নোয়াখাইল্লা পর্ব-04
০২ রা অক্টোবর, ২০০৬ রাত ১০:৩৬
চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচারনার কথা আপনারা নিশ্চয় জানেন? নীল আর্মস্ট্রং, এডুইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিনস এদের কথা ও আপনাদের সবার জানা। আজ আপনাদের বলব সেই চন্দ্র অভিযানের এক অজানা অধ্যায়। আর্মস্ট্রং আর অলড্রিন তখন চাঁদের বুকে হাঁটছিল আর চাঁদের মাটির বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করছিল। হটাৎ তারা খেয়াল করল এতটু দুরেই লম্বা লম্বা চুল-দাড়ি ওয়ালা এক বৃদ্ধ লোক কুঁজো হয়ে বসে আছে। ওরা কাছে গেল। আর্মস্ট্রং প্রথমে তার হাতের স্টিকটি দিয়ে হালকা একটা গুতো দিল।
সাথে সাথে আওয়াজ বের হল "আঁই কিচ্ছি"। কিছুটা থতমত খেয়ে অলড্রিন তার হাতেন স্টিকটি দিয়ে আরেকটি গুতো দিল। একই শব্দ "আঁই কিচ্ছি"। ওরা দুজনে মিলে এই অদ্ভুত লোকটাকে কোলে করে রকেটে নিয়ে এল। পৃথিবীতে আসার পর কোথায় চন্দ্র অভিযান, কোথায় কি নাসার সব বিজ্ঞানী এই অদ্ভুত লোকটাকে নিয়ে গবেষনায় লেগে গেল। কেউ পেনিসল দিয়ে গুতো দেয় "আাঁই কিচ্ছি, কেই রুলার দিয়ে গুতো দেয় "আঁই কিচ্ছি" কিন্তু আর কোন শব্দ করেনা। শেষে বিজ্ঞানীরা হতাশ হয়ে সব আশা ছেড়ে দিল। কি আর করা, একটা খাঁচায় রেখে প্রদর্শনির ব্যবস্থা করল। নিয়ম হলো এক ডলার দিয়ে একটা স্টিক কিনতে হবে খাঁচার কাছে গিয়ে হালকা গুতো দেবেন "আঁই কিচ্ছি" শুনবেন তারপর চলে যাবেন। পুরো আমেরিকায় সাড়া পরে গেল দলে দলে লোক টিকেট কাটতে লাগল। একটাই কাজ গুতো দেওয়া এবং "আঁই কিচ্ছি" শুনে চলে যাওয়া। আমেরিকা প্রবাসী দুইজন নোয়াখালীর লোকের কানে ও এই খবরটা গেল। ওরা ও দেখতে গেল এই অদ্ভুত লোকটাকে। যথারীতি এক ডলার দিয়ে একটা স্টিক কিনল---এবং বাঙ্গালী তো, গুতোটা একটু জোড়েই দিয়ে ফেলল। জোড়ে গুতো খেয়ে লোকটাও একটু চেঁচিয়ে বলল "আঁই কিচ্ছি"। আর সাথে সাথে দুই নোয়াখাইল্লা তার চেয়ে দ্্বিগুন জোরে চিৎকার দিল "ও-ও-মা ইগাতো আঙ্গো নোয়াখাইল্লা"
--------------------------------------------------------------------------
আমাদের অফিসে আমি সহ তিনজন চিটাগাংয়ের আর একজন নোয়াখালি ও একজন ফেনীর। আমাদের মধ্যে সম্পর্কটা খুবই বন্ধুত্বভাবাপন্ন। শ্রেফ মজা করার জন্য আমরা একে অপরের এলাকা নিয়ে বিভিন্ন গল্প বানাই। তার কয়েকটা আমি ধারাবাহিক ভাবে লিখব। আমি আবার ও বলছি গল্পগুলো শ্রেফ মজা করার জন্য অন্য কোন উদ্যেশ্য এতে নেই। তারপর ও কেউ দুঃখ পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
--------------------------------------------------------------------------
প্রকাশ করা হয়েছে: পাঁচমিশালী বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০০৬ রাত ১১:১৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অতিথি বলেছেন:
প্রবাসেও চলে এই আঞ্চলিক মজাদার গল্পগুলো। কিন্তু খারাপ লাগে কেউ এটাকে সিরিয়াসভাবে নিলে। নয়তো আনন্দের আড্ডাগুলো বেশ জমে উঠতো আগে, এখনো উঠে মাঝে-সাঝে। বেশ লাগলো উৎসুক।
অতিথি বলেছেন:
উৎসুক, আপনার গল্পটা পড়ে খুব হাসলাম। খুব মজা পেলাম। আপনার লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সামনে এরকম আরো গল্প আশা করছি।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














(ক্লোজআপহাসি)

