বর্হি-জাগিতিক জীবনের খোঁজে মানুষ বহুকাল ধরে তাকিয়ে আছে আকাশের পানে। ওই দূর বা নিকট নক্ষত্রালোকের কোথা হয়ত বয়ে চলেছে ভিন্ন জীবনের এক প্রবাহ, মানুষ ভেবেছে। বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে মহাকাশের অসীম জগতের কোথাও থেকে ভেসে আসে কিনা জীবনের বাণী তাই আকাশে পেতেছে কান। SETI প্রকল্প বর্হি জীবনের খোঁজ অনেককাল ধরে মহাজাগতিক বেতার তরঙ্গ ধারণ এবং তা বিশ্লেষণ করে চলেছে। এ ভাবে বেতার-আড়ি পেতে আজ কোনও সুফল মেলনি। আজও নীল মায়াবী পৃথিবী নামের গ্রহের বাইরে কোথাও দেখা যায় নি জীবনের কোনও চিহ্ন। পাওয়া যায়নি জীবনের কোনও শব্দ।
তবে সম্প্রতি শনির সবচেয়ে বড় চাঁদ টাইটানে ধরা পড়েছে বৈদ্যুতিক তৎপরতা। এখানে জীবন লালিত হতে পারে এমন যুক্তি এখন বৈজ্ঞানিক মহলে ক্রমেই জোরাল হচ্ছে। টাইটানের ভূ-পৃষ্টের তাপমাত্রা শুন্যের ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে। অর্থাৎ -১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যে কোনও জীবন ধারণের জন্য অনুপযোগী অতিশীতল এই আবহ মন্ডল। টাইটানের আবহ মন্ডলকে ঘিরে রয়েছে ঘন মেঘের পুরু নেকাব। পৃথিবীতে বিজলীচমকের ফলে যে রকম শক্তির বিকিরণ ঘটে, সে রকম বিদ্যুতের তৎপরতা সম্প্রতি ধরা পড়েছে নতুন এক সমীক্ষায়। বিদ্যুৎ চমকের মধ্য দিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে পৃথিবীতে জীবনের বিকাশ ঘটেছিলো, মনে করা হয়। এর আগে টাইটাইনের আবহমন্ডলে বিদ্যুতের লীলা ধরা পড়েনি। কিন্তু বর্তমানে সে সব সংকেত পাওয়া গেছে সেগুলোতে বিদ্যুতের লীলার অনস্বীকার্য প্রমাণ রয়েছে। আর এ সব উপাত্তরাজি পাঠিয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার হুইজেনস অনুসন্ধানী মহাকাশযান। নাসার মহাকাশযান কাসিনি থেকে এটি আলাদা হয়ে গিয়েছিলো সেই ২০০৫ সালে। টাইটানের মেঘমন্ডলীর মধ্যে প্রবেশকারী এটাই প্রথম অনুসন্ধানী মহাকাশযান। তবে মহাকাশযানটি যখন টাইটানের আবহমন্ডলে প্রবেশ করে যে সময় একটা গ্যাঞ্জাম দেখা দেয়। বাতাসের প্রচন্ড তোড়ে মহাকাশযানটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি হেলে যায়। শেষপর্যন্ত এই দুঘর্টনা শাপে বর হয়ে দেখা দেয়। আর এ ভাবে হেলে পড়ার কারণেই টাইটানের আবহমন্ডলে পৃথিবীর অনুরূপ বৈদ্যুতিক লীলা ধারণ করতে পারে মহাকাশযানটা, আর না হলে কখনোই এই অনুসন্ধানী মহাকাশ যান নির্ণয় করতে পারত না ওই লীলা-খেলা। স্কিক্রিপস ইনসটিটিউট অব ওসোনোগ্রাফীর জেফ্রি বাডা মনে করেন যে রকম বিদ্যুৎচমকের ফলে পৃথিবীতে জীবনের সঞ্চার হয়েছিলো তা সার্বজনীন। টাইটাইন সহ মহাজগতের অন্য কোথাও, অন্য কোন খানে ঠিকই একই ভাবে জীবনের জয়যাত্রর প্রথম পর্বের সূচনা হতে পারে। টাইটানে রয়েছে হাইড্রকার্বনের বিশাল বিশাল হ্রদ। পৃথিবীর বাইরে আর কোথাও উন্মুক্ত তরল পদার্থের উৎস পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। হাইড্রকার্বন হল জৈব অনুরাজী। টাইটানে এর অস্তিত্ব থাকার অর্থ হল সঠিক পরিস্থিতিতে সেখানে জীবনের পদচারণা শুরু হতে পারে। কাজেই টাইটানে বিদ্যুৎ চমকের মাধ্যমে জীবনের অগ্রবর্তী অনুরাজী সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন জেফ্রি বাডা। এবার দরকার তরল পানির। কিন্তু টাইটানের পানি জমে গ্রানাইট পাথরের মত শক্ত হয়ে আছে। এই পাথুরে বরফ যদি গলত তা হলে টাইটানের আবহাওয়া জীবনের অনুকুল হয়ে উঠতে পারত। পানি থাকলে সেখানে এমিনো এসিড তৈরি হতে পারত। তারপর তৈরি হত পুর্ণাঙ্গ আমিষ। তাহলে গতি পেত জৈব-রসায়ন। আরও জটিল সব অনুরাজী সৃষ্টির উপযোগী হয় উঠত টাইটানের আবহমন্ডল। তবে নানা রকম মহাজাগতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলে একসময় টাইটান উষ্ম হয়ে উঠতে পারে, গলে যেতে পারে হিম বরফ। এমনকান্ড কখন ঘটবে তা হিসেব করে পূর্বাভাস দেয়া যায় না, বৈজ্ঞানিকরা মনে করেন। আরেকটা সমস্যা হল টাইটানের স্থায়ী কোনও চৌম্বক ক্ষেত্র নেই। মহাজাগতিক প্রাণঘাতী বিকিরণ প্রতিহত করতে হলে যা একান্তভাবে প্রয়োজন। তবে তারপরও জিফ্রি বাডা, করছেন জীবনের যাত্রা শুরুর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে হিম-টাইটান ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



