somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আড্ডা ছুট্টি

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আড্ডা ছুট্টি

সরসিজ আলীম

আমি যখন কনকর্ড এম্পোরিয়ামে যাওয়া শুরু করি, তখন শুধু অগ্রদূতের প্রকাশক মনি মহম্মদের জন্য যেতাম। আমার বই বের হলো অগ্রদূত হ’তে, তাইতো বইয়ের বিবিধ কর্মকান্ডে জল সিঞ্চনের জন্যই যেতে হতো নিয়মিতই। আর আজিজে আমার পরিচিতরা হঠাৎ সবাই উধাও হ’তে থাকলো। আজিজকে বাই বাই করতে হলো। এখন আজিজের গুস্টি কিলাই অবস্খা। মাঝে কিছুদিন ধানমন্ডি ৩২-এ আড্ডা দিয়েছি। ৩২-এ ঠিক সাহিত্য আড্ডা দেবার জায়গা নয়। আমরা যারা এক জায়গায় সময়টা পার করতে চাইতাম। তারাই মূলতঃ ৩২-এ আড্ডা দিচ্ছিলাম। তবে ‘ভনে’ কাগজটা বের করবার নতুন পরিকল্পনা ওখান থেকে হ’য়েছিলো। আবার এখান থেকেই আমাদের কাগজের সাথে মূল দায়িত্বপ্রাপ্তরা ছিটকে পড়েছিলো কাগজের একটা সংখ্যা বের হবার আগেই। তাতে আমার বেশ সুবিধা হ’য়েছিলো অকাজের কাজীদের ভরসায় থেকে কপাল চাপড়াতে হয়নি। আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম, এখান থেকে কাকে কাকে ছেটে ফেলতে হবে। কাগজ বের হলো। আমার কর্মপেটুক বন্ধুরা আড্ডা থেকে বিদায় নিলো। ওখান থেকেই সিদ্ধান্ত ছিলো মনি একটা প্রকাশনী করবে, আমরা তাকে ব্যবসায়ীক হিসাবের বাইরে থেকে তাকে সাহায্য করবো। মনি দৌড়ঝাঁপ ক’রে কাঁটাবন কনকর্ড শপিং কমপ্লেক্সে একটা ঘর নিতে পারলো। একুশে বইমেলা শুরু হলো ৪/৫টা বই সে মেলাতে আনতে পারলো। আমার বই দুটো আনলো মেলার শেষ দিন। মেলা শেষে আমাদের ফিরে যেতে হলো কনকর্ড এম্পোরিয়ামে। আমার হাতে নতুন দুটি বই। কনকর্ড আমার কাছে নতুন। অগ্রদূত ও মুক্তচিন্তা বাদে সবাই আমরা পরস্পর নতুন। ৩৫টা প্রকাশনী ও বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। একে সবার সাথে পরিচয় হলো। সবাই যে যখন ফুসরত পায় অগ্রদূতে এসে আমাদের সাথে আড্ডা দেয়। লেখক হিসাবে প্রায় নিয়মিত যোগ দিতে থাকলো খোন্দকার শামসউজজোহা, আন্না পুনম, আলতাফ শেহাব, গাজী তানজিয়া, হোমায়রা নাজনীন সোমা। মাঝে মাঝে শিদ্ধার্থ শংকর ধর, মাসুদ পথিক, চন্দন চৌধুরী। কিছুদিন আগে বর্ষার বইমেলা হয়ে গেলো। তখন থেকেই কনকর্ডের আড্ডায় যোগ হয়েছে টোকন ঠাকুর, আরিফ, কাফি কামাল, মনির ইফসুফ, তুহিন তৌহিদ, মনসুর হেলাল, সুবীর কর, মজনু বৃদ্ধ বিশদ, আর মাঝে মাঝে সেলিব্রেটি কায়দায় ঢু মেরে যায় মারজুক রাসেল। আর অতিথি হয়ে এরমধ্যে আড্ডা দিয়ে গিয়েছে মৃন্ময় মনির, দীপ্র আজাদ কাজল, আবিদ চৌধুরী, বাসেল মালিথা, শাকিল আহম্মেদ। কখনো এম্পোরিয়ামের বেইজমেন্টে, কখনো গ্রাউন্ড ফ্লোরের সিঁড়িতে ব’সে সিগারেটের আর চায়ের ধোঁয়ার সাথে আমরা বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে কবিতা, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি উড়াচ্ছি ঘন্টার পর ঘন্টা। আমরা সবাই কম-বেশি এবার ঈদ সংখ্যাগুলোতে লিখেছি। টোকন ঠাকুর এবারই প্রথম কোথাও লেখেনি। সে একটা অস্থিতার মধ্যে আছে। ঈদ সংখ্যাগুলো ব্যবসায়ীক প্রডাক্ট ছাড়া কিছু নয়। এক প্রত্রিকায় অনেকগুলো উপন্যাস দেখে অনেকে কিনে থাকে। একটাও সম্পূর্ণ উপন্যাস নয়। হুমায়ুনের উপন্যাসের একটা অংশ মাত্র ছাপা হয়। ঈদ সংখ্যাগুলো কোন লেখক তেমন একটা সংগ্রহও করে না। তবে লেখকরা কিছু টাকা-পয়সা পান, এটা লেখকের জন্য কিছুটা ফায়দা। টোকন ইচ্ছে করে এই ফায়দা নেয়নি। আমি ভনে ২য় সংখ্যা বের করার জন্য বেশ লম্পঝম্প দিচ্ছি। লেখা যোগাড়, বিজ্ঞাপন যোগাড়, টাকা যোগাড় একাকার ক’রে চলছে। লেখা যোগাড় শেষ, বিজ্ঞাপনের মেটার বেশ বাকি, টাকা বেশ যোগাড় হলো। প্রেস পাড়ায় তালা চাবিতে বন্ধ। আমার গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সাপ্তাহিক শুক্রবারের ছুটি বন্ধ। একদিন ব’সে পত্রিকার কাজটি করার ফুসরত মিলাতে পারলো না। ঈদে আগেই ভনে বের করার খায়েসটা মিটলো না। ঢাকা শহর ক্রমাগত ঝিমিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আড্ডার পরিসর ছোট হয়ে যাচ্ছে। বেইজমেন্টের দোকানগুলোতে তালা ঝুলে যাচ্ছে। আমরা বাইরের সিঁড়িতে ব’সেই আড্ডা দিলাম আজ। কালও তাই দিতে হবে। তারপর টোকন, আরিফ ঢাকা ছেড়ে যাবে। আমি ঢাকার কুয়াশার ভেতর থেকে যাবো। বেশ কিছু দিন আড্ডার কেউ থাকবে না। আমি ঘরে ব’সে শিকড় ছড়াবো। গিফ্ট পাওয়া ঈদ সংখার দু একটা পাতা উল্টাবো! ভনের লেখাগুলো নির্ভুল করার চেষ্টা চালাতে থাকবো।
মোবারক ভাই ও বোনেরা, যে যেখানে যাও ভালো থেকো! ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম ইন্নালিল্লাহে .... রাজেউন!

০৮।০৮।২০১০, ঢাক।
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×