এখানে মিনেসোটাতে আসলে বর্ষা বলে তেমন কিছু নেই। বসন্তের শেষে বৃষ্টি হয় বটে কিন্তু সেটা দেশের মত না। পানি পিচঢালা পথ না ছুঁতেই শুকিয়ে যায়। বৃষ্টি থাকেও না বেশিক্ষন। ঝুম বৃষ্টি নেমে পরক্ষনেই আবার সূর্য্যি বেরিয়ে পড়ে, গনগন করে জ্বলতে থাকে আগুনের গোলা হয়ে। ঘন্টাখানেক বাদে বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে যায় যে বৃষ্টি আসলেই এসেছিল।
দেশের বৃষ্টির দিনগুলো মনে পড়ে। যেদিন অফিস থাকত সেদিন সকালে আকাশের গোমরা মুখটুকু আমার মেজাজ বিগড়ে দিত। অফিস যেতে কি ঝুক্কিটাই না পোহাতে হত। কাদাপানি ভাল লাগত না। কিন্তু বর্ষার আবহাওয়াটা কি দারুণই না লাগত। মনে পড়ে বৃষ্টির পর সেই হিমেল হাওয়ার কথা। জানালা খুলে দিলে হু হু করে আসত বাতাস, গ্রীষ্মের দাবদাহ ভুলে যেতাম সেই হাওয়ার তোড়ে।
মনে পড়ে বর্ষায় মেঘের মুহু মুহু গর্জন। বিদ্যুত চমকে আলোকিত করে ফেলত সামনের বাসার ছাদটি। ছোট ছেলেমেয়েরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে নেমে যেত বর্ষাস্নানে।
বর্ষায় ভূনা খিচুড়ি আর ঝাল মাংস মনে হত অমৃত। যদিও খিচুড়ি সবসময়ই পছন্দ কিন্তু বর্ষাদিনের মায়ের হাতের রান্না খিচুড়ির সাথে কোনকিছুর তুলনা চলেনা। এমনদিনে সাথে যদি থাকত ইলিশ ভাজা তাহলে কাদাপানির কষ্ট গলে বর্ষার জল হয়ে যেত।
এখানেও চাইলে খিচুড়ি, মাংস রাঁধতে পারি বৃষ্টির কোন দিনে। কিন্তু সেটি কখনই দেশের মত মনে হয় না। পরিবেশ অনেক বড় একটি ব্যাপার মনে হয়। আশেপাশের মানুষ, বাড়ির আবহাওয়া সব মিলিয়ে দেশের বর্ষাদিনে এক প্লেট খিচুড়ি যতটুকু মজা মনে হত, এখানে ততখানি মজা মনে হয় না। স্বাদের মধ্যে কোথায় যেন একটা ফাঁক রয়ে যায়। লবন, তেল, মসলা সবকিছু দেয়ার পরও মনে হয় কি যেন দেয়া হয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



