somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... রাজাকারদের তালিকা চাই
মুক্তিযুদ্ধের উপরে আপনাদের নিজেদের লেখাও পাঠাতে পারেন।

তথ্য, ছবি ও লেখা পাঠাবার ঠিকানাঃ
ইমেইলঃ
ওয়েবসাইটঃ http://www.genocide71.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28740811 http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28740811 2007-10-28 23:33:26
৭১'র গণহত্যার ব্যাপারে তথ্য দিন
১৯৭১'র গণহত্যার উপরে তথ্য-প্রমানাদি, ছবি, রাজাকারদের নাম-ঠিকানা, জীবিতদের বর্তমান অবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের উপরেলেখা সংগ্রহের কাজ চলছে। দেশপ্রেমিক সকলের কাছে ছবি, তথ্যও লেখা দিয়ে সহযোগিতার আহব্বান জানাচিছ।

তথ্য, ছবি ও লেখা পাঠাবার ঠিকানাঃ
ইমেইলঃ
ওয়েবসাইটঃ http://www.genocide71.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28740768 http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28740768 2007-10-28 20:12:20
বিজলীর খড়ির জন্যে
বিজলীর খড়ির,
সব মানুষই বাঁচে, কিন্তু সবাই সঠিকভাবে বাঁচেনা।

স্বাধীনতার জন্যে কোন ভিত্তির দরকার নেই। স্বাধীনতা কোন আদর্শ আর স্লোগানের মুখাপেক্ষী নয়। মুক্তিযুদ্ধের কোন লক্ষ্য ছিলো না কথাটি রাজাকারদের চিত্কারের মতো শুনাচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিলো স্বাধীনতা আর আত্নসম্মান পুনরুদ্ধার করা।

জাতিগত বিদ্বেষ বলতে আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন, ব্যাখ্যা করুন।

মীর জাফর ভেবেছিলো, ইংরেজদের সাথে থাকলে লাভ হবে তাই সে নিজেকে ইংরেজদের পালিত কুকুর বানিয়েছিলো। রাজাকার-আলবদররাও পাকিস্তানীদের পালিত কুকুরের ভূমিকা পালন করেছে। আপনার যদি শখ হয় পাকিস্তানীদের পালিত কুকুর হবার, পাকিস্তান চলে যান।

আত্নসম্মানহীন নির্বোধরাই স্বাধীনতার বিপক্ষে যুক্তি খোঁজে।

-যোদ্ধা
http://www.genocide71.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28740761 http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28740761 2007-10-28 19:56:15
গ্রামীন ফোনঃ এক ছদ্মবেশী বহিরাগত লুটেরা
গ্রামীন ফোন আমাদেরকে সেবা দিচ্ছে সত্যি, তবে এই সেবার মূল্য হিসেবে আমাদের সর্বস্ব নিংড়ে নিচ্ছে। যেহেতু আমাদের দেশের আমলারা একদল হিংস্র শ্বাপদ সদৃশ বুভুক্ষ শকুন, তাই সাধারন মানুষদেরকে বহিরাগতরা শুষে নিলে তারা ফিরেও তাকায়না। ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ দেখার জন্যে দেশে ক্যাব নামে একটি সংগঠন রয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে তাদের উদাসীনতাও বিষ্ময়কর।

গ্রামীন এবং অন্যান্য মোবাইল অপারেটরদের কাছে পুরো দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে আছে, বিষয়টি মিডিয়াজগত দেখেও না দেখার ভান করে। কোন মিডিয়াতেই এই শোষনের ব্যাপারে তেমন কোন লেখা কখনো চোখে পড়েনি। মোবাইল অপারেটরদের ব্যাপারে সাধারন মানুষদের ক্ষোভগুলো কখনোই কোনো মিডিয়া গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেনি।

বাস্তবতা হচ্ছে, আমলারা চাচ্ছেনা ঘুষের বান্ডিল হারাতে, মিডিয়া চাচ্ছেনা বিজ্ঞাপনের অঢেল টাকা হারাতে, আর বৈদেশিক কোমপানীগুলো সর্বশক্তিতে নিরীহ সাধারন মানুষের সর্বস্ব নিংড়ে নিতে তত্পর। এত লুটপাটের মাঝে আমরা একদল নির্বোধ ভেড়ার মতো দিগ্বিদিক ছুটছি।

আমার মোবাইলে কেউ কল করলে সে যদি সঙ্গীতের মূর্ছনা শোনে তার জন্যে আমাকে কেন টাকা দিতে হবে? মোবাইলের একটি রিং টোনের বা সঙ্গীতাংশের মূল্য ৫ থেকে ১৫ টাকা পৃথিবীর আর কোন দেশে আছে?

গ্রামীন আমার নিকট থেকে প্রতিটি কলের সময় ১ থেকে ২৮ সেকেন্ডর টাকা লুটে নেয়। যদিও আমি উক্ত সময়গুলোতে কথা নাও বলি। গ্রামীনের প্রতিটি গ্রাহকই এই নির্যাতনের শিকার। অথচ যে সময়টুকু আমি কথা বলিনি কেন তার জন্যে আমি টাকা দেব?

কয়েক সেকেন্ডর পয়সা শুনতে সামান্য মনে হতে পারে কিন্তু আমাদের সাধারন মানুষদের কাছে এই কয়েক পয়সাই অনেক কিছু। আমাদের কালো টাকা নেই। সাধারন মানুষের সারাদিনের প্রানান্তকর শ্রমলব্ধ আয়ের টাকা থেকে কয়েক পয়সা করে লুটে নিয়ে গ্রামীন আলীশান অফিস আর বড় বড় বিজ্ঞাপনী ব্যানারে দেশ চেয়ে ফেলেছে। আমরা দুই, তিন পয়সার মানুষ তাই আমাদের কাছে প্রমান চাওয়া হয় লুটপাটের। পরিসংখ্যান আর সূত্র উল্ল্যেখ করতে বলা হয়। সত্যি কথা বলতে গেলে দাম্ভিকতাপূর্ণ উক্তিতে ছিন্নভিন্ন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

গ্রামীনের কারনে দেশের বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই ধুঁয়া তুলে অনেকে গ্রামীনের পক্ষে সাফাই গাইতে চেষ্টা করেন। যারা গ্রামীনের পক্ষে সাফাই গাইবেন তারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, গ্রামীন ফোন (এবং অন্যান্য ফোন অপারেটররা তাদের) কর্মচারীদের বেতনের টাকা কোথা থেকে দেয়? এদেশের মানুষের ঘাম ঝরানো, কষ্টার্জিত টাকা রক্তচোষার মতো শুষে নিয়ে তার থেকে কর্মচারীদের বেতন বিজ্ঞাপন আর বিলাসী অফিস সাজানোয় খরচ করা হয়। মোবাইল অপারেটরদের আয়ের ১ টাকা দেশের ভিতর খরচ হলে ১০ টাকা চলে যায় বাহিরে।

আমাদের ভূখন্ডে আমরাই নির্ধারন করে দেব বহিরাগতরা কিভাবে এদেশে বানিজ্য করবে। আমরাই নির্ধারন করে দেবো বহিরাগতরা কতটুকু পরিমান লাভ করতে পারবে, কতটুকু পরিমান টাকা তারা দেশের বাহিরে নিয়ে যেতে পারবে। এ আমাদের অধিকার, এ আমাদের স্বাধীনতা। আমরা এ অধিকার আদায় করতে পারছি না, এ স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারছি না। কারন আমরা জানিনা কি আমাদের অধিকার। আমরা জানিনা আমাদের স্বাধীনতার পরিসীমা কতটুকু।

আমাদের যদি নিজেদের অধিকারগুলোর ব্যাপারে জানা থাকে, যদি আমাদের স্বাধীনতার পরিসীমাটুকু জানা থাকে তবে আমরা অধিকার আদায় আর স্বাধীনতা রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট হতে পারবো। আমরা কি জানি সংবিধান কর্তৃক সংরক্ষিত আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো কি কি? যেহেতু আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা তাই আমরা প্রাপ্য অধিকার আদায় আর স্বাধীনতা রক্ষার ব্যাপারে ম্রিয়মান।

আমরা কি চিরকাল নির্বোধ ভেড়া থেকে যাবো? নাকি আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠবো?

-যোদ্ধা
http://www.genocide71.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28736832 http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28736832 2007-10-11 08:21:23
নিদ্রা ভেঙ্গে জেগে ওঠো হে স্বপ্নচারী আবেগী জাতি
খালেদা এবং হাসিনা, দুজনেই এখন কারাগারে। বহু প্রাক্তন মন্ত্রী, সংসদ-সদস্য আর ব্যবসায়ী এখন রাজবন্দী। এখন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের প্রধান ইস্যূ দুই নেত্রীর মুক্তি। এটাকে আন্দোলনের প্রধান ইস্যূ বলছি এই কারনে যে, সুযোগ থাকলে দুটো দলই নির্দ্বিধায় কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষনা করতো। সেই সুযোগ না থাকার কারনে স্রেফ বিবৃতির মাধ্যমে তাদেরকে আন্দোলনের সাধ মেটাতে হচ্ছে। দুটো প্রধান দলই এখন দুই নেত্রীর মুক্তির বিষয়টি যথেষ্ট সোচ্চার।

একটি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রথম এবং প্রধান কাজ হওয়া উচিত দেশের নাগরিকদের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্যে কাজ করা। এরপরে দলীয় স্বার্থ সংরক্ষনের দিকে দৃষ্টিপাত করা। দেশের দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর যথেষ্ট মৌনতা লক্ষনীয়। তাদের প্রধান দাবীগুলো হচ্ছে দুই নেত্রীর মুক্তি এবং যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠান। বিষয়টি একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে একটি ধ্রুব সত্যকে আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করা যাবে। রাজনৈতিক দলগুলো ভালোভাবেই জানে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অস্থায়ী সরকার। এদের অবস্থানের সময়টি একটু দীর্ঘ হলেও এদেরকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে যদি না কোন অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটে। আপাতত দুর্ঘটনা ঘটার তেমন কোন সম্ভাবনা না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলো ধরে নিয়েছে যে নির্বাচন হবেই। নির্বাচন মানেই ক্ষমতায় যেতে পারার একটা সম্ভাবনা। আর এদেশে ক্ষমতায় যেতে পারা মানে স্বর্গের ছোটখাটো সংস্করণ প্রাপ্তি। অতএব, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারনে সাধারন মানুষ বাঁচুক আর মরুক রাজনৈতিক দলগুলোর সেদিকে চোখ ফেরানোর সময় কোথায়? এ মূহুর্তে নির্বাচিত কোন সরকার ক্ষমতায় থাকলে দ্রব্যমূল্যকে হয়তো চমত্কার একটি ইস্যূ করা যেতো ক্ষমতাসীনদেরকে পদত্যাগে বাধ্য করার ক্ষেত্রে। যেহেতু রাজনৈতিক কোন দল ক্ষমতায় নেই অতএব দ্রব্যমূল্য নিয়ে রাজনীতিকদের তেমন কোন মাথাব্যাথাও নেই।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য সবসময় একটাই, যে কোনভাবে ক্ষমতায় যেতে পারা এবং যতটা বেশী সময় ধরে সম্ভব ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা। যদিও রাজনীতিবিদদের আজীবনের দাবী তারা দেশের সাধারন মানুষের সুখ-শানি-র জন্যেই আন্দোলন করে থাকেন। রিকশা, টেমপু, বাস, প্রাইভেটকার পুড়িয়ে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইটপাটকেল ছুঁড়ে, দেশের সমপদ ধ্বংস করে সাধারন মানুষের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করেন। রাজনীতিবিদদের গলাবাজী কখনো থামবে না। কারন রাজনীতিকরা রামনির্লজ্জ।

আমাদেরই সমগোত্রীয় একদল আমাদের অধিকার রক্ষার নামে আমাদেরকেই শোষন করছে। মরাখেকো শকুনের মতো আমাদের দারিদ্রতা, দুঃখ আর স্বজন হারানোর কষ্টকে পুঁজি বানিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা করছে। এতোদিন আমরা সীমাহীন প্রত্যাশা বুকে নিয়ে স্বপ্নাতুর চোখে এদের পানে চেয়ে প্রাচূর্যের স্বপ্ন দেখেছি। বাস্তবের রূঢ় কষাঘাতে আজ আমাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। প্রয়াত বীরদের নামোচ্চারনে আমরা মোহগ্রস্থ হয়েছিলাম। আমাদের মোহভঙ্গ হয়েছে। আমরা জেনে গেছি, এতোদিন একদল হিংস্র শ্বাপদ ড্রাকুলার মতো করে আমাদের রক্ত চুষে খেয়েছে সুনিপুন দক্ষতায়।

আমাদের সুখনিদ্রা ভঙ্গ হয়েছে। দুঃস্বপ্ন শেষে আমরা জেগে উঠেছি। যদিও পূনরায় ঘুমিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। আমরা কি সংস্কারের কথা বলেছিলাম? নাকি আমরা সংস্কারের কথা বলছি? শকুনেরা নিজেদের গা বাঁচাতে সংস্কার চায়। আমরা তো তিনবেলা পেটপুরে খাওয়া ছাড়া আর কিছু বুঝিনা। আমাদের খাবার আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কষ্টে, দুঃখে, অভিমানে আমরা কাঁদছি, আমাদের জন্যে কেউই কাঁদছেনা। শকুনেরা কি আমাদের জন্যে কাঁদবে? আমাদের দুঃখ ওদের স্বার্থসিদ্ধিতে কাজে লাগলে তবেই ওরা হয়তো কাঁদবে। তাহলে আমাদের অধিকার আদায়ের জন্যে কে কথা বলবে? শোকে-দুঃখে কে আমাদের পাশে এসে শান্তনা দেবে? সত্যিকারভাবে বলতে গেলে কেউই না। আমরা কি তবে যুগ যুগ ধরে এভাবেই আজন্ম শোষিত, বঞ্চিত থেকে যাবো? অসহায়ের মতো হিংস্র শ্বাপদ, শকুনদের উল্লাস দেখে নিভৃত মৌনতায় দীর্ঘশ্বাস ফেলবো?

আসলে আমরা ভুল পথে হাঁটছি। আমাদের জন্যে কেউই কাঁদবেনা, কখনোই না। কেউই আমাদেরকে আমাদের অধিকার আর সম্মান ফিরিয়ে দেবেনা। আমাদের কষ্ট আমাদেরকেই মোচন করতে হবে। আমাদের অধিকার আমাদেরই আদায় করে নিতে হবে। কেউই আমাদেরকে সত্যিকার শান্তনা দেবে না, এবং আমরা মায়াকান্নাও চাইনা। অতএব, নিজহাত পিঠে বুলিয়ে নিজেকে নিজেরই শান্তনা দিতে হবে।

আমরা অধিকাংশ সাধারন মানুষ জানিনা যে, আমাদের অধিকার আদায়ের জন্যে একটি মহাঅস্ত্র রয়েছে। আমাদেরকে জানতে হবে কি সেই অস্ত্র এবং আমাদেরকে জানতে হবে এর সঠিক ব্যবহার। বাংলাদেশের সংবিধান আমাদের অধিকার আদায়ের এক অমোঘ অস্ত্র। সংবিধান এদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্যে অনেকগুলো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। যেহেতু আমরা জানিনা যে, কি কি আমাদের প্রাপ্য, অতএব প্রাপ্য আদায়ের ব্যাপারে আমরা উদাসীন। একদল শকুনের হাতে আমাদের অধিকার রক্ষার ভার দিয়ে আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকছি।

আমাদেরকে সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলোর ব্যাপারে জানতে হবে। আমাদেরকে আমাদের প্রাপ্য অধিকারগুলোর ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। অধিকার এক প্রকারের স্বাধীনতা। একে অন্যের হাতে সঁপে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমানো নিজেকে হত্যার শামিল। যদিও আমরা এভাবেই নিজেদেরকে হত্যা করে চলেছি ৩৫ বছরেরও বেশী সময় ধরে। একদল হিংস্র রক্তচোষার হাতে আমাদের অধিকার আদায়ের দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছি শিশুসুলভ সরলতায়। আমরা বড্ড বেশী আবেগী, স্বপ্নচারী। আমাদেরকে বাস্তববাদী আর রূঢ় হতে হবে। আমাদের অধিকার আমাদেরকেই আদায় করতে হবে। নিজের স্বাধীনতা নিজেকেই রক্ষা করতে হবে।

ঢাকা থেকে
০৬.১০.০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28735739 http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28735739 2007-10-06 04:56:14
সংবিধান এবং নাগরিক অধিকার
বইয়ের মার্কেটে গিয়ে দেখি অনেক দোকানই খোলা রয়েছে। কিন্তু কোন দোকানেই বাংলাদেশের সংবিধান পাচ্ছি না। অনেক ঘুরে অবশেষে একটা বড় দোকানের সামনে গিয়ে হাজির হলাম। দোকানের একটা বাদে সব শাটার বন্ধ। একটি ১৮/২০ বছরের ছেলে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। "বাংলাদেশের সংবিধান আছে?" ছেলেটির কাছে জানতে চাইলাম। মাথা নেড়ে জানিয়ে দিলো নেই। কি মনে হতে দোকানের ভিতরে ঢুকে পুনরায় জীজ্ঞেস করলাম বাংলাদেশের সংবিধান আছে কিনা। একটি ছেলে জানালো পকেট সাইজেরটি আছে। বললাম, তাতেই হবে। ৫০ টাকা থেকে দর কষাকষি করে ৪৫ টাকায় কিনে পকেটে পুরলাম গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। এ সময় দোকানের সামনের পাহারারত ছেলেটি ভেতরে এসে অন্য ছেলেটিকে বললো, সংবিধান বিক্রি করেছ কেন? "অমুক" ভাই যে কারো কাছে সংবিধান বিক্রি করতে নিষেধ করেছে। ছেলেটিকে বললাম, "দেখ সংবিধান লুকিয়ে রাখার কোন জিনিষ নয়, এটা সকল নাগরিকের অবশ্য পাঠ্য।"

সংবিধান আসলে কি?
সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি এবং নির্দেশনাসমূহ। রাষ্ট্র কি নামে পরিচিত হবে, এর সীমানা, পতাকা, জাতীয় সংগীত, প্রতীক, নাগরিকত্ব থেকে শুরু করে সংসদ, আইন, বানিজ্য, যুদ্ধ সবকিছুর নির্দেশনা রয়েছে সংবিধানে। সংবিধানই হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। কখনো যদি এমন কোন আইন প্রণয়ন করা হয় যা সংবিধানের যে কোন অনুচ্ছেদের পরিপন্থী কিংবা সাংঘর্ষিক, সেক্ষেত্রে নতুন আইনটি বাতিল বলে গন্য হবে এবং সংবিধানের নির্দেশ বহাল থাকবে।

সংবিধানের একদম শুরুতেই বলা হয়েছে,

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
(দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে)

আমরা, বাংলাদেশের জনগন, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।"

উপরোক্ত ঘোষনার মাধ্যমে সকল প্রকারের রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র আর পরিবারতন্ত্রকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে একথাই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, এই দেশ প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের নিজস্ব¡ সম্পদ। বলা হয়েছেঃ আমরা, বাংলাদেশের জনগন যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা দল নয়। সংবিধান শুরুতেই ব্যক্তি আর দলপুজার পথকে নির্মূল করে দিয়েছে। অথচ গত ৩৫ বছরের অধিক সময় ধরে এদেশে দল আর ব্যক্তির আরাধনা অঘোষিত আইন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনগনের নিকট থেকে এই সংবিধান শুধুমাত্র একারনেই দুরে রাখা হচেছ যে, সাধারন মানুষ এটি পাঠ করলে তারা নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠবে। আর কেউ যদি একবার নিজ অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হয়ে ওঠে তবে সেই অধিকার থেকে তাকে আর বেশীদিন বঞ্চিত রাখা সম্ভব নয়।

সংবিধানে নাগরিকের জন্যে কিছু মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। যা কখনোই কোন আইন কিংবা আদালতের নির্দেশ দ্বারা রহিত করা যাবে না। সাধারন মানুষ জানেনা রাষ্ট্র কর্তৃক কি কি অধিকার এবং সম্মান তাদের প্রাপ্য। এই অজ্ঞতার সুযোগে রাজনীতিবীদ নামের একশ্রেনীর লম্পট সাধারন মানুষকে ভেড়ার মতো যেদিকে ইচ্ছে সেদিকে পরিচালিত করছে। অথচ প্রতিটি নাগরিকের উচিত সংবিধানের নাগরিক অধিকারগুলোর ব্যাপারে অবহিত হওয়া। তবেই কেবলমাত্র এর প্রয়োগ এবং অধিকার রক্ষার পথ উন্মুক্ত হবে।

ঢাকা থেকে
০৫.১০.০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28735555 http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28735555 2007-10-05 05:56:13
আলপিন কার্টুন আর মৃতদের বিলাপ
রাসুলুলাহ্ সালালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রয়াণের দিনে হযরত উমর আবেগের বশে বলে ফেলেছিলেন, মুহাম্মদ মারা যেতে পারেনা। তখন হযরত আবু বকর তাকে ক্কুরআনের সেই আয়াতটি পাঠ করে শুনালেন যেখানে বলা হয়েছে যে, "মুহাম্মদ তোমাদের মতোই মানুষ..." এই আয়াতটি শোনার পরে উমর শান্ত হন। আবেগ মানুষের বিচার বুদ্ধিকে প্রবলভাবে অকেজো করে দিতে সক্ষম। আবেগের কারনে অনেক জ্ঞানী, বুদ্ধিমান মানুষও অনেক সময় নিতান্ত বুদ্ধিহীনের মতো আচরন করে ফেলে।

৬০০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে পারস্যের (বর্তমান ইরানের) লোকেরা ছিলো অগ্নি উপাসক। সাহাবাদের কর্তৃক যখন পারস্য বিজিত হয় তখন সেখানের অধিকাংশ লোকেরা ইসলাম গ্রহন করে। ইসলাম গ্রহন করলেও ঐতিহ্যবাহী অহমিকা তারা ত্যাগ করতে পারেনি। পারসিকরা অহমিকাবশতঃ বিভিন্ন আরবী শব্দসমূহ (যেগুলো ইসলামের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত) নিজেদের ভাষায় (ফার্সীতে) অনুবাদ করে ব্যবহার করা শুরু করলো। তারা আলাহ্ বলার পরিবর্তে বলতে শুরু করলো খোদা, সালাত-কে বানালো নামায, সিয়াম-কে রোযা, মালাইকা-কে ফেরেশতা, রাসুল-কে পয়্গম্বর, বাইতুলাহ্-কে কাবা শরীফ, এভাবে বহু আরবী মূল শব্দকে স্রেফ অহমিকাবশতঃ বিকৃত করলো। ফলে ইসলামের বানী সুদুর আরব থেকে এই অঞ্চলের সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাঝপথে বহু আরবী শব্দ ফার্সীতে রূপান্তরিত হয়ে গেল। একই শব্দগুলো আরবীর ছদ্মাবরনে প্রবেশ করে উর্দুর মাঝে। উপমহাদেশে সে সময় ফার্সী এবং উর্দু ভাষার ব্যাপক প্রচলন থাকায় এবং মুল আরবী শব্দের ব্যপারে কোন ধারনা না থাকায় সাধারন মানুষ রূপান্তরিত শব্দগুলোকেই মুল আরবী শব্দ ভেবে গ্রহন করলো। আরবী, ফার্সী আর উর্দু বর্নমালায় কিছু অভিন্ন ধ্বনি থাকার কারনে আজও অধিকাংশ সাধারন মানুষ এই তিনটি ভাষার পার্থক্য বুঝতে পারেনা। মুহাম্মদ শব্দটি এই অঞ্চলে এসে উর্দু ভাষাভাষীদের বদৌলতে মোহাম্মদ হয়ে গেছে। এটা স্পষ্টতই মুল আরবী শব্দটির বিকৃত উচ্চারন।

উপমহাদেশে এক সময় নামের পূর্বে শ্রী শব্দটি যুক্ত করার ব্যাপক রেওয়াজ ছিলো। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা নামের পূর্বে শ্রী শব্দটি যুক্ত করতো। তখন সাধারন মুসলমানেরাও তাদের নামের পূর্বে শ্রী শব্দটি যুক্ত করতে শুরু করে। এর প্রতিরোধক হিসেবে সমসাময়িক আলেমগন মুসলমানদেরকে শ্রী শব্দটির পরিবর্তে নামের পূর্বে মুহাম্মদ শব্দটি যুক্ত করতে পরামর্শ দেয়। তখন থেকেই এই উপমহাদেশে মুসলিমদের নামের পূর্বে মুহাম্মদ শব্দটি যুক্ত করার একটি রেওয়াজ চলে আসছে। উর্দু উচ্চারনের প্রভাবে মুহাম্মদ শব্দটিই মোহাম্মদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

আমি কোন সাহাবার নাম এমন পাইনি যে, মোহাম্মদ উমর, মোহাম্মদ আনাস, মোহাম্মদ আলী। বরং সাহাবাদের নামগুলো ছিলো তাদের নিজেদের পিতার নামের সাথে সম্পৃক্তভাবে। যেমন উমর ইবনুল খাততাব, আলী ইবনে আবি তালিব ইত্যাদি। অথচ মুহাম্মদ সালালহু আলাইহি ওয়াসালামকে ভালোবাসা আর অনুসরনের ক্ষেত্রে সাহাবাগন অদ্বিতীয়। নামের আগে মুহাম্মদ শব্দটি যুক্ত করা ব্যক্তির একান্তই নিজস্ব¡ পছন্দের ব্যাপার। ক্কুরআন, হাদীস এবং ফিক্কাহশাস্ত্রের (ইসলামী আইনশাস্ত্রকে ফিক্কাহ্ বলা হয়) কোথাও একথা বলা নেই যে, নামের পূর্বে বাধ্যতামূলকভাবে মুহাম্মদ শব্দটি যুক্ত করতে হবে।

এদেশের গ্রামাঞ্চলে একদল লোক দেখা যায় যারা ইসলামের বিভিন্ন আদেশ-নিষেধের ব্যাপারগুলো নিয়ে অজ্ঞতাবশতঃ মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে। প্রকৃতপে ইসলামের আদেশ-নিষেধের সীমারেখার ব্যাপারে কোন আরিক শিক্ষা না থাকায় এরা ইসলামের নির্দেশ আর কুসংস্কারকে এমনভাবে মিলিয়ে ফেলে যে সেটা এক কিম্ভুতকিমাকার ককটেলে পরিনত হয়। বেশীরভাগ সময়ে ধর্ম বিষয়ে এদের জ্ঞানের উত্স হয়ে থাকে বিভিন্ন পীরের দরবার এবং মাজার। এখানে না সত্যিকারের ইসলামের কোন শিক্ষা দেয়া হয় আর না ইসলামের ব্যাপারে স্বচ্ছ কোন ধারনা পাওয়া যায়। কুসংস্কারের কারখানা এইসব পীর আর দরবেশ খ্যাতদের আখড়া থেকে প্রশিতি এইসব লোকেরা অত্যন্ত দতার সাথে কুসংস্কার ছড়ায় নিজ নিজ এলাকায়। এই শ্রেনীর লোকেরা অধিকাংশই যথেষ্ট প্রবীন হয়ে থাকেন, ফলে গ্রাম্য সমাজে সচারচর তাদের কথার বিপরীতে কেউ কোন কথা বলেনা। ফলে অজ্ঞতাবশতঃ কুসংস্কারকেই প্রচার করা হয় ধর্মের সিদ্ধান্ত হিসেবে। এভাবে একসময় সত্যিকার ধর্মীয় নির্দেশ ঢাকা পড়ে যায় কুসংস্কারের আড়ালে।

আলপিনের কার্টুনটির প্রকাশভঙ্গি স্পষ্ট। গ্রাম্য সমাজের মাতবর টাইপের লোকদের অতি মাতবারীর চিত্রটি ফুটে উঠেছে আরিফুর রহমানের "নাম" শীর্ষক কার্টুনটিতে। আমি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি যখন শুনেছি যে, কার্টুনটি দ্বারা নাকি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমান করা হয়েছে। এখানে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমানের কথা বলা হচ্ছে সম্ভবত দুটি কারনে। উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে অথবা মাত্রাতিরিক্ত আবেগতাড়িত অজ্ঞতার কারনে। মুহাম্মদ শব্দটির অর্থ হচ্ছে প্রশংসিত। মুহাম্মদ বিড়াল বললে তার মানে দাঁড়ায় "প্রশংসিত বিড়াল"। এটা ভাবা খুবই হাস্যকর যে, মুহাম্মদ বিড়াল বললে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিড়াল বলা হয় বা তাকে অপমান করা হয়। আরবীর ব্যাপারে যাদের ন্যূনতম জ্ঞান আছে তারাই বিষয়টি বুঝতে পারবে। যারা এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন তাদের মৌনতায় উশৃঙ্খলতা বেড়েছে। একটি অন্যায়ের প্রতিবাদে কেউ এগিয়ে আসেনি। ফলে একটি অন্যায় ন্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত আবেগ মানুষের চিন্তাশক্তি সীমিত করে দেয়, আর চিন্তার সীমাবদ্ধতা মানুষকে নির্বোধ করে তোলে। আবেগের বশে দু'একজন ব্যক্তি নির্বোধ হতে পারে, কিন্তু সকলের একসাথে নির্বোধ হয়ে যাওয়াটা বিস্ময়কর।

আলাহ তা'য়ালা ক্কুরআনের আয়াতগুলো পবিত্র হিসেবে ঘোষনা করে এর যথাযথ সম্মান এবং সংরনের নির্দেশ দিয়েছেন। অনেক ব্যক্তি আছে কোথাও আরবী লেখা কোন কাগজ দেখলেই উঠিয়ে চুমু খায়, কপালে ছোঁয়ায়। অথচ কাগজটিতে মন্দ কোন কথা লেখা থাকা অসম্ভব কিছু নয়। আরবী মানেই যে পবিত্র এমন ভাবাটাই মূর্খতা। পবিত্র তো শুধু ক্কুরআনের আয়াতসমূহ। অথচ এরূপ সাধারন মানের মূর্খতাসুলভ কান্ড অনেক সময় অনেক অসাধারন ব্যক্তিদেরকেও করতে দেখা যায়। মূর্খতা যখন পুরো উপমহাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে তখন সামান্য একটা কার্টুন নিয়ে দেশে উশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক।

লেখাটি শেষ করছি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত একটি হাদিস দিয়ে, যেটি তিনশ'র বেশী সাহাবী প্রচার করেছেন। এটিই সর্বাধিক সাহাবী কর্তৃক প্রচারিত একমাত্র হাদীস। হাদীসটির অনুবাদ হচ্ছেঃ

"প্রত্যেকটি কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল"।

কোন ব্যাক্তির কাজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত না হয়ে অথবা তাকে নিজ উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি তার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসা ইহুদী সুলভ উগ্রতা।

ঢাকা থেকে
০৪.১০.০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28735494 http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28735494 2007-10-04 23:43:53
স্বাধীনতা
জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা কিংবা সাধনা বলতে যা বুঝায়, এ ব্যাপারে এ অঞ্চলের লোকেরা সবসময়ই ছিলো পশ্চাত্পদ। তেমনভাবে উন্নত জ্ঞানচর্চার কোন সুযোগ না থাকায় এই জনপদের অধিবাসীদের বুদ্ধির বিকাশ দারুনভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে এরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহিরাগত বিভিন্ন জাতি কর্তৃক গৃহপালিত তৃণভোজী প্রানীর মতো চারিত হয়েছে।

দখলদারিত্বের এই দীর্ঘ সময়ে বিপ্লব-বিদ্রোহ ঠেকাতে এই পরাধীন জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন সময়ে উপভোগ করতে দেয়া হয়েছে সীমিত আকারের প্যাকেজ স্বাধীনতা। এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া স্বরূপ এদের কাছে স্বাধীনতার মানে দাঁড়িয়েছে, স্রেফ একটি নতুন ভূখন্ড, একটি নতুন পতাকা।

জ্ঞানহীন এই বিশাল মৃত জনগোষ্ঠীর মাঝ থেকে যখনই কেউ চেষ্টা করেছেন এই জনপদের ভাগ্যোন্নোয়নের, সাথে সাথে অপর প্রান্তে সমগোত্রীয় একদল দাঁড়িয়ে গেছে সর্বান্তকরনে বাঁধা দিতে। এই বাঁধাদানের বিনিময়ে তারা পেয়েছে ব্যক্তিগত সীমিত কিছু সুযোগ-সুবিধা।

আজ ভূখন্ডের নাম বদলেছে, পতাকার রং বদলেছে, জাতীয় সংগীতের সুর বদলেছে কিন্তু বদলায়নি সমগোত্রীয় বাধাদানকারীদের চরিত্র। ব্যক্তিগত সীমিত সুযোগ-সুবিধা পাবার লোভে এরা পদদলিত করে পুরো জনগোষ্ঠীর ভাগ্যকে। ফলে এই হতভাগা বিশাল জনগোষ্ঠী আজও বঞ্চিত, শোষিত এবং অবহেলিত। যদিও পরিবর্তন হয়েছে ভূখন্ডের নামকরনের, পরিবর্তিত হয়েছে পতাকার রং, পরিবর্তন হয়েছে স্বাধীনতার সংজ্ঞার, কিন্তু শোষন বন্ধ হয়নি। কেবলমাত্র পরিবর্তন হয়েছে শাসকের আর শোষন পদ্ধতির।

কোন জনগোষ্ঠী নিজে যদি তার ভাগ্য বদলের চেষ্টা না করে তবে অন্য কারো পক্ষে তাদের ভাগ্য বদল করা সম্ভব নয়। তাই এই জনপদের অধিবাসীদের নিজেদেরকেই চেষ্টা করতে হবে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্যে।

এই উপমহাদেশের লোকেরা স্বাধীনতা অর্জন করেছে নাকি ইংরেজরা তাদেরকে স্বাধীনতার মোড়কে নব-পরাধীনতা উপহার দিয়ে গেছে সেটা তর্কসাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এখন বহিরাগতরা নেই। অতএব, এখনই সময় আমাদের পূর্বপুরুষদের অজ্ঞতার প্রায়শ্চিত্য করার। এবার উপমহাদেশ থেকে নজর ফেরানো যাক বাংলাদেশের দিকে।

স্বাধীনতা অর্জনের পরে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষার জন্যে প্রণয়ন করা হয়েছে সংবিধান। সংবিধানই হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এখানে লেখা থাকে একজন নাগরিকের জন্যে রাষ্ট্র কর্তৃক কি কি সুবিধা এবং সম্মান প্রাপ্য। সংবিধানের নাগরিক অধিকারগুলোর ব্যাপারে ৯৯ ভাগ মানুষই অবহিত নন। এই অজ্ঞতার ফলে তারা জানেন না রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে কি কি সুবিধা এবং সম্মান দেয়া হয়েছে। অথচ সংবিধানে প্রদত্ত নাগরিক অধিকারগুলো ভোগ করতে পারলেই উপলব্ধি করা যাবে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ। সংবিধানে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে সমগোত্রীয় মুষ্টিমেয় কিছু লোক নেতা সেজে শোষন করছে পুরো জনগোষ্ঠীকে।

স্বাধীনতা মানে নতুন ভূখন্ড, নতুন পতাকা আর নতুন সুর নয়। স্বাধীনতা মানে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা। সময় এসেছে সংবিধান পড়ে দেখার, সময় এসেছে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদনের।

ঢাকা থেকে
০৪.১০.০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28735413 http://www.somewhereinblog.net/blog/warriorblog/28735413 2007-10-04 14:49:53