আমার প্রিয় পোস্ট
- মুভ্যি দেখা বা না দেখা: হালাল হারাম প্রসঙ্গ - সন্ধ্যাবাতি
- চঞ্চল মন আমার মানে না বারণ - ওয়ালী
- কুঁ ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক... - ওয়ালী
- ফিল্মী জীবন - ওয়ালী
- ইয়ে মানে তেমন কিছু না - ওয়ালী
- বই এর জগতে আমি - ওয়ালী
- হাইওয়ে জুস কেলেঙ্কারী - ওয়ালী
- আন্ডা সমাচার - ওয়ালী
- আমার সচলায়তন অভিজ্ঞতা : সে এক কাহিনি বটে! - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহোয়ার, ইলেকট্রনিক মোল্লা, ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ ও লেখক যশোপ্রার্থীদের তড়পানি - মাহবুব মোর্শেদ
- সুখপাখির সুখের পৃথিবীতে আমি - ওয়ালী
- বিজ্ঞজনের সাথে সহবাস- ভার্চুয়াল রাজনীতি! - ওয়ালী
- ডক্টর আজাদের ‘নারী’র নারীরা, একটু যদি শুনেন দয়া করে! - ফারজানা মাহবুবা
- ব্লগ কর্তৃপক্ষের প্রতি: প্রতিক্রিয়াশীলদের উস্কানিতে বিভ্রান্ত হবেন না - ওয়ামি
- কার্টুন গ্যাঞ্জাম (সন্ধ্যাবাতি) - সন্ধ্যাবাতি
- "গর্ভধারণ একান্ত পাশবিক কাজ": হুমায়ূন আজাদ - সন্ধ্যাবাতি
- ছি ছি! ইসলাম এতো খারাপ? - ফারজানা মাহবুবা
- আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইউনেস্কোর তথ্য শূন্যতা !! - থার্ডআই
- মোরা একটি ফুলকে বাচাঁবো বলে যুদ্ধ করি: উৎস্বর্গ চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির হর্তাকর্তা হুজুরে শাহ পীরে আউলীয়া এস্কিমো ওরফে উত্তর মেরুর দুপেয়ো এবং তাহার কমরেডদের - মুক্তি
- "তাদের" এই অধঃপতন রোধের দাওয়াই কি? - ওয়ামি
- চরম জেনেরেলাইজেশন হইছে মানি, কিন্তু আমি মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননার চেষ্টাও করি নাই - ওয়ামি
- পড়ুয়ার পোস্ট, সামহোয়ারইন ও ফেসবুক এবং রাজাকার প্রসঙ্গ - মাহবুব মোর্শেদ
শান্তির অম্লান, শ্যামায়িত আরমান- হেজাজের ঝড়ে বীভৎস বাধা দলছে © ওয়ালী. ১৯৮৩ এবং পরবর্তী ;)

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ৯:৪৯
বিষয়টি নিয়ে প্রচন্ড বাক-বিতন্ড। কারণও আছে। একটি নেতৃত্বহীন গণ- বিষ্ফোরণকে যে যার মতো করে পুঁজি কারতেই পারে। এই গণ বিষ্ফোরণটি যে মুক্তিযুদের রূপ নিবে তা কারো ধারণা ছিলো কিনা আমি জানিনা। তবে এতটুকু জানি যে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহকদের অনেকেরই ধারণা ছিলোনা। মন্তব্য দেখে তাই মনে হয়। তারা মন্তব্য করেন, তারা কোনদিন কল্পনাও করেনি যে পাকিস্তান আলোচনার পথ বাদ দিয়ে এভাবে 25শে মার্চরাতের সূচনা করবে। এধরনের মন্তব্যই কি প্রমাণ করে না যে, তাদের মাঝে যুদ্ধের কোন চেতনাই ছিলোনা। নিশ্চিতভাবে তাদের মাঝে যুদ্ধের চেতনা সম্পূর্ন অনূপস্থিত ছিলো। প্রয়াত শেখ মুজিবর রহমান 7ই মার্চ পাকিস্তানের বিরূদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলেন আর সকল নেতৃস্থানীয় ধারক বাহকরা কল্পনাই করতে পারেনি 25শে মার্চ রক্তক্ষরণ ঘটতে চলেছে। সত্যিই অবাক হতে হয়। মুক্তিযুদ্ধটা না হয়ে গেলে বিষয়টা বেশ কৌতুকজনকই ছিলো। এটাই যদি প্রথম শ্রেনীর নেতৃবৃন্দের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নমুনা হয় তবে পরবর্তী স্তরে বোঝাই যাচ্ছে অবস্থা কি!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আসলে বস্তুটি কি, সে সমর্্পকে স্পষ্ট ধারণা বা ব্যাখ্যা কারো কাছেই আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। তবে যুদ্ধের পরে অনেক মহারথী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক এক ধরনের ব্যাক্ষ্যা দাঁড় করানোর প্রায়াস জারি রেখেছেন। বিদ্যাবুদ্ধির দৌড়তো আমাদের আর কম না! তাই কোন কিছুর সংজ্ঞা আর ব্যাক্ষা দাঁড় করাতে আর কতক্ষন লাগে! ঘটেছেও ঠিক তেমনটি। যারা যার মতো করে সকলেই ব্যাক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বক্তব্য আর বিবৃতিতে সকলেরই একই কথা "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করতে হবে"। বিদ্যার দোহাই দিয়ে সকলেই কথাটি আউরিয়ে যায়। এটা ছাড়া উপায় নেই। কারণ না আউরালে একজন প্রমানিত রাজাকারও বলে বসতে পারে 'অমুক মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতা করেছে!" তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটি কি এবং কাদের এই নিয়ে ভয়ে আর কেউ তাই তলিয়ে দেখতে চায়না! যাক, যেমন আছে তেমনই থাক! না বুঝে তসবীর মতো জপে যাওয়াটাই উত্তম। তবে এতে করে সকলেই কমবেশী আক্রান্ত আর সংক্রামিত। এতো বছর পরে আমার জানতে ইচ্ছে করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটি কি ছিলো, এই চেতনার অধিকারী কারা? এর কোন নির্দিষ্ট রূপরেখা ছিলো কি? কোন চেতনার ঐক্যে মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য ছিলো? আর যারা এই চেতনার বাইরে শুধুমাত্র দেশ রক্ষার জন্য জীবন দিলো এবং যুদ্ধ করলো তারা কি আদৌ মুক্তিযোদ্ধা? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোন মুক্তিযোদ্ধার প্রয়োজন না হলেও আগামী বংশধরদের জন্য প্রয়োজন।
কিন্তু এর বাইরে রয়েছে বিরাট একটি জনগোষ্ঠী যারা আর্দশগতভাবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুদ্ধের বিরূদ্ধে অবস্থান করেছিলো। তাদের কাছে ঐ চেতনাটির কোন মূল্য ছিলোনা। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে কথিত শাসক গোষ্ঠীর ব্যর্থতা ভিন্ন অর্থে ভন্ডামী দেখতে পেরেছিলো। স্বাভাবিক ভাবেই যুক্তি আদর্শ এবং অবস্থানের দিক দিয়ে বর্তমানে এরা শক্তিশালী।
আওয়ামী লীগের চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ছিলো। মূলনীতিটা আওয়ামী লীগের ছিলো বললে ভুল হবে এটা ছিলো ভারতের। যার কোনটাই 70 এর নির্বাচনের 6 দফাতে ছিলো না। যে আওয়ামী লীগ 70 এর নির্বাচনে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলো কোরআন সুন্নাহর পরিপন্থি কোন আইন পাস করবে না সেই আওয়ামী লীগ কিভাবে ডিক্টেটরের মতো করে রাষ্ট্রীয় মূলনীতির বিষয় জনগনের উপর চাপিয়ে দিলো? আওয়ামী লীগ জনগনের ম্যান্ডেট লাভ করেছিলো পাকিস্তানের অধিনে। নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের অধিনে নয়।
গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ এই চার নীতি আরোপ করার মধ্য দিয়ে দিলি্ল তাদের লক্ষ্য অর্জনে সার্থক হয়েছিলো। যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি দেশের কোটি মানুষ যেখানে খাদ্য, বস্ত্রহীন সেখানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতির প্রনয়ন মূলত প্রমাণ করে বাংলাদেশ ভারতের একটি অংগরাজ্যে পরিণত হলো। কারণ ভারতের সরকারও এই চার নীতির ব্যাতিক্রম নয়।
পুঁজিবাদ প্রবর্তিত সংসদীয় গনতন্ত্র আর মার্কসবাদ প্রবর্তিত সমাজতন্ত্র এই দুই বিপরীতমুখী নীতির সংমিশ্রণের মধ্যে দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার আওয়ামী লীগ কি লক্ষ্য অর্জন করতে চেয়েছিলো সেটা অনুধাবণ করতে যাওয়াটা রীতিমতো নিম্নমানের বোকামী হবে। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাজতন্ত্রকে স্তম্ভ বানিয়ে সমাজতন্ত্র দিয়ে সমাজতন্ত্র ঠেকানোর কৌশল হতে পারে এটা। তাতক্ষনিক কিছু লাভ হয়েছিলো। রাষ্ট্রীয়করণের নামে গোষ্ঠীকরণ করা হয়েছিলো। এটা নিয়ে বলার তেমন কিছু নেই। জাতীয়তাবাদ নিয়ে Ac evK লেখবে বলেছে। তাই আপাতত সেটা নিয়েও বলার কিছু নেই। তবে ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে কিছু বলতে চাই।
গভীর ধর্মীয় আবেগ- অনুভূতি সমম্পন্নবাংলাদেশীদের উপর ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ আরোপের বিষয়টি একটুও হালকা করে দেখার বিষয় না। ভারতের উদ্দেশ্য কি ছিলো বাংলাদেশীদের উপর ধর্মনিরপেক্ষতা চাপিয়ে দেয়ার? বাংলাদেশের মানুষ শুধু ধর্মপ্রাণই নয় বরং শতকরা 90 ভাগেরও বেশীরভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর কাছে ইসলাম একটি সার্বিক জীবন ব্যবস্থা। আধ্যাতিকতার দিক দিয়ে ভারত তার শত্রু চিনতে মোটেও ভুল করেনি। পৌত্তিলিকতাবাদ ভিত্তিক ঠুনকো আধ্যাতিকতার জোরে কোন ক্রমেই ইসলামকে বশ করা যাবেনা সেটা তারা ভাল বুঝেছিলো। বাংলাদেশের মূল সংস্কৃতি হচ্ছে ইসলাম ভিত্তিক। আর ভারত যদি সংস্কৃতিক কতর্ৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে তবে সামরিক দিক তাদের চিন্তা না করলেও চলবে। অটোম্যাটিকলি ভারতের রাজত্ব কায়েম হবে বাংলাদেশে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগনকে বিচ্ছিন্ন করতে হলে প্রয়োজন একটি দর্শনের আর সেটাই হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। ধর্মীয় অনুশাসনের অনুপস্থিতিতে জনগোষ্ঠী হবে উচ্ছৃংখল। শেকড়হীন পরগাছার মতো বিচড়ন করবে তারা। উচ্ছৃংখল জীবন যাপনের তাগিদে কিছু মানুষ এই অদর্শ বাস্তবায়নে বধ্যপরিকর। স্রষ্টাকে মানুষের জীবনের একটি কার্যকর শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে আপত্তি কোথায়। মসজিদ, মন্দিরে স্রষ্টা আছে আর অফিস আদালতে স্রষ্টা নেই এটা কোন পাগলের কথা হতে পারে। কিন্তু একজন মুসলামন কোনদিনও এই মিথ্যার পথে চলতে পারেনা। এটা মূলত ধর্মহীনতা। যারা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র কায়েমে জিহাদে নেমেছে তাদের দিকে তাকালে দেখা যাবে ব্যাক্তি জীবনেও তারা ধর্মের ছিটেফোঁটা পালন করে না। অবশ্য তাদের প্রশ্ন করলে উদারনীতির দোহাই দিয়ে বলবে, 'ব্যাক্তি জীবনে হস্তক্ষেপ কাম্য নয়'। কৌশলে ধর্মকে অস্বীকার করার ফন্দি এটা। অবৈজ্ঞানিক এবং আজব এই মতবাদ। এখানেই ধর্ম বিরোধীতা। একজন ব্যাক্তি সমাজ থেকে কতটুকু দূরে? একটি মানুষে জন্ম গ্রহণ থেকে শুরূ করে মৃতু্য পর্যন্তসকল কিছুই একাধিক ব্যাক্তির সাথে সমর্্পকিত। শুধু রীতি রেওয়াজের বেলায় স্রষ্টা আর জীবনের বাকী ক্ষেত্রে স্রষ্টাকে 144 ধারার আওয়তায় আনা রীতিমতো ভন্ডামী। ধর্মনিরপেক্ষতা একটি অবৈজ্ঞানিক মতবাদ বিবেকের দৃষ্টিতে যুক্তিহীন অথচ এর ধারক বাহকরাই সবচেয়ে বেশী বুদ্ধি আর জ্ঞানের দোহাই পাড়েন।
জীবনের সকল ক্ষেত্রে যদি স্রষ্টার প্রয়োজন না হয় তবে ব্যাক্তিগত জীবনে স্রষ্টার প্রয়োজনটা কোথায়? এভাবে বললেইতো হয়। কিন্তু এই কথাটি কেউ বলছেনা। তাহলে বোঝা যাচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতাই হচ্ছে ধর্মহীনতা। এই নাস্তিক্যবাদ তত্ত্বে প্রভাবিত হলে ইসলাম বিদ্্বেষী হয়ে উঠবে যুব সমাজ। এখানে মজার প্রশ্ন হচ্ছে নাস্তিকরা কেন ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে বা রাষ্ট্র এবং ধর্মকে আলাদা করতে চায়? এধরনের ভন্ডামীর আশ্রয় কেন নেয়া হচ্ছে আমার মাথাতে আসছেনা। সত্ত্বা সংকট এখানে প্রকট। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মত মহতী এবং ভন্ডামীমার্কা পরিকল্পনা বাংলার মাটিতে যারা প্রতিষ্ঠিত করতে চান সাদিকের ভাষাতে তারা মুড়ি খেতে পারেন! চোরের কথামতো একটু গুড়ও নিতে পারেন!
একটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অবুঝরা ভারত, রাশিয়া আর আমেরিকা থেকে 4টি স্তম্ভই ধার করলো কিন্তু নিরাপদে বসবাসের কোন প্রস্তুতি কেউ নিলোনা।
পুণশ্চ: লেখাট বড় হতে চলেছে অনেক কিছুই তুলে ধরা হয়নি। তাই লেখাটি শেষ হলো কিনা বলা মুশকিল।
সদরুল বলেছেন:
ওয়ালী সাহেব, আরে না না, লেখাটা আরও বড় করেন, অসুবিধা নাই। আমরা আপনার কাছ থেকে জ্ঞান নিয়ে জ্ঞানী হই।
লাল মিয়া বলেছেন:
রামছাগল ।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
[গালাগালি না করে ওয়ালীর পোস্টে তার জিজ্ঞাসার কোনো সদুত্তর থাকলে তা দিতে অনুরোধ করছি]আমি আমার অংশটুকু বলছি। আপনার পোস্টে বিসমিল্লাহ গলদ আছে ভাইজান। নেতৃত্বহীন কোনো গণবিস্ফোরণ কি একাত্তুর সালে ঘটেছিল? উত্তর- না। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানে একটি বাদে সংসদের প্রতিটি আসনে আওয়ামী লিগকে ভোট দিয়েছে বাংলার মানুষ। কারণ একটাই তারা বিশ্বাস করেছিল বঙ্গবন্ধু তাদের নির্বাণ দেবেন। মুক্তি। কিসের থেকে। অপশাসন ও শোষন থেকে। আমাদের দেশের মাটি আমরা শাসন করব। আমাদের সংস্কৃতি-কবিতা-গান উৎসব হবে পুরোটাই বাঙালীয়ানা। উদর্ুসংস্কৃতি প্রভাবিত নয়। তাই শাসকগোষ্ঠীর নতুন করে রবীন্দ্রসংগীত রচনা কোনো কাজে আসেনি। উত্তাল মার্চের শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তান জানে বাঙালীরা বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুত। সেজন্য তখন থেকেই তারা এই বাংলায় সামরিক সম্ভার জড় করছিল, সেনা পাঠাচ্ছিল সব গ্যারিসন গুলোয়। আলাদা করে ফেলছিল বাঙালি অফিসারদের।
7 মার্চের ভাষণ কোনো লিখিত ভাষণ নয়, আবার মনগড়াও নয়। তাৎক্ষণিক প্রনোদনা থেকেই এর সৃষ্টি। রেসকোর্সে উপস্থিত লাখো জনতার মনের কথাটাই মুজিব বলেছেন সেদিন। ম্যাসেজটা ছিলই- যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক, ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল, আর রক্ত যখন দিয়েছি আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। সে জনসভায় টাকা দিয়ে লোক ভাড়া কইরা নিয়ে যাওয়া হয় নি। তারা এসেছিলেন কারণ জানতেন মুজিব তার অবস্থান পরিস্কার করে দেবেন। এবং 25 মার্চ রাতে ক্র্যাক ডাউন হবে, সেই আশঙ্কাও ছিল। সেদিন বিকেল থেকেই তাই ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকায় ঢোকার প্রতিটি রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। পালটা গুলি চালাতে দ্্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি।
এবার আসি চেতনার কথায়। জয় বাংলা শব্দটা আওয়ামী দলীয়করণের অভিযোগে দুষ্ট। একে সংস্করণ করে জয় বাংলাদেশ করার হাস্যকর আবেদনও হয়েছে। কিন্তযুদ্ধের সময় প্রচুর ঘটনা আছে যাতে একজন ধরা পড়া মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলেনি, জয় বাংলা বলে হাসি মুখে প্রাণ দিয়েছে। অপরাজেয় বাংলার সামনে যেমন কানে ধরে উঠবস করার সময় আর কোনোদিন শিবির করব না বলে পারে পেয়ে গেছে শ্যামপুর থানার শিবির সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধে কোনো মুক্তিযোদ্ধা এমন ঘটনা ঘটায়নি। তাদের চেতনাটা কী ছিল? একটি স্বাধীন দেশের জন্য জীবন দেব। পাকিস্তান ভেঙে আমরা ভারতের অংশ হব- এই পরিকল্পনা আমাদের যোদধাদের কখনোই ছিল না। যদিও ভারত আমাদের কোটি শরণার্থিকে ধারণ করেছে, যুদ্ধের 10টি মাস খাইয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ও অস্ত্র দিয়েছে। সর্বাত্মক যুদ্ধে পাশে দাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে ভারত দখল করেনি। আমাদের চেতনার বাস্তবায়নটা তখন ছিল এই রকম আমাদের ভাষা, আমাদের পুর্বসূরীদের রক্ত ও লাশে আসা এই স্বাধীনতা যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে।
এবং সেই ধরে রাখা মানেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে আপষ নয়। '75 এর পর যখন '71 এর ঘাতক দালালরা পুনর্বাসিত হচ্ছে, বাংলার মানুষ কী খুব নিরবে তা মেনে নিয়েছে? নেয়নি। কিন্তু তখন পাকিস্তান আর্মির জায়গা নিয়েছে বাংলাদেশ আর্মি। অফিসারদের বেশিরভাগ পাকিস্তান প্রত্যাগত, তাদের লয়ালটি তখনো পশ্চিমে পড়ে। টেলিফোনে খোজখবর নেওয়া হয়, আর ইয়েস স্যার হামলোগ বহুত খুশ হ্যায় বলে জবাব দেওয়া হয়।
যাক সে কথা। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লিগ-বিএনপি যখন জামাতের সঙ্গে জোট বাধে, তখনই অশনি সংকেতটা পেয়েছি আমরা। জামাত বরাবরই সামরিক পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া দল। নইলে তাদের এত চর্বি জমার কথা নয়, এত আকাম করার পর। কিন্তু ক্ষমতার লোভে অন্ধ বুর্জোয়া দলগুলো সেটা উপেক্ষা করল।
তখনই চেতনার দিকটা স্মরণ করিয়ে দিতে এগিয়ে এলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। তোমরা কাদের সঙ্গে ঐক্য করছ। ঘাতকদের সঙ্গে, দালালদের সঙ্গে? যারা আমার ছেলেকে ধরিয়ে দিয়েছে, যারা আমার মতো লাখো জননীকে ছেলে হারা করেছে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্রের জন্ম তখন। তাদের প্রকাশনা একাত্তরের ঘাতক দালালেরা কে কোথায় মুহূর্তেই বিক্রি শেষ। মানুষ জেনেছে।
এখনো বিশ্বাস করি এই বাংলায় জামাত আলাদা নির্বাচন করুক। একটি সিটও পাবেনা। একটিও না। তাদের বিএনপি, নইলে আওয়ামি লিগ, নইলে জাতীয় পাটি লাগবেই।
মূল কথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমার মতো গণ্ডমুর্খ যেটা বুঝে, তা হলো আমার দেশের ত্রিশ লাখ মানুষ যে কারণটার জন্য শহীদ হলো, দুই লাখ নারী সম্ভ্রম হারালো, সেই স্বাধীনতাটা ধরে রাখা। এবং সেটা সব প্রেক্ষাপটেই। দালালদের চিহ্নিত করা, কোয়ারেনটাইন অর ডিলিট। জয় বাংলা
আজকাল বলেছেন:
ওয়ালী, কেবল ভাষার চমক আর জারগন দিয়ে সহজ-সরল বিষয়কে ঘোলাটে করা যায় না। আপনি যা লিখেছেন - ওটা ইনকিলাব, সংগ্রাম, নয়া দিগন্তের "বানান করে করে পড়া" পাঠকরা পড়ে বাহবা দিবে, কিন্তু ইতিহাসের বাস্তবতার নিরিখে আপনার লেখাটি মারাত্মক দূর্বল।এরকম পোস্টে অেেনকেই অংশ নিবে। মতামতের শাখা-প্রশাখা বেরুবে। কিন্তু পার পাওয়া যাবে না। হয়তো আপনার ভাষায় "অবুঝ" বলেই এখন 71এর কীটরা অনেক কথা বলার সাহস পায়, ইতিহাসও উলটা পথে হাঁটে।
আর আপনিও এরকম পোস্ট দিয়ে "জজমা" দেখান।
অতিথি বলেছেন:
লালুর লগে সহমত ।
অতিথি বলেছেন:
প্রত্যেকটা বিষয়েরই দুটো দিক আছে। একটি ভালো দিক, একটি মন্দ দিক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধও এর ব্যতিক্রম নয়। আপনারা যেভাবে ওয়ালীর পোষ্টের বিপক্ষে কথা বলছেন, তাতে আপনাদেরকে একপক্ষীয়ই মনে হয়।
অতিথি বলেছেন:
ভ্যা ভ্যা
অতিথি বলেছেন:
হুক্কা হুয়া...........ছাইড়া দে আমারে। জমাতের জেহাদি জোশ .... বাইরা গেছে । করি কি ?
হুক্কা হুয়া...........
অতিথি বলেছেন:
রামুরে পাঠশালায় ঢুকাইয়া দাও, পন্ডিত।
অতিথি বলেছেন:
তোমাদের জন্য কি আমাদের মনপছন্দ পোষ্ট করতে হইব নাকি?? তোমাদের পছন্দ হইলে পোষ্ট পড়বা না হালে নাই তোমাগো তো কেউ জোর করে নাই ।এইখানে ভেড়ার মত ভ্যা ভ্যা না কইরা যে জায়গায় তোমাগো দ্্বিমত আছে সেগুলান নিয়া আলোচনা করলেই তো হয়, নাকি ? আমার তো মনে হয় তোমাগোই পাঠশালায় ঢুকা উচিত, অবশ্য যেখানে খেঁকশিয়ালের মত (অকালকুষ্মান্ড)পন্ডিত,সেহানে যাইয়া কোন লাভ হইব বলে মনে হয় না ।
অতিথি বলেছেন:
সিফিলিস খেপছে। তোরা সইরা যা।
হযবরল বলেছেন:
অমি ভাই স্ট্যান্ড আউট কমেন্ট। আজকাল ভাল বলেছেন। বাকস্বাধীনতার অপব্যবহারের চরম নমুনা স্থাপিত হচ্ছে এই ব্লগে।
এতগুলো মানুষ যুদ্ধে প্রাণ কেন
দিয়েছিলো ? কেন পাক আরমি লিংগি খুলে যৌনাংগ দেখেছিলো ? ওয়ালী কি জবাব দিতে পারবা ।
অতিথি বলেছেন:
ওয়ালী, প্রথম দিকের কয়েক প্যারাকে আরো বিস্তারিত করতে পারলে ভাল হতো। কারণ, যে নীতিগুলোর কথা তুলে ধরেছেন, সেসব সম্পর্কে যারা কম অভিজ্ঞ তাদের জন্য বুঝতে কষ্ট হতে পারে। তবে মন্তব্যকারীদের যে সেই চার নীতির যেখানে আছেন, সে সেখান থেকেই বলছেন, এতে অবশ্য কিছুটা পরিস্কার হতে চাইছে যেন। তবুও আরেকটু বিস্তারিত করে দু'ভাগে দিলেই ভাল হতো। তবে এখনো সেসব নিয়ে ভিন্ন লেখা আসতে পারে, তুলনামূলক। মানে "চেতনা", তা বাংলাদেশী, মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে।শেষাংশের প্রেক্ষিতে একটা ব্যাপার আমিও লক্ষ্য করছি যে, যাদের মধ্যে ধর্মের 'ধ' খুঁজে পাওয়া মুশকিল (লেখনীতে, জ্ঞানে, আলোচনায়) তাদেরকেই দেখা যায় কে ধার্মিক আর কে বকধার্মিক, কে মুসলমান আর কে কাদিয়ানী (অমুসলিম), কে সঠিক ইসলাম পন্থী আর কে জঙ্গীবাদী এসবের ফয়সালা দিতে। অবশ্য লজ্জার মাথা খেলে আর 'আফসোস' করেও কি লাভ।
সর্বোপরি, এ ধরণের আরো তুলনামূলক পর্যালোচনা নির্ভর লেখা চাই।
অতিথি বলেছেন:
চমৎকার বলেছেন ........তবে ফজলে এলাহি ভাই আরো চমৎকার মন্তব্য দিয়েছেন .....
দুইজনকেই ধন্যবাদ........
অতিথি বলেছেন:
আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবং ''জামার্ন ভাষা শিক্ষা আসর'' এর পক্ষ থেকে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি ।আমরা ব্লগে একটি সুষ্ঠ স্বাভাবিক সংস্কৃত চর্চার উদ্যোগ নিয়েছি ।
এতে আমরা পথিক সাহেব সাহেব, ফ্রুলিংক্স সাহেব, সুমন চৌধুরী সাহেব, তীরন্দাজ সাহেব, ধূসর গোধূলী সাহেব এবং আরও যারা জামার্ন ভাষার সাথে অনেক আগে থেকেই যুক্ত তাদের কাছ থেকে একান্ত সাহায্য কামনা করছি ।(কারণ অনেকের নাম আমার অজানা)
আপনি যদি আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করেন তাহলে আমরা এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ হব । প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য [link|http://www.somewhereinblog.net/rifat/post/21193| GL
অতিথি বলেছেন:
আগের বার যখন পড়েছিলাম তখন ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন পোষ্ট.. তাই পুরোটা পড়িনি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমরা আর কতকাল দ্্বিখন্ডিত করবো নিজেদের! এই প্রশ্ন সবসময় আমার মাথায় থাকে। তাই এ বিষয়ে কোন কথা বলা বা এসব নিয়ে অযথা বিতর্কে যেতে চাই না কখোন।আজকে সময় করে পুরোটা পড়ে দেখলাম। ওয়ালী ভাল লিখেছেন। এর পরের পর্ব বের করুন।
বাইদ্যাওয়ে, আপনার ব্লগে এসেছি আপনার খবর নিতে। কোথায় ডুব দিয়েছেন? একদম লাপাত্তা!
ফিরে আসুন। অন্তত সপ্তাহে একদিন হলেও।
ভাল থাকুন।
অতিথি বলেছেন:
হ। সামনে নিব্বাচন আইছে। নিজের নিকে জিহাদী পোস্ট দেন।
অতিথি বলেছেন:
কেমন আছেন।
অতিথি বলেছেন:
কই আপনি মিয়া?
লাল মিয়া বলেছেন:
রাম ছাগল ।
অতিথি বলেছেন:
ওয়ালী মিঞা তো শুনছিলাম শীঘ্রই লেখা শুরু করবেন, কিন্তু ঘুরে ফিরে তো চেতনা পোষ্টটাই পাচ্ছি। ব্যস্ততা নিজে নিজে না কাটলে নিজেই কেটে ফেলুন না।
হযবরল বলেছেন:
চতুষ্পদী লিখা ।
অতিথি বলেছেন:
বাহ্ আপনার বেশ নতুন ধরনের চিন্তা পদ্ধতি। একেবারেই প্রথাবিরোধী। এটা ভালো। পথ তো কেবল একটি নয়।


















অশিক্ষিত ধাঁচের কথা শুনে তোমার দলের ছ্যাচড়া পাবলিক এসে পিঠ চাপড়াবে তবে এটা কোনো কামের কথা না, অশিক্ষিত মানুষদের কথা বাদ দাও, তুমি শিক্ষিত মানুষ একটু সমাজতন্ত্র বিষয়টা বুঝাও-
বুঝাও গনতন্ত্রের সাথে কোথায় ঝামেলা বাধের সমাজতন্ত্রের? অকাট মুর্খের মতো কথা বললে তো হবে না।
আরও কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতাম তবে মুর্খকে শিক্ষিত করতে হয় ধাপে ধাপে। একটা সিঁড়ি পার না হলে বাকি বিষয়গুলা বুঝবা না, ঐ তাকবীর দিয়া ফাল দিয়া পড়বা, কোনো কামের জিনিষ হইবো না।