটাই স্বাভাবিক লাগে আমার কাছে। বুর্জোয়া শাসকেরা যেরম কার্ল পপার-ফুকিয়ামা-ফ্রিডম্যান কিম্বা রোনাল্ড কোজরে ভাড়া করে। তেমন ভাবেই লাইসেঙ্কোরে ভাড়া করে সোভিয়েত শাসকেরা (এই তথ্য আমার অজানা ছিলো, ধন্যবাদ অভিজিৎ)।

তয় কুলাখপন্থী সোলঝনেৎসিনরে লইয়া আতিশয্য আমারে একটু আহত করে। সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কেউ কিছু কইলেই তারে মাথায় নিয়া নাচতে হইবো, এইরম বুর্জোয়া আচরনের বিরোধীতা করি আমি। যুক্তিবিদ্যায় অনেক ফ্যালাসীর মধ্যে একটা বড় ফ্যালাসী হইলো এইরম বিভ্রান্ত মানুষের বচনে যুক্তিবচন তৈরীকরণের প্রক্রিয়া। এই আচরন একটা যুক্তিরে অবৈধ করে। একাডেমিক ফরম্যাল যুক্তির প্রক্রিয়াতেই আমি এই যুক্তি করি। যদিও কার্ল মার্ক্স আর এঙ্গেলস ডায়ালেকটিক যুক্তির কথা কন।

ডায়ালেকটিক্স আসলে কেবল দ্বন্দ্ব আর প্রতিদ্বন্দ্বের খেলা না। এই খানে বিবেচ্য আরো কিছু বিষয় আসে বা আছে। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের টেক্সট পড়লেই টের পাওন যায় সামাজিক অনেক বিবেচনাই সেই খানে আছে। বস্তু পরিবর্তনের নিয়ম কেবল বহিঃদ্বন্দ্ব মারফত হয় না, তার আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বরেও শক্তিশালী বা ঐ পরিবর্তনামূখী হইতে হয়। খুব সহজ একটা উদাহরন এই ক্ষেত্রে দেওন যায়, একটা সাদা ডিমাকৃতির পাথরে সারাদিনমান মুরগীরে দিয়া তা দেওয়াইলে কি মুরগীর বাচ্চা বাইর হয়? কখনোই না। তেমনি আসলে মার্ক্সিজম না জানা মানুষের লগে তর্কে কি কখনোই কোন ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব মার্ক্সীয় ব্যখ্যায়? দেরিদা যখন নৈতিকতারে বিবেচ্য করেন তখন সেইটারে যেই উদ্দেশ্যে করেন অভিজিৎ কি একই উদ্দেশ্যে করেন? আমি মনে করি করেন না।

তবুও এই আলোচনার অগ্রসরমানতা চাই...প্রত্যাশা করি মার্ক্সবাদের বিজ্ঞান সম্মত মনোভঙ্গী একসময় সকলে টের পাইবো। মার্ক্সবাদ বিজ্ঞান কি অবিজ্ঞান এই বিতর্ক (সু-কু) দুরীভূত হইবো...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28839021 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28839021 2008-09-05 13:04:46
এই ভালো পেসিমিস্ট আছি!
এই দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতাধারকেরা চিরকাল প্রতিশ্রুতি আর প্রত্যাশার ভাঙনের মধ্যে আমাগো এমনে অভিযোজিত করছে যে আমরা তারে আর সমাধান মনে করতে পারি না। মনে করি সমাধান রয়েছে অন্য কোন খানে...অন্য কারো অঙ্গুলি হেলনে। আর তাই সামরিক বাহিনী ক্ষমতা অধিগ্রহণ করলে, তারা ছদ্মবেশে দরদামে গেলে মনে করি এইটা একটা মুক্তির পথ। যেই সময়টাতে শেখ হাসিনা দুর্নীতির দায়ে বিশেষ জেলে অন্তরীন হইলে আমরা কখনো ভাবি না এইটা কোন অসদুদ্দেশ্য, বরং আমাগো অনেকেই তখন মনে করে খালেদা জিয়া ক্যান তখন স্বাধীনতায় ঘোরাফেরা করে! তারেক জিয়া বা তার সকল সাঙ্গপাঙ্গ যখন ধরা পরে বিশেষ বাহিনীর হাতে তখন আমার নিশ্চিন্তির হাফ ছাইড়া কই, "ভালো হইছে...পাপের শাস্তি মানুষ এমনেই পায়।" নিয়তি বিশ্বাসী আমাগো আসলে এইটুকুতেই প্রশান্তি...

ক্ষমতার গল্প আমার কাছে খুবই সাধারন সমীকরণের মনে হয়। তারে অপারেট করনের মানুষটা পাল্টাইলে বড়জোর অভ্যাসগত কিছু বহিঃপ্রকাশ পাল্টায়। নাইলে যেইরম চলনের আসলে তেমনেই চলে। ক্ষমতা শত্রু আর মিত্রের কৌশলগত দৌর্বল্য আর সবলতা চিন্হিত করে কেবল। রাজনৈতিক নেতারা থাকলে আমরা প্রকাশ্যে আন্দোলন কইরা রাইতে বেলা নিপীড়িত হইতে পারি...প্রতিবাদ আর প্রতিক্রিয়ার একটা ধারাবাহিক পৌণপুণিকতায় প্রবিষ্ট হইতে পারি। কিন্তু সামরিক বাহিনী থাকলে সেই প্রতিরোধের মুখেও ছাই পরে। লাঠিয়ালেরা প্রতিক্রিয়ারে সবসময়ই ডরায়...হোক সে রাজনীতির ধামাধরা কিম্বা নিজেই শাসক।

আর তাই আমার বিশ্বাস করতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না শেখ মুজিবের ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ কতোটা ছিলো...বুঝতে কষ্ট হয় না আবেগে গলাভারী করতে পারা মানুষটা অন্তরালে নোংরামী কইরা একজন কৌশলী রাজনৈতিক চিন্তাবিদরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে পারেন...তার ধারাবাহিকতায় তারে পুরা প্রক্রিয়ায় কোনঠাসা করতেও তারে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয় নাই। বাকশালরে যতোই ক'ই স্যান্ডানিস্টা কিম্বা উজামা'র অনুসৃত মতাদর্শ, মূল উপবাচ্য ছিলো ক্ষমতারে কুক্ষিগত করণ, সেইটা আমি বুঝতে পারি। আমার বুঝতে কষ্ট হয় না মেজর জিয়া জাতিরে স্বাধীনতা দেওনের নামে এই দেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজনীতির পুনঃপ্রবেশের সুযোগ কইরা দ্যান কেবল প্রতিপক্ষরে দুর্বল কইরা বিভাজনের নোংড়া খেলা খেলনের তরে। ক্ষমতার লোভে তিনি ছিড়া গেঞ্জি আর ভাঙা ট্রাঙ্ক সযতনে রাখেন...যেই যাদুই ট্রাঙ্কের ভিতর থেইকা অব্যবহিত পরেই তার স্ত্রী আর সন্তানেরা একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর সম্পদের পাহাড় বাইর করতে থাকে...অর্থনৈতিক মুক্তির নামে খোলা খোলাবাজারে আসলে যেই বৈষম্যের গাঢ় দাঁগ লিখতে চাইছেন তিনি সেইটাও আমার বুঝতে বিন্দুমাত্র কসরত লাগে না। আমি আদৌ বিভ্রান্ত হইতে পারি না শেখমুজিবের সন্তান শেখ হাসিনার ক্রন্দনে...ঐ ক্রন্দন জলে আমি ক্ষমতার অপব্যবহারের সকল হাতছানি দেখি। ঐখানে থাকে লোভ আর অবিবেচনা...ব্যক্তির অভীপ্সা...

দেশে যখন প্রতিবাদের ছ্যাঃ! ছ্যাঃ চলে পুরাদমে...আমি তখন নিভৃতচারী হইতে চাই। জানি ক্ষমতার রূপ যদি বিদ্যমানতার মতোন হয়, তাইলে তার করাল থাবা থেইকা কোন মুক্তি নাই। আমি বর্তমান ধারার কোন প্রশ্বাসে-প্রতিশ্রুতিতে স্বপ্ন ভাঙনের দুঃখ নিতে চাই না। তার থেইকা এই ভালো পেসিমিস্ট আছি!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28838790 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28838790 2008-09-04 21:11:44
আমাদের উঠোন ছবি দেখে সাজিয়েছি আমাদের পবিত্র উঠোন...

আমাদের উঠোনে দজ্জাল রমনীরা
ভোরবেলা ঝগড়া করেনা...
প্রবাস নিবাসী শ্রমে আর ঘামে
গড়ে ওঠা মূদ্রার টঙ্কারে,
বিটোফেন বাজে আমাদের উঠোনেতে।

সেইখানে কলহ প্রিয় বাঙালি মায়েরা
নত, নতমুখ থাকে...
মগ্ন থাকে...গজরায়।
তাদের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ঝাট দ্যায়,
বালুকনা সরে যায়...

অথচ পেছনে পরে আছে এলোমেলো ঘর,
জীর্ণ কুটির বিদীর্ণ আবাসন...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28837331 http://www.somewhereinblog.net/blog/vashudearblog/28837331 2008-09-01 11:30:12
বড় মাছ আর ছোট মাছ বিষয়ক নিরীক্ষা
আমি বড় মাছের হিংস্রতা দেখে অবাক হয়েছি এতোকাল...তার হিংস্রতায় ভয়াবহতা রয়েছে অপার, রয়েছে ধ্বংসের হাতছানি, পঁচে যাবে-গলে যাবে সম্ভাবনা...আর আছে গেরিলা কৌশল...যতোই চেয়েছি বড় মাছের নাগাল থেকে কয়েকশ হাত দূরে চলবো নিয়তঃ, জানি না কিরূপে বড় মাছ রয়ে গেছে কাছাকাছি...

বড় মাছেরে খুনের নীল নকশা প্রনয়ন করেছি যখন, জানিনা তখন কে বা কাহারা তাহারে পৌছে দিয়েছে খবর। বড়মাছ কেবল বঙ্কিম চোখে তাকিয়েছে...এতোকাছ থেকে তার দৃষ্টির ক্রুঢ়তা আমারেও কাঁপিয়েছে...

অতএব বড় মাছের ছায়াতলেই থাকি...শৈবালে শৈবালে খুঁজে বেড়াই বিষের সম্ভাবনা...তাহার নিক