বেশীরভাগ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার অবস্থা খুব খারাপ; আমার এক ভাই পড়ে ধানমন্ডির একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে পরীক্ষায় নকল করার অবাধ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে- আমার ভাইটা নকল করে না, কিন্তু এই কারনে তাকেই নাকাল হতে হয় সবচেয়ে বেশী - শিক্ষক যাঁরা গার্ডে থাকেন তারা নাকি আমার ভাইয়ের সাথেই হম্বিতম্বি করেন বেশী! কেন?! - কারন অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ধরলে নিশ্চিত নকল বেরুবে- তখন শিক্ষক করবে কী?- সে পড়বে মহা বিপদে, নকলের দায়ে কোন শাস্তি দেয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না ( সেই ক্ষমতা সম্ভবতঃ মেনেজম্যান্ট থেকে তাকে দেয়া হয়নি) আবার নকলটা কেড়ে নিলে ছাত্র-ছাত্রী ফেল করবে - সেটাও হতে পারবে না ( ছাত্র-ছাত্রীদের যেই মানসিকতার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্য আপোষ করেছে তা হলো: "টাকা দিয়ে কী ফেল করার জন্য ভর্তি হইছি")।
এখন আমার ভাইয়ের কথা হচ্ছে আমি গেছি শিখতে, নকল করেতো আর শেখা হবে না, তাই আমি নকল করিনা, কিন্তু যারা সার্টিফিকেটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছে তারা সব্বাই অবাধে নকল করছে।
এখন আমি ভাবছি, একটু ভয় পাচ্ছি আমার ভাইটা এইরকম ভাল মানসিকতা কতদিন ধরে রাখতে পারবে?
মজার ব্যাপার হচ্ছে ছোট বেলায় স্কুলে বা বাসায় বলা হয়: পড়ালেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার জন্য। কিন্তু বড় হতে হতে কখন যে সাংস্কৃতিক অধঃপতন ঘটে যায়- পড়ালেখা হয়ে যায় পণ্য - বেচে খাওয়ার, ব্যবসা করার। এই সাংস্কৃতিক অধঃপতন না ঠেকাতে পারলে নকলের সুযোগ দিয়ে সার্টিফিকেট বিক্রীর ব্যবসাও বন্ধ হবে না, ছাত্র-ছাত্রীদের নকল করার মানসিকতাও বদলাবে না। আর "মানুষের মতো মানুষ হওয়া" পুরনো ভুলে যাওয়া গল্পের মত বোধ হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


