ব্লগে তর্কে জিততে চান!!! কলাকৌশল শিখুনঃ আস্তিক, নাস্তিক, আওয়ামী, বিএনপি, সৃষ্টিবাদী, বিবর্তনবাদী -- যে কোন বিষয়ে আপনার জয় অবশ্যম্ভাবী।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯
১। কোন ব্যক্তির কোন দাবী বা কোন বক্তব্য কে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে চান, তাহলে সেই দাবী বা বক্তব্যকে বাদ দিয়ে সেই ব্যক্তিকে আক্রমন করুন। আপনি যদি বিশ্বাসী হোন তবে সন্দেহবাদীদেরকে কুপমন্ডুক বলে অভিহিত করুন। আর যদি সন্দেহবাদী হোন তাহলে বিশ্বাসীদেরকে পাগল বলে অভিহিত করুন। যেমন আপনি যদি জ্বীন-পরীতে বিশ্বাসী হোন তাহলে অবিশ্বাসীদের বলবেন তুমি তো আর সবজান্তা শমসের নও যে সব জানবে, অন্যদিকে অবিশ্বাসী হলে বিশ্বাসীদের বলবেন তুমি একটা পাগল, তাই যা পাও তাই বিশ্বাস কর।
২। কোন কিছু সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা নাই কিন্তু এটিকে সত্যি বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তাহলে বলুন এটা সত্য কারন এটা যে সত্য নয় তা আমাদের জানা নেই। যেমন আকাশে গোলাকার কিছু দেখা গেল। আপনি বিশ্বাসী হলে বলবেন এটা ভিন গ্রহ থেকে এসেছে কারন এটা যে পৃথিবীরই কোন জিনিস তা তো আমাদের জানা নেই। আর যদি সন্দেহবাদী হোন তাহলে বলবেন এটা ভিন গ্রহ থেকে এসেছে আমরা তা বলতে পারি না কারন এইরূপ কিছু আমাদের জানা নেই।
৩। কোন কিছুকে সত্যি প্রমান করতে চাইলে, বলুন যে ওমুক শক্তিশালী বা জ্ঞানী ব্যক্তি এটি বলেছেন। আপনার যুক্তিকে জোরালো করতে বলবেন এটা তার এত দিনের অভিজ্ঞতা অথবা তার পড়াশোনা এইরকম, অথবা তিনি খুবই যোগ্য ব্যক্তি ইত্যাদি। বিশেষ বিষয়ে যাদের পড়াশোনা, চেনাশোনা, ও নামডাক আছে তাদের কথা লোকে সত্যি বলে গ্রহন করে থাকে, আর যাদের তা নেই লোকে তাদের কথাকে সন্দেহের চোখে দেখে। মনে রাখুন বেশীর ভাগ লোক এটা ভুলে যায় যে কোন কিছু আসলে সত্যি কিনা তা নির্ভর করে যুক্তি ও প্রমাণের উপর, কোন ব্যক্তি তা উপস্থাপন করছে তার উপর নয়।
৪। আপনি ব্লগ লিখেন। একটা ব্লগ লেখা হয়েছে, তারমানে অাপনি অবশ্যই ব্লগটি লিখেছেন। অথবা আম খেলে আমাশয় হয়, আপনার আমাশয় হয়েছে, কাজেই আপনি আম খেয়েছেন। এই ধরনের যুক্তি সাধারণত লোকে ধরতে পারে না। লোকে মনে করে অন্য লোকের ব্লগ লেখার কথা বা অন্য কিছুতে আমাশয় হওয়ার কথা তো এখানে বলা হচ্ছে না। কাজেই সে গুলো এখানে অপ্রাসংগিক।
৫। কোন কিছুকে মিথ্যা প্রমাণ করতে বলুন, আমি আমার সকল সামর্থ্য (যেন আপনার সব কিছু বুঝার সামর্থ্য রয়েছে) দিয়েও এটা ব্যাখ্যা করতে বা বুঝতে পারছি না। যেমন যদি সৃষ্টি তত্ত্বে বিশ্বাস করেন তাহলে বলবেন কোন ভাবেই আমি বিবর্তনবাদের ব্যাখ্যা বুঝতে পারি না। কাজেই বিবর্তনবাদ সত্য হতে পারে না।
৬। কোন দুটো ঘটনার একটাকে আরেকটার কারণ হিসাবে দেখাতে চাইলে তাদের একই সাথে ঘটা বা না ঘটাকে ব্যবহার করুন। যেমন যত বার বন্যা হয়েছে ততবারই একটা বিশেষ দল ক্ষমতায় ছিল। সুতরাং ঐ বিশেষ দল ক্ষমতায় আসলেই বন্যা হয়। আর তাই সেই বিশেষ দল অবশ্যই ভাল নয়।
৭। এখন পর্যন্ত শত চেষ্টা করেও আমরা (বা বিজ্ঞানীরা) কোন একটা বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারি না তাই এটা অবশ্যই বিধাতার কাজ। বর্তমান সময় পর্যন্ত যাহা ব্যাখ্যা করা যায় না তাহা যে ভবিষ্যতে ব্যাখ্যা করা যাবে না এই রকমটি বলা যায় না। অথচ বেশীর ভাগ লোক এই বিষয়টি ভুলে যায়।
৮। দুটো জিনিস হয়ত আবছা আবছা ভাবে আলাদা কিন্তু পরিস্কার ভাবে আলাদা করা যায় না, সুতরাং বিষয় দুটি আসলে আলাদা নয়। যেমন ধর্ম ও সংস্কৃতি দুটোকে পুরোপুরি আলাদা করা যায় না সুতরাং তারা অবশ্যই একই বিষয়। ধর্ম পন্থী দল গুলো তাই সবকিছুকে একাকার করে ফেলে আর অন্যদলগুলো আলাদা করতে চায়। সুবিধামত আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।
৯। অন্য সকল সম্ভাবনা বাদ দিয়ে কেবল মাত্র দুটি সম্ভাবনার কথা বলুন। তারপর একটাকে অগ্রহনীয় বলে উল্লেখ করুন, সুতরাং অন্যটি অবশ্যই গ্রহনীয়। মানুষ অন্য সম্ভাবনাগুলো অপ্রাসংগিক মনে করে ফেলবে। কাজেই আপনার দাবী প্রমান করা সহজ হবে। যেমন বলবেন মানুষকে হয় সৃষ্টি করা হয়েছে না হয় বিবর্তনবাদের মাধ্যমে মানুষ এসেছে। বিবর্তনবাদ যেহেতু সম্ভব নয় কাজেই আমাদেরকে অবশ্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যকোন ভাবে মানুষ সৃষ্টির কথা মানুষ ভুলেও ভাববে না।
১০। দরকার মত দুটি অসম্পর্কিত বিষয়ের একটাকে আরেকটার সমর্থনে ব্যবহার করুন। যেমন এই সরকার বিমানবন্দরের নাম বদল করেছে, সুতরাং এরা টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিবে, অথবা বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে এরা উৎসাহী নয়। অনেকেই আপনার যুক্তি মেনে নেবে।
১১। পরপর ঘটেছে দুটি ঘটনা। আগে ঘটা ঘটনা নিশ্চয় পরেরটার কারন। যেমন বর্তমানের বিদ্যুৎ সমস্যার অব্যবহিত পূর্বে সরকার বিমান বন্দরের নাম বদলে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কাজেই বিমান বন্দরের নাম বদলই বিদ্যুৎ সমস্যার কারন। এইভাবে কার্যকরন নির্ণয় বেশ কার্যকরী কৌশল। আপনি নির্দ্বিধায় এটি প্রয়োগ করতে পারেন।
১২। আমি জ্বীন-পরী দেখি নাই তাই আমি জ্বীন পরী আছে বলে স্বীকার করি না। তদরূপ বলতে পারেন, আমি চীনের প্রাচীর দেখি নাই। তাই চীনের প্রাচীর নেই। লোকে সাধারণত বুঝতে পারে না কোন বিষয়টিতে অন্যলোকের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনা করতে হয় আর কোথায় করতে হয়না।
১৩। কেউ কোন দিকে অল্প একটু হেলে গেল, মানে আসলে সে পুরোপুরি সেই দিকে হেলে গেল। আপনি এই কৌশল বেশ কার্যকর ভাবে কাজে লাগিয়ে মাত করে দিতে পারেন। হাসিনা পার্বত্য চুক্তি করেছে মানে হচ্ছে সে আসলে ফেনী পর্যন্ত বিদ্রোহী তথা ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে।
১৪। ঝাড়ফুঁক শুধু তাদেরই কাজ করে যারা তা বিশ্বাস করে। যারা বিশ্বাস করে না তাদের ক্ষেত্রে কাজ করে না। এই সুত্রানুযায়ী, যখন ঝাড়ফুঁক কাজ করবে না তখনই বলে দিতে পারবেন নিশ্চয় মনে একটু খানি সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল। আর যখন কাজ করবে তখন " মনে মনে হলেও বিশ্বাস ঠিকই আছে" তা বলে দিতে দেরী করবেন না।
১৫। বিপক্ষকে যে দিকে নিয়ে গেলে আপনি সহজেই আপনার যুক্তি খুঁজে পাবেন, বিপক্ষকে সেই দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। ভারত বিষয়ক যে কোন কথা বার্তায় সীমান্ত সংঘর্ষকে নিয়ে আসুন। ভারত ও প্রতিপক্ষকে পরাভুত করা কোন সমস্যা নয়। একই ভাবে পাকিস্তান সমর্থকদের কে রাজাকার বিষয়ে টেনে নিয়ে আসুন।
১৬। যা প্রমান করতে চান সেটাকেই যুক্তি হিসাবে ব্যবহার করুন। মানুষ এই রকম যুক্তিকে অকাট্য যুক্তি হিসাবে মেনে নিতে বাধ্য। সন্দেহবাদীরা পালানোর পথ পাবে না। যেমন বলুন আল্লাহ সর্বশক্তিমান কারন সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেন যে তিনি সর্ব শক্তিমান।
১৭। বিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে ক্রমাগত নতুন নতুন বিষয়ের অবতারনা করুন। বিপক্ষ কোন একটা বিষয়ে সামান্য কিছু বলার পরেই তাকে শেষ করতে না দিয়ে নতুন একটা বিষয় নিয়ে আসুন। যেমন আওয়ামী লীগ বিষয়ে যে কোন বিষয় আসলে, বাকশাল নিয়ে কিছু ক্ষন বলবেন। ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে কিছুক্ষন বলবেন। ভারত নিয়ে কিছুক্ষন, ইত্যাদি।
১৮। বিপরীত পক্ষকে ভুল প্রমান করতে নিজের কিছু বিষয়ও ভুল হতে পারে মেনে নিন। যেমন "আমার যুক্তিও ভুল হতে পারে, তবে তোমার যুক্তি অবশ্যই ভুল।" লোকে একই সাথে আপনার নিজের ভুল স্বীকার করার মহানুভবতাও বুঝতে পারবে, আবার বিপক্ষের ভুলে তাকে বেচারা বলেও মনে করবে।
১৯। সর্বশেষ কৌশল হিসাবে বিপক্ষকে বলুন সে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি তবে তার এই কথাটি ভুল। এতে সেই জ্ঞানী ব্যক্তি ক্ষিপ্তও হবেন না। আবার ভুল স্বীকার করেও ফেলতে পারেন। তবে এই কৌশলটি প্রয়োগের আগে নিশ্চিত থাকবেন যে সেই জ্ঞানী ব্যক্তিটি আসলেই এইক্ষেত্রে ভুল। না হলে আপনার কপালে খারাপী থাকতে পারে।
সুত্রঃ জনপ্রিয় ফ্যালাসি সমুহ অবলম্বনে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:৩২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। তবে আপনি নতুন বলে তো মনে হচ্ছে না। অন্তত আমার চেয়ে ৩-৪ গুন বেশী বয়সের অধিকারী। যাইহোক ভাল থাকবেন।
মাসুম আহমদ ১৪ বলেছেন:
ভাই এই তো দেখি বিরাট গবেষনা করে ফেলছেন । তয় অনেকের কাজে লাগব
লেখক বলেছেন: হমম কাজে লাগাবেন, হাতে হাতে ফল পাবেন। জেতার আনন্দও পাবেন!
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: কি? এটা পছন্দ হয়েছে!
রোবোট বলেছেন:
পিলাচ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
দুখী মানব বলেছেন:
খ্যাক
লেখক বলেছেন: খ্যাক!
বিডি আইডল বলেছেন:
আপনার মূল নিকটাতে লগইন করেন না যে?
লেখক বলেছেন: সময় নাই!
বিলাশ বিডি বলেছেন:
হা হা প গে। সো ট্রু!!
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: না সহি সালামতেই আছে।
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন:
বাস্তবিক আপনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি, কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য বাস্তবের সাথে মেলেনা। আপনি যেভাবে প্রমাণ করতে চাইছেন সেভাবে একমাত্র পাগলেই চিন্তা করতে পারে। হয়ত আমার কথাটা আপনার খারাপ লাগবে। কিন্তু তবু আর একবার ভালো করে ভেবে দেখার অনুরোধ রইল। হয়ত আপনি নিজেই আপনার ভুল ধরতে পারবেন। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আমি আপনার মন্তব্য বুঝি নাই। আর আমি কোন কিছু কিন্তু প্রমাণ করতে চাই নাই।
আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেন:
+++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
প্রলাপ বলেছেন:
প্রিয়তে নিলাম
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন:
সরি, আমি ভুলেই গেছিলাম যে এখানে এমন একটি মন্তব্য করেছি। আসলে আপনার বুদ্ধি আপনার উপরেই ট্রাই মেরেছিলাম। (আজ আপনি আপনার ভুল বুঝতে না পারলেও একদিন ঠিক পারবেন...... এটাও একটা পদ্ধতি
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















প্রিয় সুহৃদ,
আমি নতুন। আপনার লেখা পড়ি, ভালো লাগে বলে। আপনার সবগুলো লেখাই অসাধারণ। সত্যি বলতে কি ব্লগে আপনাদের মতো কয়েক অসাধারণ লেখক আছেন বলেই আমার ব্লগে আগমন।
আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। আপনার শুভ কামনায়-
আপনার একান্ত গুণমুগ্ধ
স্বপ্নচারী