আমার প্রিয় পোস্ট

শান্তির অম্লান, শ্যামায়িত আরমান- হেজাজের ঝড়ে বীভৎস বাধা দলছে © ওয়ালী. ১৯৮৩ এবং পরবর্তী ;)

কি ভাবে তাদের মতো হওয়া যায়?!?!

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:২১

শেয়ার করুন:                   Facebook

( এখানে কোন কোন ব্লগার তাদের নিজেদেরকে প্রগতিবাদী অথবা ধর্মনিরপেক্ষ অখবা এ্যাথিষ্ট বলে খুব খুশি হচ্ছেন। তাদের লম্ফ ঝম্ফ দেখে একটু ব্যাথা পাচ্ছিলাম! তাই একটু বির্তকের প্রয়াস আরকি। শুধু মাত্র প্রথম প্যারাতে আমি দুইটি বিষয় একই সাথে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। স্থুল দৃষ্টিতে দেখলে প্যারাটি সাধারণ কিন্তু সূক্ষ দৃষ্টিতে প্যারাটি অন্যকিছু। পোষ্টের বাকী অংশ স্থুল দৃষ্টিতে দেখলেই চলবে।)

এবার আসুন কিভাবে তাদের (প্রগতিবাদী/ ধর্ম নিরপেক্ষ/ এথিষ্ট) মতো হওয়া যায়। প্রথমেই পোশাকে পরিবর্তন আনতে হবে। পাজামা এবং খদ্দরের লম্বা পাঞ্জাবী সব সময় পরবেন। শীত গরমে বার মাস একটি চাদর কাধে ঝুলিয়ে রাখবেন। যদি এই স্টাইল আপনাদের ভাল না লাগে তবে ডিসকো জুতা, ছিড়া প্যান্ট, রঙ্গীন শার্ট, বিভিন্ন কিছুর ছাপমারা গেঞ্জী পরবেন। কিন্তু সাবধান শার্টের বোতাম একটিও লাগাবেন না। বুক উদাম করে চল- ফেরা করবেন। এই অবস্থায় শার্টের নিচে সাধারণ গেঞ্জি পরবেন না। কারন গেঞ্জি পরলে বুকটা দেখাতে অসুবিধা হবে। উদ্দেশ্য যখন বক্ষ প্রদর্শন বক্ষবৃত গেঞ্জি পরিধান করে লাভ কি। এই পোশাকও যদি ভাল না লাগে তাহলে যে গেঞ্জিগুলোতে রয়েছে ভিন দেশের পতাকার ছাপ, ভিন্ন সমাজের প্রতীক, ভিন্ন সংস্কৃতির শ্লোগান, ভিন্ন জাতীর ব্যাক্তিত্বের নাম, নায়ক- নায়িকার এ্যাকশন (!) দেহ-ভংগী আর খুটি ছাড়া গরূ, ছাগল সাপ বিচ্ছুর ছবি। সর্তক থাকবেন দিন তারিখ দেখে শুধু বাংলাদেশী ছাপ মারা গেঞ্জি পরবেন তাছাড়া নয়।

এবার বুলি বচনের প্রসংগে আসি। ধর্ম কর্ম যারা করেন তাদের দেখলেই (পোষ্ট/মন্তব্য) নাসিকাটা একটু কুঞ্চিত করবেন। ইসলাম পন্থিদের উদ্দেশ্যে খুব করে গালি গালাজ করবেন। কি কি গালি গালাজ করবেন তাও বলে দিচ্ছি, অসভ্য, অশিক্ষিত, প্রতিক্রিয়াশীল, সেকেলে, মধ্যযুগীয়, ধর্মান্ধ, কুপমন্ডুক, মৌলবাদী, রাজাকার, ক্ষুদে রাজাকার, জামাত-শিবির, রগকাটা, ক্যাডার ইত্যাদী আরো অনেক কিছু। যত গালি দিতে পারবেন ততই তাদের মতো হতে পারবেন। গালিতে না পরলে ব্যাক্তিগত আক্রমণ করবেন। এটাই মক্ষম ফমর্ূলা। যত পারেন নিজের ধর্মকে গালি দিবেন। নিজের ধর্মকে গালি দিতে না পরলে কোন দিনিই তাদের মতো হতে পারবেননা সাফ জানিয়ে দিলাম।

আধুনিক পোশাক পরলেই আধুনিক হওয়া যায়না। যেমন উড়োজাহাজে চড়ে লন্ডনে এসেও অনেকে অধুনিক হতে পারিনি। তাদের মতো হতে হলে আপনি যে প্লাট ফরমে দাড়িয়ে আছেন সেই প্লাট ফরমেই আপনাকে আঘাত হানতে হবে। পরিচয় বদলিয়ে সুবিধা করতে পারবেননা। যেদিকেই লাইন দিয়ে থাকুন না কেন রাবনের ভাই বিভীষন হয়েই থাকবেন। তাহলে সুবিধা করতে পারবেন। কিংবা নিক নেই ম দিবেন যেমন মান্দার গাছ, কলার ছোকলা ইত্যাদী। শ্রমতী প্রয়াসী বাসুনাম ধারন করে বদরূলের ক্ষতি করতে পারবেননা। পূর্ব এবং পশ্চিমের ব্যবধান যে আছে তা বিনা মাপেই বোঝা যায়। তাই বদরূলের জ্ঞাতি ভাই শেখ চৌধুরী হয়ে যদি সর্বনাশে লাগেন তাহলে বদরূলের ভিটাতে ঘুঘু থেকে শুরূ করে শিয়াল, গরূ, ছাগল পর্যন্ত চড়াতে পারবেন। এটা প্রয়াসীদের মতো হবার একটা ডিপ্লোমেটিক টেকনিক।

তারপর আপনি বেশী বেশী সংস্কৃতি চর্চা করবেন। এমন সকল সংস্কৃতি চর্চা করবেন যেগুলো ইসলাম কখনো সর্মথন করে না। তবে যাই করেন না কেন আপনার ইসলামি নামটা যেন ঠিকমতো রাখবেন কারন ওটা আপনার ধোকা দেয়ার সাইনবোর্ড। খুব করে গাইবেন নাচবেন গিলবেন এবং নেশায় বেহুঁশ হয়ে ভোগের পজেটিভ নেগেঠিভ তরঙ্গে ঝাঁপিয়ে পরে ক্ষনিকের জন্য লাপাত্তা হয়ে যাবেন। এগুলোই হচ্ছে প্রগতির লীলা খেলা। মসজিদে গিয়ে শুধু শুক্রবারের নামাজ পরবেন আর গুলিস্থানের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে গিয়ে হাউজি খেলবেন। তাহলে কেউ আপনাকে সম্প্রদায়িক বলবেনা।

কিছু কিছু ব্লগারদের কাছ থেকে এই নমুণাই দেখছি। মানে নামের আগে পরে বিশেষন বদলের ঠুনকো আবদার, সংস্কারের মুসলমানী করানো, পূর্ব পুরূষেকে আইডেন্টিফাই করতে না পেরে এইডসের আবিস্কারক ডারউইরনর বান্দরের কায়দায় লম্ফ জম্ফ, নামের আগে জনাব/ শ্রীমান এবং নামের পরে ভাই/আপা/দাদা/দিদির বদলে মিস্টার/মিসেস বসিয়ে কেউ কেউ আবার জাতীয়তায় বাঙালী হতে চান। চলার পথে হাজারো রং তামাশা নজরে পড়ে। কোন কোন পথিক এসব দেখে আসল পথের কথা ভুলে যায়। ভুলে যায় চলার লক্ষ্য এবং যাত্রার উদ্দেশ্য। খেলায় আর নেশায় বাঁকে বাঁকে বেলা শেষ হয়ে যায়। যখন হুঁশ ফিরে তখন আর সময় থাকেনা। তখন গালি দেয় কপালকে, কিন্তু তার বিলাসী খেয়ালকে সে দায়ী করে না।

অতি সংগপনে একটি প্রশ্ন করি। আপনাদের আশে পাশে যারা প্রগতিশীল কিংবা ধর্ম নিরপেক্ষ কিংবা এ্যাথিষ্ট তাদের প্রশ্ন করবেন - আচ্ছা আপনারা সূখে শান্তিতে আছেনতো?

 

প্রকাশ করা হয়েছে:   বিভাগে ।

 

  • ৭ টি মন্তব্য
  • ৪৩৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৬:০২
comment by: আরাফাত রহমান বলেছেন: ওয়ালী ভাই, কথাগুলো একটু বেশি কঠিন হয়ে গেল না !
২. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০২
comment by: নতুন বলেছেন: ওয়ালী ভাই আপনার এই মন্তব্যের পেছনে আপনার পেরিশে থাকার একটা প্রভাব আছে আমার মনে হয়, কারন আপনি দেশে থাকতে অবশ্যই এতোটা জিহাদি জজবা নিয়ে ইসলামের প্রতি আপনার মতামত প্রকাশ করতেন না । আশা করি আপনার এই পরিবর্তনের গল্প গুলি আমাদের করবেন>.>>>>>>>
৩. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: কথা আসলেও একটু কঠিন। তবে এটা একটা সিরিয়াস রাম্য রচনা মনে হচ্ছে আমার কাছে। বানান এর ব্যাপারে আরো সর্তক হওয়া প্রয়োজন ওয়ালী। আর তোমার ই-মেইল এর ঠিকানা চেয়ে ছিলাম অনেক দিন আগে।

পোষ্টটি ভাল লাগলো। কেউ কেউ তোমাকে খুজছিলো তাদের ঘাপানির কারোনে।
৪. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: সুন্দর লেখেছেন ওয়ালী ভাই। চালিয়ে যান।
৫. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০২
comment by: শাওন বলেছেন: আরাফাত ভাইয়া , কথাগুলা কঠিন হলেও তথাকথিত কিছু মানুষ তো আজকাল এটাই চাচ্ছে ।

দেখেন না আমি আমার বড় বোনদের আপু ডাকি বলে তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে । এরই মদ্ধে 2টা পোস্ট ও হয়ে গেছে ।
৬. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: ওয়ালী ? নিয়মিত লেখেননা কেন ? মাঝে মাঝে যেন কোথায় হাওয়া হয়ে যান ।
৭. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:০২
comment by: ওয়ালী বলেছেন: আরাফাত ভাই তারা ভাই একেকজন প্রফেশনাল সাংঘাতিক (সাংবাদিক) তাদের তুলনায় এটা নিতান্তই সাধারণ একটি লেখা কঠিন কিছু নয়! হা হা হা

ধূম্রজাল চেষ্টা চালু আছে। কিন্তু আপনার "ঘাপানির কারোণে !!" হি হি হি

নতুন ভাই আসলেও এটা পরিস্থিতি, পরিবেশ এবং বয়স এর জন্য মানে বুঝেনতো সবাই সব সময় ছোট থাকেনা। নিয়ে আসবো পুরান কিছু আপনার মতো নতুন কিছুর নতুন রূপে। কিন্তু জেহাদী জজবা বলতে কি বুঝালেন?

শাওন ম্যায়র্খছি বকু

বদরূল ভাই চেষ্টা আছে কিন্তু উপায় নাই ব্যস্ত দিন কাটছে ইদানীং।

সঞ্চয় অসংখ্য ধণ্যবাদ।

 



 


আমি একজন বাংলাদেশী। একজন মুসলমান হিসেবে গর্ববোধ করি এবং আমার বিশ্বাস বর্তমান পৃথিবীতে প্রতি নিয়ত যে সকল সমস্যা মোকাবিলা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২৫৫৯৫