আমার প্রিয় পোস্ট

শান্তির অম্লান, শ্যামায়িত আরমান- হেজাজের ঝড়ে বীভৎস বাধা দলছে © ওয়ালী. ১৯৮৩ এবং পরবর্তী ;)

সংস্কৃতি কঁ্যাচাল আর নিজের ভাবনা

৩০ শে মে, ২০০৬ রাত ৯:৪৩

শেয়ার করুন:                   Facebook


সংস্কার থেকেই সংস্কৃতি। যদি আভিধানিক অর্থে ধরা হয় তাহলে 'সংস্কার কৃত' সংস্কার করার পরে যে অবস্থা দাঁড়ায় তাকে বলা হয় সংস্কৃতি। পারিভাষিক ভাবে ধরলে আরবীতে দাঁড়ায় 'তাহযিব' আর ইংরেজীতে দাঁড়ায় 'কালচার'। তাহযিব আর কালচার শব্দটির যে ব্যাপকতা পরিলক্ষিত হয় তার সাথে 'সংস্কৃতি' শব্দটা খাপ খায় কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে (অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)। যাই হোক সেটা ভিন্ন দিক।

মানুষ যা করে তাই তার সংস্কৃতি।

পূর্বে মরদেহকে কেউ পুঁতে রাখতো আবার কেউবা নদীতে ফেলতো। এভাবে যার যেভাবে খুশি সে সেই ভাবেই ক্রিয়াটা সম্পাদন করতো। কোন একদিন সবাই মিলে এক হয়ে চিন্তা করলো মানুষের মরদেহকে নদীর পাশে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পুড়িয়ে ফেলা হবে। আর পোড়ানোর স্থানটিকে বলা হবে শ্মশান। এই প্রথাটি চালু হলো। এটা সংস্কৃতি, কারণ পূর্বের প্রথাটির সংস্কার কৃত অবস্থা। যারা জাতি এই সংস্কারটি করলো তারা কারা? তারা হিন্দু জাতি। বলা যায় যে এটা হিন্দু জাতির একটি সংস্কৃতি। হিন্দু জাতির আবাসস্থল ভারত তাই আবারও বলা যায় এটা ভারতীয় সংস্কৃতি। যদি এমন বলা হয়ে থাকে এই প্রথাটি বাংলাদেশেও চালু আছে তাহলে এটাকে বাঙ্গালী সংস্কৃতি বলাটা কতটুকু যক্তিসংগত? যদি একই ভূখন্ডে বিভিন্ন সমপ্রদায় থাকে তাহলে তাদের মধ্যে বিভিন্ন নিয়ম চালু থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শুধুমাত্র কোন এক শ্রেনীর সংস্কৃতিকে গোটা দেশের নামে চালিয়ে দেয়া যায় না। কোন হিন্দু আমেরিকা যেয়েও বলবে শ্মশান আর কোন মুসলমান পশ্চিমবঙ্গে থাকলেও বলবে গোরস্থান।

দেখা প্রয়োজন কোন শ্রেনীর মানুষ বলে শ্মশান আর কোন শ্রেনীর মানুষ বলে গোরস্থান? হুম, নির্দিষ্ট ধর্ম বিশ্বাসীরা এই কাজটি করে থাকে। যাই হোক মূল বক্তব্য হচ্ছে শ্মশান বা গোরস্থান কোন নিদির্ষ্ট ভূ-খন্ডের সংস্কৃতি নয় আর এর উদ্ভবও কোন ভৌগলিক পরিবেশ থেকে হয়নি বরং হয়েছে ধর্মীয় চেতনা থেকে। এটা হিন্দু সংস্কৃতি আর মুসলিম সংস্কৃতি মাত্র।

ঠিক এভাবেই পাশাপাশি দুই বাড়ীর মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধের কারনে জাল- পানি দিয়ে পায়েস- শিরনী রন্ধন করতে করতে গীত- সংগীতে মশগুল হয়। এই কোনটার ব্যপারেই আমার কোন আপত্তি নাই কিন্তু আমি কোনটাকেই বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী সংস্কৃতি মানতে কার্পণ্যবোধ করি। যার যার সংস্কৃতি সে সে পালন করবে।

এটা সূর্যালোর মতই স্পষ্ট যে সংস্কৃতি কোন ভূখন্ড ভিত্তিক হয় না, এটার জন্ম হলো ধর্ম বিশ্বাস এবং ধর্মীয় চেতনা থেকে। সংস্কৃতি গোটা মানব জীবনের আচার আচরণের মধ্যে পরিব্যপ্ত। খুব সামান্য কিছুই হয় ভৌগলিক পরিবেশ থেকে। আর তাই বাংলা কি আরবী কি ইংরেজী সেটা বড় কথা নয় যেটা দেখার বিষয় সেটা হচ্ছে এটা আমার সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে কিনা। বিরোধিদের কাজ হচ্ছে এগুলোতে আপত্তি তোলা আর ভিন্ন সংস্কৃতি রপ্তানী করে তা ক্রমন্ময়ে গা সওয়া করে নিয়ে যাওয়া এবং মুসলিম সভ্যতা সমর্্পকে মুসলমানদের অজ্ঞ করে রাখার একটি কৌশল। আরবী আমার মাতৃভাষা না কিন্তু আরবী এমনভাবে শিখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি যেন কোন জনমে অাঁটকে পরতে না হয়। কারণ মৃতু্যর পর ভাষার বিভিন্নতার কোন কারণ থাকবে না কাজেই বিভিন্ন ভাষাও থাকবেনা। আলহামদুলিল্লাহ মুসলমানরা এই ধরনের গোত্র বিভাজনের উর্ধে। ইউনিটির জন্য এত সুন্দর একটি পন্থা আর কারো আছে কিনা মনে হয় না। এই যে পৃথিবীতে এতো ভাষা, কই কোথাও কোন দিন ফ্রেঞ্চে আযান দিতে শুনিনি বা ভিন্ন কোন কায়দায় নামায পড়তে দেখিনি বা নামাযের মাঝে অন্য কোন ভাষা শুনিনি। একবার চিন্তা করে দেখা হোক বাংলা ভাষাতে যদি নামাজ পড়ানো হতো তবে যে মুসলমান বাংলা ভাষা জানেনা সে কোন বাংলাভাষী ইমামের পেছনে দাড়ালে তার কি আবস্থা হতো? যারা জ্ঞানের অগোচরে স্ববিরোধী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন এই বিষয়গুলো কি তারা একবার ভেবে দেখেছেন।

একটু র্যাডিকাল চিন্তার কথা বলি ধরা যাক আমি ইউরোপে স্যাটেল হবার চিন্তা করলাম তখন আমি হয়তো আমার ছেলে মেয়েদের বাংলা শেখার বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করবো না কিন্তু আরবী শেখার বিষয়ে উদু্ভদ্ধ করবো এবং প্রয়োজনে চাপও প্রয়োগ করতে পারি। কারন এটা মুসলিম সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ।

সংস্কৃতির আদান প্রদানের বিষয়টিও একটু ভিন্ন। কার কাছে এটার ব্যাক্ষ্যা কি যানিনা না আমিও ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবো না, তবে আপাত দৃষ্টিতে এটা বোঝা যায় যে, যে জাতি নিজেদেরকে অন্য জাতির চেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করে সেই জাতি অন্য জাতির (যাদেরকে বড় মনে করা হয়) সংস্কৃতি গ্রহণ করে।

মেজাজটা বেশি খারাপ হয় যখন গান বাজনার অনুষ্ঠানকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বলা হয়! বলি গান বাজনা না থাকা কি কুসংস্কার নাকি যে একে সংস্কার করতে হবে?


সর্তকীকরণ বিজ্ঞপ্তি: কাজের চাপে লেখাটি পোষ্ট করতে সময় লেগেছে। তার মধ্যে অপ বাক সংস্কৃতি নিয়ে কামড় দিয়েছে। এই পোষ্ট অপ বাকের সাথে কামড়া কামড়ি নয়।

 

প্রকাশ করা হয়েছে:   বিভাগে ।

 

  • ৩৯ টি মন্তব্য
  • ৬৪৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৪:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: ভাষাবিজ্ঞানে শব্দের উৎপত্তি, বিবর্তন, ব্যবহার ইত্যাদি নিয়ে
২. ৩১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৪:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: etomology তৈরী হয়। সেখানে আপনি দেখবেন শব্দের অর্থ শব্দে থাকে না। সেটা থাকে মানুষের মনে। একটা ভাষাভাষি লোক শব্দকে যে অর্থ প্রদান করবে, শব্দ সে অর্থ ধারণ করবে।

ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি প্রতিটি এত বিস্তৃত পড়াশুনার বিষয় যে আপনার রচনায় মনে হলো - আপনি কিছু না পড়েই লিখেছেন। আপনার লেখায় যে মতামত প্রকাশ হয়েছে - সেটা একটা হাইপোথিসিস। এটা নিয়ে বছরের পর বছর এখনও পিএইচডি করছে এই কন্টিনেন্টে শ'খানেক এর উপর স্টুডেন্ট। আর আপনি হাইপোথিসিসটাকে আপনার সিদ্ধান্ত হিসাবে চাপিয়ে দিলেন।

আপনার কি মনে হয় এখানে আপনার পাঠকরা এ বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশুনা করেনা?
৩. ৩১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৪:০৫
comment by: হযবরল বলেছেন: তিনটা উদাহরন টেনে সংস্কৃতি বা কালচার বা জীবনযাপন র্ধমভিত্তিক প্রমান কইরা ফেললা । র্ধমভিত্তিক কিছু সংস্কৃতি নিশ্চয়ই থাকে , কিন্তু ভূগোল ছোট হইয়া র্ধম বড় হইয়া গেল । বাংলাদেশের হুজর মাত্রেই নোয়াখালির লোক , এটা কেমনে হল ? ভূমির কারনে না কি র্ধম প্রিয়তার কারনে । সিলেটের লোক একটু অতিমাত্রায় র্ধম প্রেমি , এটা কি ভূমিতে পীরবাবার অবস্থানের প্রভাব না কি র্ধমের প্রভাব । আমেরিকায় সাউথ এবং সাউথ-ইস্ট এর লোক র্ধম প্রেমি বলা হয় বাইবেল বেলট , ওয়েস্ট হচ্ছে হলিউড কেনো ? যিশু কি সাউথে নামছিল, তাতো না ? কারন সাউথ শস্য র্নিভর , আল্লার দয়া বা রহমত ছাড়া শস্য হয় না , আর ওয়েস্ট ইন্ডাসট্রি র্নিভর। পর্াথক্য এইখানে । বাংলা ভাষা ভাষী দের মধ্যে দর্ূগার সংস্কৃতি আর কান্নাড, মারাঠি , হিন্দি ভাষা ভাষী দের মধ্যে গনেশ এর সংস্কৃতি , কেন এই পর্াথক্য । সবাই তো হিন্দু ।
জল-পানি 'র বিবেধ ব্রিটিশ রা আনছে , গীতায় বলে নাই যে মুসলিমরা পানি বললে তোমরা জল বলিও । ব্রিটিশ ভারতে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের ক্ষোভের কারনে , মুসলিমরা নিজেরাই হিন্দুরা যা বলে তার উলটা করতো । সেটা অন্য গল্প ।
ঐ পুরনো জল-পানি র তিনটা উদাহরন দিয়ে সংস্কৃতি র স্বরুপ উদঘাটন করে ফেললেন । দীনেশ চন্দ্র সে ন তো লজ্জায় লুকায়া গেছে মনে হয় ।
৪. ৩১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: হযবরল - সংস্কৃতি তৈরী হওয়ার জন্য ধর্মও অন্যতম একটা উপাদান। কোন সংস্কৃতিই ধর্মের উপজীব্যতা ছাড়া বিকশিত হয়নি। আমাদের সংস্কৃতিতেও ধর্মের ব্যপক অংশগ্রহণ রয়েছে - তারপরও ইসলামের উৎপত্তিস্থল থেকে ভিন্নতর। কিন্তু আপনি উৎপত্তিস্থলের একটা বিশাল জনগোষ্ঠীর মানুষকে অশ্রদ্ধা করেছেন আপনার মন্তব্যে।

ধর্মের মত প্রতিটি বিশ্বাসে, সংস্কৃতিতে, মতামতে, পছন্দে কিছু উগ্রপন্থীয় মনোভব বিদ্যমান। অন্য ধর্ম, মত, পথের ব্যাপারে এই অশ্রদ্ধা, অসম্মান প্রকাশ একধরণের সীমাবদ্ধতা। আপনার এর উপরে উঠতে হবে।
৫. ৩১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৫
comment by: হযবরল বলেছেন: দুঃখিত একটু উগ্র লাগলে , কিন্তু গাধাকে ঘোড়া বলাটা একটু বেশি বিনয়ী হয়ে যায় না , কৌশিক ভাই ।
৬. ৩১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৫
comment by: হযবরল বলেছেন: নোয়াখালি অনচলের ভাষায় কি পরিমাণ বৈচিত্র আছে সেটা শুনলে বোঝা যায়,
নোয়াখালী : দৌডি দৌডি
ফেনী : দুম্বায় দুম্বায়
চাঁদপুর : দৌডায় দৌডায়
উচ্চারন দিতে পারলাম না বলে দুঃ খিত।
জনাব বাংলা না জানা লোকের জন্য আপনার কত দরদ । আর আরবী না জানা 14 কোটি লোক ইমামের পিছনে দাড়াইয়া যে ঘোড়ার ঘাস কাটতেছে তাদের কথা আপনার মনে আসে না । আর আপনার কথা মত র্ধমভিত্তিক সংস্কৃতি হইলে তো ইসলাম র্ধমের উৎপত্তি স্থলের লোকের মত আমরা ও উজবুক হইতাম ।
৭. ৩১ শে মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: Semitic সংস্কৃতি ও ইতিহাস কত যে সমৃদ্ধ তা আজকের ভৌগলিক আরব দেখে বিচার করলে হবে না।

গাধা বলেন আর ঘোড়া যাই বলেন না কেন - আপনার এ বিষয়ে নিজস্ব অপছন্দটাই মুখ্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
৮. ৩১ শে মে, ২০০৬ সকাল ৭:০৫
comment by: হযবরল বলেছেন: সেমেটিক সমৃদ্ধ সেটা আমি ও বলি । সংস্কৃতি তে র্ধমের ভূমিকা আছে সেটা আমি মন্তব্যে বলেছি খেয়াল করলে দেখবেন । উজবুক ঐ জাতি সত্ত্বাকে আঘাত করার জন্য বলিনি । ওদের কালচারাল মান এখন কত নিম্নে সেটা বোঝানোর জন্য উপমা মাত্র । আপনি সেটাকে টেনে নিয়ে যদি আমার মন্তব্যের মূখ্য উপাদান করে দেন , সেটা ঠিক না । আমার মন্তব্য র জিস্টে কোন সমস্যা থাকলে ধরেন ।
৯. ৩১ শে মে, ২০০৬ সকাল ৭:০৫
comment by: হযবরল বলেছেন: সেমেটিক সমৃদ্ধ সেটা আমি ও বলি । সংস্কৃতি তে র্ধমের ভূমিকা আছে সেটা আমি মন্তব্যে বলেছি খেয়াল করলে দেখবেন । উজবুক ঐ জাতি সত্ত্বাকে আঘাত করার জন্য বলিনি । ওদের কালচারাল মান এখন কত নিম্নে সেটা বোঝানোর জন্য উপমা মাত্র । আপনি সেটাকে টেনে নিয়ে যদি আমার মন্তব্যের মূখ্য উপাদান করে দেন , সেটা ঠিক না । আমার মন্তব্য র জিস্টে কোন সমস্যা থাকলে ধরেন ।
১০. ৩১ শে মে, ২০০৬ সকাল ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: হযবরল - আপনার জিস্ট ঠিক আছে। শুধুমন্তব্যের যে বিষয়টাতে মনে হয়েছে আমারও কিছু বলার আছে - সেটা ঘাটিয়েছি।

রাসেল - সংস্কৃতির মূল উপাদন ধর্ম নয় সেটা আমিও মনে করি। আপনার বিশ্লেষণ ভালো লেগেছে। ওয়ালী র বক্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম।
১১. ৩১ শে মে, ২০০৬ সকাল ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: ওয়ালি বাংলা ব্যাকরন একটা ভালো জিনিষ, ওখানে শব্দের শ্রেনিবিভাগ করা হয়েছিলো প্রথমেই, সংস্কার শব্দটার একটা বিশেষ্যবাচক ব্যাবহার আছে, অন্য একটা ব্যাবহার ক্রিয়া বাচক, এবং এই দুইটা শব্দ যখন 2টা ভিন্ন ক্ষএত্রে ব্যাবহার হয় তাদের গুনগত পার্থক্য তৈরি হয়।
তোমার সংজ্ঞানুসারে সংস্কার কৃত যা তাই সংস্কৃতি, যদিও মূলত শব্দটা হওয়ার কথা সংস্কারকৃত, এখন যদি সংস্কৃতির সংস্কার করা হয়, যেমন ধরো সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করা হলো উপমহাদেশে এর পরে একটা সংস্কৃতির জন্ম হলো, এই নতুন সংস্কৃতিকে আমরা কি বলবো, তোমার সংজ্ঞানুসারে এটা হওয়ার কথা সংস্কৃতি সংস্কৃতি, প্রঠমটা আসলো সংস্কার কৃত এই হিসেবে এবং পরের টা আসলো যেহেতু অতীতেও একবার এই সংস্কার কার্যক্রম চালানো হয়েছিলো তাই। এই ভাবে প্রতিটা সংস্কারের কাজ কে আমরা কি সংস্কৃতি বলবো? সংস্কার এক অর্থে ধারনা প্রকাশ করে, কুসংস্কারের যেই বিষয়টা উল্লেষ করলে সেটা একটা বাজে বা অপ্রয়োজনীয় ধরনাকে বিশাষায়িত করে।

কৌশিক প্রথা এবং ধর্ম এক না, সংস্কৃতির মূল উপাদান ধর্ম না, ধর্ম সংস্কৃতি সংস্কারের কাজ করে, শোধনের কাজ করে, এবং এর ফলে ধর্মাচারের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিভাজন তৈরি হয়, কিন্তু সংস্কৃতির মূল ধর্ম না, ওয়ালি যে অর্থ ধর্মকে শিখন্ডির মতো সামনে এনেছে সেই অর্থে তো নয়ই।
কবর দেওয়ার সংস্কৃতির জন্ম ইহুদি ধর্মে না, একটা সহজ উদাহরন দেই, মিশরের ফারাওদের মমি করা হতো বলে কি মিশরের সব লোকের মমি করা হতো? মমি তৈরি করাটা অনেক অভিজাত মহলের বিষয়, এটা সামাজিক অবস্থানের বিষয়, অগামগাবগা মরলে মমি হতো না, তাহলে যারা মারা যেতো তাদের কি করা হতো, তাদের পুড়িয়ে ফেলা এবং মাটি চাপা দেওয়া এবং নদিতে ভাসিয়ে দেওয়া এই 3টা সম্ভবনা আছে, অন্য একটা সম্ভবনা তাদের খেয়ে ফেলা বা লোকালয় থেকে দুরে ফেলে আসা। এই 5টা কাজের সবগুলোই করা হয়েছে, মিশরে খননের পর মাটি চাপা দেওয়া মৃত দেহ পাওয়া গেছে এটা 6000 বছর আগের সাইট, এর আগের সময়ের সাইটেও মাটিচাপা দেওয়া মৃত দেহ পাওয়া গেছে, ইহুদি ধর্মের জন্ম 4000 বছর আগে, সেই সময়ে মাটিচাপা দেওয়ার রেওয়াজ ছিলো, এই প্রথাটা কোনো ধর্মিয় বিশ্বাস থেকে এসেছে এমনটা দাবি করাটা ভুল হবে, প্রতিটা সামাজিক আচরনের একটা উৎস থাকে, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পাই বলে খতিয়ে দেখি না বিষয়টা।
পারসিক জরাথুষ্ট ধর্মে দেহ সৎকারের কোনো নিয়ম নেই, ওদের মৃতদেহ টাাওয়ার ওফ সাইলেন্সে রেখে আসা হয়, এটার পেছনে একটা ধর্মিয় বিশ্বাস আছে, কারন দেহ সৎকারের অন্য পন্থাগুলোকে তারা বাতিল ঘোষনা করেছে, মাটিতে দেহ রাখলে মাটি অপবিত্র হবে, পানিতে ভাসিয়ে দিলে পানি অপবিত্র হবে, পুড়িয়ে ফেললে বাতাস অপবিত্র হবে, তাহলে কি করা যাবে আর শুন্যে ঝুলিয়ে রাখো পশুপাখি খেয়ে যাবে। এই যে ব্যাতিচার এটা প্রমান করে ইরানে এই 3 ভাবেই মৃত দেহ সৎকার হতো, আর ইরানে কখনই ইহুদি ধর্ম প্রসার লাভ করে নি। ইসলাম ধর্মের পিতামহ যদি ইহুদি ধর্ম বলা হয় তাহলে এটা প্রমান করে যে কবর দেওয়ার বিষ্যটার কোথাও একত্ববাদের ধারনার প্রতিফলন নেই, এখন যদি ঘুড়িয়ে বলা হয় যে আদম প্রথম মানুষ, হাবিল কাবিলের লাশ পুঁতে ফেলেছিলো তাই কবরপ্রথার উদ্ভব তাহলে কিছুই বলার নেই আমার।
১২. ৩১ শে মে, ২০০৬ সকাল ৮:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: ব্লগে ছাগুরাম সিনড্রোম বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনাচরণ। সংস্কৃতির ওপর ধর্মের প্রভাব থাকবেই, কারণ ধর্মের বৈভিন্ন্যের কারণে জীবনাচরণে বৈভিন্ন্য থাকবে, মূল্যবোধ এক এক জনের এক এক রকম হবে। সংস্কৃতি থেকে ভূগোলকে এক কোপে কেটে বাদ দেয়াও ছাগলামো, কারণ মানুষের জীবনাচরণের ওপর ভূপ্রকৃতির ও প্রভাব অনেক।

কোন জাতি নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করে অন্যের সংস্কৃতি গ্রহণ করে, এটি তো প্রশ্নবিদ্ধ আত্মার উপলব্ধি বলেই মনে হচ্ছে। অন্যের সংস্কৃতি কেউ অবিচ্ছিন্ন, একক হিসেবে গ্রহণ করে না। অন্যের সংস্কৃতির যেসব উপাদানের মধ্যে প্রবেশ করার বা অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা আছে, সেগুলোকেই কিছুটা পরিবর্তন পরিবর্ধনের পর নিজের সংস্কৃতিতে আত্মীকৃত করে মানুষ। বৃটেনের লোকজন কারি খেতে পছন্দ করে, এটি গত দুশো বছরে তাদের সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে, কিন্তু কেউ বিশ্বাস করবেন না যে বৃটিশরা নিজেদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো।

মৃতদেহ সৎকারের পদ্ধতিকে সংস্কৃতি বলা হচ্ছে, অথচ সঙ্গীতকে অস্বীকার করা হচ্ছে, এ-ও হীনমন্যতার ফসল, সম্ভবত ইসলামে সঙ্গীতকে খুব একটা প্রশ্রয় দেয়া হয়নি বলে। কিন্তু লাভ নেই, সঙ্গীতও প্রচুরসংখ্যক মানুষের জীবনাচরণের মধ্যেই পড়ে।

সবশেষে ওয়ালিকে বলি, যদিও অনধিকার চর্চা তবে অপ্রাসঙগিক নয়, আপনি কি মনে করেন না, ইসলাম ও ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার জন্য মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক জায়গা? আপনি তবুও কেন সেটল করতে চাইছেন এই বেলেল্লা ইউরোপে? মধ্যপ্রাচ্যে কি আপনি তবে সুবিধা করতে পারবেন না? আপনি মধ্যপ্রাচ্যের ভাষায় পারদশর্ী, জীবনযৌবন সঁপে দিচ্চছন তাদের মধ্যপ্রাচ্যবাসীর অকুনঠ প্রশংসায়, ব্যক্তিগত জীবনেও আপনি তাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক, তবুও কেন এই ইউরোপবিলাসিতা? আপনি কি এ প্রশ্নের জবাব দিয়ে আমাদের কৌতূহল নিবৃত্ত করবেন?
১৩. ৩১ শে মে, ২০০৬ সকাল ৯:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: ওরে বাবা এত দিন পরে এসে এটা কি পোস্ট করলেন? মাত্র ল্যাব করে আসলাম, এত জটিল কথা বার্তা...

যাই হোক, রাসেলের মন্তব্য পড়তে পড়তে যা বলব ভেবেছিলাম সেটা রাসেল নিজেই বলে দিয়েছেন :)

সংস্কৃতি কি সেই আলোচনা ব্যাপক। সেখানে যাওয়ার সাহস হচ্ছে না। তবে আমি সংস্কৃতিক আদান প্রদানে বিশ্বাসী।
দুইটা ভিন্ন জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ বাড়ার সাথে সাথে সংস্কৃতিক আদান প্রদান বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

ইসলাম আর সংস্কৃতির সম্পর্কটা আমার কাছে আরেকটু ব্যপক মনে হয় ওয়ালী। ইসলামে 'মূল্যবোধ' ঠিক করে দেয়া, সেই মূল্যবোধ অনুযায়ী সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করে।

খাবারের কথাই ধরুন। আরবের খাদ্যাভাসের কতটুকু এসেছে বাংলায়? মৌলিক ব্যপারগুলো ঠিক আছে: নো শূকর, পশু পাখি জবাই করে নেয়া ইত্যাদি। কিন্তু বাংলার মানুষরা হিন্দু যখন ছিল তখনও পান্তা খেত, এখনও খায়, তাই না? আবার বার্গার খেতেও আপত্তি করে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তা হারাম উপাদানের তৈরি না হয়।

পোশাক। ইসলামের কিছু বেসিক মূল্যবোধ আছে। মেয়েদের মুখ ছাড়া সব ঢিলাঢালা পোশাকে ঢাকা, আর ছেলেদেরও শালীনতার সাথে দেহ ঢেকে রাখা। ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্দেশ্য পূরনের জন্য সালওয়ার কামিজ বেছে নিয়েছে মেয়েরা, অনেক ক্ষেত্রে বোরখা। কিন্তু পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে যান: বসনিয়ান বা তুকর্ী মুসলিমরা কিন্তু স্কার্ট পড়ে। আবার মালয়শিয়ানদের নিজেদের পোশাক আছে। এগুলোর সাথে আরব সংস্কৃতির পার্থক্য আছে, কিন্তু এগুলোও ইসলামিক সংস্কৃতি! আগে যেই সংস্কৃতিই ছিল, ইসলামের প্রভাবে তার কিছু অদল বদল হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিম হিজাবী মেয়েদের পোশাক একটু খেয়াল করে দেখেন। একটু আরব ছোঁয়া, তো ঢিলাঢালা ফতুয়াটায় ভারতীয় ছাপ, আবার স্কার্টটা পশ্চিমা। হিজাবে মুসলিম পরিচয় সুস্পষ্ট।
এখানে আরবে মেয়েদের বিশেষ বোরখার আমদানী কিন্তু দেখবেন না। আবার সেলওয়ার কামিজ পড়া মেয়েও দেখবেন না।

আবার বাদ্যযন্ত্রের কথা ভাবেন। রাসুল (সা) 'দফ' বাজানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। বিভিন্ন মুসলিম দেশে একই প্রিনসিপালের 'পারকাশন' বাজনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েশন দেখা যায়। (সামী ইউসুফের পারকাশন ইনস্ট্রুমেন্টের লিস্ট দেখেন: আফ্রিকান ড্রাম থেকে ইন্ডিয়ান তবলা থেকে ইয়েমেনী, মরোক্কান আরও কত রকমের দফ ব্যবহার করেছে... এগুলোও মুসলিমদের সংস্কৃতির অংশ!)

যা বলতে চাচ্ছি, ইসলামে শুধু মূল্যবোধটা কনস্ট্যান্ট। এই মূল্যবোধ দিয়ে সংস্কৃতিকে সংস্কার করে, রাসেলের এই অংশ টুকুর সাথে আমি একমত।

(ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি... ঐতিহ্য দিয়ে সংস্কৃতি প্রভাবিত হবেই, তাই না?)

ভাষা...
পোশাক আশাক, সংগীত, খাবার এগুলোর সাথে ভাষার কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে।অন্যগুলো কমিউনিকেশনের জন্য প্রয়োজন হয় না, কিন্তু ভাষা হয়। এজন্য নিজেস্ব মুখের ভাষা ছাড়াও একটা কমন ভাষা দরকার হয়। আপাতত ইংরেজি যেমন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলা ভাষার আঞ্চলিক রূপ আছে, ওগুলো দিয়ে কমিউনেকশন সম্ভব না (সিলেটি ভাষার কিচ্ছু বুঝি না), তাই একটা কমন রূপ দরকার, এবং আছে।

আরবি মুসলিমদের যোগাযোগের সুবিধার জন্য। আরবি ভাষা কোরআনের ভাষা। অনুবাদে মূল টেক্সটের উপর অবিচার করা হয়, এর সাথে সবাই একমত। এই অবিচার যেন না করা হয়, এই জন্যই মুসলিমদের আরবি শেখার গুরুত্ব অন্য ধরণের। সংস্কৃতির অন্যান্য দিকের সাথে একে পঁ্যাচ না লাগানোই ভাল। ইংরেজি শিখছি আমরা মুখে কথা ফোটার সাথে সাথেই। দিনে পাঁচ বার চোদ্দ কোটি মানুষ যদি অর্থ না বুঝে শুধু বুলি কপচায়, এটা তাদের নিজেস্ব নিবুর্দ্ধিতা। কোরআন বুঝার মত আরবি শিখতে খুব কষ্ট করতে হয় না, আর দ্্বিতীয় বা তৃতীয় একটা ভাষা শিখা যোগ্যতাকে শুধু বাড়ায়, কমায় না। সো হোয়াই নট।

একটা মজার স্ট্যাটিস্টিকস জানতেন, সারা বিশ্বে মুসলিমদের মোট জনসংখ্যার মোটে 15% থাকে আরবে? :)

ওহ আরেকটা কথা, আরবের সংস্কৃতির অনেক কিছু সংস্কার করেছে ইসলাম এসে। আমাদের দেখতে হবে আগের কি জিনিস কি ভিত্তিতে বাদ দেয়া হয়েছে... ওগুলোর সমান্তরাল সমাধান খুঁজে নিয়েছে মুসলিমরা বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সময়।

(আপনার পরবতর্ী প্রজন্মের কথা যা বললেন, সেটা শাওনকে আরেক দিন বলতে চেষ্টা করেছিলাম। বেচারা বড় গোস্বা করেছে!)

গুছিয়ে লিখতে পারি নি জানি!
১৪. ৩১ শে মে, ২০০৬ সকাল ১১:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: মুখফোড়ের শেষের লাইনগুলি এই পোস্টের জন্য মৌলিক প্রশ্ন। এখানেই লুকিয়ে আছে প্রবাসী বাঙালী মুসলমানদের কুপমন্ডুকতা।
ওয়ালী সাহেব কি ফ্রানেস হিজরত করেছেন?
১৫. ৩১ শে মে, ২০০৬ বিকাল ৪:০৫
comment by: হযবরল বলেছেন: জনাবা আস্তমেয়ে চৌদ্দকোটি আমজনতাকে বুদ্ধিহীন বলে কি প্রমান করতে চাইছেন । আমি যে চৌদ্দকোটি মানুষের কথা বলছি এরা শুদ্ধ উচ্চারনে প্রমিত বাংলা শিখার সুযোগ পায়না। নিজেদের সংবিধান বোঝার মত বাংলা শেখার সুযোগ এরা পায় না। দ্্বিতিয় একটা ভাষা শেখার যোগ্যতা এদের কাছে অপ্রয়োজনীয়। টাকা বাচানোর জন্য বিশ্বরোডের মোড় থেকে টঙ্গী ডাইভারশন র্পযন্তপায়ে হেটে যায় একদল লোক, এরা এই শ্রেনীর প্রতিনিধি ।আপনার বা আমার মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আসার সুযোগ এদের হয়নি। আপনি আমাকে বুদ্ধিহীন বললে আমার গায়ে লাগতে পারে , কিন্তু ঐ শ্রেনীর লোকের চামড়া ভেদ করে এই কথা ঢুকবে না , আর দুয়েকজনের ঢুকলেও শব্দটার মানে ই হয়তো বুঝবে না।
আমি শুধু অবাক হই ইসলাম বা কুরআনের কথা উঠলে আপনারা তাবৎ বুদ্ধিমান এবং বুদ্ধিমতীরা অন্ধ কেমনে হয়ে যান । যে জনতা মায়ের মুখের বুলি বলে শুধু মাত্র , কথ্য বাংলা শিখে। অন্য কোন ভাষা শিখার সুযোগ সম্ভাবনা যাদের জীবনে কখনো আসে না , তাদেরকে এক লহমায় বলে দেন বুদ্ধিহীন। তাদের জানা ভাষা বাংলায় কোরানের বুলি তাদের বলাটা একটা সহজ পথ অপনাদের মনে হয় না। তার চেয়ে আরবী না জানা আপনাদের কাছে র্নিবুদ্ধিতা মনে হয়।

লাল সালাম , আপনাদের । আমার মনের চোখ খুলে গেল। আপনাদের চিন্তার
বৈপ্লবিকতা দেখে ।
১৬. ৩১ শে মে, ২০০৬ বিকাল ৫:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: ওয়ালি ভাইয়ের বাচ্চাদের বাংলা না শিখিয়ে আরবী শিখানোর সদিচ্ছাকে আমি সাধুবাদ জানাই। শুধু তাই না, ওনার শ্রদ্ধেয় আব্বাজান এই কামটা করলে আমরা বহুৎ ফাও প্যাচাল থেকে নিষ্কৃতি পাইতাম।
১৭. ৩১ শে মে, ২০০৬ বিকাল ৫:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: মুখফোড়ের সঙ্গে একমত ।
ওয়ালী,
না জানা কোন অপরাধ না । অজ্ঞানতা নিয়ে গর্ব করাটা অপরাধ ।তাই একটু পড়ুন । বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞানের মহাঅভিধানটি খুলে সংস্কৃতি এবং সভ্যতা টপিক্স গুলো পড়ুন । সংস্কৃতি বিষয়ে অন্তত: কিছু প্রাইমারি পাঠ আপনার প্রয়োজন । দুটি বিষয়ে জ্ঞানের অভাবে আপনি বারে বারে হড়কে যাচ্ছেন । একটি হচ্ছে ইতিহাস, দ্্বিতীয়টি মানুষের সমাজ সম্পর্কে প্রাথমিক পাঠ । আপনার রাজনৈতিক ধারার বহু লোকই আমার পরিচিত । তারা কিন্তু এই 'পাঠ' নামক কর্মটিতে অলস ছিলেন না । আমি জ্ঞানীলোক না । তাই হয়তো এমনও হতে পারে আপনি এমন কোন গূঢ় তত্ত্বের অবতারনা করেছেন যা আমি নাগাল পাইনি ।
১৮. ৩১ শে মে, ২০০৬ বিকাল ৫:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: সবাই সব কিছু বলে দিয়েছে। বলার মত তেমন কিছু নেই।

তবে একটা কথা খুব খারাপ লেগেছে ওয়ালী তার ছেলে মেয়েদের বাংলা শিক্ষার জন্য চাপ দিবে না। কার সে বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ না।

তবে কার অংশ ওয়ালী। তুমি কোন ভাষায় কথা বল? তুমার মা, বাবা, ভাই বোন, তোমার সব রেলেটিভ? তারা ? তারা কি সব আরবীতে কথা বলে। তোমার সন্তান প্রথমে তোমার পরিবারের অংশ। তোমার পরিবার তআকে মুসলিম করে তুলবে, মানুষ করে তুলবে। আর এটা হল সবচেয়ে বড় শিক্ষা, এই শিক্ষা যদি প্রপার না হয়, তুমি শত চেস্টা করেও সত্যিকার মানুষ, ও যে মুসলিম বানানোর চিন্তা করছ তা বানতে পারবে না।আর এর জন্য ই তোমার ভবিষ্যত প্রজন্মকে প্রথমেই বাংলা শিক্ষা দেয়া উচিৎ। দরকার হলে এর জন্য চাপ দেয়া উচিৎ।

একটা শিশু পরিবারের ভালবাসা পেতে পেতে অন্যকে ভালবাসতে শিখে,বিশ্বাস করতে শিখে, পরিবারের মানুষের সাথে চিন্তার আদানপ্রদান করতে করতে চিন্তা করতে শিখে, বুদ্ধির বিকাশ হয় এভাবেই। তোমার পরিবার যদি তার সাথে যোগাযোগ ই করতে না পারে তাহলে সে কি শিখবে? কার কাছে শিখবে?

১৯. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ১:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: হযবরল,
কোরআনের বাংলা অনুবাদ অবশ্যই প্রয়োজন, বাংলা অনুবাদ দিয়েই কোরআন প্রথম জানা শিখেছি। তবে অনেকেই আপত্তি করেন নামাজ আরবিতে থাকার কারণে। নামাজ আরবিতে থাকবে। অথচ যেটা পড়ছে সেটা মানুষ বুঝতে না পেরে নামাজ পড়াটা কেমন যেন না? অর্থহীন বুলিই সার হয়ে যায় না? অন্তত মৌলিক কিছু ব্যপার, যেগুলো নামাযে বার বার পড়া হয়, যেমন সুরা ফাতিহা, তাসবিহগুলো, এগুলোর অর্থ শিখার চেষ্টা করা কি উচিৎ না? ছোটবেলা আপনিও নিশ্চয়ই আরবি শিখেছেন (ভুলও হতে পারি)। আপনার হুজুর আপনাকে কখনও শিখিয়েছে নামাযে যা পড়েন তার অর্থ কি? এখন নামায না পড়লে দ্যাটস আন্ডারস্ট্যান্ডেবল। আসলে ইসলাম 'গ্রহণের' ব্যপার আছে। ভাল খারাপ যাচাই করে 'ভাল' হিসেবে গ্রহণের ব্যপার। কিন্তু আমাদের দেশে সেই বাছাবাছির সুযোগটা দেয়া হয় কই... ছোটবেলা থেকেই হিজিবিজি ভাষা গুলে খাওয়ানো হয়, এমন হাস্যকর অবস্থা, আরবি লেখা থাকলেই সেটাকে মানুষ কোরআন হাদীস মনে করে। চুমু দিয়ে উপরের তাকে রেখে দেয়। অথচ হয়তো দেখা যাবে সেটা রান্নার প্রণালী বা র্যানডম অন্য কিছু। আরবি স্ক্রীপ্টের সাথে মিল আছে বলে উর্দু জানা পরহেযগারীর চিহ্ন!
এই যে মন্ত্রের মত আরবি আউড়ে যাচ্ছে মানুষ... কিন্তু এর অর্থ শিখার উপর কোন গুরুত্ব নেই... রিডিকুলাস না ব্যপারটা? প্রতিটা ইনডিভিজুয়ালের সেই সুযোগ নেই, কিন্তু যেই 'হুজুরদের' সরনাপন্ন হয় মানুষ একটুতেই, তাদের তো এই জ্ঞানটুকু দেয়ার সুযোগ আছে। মানুষের ইচ্ছা তো প্রকাশ করতে হবে।
আর একটা কথা, যেই মানুষ গুলো কথ্য বাংলা ছাড়া অন্য কিছু শিখার সুযোগই পায় না, আমার কথাগুলো তাদের প্রতি ডিরেক্টেড ছিল না, এটা আপনাকে বুঝতে হবে।

ওয়ালী,
আপনার পরবতর্ী প্রজন্মকে বাংলা শেখানোর চেয়ে আরবি শিখতে বেশি জোড় দিবেন যখন বললেন, তখন বেশির ভাগই আপনার কনটেক্সটটা বুঝতে পারছে না।
আপনি যদি ফ্রানসে থাকেন, তাহলে প্রথমত তাদের ঘরোয়া পরিবেশে চলার মত বাংলা শিখতে হবে। মুখে বলা বাংলা। তারপরে 4 বছর বয়সে স্কুল শুরু করলে ফ্রেঞ্চ শিখতে হবে। একটা 4 বছরের ব্রেইনের জন্য দু'টো ভাষার ভারসম্য রাখা খুব কঠিন। আমি একটা পোস্ট করব ভাবছি এই নিয়ে :)। যাই হোক, মাইগ্র্যান্ট পরিবারের দ্্বিতীয় প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা খুব তাড়াতাড়ি বুঝে যায়, বাসায় তাদের বাংলা বলতে হবে, ফ্রেঞ্চ হচ্ছে স্কুলের ভাষা। কিন্তু ভারসম্য রাখতে পারে না বলে, কিছুদিনের মধ্যে বাংলা আর ফ্রেঞ্চে জগাখিচুরি পাকিয়ে ফেলে। দিনের বড় একটা সময় বন্ধুদের সাথে কাটিয়ে বাংলা উচ্চারণেও ফ্রেঞ্চের প্রভাব পড়ে। এর কিছুদিন পরে নতুন উপদ্রব শুরু হয়। স্কুলে ইংরেজি শেখানো শুরু হয়। ইউরোপীয়ান আরও কোন ভাষাও হয়তো শিখানো হবে। এখন দেখতে হবে বাংলা শিখে তাদের ঠিক কতটুকু লাভ। বাংলার সাথে ঠিক কতটুকু রিলেইট করতে পারে? হ্যা, আত্মীয় স্বজনদের সাথে কমিউনিকেইট করার জন্য বাংলা প্রয়োজন হবে, কিন্তু বাংলা লেখা শিখা কি কাজে আসবে? বাংলা পড়া? সাহিত্যের রস নেয়ার জন্য বাংলা পড়া যদি জোড় করে শিখানও হয়, তাহলেও কতটুকু লাভ হবে? সাহিত্যের রস কি সত্যিই পাবে? ফ্রেঞ্চ সাহিত্য তার জন্য অনেক বেশি কাছের হবে...

আরবি... এখানে যারা আপত্তি তুলেছেন, তারা নিজেরাও তাদের ছেলেমেয়েদের আরবি শিখতে হয়ত লোকাল মসজিদে পাঠাবে। আরবি পড়া শিখতে। অর্থহীন হিজিবিজি লেখাগুলো পড়ে অর্থহীন শব্দ উচ্চারণ করতে, যেটা করলে নাকি অনেক পূণ্য হবে! উহু, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মে আমাদের মত নির্বোধ হবে না, এই ফাউল গপপো তাদের মন ভরাবে না। তাছাড়া ফ্রানসে মরোক্কান, আলজেরিয়ান মুসলিম প্রচুর। ওদের ভাষা আরবি। তাই আরবি শিখা যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে দিবে। মধ্য প্রাচ্য পৃথিবীর রাজনীতিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করছে এখন, তাই আরবি শিখলে লাভ বই ক্ষতি হবে না!

আর একজন মুসলিম হিসেবে আমার কাছে আরবি শিখার গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। আমরা নিমিষেই তর্কে নিমজ্জিত হই, কোরআনের বাংলা অনুবাদ নিয়ে তার থেকে একটা শব্দ বেছে নিয়ে সেটা কত অবৈজ্ঞানিক তা প্রমানের জন্য। আরবি জানলে আমি বুঝতে পারব ঠিক কোন অর্থে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। দিনে পাঁচবার যে কথাগুলো মন্ত্রের মত আউড়ে যাচ্ছি, তার অর্থ সম্পর্কে হালকা ধারণা আছে। ভাল ধারণা চাই। তাছাড়া ইসলামের প্রথমিক যুগের অনেক টেক্সট আরবিতে লিখা, ওগুলোতেও একসেস হবে...
পরবর্তী প্রজন্মকে জোড় করে বাংলা শিখানোর উদ্ভট সমস্যার কিছুটা বুঝতে পারবেন মনিকা আলীর 'ব্রিকলেইন' পড়লে। দারুণ একটা বই, ব্রিটেনের বাঙালীদের নিয়ে। বাবাটা মেয়েদের বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত শিখানোর জন্য উঠে পড়ে লাগে, আর এটাকেই ছোট মেয়েটার কাছে অত্যাচার মনে হয়... কারণ এর এক বর্ণও তার কাছে অর্থবহ না! বাংলা যদিও বা পারে বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগের মত, কিন্তু তার সাথে 'আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি' টাইপের লাইনের াপ খাওয়াতে পারে না!

যাই হোক, ওয়ালী, আমার মনে হয়, একটা ব্যপার পরিষ্কার হওয়া দরকার সেটা হচ্ছে, এই চিন্তাটা বাংলা ভাষার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রসূত না। আমি বাংলাকে ভালবাসি, বাংলায় যত স্বাচ্ছন্দ্য, ইংরেজিতে তা না। আরবি শিখলে আরবিতেও হব না। কারণ 15 বছর পর্যন্ত আমার চারপাশে বাংলা শুনে এসেছি, ভাবতে শিখেছি বাংলায়, প্রিয় মানুষদের কথা বলতে শুনেছি বাংলায়। দ্্বিতীয় প্রজন্মের বেলায় এটা সত্যি না। তাই ওদের প্রয়োজনেই একটু অন্যভাবে ভাবতে হবে!
২০. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ২:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: বাংলা হিন্দী উর্দু ইংরেজী রাশিয়ান চাইনিজ ফ্রেঞ্চ পৃথিবীর লক্ষ কোটি ভাষার সবাই যদি নিজের ভাষায় নামাজ পড়তো তাহলে অবস্থাটা কি দাঁড়াতো চিন্তা করতে পারেন?
কোরআনের অনুবাদ ইজ নট গুড এনাফ। তবে আল্লাহর সাথে নামাজের বাইরে কমিউনিকেশন, খুতবা এগুলো যার যার নিজের ভাষায় হলে কোন সমস্যা নেই।
২১. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ২:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: খুব খুশি হলাম শুনে যে ওদের প্রতি ডিরেকটেড ছিল না ।
আস্তমেয়ে কোরানের বাংলা পড়া দরকার আমি ও সেটাই বলি । ওয়ালী র কথার সুবাদে আমি বলেছিলাম যে , বাংলা না জানা মানুষের প্রতি এত দরদ, কিন্তু আরবী না জানা মানুষগুলোর জন্য দরদ হয় না।
আপনি এটা কি উত্তর দিলেন, 14 কোটি লোককে প্রমিত আরবী শেখানোর প্রজেক্ট নিবেন, যাতে তারা কোরানের মহিমা বুঝতে পারে , নামাজে কি পড়ানো হয় বুজতে পারে ? নিতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কোন উত্তর না দিয়ে একই কথা বললেন।
আমার কাছে মনে হয়েছিল 14 কোটি লোককে আরবি শেখানোর চেয়ে কোরানের এবং নামাজের বাংলা করা সহজ কাজ, বোধগম্য কাজ। আপনাদের কাছে নামাজ বাংলায় পড়ানো গ্রহনযোগ্য না, সেটাই শেষকথা বুঝতে পারলাম। থ্যাংকস ফর আনসার। আশা করি এই মন্তব্য যুদ্ধ এখানেই শেষ।
২২. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ২:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: সারা বিশ্বের মুসলিম বিভিন্ন ভাষায় নামায পড়লে মুসলিম সলিডারিটি নষ্ট হবে বলে আপনি
চিন্তিত। কিন্তু আপনার যে ফুপিটা 16 বছরে বিয়ে হয়ে গেছে , পড়ালেখা মেট্রিক এর পর আর করেননি, আল্লাহ এক ও মহান এই কথাটা মাইকে 5 বেলা শুনে আল্লাহ প্রেমে নিজেকে সিক্ত করতে পারেনা তার জন্য আপনার কষ্ট হয় না ? নাকি আল্লাহর প্রেমে ও শ্রেনী ভেদ ঢুকে গেল। আমার তাদের জন্য কষ্ট হয়, বলে বলি। আপনাদের এটা বেশী বুঝা উচিত ছিল।
২৩. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: হা হা হা , এই ব্লগে কয়েকজনের লিখা পড়লে সনজীব চট্টোপাধ্যায় এর লিখার মত না হইলেও, ঘোলের স্বাদ পঅয়া যায়।
এইডা ভালা কইছেন, এক শব্দের হাজার মানে । আপনার মত এক বড় ভাই প্রায়শই আবজাব বুঝাইত। আয়াতে বলা আছে , '' ছোট্ট ছিদ্্র দিয়া উট প্রবেশ করাইছে '' একবার কইলো এইডা
ব্ল্যাক হোলের কথা , আরেকবার কয় হোয়াইট ডের্ায়াফ এর জন্ম রহস্য । তখন অনেক গিলছি , আর না।
২৪. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: আপনিই বললেন সংবিধানের বাংলাও বুঝে না এরা, ঘটনা আসলেই সত্য। তাহলে বইয়ের বাংলা ভাষায় নামায আজান হয়ে কি লাভ হবে? প্রতিটা ডায়াল্যাক্টে অনুবাদ করতে হবে তাই তো? তার মানে প্রত্যেকের একটা করে পারসোনালাইজড কোরআন থাকবে, নামাজ পড়বে যে যার মত (কারণ ইমাম যদি শুদ্ধ বাংলায় নামাজ পড়ে, অন্যরা না বুঝে শুধু শুধু ফলো করবে কেন?), এক এক মুয়াজ্জিন এসে এক এক ভাষায় আযান দিবে... বাহ চমৎকার!

'ছোট ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করাইছে'... এটা আবার কোন ধরণের রসিকতা? বানালেন নাকি আয়াত খানা?
২৫. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: বাংলা ভাষা বলেছি, আনচলিক কথ্য ভাষার কথা তো বলিনি কোথাও ।
২৬. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: এটা কোন রসিকতা না , আমি বলিনি যে আয়াতের হুবহু দিচ্ছি । একটা আয়াতে এরকম আছে বলে একজন আমাকে বলেছেন , আমি সেটা আবার এখানে ব্যক্ত করলাম । আমার এইসব রসিকতা করার অভ্যাস নেই ।
২৭. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: হুম, তাহলে সিলেটে সিলেটি ভাষায়, চট্টগ্রামে চিটাগঙি ভাষায় আযান দিতে হবে। নোয়াখালীরা নামায পড়বে নোয়াখালী ভাষায়... আপনার দাবী কি এরকম কিছু? দু:খিত আমি ধরতে পারছি না।
বাই দ্যা ওয়ে, আমার ফুপির বিয়ে হয়েছে 12 বছর বয়সে। ফুপি বাংলাও পড়েন কষ্ট করে, তবে জানার আগ্রহ অসীম। বাড়ি গেলে আমাকে পাশে বসিয়ে এটা সেটা জিজ্ঞাসা করেন। কোরআন পড়ে শোনাতে বলেন। অর্থ পড়ে শোনাতে বলেন। নিজের আগ্রহে গ্রামে বয়স্ক শিক্ষার একটা মাদ্রাসায় নিয়মিত যান, তাই পাঁচবার আল্লাহ মহান যে বলা হয়, তার অর্থ বুঝেন।
২৮. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: যাই হোক দেশের সবাই যখন আযানের বানী বোঝে তখন আমরা আর কথা কেন বাড়াই । যেভাবে চলছে চলুক।
২৯. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: হযবরল দেখো মিয়া অশিক্ষিত একটা মানুষ আরবি ছাড়া অন্য ভাষা জানে না, সে বাংলায় প্রার্থন করলে ক্যামনে বুঝবো। আর ফেরেশতা গো খাইয়া দায়া অনেক কাম আছে ওরা এই বুইড়া বয়েসে আইয়া দোভাষির কাম লইতে পারবো না, চিন্তা কইরা দেখো এত ভাষায় যদি মানুষ প্রার্থনা করে তাইলে ফেরেশতাগো অন্তত 500 ভাষা শিখতেই হইবো, কার কখন কোথায় পোষ্টিং পড়ে , অন্য একটা সমস্যা বুঝলাম না সেইটা হইলো এই যে মুনকার এবং নাকিব 2 জনেই নাকি সিন্দাবাদের ভুতের মতো মানুষের ঘাড় পা ঝুলাইয়া বয়া রইছে ওরা ক্যামতে সব মানুষের ভাষা বুইঝ্যা ফেলায় যেইখানে ওগো সৃষ্টিকর্তা আরবি ছাড়া অন্য কোনো ভাষা বুঝে না? যাউকগা বাংলায় কোরান পড়া এবং প্রার্থনার রীতি চালু হইলে বাংলাদেশের মানুষ সব নিজের মতো কইরা কোরান পইড়া ভুয়ামি বুইঝ্যা যাইবো এই ভয়ে কেউ চায় না কোরান বাংলা হোক আর ঐটা সর্বঘরে পৌছায়া যাক, মাদ্্রাসায় এত কষ্ট কইরা সব কোরান আরবিতে পইড়া যদি এই ওয়ার্কফোর্সের কোনো কাজ না থাকে তাইলে কি হইবো, আর অন্য একটা বিষয় হইতাছে ওগো মতে আরবি চরম রূপক ভাষা এক শব্দের হাজার রকম মানে, তার একটা অবশ্য ঘোড়া, সব আরবি শব্দের একটা অর্থ ঘোড়া এই ভাবে কেউ যদি বাংলায় কোরানের অনুবাদ করে ঘোড়া ঘোড়া দৌড়াইতাছে ঘোড়া ঘোড়া তাইলে তো হইবো না, কথা হইলো বাংলায় কোরানের সঠিক অর্থ বোঝা যাইবো না, ঐটা বুঝতে হইলে আরবি জানা লাগবো, তাও 1400 বছর আগের ডায়ালেক্টের আরবি এই মর্ডার্ন আরবি না তো হ্যাতেরা কি সেই আদিম যুগের আরবি শিখবো না কি নতুন যুগের আরবি,
এগোর মাথায় আছে গোবর, চৌক্ষে ঠুলি, এগোরে এমনে বুঝাইলে আর যুক্তি দিলে হইবো না, হ্যাতেদের টেপরেকর্ডারে একটাই জিনিষ শুনবা বারবার, কোরানের বাংলা অনুবাদ সঠিক হবে না, বাংলা অনুবাদ করলে কোরানের ইন্টরেগ্রিটি নষ্ট হবে, অর্থ বিভ্রাট ঘটবে, এই জন্য কোরান বুঝতে হইলে আরবিতে বুঝতে হইবো, কথা হইলো যারা এই কথা কয় তারা কি 1400 বছর আগের আরবিতে বূৎপত্তি লইছে না কি তারা মর্ডার্ন আরবি ভাষায় কোরানের অর্থ খুঁজতাছে।
৩০. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: 'যে সব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবানী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি'

আমরা আর কি বলবো? মধ্যযুগে কবি হাকিম এদের সম্পর্কেমন্তব্য করে গেছেন !
তবু ছোটো করে বলি , কোরান পবিত্র আরবী ভাষার জন্য নয়...তার বিষয়ের জন্য । কোরান আরবীতে নাযিল হয়েছে কারন এটা মহানবীর মাতৃভাষা ছিলো ।তার 500 বছর আগে আরেক আসমানী কিতাব ইনজিল কিন্তু নাজিল হয়নি আরবীতে । আর মনে রাখা ভালো ভাষার কোনো পবিত্রতা বা নোংরামী নেই । আরবীতে যেমন কোরান নাযিল হয়েছে তেমনি আরবী রচিত হয়েছে বহু অশলীল কাব্য ।
আর জল-পানি,শ্মশান-গোরস্থান দিয়ে সংস্কৃতি ,জাতীয়তা নির্ন য় করে এই সব খুব সেয়ানাদের সাথে তর্ক করার থেকে জীব্রানের কবিতা পড়া অনেক আরামপ্রদ ।
৩১. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৩:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: কোরআন পবিত্র আরবি ভাষার জন্য এটা কেউ দাবী করে নি হাসান মোর্শেদ। তবে, কোরআন বোঝার জন্য আরবি জানার প্রয়োজনীয়তা আছে সেটা দাবি করছে। অনুবাদ করা হলে মূল টেক্সটের সাথে পুরাপুরি সৎ থাকা যায় না, বাইবেলের প্রতিটা অনুবাদকেই আক্ষরিক অর্থে মূল গ্রন্থের সমতুল্য ধরে নেয়া হয়েছে বলেই আজ আফ্রিকার বাইবেলের সাথে ইংল্যান্ডের বাইবেলের কোন মিল নেই। মূল আরমাইক ভাষায় লেখা বাইবেল বিলুপ্ত। গ্রীক ভাষায় অনুবাদ করার সময় বেশ কিছু অদল বদল হয়েছে, সেখান থেকে আরও অনেক হাত বদল হয়ে ইংরেজীতে যেতে যেতে ভাষ্যই বদলে গেছে।