somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শনির চাঁদ টাইটানে বিজলীচমক – জীবনের স্ফুলিঙ্গ কি দেখা দেবে!

৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্হি-জাগিতিক জীবনের খোঁজে মানুষ বহুকাল ধরে তাকিয়ে আছে আকাশের পানে। ওই দূর বা নিকট নক্ষত্রালোকের কোথা হয়ত বয়ে চলেছে ভিন্ন জীবনের এক প্রবাহ, মানুষ ভেবেছে। বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে মহাকাশের অসীম জগতের কোথাও থেকে ভেসে আসে কিনা জীবনের বাণী তাই আকাশে পেতেছে কান। SETI প্রকল্প বর্হি জীবনের খোঁজ অনেককাল ধরে মহাজাগতিক বেতার তরঙ্গ ধারণ এবং তা বিশ্লেষণ করে চলেছে। এ ভাবে বেতার-আড়ি পেতে আজ কোনও সুফল মেলনি। আজও নীল মায়াবী পৃথিবী নামের গ্রহের বাইরে কোথাও দেখা যায় নি জীবনের কোনও চিহ্ন। পাওয়া যায়নি জীবনের কোনও শব্দ।
তবে সম্প্রতি শনির সবচেয়ে বড় চাঁদ টাইটানে ধরা পড়েছে বৈদ্যুতিক তৎপরতা। এখানে জীবন লালিত হতে পারে এমন যুক্তি এখন বৈজ্ঞানিক মহলে ক্রমেই জোরাল হচ্ছে। টাইটানের ভূ-পৃষ্টের তাপমাত্রা শুন্যের ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে। অর্থাৎ -১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যে কোনও জীবন ধারণের জন্য অনুপযোগী অতিশীতল এই আবহ মন্ডল। টাইটানের আবহ মন্ডলকে ঘিরে রয়েছে ঘন মেঘের পুরু নেকাব। পৃথিবীতে বিজলীচমকের ফলে যে রকম শক্তির বিকিরণ ঘটে, সে রকম বিদ্যুতের তৎপরতা সম্প্রতি ধরা পড়েছে নতুন এক সমীক্ষায়। বিদ্যুৎ চমকের মধ্য দিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে পৃথিবীতে জীবনের বিকাশ ঘটেছিলো, মনে করা হয়। এর আগে টাইটাইনের আবহমন্ডলে বিদ্যুতের লীলা ধরা পড়েনি। কিন্তু বর্তমানে সে সব সংকেত পাওয়া গেছে সেগুলোতে বিদ্যুতের লীলার অনস্বীকার্য প্রমাণ রয়েছে। আর এ সব উপাত্তরাজি পাঠিয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার হুইজেনস অনুসন্ধানী মহাকাশযান। নাসার মহাকাশযান কাসিনি থেকে এটি আলাদা হয়ে গিয়েছিলো সেই ২০০৫ সালে। টাইটানের মেঘমন্ডলীর মধ্যে প্রবেশকারী এটাই প্রথম অনুসন্ধানী মহাকাশযান। তবে মহাকাশযানটি যখন টাইটানের আবহমন্ডলে প্রবেশ করে যে সময় একটা গ্যাঞ্জাম দেখা দেয়। বাতাসের প্রচন্ড তোড়ে মহাকাশযানটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি হেলে যায়। শেষপর্যন্ত এই দুঘর্টনা শাপে বর হয়ে দেখা দেয়। আর এ ভাবে হেলে পড়ার কারণেই টাইটানের আবহমন্ডলে পৃথিবীর অনুরূপ বৈদ্যুতিক লীলা ধারণ করতে পারে মহাকাশযানটা, আর না হলে কখনোই এই অনুসন্ধানী মহাকাশ যান নির্ণয় করতে পারত না ওই লীলা-খেলা। স্কিক্রিপস ইনসটিটিউট অব ওসোনোগ্রাফীর জেফ্রি বাডা মনে করেন যে রকম বিদ্যুৎচমকের ফলে পৃথিবীতে জীবনের সঞ্চার হয়েছিলো তা সার্বজনীন। টাইটাইন সহ মহাজগতের অন্য কোথাও, অন্য কোন খানে ঠিকই একই ভাবে জীবনের জয়যাত্রর প্রথম পর্বের সূচনা হতে পারে। টাইটানে রয়েছে হাইড্রকার্বনের বিশাল বিশাল হ্রদ। পৃথিবীর বাইরে আর কোথাও উন্মুক্ত তরল পদার্থের উৎস পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। হাইড্রকার্বন হল জৈব অনুরাজী। টাইটানে এর অস্তিত্ব থাকার অর্থ হল সঠিক পরিস্থিতিতে সেখানে জীবনের পদচারণা শুরু হতে পারে। কাজেই টাইটানে বিদ্যুৎ চমকের মাধ্যমে জীবনের অগ্রবর্তী অনুরাজী সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন জেফ্রি বাডা। এবার দরকার তরল পানির। কিন্তু টাইটানের পানি জমে গ্রানাইট পাথরের মত শক্ত হয়ে আছে। এই পাথুরে বরফ যদি গলত তা হলে টাইটানের আবহাওয়া জীবনের অনুকুল হয়ে উঠতে পারত। পানি থাকলে সেখানে এমিনো এসিড তৈরি হতে পারত। তারপর তৈরি হত পুর্ণাঙ্গ আমিষ। তাহলে গতি পেত জৈব-রসায়ন। আরও জটিল সব অনুরাজী সৃষ্টির উপযোগী হয় উঠত টাইটানের আবহমন্ডল। তবে নানা রকম মহাজাগতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলে একসময় টাইটান উষ্ম হয়ে উঠতে পারে, গলে যেতে পারে হিম বরফ। এমনকান্ড কখন ঘটবে তা হিসেব করে পূর্বাভাস দেয়া যায় না, বৈজ্ঞানিকরা মনে করেন। আরেকটা সমস্যা হল টাইটানের স্থায়ী কোনও চৌম্বক ক্ষেত্র নেই। মহাজাগতিক প্রাণঘাতী বিকিরণ প্রতিহত করতে হলে যা একান্তভাবে প্রয়োজন। তবে তারপরও জিফ্রি বাডা, করছেন জীবনের যাত্রা শুরুর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে হিম-টাইটান ।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×