"কিভাবে জানবেন আকাশের তারার নাম!"- আগের এই পোস্টটিতে আকাশের মানচিত্র বিষয়ক কিছু টুলের ব্যাপারে আলোচনা করেছিলাম।
আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যা অনুসারে কন্সটেলেশন হচ্ছে আকাশের সুনির্দিষ্ট অঞ্চল। জ্যোতির্বিদরা পুরো আকাশকে কতগুলো এলাকায় ভাগ করেছেন, এবং নামকরণ করেছেন। এলাকাগুলো সরলরেখায় আবদ্ধ বিভিন্ন বাহুবিশিষ্ট বহুভুজাকৃতির। আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যায় এরকম ৮৮ টি কন্সটেলেশন চিহ্নিত করা হয়।
কন্সটেলেশনের ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ এবং আগ্রহউদ্দীপক। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ আকাশের তারা দেখে তাদেরকে সরলরেখা দ্বারা যুক্ত করে বিভিন্ন আকৃতি কল্পনা করতো। এভাবে তাদের কল্পনায় তারাগুলো হয়ে উঠতো ভালুক, কুকুর, শাপ, মেষ, বৃষ, কাঁকড়া, ছাগল ইত্যাদি আকৃতির একেকটা স্ট্রাকচার। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিভিন্ন কালচার একই তারকাগুচ্ছকে বিভিন্ন আকৃতির বলে কল্পনা করতো। আর এই আকৃতিগুলোকেই বিভিন্ন নাম দিয়ে ডাকা হতো। অর্থাৎ, উজ্জ্বল তারাগুলোর যেমন নাম ছিল, তারাগুলো দিয়ে গঠিত স্ট্রাকচারগুলোরও তেমন একেকটা নাম ছিল। আর এই গুলোই ছিল কন্সটেলেশন। প্রাচীন জ্যোতির্বিদ, ধর্মগুরো এমনকি সাধারণ মানুষ বিভিন্ন উপায়ে কন্সটেলেশন চিহ্নিত করেছেন। বিভিন্ন কালচারের জ্যোতির্বিদদের এই কাজের মধ্যে যেমন অমিল রয়েছে, তেমনি অদ্ভুত মিলও খুঁজে পাওয়া যায়।
সাধারণত খালি চোখে দেখা উজ্জ্বল তারাগুলোই কন্সটেলেশন নির্ধারণ করতো। কিন্তু টেলিস্কোপ আবিস্কারের পর দেখা গেল, আকাশের ওই স্থানেই আরো অনেক তারা রয়েছে, যেগুলো খালি চোখে দেখা যায়না। এগুলো পূর্বনির্ধারিত প্যাটার্ণগুলোকে নষ্ট করে দেয়। একারণেই আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যায় উজ্জ্বল তারাদের প্যাটার্ণ দিয়ে কন্সটেলেশন নির্ধারণ না করে বরং সীমানা দ্বারা আবদ্ধ এলাকাকে কন্সটেলেশন হিসেবে চিহ্নিত করেন। আর প্রাচীন কন্সটেলেশনের ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক কন্সটেলেশনগুলো গঠিত বলে নামকরণের সাথে মিলিয়ে প্যাটার্ণও খুজে পাওয়া যায়।
আকাশের তারাদের নিয়ে কল্পিত সকল প্যাটার্ণকে জ্যোতির্বিদরা একত্রে এ্যাস্টারিজম বলে থাকেন। বিভিন্ন কালচারের অসংখ্য কল্পিত এ্যাস্টারিজমের মাঝে ৮৮ টিকে বেছে নিয়ে তাদের সীমানা নির্ধারণ করেই আধুনিক কন্সটেলেশন সিস্টেম তৈরী হয়েছে।
মানুষের কল্পিত কিছু প্রাচীন ও আধুনিক কন্সটেলেশন/এ্যাস্টারিজমঃ
১. ড্রাকো (চাইনিজ ড্রাগন) এবং উরসা মাইনর (ছোট ভালুক)

উরসা মাইনরের লেজের সর্বশেষ তারাটি হচ্ছে ধ্রুবতারা। উরসা মাইনরের লেজের চারটি এবং পেছনের পায়ের তিনটি তারা নিয়ে যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন আকৃতির এ্যাস্টারিজম তাকে বাংলায় সপ্তর্ষীমন্ডল বলে।
২. উরসা মেজর (বড় ভালুক)

উরসা মেজরের লেজের সবচে উজ্জ্বল তিনটি এবং পিঠের পেছনের দিকের চারটি তারা নিয়ে যে লাঙলের মত এ্যাস্টারিজম তাকে বৃটিশরা দা প্লাউ এবং উত্তর আমেরিকানরা বিগ ডিপার বলে।
![]()
আকাশে বিগ ডিপার
![]()
আলাস্কার পতাকায় বিগ ডিপার
৩. গ্লোরিয়া ফেডেরিচি, অ্যান্ড্রোমিডা এবং ট্রায়াঙ্গুলাম

৪. মহাবীর পারসেয়াস এবং মেডুসার কর্তিত মস্তক

৫. লিও মেজর এবং লিও মাইনর (বড় সিংহ এবং ছোট সিংহ)

৬. মহাবীর ওরিয়ন

৭. ক্যানাইস মেজর (বড় কুকুর)

উল্লেখ্য, কুকুরটির নাকের কাছের সিরিয়াস (লুব্ধক) তারাটি পৃথিবী থেকে দেখা সবচে উজ্জ্বল তারা।
৮. বৃশ্চিক/স্করপিও

৯. ক্যান্সার/কর্কট

১০. পেগাসাস

১১. মিথুন/জেমিনি

১২. অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও সামোয়ার পতাকায় পতাকায় ক্রাক্স এর বিভিন্ন চিত্রায়ন
![]()
![]()
![]()
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


