প্রথম পর্ব দেখুনঃ Click This Link
---------------
প্রথম কয়েকদিন গেল নেট থেকে তথ্য নামিয়ে, দেখে আর সেগুলোকে কনভার্ট করতেই। কেমন যেন খাপছাড়া লাগছিল ভিডিওগুলা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এমন যে কয়েক মিনিটের প্রেজেন্টেশনে সেটাকে তুলে ধরা অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। ৭ই মার্চের ভাষন, ২৫শে মার্চের গনহত্যা, ২৭শে মার্চের মেজর জিয়ার ঘোষনা, এগুলো তো রাখতেই হবে। কিন্তু এরি মাঝে গনহত্যার যে প্রামান্যচিত্রগুলো ইউটিউবের কল্যানে এখন বিশ্ববাসী দেখতে পায় সেগুলো কিভাবে নিয়ে আসব? এখানে অনেক ধরনের মানুষ থাকবে, ছোট বাচ্চা থাকবে, তাদেরকে কিভাবে দেখাব এক শহীদের লাশের ছবি, ক্লোজআপ ছবিতে যার উপড়ে ফেলা চোখের দৃষ্টি আমি নিজেই সইতে পারছি না? যদি না দেখাই, যদি শুধু বিজয়ের উল্লাস দেখাই তবে তার কাছে কি এই যুদ্ধের বাস্তবতা গ্রহনযোগ্যতা পাবে?
(দ্বিতীয় খন্ডে আছে মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভ থেকে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পর্যন্ত)
(তৃতীয় খন্ডে আছে পাকিস্তানী হানাদারদের আত্মসমর্পন। যুদ্ধের বিভিন্ন ভিডিওচিত্রকে সাজিয়ে তৈরি করা একটি মিউজিক ভিডিও আছে এ খন্ডে)
গোদের উপর বিষ্ফোড়া হল যুদ্ধাপরাধীর বিষয়টা। প্রথমে আমার জন্য সময় বরাদ্দ ছিল ১০ মিনিট। পরে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের অংশটুকু ছাড়াই আমার কালেকশন এক ঘন্টার উপরে। অতএব চালাও সেন্সরের কাঁচি। সব কিছু যখন শেষ করলাম, তখন সেটার দৈর্ঘ্য দাড়ালো ৪০ মিনিট।
টানা সাত দিন পড়াশোনা ফেলে, সমস্ত কাজ ফেলে এ নিয়ে কাজ করেছি ততদিনে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার আগ্রহের কোন কমতি আগেও ছিল না এখনো নেই। তবে এই কয়দিনে আমার মনের পরিবর্তন হয়েছে অনেকখানি। যারা ৪০ মিনিটের এই ভিডিওটি দেখবে, তারা কখনই বুঝবে না এটা তৈরি করতে করতে আমার মধ্যে যে অনুভূতি গুলো কাজ করেছে সেগুলো। অনেকগুলো ভিডিও আমি রাখতে পারিনি, সময়ের অভাবে, এবং বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা রাখতে গিয়ে। পরবর্তিতে আপনাদের সাথে শেয়ার করব সেগুলো।
(চতুর্থ খন্ডে গণহত্যা নিয়ে তৈরি করা অসাধারন একটি শর্টফ্লিম “Frozen Tears” থেকে নির্বাচিত কিছু অংশ।)
মূল ভিডিওটির লিংকও আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। নির্মাতাদের ধন্যবাদ আমাদেরকে এটি প্রদর্শনীর অনুমতি দেবার জন্য।
Click This Link
এমন অনুভুতি কখনো হয়েছে আপনার যে মনে হয়েছে আপনি বসবাস করছেন কতকগুলো পিশাচের মাঝে? চারপাশে যারা হাটাহাটি করছে, কত অসংখ্য মানুষ, তার মাঝে হয়ত আছে কিছু ভয়াবহ পিশাচ? এরকম অনুভূতি আমার হয়েছে, এবং হচ্ছে। মানুষের প্রতি বিশ্বাস ধরে রাখতে চাই, কিন্তু যেসব মানুষ এসব জানোয়ারদের সহযোগিতা করেছে তাদের মানসিকতা বোঝার সামর্থ আল্লাহ হয়ত আমাকে দেননাই।
পঞ্চম ও শেষ পর্বে আছে রাজাকারদের কিছু নিদর্শন এবং সমাপনী। বিশেষ করে এই অংশটুকু নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। আরো অনেক কিছু করার ছিল, সময় স্বল্পতার কারনে করে উঠতে পারিনি। এ নিয়ে অন্য কেউ আরো অনেক ভালো করে কিছু করবেন এ আশা রাখি।
সবাইকে দেখার আমন্ত্রণ। এবং Happy New Year
(সমাপ্ত)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

