বাংলাদেশের উজ্জ্বল কমপিউটার প্রতিভাদের সাম্প্রতিক কালের দুটি কাজের সুফল আমার প্রতিদিনই ভোগ করছি। এর একটি অভ্র, মেহদী হাসান খানের সৃষ্টি এই বাংলা টাইপিং প্রোগ্রামের তুলনা হয় না নানা কারণে। একদিকে এটি ব্যবহার বান্ধব অন্যদিকে এতে কি বোর্ড এডিটর রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীকে আঙ্গুলের অভ্যাস বদল করার মত পুন:জন্মের আর প্রয়োজন পড়ে না। নিজের ইচ্ছে মত কি বোর্ড এডিট করে মনের সুখে টাইপ করার আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। এমনই টাইপপ্রিয় হয়ে গেছি যে আজকাল হাতে লেখার কথা ভাবলে পায়ের ঘাম মাথায় উঠে আসতে চায়! এই 'টাইপানন্দের' পুরো ছোয়াব পাবে অভ্র। এর আগে ইউনিকোড ভিত্তিক টাইপিং প্রোগ্রাম চেখে দেখতে গিয়ে ছ্যাক খেয়েছি। আমি বিজয়ে টাইপ করে অভ্যস্ত। আর ওসবে টাইপ করতে গেলে 'এ'কার 'ই'কার লেখা নতুন করে শিখতে হবে। ওমন জিনিস নতুন করে শেখার সময় কই? এই ঘরানার একজনকে 'মুক্ত' মানুষকে ব্যাপারটি বোঝানোর চেষ্টা করতেই তিনি রুঢ় ভাষায় মেইল করেছিলেন, ইংরেজী লেখা তার সে মেইলের তর্জমা করলে দাড়াবে, এটাই হল ইউনিকোডে টাইপ করার রীতি! তাকে তখন বোঝাতে চেষ্টা করেছিলাম প্রযুক্তি স্বভাবের অনুসরণ করবে স্বভাব প্রযু্ক্তির নয়। তিনি সে মেইলের জবাব দেন নি বা প্রয়োজন মনে করেন নি। তবে জবাব দিন আর না দিন খুশির কথা তারাও এখন লাইনে এসেছেন, পুরান ধারার কি বোর্ড যোগ করে রেখেছেন ইদানিংকালে, তবে এ সবই ঘটেছে নতুন অভ্রের আগমনের পরে।
দ্বিতীয় যে জিনিসটি আমাদের প্রতিদিনের কাজের সহযোগী হয়ে উঠেছে সেটি হল মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক। এস এম মাহবুব মুর্শেদ, অরূপ কামাল এর এই অনবদ্য কাজের কোনও তুলনা নেই। আমি অবশ্য এর আগে শাব্দিকের পরিবর্তক ব্যবহার করেছি। ওটাও ভাল কাজ করে। তবে ওটা ইনস্টল করা বড়ই হাঙ্গামার ব্যাপার। এবং মোটেও হালকা পাতলা গড়নের নয়। এখন আমার মনে হয় মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তকের খানিকটা উন্নয়ন এবং পরিবর্তন আশু দরকার হয়ে দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা আজ প্রয়োজন তা হল ভারতীয় যে সব বাংলা দৈনিক বের হয় সেগুলোর উভয়মুখী(পুরান বাংলা থেকে ইউনিকোড এবং উল্টোটা)পরিবর্তনের সুবিধা যোগ করা। কাজটা কি খুবই কঠিন? না হলে কেনও এ দিকে আজ মাহবুব মুর্শেদ এবং অরূপ কামালের মত তারকা প্রতিভারা নজর দিচ্ছেন না? নাকি তারা অতিশয় ব্যস্ত! যাই হোক, আপনাদের সু নজর এদিকে পড়ুক এই কামনা করছি। একান্তভাবেই এ কামনা করছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



