বারাক ওবামার বাবা মুসলিম হলেও আদতে তিনি ইসলামের অনুশাসন মানতেন না বলেই মিডিয়াতে বারবার রিপোর্ট এসেছে। ওবামা’র মা দু’দুবার মুসলিম পুরুষ বিয়ে করলেও আদতে তিনিও কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন না। ওবামা তার শৈশবের প্রায় চারটি বছর ইন্দোনেশিয়াতে কাটানোয় এই জল্পনা নতুন গতি পাচ্ছে প্রতিদিন। অন্য একটি বড় কারণ হচ্ছে, অন্যান্য অনেক প্রেসিডেন্টের মত ওবামা সহসা গীর্জাতে গিয়ে প্রার্থনা করেন না, যেমনটি করতেন জর্জ বুশ অথবা বিল ক্লিন্টন। অন্যদিকে শুরু থেকেই মুসলিম বিশ্বের সাথে একটি সুসম্পর্ক তৈরীর চেষ্টা তার দেশের অনেক রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাকে তাদের চক্ষুশূলে পরিণত করেছে। পাশাপাশি গ্রাউন্ড জিরোর অদূরে একটি ইসলামিক সেন্টার স্থাপনে তার সাম্প্রতিক সমর্থন অনেকের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি মানুষকে যাচাই করি তার কর্ম দিয়ে, ধর্ম দিয়ে নয়। আমি নিজে মুসলিম কিন্তু আমি জীবনে চমৎকার মুসলিম মানুষের পাশাপাশি চমৎকার ইহুদী, হিন্দু এবং ক্রিশ্চিয়ান মানুষের সংস্পর্শেও এসেছি। কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না এমন চমৎকার মানুষকেও খুব কাছ থেকে দেখেছি। একই সাথে অনেক নীচ মুসলিম মানুষের সাথে মেশারও দূর্ভাগ্য হয়েছে। একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ, অন্যদের সাথে তার আচরণ, তার সততা এবং জীবন আদর্শ আমার কাছে সবসময়ই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে এবং আশা করি ভবিষ্যতেও পাবে।
আমেরিকাতে ওবামার ধর্ম নিয়ে মাতামাতিতে মাঝে মাঝে অবাক করে। ওবামা কি করছেন আমেরিকার জন্য তার চাইতে এই দেশের অনেক মানুষের বেশি মাথা ব্যথা সে কি ধর্মের অনুসারী সেটি নিয়ে। ইসলাম নিয়ে ভীতি এই দেশের মানুষের মাঝে এমনভাবে ঢুকে গেছে যে অনেকেই ভাবেন ওবামা মুসলিম হলে এই দেশ অন্য ধর্মালম্বীদের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


